লেখকঃ রুশো আলম
চলতি বছরের ৫ই জানুয়ারী ধর্মানূভুতির ধুয়া তুলে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হা্মলা হয় ফরাসী রম্য ম্যাগাজিন শারলি হেবদোর কারযালয়ে। সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারান ১১ জন, আরো আহত হয় ১১ জন। এই ঘটনার বছর ঘুরতে না ঘুরতেই আবারো ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় কেঁপে উঠলো প্যারিস। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফ্রান্স আর কখনো এরকম ভয়াবহ হামলার স্বীকার হয়নি। শারলি হেবদোর হামলার ঐ পত্রিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে টার্গেট করে পরিচালিত হলেও এবারের হামলাটি পরিচালিত হয়েছে একেবারে নির্বিচারে সাধারন মানুষকে লক্ষ্য করে। এর ক্ষতির পরিমাণও তাই ব্যাপক। প্যারিসের বিভিন্ন জায়গায় চালানো এই বর্বর হামলায় প্রাণ হারায় ১৩০ জন, আহত হয়েছে প্রায় চারশ মানুষ। প্যারিসে হামলার পর তাই আবারো কিছু প্রশ্ন সামনে উঠে এসেছে । কেন বারবার সন্ত্রাসী হামলায় রক্তাক্ত হচ্ছে প্যারিস ? কেনই বা সন্ত্রাসীদের প্রিয় টার্গেট ফ্রান্স ? ইউরোপে ডানপন্থীদের উত্থান কি প্রভাব ফেলবে শরণার্থীদের আশ্রয় দানের নীতিতে? এই প্রশ্ন গুলো নিয়েই মূলত এই লেখাটি লেখা।

