দান বাক্সো

কৈশোরে গ্রামের রাস্তা দিয়ে কোথায় যাওয়ার সময় কোথাও কোথাও দেখতাম, কয়েকজন লোক রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে রিক্সা ও পথচারীদের থামিয়ে চাঁদা চাইছে নির্মাণাধীন আল্লার গৃহের(মসজিদ) জন্য। আমরা আল্লার জন্য একটা ঘর বানাইতেসি আল্লার রহমতে। সাধ্যমত কিছু দিয়া যান। দুনিয়ায় ও আখিরাতে অনেক নেকি অনেক সওয়াব পাইবেন। অধিকাংশ মানুষই কিছু না কিছু দিতো। অনেক হতদরিদ্রকে দেখেছি, পকেট থেকে চাল কেনার টাকাটা বের করে হাসতে হাসতে আল্লার ঘর বানানোর জন্য দিয়ে দিয়েছে। অতঃপর বাড়িতে গিয়ে উপোস করেছে নিশ্চয় (রিজিকের মালিক রাজ্জাক)। যারা চাঁদা দিতে চাইতো না তাদের চাঁদা সংগ্রহকারীরা নানাভাবে ভর্ৎসনা করতো। চারপাশের লোকজনকে শুনিয়ে, চাঁদা না দিতে চাওয়া মানুষটির দিকে আঙুল দিয়ে বলতো, এই যে, দ্যাখো দ্যাখো, এই লোক বোধ হয় মরবে না। আল্লার ঘরের জন্য টাকা দিতেছে না। ও মিয়া, তুমি কি মরবা না? মরলে আল্লার কাছে কী জবাব দিবা?

যারা টাকাপয়সা সোনারূপা আল্লার পথে ব্যয় না করে, তাদের জন্য আছে কঠোর আযাব

আমার কাছে তো টাকা থাকতো না। আমি দিতে পারতাম না। খুব খারাপ লাগতো আমার নিজের জন্য ও অন্য যারা চাঁদা দেয় না তাদের জন্য। আল্লার কাছে আমরা কী জবাব দেবো? ক্ষণিকের দুনিয়াতে কয়েক বেলা না খেয়ে থাকলাম বা মরেই গেলাম না খেয়ে। তাতে কী? কিন্তু তাই বলে কি আল্লার জন্য টাকা দেবো না? আল্লাকে টাকা না দিয়ে কি একবেলা ভাত খাওয়া বড় হয়ে গেল? বড় মনোবেদনায় ভুগতাম এবং এ-বিষয়ে দার্শনিক চিন্তাভাবনায় নিমগ্ন থাকতাম গভীরভাবে।

মেট্রিক পরীক্ষার হলে যাতায়াতের পথে কয়েকটা মসজিদ পড়তো। মসজিদের কাছ দিয়ে যাবার সময় আমি মনে মনে সমস্ত দোয়াদরুদের বারংবার খতম দিতে শুরু করতাম, সর্বমোট যে দুই-তিনটা জানি আরকি। হে আল্লা, আজকের পরীক্ষায় অমাকে অনেক নাম্বার পাইয়ে দিয়ো। জীবনে আমাকে ব্যারিস্টার বানায়ে দিয়ো, মেজিস্ট্রেট বানায়ে দিয়ো, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বানায়ে দিয়ো, বড় পুলিস অফিসার বানায়ে দিয়ো। এইরকম আরো অনেককিছু বানায়ে দিয়ো। কিন্তু অমুক তমুক সমুক যারা আমার জন্য মনে বিদ্বেষ পোষণ করে তাদের ভালভাবে ফেল করায়ে দিয়ো। এবং জীবনে তাদের চাষাভুষো বানায়ে দিয়ো।

