পিতামাতা যা-ই করে তাতেই সন্তানের মঙ্গল নিহিত (পর্ব – ২)

নদীতীরে মাটি কাটে সাজাইতে পাঁজা
পশ্চিমি মজুর। তাহাদেরই ছোট মেয়ে
ঘাটে করে আনাগোনা, কত ঘষা মাজা
ঘটি বাটি থালা লয়ে। আসে ধেয়ে ধেয়ে
দিবসে শতেকবার, পিত্তলকঙ্কণ
পিতলের থালি পরে বাজে ঠন ঠন।
বড়ো ব্যস্ত সারাদিন। তারি ছোট ভাই,
নেড়ামাথা, কাদামাখা, গায়ে বস্ত্র নাই,
পোষা প্রাণীটির মতো পিছে পিছে এসে
বসি থাকে উচ্চ পাড়ে দিদির আদেশে
স্থিরধৈর্যভরে। ভরা ঘট লয়ে মাথে,
বামকক্ষে থালি, যায় বালা ডান হাতে
ধরি শিশুকর। জননীর প্রতিনিধি,
কর্মভারে অবনত অতি-ছোট দিদি।।

– দিদি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

এ-কবিতাটি পড়তে পড়তে আজ আমার নিজের শৈশবের কথা মনে পড়ে গেল। রবি ঠাকুরের এ-জননীর প্রতিনিধি, কর্মভারে অবনত অতি-ছোট দিদিটি যে আর কেউ নয়, আমিই। আমার তো শৈশবই ছিল না। শিশু আমিটি ছিলাম আমার পিতামাতার সমস্ত কাজের ঘানি টানার কলুর বলদ আর তাদের লাথি খাওয়ার ফুটবল, মার খাওয়ার ক্রিকেট বল।

নিজের গল্প বলার আগে আজ আমার এক বান্ধবীর গল্প শোনাব আপনাদের। ‘পিতামাতা যা-ই করে তাতেই সন্তানের মঙ্গল নিহিত (পর্ব – ১) পড়ে লিলি(ছদ্মনাম) আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে। আমাকে বলে ওর জীবনের অনেকগুলি গল্প। পিতামাতার কাছে ভয়াবহ রকমের নির্যাতনে কেটেছে ওর শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের কিছুটা সময়। সেসকল অত্যাচারের বিষময় স্মৃতি হিমালয়ের মতন চেপে আছে ওর বুকে। ও বয়ে চলেছে এ-হিমালয় নীরবে। বলতে পারে না কাউকে। যে সমাজ আমাদেরকে মানতে বাধ্য করে, পিতামাতা যা করে তা-ই সন্তানের জন্য পরম কল্যাণময়, পিতামাতা হিটলার হলেও যে-সমাজে বলতে হয়, আমার পিতামাতা কিন্তু মহামানব, যে-সমাজে পিতামাতা আক্ষরিক অর্থেই সন্তানের চামড়া তুলে ফেললেও তার বিচারের আইন নেই, সে-সমাজের বাসিন্দাদের বদ পিতামাতার নির্মম অত্যাচার মুখ বুঁজে সহ্য করা ও উত্তকালে সে-দুর্বহ বিষস্মৃতির পাহাড় সাগর বহন করা ছাড়া আর উপায় কী? লিলির অনুমতি-সাপেক্ষে আমি সে-গল্পগুলি একে-একে আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।
লিলি নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের প্রথম সন্তান। বাবা একটি সাধারণ চাকরি করে। তিন ভাইবোন ওরা। আমাদের মতই দুই ভাই, এক বোন। ঢাকার মফস্বল শহরে একটি টিনশেডের বাড়িতে থাকে ওরা। ছোটবেলা থেকেই ওর মায়ের প্রচণ্ড ঘৃণা ওর প্রতি। শুধু কন্যা হয়ে জন্মাবার অপরাধে ওর ওপর মায়ের ঘৃণা ও ক্রোধের অন্ত নেই। মা যতক্ষণ জেগে থাকে ততক্ষণই তাকে খুব অশ্লীল ভাষায় গালাগাল ও অভিশাপ দিতে থাকে অবিরাম। সারাদিন ছোট্ট লিলির হাতে কাজ করায়। কাজে ভুল ধরতে সর্বদা লেগে থাকে ওর পিছে। সামান্য কোনো ভুলত্রুটি পেলে ওকে খুব মারে, খুব গালি দেয়। ওকে ঠিক মতন খেতে দেয় না, খেলতে দেয় না মোটেও।
লিলির বয়েসী ছেলেমেয়েরা বাইরে খেলাধুলা করে, আর লিলি ঘরে বন্দী হয়ে ভাত রান্না করে তার ছোট্ট ছোট্ট হাতে। মাছ তরকারি কোটে, রান্না করে তা ছোট্ট লিলি ছোট্ট দুটি হাতে। কোনোদিন ভাত একটু নরম হয়ে গেলে অনেক মারে লিলিকে ওর মা। কোনোদিন একটু শক্ত থেকে গেলে আরো জোরে মারে। কুটতে গিয়ে মাছ-আনাজ-তরকারি-ধনেপাতা-শাকের মাপ এক মিলি মিটার এদিক-ওদিক হলেই বেদমভাবে মারে ওকে। মা চায় না, ও লেখাপড়া করে নিজের পায়ে দাঁড়াক, প্রতিষ্ঠিত হোক জীবনে। ওর প্রতি মায়ের হিংসা-বিদ্বেষের অন্ত নেই। ওর ভাষায়, ‘ সে আমার সঙ্গে সতীনের মত আচরণ করতো। তাকে আমার ডাইনী মনে হতো।‘

