লেখক:আরজ আলী (জুনিয়র)।

প্রাণহীন জীবনের ন্যায় ধর্মানুভূতিহীন ধর্মও মৃত। যদিও বর্তমানে রাজধর্ম ছাড়া অন্যসব ধর্মই মৃতপ্রায়। তবে কম বা বেশি ধার্মিকদের মনে এ অনুভূতি অবশ্যই থাকতে হবে। অর্থাৎ ধর্মানুভূতিই ধর্মের প্রাণ। তাছাড়া, এটা ধর্মের সর্বপ্রধান হাতিয়ার এবং সদাজাগ্রত পাহারাদারও বটে। যা ছাড়া ধর্মকে রক্ষা করা অসম্ভব। কোননা, এটা সব ধার্মিকদেরই সংঘবদ্ধ করে রাখতে অত্যন্ত পারদর্শী। আবার এ অনুভূতিই হৃদয়ের গভীরতম স্থান থেকে কেবল ধর্মকেই ভালোবাসতে বলে, মানুষকে নয়। কেবলমাত্র ধর্মহীন ও বিধর্মীই নয়, স্বধর্মী কোনো গোষ্ঠিকেও নয়। তথাপিও অনেকেই বিধর্মীদের ভালোবাসে, যা সম্ভবত ধর্মের প্রভাবে নয়, মানবধর্মের প্রভাবেই। যদিও বর্তমানে মানবধর্মের চাইতেও বড় কারণ স্বার্থরক্ষা বা ক্ষমতায় টিকে থাকা অথবা অর্থের প্রলোভনে। উদাহরণস্বরূপ, সৌদি-ইস্রায়েল সম্পর্ক অথবা রাশিয়া-আমেরিকার সাথে আরবের শাসকদের দহরম-মহরম (যা ধর্ম সমর্থন করে না)। তবে যখন কোনো ধর্মসম্প্রদায় অন্য সম্প্রদায়ের উপর ছলেছুতায় আক্রমণ করে, তখন ধর্মানুভূতির ন্যায় সফল ব্র‏হ্মাস্ত্র আর হয় না। ধর্মানুভূতির ধারকদের ন্যায় দুর্ধর্ষ সৈনিকও আর হয় না। কারণ ভূমিকম্প যেমন পৃথিবীর বুকে শক্তি সঞ্চয় করে মহাবিস্ফোরণ ঘটায়, তেমনি ধর্মানুভূতিও ধার্মিকের হৃদয়ের গভীরে মহাশক্তি সঞ্চিত রাখে। যার বিস্ফোরণ ঘটলে ভূমিকম্পের ন্যায় সব লন্ডভন্ড করে ছাড়ে। অর্থাৎ ধর্মের অন্যান্য মশলার মধ্যে ধর্মানুভূতিই সবচাইতে বেশি শক্তিশালী। কারণ মনের বা প্রাণের জোরের মতো শক্তি আর হয় না।

অন্যদিকে, ধর্মানুভূতির সবচেয়ে বড় স্বার্থকতা- এর অনুপ্রেরণায় ধার্মিকরা আত্মাহুতি দিতে সদা প্রস্তুত। উঁই পোকার পাখা গজালে আর আগুন দেখলে যেমন ঝাপ দিয়ে মরে; কথিত ধর্মানুভূতির চরিত্রটাও ঠিক তেমনি। অর্থাৎ জীবন যাবে কী-যাবে না, সেদিকে একটুও খেয়াল থাকে না। মূলত ভেতর থেকে এটা মানুষকে নিজ প্রাণ বাঁচানোর কোনো চিন্তা করতেই দেয় না, শুধু ধর্মরক্ষার জন্য প্রাণ বিসর্জন দেয়ার অনুপ্রেরণাই দিতে থাকে। যেমন, সম্প্রতি মিশরের ধর্মালয়ের মধ্যেই রক্তবন্যা বইয়ে দিলো (যা এখন নিত্যনৈমিত্তিক)। পাকিস্তানেও স্বধর্মী এক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অজুহাতে উম্মত্ত মানুষ রাস্তায় নেমে এসে শতশত আহত-নিহত হচ্ছে। ভাগ্য ভালো মন্ত্রী বিধর্মী নয়, তাহলে যে কী হতো, ভাবলেও আতঙ্কিত হতে হয়! মূলত, এটাই ধর্মানুভূতির প্রকৃত রূপ!

যদিও পৃথিবীর প্রায় সব আবিষ্কার এবং প্রকৃতির উপকার ও অপকারের ন্যায় ধর্মেরও দুটো গুণ আছে। তবে বর্তমানে ধর্মের ভালো গুণগুলো মাইক্রোস্কোপ দিয়ে খুঁজতে হয়। যেমন ঠিকমত ওষুধ খেলে রোগ সারে, ভুল করলে/বেশি খেলে ক্ষতি করে। তাই সব দেখেশুনে মনে হচ্ছে, বর্তমানে ধার্মিকরা ধর্মানুভূতির ওভারডোজে আক্রান্ত। কেননা, অতীতে ধর্মের উপকার থাকলেও বর্তমানে প্রায় শূন্যের কোটায়। কারণ ধার্মিকরা এখন ধর্ম খুব বেশি গিলে খাচ্ছে, ফলে হজমে ব্যাঘাত ঘটছে। তাই মাঝে মাঝে ভূমিকম্পের ন্যায় উদীগরণ ঘটিয়েই চলছে।

অন্যদিকে, ধর্মানুভূতির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো- আপনি ব্যাংক লুট করেন, হাজার-হাজার কোটি টাকা পাচার করেন, পারলে দেশ বিক্রি করে দেন, চুরি-ডাকাতি, চোরাচালন-দুর্নীতিতে সেরা হন, এমনকি দু’চারটে খুন করেন… ধর্মানুভূতি একটুও নড়বে-চড়বে না। কিন্তু আপনি ধর্মকে সামান্য খোঁচা দিন, দেখুন কী মহাতাণ্ডব ঘটে যায়! (বিশ্বব্যাপী প্রমাণের অভাব নেই)।

