ব্রুনো কোপার্নিকাসের সূর্যকেন্দ্রিক মতবাদকে সমর্থন করেছিলেন যা ছিল বাইবেলের ‘সূর্য পৃথিবীর চার পাশে ঘোরে’-এই মতবাদের বিপরীত। ব্রুনো কোপার্নিকাসের সাথে সুর মিলিয়ে দৃঢ় প্রত্যায়ে বলেছিলেন,’সূর্য নয়, বরং পৃথিবীই সূর্যের চারপাশে ঘোরে’। চার্চের প্রচণ্ড চাপের মুখে নতিস্বীকার না করে হাসি মুখে মৃত্যুকেই বরণ করে নিয়ে ছিলেন মহান ব্রুনো।

জিওর্দানো ব্রুনো (ছবি: ইন্টারনেট থেকে নেওয়া)

আজ সেই কোপার্নিকাস-ব্রুনোর মতবাদই বৈজ্ঞানিক সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এমনকি খ্রীষ্টানরাও সেই বৈজ্ঞানিক সত্যকে মাথা পেতে মেনে নিয়েছে। ভ্যাটিকানের পোপও ভুল স্বীকার করেছে। পোপও বলতে বাধ্য হয়েছে, ব্রুনোর প্রতি অন্যায় করা হয়েছে।

কোপার্নিকাস-ব্রুনোর মত বাংলাদেশে নাস্তিক-ব্লগাররাও অবস্থান নিয়েছিলেন সত্যের পক্ষে, র‍্যাশনালিটির পক্ষে। ধর্মীয় মিথ্যাচার ও অসত্যের বিপক্ষে তাঁদের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন, কোরানের অবৈজ্ঞানিক দিকগুলো, জঙ্গিবাদের রূট হিসেবে কোরান-হাদীসের উস্কানিগুলোকে জনসম্মুখে তুলে ধরেছিলেন, মহাম্মদের জীবনের অজানা অধ্যায়গুলো তুলে ধরেছিলেন, তুলে ধরেছিলেন ইসলামের চেপে রাখা ইতিহাস। আর, এ জন্যই তাঁরা ইসলামী সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মমভাবে একের পর এক চাপাতি সন্ত্রাসের শিকার হয়ে জীবন দিতে বাধ্য হয়েছেন।

রাজীব, অভিজিৎ দা, বাবু, অনন্ত, নীল সহ যাদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, তাঁরা ভুল কিছু বলেন নি। তাঁদের অন্যায়ভাবে খুনগুলো প্রমাণ করে দিয়েছে, তাদের প্রত্যেকটি বাক্য ছিল অকাট্য। ইসলাম নামক ধর্মটি আসলেই সন্ত্রাসের ধারক ও বাহক। কোরান-হাদীস ও মোহাম্মদের ব্যক্তিজীবনই সন্ত্রাসের উৎস। সন্ত্রাসের দলীলকে সন্ত্রাসের দলীল বলা, সন্ত্রাসীকে সন্ত্রাসী বলার জন্যই তাঁদেরকে নির্মম ইসলামী সন্ত্রাসের বলী হতে হয়েছে।

কোপার্নিকাসের আত্মত্যাগ যেভাবে বৃথা যায়নি, তেমনি আমাদের রাজীব- অভিজিৎ রায়দের আত্মত্যাগও বৃথা যাবে না। আজ হোক, কাল হোক, তাঁদের বলা সত্যগুলো অবশ্যই প্রতিষ্ঠিত হবে। তাঁরা টিকে থাকবেন মুক্তচিন্তা চর্চার ইতিহাসের সাথে।

কোপার্নিকাস সহ সকল অকুতোভয় সত্যান্বেষী, যারা সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে নিজেদের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের সবার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি —

“উদয়ের পথে শুনি কার বাণী,
ভয় নাই, ওরে ভয় নাই-
নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান
ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই।”

(প্রথমে ফেসবুকে প্রকাশিত)

[448 বার পঠিত]