পরীক্ষার আগে কয়েকজন আত্মীয়-স্বজন আমাকে দশ-বিশ টাকা করে দিয়েছিল। সে টাকার সমস্তই আমি আল্লাকে দান করে দিয়েছিলাম। শুধু মনের কামনাবাসনার কথা আল্লাকে জানালে তো হবে না। তা পূরণের জন্য তার উদ্দেশ্যে তারই শেখানো পর্যাপ্ত তোষামোদবাক্য ও শব্দ পাঠও যথেষ্ঠ নয়। কিছু টাকাপয়সাও তো দেওয়া চাই ঘুষ হিসেবে! পরীক্ষা দিতে যাবার সময় আমি প্রতিদিন মনেপ্রাণে আল্লার দরবারে নিজের সর্বাঙ্গীন মঙ্গল ও অন্যান্যদের ততোধিক সর্বনাশ কামনা করতে করতে আল্লার ঘরের দানবাক্সে কোনোদিন জলজ্যান্ত একটাকা, কোনোদিন দুইটাকা, কোনোদিন পাঁচটাকা, এমন কি কোনোদিন গোটা দশটাকার নোট পর্যন্ত দিয়ে দিতাম। শৈশব-কৈশোরের দশটাকা মানে তো দশকোটি টাকা। আমার টাকা দিয়ে আল্লা কোটিপতি হয়ে গেল। আহা! সেইসব টাকাগুলি আল্লাকে না দিয়ে যদি নিজে জমায়ে রাখতাম, ব্যাংকে ফিক্সট ডিপোজিট করতাম তাহলে আজ আমি কোটিপতি হতাম। আমার দানের টাকা আল্লা খেয়ে নিলো ঠিকই, তার বাসস্থান বানায়ে নিলো ঠিকই আমার টাকায়। কিন্তু তার কাছে চাওয়া আমার কোনো মনোবাঞ্ছা পূরণ করলো না। আমার সব টাকা আমি সুদসহ ফেরত চাই তার কাছে। ফেরত না দিলে ধোঁকাবাজ, বেঈমানতার উপরে লানৎ।

এখানে অনেক বাঙালি গ্রোসারি দোকান ও রেস্টুরেন্টের কাউন্টারে ‘মসজিদের দান বাক্সো’ লেখা ছোট্ট একটা বাক্সো দেখতে পাওয়া যায়। ওসকল দোকানে গেলে দেখা যায়, অনেক কাস্টমারই তাদের বাণিজ্য শেষে দান বাক্সে কিছু টাকাপয়সা ভরে দিয়ে বিশ্ববিজেতা বীরের দৃষ্টিতে চারপাশের মানুষের দিকে বারকয়েক করুণার দৃকপাত করছে। তার মানে হচ্ছে, আমি করে ফেললাম একটা মহান কাজ আর তুমি বা তোমরা পারলে না; ধিক ও করুণা তোমাদের।

আমার এক বন্ধুর গ্রোসারি দোকান ছিল কয়েক বছর আগে। একদিন তার পরিচিত এক লোক তার দোকানে একটি দান বাক্সো বসিয়ে দিয়ে গেলো এই বলে, আল্লার ঘরের জন্য একটা দান বাক্সো তোমার দোকানে বসায়ে দিয়ে গেলাম, দোস্ত। অনেক সওয়াব হাসিল হবে এতে। যারা দান করবে তারা তো সওয়াব পাবেই, তোমার দোকানে যে এটা বসালাম, তুমিও অনেক সওয়াব পাবা কিন্তু। আর আমি যে বসালাম আমিতো পাবোই পাবো। এর সাথে আরো যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে সংশ্লিষ্ট থাকবে তারা সবাইই পাবে অশেষ নেকি। তোমার ব্যবসারও উন্নতি হবে আল্লার রহমতে। প্রতিদিন একবার এসে সে লোক আমার বন্ধুর দোকান থেকে দান বাক্সো খুলে আল্লার জন্য মানুষের দেওয়া দানের টাকা সংগ্রহ করতো। আমার বন্ধুকে বলতো, দোস্ত, তুমি কিন্তু সব কাস্টমারকে দান বাক্সে টাকা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করবা, স্মরণ করায়ে দিবা। অনেক অনেক নেকি পাবা এজন্য কিন্তু। আমার বন্ধুটি অবিশ্বাসী। তবে সামাজিক কারণে তেমন স্পস্টভাবে তা প্রকাশ করতে ভয় পায়। দান বাক্সো সংক্রান্ত ব্যাপারে সে নির্লিপ্ত থাকে। বাক্সোটি তার দোকান থেকে সরাতে বললে তার ব্যবসা লাটে উঠবে। এটা জানলে কোনো মোসলমান তার দোকানে আর আসবে না। তাকে ওরা ঘৃণাও করবে — এই ভয়ে সে চুপ হয়ে থাকে। বন্ধুর অনেক নেকি হাসিল হয়েছিল। আরে সে নেকির বদৌলতে তার ব্যবসা লাটে ওঠে, দোকান বন্ধ হয়ে যায়।