যাহোক, গ্রামে কথিত ভূতে আক্রান্ত বহু মানুষ দেখেছি! যদিও এর সংখ্যা হু-হু করে কমছে (ব্যাখ্যা নিসেপ্রায়জন)। ভণ্ড ওঝারা বিভিন্ন বুজরুকি মাধ্যমে ভূত ছাড়াতো। তখন ছোট ছিলাম, ধর্ম ছাড়া অন্য কোনো বুদ্ধিসুদ্ধি তেমন একটা ছিলো না, তাই ভণ্ডদের চালাকি বুঝতাম না। কালিপদ ওঝাই ছিলেন তিন ধর্মেরই প্রধান ওঝা। যদিও ধর্মানুসারে মানুষ ও সৃষ্টিকর্তাদের ন্যায় ভূতেরাও বিভক্ত ছিলো। যেমন- হিন্দুদের ধরতো কালি-দূর্গা-মনসায়, মুসলমানদের ধরতো জিন-পরীতে, খ্রিস্টানদের ধরতো শয়তানে/ভূতে। তফাৎ হলো- ভূতে ধরে হঠাৎ হঠাৎ দু-একজনকে কিন্তু ধর্মানুভূতিতে ধরে প্রায় সবাইকে। তবে ভূতের আছড় ছাড়ানোর বহু ওঝা/বদ্যি/চিকিৎসক… থাকলেও ধর্মানুভূতির আছড়মুক্ত করার কেউ নেই। বরং অক্টোপাসের ন্যায় আরো বেশি আষ্ঠেপৃষ্ঠে আটকানোর ওঝা/বদ্যি/চিকিৎসক… তথা ধর্মপ্রতিষ্ঠান এবং ধর্মশিক্ষকের যেন সুনামি চলছে। এসব হু-হু করে বাড়ার প্রধান কারণ অর্থনৈতিক ছাড়াও ধর্মানুভূতির আছড় সরাসরি সৃষ্টিকর্তা প্রেরিত। অন্যদিকে ভূতের আছড় আসে শয়তান কর্তৃক। ফলে শতভাগ ধার্মিকই জন্মলগ্ন থেকে ধর্মানুভূতির আছড়ে আক্রান্ত হতে বাধ্য। এটা মানুষের অন্তরের গভীরে ছাইচাপা আগুনের ন্যায় গুপ্ত ও সুপ্ত অবস্থায় থাকে বলে সহজে অনুমেয় নয়। তবে কোনো পক্ষ (বিশেষ করে সংখ্যাগুরুরা) যদি মনে করে (প্রমাণের প্রয়োজন নেই), তাদের ধর্মানুভূতি মৃদু ধাক্কা খেয়েছে, তাহলে- লুটপাট, ধর্ষণ, শতশত বাড়িঘর ভস্মিভূতসহ আহত-নিহত হওয়া মুহূর্তের ব্যাপার মাত্র। ছলেছুতায়, কারণে-অকারণে সমাজের গণ্যমান্য ধর্মজীবিরা কেবল একটুখানি উষ্কে দিচ্ছে, আর সাথে সাথেই মহাবিষ্ফোরণ ঘটে যাচ্ছে (উদাহরণ অনেক)। যে বিস্ফোরণ ঠেকাবার কোনো শক্তি বা অস্ত্র কারো হাতে নেই। কারণ এ অনুভূতির মহাবিষ্ফোরণের সামনে কোনো মানুষ তো বটে, সৃষ্টিকর্তারাও যেন শিশু। এমনকি লৌহমানব কিংবা স্বৈরাচারগণও এর কাছে মেকুড় (মাদী বিড়াল)। কেননা, এ অনুভূতি সৃষ্টিকর্তাদের মহাপবিত্র(!) বাণীর মাধ্যমে ধার্মিকদের মনের গভীরে প্রথিত। সেহেতু চাইলেও ধার্মিকরা ইহজীবনেও এ অনুভূতির দাসত্ব থেকে রক্ষা পায় না। অর্থাৎ এরা সবাই এ নষ্টানুভূতির দুষ্টু দাস। পার্থক্য, কেউ বেশি, কেউ কম; কেউ লুটপাট ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয়, কেউ নিরবে সমর্থন করে। এজন্যই ভূতে আক্রান্ত মানুষ যতোটা না ভয়ংকর, তারচেয়ে সহস্রগুণ ভয়ংকর ঈশ্বর প্রদত্ত কথিত ধর্মানুভূতি আছড়প্রাপ্তরা। যে কারণে বিশ্বের বহু সরকারকেই এদের সমীহ করে টিকে থাকতে দেখা যাচ্ছে। আর যদি ভাগ্যক্রমে রাজ্যটি হয় ধর্মরাজ্য, তাহলে ধর্মানুভূতির পোয়াবারো। এসব ছাড়াও এর এক বিরাট অর্থনৈতিক এবং লোভনীয় দিক রয়েছে। অর্থাৎ এতে অংশগ্রহণকারী এবং উষ্কানিদাতারা কমবেশি লাভবান হবেই। যেমন- নগদ অর্থসহ সোনা-দানা, গরু-ছাগল লুট, ভূমিদখল, নারী অপহরণ, ধর্ষণ, দাস্তদাসী এবং যৌনদাসী বানানোসহ জোরজবরদস্তি ধর্মান্তকরণ… ইত্যাদি। এসব আমার কথা নয়, ঐতিহাসিক সত্য এবং ধর্মীয়ভাবে অনুমোদিত। অতএব, প্রচণ্ড ধর্মানুভূতিসম্পন্ন সমাজে ও ধর্মরাষ্ট্রগুলোতে সাম্প্রদায়িকতা থাকবেই এবং চলবেই (কখনো নিরবে, কখনো স্বরবে)। আবার এ অনুভূতি যে জাতি/ধর্মের মধ্যে যতোটা শক্তপোক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত কিংবা যে দেশর মানুষ যতো বেশি ধর্ম-মাতাল, নেশাক্রান্ত… সেই জাতি/ধর্মের লোকদের ধর্মানুভূতি ততোই সংঘবদ্ধ, মজবুত, শক্তিশালী, উগ্র, অধৈর্য, অসহিষ্ণু, উচ্ছৃংখল, হিতাহিতজ্ঞান শূন্য…। মূলত যারা মূর্খতার শীর্ষে।

অতএব, ধার্মিকদের মধ্যে ধর্মানুভূতি থাকবে আর কথিত ধর্ম অবমাননায় হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে ঝাপিয়ে পড়বে না, তা কী করে হয়? কারণ, এটা তাদেরকে মানুষ ভাবতে দেয় না, বরং গর্বিত ও খাঁটি ধার্মিক ভাবায়। তাছাড়া, মানুষ যেহেতু শিশুকালেই এর দাস হয়, সেহেতু এটাই হয় তার প্রধান চালক। ফলে কারো বিরুদ্ধে (সত্য/মিথ্যা যাহোক) ধর্ম অবমানার অভিযোগ শুনলেই হলো; সত্যতা যাচাইয়ের প্রয়োজনবোধ করে না, নিজের মনেও প্রশ্ন তোলে না, কে, কেনো, কোথায়, কী…? হাতের কাছে যা পায়, তা নিয়েই ঝাপিয়ে পড়ে। এদেশেই শুধু নয়, পুরো পৃথিবীতে এর প্রমাণ বহু। বিচারহীনতার কারণে যা চলছেই। থামবার কিংবা থামানোর কার্যকরী কোনো পদক্ষেপই দেখা যাচ্ছে না। ধর্ম অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্তদের বিচারে দোষী বা নির্দোষ প্রমাণ করা/না করা, তো বহু সময়ের ব্যাপার, এতো ধৈর্য-সহ্যের মশলা দিয়ে তো আর ধর্মানুভূতি বানানো হয়নি! এর যে কালক্ষেপণের বিন্দুমাত্র সময় নেই! অর্থাৎ এতো ধৈর্য কী ধার্মিকদের থাকতে আছে? তাই তো, শুধুমাত্র অভিযোগ শোনামাত্রই ভেতরের পশুটা দাঁত বের করে, নিজ নিজ সৃষ্টিকর্তার নামে উল্লাসধ্বনি দিতে দিতে, মহাহুংকারে লেজহীন পশুতে রূপান্তরিত হয় এবং সত্যিকারের ধর্মানুভূতির রূপ ধারণ করে মহাপ্রলয় ঘটিয়েই চলেছে! যার উদাহরণ ভুড়িভুড়ি।

