“যা কিছু হারায়, গিন্নি বলেন, কেষ্টা ব্যাটাই চোর।”

এভাবে কেষ্টা ব্যাটাকে প্রতিবার চুরির দায় দেয়ার ফলাফল কল্পনাতীত সুদূরপ্রসারী! মুহাম্মদ কি কখনো ভেবেছিলেন যে দেড়শো কোটি লোক তার দেখানো পথে চলবে? অন্তত একশো কোটি লোক তার নামে নির্দ্বিধায় নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে দেবে? কিংবা শুধুমাত্র তাকে কটাক্ষ করা হয়েছে বলে নিতান্ত সাধারণ লোকটি রক্তপিপাসু হয়ে উঠবে?
আসলে একই ধরনের চর্চা বারবার করতে থাকলে কিংবা একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটতে থাকলে সেটাকে সত্য বলে মেনে নেয়া ব্যতীত গত্যন্তর থাকে না; একে বইয়ের ভাষায় “অভ্যাসগত সত্য” বলা হয়। এসব চর্চা/ ঘটনা ব্যক্তির ইচ্ছায় হচ্ছে নাকি অনিচ্ছায় সেটা এখানে ধর্তব্য নয়। উদাহরণস্বরূপ “সব ইহুদি-নাসারাদের ষড়যন্ত্র” কিংবা “ইহা সহিহ ইসলাম নহে” বাক্যদ্বয় বহুল প্রচলিত। মোল্লারা ওয়াজ (ইসলামি জলসা) করবেন আর ইহুদি-নাসারাদের দুচারটে গালি দেবেন না তেমনটা সচরাচর ঘটে না। আবার এত এত ফেরকার কোনো একটার ভুলের দায়ও অন্য পক্ষ নেয় না ওটা সহিহ ইসলাম নয় বলে। সমস্যা হলো সুশিক্ষার অভাবে আমাদের দেশে মোল্লারা ধর্মের নামে যা বলে অধিকাংশ লোকেই তা বিশ্বাস করে চোখমুখ বন্ধ করে। কারো নিজ চোখে দেখে নেয়ার ইচ্ছাও জাগে না। কার খেয়েদেয়ে অত সময় আছে যে, সাড়ে ছয় হাজারেরও অধিক আয়াত ও তিরিশ হাজার হাদিস ঘেঁটে সত্যাসত্য নিরূপণ করবে? আর এসব কারণে কুরান-হাদিসে না থাকলেও কুরান-হাদিসের নামে মোল্লারা অনেক কথা বলতে পারেন এবং বলে পারও পেয়ে যান। আমাদের দেশে এ ধরনের ইসলামি জলসা আগে কোনো একটা নির্দিষ্ট অঞ্চলে বছরে একবার হতো। এখন মাদ্রাসা বাড়ার সাথে পাল্লা দিয়ে এসব জলসার পরিমাণও বাড়ছে। সবচাইতে বড়ব্যাপার হলো এসব জলসার বাইরেও সমাজের বৃহৎ অংশ জুড়ে ধর্ম শিক্ষা দেয়া চলে আসছে যুগের পর যুগ ধরে। আর সেটা হলো মানুষের প্রথম শিক্ষালয় তথা পরিবার।
মানবশিশু জন্মগ্রহণ করে ধর্মহীন হিসেবে। তার প্রমাণ হলো কোনো শিশুকে ছোটবেলা থেকে যদি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের আচার-আচরণ না শিখিয়ে কেবল দৈনন্দিন জীবন পরিচালনার জন্য অবশ্যপালনীয় নিয়ম-কানুন শেখানো হয় তাহলে সে কখনো কোনো অলীক ঈশ্বরের কাছে মাথা নত করবে তো নাই বরং সে এসব কল্পকথা বলে হেসে উড়িয়ে দিবে। একটা বাচ্চা যখন বড় হতে থাকে তখন স্বাভাবিকভাবেই তার মনে নতুন কিছু সম্পর্কে জানার স্পৃহা তৈরি হয়| এই স্পৃহা কিন্তু কাউকে তৈরি করে দিতে হয়না; জৈবিকভাবেই তার ডি.এন.এ. তে এ সম্পর্কিত নির্দেশনা সেট করা থাকে| আর এটা থাকে বেঁচে থাকার তাগিদেই। মানবশিশু প্রথম যে অঙ্গকে সবচেয়ে বেশি কাজে লাগায় তা হলো মুখ। সে যাই তার সামনে পায় মুখ দিয়ে তার গুণাগুণ বিচার করতে শেখে। এটা প্রাকৃতিক। বিভিন্ন জন্তুকে মায়ের স্তনের অবস্থান চিনিয়ে দিতে হয়না। তারাও কোড কর্তৃক তাড়িত হয়। এখানে এসে হয়তো প্রাচীন মানুষ কাউকে এসব তাড়নার “সেট আপ কারী” হিসেবে ভেবে নিয়ে ধর্মের উৎপত্তি ঘটাতে পারে। করতে পারে কোনো অলীক অবতারের অবতারণা ! কিন্তু আমরা এখন জানি মানুষ যখন সভ্য হতে শুরু করেছে তখন থেকেই ধীরে ধীরে তার জিনের মধ্যে টিকে থাকার স্বার্থে বিশেষ কিছু নির্দেশ ঢুকে গিয়েছে| আমাদের মস্তিষ্কের নিউরন গুলোও একভাবে বিবর্তিত হয়ে চলেছে| এক পুরুষ থেকে পরের পুরুষে যাওয়ার সময় বেঁচে থাকার জন্য অপ্রয়োজনীয় নির্দেশ সমূহ রিজেক্ট করে টিকে থাকার স্বার্থে তুলনামূলক প্রয়োজনীয় নির্দেশসমূহ সংরক্ষণ করে চলেছে প্রতিটি প্রাণীর মস্তিষ্ক।

