জগদীশচন্দ্র বসুর প্রথম বৈজ্ঞানিক সফর

১৮৯৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর জগদীশচন্দ্র ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশানের বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে বিদ্যুত-তরঙ্গ সম্পর্কে বক্তৃতা দিলেন। "Complete apparatus for studying the properties of electric waves" শীর্ষক বৈজ্ঞানিক বক্তৃতাটি বিপুল সমাদৃত হয়। দর্শকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্যার জে জে থমসন, লর্ড কেলভিন, স্যার অলিভার লজ প্রমুখ পদার্থবিজ্ঞানী। প্রথম বক্তৃতাতেই জগদীশচন্দ্র পৃথিবীবিখ্যাত ব্রিটিশ বিজ্ঞানীদের মনযোগ আকর্ষণ করতে সমর্থ হলেন। বক্তৃতা [...]

জগদীশ বসুর বৈজ্ঞানিক গবেষণার সূচনা

পদার্থবিজ্ঞানের প্রতি জগদীশচন্দ্রের ভালোবাসা জন্মেছিল সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে পড়ার সময় ফাদার লাঁফোর সংস্পর্শে এসে। তারপর তা আরো গভীর হয়েছে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়। কেমব্রিজে প্রফেসর লর্ড র‍্যালে ছিলেন তাঁর প্রিয় অধ্যাপক। লর্ড র‍্যালের পড়ানো এবং বোঝানোর স্টাইল জগদীশচন্দ্রও প্রয়োগ করেছিলেন তাঁর অধ্যাপনা জীবনে। লর্ড র‍্যালের আগে কেমব্রিজে পদার্থবিজ্ঞানের প্রধান অধ্যাপক ছিলেন জেম্‌স ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল। ম্যাক্সওয়েলের [...]

জগদীশচন্দ্র বসুর ঘর-সংসার

১৮৮৭ সালের ২৭ জানুয়ারি জগদীশচন্দ্রের বিয়ে হয় তাঁর বাবার বন্ধু দুর্গামোহন দাসের দ্বিতীয় কন্যা অবলা দাসের সাথে। বিয়ের পর অবলা দাস স্বামীর পদবী ব্যবহার করে হয়ে যান অবলা বসু। তৎকালীন অখন্ড বাংলার সমাজ-উন্নয়নে দুর্গামোহন দাসের অবদান ছিল ব্যাপক। বিক্রমপুরের সন্তান দুর্গামোহন বরিশালের ইংরেজি স্কুল থেকে পড়াশোনা করে বৃত্তি নিয়ে কলকাতার হিন্দু কলেজে পড়েন। সেখান থেকে [...]

মেঘনাদ সাহা- একজন বিজ্ঞানী ও বিপ্লবী

বৃটিশ শাসনামলে মেঘনাদ সাহা ভারতবর্ষ তথা সারা বিশ্বে একজন খ্যাতিমান পদার্থবিদ হিসেবে সমাদৃত হয়েছিলেন। ১৯২০ এর দশকে তিনি নক্ষত্রের বর্ণালী বিশ্লেষণে তাপীয় আয়নীকরণ তত্ত্বে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। ভারতের স্বাধীনতার পূর্বে ও পরে আমৃত্যু তিনি বিজ্ঞানের জন্য এবং বিজ্ঞানমনষ্কতা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য নিরন্তর কাজ করে গেছেন। তাঁর জীবনী আমাদের উৎসাহীত করবে নানা ভাবে। প্রথমতঃ তিনি বাংলাদেশের [...]

লিখেছেন |আগস্ট ১৫, ২০১৬|বিষয়: বাঙালি বিজ্ঞানী|৬ টি মন্তব্য|

আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু : মাইক্রো তরঙ্গ সৃষ্টির রূপকার

এই নভেম্বর মাসেই বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুর জন্ম, তাঁর মৃত্যুও এ মাসেই। তাই এই নভেম্বরে জগদীশ চন্দ্র বসুকে নিয়ে সামান্য আলোচনা করলে আর তাঁর একটি অবদানের কথা একটু বিস্তৃতভাবে জানতে পারলে বোধ হয় মন্দ হয় না। আচার্য জগদীশ চন্দ্র বোসকে বলা হয় ভারতের আধুনিক বিজ্ঞানের প্রবর্তক এবং সার্থক আধুনিক বিজ্ঞানী (১৮৯৪-১৯৩৭)। বিদেশের মাটিতে নয় দেশেই প্রেসিডেন্সি [...]