আসুন, এ মহাবিষ সম্পর্কে জাতীয় কবির প্রত্যক্ষ বর্ণনা দেখি:

[‘মারো শালা যবনদের!’ ‘মারো শালা কাফেরদের!’ …প্রথমে কথা-কাটাকাটি, তারপর মাথা-ফাটাফাটি …আল্লার এবং মা কালীর ‘প্রেস্টিজ’ রক্ষার জন্য যাহারা এতক্ষণ মাতাল হইয়া চিৎকার করিতেছিল তাহারাই যখন মার খাইয়া পড়িয়া যাইতে লাগিল, দেখিলাম– তখন আর তাহারা আল্লা মিয়া বা কালী ঠাকুরানির নাম লইতেছে না। হিন্দু-মুসলমান পাশাপাশি পড়িয়া থাকিয়া এক ভাষায় আর্তনাদ করিতেছে– ‘বাবা গো, মা গো!’ –মাতৃপরিত্যক্ত দুটি ভিন্ন ধর্মের শিশু যেমন করিয়া এক স্বরে কাঁদিয়া তাহাদের মাকে ডাকে! দেখিলাম, হত-আহতদের ক্রন্দনে মসজিদ টলিল না, মন্দিরের পাষাণ দেবতা সাড়া দিল না। শুধু নির্বোধ মানুষের রক্তে তাহাদের বেদি চিরকলঙ্কিত হইয়া রহিল। মন্দির-মসজিদের ললাটে লেখা এই রক্তকলঙ্ক-রেখা কে মুছিয়া ফেলিবে, বীর? …যিনি ধর্ম-মাতালদের আড্ডা ওই মন্দির-মসজিদ-গির্জা ভাঙিয়া সকল মানুষকে এক আকাশের গম্বুজ-তলে লইয়া আসিবেন। …ইহারা ধর্ম-মাতাল। ইহারা সত্যের আলো পান করে নাই, শাস্ত্রের অ্যালকোহল পান করিয়াছে। …আল্লার মসজিদ আল্লা আসিয়া রক্ষা করিলেন না, মা-কালীর মন্দির কালী আসিয়া আগলাইলেন না! মন্দিরের চূড়া ভাঙিল, মসজিদের গম্বুজ টুটিল! আল্লার এবং কালীর কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া গেল না। …কেন আসে না সেই রুদ্র – যিনি মানুষ-সমাজের শিয়াল-কুকুরের আড্ডা ওই ভজনালয়গুলো ফেলবেন গুঁড়িয়ে – দেবেন মানুষের ট্রেডমার্কার চিহ্ন ওই টিকি-টুপিগুলো উড়িয়ে? …মানুষের পশু-প্রবৃত্তির সুবিধা লইয়া ধর্মান্ধদের নাচাইয়া কত কাপুরুষই না আজ মহাপুরুষ হইয়া গেল…।]

কবি যথার্থই বলেছেন। প্রাণের চেয়েও প্রিয়, ওই নষ্টানুভূতির হুকুমেই মানুষ পশু-প্রবৃত্তির হয়। কারণ তাদের দৃঢ় বিশ্বাস, এতে যদি মৃত্যুও হয়, এর চেয়ে গৌরবের মৃত্যু আর নেই! আবার ওই নষ্টানুভূতির সুযোগ নিয়েই বহু কাপুরুষ, মহাপুরুষেও (সাধু-সন্ন্যাসী-দরবেশ-পীর…) পরিণত হচ্ছে। যদিও বর্তমানে মানব ইতিহাসের জঘন্য ও ভয়াবহতম এ অনুভূতি কাজে লাগিয়েই, বিরামহীনভাবে বহু দানবও সৃষ্টি করা হচ্ছে, যারা নিত্য-নতুন কায়দায় মানুষ খুন করে সৃষ্টিকর্তাদের নামেই জয়োল্লাস করছে। যেখানে একফোঁটাও মানবানুভূতি নেই, আছে শুধু ধর্ম-মাতালদের নিষ্ঠুরতম বর্বরতা, আর রক্তের হোলি খেলা। সেজন্যই এটাকে প্রচণ্ড আঘাত করার জন্য কবি রুদ্রদের আহ্বান করছেন। বলেছেন, “…যারা ওই শকুনির দলের নয়, আগুনের শিখা। যাদের কোনো জাত/ধর্ম নেই।” অতএব, ধর্মের প্রাণ ভ্রমরা ‘ধর্মানুভূতি’র ভূত তাড়ানো নয় বরং পুরোপুরি ধ্বংসের ওঝা/বদ্যি/চিকিৎসক… অত্যন্ত প্রয়োজন; নতুবা সাম্প্রদায়িকতা বন্ধ করা অলীক কল্পনা মাত্র।

