জগদীশচন্দ্র বসুর গবেষণায় নিবেদিতার চেষ্টা

ইওরোপ সফরের সাফল্য বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছে জগদীশচন্দ্রকে। বিদ্যুৎ তরঙ্গ নিয়ে তিনি নতুন উদ্যমে গবেষণা শুরু করলেন। ১৮৯৭ সালে তাঁর তিনটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয় লন্ডনের রয়েল সোসাইটি থেকে। পেপারগুলো হলো: (১) On the selective conductivity exhibited by certain polarizing substabces, (২) Index refraction of glass for the electric ray, (৩) On the influence of thickness of [...]

রবীন্দ্রনাথ এবং নিবেদিতার সাথে জগদীশচন্দ্রের বন্ধুত্ব

১৮৯৭ সালের এপ্রিলে নয় মাস ব্যাপী ইওরোপের বৈজ্ঞানিক মিশন শেষ করে দেশে ফিরে এলেন জগদীশচন্দ্র। ইওরোপে তাঁর বৈজ্ঞানিক সাফল্যের কাহিনি কলকাতার সংবাদপত্রেও প্রকাশিত হয়েছে। ভারতীয় বিজ্ঞানীর ইওরোপ জয়ের কাহিনি বাঙালির জন্য তো বটেই, যে কোন ভারতীয়র জন্য গৌরবের। বাঙালির মুখ উজ্জ্বল করা এই বিজ্ঞানীর সাথে পরিচিত হয়ে অভিনন্দন জানানোর জন্য আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন যুবক [...]

জগদীশচন্দ্র বসুর প্রথম বৈজ্ঞানিক সফর

১৮৯৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর জগদীশচন্দ্র ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশানের বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে বিদ্যুত-তরঙ্গ সম্পর্কে বক্তৃতা দিলেন। "Complete apparatus for studying the properties of electric waves" শীর্ষক বৈজ্ঞানিক বক্তৃতাটি বিপুল সমাদৃত হয়। দর্শকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্যার জে জে থমসন, লর্ড কেলভিন, স্যার অলিভার লজ প্রমুখ পদার্থবিজ্ঞানী। প্রথম বক্তৃতাতেই জগদীশচন্দ্র পৃথিবীবিখ্যাত ব্রিটিশ বিজ্ঞানীদের মনযোগ আকর্ষণ করতে সমর্থ হলেন। বক্তৃতা [...]

জগদীশ বসুর বৈজ্ঞানিক গবেষণার সূচনা

পদার্থবিজ্ঞানের প্রতি জগদীশচন্দ্রের ভালোবাসা জন্মেছিল সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে পড়ার সময় ফাদার লাঁফোর সংস্পর্শে এসে। তারপর তা আরো গভীর হয়েছে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়। কেমব্রিজে প্রফেসর লর্ড র‍্যালে ছিলেন তাঁর প্রিয় অধ্যাপক। লর্ড র‍্যালের পড়ানো এবং বোঝানোর স্টাইল জগদীশচন্দ্রও প্রয়োগ করেছিলেন তাঁর অধ্যাপনা জীবনে। লর্ড র‍্যালের আগে কেমব্রিজে পদার্থবিজ্ঞানের প্রধান অধ্যাপক ছিলেন জেম্‌স ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল। ম্যাক্সওয়েলের [...]

তৃতীয় পর্ব: আইনস্টাইনের জীবন ও মনন

[আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্বের একশ বছর পূর্তি (১০১৬-২০১৬) উপলক্ষে আমি এর আগে দুই কিস্তিতে তাঁর আপেক্ষিকতা তত্ত্বের একটা লোকপ্রিয় আলোচনার উপস্থাপন করেছিলাম। এই তৃতীয় কিস্তিতে আমি চেষ্টা করেছি এই মহান বিজ্ঞানীর মানসিক গঠন ও দার্শনিক বোধির একটা সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরতে। শেষ পর্বে আপেক্ষিকতা তত্ত্বের দার্শনিক তাৎপর্য সম্পর্কে খানিকটা আলোচনা করার ইচ্ছা আছে।] দর্শন কেন? [...]

