বাংলাদেশ কিভাবে আল-কায়েদা আর ইসলামিক স্টেটের জিহাদি উৎপাদনের উর্বরভূমি হয়ে গেল —দ্বিতীয় পর্ব

মূল প্রবন্ধ

অনুবাদ: বিকাশ মজুমদার

আল-কায়েদার বাংলাদেশ যাত্রা

বাংলাদেশে আল-কায়েদার সাথে সম্পর্কযুক্ত জঙ্গী সংগঠনটি আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি) নামে পরিচিত। বাংলাদেশ নিরাপত্তাবাহিনী সাম্প্রতিক কয়েকটি জঙ্গী হামলার জন্য দায়ী আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের খোঁজ পায় এবং সরকার সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তখন জঙ্গীরা আনসার আল-ইসলাম এবং আনসার আল-ইসলাম বাংলাদেশ-২ ভিন্ন ভিন্ন নামে নিজেদের কার্যক্রম চালাতে থাকে। ধারণা করা হয় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠনটি বাংলাদেশে আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশের শাখা হিসেবে কাজ করছে। কিছু কিছু তাত্ত্বিক মনে করেন আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশের অংশটি বাংলাদেশে সরাসরি নিজেরা সংগঠিত হয়ে কাজ করছে। তবে বাংলাদেশের নিরাপত্তাবাহিনীর কাছে যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ আছে আল-কায়েদার সাথে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) ঘনিষ্টতা। যদিও আল-কায়েদার সাথে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের যোগসূত্র কীরকম এবং কেমন তার ধরণ এবং আল-কায়েদার সর্বোচ্চ নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরির সাথে বাংলাদেশের জঙ্গীদের সম্পর্কের বিস্তৃতি কত গভীরে সে সম্পর্কে বেশিরভাগই অজানা। বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী জানে না বাংলাদেশের জঙ্গীদের সাথে পাকিস্তানের আদিবাসী অঞ্চলের জঙ্গীদের কোন যোগাযোগ আছে কিনা। তবে এই আর্টিকেলে দেখানো হবে আল-কায়েদা, পাকিস্তানের আদিবাসী অঞ্চলের জঙ্গী এবং আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক বিদ্যমান।
আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের আত্মপ্রকাশ ঘটে ২০১৩ সালে অনলাইন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে। সদস্যদের প্রায় সবাই ঢাকার অভিজাত এবং র্যাং কিংয়ের প্রথম সারির প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথের ছাত্র। আনসারুল্লাহ বাংলা টিম নিষিদ্ধ ঘোষিত হলে ভিন্ন নাম প্রস্তাব করা হয়। তখন ইরাকের সালাফি জিহাদি জঙ্গী সংগঠন আনসার আল-ইসলামের আদলে নিজেদের নামকরণ করে। আনসার আল-ইসলামের শীর্ষ নেতা নির্বাচিত হলেন সালাফিজমের তাত্ত্বিক এবং আধ্যাত্মিক গুরু মুফতি জসিমউদ্দিন রহমানী। মুফতি জসিমউদ্দিন রহমানী কট্টোরভাবে প্রকাশ্যে আল-কায়েদা এবং তালিবান জঙ্গীদের সমর্থন দেয়। রহমানী এবং তার অনুসারীগণ আমেরিকান মুসলিমদের ধর্মীয় নেতা আনোয়ার আল-আওলাকির ধর্মীয় বয়ান দ্বারা প্রভাবিত হয়। আনোয়ার আল-আওলাকি আল-কায়েদার আরব্য অঞ্চলের সর্বোচ্চ নেতা। রহমানী বাংলাদেশে অনলাইন, ব্লগ, ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জিহাদি মতবাদ প্রচার করতে থাকে।
মাদ্রাসায়, মসজিদের শুক্রবারে জুম্মা নামাজের খুৎবায় রহমানীর ধর্মীয় উগ্র জিহাদি বয়ান শুনে অনেকেই আনসারুল্লাহ বাংলা টিমে যোগ দেয়। তাদের বেশিরভাগ জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র শিবির কর্মী। তারা গণজাগরণ মঞ্চের অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগার এবং অনলাইন এক্টিভিস্টদের উপর হামলা চালাতে উদ্বুদ্ধ হয়। ঢাকার এক মসজিদে রহমানী শুক্রবারের জুম্মা নামাজের বয়ানে বলেন কেউ যদি ইসলাম, নবী রাসুল এবং আল্লাহকে নিয়ে কোন কটুক্তি করে তাহলে তাকে হত্যা করা প্রতিটি মুসলিমের ঈমানী দায়িত্ব। রহমানীর একটা লেখায় সে ইসলামের সমালোচনাকারীদের দুশমন চিহ্নিত করে প্রগতিশীল লেখক, বুদ্ধিজীবীদের যেমন (আহমেদ রাজিব হায়দার, তসলিমা নাসরিন, দাউদ হায়দার, আসিফ মহিউদ্দিন, ইব্রাহিম খলিল) তালিকা তৈরি করে ইসলাম অবমাননার দায়ে তাদেরকে হত্যার ফতোয়া দেয়।