তবে এদেশে এখন আর কোনে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয় না। কারণ সংখ্যালঘুরা এতোটাই দুর্বল ও মেরুদণ্ডহীন যে, কোনো সামান্য অত্যাচারেও তারা রুখে দাঁড়াতে পারে না। অর্থাৎ একপেশে অত্যাচার চলছে। যাহোক, এব্যাপারে টেলিভিশনে টকটকানি ব্যক্তিরা নানা অবান্তর প্রসঙ্গ টেনে আগডুম-বাগডুম বলছেন। কিন্তু কেউই আসল কথাটি (ধর্ম কিংবা ধর্মশিক্ষা সংশোধন) বলেন না। কেননা, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধানোর অন্য যে কোনো উদ্দেশ্যই থাকুক, প্রধান মশলা ধর্মানুভূতি না থাকলে- “মারো শালা যবনদের! মারো শালা কাফেরদের” বলতে না বলতেই (কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে) এতো বিশাল মাপের ধ্বংসযজ্ঞ কেউ ঘটাতে পারতো না। তাই বুদ্ধিজীবি, পেশাজীবিসহ টকটকানিকারিদের কাছে সবিনয় প্রশ্ন- সকল ধার্মিককে অন্য ধর্মের প্রতি প্রকৃতই শ্রদ্ধাশীল, নিরপেক্ষ, বৈষম্যহীন, সততা, ধৈর্য, সহিষ্ণু, সহানুভূতিশীল, উদার মনোভাবের… হতে শিক্ষা না দিয়ে, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের কথা বলা আর মিথ্যাচার করা, কী এক নয়? আবার এদের অনেকেই রাজনৈতিক দলবাজি করেন, অনেকেই একে ব্যক্তিগত শত্রুতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন… তবে যে যা-ই করুন ও বলুন, আমার মতে, ধর্মকে বাদ দিয়ে কোনো আইন-কানুন, আদেশ-নির্দেশ, পরামর্শ-উপদেশ… কোনোকিছুতেই এর সমাধান হবে না। ক্যান্সারে যেমন মলম দিলে সারে না, তেমনি ধর্মকে নিরাপদে ও হিমালয়ের উপরে রেখেও সাম্প্রদায়িকতার বিষমুক্ত দেশ/জাতি গড়াও সম্পূর্ণ অসম্ভব। অর্থাৎ ধর্মকে কড়া পাহারা দিয়ে পালন না করে একে কড়া শাসনে রাখা তথা সংশোধন ছাড়া সব ব্যবস্থাই নিষ্ফল ও অকার্যকর হতে বাধ্য। কারণ, ভদ্রতার খাতিরে ভদ্রলোকেরা যতোই অস্বীকার করুন, বাস্তবে ধর্মে-ধর্মে বিরোধিতা ঐতিহাসিক ও অলংঘনীয়। ঐতিহাসিক বাদ দিলাম, যা ধর্মীয়ভাবে অলংঘনীয় তা কীভাবে এড়াবেন? অতএব ভদ্রতা করে ধর্মকে সর্বশ্রেষ্ঠ না বলে, এর দোষগুলো খুঁজুন, বুঝুন এবং মিথ্যা বর্জন করে, যা সত্য তাই বলুন। কারণ, ধর্ম ‘সর্বশ্রেষ্ঠ’ কিংবা ‘মহাপবিত্র’ তো নয়-ই, বরং ‘ভালো’ কিংবা ‘শুচি’ বলারও যোগ্যতাও অনেক আগেই হারিয়েছে।

পুলিশের বিশেষ সংস্থা পিবিআই’র পরিসংখ্যা অনুসারে, তদন্ত ও ময়না প্রতিবেদনের ভুলে (মূলত ঘুষ বাণিজ্যের কারণে) যে দেশে শুধুমাত্র হত্যা মামলার ৫৩ শতাংশ মামলার আসামীরা খালাস পায় (প্রথম আলো, ২৫/১১/১৭)। সে দেশে অন্যান্য মামলাসহ সংখ্যালঘু নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার আশা করি কীভাবে? সুতরাং যতোটুকু বুঝি, পৃথিবীব্যাপী তথাকথিত ধর্ম অবমাননার ‘মিথ্যা অভিযোগই’ সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রধান ও সর্বশ্রেষ্ঠ হাতিয়ার হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে। পরিসংখ্যান না থাকলেও, এ অজুহাতের শতকরা ৯৫ ভাগই মিথ্যা বলে মনে করি; যা বাংলাদেশের বেলায় প্রায় শতভাগ। কারণ এদেশের সংখ্যালঘুদের ন্যায় শান্তশিষ্ট ও মৃতপ্রায় ধর্মের অনুসারী অন্য কোথাও কেউ পাবে বলে বিশ্বাস করি না। কেননা, সংখ্যাগুরুদের এক ধমকেই এদেশের সংখ্যালঘুরা হেগে-মুতে (পায়খানা-প্রস্রাব) কাপড় নষ্ট করে ফেলে। সুতরাং সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিচার বহু দূরের কথা, সংখ্যাগুরু শাসক ও তদন্তকারীদের অধীনে বারবার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত না হওয়া অপ্রত্যাশিত নয়। কারণ ঘুষ বাণিজ্য বাদ দিলেও, তারা সকলেই একই ধর্মানুভূতিসমপন্ন বলেই স্বধর্মীদের দোষ দেখে না বা ধরে না। ফলে এরূপ ধ্বংসযজ্ঞ কখনোই না কমে বরং ধারাবাহিক ও প্রত্যাশিতভাবেই বাড়ছে। প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে কী সংখ্যালঘুদের মধ্য থেকে তদন্তকারী এবং বিচারক নিয়োগ দিলে সঠিক তদন্ত ও বিচার হবে? না, হবে না। এতেও মহাবিতর্কের সৃষ্টি হবে এবং সংখ্যালঘু শ্রেণির কর্মকর্তারা বাধ্য হয়ে সংখ্যাগুরুদের অদৃশ্য চাপের কাছে মাথা নত করতে বাধ্য। যদিও সংখ্যাগুরু তদন্তকারীরা ঘুষ ও ধর্মের উর্দ্ধে উঠে, একটি সংখ্যালঘু নির্যাতনেরও সুবিচার করতো, তাহলে তাদের ধর্মই বেশি উপকৃত হতো। কিন্তু তারা ধর্মকে সুরক্ষিত রাখতে গিয়ে বারবার একইভাবে মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছেন, মূলত যা ধর্মের অন্যমত উপাদান। তাছাড়া দাঙ্গাকারীদের চি‎িহ্নত (যদিও চেনা) ও গ্রেফতার নির্ভর করে রাজনৈতিক পরিচয়সহ অর্থের পরিমাণের উপর। অর্থাৎ তদন্তের নামে হাজার হাজার কোটি টাকার জুয়া এবং কালক্ষেপণের মহড়া চলে। কেননা, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রতিটি সাম্প্রদায়িকতায় জড়িত থাকে স্থানীয় ধর্মজীবিসহ রাজনীতিবিদরা। এরা এতোটাই প্রভাবশালী যে, সরকার এদের ছাড়া চলতে পারে না। যদিও এরা অনেকেই লুটপাটে সারসারি অংশ নেয় না, কিন্তু কমবেশি সকলেই লাভবান হয়। যাদের বিরুদ্ধে মিন-মিন করা ছাড়া, জোরালো প্রশ্ন তোলার সাহস মৃতপ্রায় ধর্মগুলোর মানুষদের একেবারেই নেই। কেননা, তারা নিশ্চিতভাবেই জানে, কেউ তুললেও প্রথমেই শুরু হবে ছোটখাটো অত্যাচার, পরে গুম-খুন, স্ত্রী-কন্যা ধর্ষণ কিংবা ওপারে পাচার…। অথচ প্রকাশ্যে এসব রাজনীতিবিদ এবং ধর্মজীবিরা অতি ভদ্রলোক সেজে অত্যাচারিতদের পাশে দাঁড়ায়, দান-খয়রাত ও সাহস্তসান্ত্বনা দেয়; আর এরকম হবে না বলে জোরালো প্রতিশ্রুতির বাহাস ছোটায়। কিন্তু…??…??? কিন্তুই থেকে যায়! কখনোই রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার মতো সহানুভূতিশীল হয়ে বলে না, তোমরা চলে যেও না, “ভাত ভাগ করে খাবো”- এটাই সত্যিকারের ধর্মানুভূতি।