লিলির ছোটবেলার প্রায় পুরোটা সময় কেটেছে ওর সবচে ছোটভাইটিকে কোলে রেখে রেখে। ওর সেবা-যত্ন করে, ওকে খাইয়ে, ঘুম পাড়িয়ে, গোসল দিয়ে, ওর কাপড়চোপড় ধুয়ে, ওর মলমূত্রের কাঁথা ধুয়ে। কখনো ওকে খেলতে দেওয়া হয়নি। ভাল খাবারটি সবসময় মা ওর ভাইদের খাইয়েছে রাজপুত্রের মত অতি আদরে ও যত্নে। অদূরে দাঁড়িয়ে থেকে দেখে দেখে চোখ ও জিহ্বার জল ফেলেছে নীরবে ছোট্ট লিলি। অতি তুচ্ছ কারণে মিলিটারির মতো মারে ওকে। ওকে মেরে রক্তাক্ত করে, ওর ছোট্ট শরীর মেরে মেরে ছিন্নভিন্ন করে ফেলে। সামান্য ত্রুটি-বিচ্যুতি, সামান্যতম অপরাধের কোনো ক্ষমা নেই অতি-ছোট লিলির। কারণে-অকারণে ওর মা হায়েনার মত ঝাঁপিয়ে পড়ে ওর উপর, মেরে মেরে ভর্তা বানিয়ে ফেলে ওকে। শুধু নিজে মেরেই ক্ষান্ত হয় না মহিলা, কমে না তার বীভৎস ক্রোধ। বাবা পুরুষটি কাজ থেকে ফিরলে তাকে সত্য-মিথ্যা হাজারটা কথা লাগায় লিলির বিরুদ্ধে। এবারে দুজনে মিলেমিশে লিলির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। অশ্লীলভাবে মারতে থাকে ওরা সম্মিলিতভাবে লিলিকে, তারচেয়ে অশ্লীলভাবে গালি দিতে থাকে। লিলির মরে যেতে ইচ্ছা করে প্রতি মুহূর্তে। কিন্তু লিলি মরে না। জীবন্মৃত হয়ে বেঁচে থাকে। আর ছোটভাইটিকে কোলে রেখে রেখে ওর কোল ক্ষয়ে যায়। ছোটভাইটির মলমূত্রের কাঁথা ধুতে ধুতে ওর ছোট ছোট আঙুল ও হাতগুলি ক্ষয়ে যায়। ওর একটা দিন আরেকটা দিনের চেয়ে বিভীষিকাময়।

