ঈদে-মোবাহিলা (ফার্সিতে) বা ঈদুল মোবাহালা (আরবিতে) ইসলামের ইতিহাসে একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের দিন। মুসলমানদের সুন্নী সম্প্রদায় বৎসরে তিনটি ঈদ যথাঃ ঈদুল আজহা, ঈদুল ফিতর ও ঈদে মিলাদুন্নবি নিয়মিতভাবেই পালন করেন কিন্তু কোন এক অজ্ঞাত কারণে তারা ঈদুল মোবাহালা পালন করেন না। সুন্নীগণ নবির গুরুত্বপূর্ণ আরো কিছু সুন্নত পালন করা থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে এসেছেন, যেমন বাল্য বিবাহ, মুতা বিবাহ, চার বিবাহ, পুত্রবধু বিবাহ, হিলা বিবাহ, ও আপন চাচাতো ভাইয়ের সাথে নিজের মেয়ের বিবাহ অথবা আপন চাচাতো বোনকে নিজের পুত্রবধু বানানো। পক্ষান্তরে শিয়া সম্প্রদায় নবির সকল সুন্নত ও সবগুলো ইসলামি উৎসব যথাযত মর্যাদার সাথে পালন করেন।

মুবাহালা বা মুবাহিলার সোজা অর্থ হলো- কোন বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে, সত্য-মিথ্যা নির্ণয় করার জন্যে একে অন্যের প্রতি অভিশাপ দিয়ে আল্লাহর গজব বা শাস্তি কামনা করা। অর্থাৎ যার বা যাদের উপর আল্লাহর গজব পড়বে সে বা তারা মিথ্যাবাদী। Cursing and invoking the wrath of God on each other to find the truth. নবম হিজরির জিলহাজ মাসের ২৪ তারিখ ছিল ঈদুল মোবাহালার প্রথম দিন। ঐ দিন আল্লাহর নির্দেশে মুহাম্মদ ও তার পরিবার খোলা ময়দানে ইয়ামন দেশের খৃষ্টানদের সাথে মোবাহিলা করেছিলেন। মোবাহিলায় খৃষ্টানগন মিথ্যাবাদী প্রমাণিত হন। অত্যাশ্চার্য এই ঘটনার সাক্ষী কোরানের দুটো আয়াত দেখা যাক-

Indeed, the example of Jesus to Allah is like that of Adam. He created Him from dust; then He said to him, “Be,” and he was. (Sura al-Imran 3, verse 59)

নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট ঈসার দৃষ্টান্ত হচ্ছে আদমেরই মতো। তাকে মাটি দিয়ে তৈরী করেছিলেন এবং তারপর তাকে বলেছিলেন হয়ে যাও, সঙ্গে সঙ্গে হয়ে গেলেন। (সুরা আল-ইমরান ৩, আয়াত ৫৯)

Then whoever argues with you about it after [this] knowledge has come to you – say, “Come, let us call our sons and your sons, our women and your women, ourselves and yourselves, then supplicate earnestly and invoke the curse of Allah upon the liars ” (Sura al-Imran 3, verse 61)

অতঃপর তোমার নিকট সত্য সংবাদ এসে যাওয়ার পর যদি এই কাহিনি সম্পর্কে তোমার সাথে কেউ বিবাদ করে, তাহলে বল-এসো, আমরা ডেকে নেই আমাদের পুত্রদের এবং তোমাদের পুত্রদের এবং আমাদের স্ত্রীদের ও তোমাদের স্ত্রীদের এবং আমাদের নিজেদের ও তোমাদের নিজেদের আর তারপর চল আমরা প্রার্থনা করি এবং তাদের প্রতি আল্লাহর অভিসম্পাত করি যারা মিথ্যাবাদী। (সুরা আল-ইমরান ৩, আয়াত ৬১)