অনেককেই বলতে দেখা যায় আজকালকার ছেলেপুলেরা অনেক এডভান্স। কেউ কেউ তো একে কলিকালও বলেন! এর কারণটাও কিন্তু সেই জিন থেকে জিনের বয়ে চলা নির্দেশই| অনেকটা ছাকন প্রক্রিয়ার মতো করে এক পুরুষ থেকে পরবর্তী পুরুষে যায় বলে নির্দেশগুলো যথাসম্ভব পরিচ্ছন্ন হতে থাকে| সে কারণেই দেখা যায় দিন দিন আমাদের উত্তর পুরুষদের বিচক্ষণতা বাড়ছে। আমরাও তথ্য-প্রযুক্তিতে বেশ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছি।

যাহোক, প্রথমে যা বলছিলাম – বাচ্চাদের সেই নতুন কিছু জানতে চাওয়ার পথে যদি বাধার সৃষ্টি করা হয় তাহলে তার বুদ্ধির বিকাশ কি সঠিকভাবে হবে??

বাচ্চা যদি জিজ্ঞেস করে আমাদের বানিয়েছে কে?
আপনি জবাবে বলেন আল্লাহ…
কিন্তু আপনার বাচ্চা যদি জিজ্ঞেস করে আল্লাহকে কে বানিয়েছে?
আপনি জবাবে হয় তাকে ধমক দেবেন নাহয় বলবেন এসব প্রশ্ন করতে নেই…

কিন্তু কেনো করতে নেই? আপনার ধর্ম যদি ইউনিভার্সাল ট্রুথ হয় তাহলে তো তাকে ঘুরে ফিরে সেখানেই আসতে হবে|

একটিবার ভাবুন তো, আমরা কি আমাদের ধর্ম বাছাই করে নিয়েছি?? কয়জন অপরাপর ধর্মসমূহের সাথে তুলনা করে পরে ধর্মে বিশ্বাস করেন?? আসলে আমরা আগে বিশ্বাস করি, পরে সে বিশ্বাসের পেছনে যুক্তি খুঁজি।

মানুষ জানে প্রশ্নের মাধ্যমেই। তাকে যদি সেটাই করতে না দেয়া হয় তাহলে সে জানবে কিভাবে?? ধর্মগুলি যদি স্বতঃসিদ্ধই হয় তাহলে তাদের প্রশ্নবাণে জর্জরিত হতে আপত্তি কিসের?? বেয়াড়া প্রশ্নের উচিত জবাব দেয়াই তো প্রশ্নকারীর থোঁতা মুখ ভোঁতা করে দেয়ার জন্য যথেষ্ঠ।
এই যে এতকিছু ভাবনা তার কিয়দংশ আমি ভাবার অবকাশ পেয়েছিলাম ছোটবেলা থেকেই। সাধারণ বিজ্ঞান পড়ার সময় জেনেছিলাম শিখার অন্যতম প্রধান উপায় প্রশ্ন করতে জানা। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষককে প্রশ্ন করে বেকায়দায় ফেলতে খুব মজা পেতাম। এসব কারণে অবশ্য কম মার খেতে হয়নি। আমার বাবা ব্যাংকার ও মা গৃহিণী হলেও পরিবারটা বেশ ধার্মিক ছিলো। ছোট ভাই কোরানের হাফেজ। বাবা দুবারের হাজী। আমার খুব মনে আছে পাঁচ বছর বয়স থেকেই বাবা বাড়িতে হুজুর রেখে দিয়েছিলেন আরবি পড়াতে। এক বছরের মাথায় কায়দা শেষে সিপারাও প্রায় শেষ করে ফেলেছিলাম। হুজুর আসতেন বিকালে। আর আমার মন থাকতো খেলার মাঠে। বাপের শাসনের কাছে আমার খেলার ইচ্ছা বারবার মার খেয়ে যাচ্ছিলো। যখন সাত বছরে পেৌঁছলাম তখন শুরু বাপের পেছনে নামাজ পড়া। এসব ঝামেলার কাজ অবশ্য তখনও মনে হয়নি বরং হুজুরের কাছে বিভিন্ন আমলের ফায়েদা জেনে মনে মনে হিসাব কষতাম আজ মুনকার মিয়া কতগুলা নেকি লিখেছে! যাকেই সামনে পেতাম সালাম দিতাম। কারণ সালামে ৯০ নেকি। বয়স যখন দশ হলো তখন শুরু হলো অত্যাচার। আমি এমনিতে বেশ ঘুমকাতুরে। সকালের নামাজ পড়ার জন্য যে পরিমাণ টর্চার সহ্য করেছি তাতে মনে হতো এর চেয়ে মরে যাই! বাপের কাজ ছিলো ভোরে বিছানায় থাকতেই মুখে পানির ঝাপটা মেরে সাধের ঘুমের বারোটা বাজানো। চোখ ডলতে ডলতে ঘুমিয়ে ঘুমিয়েই ফজরের নামাজ আদায় হতো। আরেকটু বড় হওয়ার পর পড়লাম আরেক সমস্যায়। মাসে কয়েকবার স্বপ্নদোষ হতো। লজ্জায় ভোরে গোসল করতে পারতাম না আবার বাপ-মাকে বলতেও পারতাম না। বাপে ঠিকই জলের ঝাপটা দিতো, আমি বের হয়ে মসজিদে না যেয়ে (নাপাক অবস্থায় মসজিদে যাওয়া হারাম) এখানে ওখানে বসে থাকতাম; আধঘন্টা পরে বাসায় ফিরতাম। বাপে জিজ্ঞাসা করতো মসজিদে গিয়েছিলি? বলতাম- হ্যাঁ। বলতো কোন কাতারে (সারি) দাঁড়িয়েছিলিস? আমি তো দেখলাম না। বলতাম অন্য মসজিদে গিয়েছি! সেই থেকে নামাজটাকে এক ধরনের অত্যাচার বলে মনে হতে লাগলো।