অতএব সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিচার চাওয়া দূরে থাক, অত্যাচারিত হয়েও তারা বলতে বাধ্য হচ্ছেন, কিছু হয়নি কিংবা কে করেছে দেখিনি…। গ্রামে-গঞ্জে প্রতিদিন ঘটে যাওয়া প্রচুর ছোটখাটে অত্যাচার-অপমানের বেলায় এরকম উদাহরণ ভুড়িভুড়ি। কারণ অভিযোগ উত্থাপন মানেই আরো বড়মাপের নির্যাতন, যা সংখ্যালঘুরা ভালো করেই জানে। কেবলমাত্র মারাত্মক অত্যাচার না ঘটলে, বেশিরভাগ নির্যাতনই গোপনে থাকে, কারণ সংখ্যালঘুদের এসব প্রকাশের বিন্দুমাত্র সাহসও আর অবশিষ্ট নেই। ফলে বড় বড় হোমড়াচোমরা রাজনীতিবিদ যখন ধ্বংসযজ্ঞ পরিদর্শন করেন, তখনও কোনো সংখ্যালঘু জোর গলায় বলতে পারে না, আমরা বারবার ধর্ষিত হতে চাই না, চাই না আপনার ত্রাণসামগ্রী, চাই না ঘরবাড়ি পুননির্মাণ… আমরা চাই নিরাপদে ও শান্তিতে থাকতে, চাই সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার…। কারণ সংখ্যালঘুরা ভালো করেই জানে, এসব চাইলে ওনাদের মানসম্মানে আঘাত করা হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হবে এবং গোপন প্রতিশোধ যে আরো বেশি নেমে আসবে না, সেকথাই-বা কে বলতে পারে! এজন্যই সংখ্যালঘু অত্যাচার ধারবাহিকভাবে ঘটলেও, একই বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু থাকায়, এর একটা দীর্ঘ তালিকা প্রশাসনসহ দেশের সর্বোচ্চ শাসক, বিচারক এবং বিশেষ করে আন্তর্জাতকি সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরতে সম্পূর্ণভাবে অক্ষম। কারণ তারা মৃতপ্রায় ধর্মানুভূতির মানুষ। বরং এসব চাইলে, প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে হুমকির পর হুমকি এবং স্ত্রী-কন্যার ইজ্জত বাঁচানোই যখন দায় হয়ে পড়ে। আর তখন মরিয়া হয়ে জায়গা-জমি বিক্রি করে দেশ ছাড়াতে বাধ্য হয়। তাছাড়া এসব ধর্মীয় দাঙ্গায় স্থানীয় ফকির থেকে লাটসাহেব পর্যন্ত সকলেই কমবেশি লাভবান হয়। এ লোভ অন্য কোনো দেশের ধার্মিকরা সামলাতে পারে কিনা জানা নেই, তবে অধিকাংশ বাঙালি ধার্মিকরা যে পারবে না, সেটা শপথ করে বলতে পারি। সেজন্যই হয়তো আগামীতে মৃত ধর্মগুলো সম্পর্কে বই পড়ে জানতে হবে এবং সংখ্যালঘু মানুষ ছবি দেখে চিনতে হবে। কেননা, ফলাফল একই- বিচার দূরে থাক, কোনো সুষ্ঠু তদন্তই হয় না।

প্রমাণস্বরূপ, টিটু রায় দোষী, কী নির্দোষ তাতে মাথা ব্যাথা নেই; তবে বারবার একই রঙের ও ঢংয়ের মিথ্যাচার নিয়ে অবশ্যই আছে। কারণ ধার্মিকরা ধর্মানুভূতির দাস না হলে, বারবার এসব করতো না বরং আইন-আদালতের জন্য ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতো। তা না হলে, তদন্তকারী সংস্থার বারবার একই লুকোচুরির কেনো? কেননা, সুষ্ঠু বিচারের প্রথম ও প্রধান শর্তই হলো- অভিযুক্তের উকিলের কথা শোনা। অন্যসব ঘটনার মতো, এখানেও বিসমিল্লায় গলদ। (দেখুন, ইত্তেফাক, ২২/১১/১৭): “টিটুর আইনজীবী জানান, …জামিন নেওয়ার জন্য ওকালতনামা নিয়ে আদালতের দরজায় সকাল ১১টা থেকে বিকেল পৌনে ৫টা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে ছিলাম। কিন্তু আমরা জামিনের আবেদন করতে পারিনি। আমাদেরকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। পুলিশের কেন এতো লুকোচুরি সেটা আমাদের বোধগম্য নয়। …আইনজীবী ছাড়াই টিটু রায়কে দুই দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।”

অথচ পুলিশ, প্রশাসন, এমনকি সর্বোচ্চ নিতীনির্ধারকদের বক্তব্য শুনলে মনে হয়, এরা যতোটা না ধর্মজঙ্গিদের বিরুদ্ধে কঠোর, তারচেয়ে বেশি কঠোর ধর্ম সমালোচকদের বিরুদ্ধে (যতো যৌক্তিকই হোক)। প্রশ্ন হলো- একদল মানুষ মেরে রাক্তের হোলি খেলে, প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে বুক ফুলিয়ে জানায়, মহোল্লাস করে…। আরেকদল লেখালেখি করে ধর্মের কুসংস্কারগুলো তুলে ধরে, কাউকে খুন কেনো, আঘাত করার হুমকিও দেয় না, অথচ ধর্মজঙ্গিরা বিধর্মীই শুধু নয়, স্বধর্মীদেরও প্রাণ কেড়ে নেয়। প্রশ্ন হলো- লেখক ও ঘাতক, দুই গোষ্ঠিকেই সমান শত্রু মনে করার কারণ কী? উত্তর- ধর্মানুভূতি।

