সুব্রাহ্মনিয়ান চন্দ্রশেখর – নভোপদার্থবিজ্ঞানের নক্ষত্র

বিগব্যাং থেকে বিশ্বব্রহ্মান্ড সৃষ্টি হবার পর মহাবিশ্বে প্রতি মুহূর্তে ঘটে চলেছে অসংখ্য মহাজাগতিক ঘটনা। লক্ষ কোটি গ্যালাক্সির নক্ষত্রপুঞ্জ জ্বলতে জ্বলতে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে- পাশাপাশি সৃষ্টি হচ্ছে অসংখ্য ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণ গহ্বর। এসব ঘটনা পৃথিবী থেকে এত দূরে ঘটে যে ওখানকার আলো পৃথিবীতে এসে পৌঁছাতে কখনো কখনো কোটি বছর লেগে যায়। কিন্তু পৃথিবীর বিজ্ঞানীরা হিসেব করে [...]

হোমি জাহাঙ্গির ভাবা – পরমাণু শক্তির কারিগর

বিশ্বমানের গবেষক, বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, গণিতবিদ, সঙ্গীতজ্ঞ, চিত্রকর, দক্ষ প্রশাসক, প্রতিষ্ঠান-নির্মাতা - খুঁজলে অনেক পাওয়া যাবে। কিন্তু যদি একই ব্যক্তির মধ্যে আমরা এই সবগুলো গুণের সমন্বয় দেখি - তখন তাকে অবাস্তব কাল্পনিক চরিত্র বলে মনে হয়। কিন্তু কল্পনা নয়, হোমি জাহাঙ্গির ভাবা ছিলেন এমনই একজন বিরল সত্যিকারের মানুষ। তিনি বিশ্বাস করতেন “যাদের সুযোগ ও অর্থনৈতিক সামর্থ্য [...]

কে এস কৃষ্ণান – কনডেন্সড ম্যাটার ফিজিক্সের পথিকৃৎ

রামন-ইফেক্ট আবিষ্কারের জন্য ১৯৩০ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন স্যার চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামন। কিন্তু এই আবিষ্কারের সাথে রামনের পাশাপাশি অন্য যে মানুষের মেধা ও পরিশ্রম প্রত্যক্ষভাবে জড়িত তিনি হলেন কারিয়ামানিক্যম শ্রীনিবাস কৃষ্ণান - যিনি স্যার কে এস কৃষ্ণান নামেই বেশি পরিচিত। রামন-ইফেক্টের সহ-আবিষ্কারক পরিচয়টা কৃষ্ণানের একমাত্র পরিচয় নয়। তিনি পদার্থবিজ্ঞানের এমন অনেক শাখায় মৌলিক অবদান [...]

মেঘনাদ সাহা – জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানের অগ্রদূত

শুধু ভারতীয় উপমহাদেশে নয় - সমগ্র বিজ্ঞানের জগতে আধুনিক জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানের ভিত্তি গড়ে উঠেছে যে ক’জন মানুষের মৌলিক তত্ত্বের ওপর - অধ্যাপক মেঘনাদ সাহা তাঁদের অন্যতম। ১৯২০ সালে মেঘনাদ সাহার তাপীয় আয়নায়নের সমীকরণ (আয়নাইজেশান ইকুয়েশান) প্রকাশিত হবার পর থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানে যত গবেষণা হয়েছে তাদের প্রায় সবগুলোই সাহার সমীকরণ দ্বারা প্রভাবিত। নরওয়ের বিখ্যাত জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী [...]

শিশির কুমার মিত্র – উপমহাদেশের বেতার-পদার্থবিজ্ঞানের পথিকৃৎ

বেতার যোগাযোগের ক্ষেত্রে গবেষণায় স্যার জগদীশচন্দ্র বসুর অবদানের কথা আমরা জানি। ভারতীয় উপমহাদেশে বেতার যোগাযোগ সম্পর্কিত গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাদান শুরু হয়েছে যাঁর হাত দিয়ে - তিনিও আরেকজন বাঙালি - ডক্টর শিশির কুমার মিত্র। তিনিই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বেতার-পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সূচনা করেন। তিনিই উপমহাদেশের প্রথম বেতার সম্প্রচার চালু করেন - কলকাতা থেকে তাঁর ‘রেডিও টু-সি-জেড’ [...]