এরই মধ্যে আমি এস.এস.সি পাশ করে ফেলেছি। আমার মধ্যে বেশ কয়েকটা বেয়াড়া প্রশ্নও গজিয়ে গিয়েছে। প্রায় বিকালেই বাবা বিভিন্ন ধর্মীয় বই পড়তেন। আমার ভালো লাগতো নবী রাসূলদের জীবনী পড়তে। এসব পড়তে পড়তেই আমার ঈমান ক্রমশ দুর্বল হতে লাগলো। কারণ এসব ঘটনার অধিকাংশই ছিলো অসম্ভব। যেসব জায়গায় খটকা লাগতো, বাবাকে নাহয় স্কুলের ধর্ম শিক্ষককে জিজ্ঞাসা করতাম। বলা বাহুল্য তারা যেসব উত্তর দিতেন সেগুলো আমার মনঃপূত হতোনা নাহয় তারা বলতেন এতো প্রশ্ন করলে আল্লাহ নারাজ হবেন! আমার তখনকার কিছু বেয়াড়া প্রশ্ন ছিলো এমন:

* মানুষ না হয় জান্নাত বা জাহান্নামে যাবে কিন্তু অন্যান্য প্রাণিসমূহের ব্যাপারে ন্যায়বিচারক আল্লাহ কি ফয়সালা করবেন?? একটা সবল গরু আরেকটা তুলনামূলক দুর্বল গরুকে গুঁতো দেয়ার বিচার আল্লাহ কি করবেন না?