যদিও মুষ্টিময়ে কিছু লোক আছেন, যারা কেবল বিশাল মাপের সংখ্যালঘু নির্যাতন হলে, দু’একদিন প্রতিবাদ করেন। অবশ্য মিনমিন করা ছাড়া, তাদের কিছুই করার নেই। কারণ এতে ধর্মানুভূতি জড়িত। সেহেতু সত্য বলার সৎসাহস কারো নেই। তাহলে যে ধর্মের বিপক্ষেই অবস্থান নেয়া হবে! ভুল হোক, ঠিক হোক, মিথ্যা কী সত্য, ধর্মের গন্ধ যেখানে, সেখানে জোরালো প্রতিবাদ করার সাহস এদেশের কেউ যে করবে না, তা কী এতো বড়বড় ধ্বংসযজ্ঞের পরেও প্রমাণিত নয়? এছাড়া, একইসঙ্গে ধর্মানুভূতিসম্পন্ন এবং ঘুষখোর তদন্তকারী দিয়ে সঠিক তদন্ত হয় কী করে? এমনকি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কোনো তদন্তকারী নিয়োগ করলেও হবে না, কারণ সেখানেও উৎকোচ কিংবা সংখ্যাগুরু এবং ক্ষমতাশালীদের অদৃশ্য চাপের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত হবে না। যে দেশের ৯০% এর অধিক মানুষ স্বার্থের নেশায় বেহুশ, যে দেশে দাপুটে রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়া সুবিচার আশা করা বৃথা, সে দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের সুবিচার আর বোকার স্বর্গে বাস করা একই কথা। বলতে চাইছি, সংখ্যালঘু নির্যাতনের সব ঘটনাতেই তদন্তকারীরা যেমন অর্থ পায় তেমনি (মিথ্যা হলেও) ধর্মের বিপক্ষে যাওয়ার ইচ্ছাও নেই। অতএব, যারা মায়াকান্না কাঁদেন আর যা-ই বলেন, করেন, লিখেন… সংখ্যালঘু নির্যাতন তখনই শেষ হবে, যখন এদেশে আর সংখ্যালঘু থাকবে না। যখন সংখ্যালঘু চিনতে জাদুঘরে যেতে হবে। গ্যারান্টি দিয়ে বলছি, অজস্র সংখ্যালঘু নির্যাতনের মধ্যে ৫%-এর সুবিচার হয়েছে, যদি প্রমাণ করতে পারেন, রাষ্ট্রের যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেবো। কারণ মনে রাখবেন, যারা বিচার সংশ্লিষ্ট কাজে জড়িত তারা শুধু ঘুষ ও রাজনৈতিক প্রভাবেরই দাস নয়, সবার আগে ধর্মানুভূতির দাস। আর মানুষ ধর্মানুভূতির দাস বলেই, ধর্ম সুরক্ষিত এবং রাজত্ব বজায় রাখতে সক্ষম।

অতএব, কেউ যখন বলেন, এটা অসাম্প্রদায়িক দেশ কিংবা ওটা অসাম্প্রদায়িক ধর্ম… তারা না জেনেই বলেন। যদি দেশটা সত্যিই অসাম্প্রদায়িক হতো, তাহলে একটি ধ্বংসযজ্ঞের রেশ কাটতে না কাটতেই আরেকটি ঘটতো না (ছোটখাটো অত্যাচার তো প্রতিক্ষণের)। সম্প্রতি ভারতের এক মৌলবাদি রাজিনীতিবিদ বলেছেন, ধর্ম কখনোই অসাম্প্রদায়িক নয়। আমার ধারণাও তাই; তা না হলে অন্য কোনো ধর্মের জন্ম হতো কিনা সন্দেহ। অর্থাৎ যতো ভুল-ভ্রান্তি, যতো মিথ্যার স্থূপের উপরই প্রথম ধর্মটির জন্ম হোক না কেনো (জানি না কোনটি প্রথম), পৃথিবীতে সম্ভবত ওই একটি ধর্মই থাকতো। কারণ বেশিরভাগ ধর্মই, প্রথম ধর্মটিকে ভুল, মিথ্যা, জঘন্য, ঘৃণ্য… ইত্যাদি প্রমাণের জন্য যারপর নাই খারাপ ভাষায় আক্রমণ, যুদ্ধ-দাঙ্গায় পরাস্ত করে, তাদের নিজ নিজ ধর্মের জন্ম দিতে পেরেছিলো।

যদিও এ নষ্টানুভূতি বোমা-বন্দুকের ভয় পায় না। তথাপিও মানুষের মন থেকে এ ধ্বংসাত্মক ও জিঘাংসাপূর্ণ অনুভূতি ধ্বংস করা অসম্ভব নয়। তবে আলোচনা কিংবা শক্তি প্রয়োগ করে একে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না (যা যুগযুগ ধরেই প্রমাণিত)। একমাত্র উপায় ধর্মশিক্ষায় হস্তক্ষেপ, বিশেষ করে শিশুকালের ধর্মশিক্ষায়। কিন্তু এতে হাত দেওয়ার সাহস ধর্মভীরু জাতি বা ধর্মরাষ্ট্রগুলোর নেই। অতএব অসাম্প্রদায়িকতার ফাঁকা বুলি আওড়ানো, আর গভীর রাতে (টলিভশনে) সস্তা টকটকানি ছাড়া এসব দেশের কারোই যেন কিছু করার নেই। অতএব প্রশ্ন, ধর্মানুভূতির সংজ্ঞা নির্ণয়, সীমানির্ধারণ, আইনের সমান প্রয়োগ… নিশ্চিত না করে, কীভাবে একটি দেশকে অসাম্প্রদায়িক বলছেন? কারণ সর্বত্রই দেখা যাচ্ছে, এক ধর্মের কথিত ধর্মানুভূতি, অন্য ধর্মের মরণফাঁদ। সেহেতু বহু দেশেই সংখ্যাগুরুদের প্রকাশ্যেই অন্য ধর্মকে আঘাত করে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। অথচ নিজের ধর্মকে কেউ সামান্য নাড়া দিলেই (স্বধর্মী কিংবা বিধর্মী), অনুভূতি ৩৬০ ডিগ্রি খাড়া হয়ে ভূমিকম্প শুরু হয়…! অথচ মূর্তি দেখলেই কারো অনুভূতি নষ্ট হয়, কারো মূর্তি ভাঙ্গলেও প্রতিবাদের উপায় নেই। এর কারণ ধর্মানুভূতির মান-সম্মান নেই, নেই হিতাহিত জ্ঞান, নেই সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের ফুসরত কিংবা প্রয়োজন…। আছে শুধু গর্ব, অহংকার, ঘৃণা, বহুল কথিত শ্রেষ্ঠত্বের অহমিকা…। রবীন্দ্রনাথ যেমন বলেছেন, “…সম্প্রদায় আপন মতকেই বলে ধর্ম, আর ধর্মকেই করে আঘাত। তার পরে যে বিবাদ, যে নির্দয়তা, যে বুদ্ধিবিচারহীন অন্ধসংস্কারের প্রবর্তন হয় মানুষের জীবনে আর-কোনো বিভাগে তার তুলনাই পাওয়া যায় না।”