কেন বারবার রক্তাক্ত হচ্ছে ফ্রান্স

উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে একসময় ফরাসি উপনিবেশ ছিল । ফ্রান্সের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে অংশ নিয়ে স্বাধীন হয়েছে এই অঞ্চলের বেশ কিছু দেশ। ফলে ফরাসীদের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক এক ধরণের প্রতিশোধ স্পৃহা কাজ করে এই অঞ্চলের অনেক মানুষের মাঝে। উপনিবেশ ত্যাগ করলেও বিভিন্ন সময়ে এই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে ফ্রান্স তার প্রভাব অক্ষুন্ন রাখার চেষ্টা করেছে। ২০১৩ সালে ইসলামী জঙ্গীদের লক্ষ্য করে মালিতে হামলা চালিয়েছিল ফ্রান্স। পাশাপাশি ইরাক যুদ্ধে ফ্রান্সের ভূমিকায় অনেক মুসলিম ক্ষুদ্ধ। উপনিবেশ এবং উপনিবেশ পরবর্তী কালে এই অঞ্চলগুলো থেকে বিপুল সংখ্যক মুসলিম অভিবাসী হিসেবে ফ্রান্সে পাড়ি জমিয়েছে। বর্তমানে ইউরোপে সবচেয়ে বেশি মুসলমানের বসবাস ফ্রান্সে। ফ্রান্স সাংবিধানিক ভাবে ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হলেও সেখানে মুসলিম নারীদের জন্য বোরখা পরা নিষিদ্ধ। দেশটির দরিদ্র নাগরিকদের একটা বড় অংশই মুসলিম। প্যারিসে শহরতলীর ঘিঞ্জি বস্তিতে এদের অনেকের বসবাস। ফরাসী মুসলিমদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতাও বেশি। বলা হয় যে ফ্রান্সে কারাগারে আটক বন্দীদের শতকরা ৭০ ভাগই মুসলিম। দীর্ঘ দিন ধরে ফ্রান্সে বসবাস করলেও এদের একটা বড় অংশ মূলধারার ফরাসী সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন। বিচ্ছিন্ন এই মুসলিম জনগোষ্ঠীর একটা বড় অংশের মাঝে ইসলামিক ষ্টেটের উপর এক ধরণের নীরব সমর্থন রয়েছে। ফ্রান্স থেকে ইসলামিক ষ্টেটে যোগদানকারীর সংখ্যাও নেহাত কম নয়। সাইট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছর ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় তিন হাজারেরও বেশি তরুন তরুনী সিরিয়ায় যেয়ে ইসলামিক ষ্টেটে যোগ দিয়েছে যার মধ্যে ১৪৭০ জন ফরাসী নাগরিক। বার্তা সংস্থা এএফপির রিপোর্ট অনুযায়ী আরো প্রায় ১৫০০ ফরাসী নাগরিক ফ্রান্স থেকে নিয়মিত ইসলামিক ষ্টেটের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলে ফরাসী গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য রয়েছে। কম করে প্রায় প্রায় ৭ হাজার ফরাসী আই এসে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। অপর দিকে যে পশ্চিমা সভ্যতার সঙ্গে আইএসের মূল সংঘাত সেই পশ্চিমা সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র হচ্ছে প্যারিস। আইএসের ভাষায় “অনৈতিকতা ও পতিতা বৃত্তির রাজধানী”। আই এসের তৎপরতা এতকাল প্রধানত মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও এবারই প্রথম তারা নিজেদের নিজেদের কমফোর্ট জোনের বাইরে গিয়ে ইউরোপের সুরক্ষিত এলাকায় হামলা চালিয়েছে। পশ্চিমা সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র প্যারিসে হামলার মধ্য দিয়ে তারা এই লড়াই টিকে দুটো সভ্যতার লড়াই হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। কারন তারা জানে এই লড়াইটিকে দুটো সভ্যতা ও সংস্কৃতির লড়াই হিসেবে তুলে ধরতে পারলে লড়াইটি আরো এক ধাপ এগিয়ে একটি বৈশ্বিক রুপ পাবে । এটি বিশ্ব জুড়ে মুসলিমদের মাঝে “জেহাদী জোশ” এবং তাদের জনপ্রিয়তা দুটোকেই বৃদ্ধি করবে।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে প্রেসিডেন্ট ফ্রাসোয়া ওলাদের নির্দেশে ফরাসী বিমান বাহিনী সিরিয়ায় আইএস কে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালাচ্ছে। সেই হামলায় আই এসের কতটা ক্ষতি হয়েছে তা অবশ্য খুব একটা দৃশ্যমান না হলেও প্যারিসের এই হামলাটিকে ফ্রান্সের উপর আইএসের এক ধরণের প্রতিশোধ মুলক হামলা হিসেবে মনে করেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদ বিশেষজ্ঞ উইল ম্যাকেন্টস। তার ভাষায় আই এসের সবচেয়ে বড় শত্রু আমেরিকা । কিন্ত ভৌগলিক অবস্থান এবং বিভিন্ন পারিপার্শ্বিকতার কারনে তাদের পক্ষে সেখানে হামলা চালানো কঠিন। ভৌগলিক ভাবে সুবিধা জনক হওয়ায় ফ্রান্সই তাদের কাছে সবচেয়ে সহজ টার্গেট। বিপুল সংখ্যক মুসলিমের আবাস স্থল হওয়ায় তাদের পক্ষে সেখানে আত্বগোপনে থেকে হামলার পরিকল্পনা করাও খানিকটা সহজ। ইউরোপে ভিসা বিহীন অবাধ মুক্ত চলাচলের সুযোগ এবং অবৈধ অস্ত্রের সহজলভ্যতাকেও তারা এক্ষেত্রে কাজে লাগিয়েছে।