আল্লাহ তার নবিকে পরামর্শ দিচ্ছেন কিছু মানুষকে অভিশাপ বা অভিসম্পাত করার জন্যে। কেন প্রার্থনা করে এই অভিসম্পাত করা, কেন মানুষের উপর সাক্ষাৎ গজব ডেকে আনা? আয়াত দুটো পড়ে অনুমান করা যায়, কাহিনি হলো নবি ঈসার জন্ম নিয়ে। খৃষ্টানরা বলেন যীশু আল্লাহর পুত্র আর মুহাম্মদকে আল্লাহ জানিয়ে দিয়েছেন যে, যীশু তার পুত্র নয়। কিন্তু খৃষ্টানরা তা মানতে রাজী নয় সুতরাং আল্লাহ খৃষ্টানদেরকে মোবাহিলায় আহবান করার জন্যে মুহাম্মদকে পরামর্শ দিলেন। ঘটনার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে- নবম হিজরির (মতান্তরে দশম হিজরির) জিলহাজ মাসে মুহাম্মদের নবিত্ব ও ঈসার জন্ম নিয়ে তার কথার সত্যতা পরীক্ষা করার জন্যে ইয়ামন দেশের নাজরান শহর থেকে আব্দুল মাসিহ আক্কিব, সায়্যিদ ও আব্দুল হারিস নামের এই তিন ব্যক্তিকে প্রধান করে ষাটজন বিখ্যাত খৃষ্টান বিশেষজ্ঞ মুহাম্মদের সাথে দেখা করতে মদিনা আসেন। তারা যখন মসজিদে নবির সাথে সাক্ষাত কামনা করলেন, নবি তাদের সাথে দেখা করতে রাজী হলেন না। নবি হজরত আলীকে জানিয়ে দিলেন যে, তিনি শয়তানদের সাথে দেখা করতে পারেন না। তারা যদি নবির সাথে দেখা করতে চায়, তাহলে তাদের ঝাক-জমকপূর্ণ পোষাক ত্যাগ করে সাধারণ কাপড় পরে আসতে হবে। পরের দিন খৃষ্টানগণ নবির কথা মত সাধারণ কাপড় পরে আসলেন। দলপ্রধান আব্দুল মাসিহ, মুহাম্মদের সাথে হজরত ঈসা নবির মর্যাদা ও জন্ম বৃত্তান্ত নিয়ে আলোচনায় বসলেন। মুহাম্মদ আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী (সুরা আল-ইমরান, আয়াত ৫৯) যা বললেন খৃষ্টান নেতা তাতে সন্তুষ্ট হলেন না। এর পরপরই আল্লাহ তার নবিকে খৃষ্টান দলকে মোবাহিলার জন্যে (সুরা আল-ইমরান, আয়াত ৬১) চ্যালেঞ্জ করার পরামর্শ দেন। খৃষ্টানগণ মুহাম্মদের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেন। সিদ্ধান্ত হলো পরের দিন মদিনা শহরের বাইরে খোলা ময়দানে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় সর্বকালের শ্রেষ্ট ঐতিহাসিক ঘটনা মোবাহিলা অনুষ্ঠিত হবে। নবি মুহাম্মদ, সালমান ফার্সিকে খুব ভোরে ঐ জায়গায় (খৃষ্টান দলের তাবুর বিপরীতে) গিয়ে তার পরিবারের জন্যে তাবুর ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দিলেন। জিলহাজ মাসের ২৪ তারিখ সকালে নবির বাড়ি লোকে লোকারণ্য হয়ে গেল। সকল মুসলমান নবির সাথে মোবাহিলায় অংশ নিতে চাইলেন, নবি তাদের আবদার প্রত্যাখ্যান করলেন। ঠিক সময়ে খৃষ্টানগণ লক্ষ্য করলেন, নবি তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নির্ধারিত স্থানাভিমুখে রওয়ানা হয়ে গেছেন। তার কোলে হজরত হোসেন, হাতের আঙ্গুলে ধরা হজরত হাসান, একপাশে হজরত ফাতিমা আর পেছনে হজরত আলী। গন্তব্যস্থানে উপস্থিত হয়ে নবি দু-হাত উপরে তোলে বললেন- ‘হে আল্লাহ, এই আমার ঘর এই আমার পরিবার’। নবি তার পরিবারের সদস্যদের বললেন যে, তিনি যখন মিথ্যাবাদীদের উপর অভিশাপ কামনা করে দোয়া করবেন তারা যেন তার সাথে আমীন বলে। এই দৃশ্য দেখে খৃষ্টান দলের নেতা ভয় পেয়ে গেলেন, তার অন্তরাত্মা কেঁপে উঠলো। খৃষ্টানগণ নবির কাছে অনুরোধ জানালেন- মোবাহিলা অনুষ্ঠান বাতিল ঘোষণা করার জন্যে। খৃষ্টান দলনেতা, মোবাহিলা দেখতে আসা মদিনার বিশাল জনতার সামনে তার দলের লোকজনকে উদ্দ্যেশ্য করে বললেন- ‘আল্লাহর কসম, আমি এমন সব মানুষের চেহারা দেখতে পাচ্ছি, তারা যদি পাহাড়কে তার জায়গা থেকে সরে যাওয়ার জন্যে প্রার্থনা করেন, পাহাড় ততক্ষণাৎ স্থানচ্যুত হয়ে যাবে। হে ঈসার অনুসারীগণ, আমি নিশ্চিত তোমাদেরকে বলে দিতে পারি, মুহাম্মদের সঙ্গীরা যদি তোমাদেরকে অভিশাপ দেন, তোমরা কেউ এখান থেকে প্রাণ নিয়ে দেশে ফিরে যেতে পারবেনা। এর পূর্বে জগতের কোন নবি পয়গাম্বর এমন দৃঢ় মনোবল ও আত্মভরসা নিয়ে আল্লাহর গজব কামনা করার সাহস করেন নি। মুহাম্মদ যা চাইবেন তা দিয়ে তার সাথে শান্তি চুক্তি করো অন্যতায় তোমরা ও তোমাদের ধর্ম দুনিয়া থেকে চিরতরে বিলীন হয়ে যাবে’’।

