ধর্ষণ- ২: ধর্ষণের অভয়ারণ্যে ..

প্রথম পর্বের পরে ... [প্রথম পর্বে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ধর্ষণের পরিসংখ্যান দিয়ে একটা ভূমিকা তৈরি করতে চেয়েছিলাম, যে ধর্ষণ মানব সমাজে সর্বত্র বিস্তৃত। এই পর্বে আসুন আরেকটু কাছের বিষয় নিয়ে কথা বলা যাক — আমাদের সমাজে ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, নিপীড়ন এবং ধর্ষণকামী মানসিকতাগুলো একটু খতিয়ে দেখা যাক; তাহলে হয়ত এর পরের পর্বে ধর্ষণ বিষয়ক সামাজিক, [...]

ধর্ষণ (পর্ব ১)

“তুমি আমাকে চেনো না, কিন্তু তুমি আমার শরীরের ভিতরে ঢুকেছ, এবং সে-কারণেই আজ আমরা এখানে জড়ো হয়েছি। ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি আমাদের বাড়িতে বেশ চুপচাপ একটা শনিবারের রাত। বাবা ডিনার বানাল, আমি এবং আমার ছোট বোন টেবিলে বসেছিলাম;  ও এই উইকেন্ডে বাসায় বেড়াতে এসেছে। আমি তখন ফুল টাইম কাজ করি, ঘুমোনোর সময় হয়ে আসছে। আমার বোন [...]

|মনু’র বৈদিক চোখ: নারীরা মানুষ নয় আদৌ|শেষপর্ব/১০|

( নবম পর্বের পর...) ... করুণার ধন স্ত্রীধন পিতৃসম্পদে নারীর কোন উত্তরাধিকার নেই। কিন্তু যে ধনটুকুতে নারীর অধিকার স্বীকৃত তা হচ্ছে স্ত্রীধন। তবে এটা এমনই ধন যা নারীর প্রতি করুণার ধনই বলা যায়। মনুশাস্ত্রে ছয় ধরনের স্ত্রীধনের উল্লেখ রয়েছে, যা বণ্টনেও জটিলতা রয়েছে- ‘অধ্যগ্ন্যধ্যাবাহনিকং দত্তঞ্চ প্রীতিকর্মণি। ভ্রাতৃমাতৃপিতৃপ্রাপ্তং ষড়বিধং স্ত্রীধনং স্মৃতম্।।’ স্ত্রীধন ছয় প্রকার- অধ্যাগ্নি, অধ্যাবাহনিক, [...]

|মনু’র বৈদিক চোখ: নারীরা মানুষ নয় আদৌ|পর্ব-০৯/..|

[ স্বীকারোক্তি : সুপ্রিয় পাঠকদের কাছে প্রথমেই মার্জনা চেয়ে নিচ্ছি, গত পর্বে উল্লেখ করেছিলাম যে এটা হবে শেষ পর্ব। কিন্তু সে মোতাবেক কাজ করতে গিয়ে দেখা গেলো, পর্বটা পাঠকের বিরক্তি উৎপাদনের চাইতেও দীর্ঘ হয়ে যায়। তাই সবার কাছে আরেকটি পর্ব ধার চেয়ে নিচ্ছি। আগামী পর্বে নিশ্চয়ই সিরিজটা শেষ করতে পারবো। ] ... (অষ্টম পর্বের পর…) [...]

|মনু’র বৈদিক চোখ: নারীরা মানুষ নয় আদৌ|পর্ব-০৮/..|

(সপ্তম পর্বের পর…) ... মনুশাস্ত্রে নারীর গুরুত্ব ও ব্যবহার পুরুষের দৃষ্টিতে যা কিছু নেতি বা নিকৃষ্ট তারই উৎস হিসেবে নারীকে মনুশাস্ত্রে যথেচ্ছভাবে হীন খলচরিত্রে উপস্থাপন ও চিহ্নিত করা হলেও সমাজজীবনে নারীর উপস্থিতির অবশ্যম্ভাবীতার কারণে তাকে গুরুত্ব না-দিয়েও উপায় নেই পুরুষের। কিন্তু তাও হয়েছে পুরুষের অনুকুলে, উদ্দেশ্যমূলক- ‘পতির্ভার্যাং সম্প্রবিশ্য গর্ভো ভূত্বেহ জায়তে। জায়ায়াস্তদ্ধি জায়াত্বং যদস্যাং জায়তে [...]

|মনু’র বৈদিক চোখ: নারীরা মানুষ নয় আদৌ|পর্ব-০৭/..|

(ষষ্ঠ পর্বের পর…) ... মনুশাস্ত্রে স্ত্রীর কর্তব্য বিবাহ নামক নারী-সংগ্রহ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাপ্ত যে নারীটিকে শাস্ত্রবিধি অনুযায়ী পুরুষের ব্যক্তি-মালিকানায় রক্ষিতা বানানো হয়েছে, সেই নারীকে বহুমাত্রিক ভোগ-ব্যবহারের মাধ্যমে পূর্ণতৃপ্তি বা সন্তোষ না পেলে পুরুষতন্ত্রের সার্থকতা থাকে না। বর্ণ-নির্বিশেষে নারী সামাজিকভাবে শূদ্রধর্মীতার কারণেই শ্রম বা উৎপাদন-যন্ত্রবিশেষ, পুরুষের উপভোগ্য দেহধারণের কারণে নারী ভোগ্যসামগ্রি এবং গর্ভধারণকারী প্রজননযন্ত্রের কারণে নারী [...]

|মনু’র বৈদিক চোখ: নারীরা মানুষ নয় আদৌ|পর্ব-০৬/..|

(পঞ্চম পর্বের পর…) ... মনুর দৃষ্টিতে নারীর প্রকৃতি ও সম্পত্তি বিচার প্রাকৃতিকভাবেই নারী যে পুরুষের মতোই প্রাণীজ আবেগসম্পন্ন জৈব-মানসিক সত্তা, তা পিতৃতান্ত্রিক কূটবুদ্ধিতে অজানা থাকার কথা নয়। তাই নারীকে ক্ষমতা ও অধিকারশূণ্য করে পিতৃতন্ত্রের পূর্ণ-কব্জায় নিতে গিয়ে পুরুষের মধ্যে যে মনস্তাত্ত্বিক সংকট ও জটিলতা তৈরি হয়েছিলো, শেষপর্যন্ত তা হয়তো গোপন রাখা যায় নি। আর এই [...]

|মনু’র বৈদিক চোখ: নারীরা মানুষ নয় আদৌ|পর্ব-০৫/..|

(চতুর্থ পর্বের পর…) ... মনুশাস্ত্রে বিয়ে ও নারীর স্থান বৈদিক শাস্ত্রে বিয়ে হচ্ছে সুনির্দিষ্ট উপভোগ্য নারীকে প্রয়োজনীয় ভোগের নিমিত্তে পুরুষের ব্যক্তি-মালিকানায় শর্তহীন হস্তান্তরের ধর্মসিদ্ধ প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া যাতে কিছুতেই ব্যহত না হয় সে লক্ষ্যে ‘বিবাহ-সংস্কারকেই স্ত্রীলোকদের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ উপনয়নস্থানীয় বৈদিক সংস্কার’ (২/৬৭) হিসেবে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ‘এই সংস্কার সম্পন্ন না হলে স্ত্রীলোকদের দেহশুদ্ধি হয় না’ [...]