লিলির বয়েস তখন ৮/৯। পুতুল খেলার বড় শখ ওর। সুযোগ পেলেই লুকিয়ে লুকিয়ে একটু পুতুল খেলে নেয় ও। পুরনো কাপড়ের ছাঁটাছুঁটা দিয়ে নিজেই বানিয়ে ফেলে ছোট ছোট পুতুল। একটা পোটলায় ভরে অতি গোপন জায়গায় লুকিয়ে রাখে ওদের। নিজের চেয়ে বেশি যত্ন ওদের প্রতি লিলির। ওদের জন্য মন আনচান করে লিলির সারাদিন। ওরা ঠিক মতো ঘুমোলো কিনা, ঠিক মতো খেলো কিনা এরকম কত দুশ্চিন্তা যে হয় লিলির ওদের জন্য! হবে না-ই বা কেন? নিজের হাতে সৃষ্টি করেছে ওদের লিলি। ওরা লিলির বাচ্চাই তো! বাচ্চার জন্য মায়ের চিন্তা হবে না! একদিন দেখে লিলি, ওর বাচ্চাদের নতুন কাপড়চোপড় তেমন একটা নেই। অনেকদিন ওদের নতুন কাপড় বানিয়ে দেওয়া হয়নি। লিলির মন হুহু করে ওঠে। আহা! বাছারা, পুরনো ছেঁড়া কাপড় পরে আর কতদিন কাটাবি! আজই তোদের নতুন কাপড় বানিয়ে দেবো নিজহাতে, নিজের সৃষ্টি সন্তানদের সঙ্গে প্রতিজ্ঞা করে লিলি। যেমন প্রতিজ্ঞা তেমনি কাজ। কাঁথা শেলাই করার জন্য পুরনো শাড়ি রেখেছিল লিলির মা। লিলি ওখান থেকে অতি সন্তর্পণে চুরি করে সামান্য একটু পাড় কেটে নিয়ে নেয় ওর পুতুলের জন্য শাড়ি বানাতে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয় না ওর, ধরা পড়ে যায় যমদূত মহিলা মায়ের হাতে। এই অপরাধে মা ওর গায়ের কাপড় খুলে ওকে উলঙ্গ করে ফেলে। আমার কাঁথার কাপড় কাটলি তুই, হারামজাদী! আজ তোর গায়ের কাপড় খুলে নিয়ে উলঙ্গ করে মাবরো তোকে। তোকে মেরেই ফেলবো আজ। ঘরের পাল্লার সাথে হাড়-জিরজিরে লিলিকে উলঙ্গ করে বাঁধে, ওর হাত-পা, পুরো শরীর শক্ত করে বাঁধে। ওর মুখের মধ্যে কাপড় পুরে দেয় ভাল করে। এবার ওকে বেশ আরাম করে মারতে থাকে, গালি দিতে থাকে। মন ও শরীরের প্রচণ্ড ব্যথায় লিলি শেষ হয়ে যেতে থাকে। কিন্তু একফোঁটা নড়তে-চড়তে পারে না ও, পারে না একফোঁটা চিৎকার করে কাঁদতে। ঢোক গিলতে পারে না লিলি, পারে না ঠিক মত নিঃশ্বাস নিতে। প্রাণ ওর বেরিয়ে যেতে চায়। এই অবস্থায় লাফিয়ে লাফিয়ে অনেকক্ষণ মারে ওকে মহিলা। কী জানি, কতক্ষণ! লিলির কাছে তো সময় থেমে গেছে তখন। ওর কাছে মনে হচ্ছে, মার খেতে খেতে কতো যুগ-যুগান্তর পেরিয়ে গেলো, পুরনো শাড়ির একটুখানি পাড় কেটে পুতুলের শাড়ি বানানোর মহা-অপরাধের রিমাণ্ড তবু শেষ হচ্ছে না। পেটাতে পেটাতে শলার ঝাড়ু চূর্ণবিচূর্ণ করে নিঃশেষ করে ফেলে রোগা-পটকা লিলির শরীরের উপর মহিলাটা। এছাড়া প্রচণ্ড কিল, ঘুষি, লাথি ইত্যাদি তো ছিলই। মহিলা ক্লান্ত হয়ে যায়। কতক্ষণ আর পেটানো যায়, গালি দেওয়া যায় একটানা? এসব কাজে শক্তি লাগে বড়। বড় খাটনির কাজ এসব। মহিলার একার শরীরে আর কত কুলোয়? আর পারে না সে। আজকের মত তাই মুলতবি দেয়। পাল্লা থেকে লিলির বাঁধন খুলে দেয়। লিলির অজ্ঞানপ্রায় ক্ষুদ্র দেহ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

লিলির অজ্ঞানপ্রায় শরীরে ও মনে একটু আশার সঞ্চার হয়; যাক, আজকের জন্য আর মারবে না তাহলে। কিন্তু না, এখনো রিমাণ্ড শেষ হয়নি ওর। আরো বাকি আছে। শক্তিশালী মহিলা ক্লান্ত হয়নি এখনো, এখনো সে পুরোদমে অসুর। এবার লিলিকে নিজের পায়ের উপর ঘাড়-ধাক্কা দিয়ে ফেলে মহিলা। ওকে নিজের পা ধরিয়ে মাফ চাইতে বাধ্য করে। মাটিতে পড়ে তার পায়ে ধরে মাফ চায়, নিজের ছোট্ট প্রাণটি ভিক্ষা চায় লিলি। বেচারি লিলির করুণ অবস্থা দেখে খলখলিয়ে ক্রুর হাসি হাসে মহিলা। দাঁত কেলিয়ে বলে, মাফ আর প্রাণ তোকে ভরে দিচ্ছি, দাঁড়া তুই, মাগী। এবার ৪/৫ ফুট পরিমান জায়গাতে একটা বৃত্ত এঁকে দেয় মহিলা, এবং তাতে বারবার লিলিকে নাকে খত দিতে বাধ্য করে। এরপর লিলির ছোট্ট জরাজীর্ণ পুতুলের পোটলাটা বাড়ির পেছনের ডোবায় ফেলে দিয়ে আসে। আহা! ফেলে দিল পুতুলগুলি! এত নিষ্ঠুর হারামজাদী মহিলা! লিলির বুক ভেঙে যেতে চায় ওর বাচ্চাদের জন্যে, ওর পুতুলদের জন্যে। মনে মনে এই পিশাচিনীকে ‘মাগী’ বলে গালি দিয়ে একটু শান্তি পায় লিলি। নিজে মার খেয়ে ও অপদস্থ হয়ে যতটা কষ্ট লিলি পেয়েছে তার সহস্রগুণ পেয়েছে ওর পুতুলের পোটলাটা ফেলে দেওয়ায়।

