নির্ধর্মকথা- এই সুন্দর ফুল, সুন্দর ফল, মিঠা নদীর পানি (১/৩)

প্যালের ঘড়ি

এই সুন্দর ফুল, সুন্দর ফল কিংবা মিঠা নদীর পানিতে নাম জানা হরেক রকমের মাছ- সবকিছু কী নিখুঁত চমৎকারিত্বপূর্ণ। এতো সুন্দর, এতো জটিল প্রাণীজগতের দিকে তাকালে বোঝা যায় এগুলো এমনি এমনি আসেনি- এদের এভাবেই তৈরী করা হয়েছে। ঈশ্বরের অস্তিত্বের সপক্ষে সন্দেহাতিতভাবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত যুক্তি এটাই। বিভিন্ন ভাষায়, বিভিন্ন ভাবে বর্ণনা করা হলেও যুক্তির মূল কাঠামো একই। সেটা হলোঃ 1

১। কিছু কিছু জিনিস- যেমনঃ জীবনের গঠন বৈচিত্র এতো জটিল (কিংবা এতো নিপুন) যে এটা আকস্মিক দূর্ঘটনার মাধ্যমে এমনটা হয়নি তা বোঝাই যায়।
২। একমাত্র কোনো স্রষ্টার প্রত্যক্ষ কারণেই এমনটা হতে পারে।
৩। সুতরাং ঈশ্বর আছেন।

আরেকটু ভিন্নভাবে বলা যায়ঃ

১। বিশ্বজগৎ বা জীব-বৈচিত্র প্রমান করে, এরকম হবার পেছনে অবশ্যই কোনো কারণ রয়েছে।
২। সুতরাং এই কারণের কারক বা জীব-বৈচিত্র বা বিশ্বসৃষ্টির দিক নির্দেশক হিসেবে অবশ্যই একজন আছেন।
৩। তিনিই ঈশ্বর।

প্রকৃতি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে স্রষ্টার অস্তিত্ব খোঁজার দীর্ঘ ইতিহাসের সূচনা গ্রিকদের দ্বারা (2) হলেও সাধারণের মাঝে এতো জনপ্রিয় করার পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান ধর্মবেত্তা ও দার্শনিক উইলিয়াম প্যালের (১৭৪৩-১৮০৫)। প্যালে জ্যোতির্বিজ্ঞান দিয়েই তার চিন্তাভাবনা শুরু করলেও খুব দ্রুত বুঝে উঠেছিলেন, বুদ্ধিদীপ্ত স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমানের জন্য জ্যোতির্বিজ্ঞান উপযুক্ত মাধ্যম নয় (3)। তার কাছে উপযুক্ত মাধ্যম মনে হয়েছিল জীব বিজ্ঞানকে। নিজের ভাবনাকে গুছিয়ে সৃষ্টির পরিকল্প যুক্তি বা’ডিজাইন আর্গুমেন্ট নিয়ে তিনি ১৮০২ সালে প্রকাশ করেন “Natural Theology, or Evidence of Existence and Attributes of the Deity, collected from the Appearances of Nature”(4)। ধর্ম ও দর্শনের এই বিখ্যাত বইয়ে প্যালে রাস্তার ধারে একটি ঘড়ি এবং পাথর পরে থাকার উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, এই ব্যাপারে সবাই একমত হবে যে, পাথরটি প্রকৃতির অংশ হলেও ঘড়িটি একটি নির্দিষ্ট কাজ (সময় গণনা) সম্পাদন করার জন্য কারও দ্বারা তৈরী করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী অন্যান্য প্রাকৃতিক ধর্মাবেত্তার মতো প্যালেও জীবজগতকে পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে জীবের অভিযোজনের ক্ষমতা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। প্যালে লক্ষ্য করেছিলেন যে, প্রতিটি জীবদেহে নির্দিষ্ট কাজ করবার জন্য নির্দিষ্ট অংগ-প্রত্যঙ্গ রয়েছে, যা জীবটিকে একটি নির্দিষ্ট পরিবেশে টিকে থাকতে সহায়তা করে। তিনি জটিল জীবদেহকে কিংবা চোখের মত প্রত্যঙ্গকে ঘড়ির কাঠামোর সাথে তুলনা করার মাধ্যমে দেখাতে চেয়েছিলেন স্রষ্টার সুমহান পরিকল্পনা, উদ্দেশ্য আর নিপুণ তুলির আঁচড়।

এই যুক্তির নাম সৃষ্টির পরিকল্প যুক্তি বা ‘ডিজাইন আর্গুমেন্ট’। দুইশ বছর পেরিয়ে গেলেও এই যুক্তি আজও সকল ধর্মানুরাগীরা নিজ নিজ ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রমানে ব্যবহার করে আসছেন। কয়েক সপ্তাহ আগেই ঈশ্বর আছে কী নেই এই আলোচনায় আমার এক বন্ধু আর সহ্য করতে না পেরে উঠে দাঁড়িয়ে সবাইকে একমিনিটের জন্য তার কথা শুনতে অনুরোধ করলো। এক যুক্তিতেই সকল সন্দেহকে কবর খুড়ে দেবার অভিপ্রায়ে সে শুরু করলো- ধর যে, তুই রাস্তা দিয়ে হাঁটছিস, হঠাৎ দেখলি তোর সামনে একটি পাথর আর ঘড়ি পড়ে আছে …। প্যালের ঘড়ির মৃত্যু নাই।

জীবজগতের জটিলতা নিয়ে অতিচিন্তিত সৃষ্টিবাদীরা জটিলতার ব্যাখ্যা হিসেবে আমদানী করেছেন ঈশ্বরকে। ঈশ্বর সৃষ্টি করেছেন- সুতরাং সবকিছু ব্যাখ্যা হয়ে গেছে বলে হাত ঝেড়ে ফেললেও তাদের তত্ত্ব তৈরী করে যায় আরও মহান এক জটিলতা। তর্কের স্বার্থে যদি ধরেও নেই, সবকিছু আসলেই খুব জটিল এবং এই জটিলতা একজন সৃষ্টি করেছেন তাহলে তো সেই সৃষ্টিকর্তাকে আরও হাজারগুণ জটিল হতে হবে। তিনি কীভাবে সৃষ্টি হলেন?

প্যালের ঘড়ি ছাড়াও লেগো সেটের মাধ্যমে একই যুক্তি উপস্থাপন করা হয়। ধরা যাক, লেগো সেট দিয়ে তৈরী করা হল একটি গ্রীন লাইন স্ক্যানিয়া মডেলের বাস। একজন দেখেই বুঝবে, বুদ্ধিমান মানুষ লেগো সেটের মাধ্যমে বাসটি তৈরী করেছে। এখন কেউ যদি বাসের লেগোগুলো আলাদা করে একটি বস্তায় ভরে ঝাঁকাতে থাকে তাহলে কী আদৌ কোনোদিন বস্তা থেকে আরেকটি বাস বের হয়ে আসবে? আসবেনা।

উপরোক্ত উদাহরণে সৃষ্টিবাদীরা বাস তৈরীর দুটি প্রক্রিয়ার “ধারণা” দেন আমাদের, একটি বুদ্ধিমান কোনো স্বত্তার হস্তক্ষেপে দ্বারা (যার তৈরী হওয়া নিয়ে সৃষ্টিবাদীরা চিন্তিত নন, যতটা চিন্তিত বাস নিয়ে), আরেকটি বস্তায় ভরে ঝাঁকি দেওয়া। কিন্তু বস্তায় ভরে ঝাঁকি দেবার ধারণার বদলে আমাদের হাতে প্রাণীর জগতের জটিলতা ব্যাখ্যা করার জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব রয়েছে, শত সহস্র পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে যেই তত্ত্বের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে, যেটি সকল প্রাকৃতিক নিয়মের সাথে খাপ খায়। এই তত্ত্বের নাম ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্ব।

বিবর্তন তত্ত্ব

১৮২৭ সালে চার্লস ডারউইন (মৃত্যুঃ ১৮৮২) যখন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালে প্রবেশ করেন ধর্মতত্ত্ব বিষয়ে পড়াশোনা করার জন্য তখন তাকে রবাদ্দ করার হয় ৭০ বছর আগে প্যালে যে কক্ষে থাকতেন সেই কক্ষটিই (5) । ধর্মতত্ত্বের সিলেবাসে ততদিনে অর্ন্তভুক্ত হয়ে যাওয়া প্যালির কাজ ডারউইনকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। তিনি বলেন,

“ইউক্লিডের রচনা আমাকে যেরকম মুগ্ধ করেছিল ঠিক সেরকম মুগ্ধ করেছিল প্যালের বই”(6)

পরবর্তীতে এই ডারউইনই প্যালের প্রশ্নের বৈজ্ঞানিক জবাব দানের মাধ্যমে এই যুক্তিকে সমাধিস্থ করেন।

প্রাণীজগতে বিবর্তন হচ্ছে এই ব্যাপারটি প্রথম ডারউইন উপলব্ধি করেন নি। তৎকালীন অনেকের মধ্যেই ধারণাটি ছিল, তার মধ্যে ডারউইনের দাদা ইরাজমাস ডারউইন অন্যতম (7)। এপাশ ওপাশে ধারণা থাকলে বিবর্তন কেন ঘটছে এই প্রশ্নে এসেই আটকে গিয়েছিলেন তাদের সবাই। ১৮৫৯ সালে ডারউইন তার বই “দ্য অরিজিন অফ স্পেসিজ” প্রকাশ করেন (8)। ৪৯০ পাতার এই বইয়ে ডারউইন উপযুক্ত প্রমান দিয়ে ব্যাখ্যা করেন বিবর্তন কী, বিবর্তন কেন হয়, প্রাণীজগতে বিবর্তনের ভূমিকা কী। এই লেখায় বিবর্তন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার উদ্দেশ্য আমার নেই। কিন্তু সৃষ্টিবাদী বা ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন প্রবক্তাদের ভুল-ত্রুটি ব্যাখ্যা ও তাদের বক্তব্যের অসারতা সর্বোপরি প্রাণীর প্রাণী হবার পেছনে ঈশ্বরের হাতের অনস্তিত্ব প্রমানের আগে পাঠকদের বিবর্তন তত্ত্বের সাথে সংক্ষিপ্ত প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি।

প্রথমেই দেখে নেয়া যাক বিবর্তন কাকে বলে এবং এটি কিভাবে ঘটে।

বিবর্তন: বিবর্তন মানে পরিবর্তন। সময়ের সাথে সাথে জীবকূলের মাঝে পরিবর্তন আসে। প্রকৃতির বর্তমান অবস্থা , জীবাশ্মের রেকর্ড , জেনেটিক্স, আনবিক জীববিজ্ঞানের মত বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার গবেষণা থেকে এটি স্পষ্ট বোঝা গেছে। গাছ থেকে আপেল পড়ার মতোই বিবর্তন বাস্তব- এ নিয়ে আর কোনও সন্দেহ নেই।

বৈচিত্র্যময় বংশধর সৃষ্টি: সাধারণ একটি পূর্বপুরুষ থেকে অসংখ্য শাখা-প্রশাখা বিস্তারের মাধ্যমে বিবর্তন ঘটে। প্রতিটি শাখা-প্রশাখার জীব তার পূর্বপুরুষ থেকে খানিকটা ভিন্ন হয়। মনে রাখা উচিত বংশধরেরা কখনও হুবহু তাদের পিতামাতার অনুরূপ হয় না, প্রত্যেকের মাঝেই খানিকটা বৈচিত্র্য তথা ভ্যারিয়েশন বা প্রকরণ তৈরি হয়। আর এই বৈচিত্র্যের কারণেই সদা পরিবর্তনশীল পরিবেশে অভিযোজন নামক প্রক্রিয়াটি কাজ করতে পারে। অসংখ্য বৈচিত্র্যের মধ্যে পরিবেশে সবচেয়ে উপযোগীরাই টিকে থাকে।