প্যারিস হামলার প্রভাব

আইএসের এই বর্বর হামলার সবচেয়ে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া গিয়ে পড়বে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত অভিবাসী মুসলিম সম্প্রদায় এবং সিরিয়া, লিবিয়া ,আফগানিস্থান থেকে ইউরোপে আশ্রয়প্রার্থী লাখ লাখ শরণার্থীর উপর। সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরুর পর থেকে গৃহহীন হয়েছে প্রায় এক কোটি মানুষ। চলতি বছর ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে সমুদ্র পাড় হয়ে ইউরোপে আশ্রয় পেয়েছে প্রায় এক লাখ মানুষ । শরণার্থীদের আরো একটি বড় অংশ এখনো ইউরোপে আশ্রয় পাবার প্রত্যাশায় দিন গুণছে। প্যারিস হামলার ফলে এই শরণার্থীদের জীবন এখন আরো কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। প্যারিস হামলায় আই এসের দায় স্বীকার এবং হামলা কারী অন্তত দুজনের শরণার্থী হিসেবে ইউরোপে প্রবেশের তথ্য সমগ্র ইউরোপে শরণার্থী বিরোধী জনমতকে চাঙ্গা করবে। প্যারিস হামলার পূর্বেই পূর্ব ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ আশ্রয় প্রার্থী শরণার্থীদের নিতে তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছিল। শরণার্থীদের নিয়ে ইউরোপের বিভাজনও বেশ তুঙ্গ আকার ধারন করে। বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে এই দেশগুলোর অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করবে। ইতমধ্যে প্যারিস হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পোল্যান্ড তাদের দেশে শরণার্থীদের আশ্রয় দানের নীতি থেকে নিজেদের সমর্থন প্রত্যাহার করেছে। এমনকি শরণার্থীদের প্রতি সবচেয়ে উদার মনোভাব ধারন কারী দেশ জার্মানিতেও শরণার্থী বিরোধী জনমতের চাপ বাড়ছে। ডানপন্থীদের কাছ থেকে সীমান্ত বন্ধ করার চাপে রয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর এঙ্গেলা মরকেল। শরণার্থী বিরোধী আবহ তৈরী হয়েছে আরেক উদার নৈতিক দেশ সুইডেনেও। প্যারিস হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে এখন ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ডান পন্থী আন্দোলন নুতুন প্রাণ ফিরে পাবে। ফ্রান্সে আসন্ন আঞ্চলিক নির্বাচনে মারিন লা পেনের নেতৃত্বাধীন ডান পন্থী ন্যাশনাল ফ্রন্টের ভাল ফল করার সম্ভাবনা রয়েছে। এই নির্বাচনে ডানপন্থীদের সম্ভাব্য ভাল ফলাফল প্রেসিডেন্ট ফ্রাসোয়া ওলাদের উপর অভিবাসন বিরোধী চাপ আরো বাড়াবে। তবে আশার কথা এই যে এ বছরের শেষ নাগাদ ফ্রান্সে ৪০ হাজার শরণার্থী আশ্রয় দানের যে ঘোষণা তিনি পূর্বে দিয়েছিলেন তা থেকে এখনো সরে আসেন নি । তবে অভ্যন্তরীণ চাপে কতদিন তিনি তার এই অবস্থান ধরে রাখতে পারেন সেটাই এখন দেখার বিষয়।

শরণার্থীদের আশ্রয় দানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় যে যুক্তিটি উপস্থাপন করা হচ্ছে তা হল এই শরণার্থী দের হাত ধরে ইউরোপে আই এস প্রবেশ করবে যেটা নিরাপত্তা আশঙ্কাকে বৃদ্ধি করবে। একই সংঙ্গে লঙ্ঘিত হবে খ্রিষ্টান মুল্যবোধ। যদিও এই শরণার্থীদের প্রায় সবাই মধ্য প্রাচ্যে আই এস এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীগত যুদ্ধের দানবীয় ধবংস লীলা থেকে বাঁচতেই ইউরোপে আশ্রয় প্রার্থী হয়েছে। তারপরও এদের মধ্যে আই এসের উপর সহানুভুতিশীল ব্যক্তি থাকার সম্ভাবনাকে একেবারে উড়িয়ে দেয়ার উপায় নেই। শরণার্থীদের ছদ্মবেশে আই এসের ইউরোপে প্রবেশের আশংকাকে তাই অমূলক বলা যায় না। পাশাপাশি এই বিপুল সংখ্যক মুসলিম অভিবাসীকে ইউরোপীয় সংস্কৃতিতে সংযুক্ত করার কাজটিও কম চ্যালেঞ্জিং নয়। মুল ধারার ইউরোপীয় সংস্কৃতিতে সংযুক্ত করতে না পারলে এই অভিবাসীদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা বোধ আরো বাড়বে এবং এর ফল ঘরে তুলতে পারে আইএসের মত ইসলামী জঙ্গীরা। একদিকে ধর্মীয় ও জাতিগত অসহিষ্ণুতা রোধ করে ইউরোপের উদার সংস্কৃতি রক্ষা অপরদিকে ক্রম বর্ধমান নিরাপত্তা আশঙ্কা, সব মিলিয়ে পুরো পরিস্থিতিটাই এখন ইউরোপের জন্য চ্যালেঞ্জিং।