রোগা-পটকা শরীরে অজস্র ক্ষত নিয়ে লিলি রাতে ঘুমোতে যায়। শুয়ে শুয়ে অনেক কাঁদে। ওর বুক ভেঙে খালি কান্নার ঢেউ আসে। ও ফোঁপাতে থাকে, গোঙাতে থাকে। ফোঁপাতে ফোঁপাতে একসময় নিজের যন্ত্রণাময় ক্ষতবিক্ষত ক্ষুদ্র শরীরটাকে দলা পাকিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। আহা! ঘুম, শান্তির ঘুম! যতক্ষণ ঘুমিয়ে থাকতে পারবে ততক্ষণ তাকে আর যন্ত্রণা অনুভব করতে হবে না শরীরে কিংবা মনে। কিন্তু আজ ঘুমিয়েও যে তার শান্তি নেই, নেই কো নিস্তার! কে যেন হেঁচকা টান দিয়ে ওকে বিছানা থেকে মেঝেতে ফেলে দেয়। ঘুমের ঘোরে দুঃস্বপ্ন দেখছে কি লিলি? ওর চৈতন্য হতে কিছুক্ষণ সময় লাগে। না, ও দুঃস্বপ্ন দেখছে না। বাস্তবের মধ্যেই ঘটছে এসব ওর সঙ্গে। লিলি এবার নিজের চোখের সামনে দেখতে পায় দুটি জ্যান্ত যমদূত। একটি নর, আরেকটি নারী। একটি ওর বাপ, আরেকটি মা। বাপ রাতে বাসায় ফেরার সাথেসাথেই মা সত্য-মিথ্যা লাগিয়ে লেলিয়ে দিয়েছে ওর ওপর। তাই বাপ লোকটি তার পবিত্র দায়িত্ব পালন করতে এসেছে। সারাদিন ধরে কুকুরের মত মার খাওয়া, তারচেয়েও বেশি অপদস্থ হওয়া ঘুমন্ত ছোট্ট লিলিকে হেঁচকা টান মেরে মেঝেতে ফেলে দেয় ওর বাপ। হুংকার দিয়ে বলে, হারামজাদী! পুতুল খেলিস তুই? পুতুল খেলা বের করছি তোর আজ। মারে লিলিকে কয়েক ঘা, গালি দেয় কয়েক চোট। লিলির মা মহিলাটি উসকে দিয়ে বলে, ওগো, শুধু কি পুতুল খেলেছে ওই মাগী? আমার কাঁথা শেলাই করতে রাখা পুরনো শাড়ির পাড় পর্যন্ত একটু করে কেটে নিয়ে নিয়েছে পুতুলের শাড়ি বানাতে। বাপ পুরুষ এবার দ্বিগুণ জোসে হুংকার ছেড়ে বলে, কী! তোর এত্ত বড় সাহস! পুরনো শাড়ির পাড় পর্যন্ত কেটে নিয়েছিস পুতুলের শাড়ি বানাতে? বের করছি তোর পুতুলের শাড়ি। এবার আরো কয়েক ঘা মার এবং আরো কয়েক চোট গালি দিয়ে সুবোধ স্বামীর মত স্ত্রীর আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন শেষে তবে গেল খেতে ও ঘুমোতে।