ধীর পরিবর্তন: পরিবর্তন সাধারণত খুব ধীর একটি পক্রিয়া। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে বিবর্তনের মাধ্যমেই নতুন প্রজাতির জন্ম হতে পারে।

প্রজাতির ক্রমবর্ধন (multiplication of speciation): এক প্রজাতি থেকে বিবর্তনের মাধ্যমে অনেক নতুন প্রজাতির উদ্ভব ঘটতে পারে। সে কারণেই আজকে আমরা প্রকৃতিতে এত কোটি কোটি প্রজাতির জীব দেখতে পাই। আবার অন্যদিকে যারা সদা পরিবর্তনশীল পারিপার্শ্বিকতার সাথে টিকে থাকতে অক্ষম তারা বিলুপ্ত হয়ে যায়। প্রকৃতিতে প্রায় ৯০-৯৫% জীবই বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

প্রাকৃতিক নির্বাচন: চার্লস ডারউইন এবং আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস স্বাধীনভাবে বিবর্তনের যে প্রক্রিয়া আবিষ্কার করেছিলেন তা এভাবে কাজ করে:

ক) জনসংখ্যা সদা সর্বদা জ্যামিতিক অনুপাতে কেবল বাড়তেই চায়।
খ) কিন্তু একটি প্রাকৃতিক পরিবেশে জনসংখ্যা সমসময় একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকতে হয়।
গ) সুতরাং পরিবেশে একটি “অস্তিত্বের সংগ্রাম” থাকতেই হবে। কারণ উৎপাদিত সকল জীবের পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়।
ঘ) প্রতিটি প্রজাতিতেই বৈচিত্র্য তথা ভ্যারিয়েশন আছে।
ঙ) অস্তিত্বের নিরন্তর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে চলার সময় যে প্রজাতির গুলোর মাঝে পরিবেশে টিকে থাকার জন্য অধিক উপযোগী বৈশিষ্ট্য আছে তারাই সর্বোচ্চ সংখ্যাক বংশধর রেখে যেতে পারে। আর যাদের মাঝে পরিবেশ উপযোগী বৈশিষ্ট্য কম তাদের বংশধরও কম হয়, আবার এক সময় তারা বিলুপ্তও হয়ে যেতে পারে। বিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই প্রক্রিয়াটিকেই বলা হয় “প্রভেদক প্রজননগত সাফল্য” (৯)।

শেষ পয়েন্টটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রাকৃতিক নির্বাচন এবং এর মাধ্যমে ঘটা বিবর্তনীয় পরিবর্তন একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে ঘটে। সেই নির্দিষ্ট পরিবেশে কে সবচেয়ে বেশি বংশধর রেখে যাতে পারে তথা কে সবচেয়ে সফলভাবে নিজের জিনকে পরবর্তী প্রজন্মে প্রবাহিত করতে পারে, তার উপরই বিবর্তনের পক্রিয়া নির্ভর করে।বিবর্তনের কোনও নির্দিষ্ট লক্ষ্য নেই, প্রজাতির প্রগতি কোনদিকে হবে, বা এর মাধ্যমে আদৌ কোন কৌশলগত লক্ষ্য অর্জিত হবে কিনা এ সম্পর্কে প্রাকৃতিক নির্বাচনের কিছুই বলার নেই। এমনকি বিবর্তনের মাধ্যমে মানুষ সৃষ্টি হতেই হবে বা বুদ্ধিমত্তা নামক কোনকিছুর বিবর্তন ঘটতেই হবে এমন কোন কথাও সে বলে না। বিবর্তনের কোন সিঁড়ি বেয়ে উপরের দিকে উঠে না, বা কোন পিরামিডের চূড়ায় উঠতে চায় না। এমন ভাবার কোনো কারণ নেই যে, মানুষ তৈরির জন্য এতকাল ধরে প্রাকৃতিক নির্বাচন কাজ করেছে। বরং বিবর্তনের মাধ্যমে সৃষ্ট অসংখ্য লক্ষ্যহীন শাখা-প্রশাখারই একটিতে মানুষের অবস্থান। তাই নিজেদের সৃষ্টির সেরা জীব বলে যে পৌরাণিক ধারণা আমাদের ছিল সেটারও কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। কারণ সেরা বলে কিছু নেই, সর্বোচ্চ বলা যেতে পারে, মানুষ সবচেয়ে উন্নত মস্তিষ্কের অধিকারী, যেটা হয়তো টিকে থাকার জন্য আমাদের বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। আর মানুষের এতো উন্নতির পেছনেও মূল কারণ কিন্তু প্রভেদক প্রজননগত সাফল্য। আমরা অনেক বংশধরের জন্ম দিতে পারি এবং এমনকি তারা পূর্ণবয়স্ক হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তাদের ভরণ পোষণও করতে পারি। এই বৈশিষ্ট্য কিন্তু উল্টো জনসংখ্যার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আবার আমাদের বিলুপ্তও করে দিতে পারে।

বিবর্তন শুধুই একটি তত্ত্ব নয়

বিবর্তনকে উদ্দেশ্য করে সৃষ্টিবাদীদের করা সবচেয়ে প্রচারিত সন্দেহ, বিবর্তন শুধুই একটি তত্ত্ব, এর কোনও বাস্তবতা নেই। সত্যিই কি তাই? বিজ্ঞানীরা বাস্তবে ঘটেনা, এমন কোনও কিছু নিয়ে কখনও তত্ত্ব প্রদান করেন না। বাস্তবতা কাকে বলে? কোন পর্যবেক্ষণ যখন বারংবার বিভিন্নভাবে প্রমানিত হয় তখন তাকে আমরা বাস্তবতা বা সত্য (fact) বলে ধরে নেই।
প্রাণের বিবর্তন ঘটছে। প্রতিটি প্রজাতি স্বতন্ত্রভাবে সৃষ্টি করা হয়নি, বরঞ্চ প্রাণের উদ্ভবের পর থেকে প্রতি নিয়ত পরিবেশের বিভিন্ন প্রভাবের কারণে এক প্রজাতি বিবর্তিত হয়ে অন্য প্রজাতিতে রূপান্তরিত হয়েছে। এইপরা রাতে ঘুমালো, সকালে উঠে দেখলো তারা সবাই হোমোসেপিয়েন্স এ রুপান্তরিত হয়ে গেছে- এমন না, এটি লক্ষ বছরে পরিবেশে টিকে থাকার জন্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিবর্তনের ফসল। প্রজাতি এক রূপ থেকে আরেক রূপে বিবর্তিত হতে পারেনা, এটা এই যুগে এসে মনে করাটা পাপ, যখন দেখা যায়, চৈনিকরা যোগাযোগ খরচ বাচানোর জন্য গোল, গোল তরমুজকে চারকোণা করে ফেলেছে। কবুতর, কুকুরের ব্রিডিং সম্পর্কেও আমরা সবাই অবগত। মাত্র কয়েক প্রজন্মেই এক প্রজাতির কুকুর থেকে আরেক প্রজাতির উদ্ভব হয়, সেখানে পরিবেশ পেয়েছে লক্ষ- কোটি বছর। হোয়াই ইভুলিউশন ইজ ট্রু বইটিতে লেখক জেরি কোয়েন বলেন,
প্রতিদিন, কয়েকশত পর্যবেক্ষণ এবং পরীক্ষা বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশিত হয় … এবং এদের প্রতিটি বিবর্তনের সত্যতা নিশ্চিত করে। খুঁজে পাওয়া প্রতিটি জীবাশ্ম, সিকোয়েন্সকৃত প্রতিটি ডিএনএ প্রমান করে একটি সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে বিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিটি প্রজাতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রাক ক্যাম্বরিয়ান শিলায় আমরা স্তন্যপায়ী কোনও প্রাণীর জীবাশ্ম পাইনি, পাইনি পাললিক শিলার একই স্তরে মানুষ এবং ডাইনোসরের জীবাশ্ম। লক্ষাধিক সম্ভাব্য কারণে বিবর্তন ভুল প্রমানিত হতে পারতো, কিন্তু হয়নি- প্রতিটি পরীক্ষায় সে সাফল্যের সাথে প্রমানিত হয়েছে।

সুতরাং আমাদের পর্যবেক্ষণলব্ধজ্ঞানের মাধ্যমে আমরা জানি বিবর্তন ঘটে এটি একটি বাস্তবতা। এখন পর্যবেক্ষণলব্ধ জ্ঞানকে ব্যাখ্যা করার জন্যই প্রয়োজন হয় বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের। যেমনঃ গাছ থেকে আপেল পড়ে, এটি একটি বাস্তবতা, একে ব্যাখ্যা করা হয় নিউটনের মহার্কষ তত্ত্ব দ্বারা। তত্ত্ব কোনও সাধারণ বাক্য নয়, বাস্তবতার ব্যখ্যা করার জন্য বিজ্ঞানীরা প্রথমে একটি হাইপোথিসিস বা অনুমিত তত্ত্ব দাঁড় করান। পরবর্তীতে এই অনুমিত তত্ত্বকে অন্যান্য বৈজ্ঞানিক সূত্রের মাধ্যমে আঘাত করা হয়। যদি সকল আঘাত থেকে যুক্তিযুক্ত ভাবে একটি অনুমিত তত্ত্ব বেঁচে ফিরতে পারে এবং যখন প্রত্যক্ষ, পরোক্ষ প্রমান একে সমর্থন করে তখন একে একটি বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব উপাধি দেওয়া হয়। বিবর্তনকে যে তত্ত্ব দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়, তার নাম ‘প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব’।

প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব নিয়ে ডারউইন একদিকে যেমন নিঃসংশয় ছিলেন অপরদিকে ছিলেন দ্বিধাগ্রন্থ। কারণ লক্ষ- কোটি প্রজাতির মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট একটি প্রজাতির এই তত্ত্বের বাইরে উদ্ভব হওয়া এই তত্ত্বকে বাতিল করে দিতে যথেষ্ট। দীর্ঘ বিশ বছর বিভিন্ন প্রমাণ সংগ্রহের পর একটি বিশেষ ঘটনার কারণে ডারউইন ১৮৫৮ সালে তত্ত্বটি প্রকাশ করেন (10)। তারপর থেকেই বিবর্তনবাদ বিজ্ঞানীদের ছুরির নীচে। গত দেড়শ বছর ধরে বিভিন্ন ভাবে বিবর্তন তত্ত্বকে পরীক্ষা করা হয়েছে, এটি কখনওই ভুল প্রমানিত হয়নি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, প্রতিটা নতুন ফসিল আবিষ্কার বিবর্তন তত্ত্বের জন্য একটি পরীক্ষা। একটি ফসিলও যদি বিবর্তনের ধারার বাইরে পাওয়া যায় সেই মাত্র তত্ত্বটি ভুল বলে প্রমানিত হবে। একবার বিজ্ঞানী জেবি এস হালডেনকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল কিভাবে বিবর্তনকে ভুল প্রমাণ করা যায়? উত্তরে হালডেন বলেছিলেন,(11)

কেউ যদি প্রক্যাম্বরিয়ান যুগে খরগোশের ফসিল খুঁজে পায়।

বলা বাহুল্য এ ধরনের কোন ফসিলই এ পর্যন্ত আবিস্কৃত হয় নি। না হওয়ারই কথা, কারণ বিজ্ঞানীরা বিবর্তনের যে ধারাটি আমাদের দিয়েছেন তা হল :