ড. প্রদীপ দেবের ‘উপমহাদেশের এগারজন পদার্থবিজ্ঞানী’ নিয়ে দু’ কথা

প্রদীপ দেব লিখিত  ‘উপমহাদেশের এগারজন পদার্থবিজ্ঞানী’ (শুদ্ধস্বর, ২০১৪) শিরোনামে পুস্তিকাটি আমি আগ্রহ সহকারে পড়েছি। বেশ ভাল লেগেছে, যত্নসহকারে লেখা ক্ষুদ্র পুস্তিকাটি সুলিখিত এবং এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলতে ইচ্ছে করে। আমিও তা শেষ করেছি সেভাবেই। প্রদীপের সাথে আমার ব্যক্তিগত পরিচয় নেই, তবে ইন্টারনেটের বিশেষ করে মুক্তমনার কল্যাণে নামটি সুপরিচিত এবং ওর একটি বিশ্লেষণধর্মী শক্তিশালী  কলম রয়েছে [...]

একজন অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম এবং মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ (২য় পর্ব)

অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম মারা যাবার পর আমি একটা প্রবন্ধ লিখেছিলাম ১৭ই মার্চ, ‘একজন অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম এবং মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ’  শিরোনামে।  এই সিরিজটির প্রথম পর্ব ছিল সেটি। ভেবেছিলাম অত্যন্ত দ্রুতই সিরিজের বাকি পর্বগুলো লিখে ফেলব।  কিন্তু এর মধ্যে ব্লগারদের ধরপাকড় সহ দেশের রাজনীতির টালমাটাল অবস্থায় এ নিয়ে আর কাজই করা হয়ে উঠেনি। আজ বহুদিন [...]

প্রোফেসর শঙ্কুর সুবর্ণ জয়ন্তী: একটি নিরাবেগ নাড়াচাড়া

(প্রথম অংশটির চিহ্ন) এরকম আরো কিছু তথ্যভ্রান্তির কথা জেনে নেই প্রফেসর শঙ্কুর গল্পে। 'প্রফেসর শঙ্কু ও আশ্চর্য পুতুল' (ফাল্গুন, ১৩৭১) গল্পে তিনি জানাচ্ছেন, "লেমিং এক আশ্চর্য প্রাণী। বছরের কোনও একটা সময় এরা কাতারে কাতারে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে সমুদ্রের দিকে যাত্রা করে। পথে শেয়াল, নেকড়ে, ঈগল পাখি ইত্যাদির আক্রমণ অগ্রাহ্য করে খেতের ফসল নিঃশেষ করে, সব [...]

প্রোফেসর শঙ্কুর সুবর্ণ জয়ন্তী: একটি নিরাবেগ নাড়াচাড়া

[ডঃ মুহম্মদ জাফর ইকবালের জন্মদিন আজ। আমার কাছে তিনিই বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কল্পবিজ্ঞান লেখক। এই শ্রদ্ধেয় মানুষটির জন্মদিনে আমার তুচ্ছ লেখাটি নিবেদন করলাম। আশা করি, তাঁর কলম আরো চলবে মৌলবাদী, যুদ্ধাপরাধীদের বিপক্ষে এবং মানবতা, বিজ্ঞান ও শিক্ষাবিস্তারের স্বপক্ষে।] আন্তর্জাতিক মান (ISO কত যেন?) ও মানসিকতাসম্পন্ন যেসব ক্ষণজন্মা যুগন্ধরদের নিয়ে বাঙালি বাস্তবিকই শ্লাঘা অনুভব করতে পারে, [...]

মেঘনাদ সাহা – জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানের অগ্রদূত

শুধু ভারতীয় উপমহাদেশে নয় - সমগ্র বিজ্ঞানের জগতে আধুনিক জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানের ভিত্তি গড়ে উঠেছে যে ক’জন মানুষের মৌলিক তত্ত্বের ওপর - অধ্যাপক মেঘনাদ সাহা তাঁদের অন্যতম। ১৯২০ সালে মেঘনাদ সাহার তাপীয় আয়নায়নের সমীকরণ (আয়নাইজেশান ইকুয়েশান) প্রকাশিত হবার পর থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানে যত গবেষণা হয়েছে তাদের প্রায় সবগুলোই সাহার সমীকরণ দ্বারা প্রভাবিত। নরওয়ের বিখ্যাত জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী [...]

