হজরত আয়েশার (রাঃ) সাথে এক রজনী
আকাশ মালিক
পূর্ব প্রকাশিতের পর-
(শেষ পর্ব)

– আয়েশা, আমরা কোরানের সুরা আত্-তাহরিমে ম্যারিয়া, সুরা আল্-আহজাবে জয়নব আর সুরা আল্-নূরে আপনাকে দেখতে পাই । অথচ আপনাদের কারো নাম কোরানে উল্লেখ নেই। এই যে জগতের কোটি কোটি মুসলমান নিত্যদিন প্রাতঃকালে ঘুম থেকে জেগে উঠে কোরান পাঠ করেন, নামাজে দাঁড়িয়ে তারা যে তিনটা নারী কেলেংকারী ঘটনা পড়ছেন, তা তারা জানবেন কি ভাবে?
– ‘নারী কেলেংকারী ঘটনা ’ কি না তা পাঠকের উপর ছেড়ে দেয়াই ভাল, তবে সংক্ষেপে উত্তরটা হলো কোরান পড়ে জানার কোন উপায় নেই। আর যারা জানতে চেষ্টা করেছেন বা ঘটনা লিখে রেখেছিলেন তাদের হাজার ধরনের সাক্ষী, মন্তব্য, ধারণা, স্টেইটমেন্ট তাদেরকেই হাজার দলে বিভক্ত করে দিয়েছে।
– আয়েশা, আপনার ব্যক্তিগত কাহিনি শুনার আগে, আমি আমার একটা ব্যক্তিগত ঘটনা আপনাকে বলি- মাদ্রাসায় থাকতে একদিন আমরা এশার নামাজে দাঁড়িয়েছি। নামাজ পড়াচ্ছিলেন হিফজের হুজুর। দ্বিতীয় রাকাতে হুজুর সুরা তাহরিমের সেই আয়াতটি তেলাওত করলেন, ‘তোমরা উভয়েই অন্যায় করে ফেলেছো ’। আচ্ছা আয়েশা আমি এই বাক্যের শুরুতে যদি আপনার ও হাফসার নাম লাগিয়ে দেই, তাহলে কি অন্যায় হবে? তাত্ত্বিক ভাবে তখন বাক্যটির বাংলা অর্থ দাঁড়ায় এরকম- ‘ (আয়েশা ও হাফসা) তোমরা উভয়েই অন্যায় করে ফেলেছো ’ । সাধারণত হিফজের হুজুর কখনো আয়াত ভুলেন না, কিন্তু কেন জানি ঐ রাতে (হয়তো অন্যমনস্ক হয়ে গিয়েছিলেন) আয়াতের বাকী অংশটুকু আর মনে করতে পারছিলেন না। হুজুর তিনবার পড়লেন- ‘ (আয়েশা ও হাফসা) তোমরা উভয়েই অন্যায় করে ফেলেছো’। চতুর্থবারে পড়লেন- ‘ (আয়েশা ও হাফসা) তোমরা উভয়েই অন্যায় করে ফেলেছো, আল্লাহু আকবর ’। আমরা রুকুতে চলে গেলাম। পেটের ভেতর হাসি চাপিয়ে রাখার চেষ্টা করতে গিয়ে পায়ু পথ দিয়ে আমার ওজু পালিয়ে গেল আর—
আয়েশা আপনি হাসছেন! যাক আপনাকে হাসাতে পেরে আমার ভাল লাগছে। আপনি যেমন সুন্দর, আপনার হাসিও তেমন সুন্দর। আপনার কথা বলার ভংগীটাও সুন্দর। বলুন আপনার সম্মানার্থে কোন্ গানটা শুনাবো? চাঁদের হাসির বাঁধ ভেঙ্গেছে—? নাকি, -মেরে ঘর আয়া এক—-পরী?
– বিদায়ক্ষণে বুঝি আপনার মনে পড়লো গান শুনাবার? আমার হাতে সেই সময় যে আর নেই। তবে আমার জানতে ইচ্ছে করে আপনি বাকি দুই রাকাত নামাজ পড়েছিলেন কি না?