বদলাবে কি ফ্রান্সের সিরিয়া নীতি

প্যারিস হামলার পর সিরিয়া নীতি পরিবর্তনের ব্যাপারে বিরোধীদের কাছ থেকে চাপে রয়েছেন ফরাসী প্রেসিডেন্ট ফ্রাসোয়া ওলাদ। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নীতি বাস্তবায়নের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ফ্রান্স। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মত ফ্রান্সও সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের কট্টর বিরোধী। আমেরিকার পাশাপাশি ফ্রান্সও সিরিয়ায় আসাদ সরকারকে হটানোর উদ্দেশ্যে বাশার বিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠীকে অস্ত্র,প্রশিক্ষণ সহ নানান সুবিধা দিয়ে আসছে। জঙ্গীদের “মডারেট” ও “র‍্যাডিক্যাল” এই দুটোতে শ্রেনীবিভাগ করার পশ্চিমা নীতি কতটা কার্যকর হয়েছে তা নিয়ে এখন খোদ ফ্রান্সেই প্রশ্ন উঠছে। অপর দিকে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রভাব অক্ষুন্ন রাখতে আসাদ সরকারকে যে কোন মুল্যে সিরিয়ায় রাষ্ট্র ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে মরিয়া আরেক পরাশক্তি রাশিয়া। উল্লেখ্য মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার একমাত্র নৌঘাঁটিটি সিরিয়ায় লাতাকিয়া শহরে অবস্থিত। মুলত আসাদ সরকারকে রক্ষায় চলতি বছরের থেকে আইএস কে লক্ষ্য করে বিমান হামলা শুরু করে রাশিয়া। আইএস দমনের নামে আসাদ বিরোধী সকল গোষ্ঠীর উপর বোমা ফেলছে রাশিয়া বলে অভিযোগ করে আসছে ন্যাটো । অপর দিকে রাশিয়ার দাবি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিনীদের ভুল নীতিই আইএসের উত্থানের জন্য দায়ী । ইতমধ্যে ন্যাটোর আরেক সদস্য দেশ তুরষ্ক তার আকাশ সীমা লংঘনের দায়ে রাশিয়ান বিমান ভুপাতিত করে উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে তুলেছে। গত বছর রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করলে ফ্রান্সের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কের অবনতি হয়। বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অনেক সামরিক ও কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞ আইএস মোকাবেলায় ফ্রান্সকে আরো বাস্তবিক পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের মতে আইএস কে বৈশ্বিক ভাবে মোকাবেলায় একটি্ বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা জরুরী। এর জন্য প্রয়োজনে আসাদ সরকারকে ক্ষমতায় রেখে রাশিয়া ও ইরানের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা করা যেতে পারে। এই অভিমতদাতাদের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফ্রাসোয়া ফিলন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কালীন হিটলারকে মোকাবেলায় ষ্ট্যালিনের সঙ্গে জোট বাধার উদাহরন দিয়ে আইএসকে মোকাবেলায় প্রয়োজনবোধে রাশিয়া ও ইরানের সঙ্গে সমঝোতা করার অভিমত দিয়েছেন। মিসরের সিনাই উপদ্বীপে বিধ্বস্ত রাশিয়ান বিমানটিতে বোমা হামলার সঙ্গে আই এসের সংশ্লিষ্টতা এবং এর পরপরই প্যারিস হামলা বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রাশিয়া ও ফ্রান্সকে কিছুটা একই কাতারে দাড় করিয়েছে। প্যারিস হামলাকে শুধু ফ্রান্সের উপর নয় সমগ্র ইউরোপের উপর হামলা বলে আখ্যা দিয়ে ওলাদও এখন একটি বৃহৎ রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠায় মনযোগী হয়েছেন। রাশিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টাও লক্ষণীয়। আইএসের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠায় রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও আগ্রহী। এর কারন মূলত দুটো। এক, এটি সিরিয়ার রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসাদ সরকার টিকিয়ে রেখে মূল ফোকাসটা আইএসের উপর প্রয়োগ করবে যা একই সঙ্গে সিরিয়ায় রাশিয়ার সামরিক হস্তক্ষেপকেও জাষ্টিফাই করবে। দ্বিতীয়ত, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসী ভুমিকা থেকে বিশ্বের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে সরানো। প্যারিস হামলার পর রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তার নৌ বাহিনীকে ফ্রান্সের সাথে তথ্য বিনিময় করে আইএস লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন । ফ্রান্সও এখন সিরিয়ার রাষ্ট্র ক্ষমতায় প্রেসিডেন্ট আসাদকে রেখে সমঝোতায় আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে। সিরিয়াকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে গুরুতর মত পার্থক্য রয়েছে। সেই মত পার্থক্য নিরসনে বর্তমানে কিছুটা তৃতীয় পক্ষের ভুমিকা পালন করার চেষ্টা করছে ফ্রান্স। কিন্ত তারপরও প্যারিস হামলার প্রতিক্রিয়ায় ফ্রান্সের সিরিয়া নীতিতে আমুল কোন পরিবর্তনে সম্ভাবনা কম। রাশিয়ার সঙ্গে এখনো তাদের গুরুতর মতপার্থক্য রয়েছে। প্রথমত ফ্রান্স কখনোই ইউক্রেনের উপর থেকে তার সমর্থন প্রত্যাহার করবে না। দ্বিতীয়ত মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার সমর্থন মূলত শিয়া বলয়ের দেশ ইরান, সিরিয়া, লেবাননের প্রতি। মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার প্রভাব বাড়া মানে শিয়া বলয়ের প্রভাব বাড়া যেটা সৌদি নেতৃত্বে থাকা সুন্নী বলয়ের দেশগুলো কখনোই মেনে নেবে না। ফ্রান্সকে একই সঙ্গে তার পুরনো মিত্র সুন্নী বলয়ের দেশ গুলোর স্বার্থের কথাও মাথায় রাখতে হবে।