এখানে কোনো বাঙালি মোসুলমানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আমি কখনো দেখিনি কোনো বাংলা স্কুল, গানের স্কুল, ছবি আঁকার স্কুল, প্রতিষ্ঠা করার জন্য অনুদান সংগ্রহের প্রয়াস। দেখিনি পৃথিবীর অগণিত গৃহহীন মানুষের কারো জন্য গৃহ নির্মাণের জন্য টাকা সংগ্রহ করার প্রয়াস।

মোসলমানেরা রোজার মাসে ফিতরা ও যাকাত দেয়। সামর্থবান মোসলমানদের উপর যা ফরজ। কিন্তু তা শুধু মোসলমানদেরকে। এখানকার সামর্থবান মোসলমানেরাও দেশে দরিদ্র মোসলমান আত্মীয়দের জন্য যাকাত ফিতরার টাকা পাঠায়। কিন্তু কখনো কোনো মোসলমান কোনো অমুসলমান মানুষকে সাহায্য করে না। কারণ তা তাদের শান্তির ইসলাম ধর্মে হারাম।

এখানকার অনেক বাঙালি মোসলমান দেশে নিজের এলাকায় মসজিদ-মাদ্রাসা বানায় অনেক টাকা খরচ করে। এধরনের মানুষেরাও স্কু্‌ল, গানের স্কুল, হসপিটাল, গৃহহীনের জন্য গৃহ, পাবলিক টয়লেট এসবের কোনো প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে না। এখানে বাঙালি মোসলমানদের হাতে একটু টাকা হলেই মসজিদ-মাদ্রাসা বানায় এখানে বা দেশে। বিভিন্ন দেশ হতে আগত মোসলমানদের অবদানে এখন এসব কাফের দেশের মোড়ে মোড়ে আল্লার ঘরের ভিড়। অগণিত আল্লার ভিড়। এখানকার সরকারও আল্লার ঘর বানায়ে আল্লার সংখ্যা বৃদ্ধি করার অনুমতি ও অনুদান দিয়ে ইহলোক ও পরলোকের নেকি হাসিল করে নেয়। নেকির তো দরকার আছে। সরকার কি মরবে না? তখন আল্লার কাছে কী জবাব দেবে? সভ্য দেশগুলিতে আশ্রিত ও প্রশ্রিত ইসলামী সন্ত্রাসে নিরীহ জনতা নিধনযজ্ঞ চলতে থাকলে তার দায় তবে কার?

বাংলাদেশে আগে প্রতিটি অঞ্চলে এলাকার মসজিদের জন্য চাঁদা চাওয়া হতো। কেউ চাঁদা না দিতে চাইলে তাকে নানানভাবে ভর্ৎসনা করা হতো, লজ্জায় ফেলে দেওয়া হতো। এখন চাঁদা বাধ্যতামূলক করে দেওয়া হয়েছে। চাঁদা দিতেই হবে। না দিয়ে বাঁচা যাবে না। কয়েকজন নাস্তিক বন্ধুকে জানি, যারা এই ইসলামী চাঁদাবাজি সন্ত্রাসের শিকার। ওদের কাছ থেকে মসজিদের চাঁদা নিয়ে যায় এলাকার সাচ্চা মোসলমান চাঁদাবাজ বাহিনি। ওদের আমি বলি, কেন তোমরা বলো না, তোমরা মোসলমান নও, মসজিদে যাও না; কাজেই চাঁদা তোমরা দেবে না। ওরা বলে, সাথে সাথে হত্যা করবে তাহলে। এভাবে কি বেঁচে থাকা যায়? এমন ইসলামী সাচ্চা সন্ত্রাসের মধ্যে? হ্যাঁ, এভাবেই মানুষকে বেঁচে থাকতে হয় মোসলমান দেশে।

ছোটবেলায় যখন উত্তরাধিকারসূত্রে অন্ধবিশ্বাসী ছিলাম তখন মনে হতো, আল্লা নামের কোনো রূপকথার চরিত্র হচ্ছে সর্বশক্তিমান। তার কাছে যা চাওয়া হয় তাই পাওয়া যায়। সে খুব ভালো মানুষ। তার গৃহ নির্মাণের জন্য আমাদের দান করা দায়িত্ব।

