[সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরনঃ “দলীয় অন্ধ সমর্থন রাজনৈতিক সুস্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর”। উপদেশটি দল-মত নির্বিশেষে সকল সুনাগরিকের জন্যে যদিও সমানভাবে প্রযোজ্য, তথাপি নিজের জান-মালের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে বিএনপি বা আওয়ামীলীগ নেতৃত্বের প্রতি অন্ধ, এমন পাঠকদেরকে ছড়াটি না পড়ার জন্যে সবিনয় অনুরোধ করা যাচ্ছে]

:line:

একদেশে দুই রাণী, নেই কোনো রাজা।
প্রজাকূল রাতদিন হচ্ছে যে ভাজা-
বালি ভাজা মুড়ি আর ভাজা চিড়ে, খই
তেলে ভাজা মাছ যেমন- পুটি আর কৈ।
ভাজা ভাজা হচ্ছে যে প্রতিটি মানুষ
রাণীদ্বয় ঘিরে থাকে যত অমানুষ।

ঘটি-বাটি, বোতল আর কলসে কলস
তৈল মর্দনিছে হাঁপুস-হুঁপুস;
যত তৈল, যত বোল, তত দেবো ভাগ;
সত্যি কথায় হন- রাণীদ্বয় রাগ।
দিনরাতের তৈলে তারা তৈলাক্ত,
মোসাহেবদের ভীড় ঠেলে কাছে যাওয়া শক্ত।

মারামারি, হানাহানী, সাথে চুল টানাটানি?
দুই রাণী দুই দলে; এমনকি খুনোখুনি।
কেউ নাহি কম যান, সমানে সমান;
প্রজাকূল জিম্মি, ধড়ে নেই প্রাণ।
তাতে, কার কিইবা আসে যায়- “হু কেয়ার্‌স্‌?”
“ওয়ান ম্যান পলিটিক্স”- বড় ডেঞ্জারাস।

স্বামীহারা রাণী নাকি বড্ড ‘আপোষহীন’;
পুত্রদ্বয় পুকুর চোরায় নজিরবিহীন।
সিনিয়র নেতাকূল কথা নাহি কন;
কন্ট্রোল সব করে ‘হাওয়া ভবন’।
হাওয়া-টাওয়া ভাগ্যিস বদলে গেছে;
তবু রাণীর স্বভাব নাকি একই আছে!

পিতাহারা রাণীটির পদবী- ‘জননেত্রী’;
একদল এক নেতা, তিনি সভানেত্রী।
সিনিয়র নেতারা গুঁটিসুঁটি মেরে রন;
কার বুকে পাটা আছে- সামনেতে কথা কন?
যা যখন মাথায় আসে… খেয়ালখুশী,
শতেক ব্যর্থতা নিয়েও বেজায় খুশী!

গালাগালি, খেঁচাখেঁচি চলে অবিশ্রান্ত;
রাণীদ্বয়ের অত্যাচারে দেশবাসী ক্লান্ত।
ক্ষমতায় একজন, বাকিজন চালে চাল;
দৌড় শুধু ওটুকুই- দেশব্যাপী হরতাল।
প্রাকৃতিক দূর্যোগে দেশতো আধাই শেষ;
দু’রাণীর চক্রে বাকিটাও হবে নিপেশ।

মুক্তির আশা নেই খুব অতি শিঘ্রী
ঘাড়ে দেশের জাঁকিয়ে- বসা দুই নেত্রী।
একজন বেশী কথা সদাই বলেন;
বাকিজন চুপ থাকার চেষ্টা করেন।
দিনশেষে ঘটনাটি কিন্ত একই,
বুদ্ধি-সাদ্ধিতে তারা কম দুজনই ।

এ প্রসঙ্গে একটা হাসির গল্প শুনুন……

তিনজন বন্ধু বসা পাশাপাশি;
জার্মান, জাপানীজ আর বাংলাদেশী।
কার দেশ মেডিকেলে কতখানি এগিয়ে,
তাই নিয়ে গল্প বলছেটা বানিয়ে।
জার্মান বললো- তার দেশে একবার
ট্রেনে পা কাটলো ন্যাশনাল স্ট্রাইকার।
পা দুখানা জুড়ে দিল ডাক্তার খাঁপেখাঁপ
সেই লোক জিতে নিল ফিফা ওয়ার্ল্ডকাপ।

জাপানীজ বন্ধুটি আগ দিল বাড়িয়ে,
তার দেশ মেডিকেলে আরও নাকি এগিয়ে;
দুই হাত কাটলো যার- বাস দুর্ঘটনাতে,
জাতীয় চ্যাম্পীয়ন সে- সুইমিং আর কারাতে।
ডাক্তার জুড়ে দিল দুখানাই হাত,
বলবে কে জোড়া হাত- এমনই নিখুঁত!
এ বছর অলিম্পিকে কে পেল পুরষ্কার?
হাতকাটা সেই লোক- কারাতি আর সুইমার!

বাংলাদেশী চুপচাপ, মুখে কোনো ‘রা’ নাই,
দুই বন্ধু চেয়ে আছে শোনারই অপেক্ষায়।
অবশেষে বাংলাদেশী মুখটি তার খুললো,
অসাধারন গল্প একখানা বলা শুরু করলো-
“আমাদের দেশে শোনো একবার কি হলো,
মাথাহীন দুইজন কন্যাশিশু জন্মালো;
ডাক্তার খুঁজে-পেতে দুটো নারকেল আনলেন,
ঘাড়েতে বসিয়ে দিয়ে জোড়া লাগালেন।
বড় হয়ে তারা একজন প্রাইম মিনিষ্টার;
বাকিজন কে জানো?- অপোজিশন লীডার”।।

আব্দুর রহমান আবিদ
রচনাকালঃ মার্চ, ২০১০

[10 বার পঠিত]