আজি হতে শতবর্ষ পরে প্রমাণ করিছ মোর তত্ত্ব খানি: স্থান-কালের হিল্লোলে মহাকর্ষীয় তরঙ্গ সনাক্তকরণ

আপেক্ষিকতা তত্ত্বের জনক কে? এই প্রশ্নের উত্তরের আমরা চোখ মুখ বন্ধ করে বলে দিতে পারি আলবার্ট আইনস্টাইন। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে আপেক্ষিকতার সূচনা হয়েছিলো গ্যালিলিও গ্যালিলির হাত ধরে। গ্যালিলিও বলেছিলেন একটি সুষম গতিতে চলমান জাহাজের কেবিনে বসে আমরা স্থির আছি নাকি চলছি তা বোঝার কোনো সাধ্য নেই। অনেকে হয়তো ভাবতে পারেন কেবিনে আবদ্ধ অবস্থায় আমরা যদি [...]

জগদীশচন্দ্র বসু: বিশ্বের প্রথম জীবপদার্থবিজ্ঞানী

[জগদীশচন্দ্র বসুকে নিয়ে এর আগে দুটো প্রবন্ধ আমি লিখেছি। মুক্তমনায় তা প্রকাশিত হয়েছে। একটা প্রবন্ধ আমার "উপমহাদেশের ১১ জন পদার্থবিজ্ঞানী" বইতে প্রকাশিত হয়েছে। এবার জগদীশচন্দ্রকে নিয়ে একটা পুরো বই লিখে ফেলেছি। ২০১৬ সালের বইমেলায় তা প্রকাশিত হচ্ছে। মুক্তমনার পাঠকদের জন্য বইটির কিছু অংশ।] "অন্ধ ভূমিগর্ভ হতে শুনেছিলে সূর্যের আহ্বান প্রাণের প্রথম জাগরণে, তুমি বৃক্ষ, আদিপ্রাণ- [...]

সময়ের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ

জানার পরিমাণ সসীম, আর অসীম অজানা; বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে আমরা দাড়িয়ে আছি ব্যাখ্যার অতীত অবস্থার এক অসীম মহাসমুদ্রের মধ্যে, এক ক্ষুদ্র দ্বীপের উপর। প্রত্যেক প্রজন্মে আমাদের কাজ হলো আরও কিছুটা ভূমি পুনর্দখল করা। - থমাস হাক্সলি প্রাচীন কালের মানুষেরা রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যেত। এই যে পৃথিবী, গ্রহ-নক্ষত্র, আকাশ ভরা বিস্ময়, এর শুরু হয়েছিলো [...]

নক্ষত্রের বর্জ্যেই প্রাণের পত্তন

হাজার বছর ধরে মানুষ রাতের ঝলমলে আকাশ দেখে বিস্মিত হয়েছে আর মুগ্ধ নয়নে ভেবেছে বহুদুরের ঝুলন্ত আলোক বিন্দু নিয়ে। আকাশের বুকে জ্বলজ্বলে এই ঝুলন্ত বিন্দুই হলো তারা বা নক্ষত্র। তখনকার দিনে নক্ষত্র মানুষের মনে ঐশ্বরিক চিন্তার যোগান দিত, এমনকি নক্ষত্রদের মাধ্যমে নাবিকরা সমুদ্রে দিক ঠিক করতো। যদিও নক্ষত্র কি, কিভাবে এদের উৎপত্তি – এসব সম্পর্কে [...]

পলায়নপর নিউট্রিনো এবং ২০১৫ সালের পদার্থের নোবেল-৩

[দ্বিতীয় খন্ডের পর] তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নিউট্রিনোর স্পন্দন ১৯৩৬ সালে কার্ল ডেভিড এন্ডারসন পার্বত্যএলাকায় মহাজাগতিক রশ্মি নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে নতুন একটি কণিকা পেলেন। মেঘ প্রকোষ্ঠে (cloud chamber) নতুন একধরনের গতিপথ দেখে বোঝা গেলো এই কণিকাটির উপস্থিতি এবং এই গতিপথ আগের কোনো কণিকার গতিপথের সাথে মেলানো যায় না। এর গতিপথ ইলেক্ট্রনের মতো একই দিকে বেঁকে যায় [...]

