রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কিছু কথা

লিখেছেন: আব্দুর রহিম

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে অনেক লেখা আছে, থাকবে। বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে নানা মানুষ লেখেন। লেখার কি শেষ আছে? রবীন্দ্রনাথকে মেলে ধরা সহজ কোন কাজ নয়। তবু তাঁকে জেনে বুঝে আর তাঁকে নিয়ে লিখতে চান এমন মানুষদেরও অভাব নেই। আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে কিছু লেখা হয়তো আমার ধৃষ্টতা হবে, তবু লিখছি। কিছু কিছু তথ্য হয়তো বা অনেকের মনে নেই বা তারা জানার আগ্রহ বোধ করেননি, তেমনি কিছু নিয়েই এ লেখা। সামান্য পড়াশোনা করতে হয়েছে এইটুকু লিখতে। ঠাকুর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব-বঙ্গ অর্থাৎ বাংলাদেশের সম্পর্ক যে নিগুড় তা’ই বলার চেষ্টা করেছি, যদিও কোন লেখাই সম্পূর্ণ হতে পারে না, আমার এটাও তেমনি।

রবীন্দ্রনাথের কাব্য সাহিত্য ভাব’এ সুগভীর, গীতিময়, চিত্ররূপময়, আধ্যাত্বিক ও ঐতিহ্যপ্রীত। এতে রয়েছে অনাবিল প্রকৃতিপ্রেম, মানবপ্রেম, দেশপ্রেম, বিশ্বপ্রেম, রোম্যান্টিক সৌন্দর্য চেতনা, ভাষা, ছন্দ ও আঙ্গিকের বিপুল বৈচিত্র্য আর সেই সাথে বাস্তবচেতনা ও প্রগতিচেতনা। রবীন্দ্রনাথের গদ্যভাষাও কাব্যিক। ভারতের ধ্রুপদী ও লৌকিক সংস্কৃতি এবং পাশ্চাত্য বিজ্ঞান চেতনা এবং শিল্পদর্শনের প্রভাব তাঁর রচনায় গভীর। তিনি সমাজ, রাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে নিজ মতামত প্রকাশ করেছেন কথাসাহিত্য ও প্রবন্ধের মাধ্যমে। সমাজ কল্যাণের উপায় হিসেবে তিনি গ্রামোন্নয়ন ও গ্রামের দরিদ্র জনসাধারণকে শিক্ষিত করে তোলার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। সামাজিক ভেদাভেদ, অস্পৃশ্যতা, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধেও তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথের দর্শন চেতনায় ঈশ্বরের মূল হিসেবে মানব সংসারকেই নির্দিষ্ট করা হয়েছে। তিনি দেবদেবী গ্রহের পরিবর্তে মানুষ অর্থাৎ কর্মী ঈশ্বরকে পূজার কথা বলতেন। সঙ্গীত ও নৃত্যকে তিনি শিক্ষার অপরিহার্য অঙ্গ মনে করতেন। রবীন্দ্রনাথের গান তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি তাঁর রচিত ‘আমার সোনার বাংলা …………’ ও ‘জনগণমন- অধিনায়ক জয়হে …………….’ গানদুটোও বাংলাদেশ আর ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সংগীত। বলা বাহুল্য , রবীন্দ্রনাথ ছিলেন প্রতিভায় বহুমাত্রিক আর তাই কৃষ্ণা দত্ত ও এন্ড্রু রবিনসন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বহুরূপী মানসের মানুষ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

বিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা তিনি লাভ করেন’নি কিন্তু সাহিত্যের বিচিত্র ক্ষেত্রে তাঁর পদচারণা বিস্ময়ের। তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাবান ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে। মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর বনফুল কাব্য প্রকাশ হয়। ১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যের জন্য এশীয়দের মধ্যে প্রথম সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যের ইংরেজি অনুবাদ করেন W.B Yeats, অবশ্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই গীতাঞ্জলি’ কাব্যের ইংরেজি অনুবাদ করেছিলেন।