মাছ –> উভচর –> সরীসৃপ –> স্তন্যপায়ী প্রানী।

খরগোশ যেহেতু একটি পুরোপুরি স্তন্যপায়ী প্রাণী, সেহেতু সেটি বিবর্তিত হয়েছে অনেক পরে এবং বিভিন্ন ধাপে (মাছ থেকে উভচর, উভচর থেকে সরিসৃপ এবং সরিসৃপ থেকে শেষ পর্যন্ত খরগোশ), তাই এতে সময় লেগেছে বিস্তর। প্রাক ক্যাম্বরিয়ান যুগে খরগোশের ফসিল পাওয়ার কথা নয়, কারণ বিবর্তন তত্ত্ব অনুযায়ী এ সময় (প্রিক্যাম্বরিয়ান যুগে) থাকার কথা কতকগুলো আদিম সরল প্রাণ – যেমন নিলাভ সবুজ শৈবাল, সায়নোব্যকটেরিয়া ইত্যাদি (ফসিল রেকর্ডও তাই বলছে)। আর স্তন্যপায়ী প্রাণীর উদ্ভব ঘটেছে ট্রায়োসিক যুগে (প্রিক্যাম্বরিয়ান যুগ শেষ হওয়ার ৩০ কোটি বছর পরে)। কাজেই কেউ সেই প্রিক্যাম্বরিয়ান যুগে খরগোশের ফসিল খুঁজে পেলে তা সাথে সাথেই বিবর্তনতত্ত্বকে নস্যাৎ করার জন্য যথেষ্ট হত।

তত্ত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য অনুমান করা। যার মাধ্যমে এটিকে ভুল প্রমানের সুযোগ থাকে। আধুনিক পিঁপড়াদের পূর্বপুরুষের ফসিল কোথা থেকে পাওয়া যাবে সেইটা বিবর্তন তত্ত্ব দিয়ে অনুমান করে সত্যতা যাচাই করা হয়েছে। ডারউইন নিজেই বলে গিয়েছিলেন,মানুষের পূর্বপুরুষের জীবাশ্মের সন্ধান মিলবে আফ্রিকায় এবং জীবাশ্মবিজ্ঞানীরা সন্ধান পেয়েছেন এমন অনেক জীবাশ্মের। একটি অনুমানও যদি ভুল হতো তাহলে আমরা নিমেষেই বিবর্তনকে ঝেড়ে ফেলে দিতে পারতাম, কিন্তু হয়নি। তত্ত্বের গুরুত্বপূর্ন সকল অনুমানের তালিকা পাওয়া যাবে এখনে- http://tinyurl.com/4bh3n

তবে এতসব কিছুর মধ্যে আমার প্রিয় একটি উদাহরণ। ডারউইনের তত্ত্ব মতে, প্রাকৃতিক নির্বাচনের কাজ করতে হাজার হাজার কোটি কোটি বছরের প্রয়োজন। কিন্তু বই প্রকাশের সময়ও সকল মানুষ বাইবেলীয় ব্যাখা অনুযায়ী মনে করতো, পৃথিবীর বয়স মোটে ছয় হাজার বছর। ১৮৬৬ সালে বিখ্যাত পদার্থ বিজ্ঞানী উইলিয়াম থমসন (পরবর্তী লর্ড কেলভিন উপাধিতে ভূষিত) বিবর্তন তত্ত্বকে চ্যালেঞ্জ করে বসেন। থমসন রাসায়নিক শক্তি এবং মাধ্যাকর্ষণ এই দুইটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আলাদা আলাদাভাবে সূর্যের বয়স নির্ধারণ করে দেখান, মাধ্যাকর্ষণ বল ব্যবহার করলে সূর্যের বয়স সবচেয়ে বেশী পাওয়া যায় এবং সেটাও কিনা হচ্ছে মাত্র কয়েক’শ লক্ষ বছর। এছাড়াও তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র ব্যবহার করে থমসন এটাও প্রমান করেন যে,মাত্র কয়েক লক্ষ বছর আগেও পৃথিবীর তাপমাত্রা এতই বেশী ছিল যে সেখানে কোনরকম প্রাণের উৎপত্তি ঘটা ছিল একেবারেই অসম্ভব ব্যাপার। তার সুতরাং বিবর্তন হবার কারণ হিসেবে ডারউইন যে প্রাকৃতিক নির্বাচন এবং এটির যে কোটি বছরের ক্রিয়াকালের কথা বলছেন,তা অবাস্তব।

মজার ব্যাপার হলো,সেই সময় নিউক্লিয়ার শক্তি সম্পর্কে অজ্ঞাত ছিলে পদার্থবিজ্ঞানীরা। বিংশ শতকের প্রথমদিকে শক্তির এই রূপ আবিষ্কার হবার পর বিজ্ঞানী বুঝতে পারলেন,ক্রমাগত নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ায় শক্তি উৎপাদনের মাধ্যমে সূর্য এবং সকল তারা কোটি বছরেরও বেশি সময় একটি সুস্থিত শক্তির উৎস হিসেবে বিদ্যমান থাকে। সুতরাং কেলভিন বুঝতে পারলেন, সূর্য এবং পৃথিবীর বয়স নির্ধারণের জন্য তার করা হিসেবটি ভুল। তিনি আনন্দের সাথে বিবর্তন তত্ত্বের উপর চ্যালেঞ্জ প্রত্যাহার করে নেন। সুতরাং বিবর্তন তত্ত্বকে এমন একটি শক্তির উৎসের অনুমানদাতাও বলা যায়! (12) উল্লেখ্য বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে এসে পৃথিবীর নির্ভূল বয়স নির্ধারণ করা হয়, যা প্রায় সাড়ে চারশ’ কোটি বছর।

বিবর্তনের সত্যতাঃ

সত্যতা প্রমান করা যায় সবদিক দিয়েই, তবে এইখানে আমরা মানুষের বিবর্তন নিয়েই আলোচনা করে দেখি বিবর্তন তত্ত্বের দাবীরা কতোটা সঠিক। বিবর্তনের প্রমান হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ফসিল রেকর্ডকেই ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু আনবিক জীববিদ্যা এবং কোষবংশগতিবিদ্যা উদ্ভাবনের পর এখন আর ফসিল রেকর্ডের কোন দরকার নেই। জীনতত্ত্ব দিয়েই চমৎকারভাবে বলে দেওয়া যায় আমাদের বংশগতিধারা। জীববিজ্ঞানের এই শাখাগুলোর মাধ্যমে, আমাদের পূর্বপুরুষ কারা ছিল, তাদের বৈশিষ্ট্য কেমন ছিল, দেখতে কেমন ছিল তারা সব নির্ণয় করা হয়েছে। দেখা গেছে ফসিল রেকর্ডের সাথে অক্ষরে অক্ষরে মিলে গিয়েছে সেটা।

জীববিজ্ঞানীরা আমাদের পূর্বপুরুষের যেই ধারাটা দিয়েছেন সেটা হলোঃ

মানুষ –> নরবানর –>পুরোন পৃথিবীর বানর –> লেমুর

প্রমান একঃ

রক্তকে জমাট বাঁধতে দিলে একধরণের তরল পদার্থ পৃথক হয়ে আসে, যার নাম সিরাম। এতে থাকে এন্টিজেন। এই সিরাম যখন অন্য প্রাণীর শরীরে প্রবেশ করানো হয় তখন উৎপন্ন হয় এন্টিবডি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, মানুষের সিরাম যদি আমরা খরগোশের শরীরে প্রবেশ করাই তাহলে উৎপন্ন হবে এন্টি হিউমান সিরাম। যাতে থাকবে এন্টিবডি। এই এন্টি হিউমান সিরাম অন্য মানুষের শরীরে প্রবেশ করালে এন্টিজেন এবং এন্টিবডি বিক্রিয়া করে অধঃক্ষেপ বা তলানি উৎপন্ন হবে। যদি একটি এন্টি হিউমান সিরাম আমরা যথাক্রমে নরবানর, পুরোন পৃথিবীর বানর, লেমুর প্রভৃতির সিরামের সাথে মেশাই তাহলেও অধঃক্ষেপ তৈরী হবে। মানুষের সাথে যে প্রানীগুলোর সম্পর্কের নৈকট্য সবচেয়ে বেশি বিদ্যমান সেই প্রানীগুলোর ক্ষেত্রে তলানির পরিমান বেশি হবে, যত দূরের তত তলানীর পরিমান কম হবে। তলানীর পরিমান হিসেব করে আমরা দেখি, মানুষের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি তলানী পাওয়া যাচ্ছে, নরবানরের ক্ষেত্রে আরেকটু কম, পুরানো পৃথিবীর বানরের ক্ষেত্রে আরেকটু। অর্থাৎ অনুক্রমটা হয়-

মানুষ- নরবানর- পুরোন পৃথিবীর বানর- লেমুর।

অঙ্গসংস্থানবিদদের মতে উল্লিখিত প্রাণীদের মধ্যে সর্বাধিক আদিম হচ্ছে লেমুর, আর সবচেয়ে নতুন প্রজাতি হচ্ছে মানুষ। তাই মানুষের ক্ষেত্রে তলানির পরিমাণ পাওয়া যায় সবচেয়ে বেশি আর লেমুরের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম। দেখা যাচ্ছে বিবর্তন যে অনুক্রমে ঘটেছে বলে ধারণা করা হয়েছে রক্তরস বিজ্ঞানের ‘অ্যান্টিজেন এন্টিবডি’ বিক্রিয়াও সে ধারাবাহিকতাকেই সমর্থন করে।

প্রমান দুইঃ

চোখ মেলে তাকিয়ে দেখুনঃ

১। প্রকৃতিতে মাঝে মাঝেই লেজ বিশিষ্ট মানব শিশু জন্ম নিতে দেখা যায়। এছাড়াও পেছনে পা বিশিষ্ট তিমি মাছ, ঘোড়ার পায়ে অতিরিক্ত আঙ্গুল কিংবা পেছনের ফিন যুক্ত ডলফিন সহ শরীরে অসংগতি নিয়ে প্রাণীর জন্মের প্রচুর উদাহরণ পাওয়া যায়। এমনটা কেন হয়। এর উত্তর দিতে পারে কেবল বিবর্তন তত্ত্বই। বিবর্তনের কোন এক ধাপে অংগ লুপ্ত হয়ে গেলেও জনপুঞ্জের জীনে ফেনোটাইপ বৈশিষ্ট্য হিসেবে ডিএনএ সেই তথ্য রেখে দেয়। যার ফলে বিরল কিছু ক্ষেত্রে তার পূনঃপ্রকাশ ঘটে।

২। বিবর্তন তত্ত্ব অনুযায়ী পুর্ব বিকশিত অংগ-প্রত্যঙ্গ থেকেই নতুন অঙ্গের কাঠামো তৈরির হয়। বিভিন্ন মেরুদন্ডী প্রাণীর সামনের হাত বা অগ্রপদের মধ্যে তাই লক্ষ্যনীয় মিল দেখা যায়! ব্যাঙ, কুমীর, পাখি, বাদুর, ঘোড়া, গরু, তিমি মাছ এবং মানুষের অগ্রপদের গঠন প্রায় একই রকম।

৩। পৃথিবীতে অগুনিত প্রজাতি থাকলেও সবচে মজার ব্যাপার হলো, ভেতরে আমরা সবাই প্রায় একই। আমরা সবাই “কমন জিন” শেয়ার করে থাকি। পূর্বপুরুষের সাথে যত বেশি নৈকট্য বিদ্যমান, শেয়ারের পরিমানও তত বেশি। যেমন, শিল্পাঞ্জি আর আধুনিক মানুষের ডিএনএ শতকরা ৯৬% একই, কুকুর আর মানুষের ক্ষেত্রে সেটা ৭৫% আর ড্যাফোডিল ফুলের সাথে ৩৩%।