তাছাড়া, ধর্মানুভূতির অন্যতম বৈশিষ্ট্যই হলো- সত্য/মিথ্যা যাহোক, সংখ্যাগুরুদের পক্ষেই থাকা। এজন্যই তারা ধমানুভূতির উছিলায় উম্মাদ হয়ে যেভাবে ঝাপিয়ে পড়ে, তা সামাল দেয়া সংখ্যালঘুরা তো নয়-ই, রাষ্ট্রের পক্ষেও সম্ভব নয় (প্রমাণের অভাব নেই)। এরা নিজেদের নষ্টানুভূতি নিয়ে এতো বেশি উম্মাদনা এবং অন্ধবিশ্বাসে আক্রান্ত যে, অন্য সম্প্রদায়েরও যে একই অনুভূতি থাকতে পারে, অস্বীকার করে। কারণ ভেতরের পশুপ্রবৃত্তি তাকে মানুষ হিসেবে কথা বলতে ও ভাবতে দেয় না, ধর্মানুভূতি দাস হিসেবে বলায় ও ভাবায়। উদাহরণস্বরূপ, রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ এবং রামু-উখিয়া-নাসিরনগর-সাঁথিয়া-গঙ্গাচড়াসহ অতি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি সাঁওতাল নিধনই কী যথেষ্ট প্রমাণ নয়? যেখানে পুলিশ হতদরিদ্রদের ঘরবাড়িতে আগুন দিলেও রাষ্ট্র নিরব প্রায়। এব্যাপারে রাজনৈতিক বক্তব্যগুলোও লক্ষ্যণীয়। এসব স্বার্থানেষীরা সংখ্যালঘু নির্যাতন থেকে লাভবান হয় বলেই, এসব না থেমে বরং বাড়ে। তাছাড়া এরা কেউই স্বীকার করে না যে, ধর্মগুলোর মধ্যেই এর বিষ রয়েছে, অতএব দাঙ্গাকারীদের সাথে সাথে ধর্মকেও বিচারের আওতায় আনা উচিত। সুতরাং কর্তাব্যক্তিরা সত্যকথা না বলে, যতোদিন সত্যকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করবে, কথায়-কথায় ধর্মানুভূতি আঘাপ্রাপ্ত হতেই থাকবে। কারণ, আইন সর্বধর্মের বেলায় সমান প্রয়োগ হয় না বলেই ধর্মজীবিরা জেলের বাইরে এবং গলা চড়িয়ে যা খুশি প্রচার করছে (দেখুন ইউটিউবে)।

যাহোক, তথাকথিত অতিমাত্রায় ঠুনকো অথচ মারাত্মক এ অনুভূতি আঘাতপ্রাপ্ত হবে আর ধার্মিকরা বসে আঙুল চুষবে, এ আশা বাতুলতা মাত্র। কারণ ধর্মের প্রাণই যদি না থাকে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে ধর্ম থাকা অর্থহীন। তাই তো অনুভূতিতে সামান্য একটু নাড়া পড়লেই ধার্মিকদের প্রাণ ওষ্ঠাগত এবং যারপর নাই উগ্র ও উম্মাদ হয়ে প্রাণ রক্ষায় দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়ে। এ অনুভূতি সর্বত্রই এক হলেও সুশিক্ষায় শিক্ষিত ও কঠোর আইন প্রয়োগের দেশগুলোতে প্রকাশ্যে তেমন একটা দেখা যায় না। দেশভেদেও এর উম্মাদনা, মাত্রা ও প্রয়োগ ভিন্ন ভিন্ন হয়। যেমন বার্মায় এক ধর্মের অনুভূতি প্রবল, ভারতে অন্যটা, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে আরেকটা…। আবার কোনোটার নৃশংসতা নিজ দেশেই সীমাবদ্ধ; কোনোটা বিশ্বজুড়ে। তবে সবগুলোরই বিশ্বজুড়ে পরোক্ষ সমর্থক প্রচুর (সাধারণ/মডারেট ধার্মিক)। আর যেখানে এ চরমানুভূতিসম্পন্নরা সংখ্যাগুরু সেখানে অন্য ধর্মের মানুষেরা নীরিহ প্রাণীর ন্যায় মূক ও বধির হয়ে অতিমাত্রায় সতর্ক থাকতে বাধ্য। তারপরও নানা ছলেছুতায় তাদের উপর অত্যাচার নেমে আসার উদাহরণও বহু। আবার এক দেশের নিরীহ ধর্মানুসারীরা যখন অন্য দেশে সংখ্যাগুরু, তাদের দাপট দেখে কে! কারণ এ অনুভূতির প্রকৃত রূপই হলো- সংখ্যালঘুর এ অনুভূতি থাকাতে পারবে না, কেবল সংখ্যাগুরুদেরই থাকবে! অতএব, উছিলা তোলো, সবকিছু লুটে-পুটে খাও, জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দাও…। তাই মানবতার এ ভয়ংকর শত্রুর বিচার করার সাহস কারো নেই। বরং সকলেই এটাকে প্রশ্রয় দিয়ে, ঠাণ্ডা রাখার ব্যর্থ চেষ্টায় ব্যস্ত। পুরো পৃথিবীতেই যা নিতান্তই নির্বোধের কাজ বলে এযাবৎ প্রমাণিত। জানি না, উচ্চশিক্ষিত (স্বশিক্ষিত কিংবা সুশিক্ষিত নয়) বুদ্ধিজীবিসহ যারা ধর্মে পিএইচডি তারাও কেনো এর ভুলভ্রান্তি, উম্মত্ততা, পশুপ্রবৃত্তি তথা সাম্প্রদায়িকতার কারণ খুঁজে পায় না? যা অবিশ্বাস্য ও মিথ্যার সমাহার বলেই মনে করছি এবং স্বার্থ ত্যাগ করে বৃহত্তর মানবতার মুক্তির জন্যই, তাদেরকে সত্য প্রকাশের উদ্বাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

কথায় আছে, মানুষ যা খায় তারই ঢেকুর তোলে, বদহজম হলে তা-ই বমি করে। রামু-উখিয়া-সাঁইথিয়া থেকে গঙ্গাচড়া… সংখ্যালঘু নিপীড়নের উছিলাগুলো যে একই উদগীরণ, এতে কী সন্দেহ আছে? সেজন্যই মনে করছি, ধারাবাহিক সংখ্যালঘু নির্যাতনের কমপক্ষে ৯৫ ভাগ অজুহাতই মিথ্যা-বানোয়াট, সৃজিত, কল্পিত এবং ধর্মানুভূতির জঘন্য স্বার্থপরতার বর্হিপ্রকাশ। প্রশ্ন হলো- ধার্মিকরা বারবার একই অপরাধ করছে কেনো? এ সাহসই বা তারা কোথায় পায়? কই, অধার্মিকরা তো এহেন নিকৃষ্টতম একটা ঘটনার সাথেও জড়িত নয়। তাহলে, ধর্মানুভূতির এতো অহমিকা, এতো দাপট কেনো? কারণ শিশুকালে মানুষ যা শিখে ইহজীবনেও ভোলে না। এছাড়াও এ শিক্ষা যাতে ভুলে না যায় সেজন্য বারবার, প্রতিদিন, প্রতিক্ষণেই… স্মরণ করিয়ে দেয়ার মতো ধর্মজীবি, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, পাড়াপ্রতিবেশী থেকে মুচি-চামার, চা-দোকানী… সর্বত্রই সজাগ ও সচেষ্ট! তাই শিশুকালের শোনা ও শেখা একই গান, একই সুর, একই কাহিনী, একই অভ্যেসে… চির অভ্যস্ত হয়ে, তা বাজাতে বাজাতে ও গাইতে গাইতেই মানুষ জীবন পার করে দেয়। এর বাইরে যাওয়ার ইচ্ছা বা চেষ্টা কোনোটাই আর থাকে না। অতি সামান্য করো থাকলেও, সমাজ, রাষ্ট্র, পরিবারের… প্রচণ্ড ভয়ংকর চোখ রাঙানি এবং খুন হওয়ার ঐশ্বরিক হুকুম উপেক্ষা করে, কোনো উপায়ই থাকে না। ফলে ধর্মব্যবসায়ীরা যা শেখায় তাতে বিভ্রান্তি থাকলেও প্রশ্ন করার সাহস যেমন থাকে না, আনাড়ি দু’একজন প্রশ্ন করলেও, তাকে হত্যা কিংবা নির্যাতনের নির্দেশ এবং সমর্থন দেয়ার ধার্মিকেরও অভাব হয় না। এসবই ঐতিহাসিক বাস্তবতা ও প্রকৃত শিক্ষা এবং ধর্মানুভূতির চরম উম্মানদনার ফসল।

