অভিজিৎ রায়ের হত্যাকাণ্ডের তৃতীয় বর্ষে ‘অভিজিৎ রায় স্মৃতি পুরস্কার’ ঘোষণা করেছে ফ্রিডম ফ্রম রিলিজিওন ফাউন্ডেশন

By |2018-03-04T12:07:16+00:00ফেব্রুয়ারী 25, 2018|Categories: ব্লগাড্ডা|0 Comments

Freedom from Religion Foundation (FFRF) অভিজিৎ রায়ের নামে একটি স্মৃতি পুরস্কার দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০১৫ সনের ২৬ শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা একুশে বইমেলা থেকে ফেরার পথে ইসলামী জঙ্গিদের হাতে খুন হন বাংলাদেশী-আমেরিকান লেখক ও মুক্তমনা অভিজিৎ রায়। ঐ ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হন অভিজিৎ রায়ের স্ত্রী বন্যা আহমেদ। তাদের ওয়েবসাইটে এই স্মৃতি পুরস্কারের ঘোষণা দিয়ে FFRFএর সহ-সভাপতি এনি লরি গেলর বলেছেন যে, অভিজিতের নামে একটি পুরস্কার সৃষ্টি করতে পেরে এবং বন্যা আহমেদের সঙ্গে কাজ করতে পেরে তারা গর্বিত। এই পুরস্কারটির চুড়ান্ত রূপায়নে FFRF বন্যা আহমেদের সাথে কাজ করবে। পুরস্কারটির বিস্তারিত বৃত্তান্ত জানানো হবে।

বাংলাদেশ, দক্ষিণ এশিয়া এবং পৃথিবীব্যাপী প্রবাসী বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীর জন্য অভিজিৎ রায় মুক্ত ও যুক্তিবাদী চিন্তার উদ্যোক্তা। তাঁর পি.এইচ.ডি ছিল বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’এ, কিন্তু তিনি ধর্ম, নাস্তিকতা, মহাবিশ্ব, সমকামিতা, সাহিত্যসহ নানাবিধ বিষয়ে অবিরাম লিখেছেন তিনি। বাংলাদেশে এই বিষয়গুলো নিয়ে তাঁর সাতখানা বই প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে যুক্তিবাদী বির্তক বা আলোচনার লক্ষ্যে বাংলাভাষীদের জন্য তিনি ‘মুক্তমনা’ নামের ব্লগ প্রতিষ্ঠা করেন, যদিও পরবর্তীকালে এর একটি ইংরেজী বিভাগ সৃষ্টি করা হয় যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক মুক্তমনা মানুষ অংশগ্রহণ করেন। অভিজিৎ রায় ছিলেন চিন্তা প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে একজন বলিষ্ঠ কন্ঠ। ২০১৩ সনে তিনি বাংলাদেশের নাস্তিক ব্লগারদের আটকের প্রতিবাদ ও তাঁদের মুক্তির দাবিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তাঁর যুক্তিবাদী লেখনী ও সাহসী প্রতিবাদের জন্য তিনি ইসলামী মৌলবাদীদের কোপানলে পড়েন এবং ২০১৫ সালের ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ঢাকার একুশে বইমেলায়, যেখন তাঁর দুটি বই প্রদর্শিত হচ্ছিল, সেখানে তাঁকে ইসলামী জঙ্গিরা কুপিয়ে মেরে ফেলে। তাঁর স্ত্রী, রাফিদা আহমেদ, যিনি বন্যা নামেই বেশি পরিচিত, তিনিও এই নির্মম আক্রমণের শিকার হয়ে জীবন সঙ্কটে পড়েন, তবে প্রাণে বেঁচে যান। FFRFএর এনি গেলর বন্যা আহমেদের প্রশংসা করে বলেন যে, অভিজিতের পদাঙ্ক অনুসরণ করে বন্যা আহমেদ মুক্তমনা ব্লগকে চালু রেখেছেন এবং ব্যক্তিগতভাবে অনেক বিপদগ্রস্থ মুক্তচিন্তকদের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করে চলেছেন।

‘অভিজিৎ স্মৃতি স্কলারশিপ’ তাঁকেই দেওয়া হবে যিনি সমাজে ধর্মীয় মৌলবাদী চেতনার প্রতিপত্তি দূর করতে গবেষণা করছেন, যিনি জাতি-গোত্র বিদ্বেষের বাইরে থেকে সমাজে মানবতা গড়তে কাজ করছেন। এই পুরস্কার এমন সৃজনশীল ও নির্ভীক মানুষকে স্বীকৃতি দেবে যিনি তাঁর জীবনের হুমকি আছে জেনেও, নানাবিধ বাধা বিপত্তি থাকা সত্ত্বেও তাঁর লেখা, শিল্পকর্ম, মানবতাবাদী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন এবং বিজ্ঞান, যুক্তিবাদ বা মানবতার প্রচারে রত রয়েছেন।

এই পুরস্কারের ঘোষণায় এনি গেলর আরো বলেন, “(১৯৬৩ সনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার-কর্মী কৃষ্ণাঙ্গ) মেডগার এভার্স নিহত হবার আগে বলেছিলেন, ‘একজন মানুষকে খুন করে ফেলা যায় কিন্তু তার চিন্তাকে নয়’, তাই যুক্তিবাদ ও চিন্তার স্বাধীনতা বজায় রাখার জন্য অভিজিতের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ”।

অভিজিৎ রায় (১৯৭২-২০১৫) যে আলো হাতে আঁধারের পথ চলতে চলতে আঁধারজীবীদের হাতে নিহত হয়েছেন সেই আলো হাতে আমরা আজো পথ চলিতেছি পৃথিবীর পথে, হাজার বছর ধরে চলবে এ পথচলা।

মন্তব্য করুন