৪। চারপাশ দেখা হলো। এবার আসুন একবার নিজেদের দিকে তাকাই।

ক) ত্রয়োদশ হাড়ঃ বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে ভর্তি হবার সুযোগ পেলো আমার এক বন্ধু। বাক্স পেটরা বন্দী করে সে চলে গেল ট্রেনিং এ চট্রগ্রামের ভাটিয়ারিতে। ছয় সপ্তাহ ডলা খাবার পর মিলিটারি একাডেমির নিয়ম অনুযায়ী একটি ফাইনাল মেডিক্যাল পরীক্ষা হয়। সেই পরীক্ষায় আমার বন্ধুর দেহ পরীক্ষা করে দেখা গেলো, তার পাঁজরে এক সেট হাড় বেশি। আধুনিক মানুষের যেখানে বারো সেট হাড় থাকার কথা আমার বন্ধুর আছে তেরোটি। ফলস্বরূপ তাকে মিলিটারি একাডেমির প্রশিক্ষণ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।
পরিসংখ্যান থেকে পাওয়া যায়, পৃথিবীর আটভাগ মানুষের শরীরে এই ত্রয়োদশ হাড়ের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। যেটি কিনা গরিলা ও শিল্পাঞ্জির শারিরিক বৈশিষ্ট্য। মানুষ যে, এক সময় প্রাইমেট থেকে বিবর্তিত হয়েছে এই আলামতের মাধ্যমে সেটিই বোঝা যায়।

খ) লেজের হাড়ঃ মানুষের আদি পূর্বপুরুষ প্রাইমেটরা গাছে ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য লেজ ব্যবহার করতো। গাছ থেকে নীচে নেমে আসার পর এই লেজের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়েছে। কিন্তু আমাদের শরীরে মেরুদন্ডের একদম নীচে সেই লেজের হাড়ের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

গ) আক্কেল দাঁতঃ পাথুরে অস্ত্রপাতি আর আগুনের ব্যবহার জানার আগে মানুষ মূলতঃ নিরামিশাষী ছিলো। তখন তাদের আক্কেল দাঁতের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও আমাদের তা নেই, যদিও আক্কেল দাঁতের অস্তিত্ব এখনও রয়ে গেছে।

ঘ) অ্যাপেন্ডিক্সঃ আমাদের পূর্বপুরুষ প্রাইমেটরা ছিল তৃনভোজি। তৃণজাতীয় খাবারে সেলুলোজ থাকে। এই সেলুলোজ হজম করার জন্য তাদের দেহে এপেনডিক্সে বেশ বড় ছিল। ফলে সিকামে প্রচুর পরিমান ব্যাকটেরিয়ার থাকতে পারতো যাদের মূল কাজ ছিল সেলুলোজ হজমে সহায়তা করা। সময়ের সাথে আমাদের পূর্বপুরুষদের তৃনজাতীয় খাবারের উপর নির্ভরশীলতা কমতে থাকে, তারা মাংসাশী হতে শুরু হলে। আর মাংসাশী প্রাণীদের অ্যাপেন্ডিক্সের কোন প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন বৃহৎ পাকস্থলীর। ফলে অপেক্ষাকৃত ছোট অ্যাপেন্ডিক্স এবং বড় পাকস্থলীর প্রাণীরা সংগ্রামে টিকে থাকার সামর্থ লাভ করে, হারিয়ে যেতে থাকে বাকিরা। পূর্বপুরুষের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে সেই অ্যাপেন্ডিক্স আমরা এখনও বহন করে চলছি।

ঙ) গায়ের লোম: মানুষকে অনেক সময় ‘নগ্ন বাঁদর’ বা ‘নেকেড এপ’ নামে সম্বোধন করা হয়। আমাদের অনেক বন্ধুবান্ধবদের মধ্যেই লোমশ শরীরের অস্তিত্ব দেখা যায় এখনো। আমরা লোমশ প্রাইমেটদের থেকে বিবর্তিত হয়েছি বলেই এই আলামত এখনো রয়ে গেছে।

প্যালের চোখ

বিবর্তনতত্ত্বের সমালোচনাকারীরা সবচেয়ে বেশি আঙুল তুলেছেন মানুষের চোখের দিকে। চোখের মতো এমন নিখুঁত এবং জটিল একটি যন্ত্র কিভাবে দৈব পরিবর্তন (র্যা ন্ডম মিউটেশন), প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যেমে সৃষ্টি হতে পারে? হোকনা শত সহস্র বছর।

একটি ক্যামেরার মতো চোখেরও আলোকরশ্মি কেন্দ্রীভূত করার জন্য লেন্স, আলোকরশ্মির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আইরিস, আর এই আলোকরশ্মি থেকে ছবি আবিষ্কার করার জন্য একটি ফোটোরিসেপ্টর প্রয়োজন। এই তিনটি যন্ত্রাংশ একসাথে কাজ করলেই কেবলমাত্র চোখ দিয়ে কিছু দেখা সম্ভব হবে। যেহেতু বিবর্তন তত্ত্বমতে, বিবর্তন প্রক্রিয়া চলে স্তরে স্তরে- তাহলে লেন্স, রেটিনা, চোখের মণি সবকয়টি একসাথে একই ধরনের উৎকর্ষ সাধন করলো কীভাবে? বিবর্তন সমালোচনাকারীদের প্রশ্ন এটাই।

ক্যাম্বরিয়ান যুগে শরীরের উপর আলোক সংবেদনশীল ছোট একটি স্থানবিশিষ্ট প্রাণীরা আলোর দিক পরিমাপের মাধ্যমে ঘাতক প্রাণীদের হাত থেকে বেঁচে যাবার অতি সামান্য সুযোগ পেত। সময়ের সাথে সাথে এই রঙিন সমতল স্থানটি ভেতরের দিকে ডেবে গিয়েছে, ফলে তাদের দেখার ক্ষমতা সামান্য বেড়েছে। গভীরতা বাড়ার পাশাপাশি পরবর্তীতে আলো ঢোকার স্থান সরু হয়েছে। অর্থাৎ দেখার ক্ষমতা আরও পরিষ্কার হয়েছে। প্রতিটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পরিবর্তন প্রানীকে সামান্য হলেও টিকে থাকার সুবিধা দিয়েছে।
সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড্যান এরিক নিলসন গবেষণার মাধ্যমে বের করে দেখান যে, কীভাবে কোনও প্রাণীর শরীরের উপর আলোক সংবেদনশীল ছোট এবং রঙিন স্থান পরবর্তীতে মানুষের চোখের মতো জটিল যন্ত্রে পরিবর্তিত হতে পারে।

উপরের ছবি দুটি লক্ষ্য করুন। একটি অন্ধকার রুম। পেছনে একটি বাতি জ্বলছে। সবচেয়ে বামে একটি সমতল কাগজ লাগানো। যার মাধ্যমে আমরা শুধু বুঝতে পারছি আলো আছে। কিন্তু কোথা থেকে আলো বের হচ্ছে কিংবা বাতিটি কোথায় তেমন কিছুই জানা যাচ্ছে না। তারপরের পিংপং বলটিতে আলো প্রবেশের স্থানটি চওড়া আর গভীরতা কম। তারপরেরটায় স্থানটি আগেরটার চেয়ে সংকুচিত এবং গভীরতা বেশি। সর্ব ডানেরটায় আলো প্রবেশের স্থান সবচেয়ে সংকুচিত এবং গভীরতা সবচেয়ে বেশি। আর এটি দিয়েই আমরা সবচেয়ে ভালোভাবে আলোটির উৎস বুঝতে পারছি।

এখন প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব অনুযায়ী, প্রতিটি পরিবর্তনই প্রাণীকে কিঞ্চিৎ হলেও আক্রমণকারীর হাত থেকে বাঁচার সুবিধা প্রদান করেছে। যারা সামান্য দেখতে পাচ্ছে তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বেড়েছে, বেড়েছে তাদের সন্তান বংশবৃদ্ধির সম্ভাবনা। অপরদিকে অর্থবরা হারিয়ে গেছে। ধীরে ধীরে বংশানুক্রমে উন্নতি হয়েছে দৃষ্টিশক্তির। সময়ের সাথে সাথে শুরুর এই আলোক সংবেদনশীল স্থান রেটিনায় পরিণত হয়েছে, সামনে একটি লেন্সের সৃষ্টি হয়েছে।

ধারনা করা হয়, প্রাকৃতিক ভাবে লেন্সের সৃষ্টি হয়েছে যখন চোখকে পূর্ণকরে রাখা স্বচ্ছ তরলের সময়ের সাথে সাথে ঘনত্ব বেড়েছে। ছবিতে দেখুন সাদা অংশটি তৈরি হচ্ছে চোখকে পূর্ণ করে রাখা স্বচ্ছ তরলের মাধ্যমে। তরলের ঘনত্ব যত বেড়েছে লেন্সের গঠন ততো ভালো হয়েছে, দৃষ্টিশক্তি প্রখর হয়েছে।

স্বচ্ছ তরলে পরিপূর্ণ।

স্বচ্ছ তরলে পরিপূর্ণ।

তরল ঘন হচ্ছে

তরল ঘন হচ্ছে

ঘন হতে হতে লেন্সের সৃষ্টি

ঘন হতে হতে লেন্সের সৃষ্টি

বলে রাখা প্রয়োজন বিজ্ঞানীদের তৈরি করা চোখের বিবর্তনের প্রতিটি স্তর বর্তমানে জীবিত প্রাণীদের মধ্যেই লক্ষ করা যায়। এছাড়াও শুধুমাত্র আলোক সংবেদনশীল স্থান বিশিষ্ট প্রাণী ছিল আজ থেকে ৫৫ কোটি বছর আগে। বিজ্ঞানীরা গণনা করে বের করেছেন, এই আলোক সংবেদনশীল স্থানটি মানুষের চোখের মতো হবার জন্য সময় প্রয়োজন মাত্র ৩৬৪ হাজার বছর।

ডিজাইন না ব্যাড ডিজাইনঃ

মানুষের চোখের অক্ষিপটের ভেতরে একধরনের আলোগ্রাহী কোষ আছে যারা বাইরের আলো গ্রহণ করে এবং তারপর একগুচ্ছ অপটিক নার্ভের (আলো গ্রাহী জাল) মাধ্যমে তাকে মস্তিষ্কে পৌঁছোনোর ব্যবস্থা করে, ফলে আমরা দেখতে পাই। কিন্তু মজার ব্যপার হলো, অক্ষিপটের ঠিক সামনে এই স্নায়ুগুলো জালের মত ছড়ানো থাকে, সাথে সাথে এই স্নায়ুগুলোকে যে রক্তনালীগুলো রক্ত সরবরাহ করে তারাও আমাদের অক্ষিপটের সামনেই বিস্তৃত থাকে। ফলে আলো বাধা পায় এবং আমাদের দৃষ্টিশক্তি কিছুটা হলেও কমে যায়। স্নায়ুগুলোর এই অসুবিধাজনক অবস্থানের কারণে আমাদের চোখে আরেকটি বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে। স্নায়বিক জালটি মস্তিষ্কে পৌঁছোনোর জন্য অক্ষিপটকে ফুটো করে তার ভিতর দিয়ে পথ করে নিয়েছে। এর ফলে সৃষ্টি হয়েছে একটি অন্ধবিন্দুর (blind spot)(13)