এবার আমার গল্প বলি। আমরাও তিন ভাইবোন। আমি সবার বড়। তারপরে আমার ছোট দুই ভাই শুভ ও রমিজ। শুভ আমার বছর দুয়েক ছোট। আর আমার বয়েস যখন আট তখন রমিজের জন্ম। রমিজ যখন নবজাত শিশু তখন আমিও তো শিশু। কিন্তু সেই আট বছরের শিশু আমাকে বাইরে বের হতে দিত না, খেলতে দিত না কখনো আমার পিতা গোলাম রব্বানী বেলাল মিয়া এবং আমার মাতা মমতাজ বেগম বুলু। সারাদিন ভাইটিকে কোলে নিয়ে নিয়ে উটের মতন কুঁজো হয়ে থাকি আমি। ওদিকে শুভ কিন্তু ইচ্ছামত খেলছে ফুটবল, ক্রিকেট, ডাং-গুলি। চড়ছে গাছে, করছে ছুটোছুটি দিগন্তের এ-প্রান্ত আর ও-প্রান্ত, দিচ্ছে সাঁতার পুকুরের এ-পার ও-পার। আমি ছাড়া আমাদের পাড়ার আর কোনো মেয়েরই বন্দী ও শোচনীয়-দশা ছিল না মেয়ে হয়ে জন্মানোর অপরাধে। সব ছেলেমেয়েরা উঠোনে খেলে, সাইকেল চালায় আর শিশু আমি কলুর বলদ, আমার পিতামাতার সংসারের ঘানি টানি। বস্তায় বস্তায় ধান সেদ্ধ করি, শত শত হাঁস-মুরগিকে আদার দিই, মাটির উনুনে শুকনো পাতার জ্বাল দিয়ে রান্না করি ভাত তরকারি। কালি ছাই তেলমসলায় একাকার হাঁড়ি ঘটি বাটি বাসনকোসন পুকুর ঘাটে নিয়ে গিয়ে শুকনো খড়ে ছাই নিয়ে ঘুরায়ে ঘুরায়ে মাজি। রুপোর মতন চকচকে করে ধুয়ে আনি সব। আমার হাত আর আঙুলগুলি ফেটে চৌচির হয়ে থাকে। ফাটার ভেতরে ভেতরে কালি ছাই ঢুকে থাকে। তা ধুয়ে পরিষ্কার করার জন্য পাই না সাবান। আমার মা সাবান লুকিয়ে রাখে। আমাকে ব্যবহার করতে দেয় না। ব্যবহার করলে নাকি শেষ হয়ে যাবে! সারাদিন ধুলোবালি ছাইকাদা চাষাবাদ হাঁসমুরগির কাজ করে আমি ধুলোবালিছাইয়ে মাখামাখি হয়ে দেখতে ‘ভূতের বাচ্চা সোলাইমান’ হয়ে যাই। গা থেকে আমার ভুর ভুর করে পাঁঠার গন্ধ বের হয়ে বায়ুস্তর ভারী হয়ে যায়। কিন্তু গোসল করার জন্য গোসলের সাবান নেই। আমার মা গোসলের সাবান কেনায় না। তা নাকি শুধু শুধু টাকা নষ্ট। কেউ কখনো বিদেশ থেকে এলে দুই-একটা বিদেশী গোসলের সাবান উপহার দেয়। আমার কাছে তা আকাশের নক্ষত্র হাতে পাওয়ার মত মনে হয়। এক দুইবার ব্যবহারের পর মা সে-সাবান লুকিয়ে ফেলে। আমাকে সাবান দিয়ে গোসল করতে দেবে না। অনেকদিন পর আমি খাটের নিচে ঝাঁট দিতে গিয়ে ইঁদুরে খাওয়া সাবানের সামান্য উচ্ছিষ্ট পাই কুড়িয়ে। তা যত্ন করে রেখে রেখে কয়েকদিন গোসল করি। গোসল করতে যাবার সময় আমি কাপড় কাচার সাবানটা হাতে নিই ময়লায় মাখামাখি কাপড় ও নিজেকে ধুয়ে সাফ করার জন্য। মা আমার হাত থেকে সেটাও কেড়ে নিয়ে নেয়। সাবান শেষ হয়ে যাবে না, মাগী! তোর জন্য আর কত লস দেবো? সারাদিন খেয়ে খেয়ে গায়ে চর্বি করিস। কত খরচ তোর জন্য, কত লস! তার উপর আবার সাবান নষ্ট করবি! আমি সাবান ছাড়াই গোসল করে আসি, কাপড় কেচে আনি। কোনো কোনোদিন পুকুরঘাটে আমার প্রতিবেশী জেঠাতবোন রত্না শর্মিলা নার্গিস ওরাও একই সময়ে গোসল করতে আসে। ওদের পেলে আমি খুশি হয়ে যাই। কারণ, ওদের কাছে গোসল করার ও কাপড় কাচার সাবান থাকে। আমি ওদের সাবান গায়ে ডলে ডলে গোসল করে গায়ের গন্ধ ও ময়লা দূর করি। ওদের সাবান দিয়ে কাপড়ের ময়লা সাফ করি। ওদের কাছে ঋণের আমার শেষ নেই। শুধু সাবানের ঋণ নয়, আছে ভাতের ঋণ এবং আরো অনেক ঋণ।

চারটা বড় বড় কলসীতে আমি জল ভরে আনি। রান্নার কাজে ব্যবহারের জন্য পুকুরের জল, আর খাওয়ার জন্য চাপাকলের জল। বাড়ির সামনে চাপাকল। সে কলের হাতল ধরে আমি বাদুড় আর বানরের মত ঝুলে থাকি সামনে কলসী বসিয়ে দিয়ে। আমি তো ছোট মানুষ, শক্ত হাতল চাপতে পারি না। হাতলটি আমার জন্য উঁচুও বেশ। ঝুলে থাকা ছাড়া গতি কী? একটা কলসী জলে ভরতে আমার লেগে যায় অনেকক্ষণ। কখনোসখনো কোনো হৃদয়বান মানুষ আমাকে কলের হাতলে ঝুলন্তাবস্থায় দেখলে এগিয়ে আসে সাহায্য করতে। কল চেপে আমার কলসীটি জলে ভরে দেয়। ভরা কলসীটি আমার কাঁখে তুলে দেয়। বিশাল ও ভারী কলসীটা কাঁখে নিয়ে হাঁটতে পারি না ছোট্ট আমি। কলসী কাত হয়ে সব জল গড়িয়ে পড়ে যায়। আবার আমি ঝুলে ঝুলে জল ভরার চেষ্টা করে চলি। এভাবে কলসী নিয়ে ঘরে পৌঁছাতে আমার অনেকক্ষণ লেগে যায়। ঘরে পৌঁছুলেই শুরু মারাত্মক মার আর গালি। এতক্ষণ লাগলো কেন রে অমুক তমুক? আমি কেঁদে কেঁদে বলি, জল পড়ে গেছিল কাত হয়ে। এবার মার ও গালের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। পড়ল কেন রে? তাল নারিকেল বেল পড়তে থাকে অঝোরে আমার সারা শরীরে দুইদিক থেকে গালিসহযোগে। এছাড়া টয়লেটে ব্যবহারের জন্য বড় দুইটা বালতি ও বদনা সবসময় ভর্তি করে রাখতে জলে। তাও সব আমার হাতে আনায়। হাগামুতা করে সবাই আর তা পরিষ্কার করার জলটা আনায় শুধু আমার হাতে। আমার ভাইরা যখন আরো বড় হয়েছে তখনো ওদের হাতে একবিন্দু জল আনায় নি ভুলক্রমেও। খাওয়ারটাও না, টয়লেটে ব্যবহারেরটাও না। আমিই ওই সংসারের একমাত্র ভার-বহনকারী উট গাধা খচ্ছর। সবার মলমূত্র পরিষ্কার করার একমাত্র মেথর।

