হলি আর্টিজানের হত্যাকান্ডের পর বাংলাদেশে পিস টিভি নিষিদ্ধ করা হয়। পিস টিভি মূলত জাকির নায়েক পরিচালিত চ্যানেল এবং এটার মূল কনটেন্টই হচ্ছে জাকির নায়েকের সেমিনার স্পিচ। হলি আর্টিজানে হামলাকারী অন্তত একজনের ফেসবুক প্রোফাইলে দেখা গেছে সে জাকির নায়েকের ফলোয়ার। এরই জের ধরে শেষমেশ বাংলাদেশ সরকার পিস টিভি বন্ধ করার মত সাহস অর্জন করেতে পেরেছিল। আমি খুবই নিশ্চিত যে অন্য যেকোন সময় এই কাজ করতে গেলে সরকারকে অনেক বেগ পেতে হত। হলি আর্টিজানের ঘটনার পর একের পর এক ব্লগার ও সংখ্যালঘুদেরকে মেরে ফেলার পরও নির্বাক ও অবিচলিত থাকা সংখ্যাগুরু ধর্মভীরু মানুষরা সর্বপ্রথম ভীত সন্ত্রস্ত হয়, কারণ এই প্রথম তারা উপলব্ধি করে যে মুসলিম জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো শুধু ব্লগার কুপিয়ে প্রজেক্ট শেষ করবে না, এরপর তারা হিপোক্রেট বাঙ্গালি মুসলমানদের উপরও হামলা চালাবে। ফলে প্রথমবারের মত সংখ্যাগুরু মহলে এক ধরনের ভীতির সঞ্চার হয় এবং নিজেদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাওয়ায় তারা সরকারের কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত যেগুলো অন্যসময় করলে তাদের কোমল ধর্মানুভুতি আহত-নিহত হত সেগুলো নীরবে মেনে নেয় অথবা প্রতিবাদ করা থেকে বিরত থাকে। তার মধ্যে একটি পদক্ষেপ হল পিস টিভি নিষিদ্ধ করা।

আইসিস খুব খারাপ, বলেছেন জাকির নায়েকঃ তার মানে উনি জঙ্গিবাদের ইসলামের বিপক্ষে (প্রমাণিত)

পিস টিভি বন্ধের সময় অনেকেই মানুষকে উস্কানি দেয়ার চেষ্টা করেছিল, ফেসবুকে অনেক স্কলাররা শেষমেশ মানুষকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করে আখেরে সুবিধা করতে পারেনি কারণ হিপোক্রেট বাঙ্গালিরা সেসময় তাদের সাথেই হিপোক্রেসি করে ‘চাচা আপন প্রাণ বাঁচা’ নীতিতে ব্যস্ত ছিল। তো সেই সব স্কলার ব্যক্তিবর্গ ও কতিপয় মডারেট সেসময় বারবার বুঝানোর চেষ্টা করেছিল যে জঙ্গি হামলার সাথে জাকির নায়েকের নাম জড়ানো পশ্চিমা বিশ্ব ও নাস্তিক ব্লগারদের ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছু নয়। এর পক্ষে তারা জাকির নায়েকের একটি বক্তব্য প্রচার করেছিল যেখানে দেখা যায় নায়েক সাহেব অত্যন্ত কড়া ভাষায় আইসিসকে বকে দিচ্ছেন (এখানে)

এই ভিডিওতে আইসিসকে এন্টি ইসলামিক বলছেন জাকির নায়েক। যেহেতু হলি আর্টিজানের ঘটনাসহ সাম্প্রতিক সময়ে র‍্যাডিকাল ইসলামের সাথে সম্পর্কযুক্ত হামলাগুলোতে আইসিসের নামই বেশি শোনা যায় এবং নায়েক সাহেব যেহেতু এই আইসিসকে এন্টি ইসলামিক বলেছেন, সেহেতু তিনি জংগি কার্যক্রমের বিরুদ্ধে এইটা প্রমাণ হয়ে যায়-এমন বক্তব্যই দেবার চেষ্টা করা হয়েছিল সেসময়। এখন আইসিসের বিরোধিতা করা আর র‍্যাডিকালের ইসলামের বিরোধিতা করা কিন্তু এক জিনিস নয়। মনে রাখতে হবে যে মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামী জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর মধ্যেও কিন্তু অনেক রেষারেষি আছে, এবং প্রায়শই আমরা কিন্তু দেখি এক গোষ্ঠী অন্য আরেক গোষ্ঠীকে অমুসলমান ঘোষণা করে ফতোয়া দিচ্ছে। একই ধর্মগ্রন্থ কোরআন অনুসরণকারী মুসলমানরা শত শত সেক্টে বিভক্ত এবং এক এক সেক্ট নিজেদের ছাড়া বাকি সবাইকে অমুসলিম আখ্যা দেয়। এই বিভাজন ইসলামের সেই তথাকথিত স্বর্ণযুগ থেকেই হয়ে আসছে। মুহাম্মদের মৃত্যুর পর খারিজিদের উত্থান, খলিফা পদ নিয়ে রেষারেষি, গুপ্তহত্যা এগুলো শুরু থেকেই ইসলামের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। শুধু শিয়া-সুন্নি রেষারেষিতে যত মানুষ মারা গেছে তা বলে শেষ করে যাবে না। কাজেই আইসিসকে কনডেম করা মানে কিন্তু এই না সকল মুসলিম জংগিগোষ্ঠীকে কনডেম করা। আর তারই প্রমাণ পাওয়া যায় যখন জাকির নায়েককে আল কায়েদা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। আইসিসকে যেমন তিনি সরাসরি এন্টি ইসলামিক বলতে পারলেন, আল কায়দাকে কিন্তু তিনি সরাসরি কনডেম করলেন না, বরং ইনিয়ে বিনিয়ে কায়দা করে প্রশ্নটিকে অন্যদিকে ডাইভার্ট করলেন। (এখানে)