– হুম, বুঝেছি। আপনি সব সময় আমার মাইন্ড রিড করতে পারেন না। থাক ওসব, চলুন আমরা আমাদের আলোচ্য বিষয়ে চলে যাই। এতক্ষণ আমরা আপনার কাছ থেকে ম্যারিয়া ও জয়নবের কাহিনি শুনছিলাম, এবার আপনার কাহিনিতে যাওয়ার আগে সুরা নূর নাজিল হওয়ার প্রেক্ষাপট শুনতে চাইবো।
– অসুবিধে নেই। সুরা নূর নাজিল হওয়ার প্রেক্ষাপট জানলেই ঘটনা পরিষ্কার হয়ে যাবে। – তখন ৬ষ্ঠ হিজরীর শাবান মাসের কৃষ্ণপক্ষের এক ঘন কালো রাত্রি। বনি মুসতালিক গোত্রকে আক্রমন করা হবে। নবীজী যুদ্ধে যাওয়ার আগে লটারির মাধ্যমে সিলেক্ট করতেন, তার কোন্ স্ত্রীকে সঙ্গে নিবেন। লটারিতে বেশিরভাগ সময়েই আমার নাম উঠতো, এবারেও আমার নামই উঠলো। নবীজী কমান্ডার ইন চিফ, আমি তাঁর সাথে। যুদ্ধের প্রয়োজন হলোনা, অন্ধকার নিশীত রাতের অতর্কিত হামলা প্রতিরোধ করার সুযোগ বনি মুসতালিক গোত্রকে দেয়া হয় নাই। তারা ঘুম থেকে উঠে দেখলো, তাদের ঘর-বাড়ি, জায়গা-জমি সহায়-সম্পত্তি মুসলমানদের দখলে চলে গেছে। বনি মুসতালিক গোত্রের সকল যুবক-শিশু, নারী পুরুষকে বব্দী করে, গনিমতের মালপত্র নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে, মদীনার অদূরে ‘মুরাইসী’ নামক এক জায়গায় আমরা বিরতি নিলাম। এখানে পানি উত্তোলন নিয়ে ওমরের এক ভৃত্যের সাথে মদীনার আনসারী কিছু লোকের ঝগড়া হয়। ঝগড়া এমন পর্যায়ে পৌছিল যে, মদীনার প্রভাবশালী নেতা আব্দুল্লাহ বিন ঊবেহ বলতে শুরু করলেন-‘ মদীনাবাসী, দেখো শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার পরিণতি। তোমরা খাল কেটে কুমীর এনেছো, আদর করে অকৃতজ্ঞ জাতীকে মাথায় তুলেছো, তোমাদের সহায় সম্পত্তিতে অংশীদারিত্ব দিয়েছো, এখন তারা তোমাদের উপর কর্তৃত্ব করতে চায়। এবার বাড়ি গিয়ে এই নীচমনাদেরকে তাড়াতে হবে ’। আব্দুল্লাহ বিন ঊবেহ রিতিমত মদীনার স্বাধীনতা ঘোষণা করে দিলেন। নবীজী কোনরকম বিষয়টা সামাল দিয়ে, সকলকে নিয়ে মদীনার পথে রওয়ানা হয়ে যান। রওয়ানার প্রস্তুতিকালে আমি প্রশ্রাব করার উদ্দেশ্যে তাবুর বাইরে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখি আমার গলার হারটি কোথায় পড়ে গেছে। হারের সন্ধানে আমি আবার বেরিয়ে যাই। আমার মালপত্র আমার উটের উপর তোলা হলো কিন্তু কেউ লক্ষ্যই করলেন না যে, আমি উটের উপরে নেই। তারা একসময় আমার খুঁজে এখানে আসবেন এই আশায়, আমি আমার চাদরখানা গায়ে জড়িয়ে বসে থাকি। একসময় ঘুমিয়ে পড়ি। ভোরবেলা সৈনিক সাফওয়ান বিন মো’তাল সোলাইমি এই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। আমাকে তিনি ঘুমন্ত অবস্থায় চিনতে পারলেন। তিনি এর আগেও আমাকে বহুবার দেখেছেন। চিৎকার করে বললেন- ‘আহারে সবাই নবীর স্ত্রীকে ফেলে চলে গেল ’। তার চিৎকারে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। তাড়াতাড়ি ঘোমটা টেনে আমি উঠে বসি। সাফওয়ান আমার সাথে কোন কথা না বলে তার উটটাকে আমার সামনে নত করে দেন। আমিও তার সাথে কোন কথা