ঘটি বাটি মাজতে একবার, মাছ ধুতে একবার, তরকারি ধুতে একবার, চাল ধুতে একবার, ডাল ধুতে একবার, বাসন ধুতে একবার এভাবে দিনে শত-শতবার করতে হয় আমাকে হেঁসেল-পুকুরঘাট হেঁসেল-পুকুরঘাট। কোনো কোনোদিন দুইহাতে দুই ডজন ঘটি-বাটি ধুয়ে এনে হেঁসেলের সামনে এসে দেখি, পিতার যমমূর্তি। মুখ দিয়ে তার কদর্য নর্দমার ধারা বইছে। কোথায় ছিলি রে, চ ছ জ….? ডাকলাম যে সাড়া দিলি না কেন? মুখে কি অমুক নিয়েছিলি? আমি ঠকঠক করে কাঁপতে কাঁপতে কেঁদে বলি, আমি পুকুরঘাটে হাঁড়িকুড়ি মাজতে গেছিলাম, শুনিনি তাই। শুনিস নি কেন? কানে কি তমুক নিয়েছিলি? আমার মা মহিলা তার স্বামী পুরুষের পাশে দাঁড়িয়ে থেকে ইন্ধন দেয়, না গো, হারামজাদী মিথ্যে বলছে। সারাদিন খালেবিলে থাকে, কোনো কাজই তো করে না। খালি খায় আর খায়। দেখো না, খেতে খেতে বুকে নিতম্বে যোনিতে কেমন চর্বি হয়ে গেছে? পিতা ঘেউঘেউ করে বলে, চর্বি বের করছি তবে। আমাকে লাকড়ি দিয়ে পেটাতে শুরু করে পিতা। আমি পড়ে যাই হেঁসেলের সামনের ছোট্ট উঠোনটাতে। আমার হাত থেকে ঘটি-বাটি ছুটে যায়। আমার উপর লাকড়ির বাড়ি পড়ে, তার উপর ঘটি পড়ে তার উপর আবার লাকড়ির বাড়ি, তার উপর বাটি পড়ে তার উপর আবার লাকড়ির বাড়ি। বেলাল মিয়া আমার ঔরসদাতা, পেটায় আমায় লাকড়ি দিয়ে। আর মমতাজ বেগম বু্লু আমার গর্ভধারিণী সে পেটায় হাঁসমুরগির বিষ্ঠা-মাখানো ঝাড়ু দিয়ে।

আমার ছোট্ট ভাইটিকে কোলে রাখতে রাখতে আমার হাত আর কোল অবশ হয়ে আসে। ওর মলমূত্র-মাখা কাঁথা ধুতে ধুতে আমার ছোট ছোট হাতগুলি শেষ হয়ে যেতে চায়। আমি নিজেই তো তখন শিশু। নিজে বাথরুম করে নিজেরটাই তো ঠিকমত পরিষ্কার করতে পারি না। ভাইয়ের মলমূত্রের অজস্র কাঁথা আট বছরের আমি ধুই কীভাবে? ভাইটি একটু কেঁদে উঠলেই পিতামাতা দুজনই দৌড়ে এসে আমাকে বেদমভাবে পেটাতে থাকে, গাল দিতে থাকে আরো লাগামহীনভাবে।

একদিন ক্লান্ত হয়ে ভাইটিকে কোল থেকে রেখে দিয়েছিলাম মাটিতে। কেঁদে উঠেছিল ভাইটি। ভাইয়ের কান্না দেখে আমিও কাঁদি, ও ভাই, তুই কাঁদছিস কেন? তাকে আবার কোলে তুলে নিতে যাই। কিন্তু কোথায় ভাই? আমার সারা শরীরে আমি তীব্র ব্যথা অনুভব করি, শুনতে থাকি অশ্রাব্য সব গালি। বুঝতে পারি, আমি মাটিতে শুয়ে আছি আর আমার পিতামাতা দুজন দুদিক থেকে আমাকে সর্বশক্তি দিয়ে লাথি দিয়ে যাচ্ছে। বর্ষণ করে যাচ্ছে বাজে সব গালি। আমাদের ছেলে কাঁদলো কেন রে, মাগী? আমাদের ছেলেকে মাটিতে রাখলি কেন রে, মাগী? বিশ্বকাপ ফুটবল খেলছে ওরা আমাকে দিয়ে। আমি ওদের ফুটবল। প্যানাল্টি কিক হচ্ছে এখন। তবে কিক একটা দুইটা নয়, হাজারে হাজারে।