মোবাহিলার আর প্রয়োজন হলোনা, খৃষ্টানগণ পরাজয় বরণ করে নিলেন, আর ঐ দিন প্রমাণ হয়ে গেল যে, ইসলাম সত্যধর্ম, মুহাম্মদ আল্লাহর নবি ও খৃষ্টানগণ মিথ্যাবাদী ছিলেন। উল্লেখ্য, নবি এখানে আল্লাহর আদেশ ও কোরান অমান্য করেছেন। কোরানের আয়াত অনুযায়ী মুহাম্মদ তার পুত্রদের ও স্ত্রীদের মোবাহিলায় নিয়ে যাওয়ার কথা, নবি এর কোনটাই করেন নি।

ব্যস মোবাহিলার কেচ্ছা এখানেই শেষ। এবার ঘটনার পেছনের ঘটনা বা মোবাহিলা নাটকের ব্যাক ষ্টেইজের দৃশ্য দেখা যাক। প্রথমেই মোবাহিলার ঠিক পূর্বে ইয়ামনের নাজরান শহরের প্রধান বিশপ আব্দুল হারিস ইবনে আল-কামাকে দেয়া মুহাম্মদের লেখা একটি চিঠি। মুহাম্মদ সেই চিঠিতে লিখেছিলেন-‘ সকল প্রশংসা ইব্রাহিম, ইসহাক ও ইয়াকুবের আল্লাহর। আমি মুহাম্মদ, আপনাদিগকে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উপাসনা ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার আহবান জানাচ্ছি। আমার এই আহবানে সাড়া দিতে আপনারা অপারগ হলে আপনাদেরকে অবশ্যই আমার সরকারকে আপনাদের জান ও মালের নিরাপত্তার জন্যে খাজনা বা কর দিতে হবে। আর এই মর্মে আপনাদেরকে সতর্ক করে দেয়া হচ্ছে যে, কর দিতে ব্যর্থ হলে এর পরিণতি মারাত্বক ও ভয়াবহ হতে পারে’। ইয়ামনি খৃষ্টানদল যে মুহাম্মদের ইসলাম ধর্ম গ্রহণের আহবানে সাড়া দেন নি তার প্রমাণ- তারা মুবাহিলা অনুষ্ঠানে মুহাম্মদকে আল্লাহর নবি, ইসলাম সত্যধর্ম ও নিজেদেরকে মিথ্যাবাদী স্বীকার করে নিয়েছিলেন, কিন্তু সে দিন একজন খৃষ্টানও তাদের ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেন নি। তবে তারা চিঠির দ্বিতীয় শর্ত অবশ্যই পুরণ করেছিলেন।