** আল্লাহ তো সব ভাষাই বোঝেন| তাহলে কুরান বাংলায় পড়তে কি সমস্যা? আরবিতে অক্ষর প্রতি এক নেকি হলে বাংলায়ও কি হবে?

*** আল্লাহর চোখে সবাই সমান হলে আমি কেনো সাহাবীদের সময়ে জন্মালাম না?
**** আগে মানুষ মোজেজা দেখে ঈমান আনার সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু আমি তো কোনো মোজেজা দেখছি না। এটা আল্লাহর ন্যায়বিচার হয় কীভাবে?
এসব প্রশ্ন শুনে বাবা আমাকে নিয়ে গেলো এক পীরের কাছে। পীরের নাম মাওলানা ফরিদ উদ্দীন মাসউদ (শোলাকিয়ার ঈমাম)। তিনি আমাকে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে আদর করতে করতে বোঝালেন, “যুক্তিতে মুক্তি নাই বরং উক্তিতেই মুক্তি। আর এই উক্তি হলো স্বয়ং আল্লাহ প্রেরিত পাক কোরান। সব বিষয়ে প্রশ্ন করা ঠিকনা। আল্লাহ এমন এক স্বত্ত্বা যার ব্যাপারে চিন্তা করতে গেলে মানুষ পাগল হয়ে যায়।” আমি পাগল হবার ভয়ে হ্যাঁ-হুঁ করে গেলাম! বাবা ভাবলেন ছেলে লাইনে চলে এসেছে। কিন্তু আমার মনের খুঁতখুঁতানি স্বভাবটা থেকেই গেলো।
আরো বড় হলাম। এইচ.এস.সি পাশ করলাম। নামাজ-রোজা করি ঠিকই কিন্তু পুরোপুরি মন থেকে না। এরই মধ্যে একবার ১০ দিন, একবার ২০ দিন, একবরি ৪০ দিন ও ১০-১২ বার তিনদিনের জন্য আল্লাহর পথেও (তাবলিগ) গেলাম। সেখানে দেখলাম সন্ত্রাসী থেকে শুরু করে চোর-বাটপার সব তাবলিগে যায়! কেউ কেউ আবার স্ত্রী-সন্তানের জন্য যৎসামান্য টাকা রেখে ৪০ দিনের জন্য বেড়িয়ে পড়ে। এ চল্লিশ দিনে স্ত্রী সন্তানরা কী খেলো না খেলো তার কোনো খোঁজখবরই রাখেন না! আমার নানা জীবনের ৪০ টা বছর এই তাবলিগ করে করেই কাটিয়ে দিয়েছেন। দুই মামা, চার মা-খালাকে নানী কীভাবে বড় করেছেন সেটা উনিই জানেন। নানা তার স্ত্রী-সন্তানদের অধিকার কতটুকু পূরণ করেছেন সেটা মা-খালাদের আচরণেই বুঝা যেতো। এতসব দেখে আর ভেবে ধর্মের উপর একটা বীতশ্রদ্ধ ভাব এসে গেলো। চিল্লায় (আল্লাহর রাস্তায় ৪০ দিন) গিয়ে আমি ধর্মীয় বিবিধ বই পড়তে থাকলাম আর মনের মধ্যে প্রশ্নের পাহাড় জমতে থাকলো। তখনো পর্যন্ত ধর্ম নাই এমনটা মানতে মন সায় দিচ্ছিলো না। তাই মনকে প্রবোধ দেয়ার জন্য প্রশ্নের কিছু উত্তরও বের করতে থাকলাম। যেমন-

প্রশ্ন-ক)
আলেম-উলামাগণ বলেন- পবিত্র কুরানে হাজারের উপ্রে বিজ্ঞানময় আয়াত আছে | একই সাথে দুনিয়াতে লাখ লাখ ইসলামী পণ্ডিত , আলেম, রিসার্চার ছিলেন এবং আছেন | তার পরেও বেশিরভাগ বিজ্ঞানী বিধর্মী কেনো? অথবা বিজ্ঞানের বেশিরভাগ আবিষ্কার বিধর্মীদের হাতেই হয় কেনো?

উত্তরঃ
১| মুসলমানগণকে কুরানে ধর্ম-কর্ম করার ব্যাপারে তুলনামূলক বেশি উৎসাহ দেয়ায় তারা বিজ্ঞান চর্চার ব্যাপারে ততটা উৎসাহী নয় | জ্ঞান অর্জনের কথা বলা হলেও গুটি কয়েক আয়াতে বলা হয়েছে বরং আল্লাহর এবাদতের ব্যাপারে জোর দেয়ায় তারা জ্ঞান-বিজ্ঞানে ততটা আগ্রহী নয় | অপরদিকে বিধর্মীরা কুরান রিসার্চ করেই ঐসব আবিষ্কার করে | এজন্যই সব আবিষ্কার কুরানের সাথে মিলে যায়!

২| মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত | আর মুসলমান হলো ” আশরাফুল মানুষ” (অর্থাৎ মানুষের মধ্যে সেরা বা শ্রেষ্ঠ!) আল্লাহ বাদবাকি মাখলুক (উদ্ভিদ-প্রাণী) যেমন সৃষ্টি করেছেন মানুষের উপকার বা খেদমত জন্য আর বিধর্মীদের সৃষ্টি করছেন মুসলমানদের উপকার বা খেদমতের জন্য! মুসলমানরা শুধু এবাদতের মাধ্যমে আল্লাহকে রাজী-খুশি রাখবে; তার জীবন ধারণের সুবিধা ও সহজসাধ্য করার জন্য আল্লাহ বিধর্মীদের তো ফিট করে দিয়েছিনই!

সম্পূরক প্রশ্নঃ (১)
বিধর্মীরা কুরান রিসার্চ করেই এই সমস্ত যুগান্তকারী আবিষ্কার করতেছে | বেশ ভালো কথা! কিন্তু কোনো বিজ্ঞানীকেই তো এখনো পর্যন্ত শুনি নাই কোরানকে ক্রেডিট দিতে? বরং যে সকল আবিষ্কার কয়েকশো বছর পুর্বেই হয়েছে আলেমরা সেইসব আবিষ্কার কুরানে খুজেঁ পেতে কয়েকশ বছর লাগিয়েছেন!

সম্পূরক উত্তরঃ
তারা তো কাফির-মুরতাদ! তাই তারা কুরানকে ক্রেডিট দেয়না! সব ইহুদি-নাছারাদের ষড়যন্ত্র!
বাকিটুকুর ব্যাপারে মন্তব্য নাই!