কুকুর, বিড়াল কিংবা ঈগলের দৃষ্টিশক্তি যে মানুষের চোখের চেয়ে বেশি তা সবাই জানে। মানুষ তো বলতে গেলে রাতকানা, কিন্তু অনেক প্রাণীই আছে রাতে খুব ভাল দেখতে পায়। আবার অনেক প্রাণীই আছে যাদের চোখে কোনও অন্ধবিন্দু নেই। যেমন, স্কুইড বা অক্টোপাস। এদের মানুষের মতই একধরনের লেন্স এবং অক্ষিপটসহ চোখ থাকলেও অপটিক নার্ভগুলো অক্ষিপটের পেছনে অবস্থান করে এবং তার ফলে তাদের চোখে কোনও অন্ধবিন্দুর সৃষ্টি হয়নি।
মানুষের চোখের এই সীমাবদ্ধতাকে অনেকেই “ব্যাড ডিজাইন” বলে অভিহিত করে থাকেন। অবশ্য যেহেতু চোখ দিয়ে ভালোভাবেই কাজ চালিয়ে নেওয়া যাচ্ছে তাই “ব্যাড ডিজাইন” এর মতো শব্দ প্রয়োগে নারাজ জীববিজ্ঞানী কেনেথ মিলার। তারমতে, চোখের এমন হবার কারণ বিবর্তন তত্ত্ব দিয়ে বেশ ভালো ভাবে বোঝা যায় (14)। বিবর্তন কাজ করে শুধুমাত্র ইতোমধ্যে তৈরি বা বিদ্যমান গঠনকে পরিবর্তন করার মাধ্যমে, সে নতুন করে কিছু সৃষ্টি বা বদল করতে পারে না। মানুষের মত মেরুদণ্ডি প্রাণীর চোখ সৃষ্টি হয়েছে অনেক আগেই সৃষ্টি হওয়া মস্তিষ্কের বাইরের দিকের অংশকে পরিবর্তন করে। বহুকাল ধরে বিবর্তন প্রক্রিয়ায় মস্তিষ্কের বাইরের দিক আলোক সংবেদনশীল হয়েছে, তারপর ধীরে ধীরে অক্ষিপটের আকার ধারণ করেছে। যেহেতু মস্তিষ্কের পুরোনো মূল গঠনটি বদলে যায়নি, তাই জালের মত ছড়িয়ে থাকা স্নায়ুগুলোও তাদের আগের অবস্থানেই রয়ে গেছে। কিন্তু অন্যদিকে স্কুইড জাতীয় প্রাণীর চোখ বিবর্তিত হয়েছে তাদের চামড়ার অংশ থেকে, মস্তিষ্কের অংশ থেকে নয়। এক্ষেত্রে ত্বকের স্নায়ুগুলো মস্তিষ্কের মত ঠিক বাইরের স্তরে না থেকে ভেতরের স্তরে সাজানো থাকে, আর এ কারণেই স্নায়ুগুলো চোখের অক্ষিপটের সামনে নয় বরং পেছনেই রয়ে গেছে। চোখের ক্ষেত্রে তাই গুড ডিজাইন বা ব্যাড ডিজাইন তর্ক অপ্রাসংগিক। এটাকে তো ডিজাইনই করা হয়নি।
বিবর্তনের পথে অনন্ত চল্লিশ রকম ভাবে চোখ তৈরী হতে পারতো (15)। আলোকরশ্মী সনাক্ত এবং কেন্দীভূত করার আটটি ভিন্ন উপায়ের সন্ধান দিয়েছেন নিউরো-বিজ্ঞানীরা (16)। কিন্তু পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক নির্বাচনের যুদ্ধে অসংখ্য সমাধান মধ্যে একটি সমাধান টিকে গিয়েছে। সংক্ষেপে, চোখের গঠন যদি বাইরের কারও হস্তক্ষেপ ব্যতিত, শুধুমাত্র বস্তুগত প্রক্রিয়ায় উদ্ভব হতো তাহলে দেখতে যেমন হবার কথা ছিল ঠিক তেমনই হয়েছে। চোখের গঠনে কারও হাঁত নেই, নেই কোনও মহাপরাক্রমশালী নকশাকারকের নিপুনতা।

আগামী পর্বগুলোয় যা থাকবেঃ

বিহের হ্রাস অযোগ্য জটিলতা, অসম্ভব্যতা, মুক্তবাজার অর্থনীতি ও প্রাকৃতিক নির্বাচন, সেলফ অর্গানাইযেশন, আদম- হাওয়া কাহিনী ও নূহের মহাপ্লাবন।

তথ্যসূত্রঃ

১। Irreligion: A Mathematician Explains Why the Arguments for God Just Don’t Add Up – John Allen Paulos। পৃষ্ঠা নং ১০

২। একই বই, পৃষ্ঠা নং ১১

৩। ডারউইন দিবসে রিচার্ড ডকিন্স পরিচিতি- অভিজিৎ রায় https://blog.mukto-mona.com/?p=5042

৪। Natural Theology, or Evidence of Existence and Attributes of the Deity, collected from the Appearances of Nature (London: Halliwell, 1802)

৫। Before Darwin: Reconciling God and Nature (New Haven and London: Yale University Press, 2005), পৃষ্ঠা নং ২০

৬। একই বই, পৃষ্ঠা নং ৬

৭। বিবর্তনের সাক্ষ্যপ্রমাণ- ১ (জেরি কোয়েন –এর ‘বিবর্তন কেন বাস্তব’ অবলম্বনে), ইরতিশাদ। https://blog.mukto-mona.com/?p=5649

৮। The Origin of Species by Means of Natural Selection (London: John Murray, 1859)

৯। Why People Believe in Weird Things, তৃতীয় অধ্যায়, পৃষ্ঠা নং ১৪০

১০। GOD: The Failed Hypothesis, Victor Stenger, পৃষ্ঠা নং ৪৯

১১। এক বিবর্তনবিরোধীর প্রত্যুত্তরে, অভিজিৎ রায়, https://blog.mukto-mona.com/?p=936

১২। GOD: The Failed Hypothesis, Victor Stenger, পৃষ্ঠা নং ৫১

১৩। The Blind Watchmaker: Why the Evidence of Evolution reveals a Universe Without Design, Richard Dawkins (London, New York,: Norton, 1987) পৃষ্ঠা নং ৯৩

১৪। “Life’s Grand Design”, Kenneth R. Miller, পৃষ্ঠা নং ২৪-৩২

১৫। Climbing Mount Improbable, Richard Dawkins, চ্যাপ্টার “The Fortyfold Path to Enlightenment”

১৬। “Evolution of Eyes, Current Opinion in Neurobiology”, R. D. Fernald, পৃষ্ঠা নং ৪৪৪-৫০

জন্মেছি ঢাকায়, ১৯৮৬ সালে। বিজ্ঞানমনস্ক যুক্তিবাদী সমাজের স্বপ্ন দেখি। সামান্য যা লেখালেখি, তার প্রেরণা আসে এই স্বপ্ন থেকেই। পছন্দের বিষয় বিবর্তন, পদার্থবিজ্ঞান, সংশয়বাদ। লেখালেখির সূচনা অনলাইন রাইটার্স কমিউনিটি সচলায়তন.কম এবং ক্যাডেট কলেজ ব্লগে। এরপর মুক্তমনা সম্পাদক অভিজিৎ রায়ের অনুপ্রেরণায় মুক্তমনা বাংলা ব্লগে বিজ্ঞান, সংশয়বাদ সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখা শুরু করি। অভিজিৎ রায়ের সাথে ২০১১ সালে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় শুদ্ধস্বর থেকে প্রকাশিত হয় প্রথম বই 'অবিশ্বাসের দর্শন' (দ্বিতীয় প্রকাশ: ২০১২), দ্বিতীয় বই 'মানুষিকতা' প্রকাশিত হয় একই প্রকাশনী থেকে ২০১৩ সালে। তৃতীয় বই "কাঠগড়ায় বিবর্তন" প্রকাশিতব্য। শৈশবের বিদ্যালয় আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং এসওএস হারমান মেইনার কলেজ। কৈশোর কেটেছে খাকিচত্বর বরিশাল ক্যাডেট কলেজে। তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করি ২০০৯ সালে, গাজীপুরের ইসলামিক প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (আইইউটি) থেকে। এরপর দেশের মানুষের জন্য নিজের সামান্য যতটুকু মেধা আছে, তা ব্যবহারের ব্রত নিয়ে যোগ দেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগে। প্রথিতযশা বিজ্ঞানী অধ্যাপক সিদ্দিক-ই-রব্বানীর নেতৃত্বে আরও একদল দেশসেরা বিজ্ঞানীর সাথে গবেষণা করে যাচ্ছি তৃতীয় বিশ্বের মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তি উদ্ভাবনে।

মন্তব্যসমূহ

  1. প্রনব পাল সেপ্টেম্বর 13, 2010 at 3:29 অপরাহ্ন - Reply

    খুব ভাল হয়েছে…………।।

  2. একজন ‍নির্ধর্মী মার্চ 18, 2010 at 6:59 পূর্বাহ্ন - Reply

    সমায়াভাবে পুরোটা পড়া হয়নি, সেটা নিঃসংকোচেই বলে রাখি।

    তবে সিরিজের নামটা জোশ হয়েছে! আমি ওই গানটির পরের লাইনের কয়েকটি প্যারোডি বানালাম। স্রেফ ফাজলামি 😀

    … খোদা, তুমি তো নাই, জানি
    … খোদা, তোমায় নাহি মানি
    … খোদা, দ্যাখাও খোমাখানি
    … খোদা, এটা নেহাত গানই
    … খোদা? লাগছে বেজায় ফানি
    … খোদা, বিবর্তনের প্রাণী
    … খোদা, দিবো না কোরবানি
    … খোদা, তুমি অচল আনি

  3. পৃথিবী মার্চ 16, 2010 at 3:42 অপরাহ্ন - Reply

    রিচার্ড ডকিন্সের Growing up in the universe লেকচার সিরিজে তিনি একেবারে হাতে-কলমে irreducible complexity এর যুক্তি খন্ডন করে দেখিয়েছেন। আমার কাছে পাখার বিবর্তনের ডেমোনস্ট্রেশনটা খুবই ভাল লেগেছিল। ব্লাইন্ড ওয়াচমেকারে পাখার বিবর্তনের ব্যাখ্যাটা মনমত হয়নি, কিন্তু তিনি যখন মডেল ব্যবহার করে দেখিয়ে দিলেন তখন ঠিকই বিষয়টা বুঝতে পেরেছিলাম। ইউটিউবে ভিডিওটা আছে কিনা জানি না, না থাকলে “অন্ধ ঘড়িকারিগর” এর উপর পর্বটা সময় করে আপ্লোড করে দিব।

    লেখাটা ভাল লাগল। বাংলায় বিবর্তন নিয়ে যত লেখা হবে ততই ভাল, tautology হলেও সমস্যা নেই। ইতিমধ্যেই অন্য ব্লগগুলোতে কেউ বিবর্তন সম্পর্কে কৌতুহল প্রকাশ করলে আমরা মুক্তমনার বিবর্তন আর্চাইভের লিংক দিতে পারছি!

    এই সুন্দর ফুল, সুন্দর ফল কিংবা মিঠা নদীর পানিতে নাম জানা হরেক রকমের মাছ- সবকিছু কী নিখুঁত চমৎকারিত্বপূর্ণ। এতো সুন্দর, এতো জটিল প্রাণীজগতের দিকে তাকালে বোঝা যায় এগুলো এমনি এমনি আসেনি- এদের এভাবেই তৈরী করা হয়েছে। ঈশ্বরের অস্তিত্বের সপক্ষে সন্দেহাতিতভাবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত যুক্তি এটাই

    এইবার মাধ্যমিক ধর্ম পরীক্ষায় একটা প্রশ্ন আসছিল যার সারমর্ম হল- সাফি আর কাফি কক্সবাজারে গিয়ে আল্লাহর খ্যামতা দেখে পুরা কাইত। তো সাফি বলল, “মাশাল্লাহ, এসব কিছুই আল্লাহ বানিয়েছেন”। কাফি বলল, “নাহ, এসব কিছু প্রাকৃতিক নিয়মে তৈরী হয়েছে”। কার বিশ্বাস যৌক্তিক?