ইসলাম জন্ম নেয়ার এতো দিন পরে, নবম হিজরিতে এসে হঠাৎ ঘটা করে মোবাহিলার পরামর্শ কেন? আল্লাহর যে ছেলে সন্তান নেই, আর যীশু যে তার পুত্র নয়, এ কথা আল্লাহ শুধু এই সুরায় নয় এর আগে (মুহাম্মদ মক্কায় থাকা কালে) আরো বহু জায়গায় বলেছেন। যেমন মক্কায় রচিত সুরা মরিয়মে- এই মারইয়ামের পুত্র ঈসা। সত্যকথা, যে সম্পর্কে লোকেরা বিতর্ক করে। (সুরা মরিয়ম, আয়াত ৩৪)
আল্লাহ এমন নন যে, সন্তান গ্রহণ করবেন, তিনি পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা, তিনি যখন কোন কাজ করা সিদ্ধান্ত করেন, তখন একথাই বলেনঃ হও এবং তা হয়ে যায়। (সুরা মরিয়ম, আয়াত ৩৫)
কোনদিন মোবাহিলার ডাক তো দেন নি। সুরা লাহাবে, আবু লাহাবের হাত-পা ধ্বংস, তার বউয়ের গলায় শক্ত খেজুর পাতার দড়ি কামনা করে বললেন-“ধ্বংস হোক আবু লাহাবের হাত দুটো। আর সেও ধ্বংস হোক’’। আবু লাহাবের উপর কোন গজব তো পড়লোনা, তিনি ধ্বংসও হলেন না। গালাগালি, অভিশাপ, অভিসম্পাত মক্কায় থাকতে অনেক হয়েছে, কাজের কাজ তো কিছুই হলোনা। দশটি বছর মানুষ মুহাম্মদের কাছে দাবী জানালো আকাশ থেকে একবার গজব এনে প্রমাণ করুন আপনি নবি। তিনি বললেন যে, নবির উপস্থিতিতে আল্লাহর গজব আসেনা। প্রাসঙ্গীক হিসেবে এখানে কোরানের ৮ নং সুরা আনফাল থেকে কিছু আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাক- “আর স্মরণ করো তারা বলেছিল—হে আল্লাহ এই যদি তোমার সত্য ধর্ম হয়, যদি কোরান সত্য হয় তাহলে আমাদের ওপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষণ করো অথবা আমাদেরকে কঠিন শাস্তি দাও।” (সুরা আনফাল, আয়াত ৩২)। সে দিন তাদের এই কথার জবাবে আল্লাহ মোবাহিলার ডাক দিলেন না কেন? তিনি বললেন-“আল্লাহ কখনো তাদেরকে শাস্তি দিবেন না যতক্ষণ আপনি (মুহাম্মদ) তাদের মাঝে আছেন, আর তারা যদি ক্ষমা প্রার্থনা করে।” (সুরা আনফাল, আয়াত ৩৩)। মদিনায় রচিত এই আয়াত দুটো, মক্কার ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। মুহাম্মদ মদিনায় আসার পর সম্পূর্ণ বিপরীতমূখী আদেশ নির্দেশ কোরানে আসতে থাকে। আজ মোবাহিলা চলাকালে মুহাম্মদ যেখানে উপস্থিত সেখানে গজব বা শাস্তি আসবে কী ভাবে? মক্কায় থাকতে বললেন- লাকুম দ্বীনুকুম ওয়ালিয়াদ্বীন To you be your religion, and to me my religion এখানে মদিনায় এসে চিঠি লিখেন, ইসলাম গ্রহন করো আর না হয় খাজনা দাও কর দাও অন্যতায় পরিণতি মারাত্বক ভয়াবহ হবে। মুহাম্মদের চিঠির জবাবে যে, হয় দেশ, না হয় ধর্ম, না হয় মাথা, অথবা নিদেন পক্ষে দু-একটা সুন্দরী যুবতি দাসী-বাঁদী দিতে হয়, দশম হিজরিতে এসে সে কথা আরব দুনিয়ার কি কারো অজানা আছে?

সুরা ইমরানে মোবাহিলা সম্পর্কিত রচিত আয়াত (৫৯-৬১) দুটোর সাথে সুরা তাওবাহর নিচের দুটো আয়াতের মিলটা লক্ষ্য করুন-
“তোমরা যুদ্ধ করো আহলে-কেতাবের (তৌরাত, জবুর ও ইঞ্জিল কেতাব অনুসারী) ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও আখেরাতে বিশ্বাস করে না, আর নিষেধ করে না যা আল্লাহ ও আল্লাহর রসুল নিষেধ করেছেন এবং সত্য ধর্ম গ্রহণ করে না, যতক্ষণ না করজোড়ে জিজিয়া (কর) প্রদান করেছে ও আনুগত্য মেনে নেয়।” (সুরা তাওবাহ, আয়াত ২৯)

“ইহুদিরা বলে উজায়র আল্লাহর পুত্র আর খ্রিস্টানরা বলে ঈসা আল্লাহর পুত্র। এ হচ্ছে তাদের মুখের কথা। এরা পূর্ববর্তী কাফেরদের মতো কথা বলে। আল্লাহ এদের ধ্বংস করুন, তারা কেমন সত্য থেকে বিমুখ হয়।” (সুরা তাওবাহ, আয়াত ৩০)।