সম্পূরক প্রশ্নঃ (২)
আল্লাহ মানুষ ছাড়া বাদবাকি মাখলুক সৃষ্টি করছেন মানুষের উপকারের জন্য- কিন্তু মানুষের অপকার হয় এইরকম মাখলুক হাজার হাজার আছে | এগুলা সৃষ্টির রহস্য কি? উদাহরণস্বরূপ- মশা নামক প্রাণিটা সৃষ্টির মাহাত্ন্য এই অধমের মাথায় কোনোকালেই ঢুকে নাই | বর্ণনায় পাওয়া যায় নমরুদকে ঘায়েল করার জন্য আল্লাহ ঝাঁকে ঝাঁকে মশা প্রেরণ করেছিলেন। যদি তাই হয় তাহলে আল্লাহর কাছে পৃথিবীর মুসলমানরা নমরুদের গজবের কারণ দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে অথচ ইহুদি-কাফিররা মশার অত্যাচারে আক্রান্ত হয়না বললেই চলে- ক্যাম্নে কি?! (বলা বাহুল্য, বিজ্ঞান মশা উৎপাদনের জন্য বদ্ধ জলের কথা বলে) | আর বিধর্মীদের যদি মুসলমানদের উপকারেই সৃষ্টি করা হয় তাহলে “দুনিয়া মুমিনের জন্য কষ্টের জায়গা” হলো কীভাবে?

উত্তরঃ
আমার জানা নাই! (কেউ জানলে দয়া কইরা জানাইয়েন |)

প্রশ্ন- খ)
সবই না হয় বুঝলাম- কাফির বিজ্ঞানীরা ক্রেডিট না দিক, যখন তারা কোরান রিসার্চ করে তখন তো তারা জান্নাতের সীমাহীন আমোদ-ফূর্তি আর জাহান্নামের অবর্ণনীয় কষ্টের কথাও পড়ে | আপনি যদি জানেন যে, আপনার আজকের এই কাজের জন্য ভালো ফল আর ঐ কাজের জন্য খারাপ ফল পাবেন সেক্ষেত্রে কোন বেকুব আছে যে খারাপ ফলের দিকে ধাবিত হবে? নিজের বুঝ তো পাগলেও বোঝে!

উত্তরঃ
আরে! আপনি তো আসলেই বোকা! তারা তো দুনিয়া পাইলেই খুশি! আর ইসলাম মানতে গেলে তো আপনারা দুনিয়ায় আকাম করতে পারবেন না, নাইট ক্লাবে যেতে পারবেন না, বেগানা মেয়ে দেখতে পারবেন না, মদ খেতে পারবেন না, জেনা করতে পারবেন না | তারা দুনিয়ার এই আয়েশই পেতে চায়! পরেরটা পরে দেখা যাবে ভাব আর কি! আর কুরানে স্পষ্ট লেখা আছে, হেদায়েতের মালিক আল্লাহ; আল্লাহ না চাইলে আপনি নিজের ইচ্ছায় ঈমানদার হতে পারবেন না | আল্লাহ তাদের কান, চোখে সীসা ঢেলে দিয়েছেন আর অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন | তারা কোনোদিনই ঈমান আনবে না!

সম্পূরক প্রশ্নঃ
তাইলে তো দেখা যাচ্ছে সব দোষ আল্লাহর! তারা কি এমন অপরাধ করেছিলো যে তারা মুসলমান ঘরে না জন্মা নিয়ে বিধর্মী জন্ম নিলো? আল্লাহর সাথে তাদের কী এমন শত্রুতা যে তিনি তাদের কানে, চোখে নিজ হাতে সীসা ঢেলে দিয়েছেন; অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন?

উত্তরঃ
তাদের আল্লাহ বিবেক দিয়েছেন | জ্ঞান হবার পর সে যদি সঠিক ধর্ম খুঁজতো তাহলে ঠিকই শান্তির ধর্ম ইসলামের সন্ধান পেতো!!! আর এটা তাদের কর্মফল!! ঐ যে বললাম না- তারা আখিরাত চায় না, দুনিয়া চায়! এ ব্যাপারে আল্লাহই ভালো জানেন!

সম্পূরক প্রশ্নঃ
আরে ভাই আমি কি করবো না করবো সেইটা তো আল্লাহ নিজেই ঠিক কইরা রেখেছেন আমার জন্মেরও হাজার হাজার বছর আগে | তাহলে দোষটা আমার হলো কীভাবে? আল্লাহর ইশারা ছাড়া যদি গাছের পাতাও না নড়ে তাহলে (আমি যদি বিধর্মী হই) সেই আল্লাহর ইশারা ছাড়া আমি বুঝবো কীভাবে যে আমাকে কোন ধর্ম সত্য ধর্ম সেটা খুঁজতে হবে???

উত্তরঃ
আল্লাহ আপনাকে বিবেক-বুদ্ধি দিয়েছে, সর্বশ্রেষ্ঠ জীবন বিধান দিয়েছে | আপনি বিধর্মী হলেও কোনো না কোনো সময় আপ্নার কাছে সত্য পথের দাওয়াত আসছে বা আসবে! সেই দাওয়াত কবুল করে সেই মত চলার দায়-দায়িত্ব সম্পূর্ণ আপনার!