রবীন্দ্রনাথ ছবিও আঁকতেন। চিত্রাঙ্কনে কোনো প্রথাগত শিক্ষা তাঁর ছিল না। প্রথমদিকে তিনি লেখার হিজিবিজি কাটাকুটি গুলিকে একটি চেহারা দেওয়ার চেষ্টা করতেন। এই প্রচেষ্টা থেকেই তাঁর ছবি আঁকার সূত্রপাত ঘটে। তাঁর তৈরী স্কেচ ও ছবির সংখ্যা আড়াই হাজারের ওপর যার ১৫৭৪’টি শান্তিনিকেতনের রবীন্দ্রভবনে সংরক্ষিত আছে। এগুলোর কিছু নিয়ে তাঁর প্রথম চিত্র প্রদর্শনী হয় পারিসের পিগাল আর্ট গ্যালারিতে। এরপর ইউরোপে কবির একাধিক চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। ছবিতে রং ও রেখার সাহায্যে রবীন্দ্রনাথ সংকেতের ব্যবহার করতেন। মূলত কালি-কলমে আঁকা স্কেচ, জলরং ও দেশজ রঙের ব্যবহার করে তিনি ছবি আঁকতেন। তাঁর ছবিতে দেখা যায় মানুষের মুখের স্কেচ, অনির্ণেয় প্রাণীর আদল, নিসর্গদৃশ্য, ফুল, পাখি ইত্যাদি। তিনি নিজের প্রতিকৃতিও এঁকেছেন। তিনি একাধিক অঙ্কন শৈলী রপ্ত করেছিলেন। তন্মধ্যে, কয়েকটি শৈলী হল: নিউ আয়ারল্যান্ডের হস্তশিল্প , কানাডা (ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশ) পশ্চিম উপকূলের “হাইদা” খোদাই শিল্প ও ম্যাক্স পেকস্টাইনের কাঠখোদাই শিল্প [1]।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে জন্ম। তাঁর পিতা ছিলেন ব্রাহ্ম ধর্মগুরু দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮১৭–১৯০৫) এবং মাতা ছিলেন সারদা সুন্দরী দেবী (১৮২৬–১৮৭৫)। রবীন্দ্রনাথ ছিলেন পিতামাতার চতুর্দশ সন্তান। জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবার ছিল ব্রাহ্ম আদিধর্ম মতবাদের প্রবক্তা। রবীন্দ্রনাথের পূর্ব-পুরুষেরা খুলনা জেলার রূপসা উপজেলা পিঠাভোগে বাস করতেন [2]। ১৮৯০-৯১, কুষ্টিয়া, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের জমিদারির তদারকি শুরু করেন রবীন্দ্রনাথ। এই সময় দীর্ঘ কয়েক বছর সপরিবারে কলকাতা ও শিলাইদহে পর্যায়ক্রমে বসবাস করেন। বলা বাহুল্য, অস্পৃশ্যতা প্রথার কারণে কেবল মাত্র পূর্ববঙ্গের (বর্তমান বাংলাদেশ ) যশোর , খুলনা , পিরালী ব্রাহ্মণ কন্যারাই ঠাকুর পরিবারের বধু হয়ে আসতেন।

কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে রবীন্দ্রনাথ দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেছিলেন। জমিদার রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহে ‘পদ্মা’ নামে একটি বিলাসবহুল পারিবারিক বজরায় চড়ে প্রজাবর্গের কাছে খাজনা আদায় ও আশীর্বাদ প্রার্থনা করতে যেতেন। এখানেই রবীন্দ্রনাথ রচনা করেন বহু গ্রন্থ এবং বাংলা সাহিত্যে প্রবর্তন করেন এক নতুন ধারা, ছোটগল্প। সোনার তরী (১৮৯৪), চিত্রা (১৮৯৬), এবং কথা ও কাহিনী কাব্যগ্রন্থগুলি এই সময়েরই রচনা। এছাড়াও একাধিক উপন্যাস, নাটক ও প্রবন্ধ রবীন্দ্রনাথ রচনা করেছিলেন এই সময়।

তার লেখা থেকে সামান্য নমুনা:

শিলাইদহে পদ্মা নদীতে নৌকায় আমি একা, সঙ্গে ছিল এক বুড়ো মাঝি , আর এক ছিল চাকর – নাম ফটিক । নৌকা বাঁধা থাকত পদ্মার চরে। সে দিকে ধু ধু করত দিগন্ত পর্যন্ত জনহীন, তৃণ শস্যহীন দিগন্ত। মাঝে মাঝে জল বেধে আছে, সেখানে শীত ঋতুর আমন্ত্রিত জলচর পাখির দল । নদীর ওপারে গাছপালার ছায়ায় মানুষের জীবনযাত্রা। মেয়েরা জল নিয়ে যায়, ছেলেরা জলে ঝাপদিয়ে সাঁতার কাটে, চাষিরা গরু নিয়ে পার হয়, নৌকা গুনের টানে ধীর গতিতে চলতে থাকে , ডিঙ্গি নৌকা পাটকিলে রঙের পাল উড়িয়ে হু হু করে জল চিরে যায়। মানুষের দুঃখকষ্ট আমার গোচরে এসে পড়ত, তাদের নানান নালিশ নিয়ে। পোস্টমাষ্টার গল্প শুনিয়ে যেত মানুষের সদ্য ঘটনা ও তার নিজের সমস্যা নিয়ে। নৌকা ভাসিয়ে চলে যেতুম পদ্মা থেকে পাবনা কোলের ইছামতিতে, সেখান থেকে বরলে, হুড়ো সাগরে, চলন বিলে, আত্রাইয়ে নাগর নদীতে, যমুনা পেরিয়ে সাজাতপুরের খাল বেয়ে সাজাতপুরে। দুই ধারে কত টিনের ছাদওলা গঞ্জ, কত মহাজনী নৌকার ভিড়ের কিনারায় হাট। ছেলেদের দলপতি ব্রাম্মন ছেলে, গোচরনের মাঠে রাখাল ছেলের জটলা, বন ঝাউ-আচ্ছন্ন পদ্মাতীরের উঁচু পাড়ির কোটরে কোটরে গাঙ শালিকের উপনিবেশ। আমার গল্পগুচ্ছের ফসল ফলেছে আমার এই পথে-ফেরার বিচিত্র অভিজ্ঞতার ভুমিকায়। সেদিন আমি যে কেবল পল্লীর ছবি এঁকেছি তা নয়, পল্লী সংস্কারের কাজ শুরু করেছি তখন থেকেই – সে সময়ে আজকের দিনের পল্লি দরদী লেখরেরা ‘দরিন্দ্র নারায়ণ’ শব্দটির সৃষ্টিও করেন নি। সেদিন গল্পও চলছে, তারই সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সুত্রে বাঁধা জীবনও চলছে এই নদী মাতৃক বাংলাদেশের আথিত্য।

শিলাইদহ কুঠিবাড়ি – বর্তমানে একটি পর্যটক আকর্ষণ

রবীন্দ্রনাথের ছিন্নপত্রে লিপিবদ্ধ আছে – কবিতা তাঁর বহুকালের প্রেয়সী। বাড়ির পুকুরের ধারে বটের তলা, বাড়ির বাগান, একতলার ঘরগুলো, এবং বাহিরের জগৎ, এবং দাসীদের মুখের রূপকথা ও ছড়াগুলো তাঁর মনে ভারী একটা মায়া জগৎ তৈরি করেছিল। তখনকার সেই আবছায়া অপূর্ব মনের ভাব তুলে ধরা ভারি কঠিন। কিন্তু ও মেয়েটি পয়মন্ত নয় তা স্বীকার করতে হয়। সুখ দেন না বলা যায় না, কিন্তু স্বস্তির সঙ্গে কোন সম্পর্ক নাই । যাকে বরণ করেন তাকে নিবিড় আনন্দ দেন। কিন্তু এক এক সময় কঠিন আলিঙ্গনে হৃদয় নিংড়ে রক্ত বের করে। সংসারের মাঝখানে বসে স্থির হয়ে আয়েশ করে বসা সে লক্ষ্মীছাড়ার পক্ষে একেবারে অসম্ভব। কিন্তু আসল জীবনটি তার কাছেই বন্ধক আছে – রবীন্দ্রনাথে বলেন।

সাধনা’ই লেখেন অথবা জমিদারি দেখেন, যখনই তিনি কবিতা লিখতে শুরু করেন অমনি তাঁর চিরকালের যথার্থ নিজের ভিতর প্রবেশ করেন। তিনি বেশ বুঝতে পারেন, এই তাঁর স্থান। জীবনে জ্ঞাতসারে এবং অজ্ঞাতসারে অনেক মিথাচার করা যায়, কিন্তু কবিতায় কখনও মিথ্যা কথা বলেননি বলে তিনি স্বীকার করেছেন । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন , ‘কবিতাই আমার জীবনের সমস্ত গভীর সত্যর একমাত্র আশ্রয় স্থান’। (শিলাইদহ , ১৮৯৩)।