ইসলাম ধর্ম ও মোসলমানদের মতে, আল্লা এই ব্রহ্মাণ্ডের তৈরিকারক ও মালিক। তাহলে তার ঘর বানানোর জন্য সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ভিক্ষা আদায় করে কেন ওরা? বিশ্বব্রহ্মাণ্ড যে বানাতে পারে সে নিজের জন্য একটা ঘর কেন বানাতে পারে না? এই অবস্থা দেখে ত মনে হয়, ওর চেয়ে অনাথ, ভিখারি আর কেউ নেই এই ব্রহ্মাণ্ডে। দেড় হাজার বছর ধরে এই ভিক্ষুকের জন্য কয়টা গৃহ বানিয়েছে মোসলমানেরা চাঁদাবাজি, জবরদখল ও ভিক্ষা করে? এই এক লোক কিংবা বস্তু কিংবা অবস্তুর কয়টা ঘর দরকার? এক প্রাণি বা অপ্রাণি বা কিছুই না’র জন্য ঘর বানাতে আর কত বছর ভিক্ষাবৃত্তি করা দরকার তার সন্ত্রাসবাহিনির? কেমন অশেষ নিরলস নির্লজ্জ সে নিজে ও তার সন্ত্রাসী ভিক্ষুকবাহিনি?

About the Author:

মুক্তমনা ব্লগার

মন্তব্যসমূহ

  1. Ali Ashman Bar আগস্ট 18, 2017 at 5:38 অপরাহ্ন - Reply

    সব ধর্মে ই দেখা যায় যে, মন্দির, মসজিদ, গির্জা প্রভৃতি বানানোর জন্য চাঁদা ও দান তুলে বানানো হয়। দান দাতাদের বুঝানো হয় যে, দান করলে পরলোকে সে আনেক কিছু পাবে বা স্বর্গে যাওয়ার রাস্তা খোলা থাকবে। সুতরাং এই সুযোগ কেউ হাত ছাড়া করতে চায়না। সে কোটিপতি হউক বা পথের ভিখারী হউক, সবাই স্বর্গে গিয়ে হুরী নিয়ে সুখে মস্তিতে দিন কাটাতে চায়। ধর্মের নামে কত বড় নেশা তা একবার বুঝে দেখেন।

  2. আহমেদ শাহাব জুন 22, 2017 at 9:23 অপরাহ্ন - Reply

    আমেরিকাতেতো তবু ভাল দোকানে বসানো দান বাক্সেই সীমাবদ্ধ কিন্তু ইংল্যান্ডে শুনেছি আরো ভয়াবহ অবস্থা। সেখানে ডজন খানেক খয়রাতি টিভি চ্যানেল আছে যাদের কাজই হলো ভাড়াটিয়া ক্যানভাসার দিয়ে দুনিয়া আখেরাতের অশেষ সওয়াবের বিনিময়ে বিভিন্ন মাদ্রাসা মসজিদের জন্য খয়রাতি সাহায্য সংগ্রহ করা। সেইসব টিভি চ্যানেলের লিল্লাহ সংগ্রহ অনুষ্টানে অনেক খ্যাত অখ্যাত ডাক্তার ব্যারিস্টারও না কি অংশ গ্রহণ করে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেন এবং নিজেরাও অশেষ সওয়াব হাসিল করেন।

    • আহমেদ শাহাব জুন 22, 2017 at 9:36 অপরাহ্ন - Reply

      মন্তব্যটি পোস্ট করার পর পরই আরেকটি তথ্য মনে পড়ে গেল। দান বাক্স যে শুধু মুসলমানদের মাঝেই সীমাবদ্ধ তা কিন্তু নয়।পরিমানে সীমিত হলেও হিন্দুদের মাঝেও এই দানবাক্স প্রথা প্রচলিত আছে। আমার শশুর বাড়ি যাওয়ার পথে মৌলভি বাজারের সরকার বাজার পেড়িয়েই হাতের ডান দিকে একটি বড় দানবাক্স আমার চোখে পড়ত নামটি আমার খুব মনে ধরেছিল যে কারণে দীর্ঘকাল পরেও নামটি এখনও স্মৃতিতে ঝলঝল করছে। ‘সাধুবাবার ঝোলা’ নামের ঐ দান বক্সটি কি এখনও আছে জানিনা।