শিশির কুমার মিত্র – উপমহাদেশের বেতার-পদার্থবিজ্ঞানের পথিকৃৎ

বেতার যোগাযোগের ক্ষেত্রে গবেষণায় স্যার জগদীশচন্দ্র বসুর অবদানের কথা আমরা জানি। ভারতীয় উপমহাদেশে বেতার যোগাযোগ সম্পর্কিত গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাদান শুরু হয়েছে যাঁর হাত দিয়ে - তিনিও আরেকজন বাঙালি - ডক্টর শিশির কুমার মিত্র। তিনিই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বেতার-পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সূচনা করেন। তিনিই উপমহাদেশের প্রথম বেতার সম্প্রচার চালু করেন - কলকাতা থেকে তাঁর ‘রেডিও টু-সি-জেড’ [...]

বিজ্ঞানী গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য

বর্ষাকাল,অনবরত বৃষ্টি চলছে। দূরে মাঠে,মাটি থেকে ৩/৪ হাত উপরে বৃষ্টির মধ্যেই হঠাৎ যেন একটা আগুনের গোলা জ্বলে উঠল। কিছুক্ষন এদিক ওদিক ছুটাছুটি করে মিলিয়ে গেল। ব্যাপারটা অনেকেই দেখল। স্বাভাবিক ভাবেই ভৌতিক ব্যাপার নিয়ে অলোচনা উঠল।একজন কেবল চুপ করে থেকে মাথা নাড়ছেন।তিনি বিশ্বাস বা অবিশ্বাসের কোন দলেই থাকলেন না। তিনি গোপালচন্দ্র  ভট্টাচার্য। একজন সকলকে জানান দিয়ে [...]

বিজ্ঞানী দেবেন্দ্রমোহন বসু

বাঙালি পদার্থবিজ্ঞানীদের মধ্যে দু’জন বসুর কথা আমরা অনেকেই জানি। তাঁরা হলেন স্যার জগদীশচন্দ্র বসু ও অধ্যাপক সত্যেন্দ্রনাথ বসু। জগদীশচন্দ্র বসু ছিলেন প্রথম বাঙালি পরীক্ষণ পদার্থবিজ্ঞানী - যাঁর কথা উঠলেই আমরা বাঙালিরা এই ভেবে কষ্ট পাই যে বেতার যোগাযোগে অগ্রগতি সাধনের জন্য ১৯০৯ সালে গুগলিয়েলমো মার্কনি ও কার্ল ফার্দিনান্দ ব্রাউন যে নোবেল পুরষ্কারটা পেয়েছেন তা আমাদের [...]

ড. ম. আখতারুজ্জামান স্যার …

ড. ম. আখতারুজ্জামান স্যার আর নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জামান স্যার দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। চিকিৎসার জন্য বেশ কয়েকবার তাঁকে দেশের বাইরে যেতে হয়েছিলো। শেষবার বিদেশ যাওয়ার আগে এবং আসার পর কথা হয়েছিল। এরপর অনেক দিন যোগাযোগ হয়নি। সপ্তাহ তিনেক আগে ফোন দিলে জানতে পারলাম স্যার আইসিইউ তে ভর্তি আছেন। আজ [...]

পাটের জিন মানচিত্র- রাজনীতি না, মাকসুদল আলমের পথই সমাধানের পথ

খবরটা নানান বাংলাদেশী ব্লগে কালকেই পড়েছিলাম। আজ আরেকটু জানলাম। জেনেটিক্স বিজ্ঞানী মাকসুদল আলম ঢাকাতেই তৈরী করেছেন পাটের জেনোম। যার ফলে তৈরী করা যাবে নতুন ধরনের পাট-যা পাটচাষ এবং শিল্পের অনেক সমস্যার সমাধান করবে। তৈরী করা যাবে উন্নত মানের ফাইবার, খরচ কমানো যাবে জাগ দেওয়ার ( জলে পাট পচানো) । অথবা সেচের। মাকসুদল আলম আমেরিকাতে বিজ্ঞানী [...]