শিশু বয়েসেই পিতামার সাথে সংসারের টুকটাক কাজে সাহায্য করা খারাপ কিছু নয়, ছোট ভাইবোনদের টেক কেয়ার করা খারাপ কিছু নয়। বরং এতে শিশুরা কাজ করতে শেখে, সাহায্য করার মানসিকতা গড়ে ওঠে ওদের। কিন্তু একজন শিশুর পক্ষে চাষাবাদ হাঁসমুরগি পালন ও একটা চাষী পরিবারের সব কঠোর কাজ করা কি সম্ভব? আমারও তো দরকার খেলাধুলার, বন্ধুদের সাথে মেশার, বাইরে যাবার, মুক্ত বাতাসে একটু প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নেবার। কিন্তু এসব কিছুই আমাকে করতে দেয়নি কোনোদিন। শুধু কাজ আর পড়ার টেবিল, পড়ার টেবিল আর কাজ। অথচ আমার ভাইদের জীবন ছিল আমার জীবনের পুরো বিপরীত। ওরা যখন বড় হচ্ছিল কোনো কাজই করাত না ওদের হাতে। ওদের মারতো না, গালি দিত না। ডিমের পুডিং ইত্যাদি অমৃত টাইপ স্বর্গীয় খাবার বানিয়ে মা ওদের আদর করে খেতে দিত। আর আমি তা দেখে দেখে চোখের জল ফেলতাম। কখনো চাইতাম, আমাকেও একটু দাও না! মা গালি দিয়ে বলতো, তুই মেয়ে না! এসব ভালো ভালো খাবার তোকে কেন দেবো?

আমার হাতে বস্তায় বস্তায় ধান সেদ্ধ করিয়ে তা উঠোনে শুকোতে দেওয়ায় আমার মা। দিঘী শুকিয়ে যাওয়া রোদের নিচে আমি বসে থাকি ধান পাহারা দিয়ে। কিছুক্ষণ পর পর ছোট্ট দুটি পা দিয়ে ধানগুলি নেড়ে নেড়ে উলটে পালটে দিই ভালভাবে শুকোনোর জন্য। কাক বা কারো হাঁসমুরগি এসে ধান খেয়ে ফেলে কি না সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখি। জলের পিপাসায় গলা ফেটে যেতে চায়। আমি ঘরে যাই একটু জল খেতে। এই ফাঁকে যদি কারো হাঁস বা মুরগি এসে ধানে লাগে আর আমার পিতামাতা কেউ তা দেখে ফেলে তবে আর আমার রক্ষা নেই, ওরা আমাকে দিয়ে ক্রিকেট খেলতে শুরু করে। রক্ষা নেই সে-অবুঝ পাখিরও। আমার পিতা একদিন আমাদের প্রতিবেশী শর্মিলাদের একটা জ্যান্ত মুরগিকে ধরে হাত দিয়ে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলেছিল। ওরা ভয়ে টুঁ-শব্দটিও করেনি।

দুপুরে খেয়ে আমার পিতামাতা তাদের ছেলেদের নিয়ে ঘুমোতে যায়। আমাকে কাজ দিয়ে যায়– খেত থেকে পাকা মরিচ তুলে আনার, ফেলন ডাল তুলে আনার, আমাদের গরুকে খাওয়ানোর জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভাতের ফেন চেয়ে আনার। ভাইগুলি কখনো ঘুমোয়, আর কখনো বা উঠে খেলতে চলে যায়। আর আমি খেতে পাকা মরিচ তুলি, ফেলন ডাল তুলি। বিশাল এক বালতি হাতে মানুষের হেঁসেলের দ্বারে দ্বারে গিয়ে গিয়ে ফেন ভিক্ষা চাই, আমাদের গরুর জন্য তোমাদের ফেনটুকু দাও। কেউ কেউ দেয় ফেন, আর কেউ কেউ মুখ ঝামটা দিয়ে বলে, তোদেরকে দেবো কেন রে? ফেন দিয়ে আমাদের হাঁসমুরগিকে আদার বানিয়ে দেবো না?