    দাতে দাত চেপে যে উত্তর লিখেছি, তা দেখলে চার্লস লায়েল মনের দুঃখে আত্মহুতি দিতেন।

    • আকাশ মালিক মার্চ 16, 2010 at 4:06 অপরাহ্ন - Reply

      @পৃথিবী,

      এইবার মাধ্যমিক ধর্ম পরীক্ষায় একটা প্রশ্ন আসছিল যার সারমর্ম হল-সাফি আর কাফি কক্সবাজারে গিয়ে আল্লাহর খ্যামতা দেখে পুরা কাইত।

      এইটা যদি প্রশ্ন হয়, তাহলে উত্তরটা তো প্রশ্নেই দেয়া আছে। এসমস্ত প্রশ্ন তৈরী করে কোন্ ভন্ড?

      দাতে দাত ( দাঁত) চেপে যে উত্তর লিখেছি, তা দেখলে চার্লস লায়েল মনের দুঃখে আত্মহুতি দিতেন।

      কোন অসুবিধে না হলে উত্তরটা আমাদেরকে বলেন না প্লীজ।

      • রায়হান আবীর মার্চ 16, 2010 at 5:19 অপরাহ্ন - Reply

        আল্লাহর মাহাত্ম্য বর্ণনা করছে। এছাড়া তো আর করার কিছু নেই 🙂

        পৃথিবী পারলে ভিডুটা আপ কইরো। ধন্যবাদ তোমার মন্তব্যের জন্য।

    • আকাশ মালিক মার্চ 16, 2010 at 7:14 অপরাহ্ন - Reply

      @পৃথিবী,

      httpv://www.youtube.com/watch?v=VhJdai8eKic1

      httpv://www.youtube.com/watch?v=OvEl1lOc0Iw&feature=related2

      httpv://www.youtube.com/watch?v=4ThaHhIkYAc&feature=related3

      httpv://www.youtube.com/watch?v=4Qt31NA5S_g&feature=related4

      httpv://www.youtube.com/watch?v=acJu9xYbJVw&feature=related5

    • মাসরুফ হোসেন মার্চ 19, 2010 at 10:08 অপরাহ্ন - Reply

      @পৃথিবী,

      ভাই তোমারে(তুমি কইরা বললাম,মাইন্ড খাইয়োনা) আমার বড়ই হিংসা হয়।আমার চোখ ফুটছে মাত্র বছর তিনেক আগে,ভার্সিটির শেষের দিকে আইসা আর তুমি এস এস সি পরীক্ষার্থী অবস্থাতেই মুক্তচিন্তার নিঃশ্বাস নিতে পারতেছো।এখনকার ছেলেপেলে কত অগ্রসর!

      ভালো থাইকো ভাই।

  4. ব্লাডি সিভিলিয়ান মার্চ 16, 2010 at 1:17 অপরাহ্ন - Reply

    যে প্রজাতির গুলোর মাঝে পরিবেশে টিকে থাকার জন্য অধিক উপযোগী বৈশিষ্ট্য আছে তারাই সর্বোচ্চ সংখ্যাক বংশধর রেখে যেতে পারে। আর যাদের মাঝে পরিবেশ উপযোগী বৈশিষ্ট্য কম তাদের বংশধরও কম হয়, আবার এক সময় তারা বিলুপ্তও হয়ে যেতে পারে।

    ব্যাপারটা ঠিক স্পষ্ট হলো না। মনে হয়, বিভ্রান্তিও দেখা দিতে পারে এথেকে।
    হাতির বছরে বাচ্চা হয় কয়টা আর মাছ ডিম পাড়ে বছরে কয় লাখ?
    এর মানে কি হাতির মধ্যে পরিবেশ উপযোগী বৈশিষ্ট্য কম?

    একটু ব্যাখ্যা করলে কৃতার্থ হই।

    • রায়হান আবীর মার্চ 16, 2010 at 5:18 অপরাহ্ন - Reply

      @ব্লাডি সিভিলিয়ান,

      একটু টাইপো আছে। একই প্রজাতির জনপুঞ্জে যারা বেশি পরিবেশ উপযোগী তারা বেশি সন্তান উৎপাদন করতে পারে, আর যাদের কম তাদের বেশি সন্তান উৎপাদনের সম্ভাবনা কম। বুঝাতে পারলাম?

      • বন্যা আহমেদ মার্চ 16, 2010 at 9:28 অপরাহ্ন - Reply

        @রায়হান, ব্যাপারটা কি ঠিক তাই? আমার তো মনে হয় ব্যাপারটা একটু অন্যরকম। কে কত বংশধর উৎপাদন করছে তার চেয়েও বেশী ডারউইন যেটা বলতে চেয়েছনে তা হল – যতই সন্তানের জন্ম দিক না কেন, তার একটা ছোট অংশ শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। ডারউইন কোন জীব কত সন্তান উৎপাদন করতে পারছে তার উপর ভিত্তি করে প্রাকৃতিকভাবে কে কত যোগ্য তার হিসেব করেন নি। বরং কোন জীব যে পরিমাণই সন্তানের জন্ম দিক না কেন, তার কত অংশ টিকে থাকতে পারে তার উপর নির্ভর করে যোগ্যতার পরিমাপ করেছেন। কোন প্রজাতির জীব কত বংশধর জন্ম দিতে সক্ষম সেটার জন্য বোধ হয় অন্য হিসেব আছে, সেটা নিয়ে ডারউইন কথা বলেননি। মাছ বিলিয়ন বিলিয়ন ডিম পাড়ে দেখে এটা প্রমাণ হয় না যে সে প্রকৃতিতে একটা হাতির চেয়ে যোগ্যতর। হাতি খুব ধীর গতিতে বংশ বৃদ্ধি করে, কিন্তু তারপরও যদি প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে তার কিছু বংশধর ধ্বংস হয়ে না যায় তাহলে হাতির জনসংখ্যাও ৫০০ বছর পরে ১৫ মিলিয়নে গিয়ে দাঁড়াবে। ডারউইন তার অরিজিন অফ স্পিশিজ এ হাতির উদাহরণ দিয়েছেন এভাবে,

        “There is no exception to the rule that every organic being increases at so high a rate, that if not destroyed, the earth would soon be covered by the progeny of a single pair. Even slow-breeding man has doubled in twenty-five years, and at this rate, in a few thousand years, there would literally not be standing room for his progeny. Linnaeus has calculated that if an annual plant produced only two seeds – and there is no plant so unproductive as this – and their seedlings next year produced two, and so on, then in twenty years there would be a million plants. The elephant is reckoned to be the slowest breeder of all known animals, and I have taken some pains to estimate its probable minimum rate of natural increase: it will be under the mark to assume that it breeds when thirty years old, and goes on breeding till ninety years old, bringing forth three pairs of young in this interval; if this be so, at the end of the fifth century there would be alive fifteen million elephants, descended from the first pair.”

        (আরেকটা ফালতু কথা, লেখাটায় বেশ কিছু টাইপো এবং বানান ভুল আছে, ঠিক করে দিলে ভালো হত)

        • অভিজিৎ মার্চ 16, 2010 at 10:28 অপরাহ্ন - Reply

          @বন্যা,

          আসলে তোমার ব্যাখ্যার সাথে রায়হানের বক্তব্যের খুব বেশি পার্থক্য নেই। আসলে হাতির পজননের সাথে মাছের প্রজননের তুলনাটা বোধ হয় রায়হান করেনি, ব্লাডি সিভিলিয়ানের মন্তব্যে প্রশ্নটা উঠে এসেছে। তার উত্তর দিতে গিয়ে রায়হান বলেছে – একই প্রজাতির জনপুঞ্জে যারা বেশি পরিবেশ উপযোগী তারা বেশি সন্তান উৎপাদন করতে পারে। ‘একই প্রজাতির জনপুঞ্জের’ ব্যাপারটা (যেটা রায়হান বলেছে) গুরুত্বপুর্ণ। সে কারনেই হাতির সাথে মাছের প্রজনন তুলনীয় নয়। তুমিও একই কথাই বলেছ – “মাছ বিলিয়ন বিলিয়ন ডিম পাড়ে দেখে এটা প্রমাণ হয় না যে সে প্রকৃতিতে একটা হাতির চেয়ে যোগ্যতর। হাতি খুব ধীর গতিতে বংশ বৃদ্ধি করে, কিন্তু তারপরও যদি প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে তার কিছু বংশধর ধ্বংস হয়ে না যায় তাহলে হাতির জনসংখ্যাও ৫০০ বছর পরে ১৫ মিলিয়নে গিয়ে দাঁড়াবে।”

          কিন্তু তারপরেও কিছু কথা আছে। ডারউইনের তত্ত্ব থেকে আমরা আন্তঃপ্রতিযোগিতার (competition between iner species) কথা যেমন জানতে পারি, তেমনি জানতে পারি জীবে জীবে বহিস্ত প্রতিযোগিতার (intra species) কথাও। ব্যাপারটা কি প্রজননের জন্যও খাটে না? জীবনসংগ্রামে পার্থক্যমূলক জনন (deferential reproduction) যদি তুলনামূলক বিচারে ধীর বা আশঙ্কাজনকভাবে কম হয়, কিংবা কোন কারণে কমে যায়, তাহলে অবশ্যই প্রজাতিটির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। আসলে বহু জায়গায় হাতি বিলুপ্ত না হলেও অস্তিত্ব কিন্তু হুমকির মুখেই। আর এটা তাদের ধীর বংশবৃদ্ধির কারনেই। আর এর সাথে বন বাদার উজ়ার করা, পরিবেশ দূষণ, পরিবর্তন এবং আনুষঙ্গিক ব্যাপারগুলো তো আছেই।

  5. শিক্ষানবিস মার্চ 15, 2010 at 10:06 অপরাহ্ন - Reply

    আজকের পর্বের বিভিন্ন অংশ খণ্ড খণ্ড ভাবে আগেই পড়া ছিল। তারপরও আবার পড়লাম এবং ভাল লাগল। খুব সুন্দরভাবে সাজাইছস সবকিছু। সামনের পর্বগুলা যে আরও বস হবে এতে কোন সন্দেহ নাই। অপেক্ষায় থাকলাম।
    পরামর্শ:
    মানুষ – নরবানর – পুরনো দুনিয়ার বানর – লেমুর
    এভাবে লিখছস। এইটাকে আরেকটু ডিটেল করলে মনে হয় ভাল হয়। অ্যানসেস্টর্স টেইল পড়তাছি তো তাই পাট মাইরা নিলাম একটু। ডকিন্স এইভাবে দিছে:
    মানুষ – নরবানর (গ্রেট এইপ) – পুরনো দুনিয়ার বানর – নতুন দুনিয়ার বানর – টারশিয়ার – লেমুর, বুশবেবি ও এ জাতীয় অন্যান্য প্রাণী
    ভাইবা দেখ।

    লেখার মাঝে মাঝে চটকদার উদাহরণ তথা অ্যানেকডোট এর প্রয়োগ খুব ভাল হইছে। “প্যালের ঘড়ির মৃত্যু নাই”, ত্রয়োদশ পাঁজরের উদাহরণ সব ভাল্লাগছে…. চলুক চলুক চলুক….

