আদিবাসী পাহাড়ি অধ্যুষিত পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার মূলে রয়েছে ভূমি। আর পাহাড়ের ভূমির সমস্যার সমাধানে পার্বত্য শান্তিচুক্তির আলোকে প্রায় দেড় যুগ আগে গঠিত হয়েছিল ভূমি কমিশন। কথা ছিলো, সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী এ কমিশন পাহাড়ে আদিবাসী পাহাড়ি ও বাঙালি স্থায়ী বাসিন্দাদের ভূমির সমস্যার সমাধান করবে, স্থাপন করবে শান্তি। কিন্তু খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেছে, এখনো এ কমিশন রয়েছে কাগুজে। ফলে সেখানে পাহাড়ি- সেটেলার বাঙালির ভূমির বিরোধ বাড়ছেই। শান্তিচুক্তির এই মৌলিক শর্তসহ আরো কয়েকটি শর্ত পূরণ না হওয়ায় পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা রয়েছে এখনো অধরাই।

এমনই নির্মম বাস্তবতায় ২ ডিসেম্বর পালিত হয়েছে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির দুই দশক পূর্তি। ১৯৯৭ সালের এই দিনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারেরর সঙ্গে পাহাড়িদের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল জনসংহতি সমিতি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তির আওতায় অস্ত্র সমর্পন করেন সমিতির সাবেক গেরিলা গ্রুপ শান্তিবাহিনীর প্রায় দুহাজার সদস্য। এক যুগের গ্লানিময় জীবনের অবসান ঘটিয়ে ভারতের ত্রিপুরা থেকে দেশে ফেরেন প্রায় ৭০ হাজার পাহাড়ি শরণার্থী। অবসান ঘটে শান্তিবাহিনীর সঙ্গে সেনা বাহিনীর প্রায় আড়াই দশকের সশস্ত্র সংঘাতের।

২০ বছর আগে ওই শান্তিচুক্তির ফলে পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সৃষ্টি হয় ব্যাপক আশাবাদ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সে সময় শান্তিচুক্তির কারণে ইউনেস্কোর শান্তি পুরস্কারও পান। কিন্তু দৃশ্যতঃই পাহাড়ে ভূমি সমস্যাসহ চুক্তিতে বলা আরো নানা সমস্যার সমাধান হয়নি। ফলে পার্বত্য সমস্যা হচ্ছে জটিল থেকে জটিলতর।

দীর্ঘতর শুভংকরের ফাঁকি
সরকারের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরকারী পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যেতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় (সন্তু) লারমা সম্প্রতি অভিযোগ করে বলেন, সরকার শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের বদলে চুক্তি বিরোধী ভুমিকা নিয়ে জুম্ম (পাহাড়ি) জাতিকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে। সাবেক গেরিলা নেতা এমনও বলেছেন, সরকার গেরিলা গ্রুপ শান্তিবাহিনীর অস্ত্র কেড়ে নিতেই লোক দেখানো এ শান্তিচুক্তি করেছিল। এ সরকার আর চুক্তি বাস্তবায়ন করবে না।

চুক্তির বর্ষপূর্তির দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক ভিডিও কনফারেন্সে দাবি করেছেন, শান্তিচুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ৪৫ ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে, ১৫টি আংশিক বাস্তবায়িত হয়েছে, বাকী ধারাগুলোও বাস্তবায়িত হবে।

অন্যদিকে, চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় ওইদিন রাতেই একটি টিভি টকশোতে বলেছেন, বাজার সর্দার কত টাকার বাজার করেছেন, কি কি বাজার করেছেন, সেটি মূখ্য নয়। মুখ্য হচ্ছে এসব বাজার সদাই করার কারণে আমার যে মৌলিক চাহিদা ভাত, মাছ, শুটকি, সব্জি ইত্যাদি খেতে পারছি কি না। অর্থাৎ শান্তিচুক্তি মৌলিক শর্তগুলো পূরণ না হওয়ায় তার সুফল সাধারণ পাহাড়ি-বাঙালির ঘরে পৌঁছে নি।

এছাড়া ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় এক ফেসবুক নোটে জানাচ্ছেন, শান্তিচুক্তির অন্যতম শর্ত মেনে স্থানীয় শাসন ব্যবস্থা তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাচন বিধিমালা প্রনয়ণের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় গত ১৩ বছরে অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসকে ১৭টি তাগাদাপত্র দিয়েছে। বিস্ময়কর এই যে, অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস এ সংক্রান্ত কোনো পত্রেরই উত্তর দেয়নি!