২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে রহমানীর বয়ানে অনুপ্রাণিত হয়ে জঙ্গী জিহাদীরা অসাম্প্রাদায়িক ব্লগার আহমেদ রাজিব হায়দারকে চাপতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। রহমানীর অনুসারীরা একই বছর শাহবাগ আন্দোলনের সংগঠক আরও তিনজন ব্লগারকে খুন করার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে কিন্তু ঘটনাচক্রে তারা রক্ষা পায়। জানুয়ারিতে আসিফ মহিউদ্দিনের উপর ঢাকার উত্তরায় হামলায় হয় এবং চিকিৎসায় সে প্রাণে বেঁচে যায়। মার্চ মাসে ঢাকার মিরপুর এলাকায় সানাউর রাহমানের উপর চাপাতি হামলা হয়। জিহাদিরা ২০১৩ সালের আগস্টে গণজাগরণ মঞ্চের আর এক কর্মী ব্লগার তন্ময় আহমেদ মুনকে গাইবান্ধা জেলার কাশিয়াবাড়িয়া এলাকায় ছুরি দিয়ে কোপায়।
২০১৩ সালের আগস্টে রহমানীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। হত্যা এবং হত্যা প্রচেষ্টার মামলার বিচারে রহমানীর পাঁচ বছরের জেল হয়। এই সময়ে পুলিশি ধরপাকড় এবং অভিযানের জবাবে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম নিজেদের নাম পরিবর্তন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আনসার আল-ইসলাম নামে আত্মপ্রকাশ করে। ২০১৪ সালের শুরুর দিকে আল-কায়েদা ইসলামপন্থীদের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে আল-কায়েদার বিস্তৃতি ঘটায়। বাংলাদেশের ইসলামপন্থী জঙ্গীদের সাথে আল-কায়েদার ঘনিষ্ট সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ১৯৯০ সালে সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশী মুজাহিদরা বাংলাদেশে ফিরে এসে আল-কায়েদার স্থানীয় এজেন্টে পরিণত হয়ে যায়। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে “বাংলাদেশঃ নিরবতার দেয়ালে চাপা পড়া গণহত্যা” শিরোনামে আল-কায়েদা অনলাইনে একটা ভিডিও প্রকাশ করে সেখানে আল-কায়েদার সর্বোচ্চ নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরি “ইসলামের বিরুদ্ধে চলমান ধর্মযুদ্ধে” বাংলাদেশী জিহাদিদের অংশগ্রহণ জোরদার করার আহ্বান জানায়। ভিডিওতে ইসলামপন্থীদের জিহাদে বাধাদানকারী নিরাপত্তাবাহিনীর ঔদ্ধত্যের সমুচিত জবাব দিয়ে বাংলাদেশে খলিফা শাসিত শরিয়া আইন কায়েম করার আহ্বান জানায়। আয়মান আল-জাওয়াহিরি বাংলাদেশের ইসলামী চিন্তাবিদ, বুদ্ধিজীবী এবং ইমামদেরকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে ইসলামী আন্দোলনকে বেগবান করার আবেদন করে। জাওয়াহিরি ইমামদেরকে বলে তারা যেন জিহাদিদেরকে শিক্ষা দেয় কিভাবে জিহাদিরা ইসলামকে রক্ষা করবে এবং তাদের মনে যেন ইসলামের জন্য প্রাণ বিসর্জনের ইচ্ছে জাগিয়ে তোলে।
আনসার আল-ইসলামের আধ্যাত্মিক নেতা রহমানী জেলে বন্দী থাকলেও আল-কায়েদার দ্বিমুখী ধারালো রণকৌশল জিহাদ এবং ইসলামী শিক্ষার মাধ্যমে আনসার আল-ইসলাম বাংলাদেশে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ২০১৪ সালের মার্চে মাহবুবুর রহমান রায়হান এবং উল্লাস দাস নামের দুজন কিশোর ব্লগার তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কলেজে জঙ্গীদের দ্বারা আক্রান্ত হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক শফিউল ইসলাম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেয়েদের বোরখা পরিধানের বিরোধীতা করলে ২০১৪ সালের নভেম্বরের মাঝামাঝি আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের আরেকটা জঙ্গীদল আনসার আল-ইসলাম বাংলাদেশ ২ তাকে হত্যা করে। আনসার আল-ইসলাম প্রকাশিত হত্যা তালিকায় অধ্যাপক শফিউল ইসলামের নাম ছিল।
