প্লুটো এখন আর গ্রহ নয় কেন?

নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত আমরা যারা প্রাথমিক বা মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী ছিলাম তারা প্লুটোকে গ্রহ হিসেবে জেনে এসেছি। সেই সময় গ্রহের সংখ্যা ছিলো 'নয়'। কিন্তু পরবর্তীতে, যথাযথভাবে বললে ২০০৬ সালে প্লুটোকে সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহ তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। যদিও প্লুটো গ্রহ থাকবে কি থাকবে না সেই বিতর্ক এখনো শেষ হয় নি। কিছুদিন পূর্বেও প্লুটোকে পুনরায় গ্রহ [...]

প্রকৃতির এক রহস্যের নাম “প্রোটনের জীবনকাল”

লেখক: ফয়েজ আহমেদ আমাদের এই প্রকৃতি কতটা বিশাল আর রহস্যময় তার হিসাব করা সত্যিই কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তবুও পৃথিবীর মহাপুরুষেরা প্রকৃতির এই রহস্য উম্মোচন করার জন্যে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। দিনের পর দিন শ্রম আর সময়ের বিনিময়ে প্রকৃতির রহস্যগুলোর কোনো কোনটা মাঝে মাঝে আমাদের কাছে জট খোলে আবার কোনটা রহস্যই থেকে যায়। জট না খোলা এসকল [...]

চাঁদের নাম লুনা

ক্লাসে ঢুকে আমাকে দেখেই হৈ চৈ করে উঠলো ফারজানা, স্বাতী আর চিত্রা। তিনজনই আজ এক সাথে এসেছে। "ওয়াও নয়ন, তোকে তো দেখতে একেবারে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো লাগছে।" "ফাজলামি করবি না স্বাতী, চড় খাবি।" পিঠ থেকে ব্যাগ রাখতে না রাখতেই মন্তব্য করতে শুরু করেছে শয়তানগুলো। ফারজানা আরেক কাঠি সরেস। বললো, "একেবারে আফতাব স্যারের ছাট দিয়েছিস দেখছি। [...]

লিখেছেন |ফেব্রুয়ারী ৫, ২০১৭|বিষয়: জ্যোতির্বিজ্ঞান, বই, বিজ্ঞান|২ টি মন্তব্য|

লানিয়াকেয়া: আমাদের বাস যে বিস্ময়ের রাজ্যে

রাতের বেলা পরিষ্কার আকাশের দিকে তাকালে মনে হয় অজস্র তারকা আমাদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। আমাদের অস্তিত্বের সাথে, সভ্যতার সাথে এসব তারকার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। আজ থেকে লক্ষ বছর আগেও আমাদের পূর্বপুরুষরা রাতে আকাশের তারকাদের দিকে তাকিয়ে হয়ত নিজেদের কল্পনার ফানুশ মেলে দিতেন। আধুনিক যুগে এসে দিক নির্ধারণ, কৃষি কাজের উপযুক্ত সময় বের করা, জাহাজ চালানো [...]

শূন্যতা ও মহাবিশ্ব

আজ অভিজিতের মৃত্যুদিনে তাঁকে স্মরণ করছি, তাঁর অনুপস্থিতি অনুভব করছি। তবু এই শোকের মাঝে আমি বলি অভিজিৎ এই বইটি তাঁর জীবদ্দশায় বের করে যেতে পেরেছিল, সে বুঝেছিল বইটি ভবিষ্যৎ পড়ুয়াদের চিন্তার খোরাক হবে, তাদের মনের দুয়ার হয়ত খুলবে। শত শোকের মাঝে এই আনন্দটুকু ফুটে উঠুক। 'শূন্য থেকে মহাবিশ্ব' বইটিতে গুণে গুণে ৪০০টি পাতা আছে। অধ্যাপক [...]