এই একটি ঘটনাতেই শান্তিচুক্তির প্রধান বিষয়গুলো বাস্তবায়নে সরকারের সদিচ্ছা স্পষ্ট হচ্ছে।

সরেজমিনে খোঁজ-নিয়ে জানা যায়, শান্তিচুক্তির প্রধান শর্ত মেনে গঠন করা পার্বত্য ভূমি কমিশন পড়েছে শুভংকরের ফাঁকিতে। গঠনের পর থেকে পার্বত্য ভূমি কমিশন এ পর্যন্ত একটি ভূমির বিরোধও নিস্পত্তি করেনি! খাগড়াছড়িতে কমিশনের অফিস থাকলেও অন্য দুই পার্বত্য জেলা রাঙামাটি ও বান্দরবানে এর অফিসও নেই। নেই পর্যাপ্ত লোকবল, তহবিল। যথাযথ আইনের অভাবে কমিশনটি একেবারেই পরিনত হয়েছে কাগুজে দলিলে।
আর কমিশনকে আইনী ক্ষমতা দেওয়া নিয়ে গত আওয়ামী লীগ, বিএনপি-জামায়াত, সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং আবারো আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দফায় দফায় হয়েছে অসংখ্য বৈঠক, আলোচনা, পত্র বিনিময়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব উদ্যোগই হয়েছে নিস্ফল। আর এ সুযোগে, অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে পাহাড়ে বেড়েছে ভূমির বিরোধ। এ নিয়ে সেখানে একের পর এক সহিংসতাও হচ্ছে। ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি পাহাড়ি-বাঙালির।

জানা গেছে, শান্তিচুক্তির অন্যতম মৌলক শর্ত ভূমি কমিশন নিয়ে ২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিস্তর বৈঠক হয়েছে। কিন্তু একটি যথাযথ আইনের অভাবে কমিশন গঠনের প্রায় একযুগ পরেও তা কাজই শুরু করতে পারেনি। আর কার্যকরী কমিশন আইন তৈরি করতেই পেরিয়ে গেয়ে ১৪ বছর। এখনও এটি সংশোধিত আকারে পাশ হয়নি। সংশোধিত ভূমি কমিশন বিল, ২০১৩ এখনো রয়েছে খসড়া আকারেই।

এছাড়া চুক্তিতে ‌’পার্বত্য চট্টগ্রামকে উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চল’ হিসেবে স্বীকার করে নেওয়া হলেও এ পর্যন্ত পার্বত্যাঞ্চলের নিজস্ব বৈশিষ্ট ও স্বকীয়তা বজায় রাখতে কোনো সরকারই গ্রহণ করেনি কার্যকর পদক্ষেপ। ফলে প্রতিনিয়তই পাহাড়ি-বাঙালি জনসংখ্যার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। অর্থাৎ চুক্তির মূল স্পিরিটটিই নষ্ট করে ফেলা হয়েছে।

জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি-বাঙালি সংঘাতও বাড়ছে। মানবাধিকার সংস্থা কাপেং ফাউন্ডেশনের হিসেবে, শান্তিচুক্তির পর পাহাড়ে অন্তত ১৬ টি রক্তক্ষয়ী সংঘাত হয়েছে। এসব সংঘাতে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই নির্মম হিংসার বলি হয়েছেন পাহাড়ি গ্রামবাসী। হিংসার অনলে পুড়েছে খাগড়াছড়ি, বাঘাইহাট, মাটিরাঙা, গুইমারা, তাইনদং, লংগদুসহ অসংখ্য পাহাড়ি জনপদ।

কার্যত, সবমিলিয়ে শুধু ভূমি কমিশন নয়, পুরো শান্তিচুক্তিই একটি দীর্ঘতর শুভংকরের ফাঁকিতে পড়েছে।

৭১ এখন ১৭ হয়ে নেমেছে পাহাড়ে
গত জুনে পালিত হল পাহাড়ি নেত্রী কল্পনা চাকমা অপহরণের ২১ তম দিবস। অর্থাৎ ২১ বছর ধরে বাংলাদেশ এতো বড় একটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায় বহন করে চলেছে। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন রাঙামাটির বাঘাইছড়ির নিউ লাইল্যাঘোনা গ্রাম থেকে হিল ইউমেন্স ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক কল্পনা চাকমা অপহৃত হন। কল্পনাকে উদ্ধারের দাবিতে সে সময় উত্তাল পাহাড়ে হরতালের মিছিলে চারজন পাহাড়ি ছাত্র জীবন দেন। কল্পনাকে উদ্ধারের দাবিতে পাহাড় ও সমতলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে উঠে। এসব আন্দোলনে সারাদেশ থেকে যোগ দেয় আদিবাসী বান্ধব বিভিন্ন সংগঠন। পরে সেসবও ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে আসে।…