সমগ্র দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে জিহাদ ছড়িয়ে দিতে ২০১৪ সালে আল-কায়েদা ভারতীয় উপমহাদেশে আনুষ্ঠানিক শাখা বিস্তার করলে আনসার আল-ইসলাম আরেকদফা শক্তিশালী হয়ে ওঠে। আল-কায়েদা ভারতীয় উপমহাদেশ শাখার ইংরেজিতে প্রকাশিত আল-কায়েদার অনলাইন প্রকাশনা “পুনর্জাগরণ” পড়ে আনসার আল-ইসলাম জঙ্গী জিহাদি হামলায় উদ্বুদ্ধ হয়। “পুনর্জাগরণ” প্রকাশনায় হাজী শরিয়তুল্লাহর নেতৃত্বে ১৯ শতকে ইসলামের নবজাগরণের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিশদভাবে মুসলিমদের উপর আক্রমণ চালানোর দুঃসাহস দেখানোর অভিযোগে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের জন্য বাংলাদেশের মুসলিমদের কাছে আবেদন জানানো হয়।
২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে আনসার আল-ইসলাম নিজেদেরকে আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশের বাংলাদেশ শাখা বলে ঘোষণা দেয়। এমনকি ঘোষণা দেয়ার আগে থেকেই বিচ্ছিন্নতাবাদী আনসার আল-ইসলাম বৈশ্বিক জিহাদি শক্তির নতুন ঠিকানা বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক এবং ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগারদেরকে হত্যার হুমকি দিতে শুরু করে এবং কিছুক্ষেত্রে হত্যার উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যে হামলা পরিচালনা করে। বাংলাদেশ পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তা এই নিবন্ধের লেখককে বলেন, পুলিশ ধারণা করছে আনসার আল-ইসলাম আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশের পাকিস্তান অংশের নেতাদের সাথে যোগযোগ করছে। আনসার আল-ইসলাম আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশের সাথে সাংগঠনিক যোগসূত্রতা স্থাপন করেছে তার যথেষ্ট প্রমাণ তাদের কাছে আছে। ২০১৫ সালে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় সম্প্রতি পুলিশি অভিযানে উগ্রপন্থী জিহাদি সদস্য ধরা পড়েছে। আটককৃত জিহাদিকের কাছ থেকে নিরাপত্তাবাহিনী জানতে পারে এজাজ হোসাইনি ওরফে সাজ্জাদ নামের একজন সাবেক জেএমবি সদস্য বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে পাকিস্তানের করাচি চলে গেছে। সে এখন আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশের পাকিস্তান শাখার করাচি অঞ্চলের কমান্ডার। সে এখন আনসার আল-ইসলাম এবং আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে করাচিতে এক বন্দুকযুদ্ধে এজাজ হোসাইনি নিহত হয়। অনেক বাংলাদেশিই আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখার উর্ধতন পদে আরোহন করতে সক্ষম হয়। তাদের মধ্যে সুলেইমান ওরফে আশিকুর রহমানের নাম উল্লেখযোগ্য। পাকিস্তানে আমেরিকার ড্রোন হামলায় আশিকুর রহমান নিহত হয়।
বাংলাদেশের মুক্তচিন্তার ব্লগারদের খুনের জবাবে সরকারের নিষ্ক্রিয়তায় আল-কায়েদার আত্মস্বীকৃত অংশীদার আনসার আল-ইসলাম ২০১৫ সালে অপ্রতিরোধ্য জঙ্গীদলে পরিণত হয়। তারা ছয়জন অসাম্প্রদায়িক মুক্তচিন্তার লেখককে খুন এবং অঙ্গহানি করে। বিশেষ করে এদের মধ্যে আনসার আল-ইসলামের হাতে খুন হন আমেরিকা প্রবাসী বিজ্ঞান লেখক এবং মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ডঃ অভিজিৎ রায়। ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকার একুশে বইমেলা থেকে ফেরার পথে ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির মত জনাকীর্ণ এলাকায় জিহাদিরা অভিজিৎ রায়কে চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। সেই ভয়াবহ রক্তাক্ত হামলায় অঙ্গহানি ঘটে অভিজিৎ রায়ের জীবন সঙ্গিনী এবং সহলেখক সমমনা বন্যা আহমেদের। একই বছরে খুন হন ওয়াশিকুর রহমান বাবু, অনন্ত বিজয় দাস এবং নিলয় চট্টোপাধ্যায় নামের আরও তিনজন ব্লগার। কিছুদিনের ব্যবধানে খুন হন প্রকাশক ফয়সাল আরিফিন দীপন এবং সাংবাদিক মশিউর রহমান উৎস। সবগুলো হত্যাকাণ্ডেই খুনিরা ধারালো চাপাতি দিয়ে ঘাড়ের উপর উপর্যপুরি কয়েকটি কোপে হত্যা নিশ্চিত করে।