  3. শাফিয়া আন-নূর জুন 21, 2017 at 12:28 অপরাহ্ন - Reply

    মোল্লা আর আল্লা, এই দুটোই ইসলামের শক্তি, এবং ভয়ঙ্কর উপাদান। প্রথম সত্বাটির উপস্থিতিতে সন্ধেহ থাকলেও, দ্বিতীয়টিতে সেই অবকাশ নেই কিছুতেই। আল্লার আসল ক্ষমতা এদের মাঝেই প্রকাশমান। সবচে বিষ্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, পৃথিবীতে উপার্জনের জন্য বা কতৃত্বের অধিকারী হওয়ার জন্য অনেক কিছু শিখতে হয়, আয়ত্ব করতে হয়; কিন্তু মোল্লা হতে হলে কিছুই করতে হয় না। দাড়িও কামাতে হয় না। শুধু টুপি আর আলখেল্লা হলেই ব্যস…

  4. শাফিয়া আন-নূর জুন 21, 2017 at 12:19 অপরাহ্ন - Reply

    এই ধর্মের প্রধান দুর্বলতাটা হচ্ছে, এখানে মানুষকে চাঁদা দিয়ে, বেগার খেটে আল্লাহকে বাঁচিয়ে রাখতে হয়। বিনিময়ে আল্লাহ মানুষের জন্য কিছুই করেন না। পরকালে এই দুর্বল কিন্তু ভয়ঙ্কর আল্লার ক্ষোভ থেকে বাঁচার জন্য তার ভীরু বান্দারা এতই অস্থির থাকেন যে অন্য কোনদিকে মনোনিবেষের সুযোগ তো পান না কখনই। তাই এদের হাতে পদে পদে অপমানিত হয়, অবহেলিত হয় মানবতা।

    • নীলাঞ্জনা জুন 22, 2017 at 5:52 পূর্বাহ্ন - Reply

      একদম ঠিক কথা।

  5. সোহেল ইমাম জুন 20, 2017 at 11:00 পূর্বাহ্ন - Reply

    রংপুরে একটা মসজিদের সামনের একটা দানবাক্সে লেখা দেখেছিলাম ”বেহেস্তি এ্যাকাউন্ট”। ইসলামিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা যে সব ব্যাংকে আছে তাদের এরকম এ্যাকাউন্ট আছে কিনা জানিনা।

    • নীলাঞ্জনা জুন 22, 2017 at 5:54 পূর্বাহ্ন - Reply

      ‘বেহেস্তি এ্যাকাউন্ট’ নামটা জোশ। সুদের হার কত এখানে?

  6. নীলাঞ্জনা জুন 20, 2017 at 6:41 পূর্বাহ্ন - Reply

    মানুষ মূলত ভয়েই অলৌকিক ও মিথ্যে রূপকথার ধর্মে বিশ্বাস করে। ধর্মে বিশ্বাস ও তা পালন করা মানে পুরাই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। উপাসনালয়ের জন্য বা ধর্মের যেকোনো কাজের জন্য টাকা দেওয়ার চেয়ে টাকা পানিতে ফেলে দেওয়া উত্তম। ধর্ম মানুষে-মানুষে বিভাজন শেখায়, অন্য ধর্মের মানুষদের ঘৃণা করতে শেখায়, হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও সর্বপ্রকারের ধ্বংসযজ্ঞ ঘটাতে উৎসাহ উদ্দীপনা দেয়।

  7. আসাদ বিন আব্দুল্লাহ জুন 19, 2017 at 4:39 অপরাহ্ন - Reply

    কোন ধারণা/তত্ত্ব/সূত্র নিয়ে সমালোচনা করতে হলে অবশ্যই সেই বিষয়ে পড়াশোনা থাকতে হবে। লোকে সেই বিষয় নিয়ে কি বোঝে/ভাবে/করে তা নিয়ে মন্তব্য লিখলে সেটা মূল বিষয়ের ওপরে বর্তায় না। একজন রিক্সাওয়ালা আপেক্ষিকতা তত্ত্ব শুনে মজা পেতে পারে। তার মানে এই নয় যে আপেক্ষিকতা কোন মশকরা করার বিষয়।
    খেয়াল করেছি দেশীয় লেখকেরা যখন যে কোন ধর্মের সমালোচনা করেন তখন সুনিপুণ ভাবে এই দুইটা আলাদা বিষয়কে গুলিয়ে এক করে ফেলেন। যদি এটা অজ্ঞতাবশত হয় তবে লেখার আগে আরও জেনে নিন। আর যদি ইচ্ছেকরে হয় তবে এটা মূক্তচিন্তা নয়। নিয়ন্ত্রিত।