সবশেষে
ইসলামী সন্ত্রাসবাদ সমগ্র বিশ্বের জন্য হুমকি। মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমাদের ভুল নীতি এবং ধর্ম কেন্দ্রীক বিভাজনের রাজনীতি থেকে উদ্ভুত ইসলামিক ষ্টেট আজ সমগ্র মানবতার জন্য হুমকি হিসেবে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যৎ পৃথিবীর নিরাপত্তার জন্য আইএসের বিনাশ তাই অত্যন্ত জরুরী। আইএস দমনের একটি উপায় অবশ্যই সামরিক অভিযান। তবে শুধু সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যের সব সমস্যার সমাধান করবে না। একই সঙ্গে আইএস মোকাবেলায় ধর্ম, বর্ণ, মত নির্বিশেষে পৃথিবীর সকল শক্তির মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা জরুরী। যেহেতু ইসলাম ধর্মের নামে এই সন্ত্রাস বাদ চালানো হচ্ছে কাজেই এর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিবাদটা আসা উচিত মুসলিমদের কাছে থেকে। কিন্ত মুসলমানদের কাছে থেকে আসা প্রতিবাদ এখন পর্যন্ত খুব একটা উৎসাহ ব্যাঞ্জক নয় । উল্টো আমাদের দেশেও এই ঘটনাকে জাষ্টিফাই করার মত মুসলিমের অভাব নেই। আই এস মোকাবেলায় মুসলিমদের আরো সক্রিয় ভুমিকা নিতে হবে। আঞ্চলিক রাজনীতির হিসেব নিকাশের ঊর্ধ্বে উঠে জঙ্গী বাদের বিস্তার, বিকাশ ও প্রকরণের পথ গুলো বন্ধ না করলে বিশ্বের আরো নানা জায়গায় প্যারিসের মত রক্তাক্ত ঘটনা ঘটতেই থাকবে যা হবে পৃথিবীর জন্য ভয়ংকর।

By | 2015-12-04T16:18:33+00:00 December 4, 2015|Categories: ব্লগাড্ডা|11 Comments