পুলিশের কোনো তদন্ত সংস্থাই এই ২১ বছরে অভিযুক্ত অপহরণকারী লেফটেনেন্ট ফেরদৌস ও তার সহযোগি ভিডিপি সদস্যদের কেশাগ্রও স্পর্শ করতে পারেনি, রাঙামাটির আদালতে মামলার ডেটের পর ডেট পড়েছে।

কাচালং, মাইনী, চেঙ্গী,মাতামুহুরি, শংখ ও কাপ্তাই লেকের জল আরো ঘোলা হয়েছে। কল্পনার বৃদ্ধ মা বাধুনি চাকমা একমাত্র মেয়ে হারানোর বেদনা নিয়ে গত হয়েছেন, তা-ও অনেকদিন হলো। আর কল্পনার জুমাচাষী ভাই ও অপহরণের প্রত্যক্ষদর্শী কালিন্দী কুমার চাকমা ২১ বছর ধরেই রাঙামাটি আদালতে ধর্ণা দিয়ে বেড়াচ্ছেন বিচারের আশায়।

এই প্রেক্ষাপট থেকে দেখলে সবশেষ গত জুনে লংগদু সহিসংসতার ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। যে পাহাড়ে কল্পনার মতো একজন জলজ্যান্ত নারী নেত্রী গুম হয়ে যান, সে পাহাড়ে এমন সহিংস ঘটনা আসলে বার বার ঘটেই চলেছে,যদি না এখনই এর মূলে আঘাত করা না যায়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম কী নয়া উপনিবেশ?
খুব সংক্ষেপে জানিয়ে দেই, গত ১ জুন যুবলীগ নেতা নয়নের লাশ পাওয়া যায় খাগড়াছড়ির দীঘিনালায়। তার বাড়ি লংগদুতে। নয়ন পেশায় ভাড়ায় মটর সাইকেল চালক ছিলেন। পরদিন ২ জুন সেনা, পুলিশ ও ইউএনওর উপস্থিতিতে নয়নের লাশ নিয়ে মিছিল বের করে বাঙালি সেটেলাররা। মিছিলটি ছিল যথেষ্টই উস্কানিমূলক। এর কালো ব্যানারে নয়ন হত্যার জন্য ‘উপজাতীয় সন্ত্রাসী’দের দায়ী করা হয়েছিল, শুধু ‘সন্ত্রাসীদের’ নয়। ওই মিছিল থেকেই লংগদুর চারটি পাহাড়ি গ্রামে আগুন ধরিয়ে দিয়ে দুইশতাধিক বসতঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নিঃস্ব করে দেওয়া হয়েছে, আদিবাসী পাহাড়িদের। নৃসংশতা এমনই যে আশ্রয়হীন পাহাড়িরা এখনো আশেপাশের গ্রামে ও স্কুল ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন। নিজেদের পোড়া ভিটায় ফিরে আসার সাহস পাচ্ছেন না। তারা ক্ষোভে-দুঃখে সরকারি ত্রাণও প্রত্যাখ্যান করেছেন। আর গত চার মাস ধরেই তারা এখনো বাস্তুভিটাচ্যুত হয়েই আছেন।

অন্যদিকে, গত কয়েক বছরে পাহাড়ি জনপদে সহিংস হামলার সঙ্গে লংগদু হামলার কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। খুব নিবিড়ভাবে লক্ষ্যনীয়:

ক) এবার যুবলীগ নেতার হত্যার প্রতিবাদ মিছিল থেকে পাহাড়ি জনপদে আগুন দেওয়া হয়েছে। খ্) সেনা ও প্রশাসনের সক্রিয় উপস্থিতি সেটেলার সমাবেশকে উৎসাহিত করেছে, গ) নিহতর লাশ নিয়ে পাহাড়ি গ্রামের ভেতর দিয়ে মিছিল করার অনুমতিও দেওয়া হয়েছে!