রবীন্দ্রনাথ জড়িয়ে পড়েছিলেন বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী স্বদেশী আন্দোলনের সঙ্গে ১৯০৫ সালে। যৌবনে পূর্ববঙ্গের গ্রামজীবনকে খুব কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক আন্দোলনে যোগ দেওয়ার প্রত্যক্ষ অনুভূতি তাঁকে স্বদেশের প্রকৃত উন্নতির পথটি সম্পর্কে ভাবিয়ে তুলেছিল। রবীন্দ্রনাথ বুঝলেন, গ্রামীণ সমাজের সার্বিক উন্নতি ছাড়া দেশের উন্নতি অসম্ভব। ব্রহ্মবিদ্যালয়ের মাধ্যমে মুক্তশিক্ষার প্রচারের পাশাপাশি গ্রামোন্নয়নের জন্যও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন তিনি। ১৯২১ সালে স্থাপিত হল ‘পল্লীগঠন কেন্দ্র’। রবীন্দ্রনাথকে সাহায্য করতে এগিয়ে এলেন মার্কিন কৃষি-অর্থনীতিবিদ লেনার্ড নাইট এলমহার্স্ট, ছেলে রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং শান্তিনিকেতনের একাধিক শিক্ষক ও ছাত্র। সংস্থাটির উদ্দেশ্য ছিল কৃষির উন্নতিসাধন, ম্যালেরিয়া ইত্যাদি রোগ নিবারণ, সমবায় প্রথায় ধর্মগোলা স্থাপন, চিকিৎসার সুব্যবস্থা এবং সাধারণ গ্রামবাসীদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা। তিনি স্বদেশী আন্দোলনের বিরুদ্ধে ছিলেন। দেশকে স্বাধীন করার জন্য অসহযোগ ও সশস্ত্র আন্দোলনের বদলে তিনি স্বনির্ভরতা ও জন-মানুষের আত্মিক উন্নতির পথে যোগ দেন। তাঁর মতে, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন অশুভ নয়, বরং সামাজিক সমস্যার রাজনৈতিক রূপ। তিনি ভারতবাসীকে এই শাসন মেনে নিতে আহবান জানিয়ে বলেন ; “There can be no question of blind revolution, but of steady and purposeful education”3

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবন দর্শনের একটি দিক –

তিনি মনে করতেন তাঁর জীবন সাধনার মুলে ছিল গতিশীলতা। একটি আরম্ভ থেকে পরিবর্তনশীল গতিশীলতার ভিতর দিয়ে জানা অজানার দিকে এগিয়ে যাওয়া তাঁর জীবন দর্শন। যৌবনের সুচনা থেকেই জীবনের সব ক্ষেএে গতিরোধের পদচারণা। সংসারে সংযুক্ত থেকে সংসারকে দেখেছেন, আবার তীব্র গতি চেতণায় এই সংসার সান্নিধ্যও কঠিন সমস্যার সৃষ্টি করেছে । তাই তিনি লিখেছেন:

“সংসারেতে দারুণ ব্যথা লাগায় যখন প্রানে
আমি যে নাই – এই কথাটাই মনটা যেন জানে
যে আছে সে সকল কালের, একাল হতে ভিন্ন
তাহার গায়ে লাগে না তো কোন ক্ষতের চিন্হ”।

নীরদ চন্দ্র চৌধুরির শত বার্ষিকী সংকলনএ রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে কিছু আলোচনা করেছেন । সেই আলোচনার প্রেক্ষিতে কিছু কথা তুলে ধরছি :