    • রায়হান আবীর মার্চ 16, 2010 at 5:15 অপরাহ্ন - Reply

      @শিক্ষানবিস,

      প্যালের ঘড়ির মৃত্যু নাই এর অন্যরকম একটা উদাহরণ স্টেংগরও দিসিলো। আমি যেই উদাহরণ দিলাম এইটা আমার জীবনে ঘটেনাই, বানাইলাম। তবে ফেসবুকে একজন প্যালের ঘড়ির আর্গুমেণ্ট নিয়া নোট লিখে আমাকে ট্যাগ করছিল।

  6. ইরতিশাদ মার্চ 15, 2010 at 4:48 পূর্বাহ্ন - Reply

    বিবর্তন নিয়ে বাংলায় যত বেশি লেখা হবে ততই ভালো। পুনরাবৃত্তি হওয়ার ভয় থাকা সত্ত্বেও। লেখার সংখ্যা বেশি হলে মানুষের পড়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যাবে। ইংরেজিতে তো বিবর্তনের মূল বিষয়গুলো নিয়ে লেখা অনেক বই রয়েছে। একই কথাই বলা হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন স্টাইলে। এতে কোন ক্ষতি নেই, বরং লাভ আছে।
    রায়হানকে অনেক ধন্যাবাদ, গোছানো এবং তথ্যবহুল এই লেখাটির জন্য। তথ্যসূত্রের তালিকাটার জন্যেও ধন্যবাদ। যাঁরা আরো জানতে চান, তাঁদের কাজে লাগবে।

    বাংলায় বিজ্ঞান লেখা খুব একটা সোজা কাজ নয়। কিন্তু রায়হানের লেখাটা আমার কাছে বেশ প্রাঞ্জল মনে হয়েছে। পরবর্তী পর্বগুলোর অপেক্ষায় থাকলাম।

    • রায়হান আবীর মার্চ 16, 2010 at 5:14 অপরাহ্ন - Reply

      @ইরতিশাদ ভাই,

      হয়রান আবীর আপনাকে ছোট করলো (ধন্যবাদ দিয়ে) 😀

  7. সৈকত চৌধুরী মার্চ 15, 2010 at 1:48 পূর্বাহ্ন - Reply

    লেজযুক্ত কিছু মানুষের ছবি দিলাম। লিংক

    • রায়হান আবীর মার্চ 15, 2010 at 2:02 পূর্বাহ্ন - Reply

      @সৈকত দা,

      আপনার বড় এবং ইন্সপাইরিং মন্তব্যের জন্য বিশাল ধন্যবাদ। জবাব কালকে দিবো, এখন ঘুম পায়। লেজ যুক্ত ছবিগুলো বেশ ডিস্টার্বিং, তাই সম্পাদনা করলাম। আশাকরি কিছু মনে করেননি। করে থাকলে খুবই দুঃখিত।

      • তানভী মার্চ 15, 2010 at 2:15 পূর্বাহ্ন - Reply

        @রায়হান আবীর,
        আসলেই ছবিগুলো দৃষ্টিকটু লাগছিল। আমিই আপনার হয়ে কমেন্টটা করে দিতাম।

      • সৈকত চৌধুরী মার্চ 15, 2010 at 3:01 পূর্বাহ্ন - Reply

        @রায়হান আবীর,
        ভালো করেছ। আমি নিজেই কনফিউজড হয়ে গিয়েছিলাম। এতে দুঃখ পাওয়ার কিছু আছে? যাই হোক, লেখাটি খুব ভালো হয়েছে, আবারো ধন্যবাদ।

  8. রণদীপম বসু মার্চ 15, 2010 at 1:46 পূর্বাহ্ন - Reply

    খুব ভালো কাজ হচ্ছে রায়হান। চলুক।

    আর যে বিষয়টা আগাম ভেবে খুব মজা পাচ্ছি তা হলো, আমাদের আগামী কোনো মানব-প্রজন্মের কাছে যখন এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক কথা হবে যে- কোনো কাল্পনিক ঈশ্বর মানুষ সৃষ্টি করেনি, বরং মানুষই ঈশ্বর নামের এক অদ্ভুত চরিত্রের স্রষ্টা; সেদিন এরা রায়হান আবীরের এই লেখাগুলো পড়বে আর হাসতে হাসতে বলতে থাকবে- আরে আরে দ্যাখো, আমাদের পূর্বপুরুষরা কী বোকা ছিলো ! এসব অত্যন্ত স্বাভাবিক ও সাধারণ বিষয় নিয়ে এরা কী মেধাটাই না ব্যয় করেছে! হা হা হা !

    ইচ্ছাগুলো সেই অপেক্ষাতেই থাকবে।

    • রায়হান আবীর মার্চ 16, 2010 at 5:13 অপরাহ্ন - Reply

      @রণদা,

      তখন তারা আপনার কমেণ্টটা দেখে ভাবলে, আরে এই লোকটা তো বেশ বুদ্ধিমান ছিল 😀

  9. তানভী মার্চ 15, 2010 at 1:38 পূর্বাহ্ন - Reply

    আমার মতে লেখাটা আসলে একটা চরম ফাঁকিবাজি হইসে!!! ফাঁকিবাজ রায়হান ভাই সুন্দর মতে ফাঁকিমারা লেখা ছাপায়ে দিলেন!!

    আরে ভাই এইগুলাতো বন্যাপুর আর অভি ভাইয়ার লেখায় আগেই পড়ে ফেলসি!! আপনারে summary লিখতে কে কইসে??!!!

    যা হউক, ইংরেজি পরিক্ষায় সামারি লেখায় ৫মার্ক থাকতো। আমি আপনাকে এই লেখায় শুন্যও দিবনা!! সামারিও যদি এত বড় হয়!! তাইলে সামারি লেখার দরকার কি??!!! 😛

    • রায়হান আবীর মার্চ 15, 2010 at 2:00 পূর্বাহ্ন - Reply

      @তানভী,

      ঠিক বলছো তানভী। বিবর্তন নিয়ে বাংলায় নতুন করে লেখার কিছু নাই আসলে। আর ফাকিবাজি করে লেখা ছাপানো উদ্দেশ্য নাই আমার। বিবর্তন দিয়ে আমি প্রাণীজগত থেকে ঈশ্বরের হাতকে কেটে ফেলতে চাইছি- এইটাই উদ্দেশ্য। আর উদ্দেশ্য প্রমানে অনেক বইয়ের সাহায্য নিচ্ছি, তবে মাঝে মাঝে অবধারিত ভাবে এমন কিছু জিনিস এসে যাচ্ছে যা বন্যাপা আর অভিদা আগেই লিখে রেখেছে। সুতরাং শেষ সিদ্ধান্তে পৌছাবার আগে সেগুলো আবার লিখতে হচ্ছে। এই লেখাটার শুরুতে তাই সতর্কবানী দিয়েছিলাম- এই লেখা পড়ার দরকার নেই 😀 কিন্তু কেন যেন আসেনাই।

      যাই হোক, আগামী পর্বে বিহের হ্রাস অযোগ্য জটিলতায় অভিদা আর বন্যাপার “আমেরিকায় ইন্টেলিজেণ্ট ডিজাইনের নামে হচ্ছে কী” থেকে কিছু উদ্ধৃতি আসবে, আর বাদবাদি আমি নিজে লিখেছি।

      ভালু থাকো।

      • আকাশ মালিক মার্চ 15, 2010 at 6:37 পূর্বাহ্ন - Reply

        @রায়হান আবীর,

        বিবর্তন দিয়ে আমি প্রাণীজগত থেকে ঈশ্বরের হাতকে কেটে ফেলতে চাইছি।

        হাত থাকলে তো কাটবেন।
        তানভীর কথায় কান দিবেন না। আমাদের কাছে অনেক কিছু নতুন মনে হয়েছে, আর তাই ভালও লেগেছে। আগামী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

        • ব্রাইট স্মাইল্ মার্চ 15, 2010 at 6:51 পূর্বাহ্ন - Reply

          @আকাশ মালিক, ঈশ্বর থাকলেতো হাত থাকবে!

          • আকাশ মালিক মার্চ 15, 2010 at 11:11 অপরাহ্ন - Reply

            @ব্রাইট স্মাইল্,

            ঈশ্বর থাকলেতো হাত থাকবে!

            আরে ভাই, ঈশ্বর থাক আর না থাক, রায়হান ভাই ঈশ্বরের হাত কাটার যে একখানা খালিস নিয়্যত করেছেন তাই বা কয়জনে পারে। নিয়্যতে বরকত। নেক কামে দেরী করতে নেই। আগামী পর্বেই আসছে নূহের মহাপ্লাবন। হয়তো সেখানেই আমরা দেখতে পাবো আল্লাহর সলীল সমাধি।

            আল্লাহর জন্যে সতর্ক বাণীঃ বাঁচতে হলে বেশী বেশী করে খতমে ছফিনা আর দোয়া ইউনুস পড়ুন।

            • রায়হান আবীর মার্চ 16, 2010 at 5:11 অপরাহ্ন - Reply

              @আকাশ মালিক,

              একটা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করে দেখলাম। কেউ যদি পাঁচ (ডকিন্সের নাম্বারিং) নম্বরে থাকে তাকে সাতে নিয়ে আসার জন্য আপনার বইটা টনিকের মতো কাজ করে। আমার সাথে এক ছেলে এইবার ভর্তি হয়েছে ও আগে থেকেই তিন- চারে ছিল, আব্রাহামিক রিলিজিয়ন ও গডকে নিয়ে সংশয়বাদী। আপনার লেখাটা পড়ার পর সে সাতে চলে আসছে। এতোদিন বলতো, ঈশ্বর না থাকলেও নাস্তিকদের বাড়াবাড়িও তার পছন্দ না, এখন সে বলে আরও বেশি বেশি কইরা বাড়াবাড়ি করা দরকার। 😀

              • আকাশ মালিক মার্চ 16, 2010 at 6:51 অপরাহ্ন - Reply

                @রায়হান আবীর,

                আপনার বইটা টনিকের মতো কাজ করে।

                এই টনিকের একশ্যান অনেক সময় চিরস্থায়ী হয়না, যতক্ষন পর্যন্ত না বিজ্ঞানের এন্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা হয়েছে।

                এতোদিন বলতো, ঈশ্বর না থাকলেও নাস্তিকদের বাড়াবাড়িও তার পছন্দ না, এখন সে বলে আরও বেশি বেশি কইরা বাড়াবাড়ি করা দরকার।

                এমন একটা দিন আসবে যখন ভবিষ্যত প্রজন্ম আমাদের বই পড়ে অবাক হবে আর বলবে, আমাদের পূর্বপুরুষেরা ধর্মের জঞ্জাল আগাছা পরাগাছা সাফ করতে কতোই না কষ্ট ও সময় ব্যয় করেছেন। সেদিনের বিজ্ঞানমনস্ক পৃথিবীর মানুষের কাছে ঈশ্বরচিন্তা হবে বাতুলতা হাস্যকর।

                আপনার কাছে একটা অনুরোধ আছে। প্রবন্ধে বিশেষ করে ইংরেজী নতুন শব্দ বা বস্তুর নাম যখন আসে, তখন সেই শব্দের একটু পরিচিতি দিলে আমার মতো বিজ্ঞানে একেবারে হাতেখড়ি মার্কা পাঠকের বুঝতে সুবিধে হয়। যেমন-

                রক্তকে জমাট বাঁধতে দিলে একধরণের তরল পদার্থ পৃথক হয়ে আসে, যার নাম সিরাম

                এবার বুঝলাম সিরাম কি জিনিষ। এই শব্দের সাথে যাদের পরিচয় আছে তাদের অসুবিধে হবেনা কিন্তু——–