এসব কারণে স্পষ্ট লংগদু সংঘাতের দায়ভার প্রশাসনের ওপর বর্তায়।

বরং স্পষ্ট বলা ভাল, ১৯৭১ যেন ২০১৭ হয়ে নেমে এসেছে পাহাড়ে, সেনা-সেটেলার নিপীড়নের ধরণ এমনই।

স্মরণে রাখা দরকার, ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর শান্তিচুক্তি সাক্ষরের আগে পাহাড়ি জনপদে অন্তত ১৩টি গণহত্যা হয়েছে। এরমধ্যে ১৯৮৯ সালের ৪ মে লংগদুর গণহত্যা অন্যতম। এবার লংগদু সহিংসতার মতো সেবারও সেনা-সেটেলার যৌথায়নে খুন, জখম, লুঠপাঠ আর আগুন দেওয়া হয়েছে পাহাড়ি গ্রামে। সেনা বাহিনীর গুলি আর সেটেলারদের দায়ের আঘাতে সাবেক কাউন্সিলর অনিল বিকাশ চাকমাসহ খুন হন অন্তত ৪০ জন নিরীহ পাহাড়ি নারী-পুরুষ। লংগদু গণহত্যার প্রতিবাদে ২০ মে গঠিত হয় পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)। এই গণহত্যার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ নারী নেত্রী কবিতা চাকমা (এখন অস্ট্রেলিয়ায় প্রবাসী) লিখেছিলেন সেই বিখ্যাত কবিতা, ‘জ্বলি ন উধিম কিত্তেই?’ (রুখে দাঁড়াবো না কেন?)

এমনিভাবে, শান্তিচুক্তির আগে ও পরে সেনা-সেটেলার যৌথায়নে পাহাড়ে আগুন জ্বলছেই। স্পষ্টতই পাহাড়ে চুক্তি মেনে সেখানের ভূমি সমস্যার সমাধান ও পার্বত্যাঞ্চলকে বেসামরিকীকরণ, তথা অস্থায়ী প্রায় ৫০০ সেনা ছাউনি প্রত্যাহার ও আইন-শৃঙ্খলার কর্তৃত্ব বেসামরিক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে না দিলে পাহাড়ে পাকিপনা সহসাই বন্ধ হবে না। রাষ্ট্রের ভেতরে গড়ে ওঠা সেনা-সেটেলারের নেতৃত্বাধীন আরেক উপরাষ্ট্র যেন পার্বত্য চট্টগ্রাম। সেখানে আওয়ামী লীগ,বিএনপি, জামাত, জাতীয় পার্টি নেই, বন্দুকের নলের বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছেন নিরন্ন পাহাড়ি ও বাঙালি।

তাই পাহাড়ে সেনা-সেটেলার অপশক্তির অবসান না হলে সেখানে পাকিপনার সহসাই অবসান হবে, এমন আশা করাটাই যেন বোকামী। শান্তিচুক্তি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত না হওয়ায় দিন দিন পরিস্থিতি আরো জটিল হচ্ছে।

এ অবস্থায়, পার্বত্য চট্টগ্রামকে বেসামরকীকরণ ও সেটেলারদের নিয়ন্ত্রণ তাই রাষ্ট্রর আশু করণীয়, এটিই এখন সময়ের দাবি।

রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান– এই তিন জেলা নিয়ে গড়ে ওঠা পার্বত্য চট্টগ্রামের মোট আয়তন প্রায় পাঁচ হাজার ৯৩ বর্গমাইল। সেখানে রয়েছে ১২টি ভিন্ন ভাষাভাষি পাহাড়ি জনগোষ্ঠির বাস। পাহাড়ি-বাঙালি মিলিয়ে পার্বত্যাঞ্চলে লোক সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ। পাহাড়ি-বাঙালি জনসংখ্যার অনুপাত ১৯৮১ সালে ৫৮ দশমিক ছয় শতাংশ ও ৪১ দশমিক চার শতাংশ, ১৯৯১ সালে ৪৯ ও ৫১ শতাংশ এবং সবশেষ ২০০১ সালের হিসাবে ৪১ শতাংশ ও ৫৯ শতাংশ। আর বেসরকারি হিসেবে এখন পাহাড়ি-বাঙালি জনসংখ্যার অনুপাত প্রায় সমান।

বটম পয়েন্টে: লংগদু সহিংসতার পর একটি প্রশ্ন অনিবার্য হয়ে উঠেছে, শান্তিচুক্তির পর পাহাড়িরা কি কোনো বাঙালি গ্রামে আগুন দিয়েছে? একটি উদাহরণও কি এমন আছে? নেই। তাই লংগদু সহিংসতা থেকেই প্রশাসনকে শিক্ষা নিতে হবে। নইলে ভোটের অংক কষে লংগদুর মতো ঘটনা ঘটতেই থাকবে। ক্রমেই আরো রক্ত ঝরবে পাহাড়ে। আর মার থেতে খেতে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া মানুষের পক্ষ থেকে পাল্টা আঘাত যে আসবে না, তারই বা গ্যারান্টি কি?

ছবি: পাহাড়ের কান্না, রাঙামাটির কাপ্তাই লেক, প্রসঞ্জিৎ চাকমা।

[315 বার পঠিত]