11 Comments

  1. দরকারি প্রবন্ধ। সমৃদ্ধ করলাম নিজেকে ধন্যবাদ জানাই

    • রুশো আলম December 7, 2015 at 12:50 pm - Reply

      মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।

  2. Bijon Ghosh December 6, 2015 at 7:24 pm - Reply

    হরিণের মাংসই হরিণের শত্রু । মধ্যপ্রাচ্যের তেল , যেটা তাদের সম্পদ সেটাই হল তাদের অভিশাপ । সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলি কিছুতেই চায় না ঐ দেশ গুলতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসুক । কিছুতেই গণতন্ত্র বিকশিত হতে দেওয়া চলবে না ঐ দেশে । চলল হরেক রকমের ষড়যন্ত্র ।
    ইসলামের এই জঙ্গি রুপ কিন্তু ৮০ সালের আগে বিশেষ দেখা যায়নি । আফগানিস্থানে সোভিয়েত সেনা তাড়াতে যখন পশ্চিমরা আল কায়েদা সৃষ্টি করেছিলো এবং সোভিয়েত চলে গেলে যখন পশ্চিমইরা আফগানিস্থানে ঘাঁটি গাড়তে চাইল তখন আল কায়েদার বন্দুকের নল ঘুরে গেল পশ্চিমই দিকে । ইসলামে জঙ্গিবাদের উপাদান মজুদ ছিলই । সাম্রাজ্যবাদীরা তাতে ঘৃতাহুতি দিয়ে বাড়িয়ে তুলেছে । সব ধর্মেই ঘৃণা/ জঙ্গি উপাদান আছে। হিন্দু ধর্মেও জঙ্গি উপাদান আছে । কিন্তু দীর্ঘদিন গণতন্ত্র চর্চার ফলে ভারতে তথা হিন্দুস্থানে এই উপাদান অনেকটা নিস্তেজ হয়ে গেছে । কিন্তু ইসলামে এই উপাদান এখনও উজ্জিবিত আছে এবং অনুকুল জল-বাতাশ পেয়ে আর উজ্জিবিত হয়েছে।

    আমেরিকা মুখে গনতন্ত্রের কথা বললেও মধ্যাপ্রাচ্চে গণতন্ত্র তারা চায়নি । রাজতন্ত্র থাকলেও সৌদিআরবের সাথে বন্ধুত্ব করতে তাদের অসুবিধা হয় নি । সাদ্দাম হোসেনকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে হত্যা করা হল । কোনও মুসলিম প্রধান দেশ থেকেও এই অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শোনা গেল কোথায় ? অর্থনৈতিক অবরোধের ফলে ইরাকে খাদ্য ও ওষুধের অভাবে লক্ষাধিক শিশু মারা গিয়েছিল । বিশ্ব বিবেক তখন চুপ থাকল, আইলান মারা গেলে বিশ্ব বিবেক কেঁদে ভাসাল । অথচ ভেবে দেখলে আইলানের মৃত্যু ছিল দুর্ঘটনা । ওইটুকু দুধের শিশুকে বিপদ সঙ্কুল নৌ যাত্রা করার জন্য তার বাবা-মা কেও দায়ি করা যায় । অপরদিকে ইরাকের লক্ষাধিক শিশুর মৃত্যু ছিল হত্যা এবং তারাও ছিল মুসলমান । মুসলিম বিশ্ব এতটাই অপদার্থ যে সাদ্দামের পক্ষে মৌখিক সমর্থনও জানাল না ।
    সব ধর্মের মত মুসলিম ধর্মের সাথেও গণতন্ত্রের বিরোধ আছে। তবে অন্য ধর্ম গুলি যেখানে প্রায় বিষহীন ঢোঁড়াসাপ সেখানে ইসলাম এখনো বিষাক্ত । গণতন্ত্রের অন্যতম শর্ত স্বাধীন মত প্রকাশ এবং সমালোচনার অধিকার । পশ্চিম বিশ্বে যেটা কম বেশি আছে সেখানে বেশীরভাগ তৃতীয় বিস্ব্বের দেশে সেটা অনুপস্থিত । এর উপরে যে মুসলিম দেশেই সামান্য গণতন্ত্রের বিকশিত হবার সম্ভাবনা দেখা গেছে সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো তাতে বাধা দিয়েছে । ফল যা হওয়ার তাই হয়েছে । জঙ্গিবাদ অবধারিতই ছিল। আর এই জঙ্গি দের হাতে সব থেকে বেশী কিন্তু মারা যাচ্ছে মুসলমানরাই ।

    সাম্রাজ্যবাদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধটা যৌক্তিক । কিন্তু ইসলামিকরা সামনা সামনি শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সাথে লড়াই করার সাহস নেই বলে চোরা গোপ্তা হত্যা করছে । ফল সুদূর প্রসারী হবে । ইউরোপ এর মুসলমানরা যতই বলুক তারা দায়ী নয় (হয়ত সত্তিই দায়ী নয়) তাতে ইউরোপ এর অমুসলমানরা শুনতে চাইছে না ।