বদর যুদ্ধের পর সমগ্র আরবের অবস্থা কেমন হয়েছিল তার সাক্ষী হয়ে আছে দ্বিতীয় হিজরি্তে লেখা কোরানের সুরা আনফাল ও নবম হিজরিতে লেখা সুরা তাওবাহ। বদর থেকে তাবুক, আনফাল থেকে তাওবাহ আরবের এক সুদীর্ঘ রক্তাক্ত ইতিহাস। নিরীহ ইয়ামনবাসী খৃষ্টানদের, সেই ইতিহাস অজানা থাকার কথা নয়। ইবনে কাথির, সুরা তাওবাহ এর ২৯ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেন-
The Order to fight People of the Scriptures until They give the Jizyah
(Fight against those who believe not in Allah, nor in the Last Day, nor forbid that which has been forbidden by Allah and His Messenger, and those who acknowledge not the religion of truth among the People of the Scripture,) This honorable Ayah was revealed with the order to fight the People of the Book, after the pagans were defeated, the people entered Allah’s religion in large numbers, and the Arabian Peninsula was secured under the Muslims’ control. Allah commanded His Messenger to fight the People of the Scriptures, Jews and Christians, on the ninth year of Hijrah, and he prepared his army to fight the Romans and called the people to Jihad announcing his intent and destination. The Messenger sent his intent to various Arab areas around Al-Madinah to gather forces, and he collected an army of thirty thousand. Some people from Al-Madinah and some hypocrites, in and around it, lagged behind, for that year was a year of drought and intense heat. The Messenger of Allah marched, heading towards Ash-Sham to fight the Romans until he reached Tabuk, where he set camp for about twenty days next to its water resources.

তাবুক যুদ্ধের পর মুহাম্মদের পথ রুখে দাঁড়াবার মতো, তার বিরোদ্ধাচারণ করার মতো কোন শক্তি আদতেই আর আরব বিশ্বের কারো ছিলনা। মানুষ বুঝতে পেরেছিল মুহাম্মদের অধীনতা মেনে নেয়া ছাড়া স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার আর কোন উপায় নেই। আদিল সালাহি নামের একজন ইসলামি গবেষক ও লেখক লিখেন- After returning from the expedition of Tabuk, the Prophet sent his closest companion, Abu Bakr, to lead the pilgrimage and his cousin, ‘Ali, to claim total and religious authority over Makkah so that no unbeliever was able to offer pilgrimage according to the old practices of ignorance.
The time had come for all Arabian tribes to realize that there was no longer any power in Arabia to challenge the authority of the Islamic state in Madinah with them now followers of the Prophet. Hence, it was only to be expected that the Arabian tribes should start to review their position.
Delegations followed one another to Madinah, either to enquire about the essential elements of the faith of Islam or to pledge their loyalty to the Prophet and declare their belief in God’s oneness and the message of Muhammad. Many delegations of major Arab tribes are now reaching Madinah, some asking for power others for friendship with whole tribes declaring acceptance of Islam. One with a special significance was from Najran. At the time of the Prophet, Najran and its surrounding area, in the south of Arabia, was a Christian valley. It had a Bishop called Abu Harithah ibn ‘Alqamah who was considered an authority on the Christian faith. He was in touch with Byzantine emperors who respected him, sent him financial aid and helped build a number of churches in the area.
In response to a letter sent by the Prophet inviting them to Islam they sent a delegation of 60 people to Madinah in order to get first-hand information about the Prophet.

সুরা আনফাল থেকে তাওবাহ, বদর থেকে তাবুক, দ্বিতীয় হিজরি থেকে নবম হিজরি-

• 1st Badr
• Kudr
• Sawiq
• Qaynuqa
• Ghatafan
• Bahran
• Uhud
• Al-Asad
• Nadir
• Invasion of Nejd
• 2nd Badr
• 1st Jandal
• Trench
• Qurayza
• 2nd Lahyan
• Mustaliq
• Hudaybiyyah
• Khaybar
• Conquest of Fidak
• 3rd Qura
• Dhat al-Riqa
• Baqra
• Conquest Mecca
• Hunayn
• Autas
• Ta’if
• Tabouk