সম্পূরক প্রশ্নঃ
একটু আগেই বললেন “সব কিছু আগে থেকেই ঠিক করা- সব আল্লাহর তরফ থেকেই হয়” এখন আবার বলছেন “বুদ্ধি-বিবেক দিয়া চলার কথা” – পুরো ব্যাপারটা কি স্ববিরোধীতা নয়??

উত্তরঃ
আল্লাহ ক্বাদিরুন- মহাজ্ঞানী | তিনি আগেই জানতেন আপনি কিরকম হবেন! তিনি সেই মতই সব ঠিক করে রেখেছেন! সব কিছুর ব্যাপারে তিনিই ভালো জানেন!
এ যেনো “থোড় বড়ি খাড়া, খাড়া বড়ি থোড়” অবস্থা। বেশিরভাগ ধর্মীয় বিতর্ক-বাহাস এ পর্যায়ে এসে অমীমাংসিতভাবে শেষ হতো। এ চক্র থেকে বেরুবার কোনো উপায় খুঁজে পেতাম না।
দিন যেতে লাগলো। আমার মনেও প্রশ্ন জমতে লাগলো। এ সময়টা যে আমি কীরকম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে পার করেছি তা কেবল আমি জানি! একেবারে “কইতে নারি, সইতে নারি” অবস্থা।
আরো কতিপয় অমীমাংসিত প্রশ্নঃ
১.
আমাদের দেশের যানবাহনসমূহে “আল্লাহর নামে চলিলাম” লেখাটি দেখেননি এমন লোক খুব কম আছে বোধ করি। আবার কিছু কিছু যাহবাহনে তো আরো একধাপ এগিয়ে যাত্রার সময় যাত্রা যেনো নিরাপদ হয় তার দোয়াঃ “বিসমিল্লাহি মাযরেহা ওয়া মুরছাহা ইন্না রাব্বি লা গাফুরুর রাহীম” লেখা থাকে। এখন আমার প্রশ্ন হলো- আল্লার নাম নিয়া যাত্রা শুরু করার পরও যদি যাত্রা অশুভ হয় অর্থাৎ দুর্ঘটনার শিকার হতে হয় তাইলে আল্লার নামের কোনো মর্তবা থাকলো কি?? কেউ যদি বলেন যে, যা হওয়ার কথা অরথাৎ যা লাওহে মাহফূযে লিপিবদ্ধ করা আছে তা তো হবেই! তাহলে আমি বলবো- তাইলে শুধুশুধুই যাত্রার সময় আর আল্লার উপর ভরসা করে কী লাভ??

২.
ভালো কাজসমূহ ডান দিক থেকে বা ডান হাত দিয়ে বা ডান পা দিয়ে শুরু করতে হয় আর খারাপ কাজসমূহ তার উল্টো। এসব কুসংস্কারের আদৌ কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি কি আছে?? থাকলে সেটা কি??

৩.
অন্তরের রোগ নিয়ে ইসলামী স্কলারেরা বহু কিতাব লিখেছেন। আমার ধারণা মুসলমান মাত্রই সেসব কোনো না কোনো কিতাব পড়েছেন। তাছাড়া পীর সাহেবদের সহবতে মানুষ যায়ই অন্তর\ দিল\ ক্বালবের জং দূর করে শুদ্ধতম ব্যক্তি হতে। আমার নিজেরও সেরকম একজন পীরের সান্নিধ্যে বাধ্য হয়ে আসতে হয়েছিলো (ওনার কথা আগেই বলেছি)। তিনি আমার অন্তরের রোগ দূর করতে আমাকে একটা আমল দিয়েছিলেন। প্রতিদিন সকাল-বিকাল ১০০ বার সুভান আল্লাহ, ১০০ বার আলহামদুলিল্লাহ, ১০০ বার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ১০০ বার আল্লাহু আকবার ও যে কোনো দরূদ ১০০ বার। তিনি নাকি মোহাম্মদের বংশধর; একটি কাগজে তার নাম থেকে শুরু করে মোহাম্মদ পর্যন্ত পুরুষদের পর্যায়ক্রমিক নাম লেখা ছিলো। তিনি আমাদের পরিবারের বেশ কাছের লোক। আমাদের বাড়িতে তিনি এ পর্যন্ত তিন-তিনবার তাশরীফ রেখেছেন।
এখন আমার প্রশ্ন হলো- আসলে ক্বালব জিনিসটা কি?? আমি যতদূর জানি মানুষ মস্তিষ্ক দিয়ে ভাবনা-চিন্তা করে! সুতরাং, রোগ হলে মস্তিষ্কের নিউরনসমূহের হতে পারে! তাহলে জ্ঞানী ঐসব আলেমদের ” অন্তরের রোগ” সারাবার মানে কি?? তারা তো ঐশীবাণী কোরান পড়েই আলেম হয়েছেন। তার মানে পরম জ্ঞানী আল্লাও ক্বালব বলতে যে আসলে কিছু নাই সেটা জানতেন না?? হাউ ইজ ইট পসিবল??