    আত্মঘাতী আক্রমন সুধু ইসলামেই আছে তা নয় । ২য় বিশ্বযুদ্ধে সোভিয়েত নারীরা বুকে মাইন বেঁধে জার্মান ট্যাঙ্কের সামনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল । এলটিটিই ও আত্মঘাতী বাহিনী তৈরি করেছিলো । দুর্বল পক্ষ সামনে থেকে না পারলে এই ভাবেই পেছন থেকে আক্রমণ করবে এইটাই কী স্বাভাবিক ণয় ? গেরিলা যুদ্ধের মূল কৌশল তো তাই ।

    আই এস কে পশ্চিমরা পুরোপুরি শেষ করবে না । এখনো কিছুদিন তারা জঙ্গিদের ব্যাবহার করবে। লক্ষ লক্ষ নিরীহ মুসলমান কে এর জন্য চরম মূল্য দিতে হবে ।

    • রুশো আলম December 7, 2015 at 1:37 pm - Reply

      চমৎকার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ আপনাকে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, গণতন্ত্রের বিকাশহীনতা, জনগণের মধ্যে শাসক শ্রেনীর প্রতি লুকায়িত ক্ষোভ জঙ্গীবাদ বিকাশের জন্য আদর্শ ক্ষেত্র। মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশে এই জিনিসগুলো বিদ্যমান। ইসলামে থাকা জঙ্গীবাদের উপকরন আর এই ফ্যাক্টরগুলোকে
      কাজে লাগিয়ে ইসলামী জঙ্গীরা নিজেদের সমৃদ্ধ করেছে। পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীরাও নিজেদের স্বার্থেই বিভিন্ন জায়গায় ক্ষমতার পট পরিবর্তনে এদের কাজে লাগিয়ে প্রকারান্তরে এদের বিকাশকেই ত্বরান্বিত করেছে। আঞ্চলিক রাজনীতির হিসেব নিকাশের উর্ধ্বে উঠে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আরো লক্ষ লক্ষ নিরীহ মানুষ এর ফল ভোগ করবে।

  3. নীলাঞ্জনা December 6, 2015 at 11:03 pm - Reply

    তারপর ক’দিন আগেই আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায় আরেকটি ইসলামি হামলায় নিহত ও আহত হলো অনেক মানুষ। এর শেষ কোথায়। ইসলাম ও ইসলামিদের সন্ত্রাস থেকে পৃথিবীর মানুষকে বাঁচানোর উপায় কি? কেন কঠোর হাতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না এই ব্যাপারে? আর কত নিরপরাধ এর স্বীকার হবে?

    • রুশো আলম December 7, 2015 at 1:02 pm - Reply

      এখন পর্যন্ত যত টুকু তথ্য পাওয়া গেছে তাতে ক্যালিফোর্নিয়ায় হামলাটা ছিল ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালিত হামলা যদিও হামলাকারী দম্পতি সোশ্যাল মিডিয়ায় খোলাখুলি আইএসের উপর সমর্থন জানিয়েছিল বলে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে। এই জাতীয় ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালিত হামলা ঠেকানো কঠিন যতক্ষণ পর্যন্ত না মুসলিমদের মাঝে সামগ্রিক চেতনাগত পরিবর্তন তৈরী হয়। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের ভুমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় শিক্ষার বিস্তার রোধ , উগ্রপন্থীদের কঠোর হাতে দমন এবং সমাজে মুক্ত চিন্তার বিকাশকে ত্বরান্বিত না করলে এ থেকে পরিত্রানের উপায় নেই।

  4. তৌসিফ December 10, 2015 at 6:57 pm - Reply

    ফ্রান্সে বোরকা নিষিদ্ধ নয়, নিষিদ্ধ নিকাব। আর ধর্মীয় প্রতীক প্রদর্শন নিষিদ্ধ শুধূমাত্র স্কুলে।

    • রুশো আলম December 14, 2015 at 2:20 pm - Reply

      ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য। মুক্তমনায় অতিথি লেখকদের লেখায় সম্পাদনার উপায় নেই তাই ভুলটি সংশোধন করা যাচ্ছে না।