    • নীলাঞ্জনা জুন 20, 2017 at 6:43 পূর্বাহ্ন - Reply

      আপনার বক্তব্য আমি বুঝতে পারিনি। বুঝিয়ে বলুন প্লিজ।

      • আসাদ বিন আব্দুল্লাহ জুন 20, 2017 at 3:49 অপরাহ্ন - Reply

        দেখুন আমার যেটা বলার ছিল সেটা স্পষ্ট করে লিখে দিয়েছি। এটা কোচিং সেন্টার তো নয়!

        • nirjhor জুলাই 17, 2017 at 4:16 পূর্বাহ্ন - Reply

          ভাইসাব কি পিঠ্টান দিলেন নাকি? নীলাঞ্জনা যে প্রশ্নটি করেছেন সেটি আমারো প্রশ্ন। হেঁয়ালি না করে স্পষ্ট করে আপনার বক্তব্য লিখুন। আর মুক্তমনা কোচিং সেন্টার যেমন নয় তেমনি মসজিদ চত্ত্বরও নয়।

    • মনজুর মুরশেদ জুন 20, 2017 at 10:29 অপরাহ্ন - Reply

      @আসাদ বিন আব্দুল্লাহ

      সত্যি বলতে কি আপনার মন্তব্যের বক্তব্য পরিস্কার নয়। এখানে দান-বাক্স বা ধর্মীয় কাজে মানুষের অর্থদান নিয়ে লেখক তাঁর অভিজ্ঞতা, চিন্তা-ভাবনা ইত্যাদি জানিয়েছেন। মানুষের সরলতা, অজ্ঞানতা আর ধর্মের প্রতি অন্ধ-বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে কত দান-বাক্সের মালিক যে ছিঁচকে চোর থেকে রাতারাতি বিত্তশালী হয়ে গেল সে খবর কে রাখে! দেশের আনাচে-কানাচে মসজিদ না গড়ে আর জঙ্গি পয়দাকারী মাদ্রাসায় দান না করে সেই অর্থ লাইব্রেরী, স্কুল গড়তে বা পথশিশু আর বৃদ্ধদের জন্য কোন কর্মসূচীতে খরচ করলে যে সমাজের আসল উপকার হবে তা বুঝতেও তো খোলা মন ছাড়া আর কিছুর দরকার নেই। ধোঁয়াশাভাবে সমালোচনা না করে বরং আপনার দ্বিমতের কারন বুঝিয়ে বলুন, তাতে কেবল লেখক না, অন্যান্য পাঠকরাও উপকৃত হবেন।

      • নীলাঞ্জনা জুন 22, 2017 at 5:59 পূর্বাহ্ন - Reply

        অত্যন্ত সুন্দর মন্তব্য করেছেন, মনজুর। আসাদ বিন আব্দুল্লাহর বক্র মন্তব্যের একটা উত্তর লিখবো, ভাবছিলাম। এসে দেখলাম আপনার চমৎকার মন্তব্যটি। অনেক ধন্যবাদ। আপনার লেখা মিস করছি কিন্তু!

    • আলী আসমান বর সেপ্টেম্বর 5, 2017 at 2:09 অপরাহ্ন - Reply

      আবদুল্লাহ সাহেব, আপনার মন্তব্যের বিষয়টা ঠিকভাবে বোধগম্য হল না। আপনি ঠিক কি বলতে চেয়েছেন সেটা কে পরিষ্কার ভাবে ফুটিয়ে তুলুন। একটা কথা বলছি, আজ নয়, আগেও ধর্মের সমালোচনা হয়েছে। যখন কোন নতুন ধর্মের আগমন ঘটেছে, তখন ই পূর্বের সমালোচনা হয়েছে। হজরত মহম্মদ তার নতুন ইসলাম ধর্ম প্রবর্তনের সময় পূর্বের ধর্মের সমালোচনা করেছিলেন। আশাকরি আপনাকে আর বুঝিয়ে বলতে হবে না।
      এটা মনে রাখবেন যে, যারা সমালোচনা করেন তারা ধর্মের সম্বন্ধে কিছুটা হলেও জানার চেষ্টা করেন। অজ্ঞতা নিয়ে কেউ কখন সমালোচনা করেন না।

মন্তব্য করুন