সময়ের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ

জানার পরিমাণ সসীম, আর অসীম অজানা; বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে আমরা দাড়িয়ে আছি ব্যাখ্যার অতীত অবস্থার এক অসীম মহাসমুদ্রের মধ্যে, এক ক্ষুদ্র দ্বীপের উপর। প্রত্যেক প্রজন্মে আমাদের কাজ হলো আরও কিছুটা ভূমি পুনর্দখল করা। - থমাস হাক্সলি প্রাচীন কালের মানুষেরা রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যেত। এই যে পৃথিবী, গ্রহ-নক্ষত্র, আকাশ ভরা বিস্ময়, এর শুরু হয়েছিলো [...]

নক্ষত্রের বর্জ্যেই প্রাণের পত্তন

হাজার বছর ধরে মানুষ রাতের ঝলমলে আকাশ দেখে বিস্মিত হয়েছে আর মুগ্ধ নয়নে ভেবেছে বহুদুরের ঝুলন্ত আলোক বিন্দু নিয়ে। আকাশের বুকে জ্বলজ্বলে এই ঝুলন্ত বিন্দুই হলো তারা বা নক্ষত্র। তখনকার দিনে নক্ষত্র মানুষের মনে ঐশ্বরিক চিন্তার যোগান দিত, এমনকি নক্ষত্রদের মাধ্যমে নাবিকরা সমুদ্রে দিক ঠিক করতো। যদিও নক্ষত্র কি, কিভাবে এদের উৎপত্তি – এসব সম্পর্কে [...]

নরকের দ্বাররক্ষী বরাবর অভিযান (পর্ব ১)

লেখক: প্রীতম চৌধুরী বামন গ্রহ প্লুটো সৌরজগতের সাপেক্ষে আমরা যদি সূর্যকে ধরি মা, পৃথিবী, মঙ্গল এরা যদি হয় সূর্যের সন্তান সমতূল্য ; তাহলে এটা বলাই যেতে পারে প্লুটো পৃথিবীর সবচেয়ে দূরের সৎ ভাই। প্লুটোর পরিচয় এখন ‘বামন গ্রহ’। এই পুঁচকে গ্রহের গ্রহত্ব নিয়ে যেমন বিতর্ক ছিল, তেমনি আবিষ্কারের পর এর নামকরণ নিয়েও বেঁধেছিল [...]

লিখেছেন |জুলাই ১৬, ২০১৫|বিষয়: জ্যোতির্বিজ্ঞান|৫ টি মন্তব্য|

আইনস্টাইনের ডেস্ক ও রহস্যময় জড় পদার্থ

বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের মৃত্যুর পর, বিশ্বের সব পত্রিকায়ই একটি অগোছালো ডেস্কের ছবি ছাপা হয়। ডেস্কটি স্বয়ং আলবার্ট আইনস্টাইনের। ডেস্কের ছবির সাথে পত্রিকার শিরোনাম করা হয়, “The unfinished manuscript of the greatest work, of the greatest scientist of our time”। পুরো বিশ্বই তখন এই কিংবদন্তী বিজ্ঞানীর আলোচনায় মুখর। কিন্তু বিজ্ঞানে আগ্রহী যেকোনো লোকেরই কৌতূহল জাগবে, কি [...]

আদিসত্তার খোঁজে মিশন রোজেটা

মুখবন্ধঃ লেখাটির রচনাকাল ফেব্রুয়ারী, ২০১৪। বিজ্ঞানের চলমান ঘটনার প্রেক্ষিতে এর বিষয়বস্তু কিছুটা পুরনো হলেও যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক এবং এর আবেদন এখনো ফুরয়নি। বিজ্ঞান ও মহাকাশবিজ্ঞানে আগ্রহী পাঠকগণের কথা বিবেচনা করে লেখাটি মুক্তমনায় উপস্থাপন করা হল। ---------------- জানুয়ারি ২০, ২০১৪, স্থানীয় সময় সকাল ১১:০০ টা। জার্মানির ডার্মস্টাডট এ ইউরোপিয়ান মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র, এসার [১] কন্ট্রোল সেন্টারে বসে [...]