  5. আদিল মাহমুদ December 13, 2015 at 1:12 am - Reply

    লেখা ভাল, তবে সম্ভবত` একটা তথ্যগত ভুল দেখলাম।

    পাশাপাশি ইরাক যুদ্ধে ফ্রান্সের ভূমিকায় অনেক মুসলিম ক্ষুদ্ধ।

    – ইরাকের কোন যুদ্ধের কথা বলছেন? যেটা সবচেয়ে বিতর্কিত যুদ্ধ, বুশের ২০০৩ সালের ইরাক দখলের সবচেয়ে প্রতিবাদকারী দেশ ছিল ফ্রান্স। এ নিয়ে ফ্রান্সের সাথে সে সময় আমেরিকার সম্পর্ক অনেক তিক্ত হয়ে যায়। আমেরিকায় তখন অনেকে হুজুগে ফ্রেঞ্চ পন্য বর্জনের ডাক দেয়, এমনকি ফ্রেঞ্চ ফ্রাই নামের যে বিপুল জনপ্রিয় আলু ভাজা নয়া হলে আমেরিকানদের চলে না তার নাম পালটে কিছুদিন ফ্রিডম ফ্রাই ডাকা হয়।,

    ফ্রান্স মৌলবাদীদের টার্গেট মূলত এখানে বিপুল সংখ্যক উত্তর আফ্রিকীয়/মধ্যপ্রাচ্যীয় মুসলমান অধিবাসীদের কারনে শক্ত ভিত আছে বলে, আর ধর্মনিরপেক্ষ ব্যাবস্থা চালুর সবচেয়ে বড় পথিকৃত ফ্রান্স। সিরিয়া নীতির কারনে আইএস এ মুহুর্তে তাদের সবচেয়ে বড় শত্রু রাশিয়ায় হামলা না চালিয়ে কেন ফ্রান্স টার্গেট করে তাতে চিন্তা করার আছে।

  6. রুশো আলম December 14, 2015 at 3:04 pm - Reply

    আপনি ঠিকই বলেছেন যে ২০০৩ সালে আমেরিকার ইরাক আগ্রাসনের সবচেয়ে বড় সমালোচক রাষ্ট্রগুলোর একটি ছিল ফ্রান্স। তথ্যগত ভুলটি স্বীকার করছি। আমি আসলে বলতে আফগান যুদ্ধে ফ্রান্সের ভুমিকার কথা বলতে চেয়েছিলাম। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

  7. বিবর্তিত মানুষ December 14, 2015 at 5:00 pm - Reply

    ধর্মের কিছু কিছু কাহিনী বিন্যাসে মানুষের সহিংস ও হিতাহিত জ্ঞানশূন্য আত্মঘাতী হওয়ার যথেষ্ট প্রেষণা রয়েছে। ইসলাম ব্যতীত অন্যান্য ধর্মের মানুষ এই নেতিবাচক প্রেষণা থেকে বের হতে পেরেছেন । কিন্তু প্রচলিত প্রধান ধর্মদর্শনগুলোর সবশেষ উদ্ভব ইসলামী দর্শনের তাই এই দর্শনে ব্রেন ওয়াস ও নেতিবাচক প্রেষণা গুলোও অনেক অনেক কট্টর ও মজবুত। এই কট্টর অনুসারীরা জীবন মরণকে নগণ্য ভেবে পার্থিব জীবনের সুখ-শান্তি প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তিকে পিছনে রেখে ধর্মের বিস্তার ও এক আল্লাহকেই এক মাত্র সত্য বানিয়ে পরকালে অনন্তঃ শান্তি ও যাবতীয় ভোগ্যবস্তু লাভের অন্ধমোহে নিজেদের অবস্থানকে সর্বাগ্রে রেখে বাকী সব কিছুকে ধ্বংস করার এক দূর্বার অনুপ্রেরণা পেয়ে থাকে। যদিও ইসলামের অনুসারী অনেকেই কোরান হাদিসের সেই নেতিবাচক প্রেষণাকে পাশ কাটিয়ে ইসলামকে শান্তির ধ র্ম হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু তাদের সেই আশার গুঁড়ে বালি দিচ্ছে সেই কট্টর পন্থি ইসলামি জঙ্গি গ্রুপ। কেননা সমগ্র বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে নিরীহ মানুষের উপর কোন কারণ ছাড়াই ন্যাক্কার জনক হামলাকারীদের ৯০% ই সেই ইসলামের অনুসারী!

Leave A Comment