আমরা এখানে ইবনে হিশামের ‘সিরাত’ ৫৭৩/১ থেকে ঘটনাটি আরেকটু জেনে নিবো- ‘After lengthy discussions no agreement was reached on the position and standing of Jesus. The Christians of Najran believed in the divinity of Jesus and considered him as the son of God. This is while, based on the explicit wording of the Holy Qur’an (3:59), the Messenger (s) of Allah considered him as a prophet and the servant of God. At the end of the discussions, the Prophet (s) suggested that the two sides engage in “mubahalah”, in other words, to invoke divine malediction for the lying side. The following verse was descended in this regard:
“But whoever disputes with you in this matter after what has come to you of knowledge, then say: come let us call our sons and your sons and our women and your women and our near people and your near people, then let us be earnest in prayer, and pray for the curse of Allah on the liars.” (3:61)
The 10th (and some say the 24th) of Dhul-Hijjah was chosen for “mubahalah”. The Messenger (s) of Allah ordered that in a field outside Medina a thin black “aba” (men’s loose sleeveless cloak open in front) be used as a shade between two trees. The Christian chiefs and dignitaries of Najran stood in orderly ranks on one side of the field, on the other side, the Prophet, together with `Ali, Fatimah, Hasan and Husayn came from the direction of Medina to the shade. Along this path, the Prophet (s), holding the hand of `Ali (`a), Hasan and Husayn walked in front with Fatimah behind them (c.f. “Majm`a al-Bayan”. Interpretation of the Mubahalah Verse). With such simplicity and grandeur, they reached the shade and stood below the “aba”. The Holy Prophet (s) recited the “tathir verse” and addressed the “ahl-al-bayt” by saying: “I will invoke malediction for them and you say `amin’.” Seeing such glory and grandeur, the Najran chiefs lost their self-confidence and felt that they were very puny and could not stand against Prophet Muhammad (s) and his Household. They, therefore, accepted to pay “jaziyyah” and offered to give in to peace. On behalf of the Holy Prophet (s), the commander of the Faithful, `Ali , signed a peace treaty with the Christians.

The Christians were to annually offer twelve thousand exquisite clothes, a thousand Mithqal of gold (4225 grams of 24ct Gold.), and some other items to remain Christians under the umbrella of Islam. খৃষ্টানদল মোবাহিলা করতে মদিনায় আসেন নি, এসেছিলেন নিজ দেশকে ও দেশের মানুষকে একটি অবশ্যাম্ভাবী যুদ্ধ থেকে রক্ষা করার জন্যে। আর নিজের ধর্ম নিয়ে বাঁচতে হলে বাৎসরিক খাজনা-পাতি, কতোগ্রাম কতো ক্যারেন্টের সোনা-দানা, কতো দামী কাপড়-চোপড় মুহাম্মদকে দিতে হবে সেই দাম-দর করার জন্যে। মোবাহিলার আয়াত মুহাম্মদ কোরানে ঢুকিয়েছিলেন খৃষ্টানদল তার কাছে আসার পরে। চিঠির দ্বিতীয় শর্ত পুরণে অপারগতা দেখালে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে মুহাম্মদের সৈনিকদল তৈ্রী হয়েই ছিলেন।

ইবনে কাথির, সুরা ইমরানে মোবাহিলা সম্পর্কিত উল্লেখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেন-


Imam Ahmad recorded that Ibn `Abbas said, “Abu Jahl said, `If I see Muhammad praying next to the Ka`bah, I will step on his neck.’ The Prophet later said, Had he tried to do it, the angels would have taken him publicly. Had the Jews wished for death, they would have perished and would have seen their seats in the Fire. Had those who sought Mubahalah with the Messenger of Allah, went ahead with it, they would not have found estates or families when they returned home.” Al-Bukhari, At-Tirmidhi and An-Nasa’i also recorded this Hadith, which At-Tirmidhi graded Hasan Sahih.

এটাই আসল সত্য যে, ইয়ামন থেকে আসা খৃষ্টানদল মুহাম্মদের সাথে যদি মোবাহিলা চালিয়ে যেতেন, তারা দেশে ফিরে যেতে পারতেন না, আর কোন রকম পালিয়ে গেলেও দেশ ফিরে পেতেন না। জগত বিখ্যাত শক্তিশালী রোমান যার পদানত, সারা আরব দুনিয়া যার দখলে, মোবাহিলা নামক নাটক মঞ্চস্ত করা তার মতো একজন আরবি রঙ্গীলা রাসুলের পক্ষেই শুধু সম্ভব।

Eid Al-Mubahala

[110 বার পঠিত]