না বলে উটের উপর আরোহন করি। প্রায় দুপুর সময় আমরা আমাদের মূল দলকে অতিক্রম করে মদীনায় পৌছে যাই। কেউ ঘুনাক্ষরেও অনুমান করতে পারেন নি, আমি যে এতক্ষণ তাদের সাথে ছিলাম না। শেষে শুনা যায় আমার দেরীতে ফেরা নিয়ে সেদিন দলের মধ্যে তুলকালাম কান্ড হয়েছিল। আব্দুল্লাহ বিন উবেহ নাকি দলের সামনে চিৎকার করে বলেছিলেন- ‘দেখো দেখো নবীর স্ত্রীর কান্ড দেখো। সারা রাত সাফওয়ানের সাথে কাটিয়ে তারই সাথে ফিরে এসেছে। আল্লাহর কসম এই মহিলা আর সতী হতে পারেনা ’। মদীনায় পৌছে আমি রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ি। পুরো একমাস বিছানায় পড়ে রইলাম। হঠাৎ আমার মনে হলো নবীজী যেন আগের মতো আমার কাছে আসেন না। আমার রোগ শুনেও ঘরের ভেতরে না ঢুকে মানুষকে আমার অবস্থা জিজ্ঞেস করেন। আমার সাথে কথা বলেন না। আমার মনে সন্দেহ জাগলো বিষয়টা কী? এর পর রুগ্ন শরীর নিয়ে আমি আমার মায়ের কাছে চলে যাই। মায়ের কাছে থাকাকালীন সময়ে একরাতে মিসতাহর মায়ের সাথে প্রকৃতির ডাকে বাইরে গিয়েছিলাম। ফিরে আসার পথে হঠাৎ মিসতাহর মা হোঁচট খেয়ে মাটিতে পড়ে যান আর উচ্চস্বরে বলে উঠেন- ‘মিসতাহ তোর উপর আল্লাহর গজব বর্ষিত হউক ’। আমি বললাম, ‘তুমি এ কেমন মা, নিজের ছেলেকে অভিশাপ দিচ্ছো ’? তিনি বললেন ‘ওমা, তুমি কি জানোনা মিসতাহ আরো অন্যান্যদের নিয়ে তোমার উপর কেমন কেলেংকারী রটনা করছে ’? শুনে আমার তো আকাশ ভেঙ্গে মাথায় যেন বজ্রপাত হলো। দৌড়ে মায়ের ঘরে গিয়ে সারারাত কাঁদলাম। ভোরে ঘুম উঠে খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারলাম, কেলেংকারী রটনায় প্রধান ভুমিকায় আছেন, নবীর এককালের পুত্রবধু আমার সতীন জয়নবের বোন হাম্মানাহ, নবীর বিশ্বস্ত বিখ্যাত কবি হাসান বিন তাহবিত, বদর যুদ্ধের বীর সৈ্নিক সাহাবী মিসতাহ, মদীনার প্রতাপশালী নেতা আব্দুল্লাহ বিন উবেহ ও অন্যান্য মুসলমাগণ। আমার অনুপস্থিতিতে আমার স্বামী, হজরত উসমান বিন যায়েদ ও আলীর পরামর্শ নিলেন। উসমান বললেন ‘আয়েশাকে আমরা বিশ্বাস করি, তিনি চরিত্রবান মহিলা বলে আমরা জানি ’। আলী পরামর্শ দিলেন ‘ আব্বাজান প্রয়োজন হলে আরেকটা বিয়ে করুন, এই মহিলাকে তালাক দিয়ে দিন, সে আপনার জীবন অতিষ্ঠ করে তোলবে ’। এর মধ্যে আমার দাসীকেও এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হয়। বাধ্য হয়ে আমি নবীজীকে জিজ্ঞেস করেছিলাম’ ‘আপনি কি আমাকে বিশ্বাস করেন না’? নবী আমার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে বললেন ‘তুমি যদি অন্যায় করে থাকো স্বীকার করে নাও, আর ধৈর্য্য ধরো হয়তো আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করে দিতে পারেন ’। এ ব্যাপারে একমাস পর মসজিদের সামনে সকলকে সমেবেত করে নবীজী যে ভাষন দিয়েছিলেন তা’ই সুরা নূর।