২০১৫ সালের মে মাসে আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখার প্রধান নেতা আসিম উমর “ ফ্রান্স থেকে বাংলাদেশঃ ধুলা কখনো নির্বাপিত হবে না” শিরোনামে অনলাইনে একটা ভিডিও প্রকাশ করে বাংলাদেশে আরও নাস্তিক ব্লগারদের হত্যা করার আহ্বান জানায়। ২০১৫ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশ পুলিশ আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখার বাংলাদেশ অংশের প্রধান দুই নির্বাহী জিহাদিকে গ্রেফতার করে। তাদের একজন সাবেক হুজির প্রধান সমন্বয়কারী মুফতি মইনুল ইসলাম এবং হুজির উপদেষ্টা মাওলানা জাফর আমিন। এক্ষেত্রেও সরকারের নিরবতায় আমরা কোন তথ্যই জানতে পারি না নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গীদলটি কিভাবে আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছে এবং তাদের মধ্যে সম্পর্ক কতদূর গভীরে বিস্তৃত।
২০১৬ সাল পর্যন্ত আল-কায়েদা সমর্থিত বাংলাদেশি জঙ্গীদলের জিহাদিরা তালিকা প্রণয়ন করে মুক্তচিন্তার লেখক, ব্লগারদের হত্যা চালিয়ে যেতে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় আনসার আল-ইসলাম ২০১৬ সালের ৬ এপ্রিল গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী এবং ব্লগার নাজিমুদ্দিন সামাদকে ঢাকার সূত্রাপুর এলাকায় খুন করে। যথা নিয়মে আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখার বাংলাদেশ অংশ আনসার আল-ইসলাম এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে। এপ্রিলের ২৫ তারিখ বাংলাদেশের প্রথম এলজিবিটি “রূপবান”ম্যাগাজিনের উর্ধতন সম্পাদক জুলহাস মান্নান এবং নাট্যকর্মী ও সমকামীদের অধিকার আন্দোলনের কর্মী সামির মাহবুব তনয়কে খুন হন। আবারো জিহাদি সংগঠন আনসার আল-ইসলাম অনলাইনে পরিপূর্ণ বিবৃতি দিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে। আনসার আল-ইসলাম তাদের বিবৃতিতে প্রকাশ করে জুলহাস মান্নান এবং তার বন্ধু সামির মাহবুব তনয় বাংলাদেশে সমকামের মত বিকৃতি নিষ্ঠার সাথে প্রচার প্রসার করছিল এবং তারা দুজনেই আমেরিকা তথা ইহুদি নাসারাদের কর্মসুচি বাস্তবায়ন করছিল।
আনসার আল-ইসলাম বিভিন্নভাবে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করত। ২০১৫ সাল থেকে শুরু করে তারা বিভিন্ন মাধ্যমে হত্যার ঘোষণা দেয় এবং হত্যাকাণ্ডের পর দায় স্বীকার করেছে। তারা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছোট ছোট উপদলে ভাগ হয়ে হত্যাকাণ্ডের তথ্য প্রকাশ করে যেমন “আনসার বাংলা-৭” নামে টুইটারে অভিজিৎ রায়ের হত্যার দায় স্বীকার করে। “আনসার বাংলা-৮” অনন্ত বিজয় দাসের খুনের দায় স্বীকার করে এবং “আনসার আল-ইসলাম-৪” প্রকাশক দীপনের খুনের দায় স্বীকার করে।
নাজিমুদ্দিন সামাদের খুনের পর আনসার আল-ইসলামের মুখপাত্র মুফতি আবদুল্লাহ আশরাফ অনলাইনে বলে একমাত্র সত্য ধর্ম ইসলামের বিরুদ্ধে কটূক্তিকারী আট ধরণের কাফের এবং নাস্তিকদেরকে তালিকা করে তাদের সবাইকে খুন করা হবে। রহস্যময় চরিত্র মুফতি আবদুল্লাহ আশরাফ রহস্যজনকভাবে এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে মুক্ত বাতাসে স্বাধীনভাবে চলাচল করছে। আনসার আল-ইসলামের বর্তমান প্রধান নেতার নাম এখনো তারা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেনি। [ চলবে ]

মন্তব্য করুন