চলে গেলেন প্রখ্যাত বিজ্ঞানী এবং মুক্তমনা দার্শনিক ভিক্টর স্টেঙ্গর

“Science flies you to the moon. Religion flies you into buildings.” ― Victor Stenger (Remembering 9/11 atrocities) প্রিয় লেখক পদার্থবিদ এবং দার্শনিক ভিক্টর স্টেঙ্গর ( উইকি: Victor J. Stenger) আর নেই। তিনি দিন কয়েক আগে (২৭শে অগাস্ট) মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের অধ্যাপক ছিলেন, পাশাপাশি ছিলেন হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত এমিরিটাস [...]

মহাবিশ্বের অন্তিম পরিণতি

মহাবিশ্বের অন্তিম পরিণতি (শূন্য থেকে মহাবিশ্ব বইয়ের একটি সম্ভাব্য অধ্যায়)   ‘এই মহাবিশ্বটা পরমাণু দিয়ে তৈরি নয়, গল্প দিয়ে তৈরি’।  উক্তিটি প্রয়াত কবি এবং রাজনৈতিক কর্মী মুরিয়েল রুকেসারের।  রুকেসার উক্তিটি কী ভেবে করেছিলেন, তা এখন আর আমার মনে নেই,  কিন্তু আজ এই অধ্যায়টা লিখতে গিয়ে মনে হচ্ছে তিনি হয়তো ভুল বলেননি। আমরা ছোটবেলায় পদার্থবিজ্ঞানের বই [...]

কোয়ান্টাম শূন্যতা এবং মহাবিশ্বের উৎপত্তি

বিগত দুটি পর্বে  (প্রথম পর্ব, ২য় পর্ব) আমরা মহাবিস্ফোরণ এবং স্ফীতিতত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করেছিলাম।  গত পর্বটি শেষ করতে গিয়ে বলেছিলাম, স্ফীতি তত্ত্বের জনক অ্যালেন গুথ আমাদের মহাবিশ্বকে অভিহিত করেছেন, ‘দ্য আল্টিমেট ফ্রি লাঞ্চ’ হিসেবে; তিনি স্ফীতি তত্ত্বের গণিত সমাধান করে উদ্বেলিত হয়ে  বলেছিলেন  – ‘গ্রীক দার্শনিক লুক্রেটিয়াস খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম শতকে একটি বই লিখেছিলেন De Rerum [...]

বিগ ব্যাং এর আগে কি ছিল? (শেষ পর্ব)

বিগ ব্যাং এর আগে কি ছিল  এই সিরিজটার প্রথম পর্ব মুক্তমনায় দেয়া হয়েছিল জুন মাসের ২৮ তারিখে।   ভেবেছিলাম ২য় পর্বটি তাড়াতাড়িই লিখে ফেলব। নানা কারণেই হয়ে উঠেনি। আজ প্রকাশ করছি সিরিজটির ২য় পর্ব। যথারীতি শেষ করতে গিয়ে দেখলাম হাতী সাইজের হয়ে উঠেছে একেবারে। ‘শূন্য থেকে মহাবিশ্ব’ বইটার একটা পূর্ণাঙ্গ অধ্যায়ের কথা মাথায় রেখে লেখা বলেই [...]

ওরা কেউ আসেনি

পূর্বকথা   চাঁদহীন অন্ধকার রাতে মেঘমুক্ত আকাশের দিকে তাকালে(বিশেষ করে শরৎ কালে,কারন এ সময় রাতের আকাশ পরিস্কার থাকে) অসংখ্য তারার এক মনমুগ্ধকর সমাহার দেখা যায়।শহরের আকাশে ধুলাবালির পুরু স্তর থাকায় গ্রামে অথবা মফঃস্বলে গেলে ব্যপারটা ভাল করে বোঝা যায়।যাহোক,এরকম অন্ধকার রাতের তারাখচিত আকাশে লক্ষ করলে দেখা যাবে আকাশের মধ্য দিয়ে এক দিগন্ত থেকে আরেক দিগন্তে [...]