৪.
ছবি তোলা ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম। তাহলে হাজীরা যে ভিসা-পাসপোর্টে ছবি দেন সেগুলো যায়েজ হয় কীভাবে?? কিংবা জাকির নায়েক যে রীতিমতো একটা চ্যানেল খুলে বসে আছেন (ভিডিও হলো অসংখ্য স্থিরচিত্র বা ছবির মেলবন্ধন) সেটা যায়েজ হয় কীভাবে?? তাছাড়া জাকির মিয়ার ইসলামিক টিভিতে কয়দিন আগে দেখলাম আধুনিক টেকনোলজির সমন্বয়ে একটা মোবাইলের (পিস বা শান্তি মোবাইল) বিজ্ঞাপন দিতে যা ইসলামিক টিভির পক্ষ থেকে বাজারে ছাড়া হয়েছে। বলা বাহুল্য সেটায় ক্যামেরা (ফ্রন্ট ও ব্যাক উভয়ই) তো আছেই এমনকি সেটা থ্রিজি সাপোর্টেড। সেই ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুললে কি সেগুলো যায়েজ হবে?? মোবাইলটির দাম প্রায় ২৮ হাজার টাকা। আঠাশ হাজার টাকা খরচ করে মোবাইল কেনাটা কি অপচয় নয়??

৫.
মানুষের জন্ম-মৃত্যু সব আল্লার হাতে। কিন্তু বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে মানুষের মৃত্যুহার (বিশেষ করে প্রসূতিকালীন মাতৃ ও শিশু মৃত্যু) অনেক কমে গেছে। তাহলে আল্লার সাথে আধুনিক টেকনোলজীর কি “কোল্ড ওয়ার” চলছে নাকি?! বলা বাহুল্য যে ওয়ারে আল্লার পরাজয়ের হার দিন দিন বেড়েই চলছে! কে জানে! যেভাবে বিজ্ঞান এগিয়ে চলছে তাতে হয়তো আগামী শতাব্দীতেই আল্লাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তিনি আযরাইল সাহেবকে বরখাস্ত করবেন নাকি নতুন কাজে নিয়োগ দিবেন!!