তখন আমার বয়েস ৯ বছর। আমাদের বাড়ির পেছনে দুটি আমগাছ একেবারে পাশাপাশি। ডালপালাগুলি মিলেমিশে একাকার হয়ে থাকে ওদের। গাছগুলি লম্বা নয় মোটেও। আমার প্রতিবেশী বন্ধুরা সে-গাছের ডালে চড়ে ছোঁয়াছুয়ি খেলছে। আমি আমাদের ছাগল পাহারা দেওয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলাম সেখানে। ছাগলটি খুঁটিতে বাঁধা ছিল, ঘাস খাচ্ছিল। আমারও লোভ হলো খেলার। আমি আত্মসংবরণ করতে পারলাম না। ভুলে গেলাম, আমার কোনো খেলার অধিকার নেই। চারিদিকে চেয়ে দেখলাম ভাল করে, পিতামাতা কেউকে দেখা যায় কিনা। না, কারো চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না কোথাও। অতএব পরিস্থিতি নিরাপদ। আমি খেলতে পারবো। ইয়া হু! মুক্তবিহঙ্গ মনে হলো নিজেকে। এক উড়ালে আমি উঠে গেলাম গাছের ডালে। খেলতে শুরু করলাম ছোঁয়াছঁয়ি। কে কাকে ছুঁয়ে দিতে পারে! ইশ! কী আনন্দ! এ-অপার আনন্দের মধ্যে এরা প্রতিদিন থাকে! কিন্তু সে-আনন্দ বেশিক্ষণ সইল না আমাকে। মুহূর্তেই দেখি, আমার পিতা যমদূত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে গাছের নিচে। আমাকে সে বজ্রপাতের মতো বলে, এখনই নেমে আয় হারামজাদী, দেখাচ্ছি তোর গাছে চড়া আর খেলাধুলা! আমি কাঁপতে কাঁপতে নেমে এসে হাজির হই যমের সামনে। আমার বন্ধুরা সবাই ততক্ষণে ধুপাধুপ গাছ থেকে লাফ দিয়ে পড়ে প্রাণ নিয়ে ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড়ে পালিয়ে বেঁচেছে। যম তখন ছাগলের গলা থেকে দড়িটি খুলে নিয়েছে, খুঁটিটি মাটি থেকে উপড়ে নিয়েছে। তার হাতে খুঁটিসমেত দড়ি। আমাকে সে সেই দড়ি দিয়ে এলোপাথারি মারতে থাকে। একবার খুঁটিযুক্ত অংশ দিয়ে, একবার খুঁটিছাড়া অংশ দিয়ে। অনেকক্ষণ ধরে আমাকে মারে সে। গালি তো আছেই। ছাগলের সে দড়ি খুব মজবুত আর শক্ত। আমার পুরো শরীর ফেটে যায়। রক্ত বের হতে থাকে ফোয়ারার মতো। আমাকে সে মারতে মারতে, গালি দিতে দিতে জিজ্ঞেস করে, আর জীবনে খেলবি? আমি গগনবিদারী আর্তনাদে বলি, আর জীবনে খেলবো না, বাপ। মাফ করে দেন। সে আর জোরে আমায় মারতে থাকে লাফিয়ে লাফিয়ে।

About the Author:

মুক্তমনা ব্লগার

মন্তব্যসমূহ

  1. বিপ্লব রহমান মে 31, 2018 at 12:48 পূর্বাহ্ন - Reply

    ঠিক কি বলবো বুঝে উঠতে পারছি না!
    বাবা-মারা প্রায়ই ভুলে যান, ছেলেমেয়েরা তাদের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তের আজ্ঞাবাহী দাস নয়, তারা পৃথক স্বত্ত্বা! তাই নিষ্ঠুর নির্যাতন হলে হিতে বিপরীত হওয়া বিচিত্র নয়।
    এ কারণে মাদকাসক্ত ঐশী যখন বাবা-মাকে খুন করে, তখন প্রথমে যে প্রশ্ন মনে হয়েছিল, তা হচ্ছে—ঐশীকে খুন করেছে কে?

    • নীলাঞ্জনা মে 31, 2018 at 5:07 পূর্বাহ্ন - Reply

      আমি আক্ষরিক অর্থেই তাদের ক্রীতদাস ছিলাম যতদিন তাদের কাছে ছিলাম। আর বিয়ের পর আমাকে ব্যবহার করেছে তাদের ও তাদের পুত্রসন্তানদের সর্বাত্মক উন্নতির জন্য।

      তারা আমার সাথে যে-ব্যবহার করেছে, ছেলেদের সাথে করেছে তার পুরো বিপরীত।

  2. কাজী সানজাদ হোসেন মে 30, 2018 at 12:25 অপরাহ্ন - Reply

    নীলাঞ্জনা আপু এই গল্পটা দ্বারা আপনি মূলত কিসের ইঙ্গিত দেবেন বা দিচ্ছেন তা এখনো বোঝা যাচ্ছেনা, যাই হোক চালিয়ে যান।

    ‘ছোটবেলা থেকেই ওর মায়ের প্রচণ্ড ঘৃণা ওর প্রতি। শুধু কন্যা হয়ে জন্মাবার অপরাধে ওর ওপর মায়ের ঘৃণা ও ক্রোধের অন্ত নেই। মা যতক্ষণ জেগে থাকে ততক্ষণই তাকে খুব অশ্লীল ভাষায় গালাগাল ও অভিশাপ দিতে থাকে অবিরাম। সারাদিন ছোট্ট লিলির হাতে কাজ করায়। কাজে ভুল ধরতে সর্বদা লেগে থাকে ওর পিছে। সামান্য কোনো ভুলত্রুটি পেলে ওকে খুব মারে, খুব গালি দেয়। ওকে ঠিক মতন খেতে দেয় না, খেলতে দেয় না মোটেও।’

    বাংলাদেশের সমাজে এগুলো ছেলেদের উপরেও পড়ে তবে একটু অন্যভাবে।

    • নীলাঞ্জনা মে 31, 2018 at 5:09 পূর্বাহ্ন - Reply

      এগুলি গল্প নয়, ভাই, ইতিহাস।

      হ্যাঁ, অনেক ছেলেও নির্যাতিত হয় পিতামাতার হাতে। আমি নিজেও চিনি এ-রকম কয়েকজনকে। তাদের কথাও লিখার ইচ্ছা আছে।

মন্তব্য করুন