                এতে লেখা বড় হবে, সময় বেশী ব্যয় হবে কিন্তু প্রবন্ধ আরো সহজবোধ্য হবে, পাঠক লাভবান হবে।

      • বন্যা আহমেদ মার্চ 15, 2010 at 7:44 পূর্বাহ্ন - Reply

        @রায়হান আবীর,
        তোমার এ প্রসঙ্গে জবাবদিহি করার কোন কারণ আছে বলে মনে করি না। যার কাছে প্রয়োজন নেই সে সেই লেখা পড়বে না, এতে তো আমি কোন সমস্যা দেখি না। আর বিবর্তন নিয়ে এখনও অনেক কিছুই লেখার এবং বলার বাকি আছে। পৃথিবীর যে কোন বইএর দোকানে গেলেই তুমি বিবর্তনের উপর শেলফের পর শেলফ বই দেখতে পাবে। একই প্রসঙ্গে একাধিক লেখার দরকার যদি নাই থাকতো তাহলে ডারউইনের বই লেখার পর আর কারও বিবর্তন নিয়ে লেখার দরকার থাকতো না, সব কিছু ওখানেই থেমে থাকতো। ডকিন্স এর গোটা দশেক বইএর পরে আর বিবর্তনের উপর জেরি কোয়েন বা শন ক্যরলের মত শ’য়ে শ’য়ে লেখকের আবির্ভাব ঘটতো না। জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চা, মৌলিক গবেষণা আমাদের দেশে যেমন এখন থেমে গেছে সারা পৃথিবীতেই সেভাবে থেমে যেত। এভাবে চিন্তা করাটা শুধু ভুলই না আমার মতে ক্ষতিকরও বটে।
        যারা ‘সিরিয়াস’ বিষয় নিয়ে লিখে তাদের যে কেউ বুঝবে এরকম একটা লেখা লিখতে কতখানি পড়তে হয় আর কি পরিমাণ কষ্ট করতে হয়।
        ধন্যবাদ লেখাটার জন্য।

  10. সৈকত চৌধুরী মার্চ 15, 2010 at 1:00 পূর্বাহ্ন - Reply

    এক কথায় অসাধারণ। আরো কয়েকবার পড়তে হবে।

    প্যালের ঘড়ির মৃত্যু নাই।

    🙂 আচ্ছা, জটিলতার জন্য যদি স্রষ্টা লাগে তবে সরলতার জন্য লাগে না কেনো? সরলতা কি তাহলে এমনি এমনি সৃষ্টি হয়? ঘড়ি হোক বা যেকোনো মেশিন হোক আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে যেহেতু জানি এগুলোর তৈরিকারক আছে তাই আমরা এগুলো দেখলে ভাবি যে কেউ এগুলো তৈরি করেছে। কিন্তু একটা সুষম আকৃতির পাথর বা ঝর্ণা দেখে ভাবি না এগুলো কেউ তৈরি করেছে বরং ভাবি প্রকৃতির সাধারণ নিয়মে এগুলো তৈরি হয়েছে। এটাই স্বাভাবিক। ঈশ্বর কোনো কিছু তৈরি করেছেন – কথাটার যে কোনো অর্থ নাই তা ঈশ্বরবাদীরা কবে বোঝবে কে জানে। হয়ত সত্যিই -প্যালের ঘড়ির মৃত্যু নাই। সবই ঈশ্বর ডিজাইন করবে কিন্তু ঈশ্বরের ডিজাইন কাউকে করতে হবে না -কী মজা!!

    কৈশোরে প্রাণীকোষ আর উদ্ভিদকোষের মধ্যে অদ্ভুত মিল দেখে অবাক হয়েছিলাম। আমার কাছে মনে হয়- এটাই বিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রমাণ কারণ তা প্রমাণ করে আমরা সবাই এক উৎস থেকে এসেছি। আর মানুষ যদি বিশেষ সৃষ্টি হবে তবে মানুষ কেনো অন্য প্রাণীদের মত খায়- দায়, ঘুমোয়। কেনো মানুষের সাথে বানর, শিম্পাঞ্জী, হনুমান এদের এত মিল হবে?

    আমাদের চিন্তার ক্ষেত্রে আরেকটি সমস্যা হল আমরা নিজেদের খুব গুরুত্বপূর্ণ ভাবি। কিন্তু আমরা যে শুধু নিজেদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ অন্য কারো কাছে না তা ঠিক বুঝতে পারি না। আর সভ্যতার, বিজ্ঞানের বড়াই করি, কিন্তু একবার কি ভেবে দেখেছি এগুলো কেমন আগে বিকশিত হয়েছে? আমরা কি ভেবেছি এই সেদিন মানুষ কলেরায় উজাড় হয়ে যেত আর আজকে এসেও শিক্ষার হার, স্বাক্ষরতার হার কতটুকু?

    • রায়হান আবীর মার্চ 16, 2010 at 5:06 অপরাহ্ন - Reply

      @সৈকত চৌধুরী,

      সন্ন্যাসীর সাইটের র‌্যাশনাল এনথেম গানটা আমার এই জন্যই ভালো লাগে। মানুষ নিজেকে খুব বড় মনে করে, যা সে না। সৈকত দা অতিরঞ্জিত করে অসাধারণ বললেন- মেনে নিলাম 😀

  11. পথিক মার্চ 15, 2010 at 12:31 পূর্বাহ্ন - Reply

    রায়হান ভাই,আপনি থাকছেন স্যার!!দারুণ লাগল।আইডির ভূত নামাতে আপনি ওঝা হিসেবে দারুণ কার্যকর!

    বিবর্তনের একখানা জেনেটিক সংগা জুইড়া দিতে পারেন।

    চোখের ক্ষেত্রে তাই গুড ডিজাইন বা ব্যাড ডিজাইন তর্ক অপ্রাসংগিক। এটাকে তো ডিজাইনই করা হয়নি

    সহমত।

    প্রকৃতিতে মাঝে মাঝেই লেজ বিশিষ্ট মানব শিশু জন্ম নিতে দেখা যায়।

    আতাভিজম বলে মনে হয় একে।কিছু ‘বান্দর শিশুর ছবি জুইড়া দিলে সবাই মজা পাইব।
    ভ্রুণতত্ত্বীয় দিক থেকে বিবর্তনের কিছু দারুণ প্রমাণ আছে।যোগ করে দিতে পারেন।
    প্যালের ঘড়ি,লোগোর সাথে আরেকটা কুযুক্তি হল বোয়িং প্লেন নিয়া।সেই প্রোবাবিলিটির মারপ্যাচ-গড ডিলিঊশনে পাবেন যুক্তিখন্ডন সহ।
    চলুক আইডির বিরুদ্ধে রায়হান ভাইএর মিশন।আবার শুভেচ্ছা।

    • রায়হান আবীর মার্চ 16, 2010 at 5:05 অপরাহ্ন - Reply

      @পথিক,

      সম্ভাবনার মারপ্যাচ আমি প্যাচাবো। পরের পর্বে আসবে প্রবাবিলিটি অংশ। ধন্যবাদ তোমার মন্তব্যের জন্য। একটু ইন্সপাইরেশন পাবার জন্যই ব্লগে দিলাম 😀

  12. অভিজিৎ মার্চ 15, 2010 at 12:04 পূর্বাহ্ন - Reply

    এই পর্বটা বেশ ভাল হয়েছে রায়হান। এরকম রেফারেন্সসহ লেখাই আমরা প্রত্যাশা করি। লেখায় বিশেষতঃ একাডেমিয়ার রেফারন্স থাকলে আলোচন সমালোচনা ছাড়াও জ্ঞানের পরিধি বাড়ে।

    ছোট একটা ব্যাপারে মন্তব্য করি । তুমি বিবর্তনের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে লিখেছ – বিবর্তন মানে পরিবর্তন। সময়ের সাথে সাথে জীবকূলের মাঝে পরিবর্তন আসে। । ঠিক কথা। বিবর্তন মানে পরিবর্তনই। কিন্তু বিবর্তন একটু স্পেশাল টাইপের পরিবর্তন। ডারউইনের ভাস্যমতে এটি “পরিবর্তনসহ উদ্ভব” (descent with modification)। অর্থাৎ, সব প্রজাতিই সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে শুরু করে এই “পরিবর্তনসহ উদ্ভব” -এর মাধ্যমে উৎপন্ন হয়েছে। ব্যাপারটা একটু পরিস্কার করে দিতে পার।

    আবারো একটি সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। অন্য পর্বগুলোর অপেক্ষায় থাকলাম।

    • রায়হান আবীর মার্চ 15, 2010 at 12:16 পূর্বাহ্ন - Reply

      @অভিজিৎ দা,

      হুদাই ধন্যবাদ দিলেন। আপনারা তো সব অলরেডি লিখে ফেলছেন।

      আর descent with modification তো পরের লাইনেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

      বৈচিত্র্যময় বংশধর সৃষ্টি: সাধারণ একটি পূর্বপুরুষ থেকে অসংখ্য শাখা-প্রশাখা বিস্তারের মাধ্যমে বিবর্তন ঘটে। প্রতিটি শাখা-প্রশাখার জীব তার পূর্বপুরুষ থেকে খানিকটা ভিন্ন হয়। মনে রাখা উচিত বংশধরেরা কখনও হুবহু তাদের পিতামাতার অনুরূপ হয় না, প্রত্যেকের মাঝেই খানিকটা বৈচিত্র্য তথা ভ্যারিয়েশন বা প্রকরণ তৈরি হয়। আর এই বৈচিত্র্যের কারণেই সদা পরিবর্তনশীল পরিবেশে অভিযোজন নামক প্রক্রিয়াটি কাজ করতে পারে। অসংখ্য বৈচিত্র্যের মধ্যে পরিবেশে সবচেয়ে উপযোগীরাই টিকে থাকে।

      ভেঙ্গে ভেঙ্গে বলায় কী কনফিউশন হচ্ছে?

      • অভিজিৎ মার্চ 15, 2010 at 6:35 পূর্বাহ্ন - Reply

        @রায়হান আবীর,

        ব্যাখ্যা ঠিকই আছে। তারপরেও আমি মনে করি প্রথম বাক্যে স্রেফ পরিবর্তন বলে ছেড়ে না দিয়ে “পরিবর্তনসহ উদ্ভব” (descent with modification) এর ব্যপারটাও যোগ করা উচিৎ।

        আরেকটা ব্যাপার – রেফারেন্সগুলো একটা স্ট্রাকচার ফলো করে লিখ। কোনটায় দেখলাম পাবলিশারের নাম উল্লেখ করছ, কোনটায় করো নাই, কোনটায় পাবলিশারের নাম আবার ব্র্যাকেটের ভিতরে। একই রকমভাবে একটা স্ট্রাকচার ফলো করে লেখার চেষ্টা কর। যেগুলা বইয়ের (যেমন, Why People Believe in Weird Things, GOD: The Failed Hypothesis ইত্যাদি) পাবলিশারের নাম দাও নাই, সেগুলা দিয়া দাও। আখেরে কাজে আসবে 🙂

        • রায়হান আবীর মার্চ 16, 2010 at 5:04 অপরাহ্ন - Reply

          @অভিজিৎ দা,

          ধন্যবাদ। জ্যামের মধ্যে চিন্তা করতে করতে আমিও বুঝলাম এই লাইনে একটা ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টি হতে পারে। নাইভ কেউ ধরে নিতে পারে, খোরশেদ (বানরটা) বিবর্তিত হয়ে (x) খোরশেদ মানুষে রুপান্তরিত হয়েছে (আমার স্যার যেভাবে ধারণা করেন )। ঠিক করে দিচ্ছি।

মন্তব্য করুন