– আয়েশা আপনার এই স্টেইটমেন্টের কপি আমার কাছে আছে। প্রায় হুবহু বর্ণনা পাই পাকভারত উপমহাদেশের বিখ্যাত তাফসিরকারক মৌ্লানা মওদুদীর তাফহিমুল কোরানে। আমি কিছু কথা যোগ করতে চাই, যা আপনি আপনার স্টেইটমেন্টে উল্লেখ করেন নাই। নবীজী যখন সুরা নূর আবৃত্তি করেন তখন মসজিদের ভিতরেই নবীর সামনে মদীনার খাজরাজ ও উসায়েদ নামের দুই দল মুসলমান মানুষের মধ্যে তুমুল হট্টগোল শুরু হয়েছিল। এরই পরিণতিতে সাফওয়ান তার তরবারী দিয়ে কবি হাসানকে আঘাত করে জখম করেছিলেন আর বলেছিলেন- ‘আমার নামে ব্যাঙ্গাত্বক কবিতা লিখার বিনিময়ে আমি কবিতা লিখিনা, তরবারীর আঘাত উপহার দেই ’। পরবর্তিতে এই কবিকে আপনার স্বামী কোন্ স্বার্থে ম্যারিয়ার বোন শিরীন উপহার দিয়েছিলেন, তা অবশ্য অন্য প্রসঙ্গ, এখানে আলোচনা করার প্রয়োজন নেই। আরো একটা কথা আপনি উল্লেখ করেন নাই, যা হজরত তাবারী সাহেব আপনার দেয়া স্টেইটমেন্টে লিখে রেখেছেন। আপনি নাকি বলেছেন সৈনিক সাফওয়ান, খোজা বা নপুংসক Eunuch. (a castrated male) ছিলেন। নিন্দুকেরা প্রশ্ন করে, সাফওয়ান যে খোজা বা নপুংসক ছিলেন আয়েশা তা বুঝলেন কী ভাবে? আর আল্লাহ বিগত এক মাসেরও বেশী সময় করছিলেনটা কী? তিনি কি আয়েশার পরবর্তি মাসের ঋতুস্রাবের অপেক্ষায় ছিলেন? নবীই বা কেন আল্লাহর পরামর্শ না নিয়ে আয়েশার দাসী, আলী, ও উসমান বিন যায়েদের পরামর্শ নিলেন? আপনার নিন্দুকেরা আরো বলে- নবী পরিবারে আপনিই একমাত্র সাহসী মহিলা যিনি নবীকে একদিন বলেছিলেন, ‘আপনি নবী না হয়েও নবীর ভান করেন ’। আপনার পিতার সামনে কোন এক ঘটনায় আপনি নবীকে বলেছিলেন, ‘যাহা বলিবেন সত্য বলিবেন ’। আর তা শুনে আবুবকর আপনার গালে স্বজোরে আঘাত করেছিলেন যার ফলে আপনার মুখ থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছিল। নবীজী যখন ম্যারিয়ার গর্ভের সন্তান ইব্রাহিমকে কোলে নিয়ে আপনার কাছে এসে বলেছিলেন, ‘দেখো আয়েশা ছেলেটার চেহারা ঠিক যেন আমারই চেহারা ’। আপনি বলেছিলেন, ‘ছেলের মাঝে আপনার চেহারার আমি কিছুই দেখিনা ’। নবীজী বলেছিলেন, ‘দেখো বাচ্চাটার কি সুন্দর দুটো গাল, কেমন গোলগাল ’। আপনি বলেছিলেন ‘পৃথিবীর সকল শিশুরই এই বয়সে এরকম (Chubby) গাল হয় ’। সে যাক, নিন্দুকের মুখে ছাই পড়ুক, চলুন আমরা দেখি সংশ্লিষ্ট ঘটনার ব্যাপারে সুরা নূরে কী বলা হয়েছে।
– সময় স্বল্পতার কারণে আমি উল্লেখিত আয়াতগুলো শুধু পড়ে শুনাবো, কোন প্রকার ব্যাখ্যা তাফসিরের সময় বোধ হয় আর নেই। দেখুন সুরা নূর (আয়াত ১১)- যারা মিথ্যা অপবাদ রটনা করেছে, তারা তোমাদেরই একটি দল। তোমরা একে নিজেদের জন্যে খারাপ মনে করো না; বরং এটা তোমাদের জন্যে মঙ্গলজনক। তাদের প্রত্যেকের জন্যে ততটুকু আছে যতটুকু সে গোনাহ করেছে এবং তাদের মধ্যে যে এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে, তার জন্যে রয়েছে বিরাট শাস্তি। (আয়াত ১২)- তোমরা যখন একথা শুনলে, তখন ঈমানদার পুরুষ ও নারীগণ কেন নিজেদের লোক সম্পর্কে উত্তম ধারণা করনি এবং বলনি যে, এটা তো নির্জলা অপবাদ? (আয়াত ১৩)- তারা কেন এ ব্যাপারে চার জন সাক্ষী উপস্থিত করেনি; অতঃপর যখন তারা