স্যার চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামন

ভারতীয় উপমহাদেশের যে কোন বিজ্ঞান-শিক্ষার্থীই স্যার চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামন বা সি ভি রামনের নাম শুনেছেন। তাঁর আবিষ্কৃত ‘রামন ইফেক্ট (Raman Effect)’ বা ‘রামন-প্রভাব’ পদার্থবিজ্ঞানের জগতে এক আশ্চর্য মাইলফলক হয়ে আছে ১৯২৮ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি থেকে - যেদিন এই আবিষ্কারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। রামন-প্রভাব আবিষ্কারের জন্য সি ভি রামন পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন ১৯৩০ সালে। [...]

বিজ্ঞানী দেবেন্দ্রমোহন বসু

বাঙালি পদার্থবিজ্ঞানীদের মধ্যে দু’জন বসুর কথা আমরা অনেকেই জানি। তাঁরা হলেন স্যার জগদীশচন্দ্র বসু ও অধ্যাপক সত্যেন্দ্রনাথ বসু। জগদীশচন্দ্র বসু ছিলেন প্রথম বাঙালি পরীক্ষণ পদার্থবিজ্ঞানী - যাঁর কথা উঠলেই আমরা বাঙালিরা এই ভেবে কষ্ট পাই যে বেতার যোগাযোগে অগ্রগতি সাধনের জন্য ১৯০৯ সালে গুগলিয়েলমো মার্কনি ও কার্ল ফার্দিনান্দ ব্রাউন যে নোবেল পুরষ্কারটা পেয়েছেন তা আমাদের [...]

আবদুস সালাম- প্রথম মুসলমান (?) নোবেল বিজ্ঞানী

প্রতিবছর ডিসেম্বরের ১০ তারিখ আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে অনুষ্ঠিত হয় নোবেল পুরষ্কার প্রদানের মহোৎসব। সুইডেনের রাজার কাছ থেকে নোবেল পদক ও সনদ গ্রহণ করেন পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, সাহিত্য ও অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ীরা। (একই দিনে নরওয়ের অস্‌লোয় অনুষ্ঠিত হয় নোবেল শান্তি পুরষ্কার প্রদান অনুষ্ঠান।) অনুষ্ঠানে পুরুষরা পরেন বিশেষ ডিজাইনের কালো স্যুটের সাথে সাদা বো-টাই, [...]

জগদীশচন্দ্র বসু

জগদীশচন্দ্র বসু প্রদীপ দেব ৩০ নভেম্বর, স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুর জন্মদিন। বিজ্ঞানীদের স্মরণ শুধুমাত্র জন্মদিন বা মৃত্যুদিনের মত বিশেষ দিনের জন্য অপেক্ষা করে থাকে না। আমাদের অজান্তেই জগদীশ চন্দ্র বসু প্রতিদিন প্রতিমুহূর্তে স্মরণীয় - তাঁর বৈজ্ঞানিক অবদানের জন্য। আমরা হয়তো অনেকেই জানি না তাঁর উদ্ভাবন ও আবিষ্কারের অনেকগুলো দিক। ১৯০৯ সালের শেষের দিকে ইতালির গুগ্লিয়েল্‌মো [...]

বৈজ্ঞানিক সত্যেন্দ্রনাথ বসু

বৈজ্ঞানিক সত্যেন্দ্রনাথ বসু জন্মঃ ১ জানুয়ারি ১৮৯৪ মৃত্যুঃ ৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪ আলবার্ট আইনস্টাইন আমাদের কাছে যতটা পরিচিত, সত্যেন্দ্রনাথ বসু ততটা নন। কারণ প্রচার মাধ্যমে আইনস্টাইন সুযোগ পেয়েছেন সত্যেন বসুর চেয়ে বেশি। তাছাড়া স্বদেশী বিজ্ঞান সাধকের প্রতি আমাদের উৎসাহ বরাবরই কম। এ আমাদেরই দীনতা। তত্ত্বীয় পদার্থবিজ্ঞানের কিছু কিছু বিষয়ে সত্যেন বসুর অবদান আইনস্টাইনের অবদানের চেয়ে বেশি। [...]