By |2015-10-22T12:51:49+00:00অক্টোবর 15, 2015|Categories: পদার্থবিজ্ঞান|12 Comments

পলায়নপর নিউট্রিনো এবং ২০১৫ সালের পদার্থের নোবেল-২

(প্রথম খন্ডের পর) দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ (নিউট্রিনো সনাক্তকরণ) নিউক্লীয় বলের প্রতি সাড়া দেওয়ার ভিত্তিতে কণিকাগুলো দুই প্রকার, হেড্রন এবং লেপটন। নিউক্লীয় বল দুই প্রকার, সবল এবং দুর্বল (strong and weak nuclear forces) এটি আমরা অনেকেই জানি। যেসব কণিকা সবল বলটির প্রতি সাড়া দেয় তাদের বলা হয় হেড্রন আর যারা শুধুমাত্র দুর্বল বলটির প্রতি সাড়া দেয় তাদের [...]

By |2015-10-16T14:13:41+00:00অক্টোবর 8, 2015|Categories: পদার্থবিজ্ঞান|16 Comments

পলায়নপর নিউট্রিনো এবং ২০১৫ সালের পদার্থের নোবেল-১

প্রথম পরিচ্ছেদ (পূর্ব কথা) পদার্থ বিজ্ঞানে বিভিন্ন ধরনের সংরক্ষণশীলতা সূত্র বজায় আছে যার মধ্যে দু-একটি সবারই মোটামুটি জানা। যেমন: শক্তির সংরক্ষণশীলতা সূত্র। এর উপরেই তাপগতিবিদ্যার প্রথমসূত্র টিকে আছে। এই সূত্রটি বিবৃত করে শক্তিকে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না এবং মহাবিশ্বের মোট শক্তির পরিমান সুনির্দিষ্ট। এছাড়া আমরা অনেকে চার্জের সংরক্ষণশীলতার বিষয়টিও জানি। এই সূত্রের ভাষ্যমতে [...]

By |2015-10-09T21:40:45+00:00অক্টোবর 7, 2015|Categories: পদার্থবিজ্ঞান|10 Comments

নরকের দ্বাররক্ষী বরাবর অভিযান (পর্ব ১)

লেখক: প্রীতম চৌধুরী বামন গ্রহ প্লুটো সৌরজগতের সাপেক্ষে আমরা যদি সূর্যকে ধরি মা, পৃথিবী, মঙ্গল এরা যদি হয় সূর্যের সন্তান সমতূল্য ; তাহলে এটা বলাই যেতে পারে প্লুটো পৃথিবীর সবচেয়ে দূরের সৎ ভাই। প্লুটোর পরিচয় এখন ‘বামন গ্রহ’। এই পুঁচকে গ্রহের গ্রহত্ব নিয়ে যেমন বিতর্ক ছিল, তেমনি আবিষ্কারের পর এর নামকরণ নিয়েও বেঁধেছিল [...]

By |2015-07-16T18:07:47+00:00জুলাই 16, 2015|Categories: জ্যোতির্বিজ্ঞান|5 Comments

নীলচে আলোয় নোবেল জয়

ইলেক্ট্রোলুমিনেসেন্স (Electroluminescence) বা বৈদ্যুতিক প্রতিপ্রভা নামক একধরনের ঘটনা সম্বন্ধে পদার্থবিদগণ ১৯০৭ সাল থেকে অবগত আছেন। এধরনের ঘটনায় একটি বস্তুর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে তা আলো নির্গত করে। তবে এই ঘটনা কৃষ্ণবস্তু নিঃসরণের চেয়ে ভিন্ন ধরনের। আমরা সাধারণ বৈদ্যুতিক বাতির মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ চালিয়েও আলো পেয়ে থাকি। বৈদ্যুতিক বাতিতে একটি ফিলামেন্টের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত [...]

বেঁধেছে এমনও ঘর শূন্যের ওপর পোস্তা করে। ( উৎসর্গ – ড. অভিজিৎ রায় )

লেখক : প্রীতম চৌধুরী উৎসর্গ পত্র : প্রয়াত ড. অভিজিৎ রায়। বাংলাদেশে হাতে গোনা মুষ্টিমেয় যে সমস্ত লেখকেরা আধুনিক বিজ্ঞানের প্রান্তিক জ্ঞান এবং তথ্যের নিরিখে সুসংবদ্ধ বিশ্লেষণ সাধারণ পাঠকদের দুয়ারে নিত্য পৌঁছে দিচ্ছেন , অভিজিৎ রায় নিঃসন্দেহে ছিলেন তাদের শীর্ষস্থানীয় কাণ্ডারি। বিজ্ঞান এবং দর্শনের জগতে তার অবাধ বিচলন দেখে ইন্টারনেটের বাংলা ব্লগ সাইটগুলোতে তার গুণমুগ্ধ [...]