সাক্ষী উপস্থিত করেনি, তখন তারাই আল্লাহর কাছে মিথ্যাবাদী। (আয়াত ১৪)- যদি ইহকালে ও পরকালে তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকত, তবে তোমরা যা চর্চা করছিলে, তজ্জন্যে তোমাদেরকে গুরুতর আযাব স্পর্শ করত। (আয়াত ১৫)- যখন তোমরা একে মুখে মুখে ছড়াচ্ছিলে এবং মুখে এমন বিষয় উচ্চারণ করছিলে, যার কোন জ্ঞান তোমাদের ছিল না। তোমরা একে তুচ্ছ মনে করছিলে, অথচ এটা আল্লাহর কাছে গুরুতর ব্যাপার ছিল। (আয়াত ২৩)- যারা সতী-সাধ্বী, নিরীহ ঈমানদার নারীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে, তারা ইহকালে ও পরকালে ধিকৃত এবং তাদের জন্যে রয়েছে গুরুতর শাস্তি।
– ঠিক আছে আয়েশা ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের দরকার নেই, তবে আমি দৃঢ়কণ্ঠেই বলবো, উল্লেখিত আয়াত বা বাক্য গুলো কোনভাবেই আল্লাহর নয়। আয়েশা, বিদায়বেলা আমাদের জন্যে, জগতের মুসলিম নারী সমাজের প্রতি আপনার পরামর্শ, আপনার উপদেশ কামনা করছি।
– সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকারে আমরা যা কিছু আলোচনা করেছি তা, আমাদের সময়ের অর্থাৎ ১৪ শত বছর পূর্বের সমাজ বাস্তবতা দিয়ে বিচার করতে হবে। রাস্ট্র থেকে ধর্মকে আলাদা করে রাখুন। রাস্ট্র হচ্ছে সকল ধর্মের মানুষের, রাস্ট্রের নিজস্ব কোন ধর্ম থাকতে পারেনা। মানুষকে তার ধর্ম পালন করতে দিন, সে যেভাবে চায় সেই ভাবে। নারীকে তার সকল প্রকার বৈষয়িক, নাগরিক, মানবিক সমান অধিকার দিয়ে দিন, এতে দেশ ও জাতির মঙ্গল নিহিত।
– আয়েশা আমাদের সাথে এতক্ষণ সময় দেয়ার জন্যে, আপনাকে আমার ও সকল পাঠকবৃন্দের পক্ষ থেকে অশেষ ধন্যবাদ।

সমাপ্ত-
তথ্য সুত্র-
Tabaqat v. 8 p. 223 Ibn Sa’d Publisher Entesharat-e Farhang va Andisheh Tehran 1382 solar h (2003) Translator Dr. Mohammad Mahdavi Damghani]
Tabaqat Volume 1 page 368
The History of Al-Tabari: The Victory of Islam, translated by Michael Fishbein [State University of New York Press, Albany, 1997], Volume VIII, pp. 2-3
History of al-Tabari, English version, v15, p235
History of al-Tabari, English version, v15, pp 238-239
The History of Al-Tabari: The Last years of the prophet, translated and annotated by Ismail K. Poonawala [State University of New York Press, Albany, 1990], Volume IX p.147

– History of Ibn Athir, v3, p206
– Lisan al-Arab, v14, p141
– al-Iqd al-Farid, v4, p290
– Sharh Ibn Abi al-Hadid, v16, pp 220-223
Ihya Ulum-id-din by Imam Ghazzali, Volume 2 page 36, Chapter
“The secrets of marriage” – English translation by Maulana Fazlul Karim

Sahih Bukhari Volume 1, Book 6, Number 299

Understanding Muhammad. – Ali Sina

তাফহিমুল কোরান -মৌলানা মউদুদী

১ম পর্ব ২য় পর্ব ৩য় পর্ব ৪র্থ পর্ব ৫ম পর্ব

[658 বার পঠিত]