তাছাড়া, আমাদের রাজনীতিবিদসহ পৃথিবীর বহু রাজনীতিবিদদের ধর্ম জ্ঞানের প্রশংসা না করে পারছি না। যেমন, অতিসম্প্রতি আসামের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বললো- “ক্যান্সার হচ্ছে পূর্বজন্ম কিংবা মা-বাবার পাপের ফসল। …মা-বাবার অপরাধ…। গীতা, বাইবেলেও বলা আছে…।” এমন বক্তব্য নতুন নয়, বহু রাজনীতিবিদের এরূপ বক্তব্য প্রায়ই শোনা যায়। ধর্ম-মাতালদের আগল-পাগল বক্তব্য না-ই ধরলাম। প্রশ্ন হলো- এমন ধার্মিক রাজনীতিবদরা আর যা-ই করুক ধর্মের/ধর্মানুভূতির বিপক্ষে গিয়ে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিচার যে করবে না, তা বুঝতে খুব বেশি জ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন আছে কী? অথচ পৃথিবীব্যাপী এসব রাজনীতিবিদরা আমাদের ভোটেই নির্বাচিত হয় (যদিও অনেকে ভোট না দিলেও হয়)।

অনেকেই শান্তি, সমপ্রীতি ইত্যাদির কথা বলেন। তবে জানি না, ধৈর্য-সহ্য, বিধর্মীদের প্রতি সম্মান/শ্রদ্ধাবোধ… বিশেষ করে স্বার্থ ত্যাগ ছাড়া শান্তি রক্ষা কিংবা সমপ্রীতি বজায় থাকে কীভাবে? কেউ কী কখনো, ধর্মীয় শিক্ষায় বিধর্মীদের প্রতি সামান্য ভালোবাসার শিক্ষা দিতে শুনেছেন? শুনেছে কী কোনো ধার্মজীবি ধর্মীয় ব্যাখ্যার সময় বলছে- ওমুক ধর্ম ভালো, ওমুক সম্প্রদায় ভালো, তাদের ভালোবাসতে হবে, শ্রদ্ধা-ভক্তি করতে হবে… (খুব ভালো, বেশি ভালো, শ্রেষ্ঠ… এসব তো বহুদূরে)। ধর্মে-ধর্মেই নয়, শুধুমাত্র একই ধর্মের বিভিন্ন গোষ্ঠিগুলোর মধ্যেও এরূপ প্রচার কেউ শুনে থাকলে, প্রমাণ দিন। শান্তি ও সমপ্রীতি চাইলে অবশ্যই অশান্তিরত দুই বা ততোধিক পক্ষের কাউকে না কাউকে কিছু না কিছু স্বার্থ ত্যাগ করতেই হবে। অথচ মনে হচ্ছে, ধর্মানুভূতির জন্যই মানুষ সবচাইতে বেশি প্রতিহিংসাপরায়ণ, স্বার্থপর, বিশেষ করে উম্মাদ হয় কিন্তু শান্তি ও সমপ্রীতি রক্ষার জন্য নয়। ওসব কেবলই লোকদেখানো।

সুতরাং ধর্মগ্রনে’ যেসব ভুল ও নোংরা কথা/ভাষা/শব্দ আছে, ধর্মজীবিরা যেভাবে ধর্মপ্রচার করছেন এবং ধর্মের জন্মদাতারা যতোদিন পর্যন্ত এসব স্বীকার না করেব, সংশোধনের আদেশ না দেবে… ততোদিন পর্যন্ত ধর্মানুভূতির পারদ চড়তে চড়তে হিমালয়ের উচ্চতাকেও ছাড়িয়ে যাবে, নিচে নামবেই না। কেননা, ধর্মে সে অপশন সৃষ্টিকর্তারা রাখেনি। পূর্বেও বলেছি, ধর্ম রক্ষার প্রধান হাতিয়ারই হলো- “ধর্মানুভূতি।” এটা ঐতিহাসিক ও ধর্মীয়ভাবে স্বীকৃত, যার অজস্র প্রমাণের মধ্যে মায়ানমারের রোহিঙ্গা নিধনসহ আমাদের দেশের চলমান সংখ্যালঘু নিধন। আর এ অনুভূতির দাপটেই রাষ্ট্রগুলোও মেকুড় হয়ে থাকে!!!

যাহোক, অনেকেই হয়তো বলবেন, ধর্মের পেছনে লাগছো কেনো বাপু? তারেদকে সবিনয় প্রশ্ন- কেনো লাঠিসোটা, অস্ত্রশস্ত্র, ২৪ ঘণ্টাই পাহারা দিয়ে ধর্ম পালন করতে হচ্ছে? যা কথিত মহাপবিত্র ও সর্বশ্রেষ্ঠ তা-ই পাহারা দিয়ে রক্ষা/পালন করা কী লজ্জার না গৌরবের? ধার্মিকরা কেনো ছলেছুতায় বারবার মানবতাবিরোধি ধ্বংসযজ্ঞে লিপ্ত হচ্ছে? কেনো কথিত ধর্মানুভূতির দোহাই দিয়ে দেশত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে? কেনো ধর্মের শ্লোগানে/ডাকেই জ্বালাওপোড়াসহ লুটপাট, হত্যা, ধর্ষণ… অবিরামভাবে চলছে? কেনো বিশ্ব দখল করে স্বধর্মের পতাকা উড়ানোর জন্য ধর্মজঙ্গি সৃষ্টি করা হচ্ছে? এসব কী করে শান্তি ও সমপ্রীতির নমুনা হলো? সুতরাং যতোদিন এরূপ একটি ঘটনাও ঘটবে, ততোদিন ধর্মের সমালোচনাও চলবে।

[752 বার পঠিত]