আলফ্রেড নোবেলের উইল এবং নোবেল পুরষ্কার

পৃথিবীর সবচেয়ে সম্মানজনক এবং শক্তিশালী পুরষ্কারের নাম জিজ্ঞেস করলে বেশিরভাগ মানুষ নোবেল পুরষ্কারের কথাই বলেন। ১৯০১ সাল থেকে শুরু হয়ে প্রতিবছর পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তিতে অবদানের জন্য নোবেল পুরষ্কার দেয়া হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, ও রসায়নের গবেষণায় সাফল্যের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি নোবেল পুরষ্কার। সাহিত্যে যিনি নোবেল পুরষ্কার পান - তাঁর পাঠকপ্রিয়তা এই সময় হঠাৎ করেই [...]

লানিয়াকেয়া: আমাদের বাস যে বিস্ময়ের রাজ্যে

রাতের বেলা পরিষ্কার আকাশের দিকে তাকালে মনে হয় অজস্র তারকা আমাদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। আমাদের অস্তিত্বের সাথে, সভ্যতার সাথে এসব তারকার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। আজ থেকে লক্ষ বছর আগেও আমাদের পূর্বপুরুষরা রাতে আকাশের তারকাদের দিকে তাকিয়ে হয়ত নিজেদের কল্পনার ফানুশ মেলে দিতেন। আধুনিক যুগে এসে দিক নির্ধারণ, কৃষি কাজের উপযুক্ত সময় বের করা, জাহাজ চালানো [...]

আপেক্ষিকতার গল্প দ্বিতীয় পর্ব: সাধারণ আপেক্ষিকতাবাদ

[১৯১৬ সালে আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতাবাদের আবিষ্কার সংক্রান্ত বিজ্ঞানপত্রটি দুনিয়ার সামনে প্রকাশিত হয়। এই বছর সেই দুনিয়া কাঁপানো আবিষ্কারের একশ বছর পূর্তি উদযাপিত হচ্ছে বিশ্বের নানা জায়গায় নানা ভাবে। সেই উপলক্ষে আমি এখানে আপেক্ষিকতা তত্ত্বের দুই পর্ব সংক্ষেপে সকলের বোধগম্য ভাষায় তুলে ধরার চেষ্টা করছি। প্রথম পর্বে আলোচনা করা হয়েছিল বিশেষ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব। এবার লক্ষ্য: সাধারণ [...]

শূন্যতা ও মহাবিশ্ব

আজ অভিজিতের মৃত্যুদিনে তাঁকে স্মরণ করছি, তাঁর অনুপস্থিতি অনুভব করছি। তবু এই শোকের মাঝে আমি বলি অভিজিৎ এই বইটি তাঁর জীবদ্দশায় বের করে যেতে পেরেছিল, সে বুঝেছিল বইটি ভবিষ্যৎ পড়ুয়াদের চিন্তার খোরাক হবে, তাদের মনের দুয়ার হয়ত খুলবে। শত শোকের মাঝে এই আনন্দটুকু ফুটে উঠুক। 'শূন্য থেকে মহাবিশ্ব' বইটিতে গুণে গুণে ৪০০টি পাতা আছে। অধ্যাপক [...]

আজি হতে শতবর্ষ পরে প্রমাণ করিছ মোর তত্ত্ব খানি: স্থান-কালের হিল্লোলে মহাকর্ষীয় তরঙ্গ সনাক্তকরণ (অবশিষ্টাংশ)

(প্রথম অংশের পর) কিন্তু এই মহাকর্ষীয় তরঙ্গ দেখতে কেমন? দেখতে বলতে বোঝাচ্ছি এর গঠন কেমন? আমরা দু’ধরনের তরঙ্গের বিষয়ে পড়ে এসেছি, অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ আর অনুপ্রস্থ তরঙ্গ। অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গের ক্ষেত্রে তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সাথে একই দিকে অগ্রসর হয়, আর অনুপ্রস্থ তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দন দিকের সাথে সমকোণে অগ্রসর হয়। নিচের চিত্র দ্রষ্টব্য। অনুদৈর্ঘ্য [...]