‘মানুষের মানসিক জগত উহার সর্বচ্চ রূপ পাওয়া যায় সাহিত্য । সাহিত্যই মানুষের জীবন ও মনকে পূর্ণ হইতে পুরনতর রূপে লইয়া যাইতে পারে । ভাষার ভিতর দিয়েই মানুষের মানসিক শক্তির প্রকাশ পায় । মানুষের মনে যত ভাব ধারনা বা চিন্তা আসে তাহার ভাষা বদ্ধ রূপে । ভাষার ভিতর দিয়েই মানুষিক শক্তির উন্মোচন হয় । ভাষা বদ্ধ মানুষের মন, উহাই মানুষের অমর ও চিরন্তন অস্থিত্ত । কেবল সাহিত্যই , directly or indirectly, মানুষের অস্থিত্ত বজায় রাখে এবং প্রসারিত ও উন্নত রাখে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যে মানুষের জন্য কাজ করেছিলেন তা বলা নিষ্প্রয়োজন। তিনি ছিলেন সমগ্র মানব সমাজের কর্মচারী। কোন বাক্তিই নিজের জীবনের এই উদ্দেশ্য ও ফলের কথা ভাবেনা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য সৃষ্টই তাহাঁর জীবনের সর্বচ্চ কীর্তি। সহস্র বাধা অতিক্রম করিয়াও কোন কিছুর তাড়নায় তিনি লিখিয়াছেন। মানুষের যে সৃষ্ট তা অন্য এক শক্তিতে হয়। রবীন্দ্রনাথ নিজের ভাষায় বলেছেন – “মুলে আমার কথা ও তাহার কথা এক”। এটা এক দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি তাতে সন্দেহ নাই। তাহাঁর সৃষ্ট অর্থাৎ তাহাঁর কীর্তিই স্থায়ী হয়ে আছে। তিনিই নাই। কিন্তু তাঁহার সৃষ্টই অমর। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মানুষের অন্তরে ছিল, আছে, থাকবে।

গতি ও সৃষ্টি সভ্যতার মূলমন্ত্র। এই গতির ধর্ম অব্যক্ত’কে ব্যক্ত করা, অপ্রকাশকে প্রকাশ করা। আমার মনে হয় সৃষ্টির প্রতিটি অণু পরমাণু অভিব্যক্তির আবেগে নিত্য চঞ্চল৷ সৃষ্টির অংশ হিসেবে মানুষের তো একটাই ধর্ম। মানুষ। সৃষ্টি বৈচিত্রময়, বিচিএ এই পৃথিবী, মানুষের জীবনটাও বৈচিত্রময়। মহান মানুষ যারা, তাঁরা তাদের সাধনা ও জ্ঞান দ্বারা উপলব্ধি করেন জীবন। জীবনের স্রোতধারায় সাধারন মানুষ কচুরিপানার মত। তারা রবীন্দ্রনাথ হতে পারেনা, পারেনা লিও টলষ্টয়, শেক্সপিয়ের, আইনষ্টাইন কিংবা সিগমন্ড ফ্রয়েড। হন না ফ্রেডরিখ নিৎসে, বাট্রান্ড রাসেল, ভলতেয়ার, কার্ল স্যাগান, চার্লস ডারউইন অথবা গ্যাঁটে, কাজী নজরুল ইসলাম, কিংবা আরো অনেকের মত। মহান মানুষেরা সমাজের বেশ কিছু কলুষিত নিয়মের গন্ডির বাইরে থেকেছে বা থাকে। তাঁরাই সৃষ্টি করেছে বড় বড় আবিষ্কার, বদলেছে সমাজে ৷ They have made great advancement in the human civilization, have made great achievement in all fields of knowledge – philosophy, science and technology, medicine, purpose & meaning of life, and humanity at large. মুক্তচিন্তার মানুষরাই উন্নতির কর্ণধার।

References:

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর জীবনী (Life of Robindranath Tagore).
(http://teach-bangla.blogspot.ca/2016/07/life-of-rabindranath-tagore-teach-bangla.html)

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর জীবনী (https://bn.m.wikipedia.org/wiki/)

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর Wikipedia ( https://bn.m.wikipedia.org/wiki/)

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনী (https://www.facebook.com/parentsworld/posts/)

Robindronath Tagore – The Myriad-Minded Man. Krishna Dutta and Andrew Robinson. Bloomsbury, London, UK, 1995.

নিরধ চন্দ্র চৌধুরির । শত বার্ষিকী সংকলন ; মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার স লিমিটেড , শ্যাম চরন দে স্ট্রিট , কলিকাতা – ৭০০০৭৩, সাল ২০০০ ।

About the Author:

মুক্তমনার অতিথি লেখকদের লেখা এই একাউন্ট থেকে পোস্ট করা হবে।

মন্তব্য করুন