ডাক্তাররা আল্লার সাথে মুখোমুখি চ্যালেঞ্জে নেমেছেন বললে কি অত্যুক্তি হবে?? আমার ধারণা, ডাক্তাররা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই “জন্ম-মৃত্যু সব আল্লার হাতে” টার্মটা ব্যবহার করেন! আমার বোধগম্য হয় না ডাক্তার এতো কষ্ট করে অপারেশন করে একটা রোগীকে বাঁচাবার পরেও সমস্ত ক্রেডিট আল্লার হয় কিভাবে?? সম্ভবত ভুল অপারেশনে রোগী মরলেও যাতে ডাক্তারের কাঁধে দোষটা না আসে তাই ডাক্তাররা নিজেদের ক্রেডিটকে স্বেচ্ছা নির্বাসনে পাঠিয়েছেন!
তাবলিগে গেলে অনেকেই বলতো তারা মুহাম্মদকে স্বপ্নে দেখেছে! আমার তখন মনে মনে প্রশ্ন জাগতো! প্রথমত, যে লোককে আপনি আগে কখনো দেখেননি তাকে চিনবেন কী করে?
দ্বিতীয়ত, যদিওবা সে নিজেই নিজের পরিচয় দেয় তথাপি তিনি যে অসত্য বলছেন না তার নিশ্চয়তা আছে কি? যেখানে কথিত আছে শয়তান খোদ মুহাম্মদকে ধোঁকা দিয়ে আল্লাহর অজান্তে (জানলে তিনি নিশ্চয়ই এমনটা হতে দিতেন না) তিন তিনখানা আস্ত আয়াত নাযিল করিয়ে ফেলে সেখানে আমরা তো নস্যি!
যাহোক, এরই মধ্যে হাতে এলো জাভা ফোন (নোকিয়া-৬১২০ ক্ল্যাসিক)। আন্তর্জালের অবারিত দুনিয়ায় ঢুকলাম। সময় কেটে যাচ্ছিলো ফেসবুকে। ফেসবুকে দুয়েকটা পেজ চালাতাম। সেসব পেজে কেৌতুক পোস্ট করতাম। ঘটনাচক্রে একদিন রস+আলোর লেখক আলিম আল রাজির সাথে ইনবক্সে আলাপ হলো। জাহিদ নামে আরেকটা ছেলের সাথেও আলাপ হতো ইনবক্সে। কথায় কথায় ওনাদের সাথে ধর্মের ব্যাপারে কথা উঠলে ওনাদের কোনো একজন অথবা উভয়েই মুক্তমনার কথা বললেন। এদিকে “আমরা সত্য কথা বলি তাই আমরা বেয়াদব” নামের একটা ফেসবুক পেজেও ধর্মের বিরুদ্ধে যুক্তি দিয়ে লিখা হতো। সেখান থেকেও কিছুটা ধারণা পেলাম। অবশেষে সব দ্বিধা ঝেড়ে একবুক কাঁপুনি নিয়ে মুক্তমনায় ঢুকলাম। পড়লাম বোকা মেয়ের ৬০ টি প্রশ্ন, ১৯ এর মিরাকল, অভিদার বিজ্ঞানভিত্তিক লেখা, ভবঘুরের মোহাম্মদ ও ইসলাম সিরিজ, তামান্না ঝুমুর উপর নাজিলকৃত আয়াত, আকাশ মালিক, কাসেম, ফরিদ আহমেদ এর লেখাসহ আরো কত কী! তখন আমার মনে হচ্ছিলো যেনো আমি হীরার খনি হাতে পেয়েছি। তখন লেখা আসতো কম কিন্তু লেখাগুলোর মান ছিলো অসাধারণ। চাতক পাখির ন্যায় বসে থাকতাম কবে পাবো নতুন লেখা। বলা বাহুল্য আমাদের গ্রামে তখন নেটের স্পিড ছিলো খুবই কম। মুক্তমনার বড় বড় লেখাগুলো মোবাইলে লোড হতোনা। নেট স্পিড পাওয়ার জন্য টয়লেটের ছাদ, পেয়ারা গাছের ডাল, নদীর পাড় কিছুই বাদ রাখিনি। আমার পুরো নেশা ধরিয়ে দিয়েছিলো মুক্তমনা। বেশ অনেকগুলো প্রশ্নের জবাব যখন পাচ্ছিলাম তখন নিজেকে বিশ্বের সেরা সুখীদের একজন মনে হচ্ছিলো। আবার যখন দেখতাম আমার কোনো প্রেডিকশন সেখানকার কারো লেখার সাথে মিলে গেছে তখন রীতিমতো নেচে উঠতাম! মুক্তমনার এরকম মুক্তোসম লেখা পড়ে আমি মুক্ত বিহঙ্গ হয়ে বিজ্ঞানাকাশে উড়তে সক্ষম হয়েছিলাম। আমার সংশয়ী দৃষ্টিকে নাস্তিকীয় দৃষ্টিতে রূপান্তরে মুক্তমনার ভূমিকা অনস্বীকার্য।
তবে কষ্টকর ব্যাপারগুলোরও গোড়াপত্তন হলো তখন থেকেই। আগে তাও মাঝেসাঝে নামাজ পড়তাম। এবারে একেবারেই ছেড়ে দিলাম। বাসা থেকে চাপ আসতে লাগলো। আমি একা হয়ে পড়তে লাগলাম। ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের থেকে দূরে সরে এলাম; কারণ যদি মুখ ফসকে কোনো ধর্মবহির্ভূত কথা বেড়িয়ে আসে! আমার নোকিয়া ৬১২০ ক্ল্যাসিক হয়ে উঠলো আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু। তারপর চাকুরি হলো, বাসায় পিসি এলো। ২০১৩ সাল থেকেই আমার ব্লগে এক-আধটু লিখতাম। মুক্তমনায় লেখার খুব লোভ ছিলো। কিন্তু আমার লেখা মুক্তমনায় ছাপা হবে কীনা সেটা নিয়ে দোটানায় পড়ে যেতাম বলে আর লেখা দেয়া হতো না। একদিন ফেসবুকে অভিদাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালাম। তিনি একসেপ্ট করলেন। সবচেয়ে আশ্চর্য হলাম এটা জেনে যে তিনি বললেন আপনি ওয়াচে আছেন! আমি বললাম লেখা পাঠাবো? তিনি সম্মতি দিলেন। আর কী আশ্চর্য! দুদিনের মাথায় আমার সদস্যপদও হয়ে গেলো।

যেদিনই সারারাত জেগে কোনো লেখা লিখি সেদিনই মনে পড়ে দাদাকে। কারণ যেদিনই সারারাত জেগেছি সেদিনই ভোরের দিকে অভিদার সাথে ফেসবুক চ্যাটে কথা হতো। তাঁর মতো অমায়িক লোক আমি কমই দেখেছি। একটা ঘটনা বলে লেখার ইতি টানছি। আমি বেশিরভাগ সময় বাইরে থাকি বলে মোবাইলেই নেট ব্রাউজ করতে হয়। একদিন ভোরে দাদাকে নক দিয়ে বললাম, একটা রিকোয়েস্ট ছিলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “কী?” আমি বললাম মুক্তমনাকে মোবাইল ফ্রেন্ডলি বানানো যায় না?(আগে মোবাইল থেকে মুক্তমনা সদস্যরা লগ ইন করতে পারতেন না) তিনি শুধু বললেন টেকি টিমের সাথে কথা বলে দেখি। পরের দিন তিনিই নক দিয়ে বললেন দেখুন তো! দেখলাম মোবাইল থেকেও লগইন করা যাচ্ছে। আমি সেদিন এতো খুশি হয়েছিলাম যা ভাষায় প্রকাশ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। মুক্তমনা আসলে কেমন হয় তা ড. অভিজিৎ রায়কে দেখে শেখা উচিত। আমি যতদিন বেঁচে থাকবো ওনার বদান্যতার কথা ভুলবো না।।