এই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে আল কায়দা সম্পর্কে উনার বক্তব্য অনেক ঝাপসা, বস্তুত উনি আল কায়দাকে কনডেম করা থেকে বিরত ছিলেন। উনি বললেন যে উনি ব্যক্তিগতভাবে আল কায়দার কোন সদস্যের সাথে কথা বলেন নি, কাজেই তার পক্ষে জানা সম্ভব না তারা আসলে দ্বীনের পথে আছে কি না আছে। ‘যদি’ তারা ইসলামের পথে থাকে তাহলে তাদের জন্য দোয়া করতে সমস্যা নেই। তিনি আরও বলেন যে পশ্চিমা মিডিয়া নানা সময়ের মুসলমানদের সম্পর্কে ভুল ও ষড়যন্ত্রমূলক খবর ছাপায়, কাজেই সেসব পত্র পত্রিকা পড়ে কেউ যেন আল কায়দা সম্পর্কে ধারণা গ্রহণ না করে। অর্থাৎ তিনি আইসিসের বেলায় যেমন সরাসরি বলে দিলেন যে তারা এন্টি ইসলামিক, আল কায়দের ব্যাপারে সেটা তো বললেনই না, বরং তার ফলোয়ারদের কানে বিষ ঢুকিয়ে দিলেন যে এগুলো পশ্চিমা মিডিয়ার ষড়যন্ত্রও হতে পারে! কেন? এ কথা বলার কারণ কি? ৯/১১ এর হামলার দায় তো আল কায়দা আনুষ্ঠানিকভাবেই স্বীকার করেছিল! সেক্ষেত্র আল কায়দা ভাল না মন্দ সেটা নিয়ে তার কনফিউশনের কারণ কি? উনি বললেন উনি আল কায়দার কারও সাথে সাক্ষাৎ করেন নি, কাজেই উনার পক্ষে বলা সম্ভব না তারা ভাল না মন্দ, উনি কি আইসিসের কারও সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন? সেরকম তো কিছু বললেন না, সেক্ষেত্রে আসিসিসের বেলায় কিভাবে ১০০% নিশ্চিত হলেন যে এরা এন্টি ইসলামিক? ২য়ত, উনি আল কায়দার বেলায় বললেন পত্র পত্রিকার খবর বিশ্বাস না করতে, আইসিসের বেলায় তাহলে কেন সেটা খাটবে না? এক্ষেত্রে কেন তিনি পশ্চিমা মিডিয়ার খবর মেনে নিচ্ছেন?
উপরন্তু নিচের ভিডিওটি খেয়াল করুনঃ

এখানে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল উসামা বিন লাদেন সম্পর্কে। সেখানে উনি সরাসরি বললেন যদি উসামা বিন লাদেন ইসলাম রক্ষার উদ্দেশ্যে কার্যক্রম চালায় তাহলে উনি সেটা সমর্থন করেন। ৯/১১ এ হাজার হাজার নীরিহ মানুষ নিহত হয়েছিল এবং উসামা বিন লাদেন আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার দায় স্বীকার করেছিল, এরপর জাকির নায়েকের বক্তব্য ছিল এই কাজ যদি সে কাফেরদের দমন করার জন্য করে থাকে তাহলে তিনি তাকে সমর্থন করেন! তার মানে জাকির নায়েকের সাথে আর দশটা ইসলামী জংগীর কোন পার্থক্য থাকলো কই? জিহাদ করে মানুষ হত্যা করে ইসলাম প্রতিষ্ঠাকে সে সমর্থন করে-এটা সে নিজেই স্বীকার করে নিয়েছে। সেখানে আইসিসের সমালোচনা করা এটা প্রমাণ করে না যে সে র‍্যাডিকাল ইসলামের বিপক্ষে, এটা প্রমান করে করে যে আইসিস তার মতাদর্শের সাথে যায় না, এইজন্য তারা তার কাছে অমুসলিম, এন্টি ইসলামিক। এটা মুসলমানদের ভেতরে চলে আসা Intra-religious squabble ছাড়া আর কিছু না। নায়েক সাহেব নিজেও আইসিসেরই আরেক পিঠ, স্টেপ ব্রাদার, যারা একে অপরকে দেখতে পারে না। এর সাথে বোমাবাজি, জংগীবাদকে সমর্থন করা না করার কোন সমর্থন নাই।

এবারে আলোচনার ২য় ভাগে প্রবেশ করি। তার অধিকাংশ বক্তব্যই ভুলে ভরা। বিশেষ করে বিবর্তন সংক্রান্ত বক্তব্যে ৫ মিনিটে ২৫ টি ভুল নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। আমি এই বিষয়গুলোতে যাবো না। আমি তার ভিন্ন কিছু বক্তব্য নিয়ে আলোচনা করব যেগুলো মানুষের মধ্যে স্লো পয়জনিং করে কার্যত অসহনশীলতার দিকে নিয়ে যায় এবং জঙ্গিবাদকে উৎসাহিত করে।

জাকির নায়েকের বক্তব্যের ইনহেরেন্ট সমস্যাটি আসলে যুগ-যুগান্তর ধরে ইসলাম ধর্ম প্রচারের ক্ষেত্রে চলে আসা একটি সাধারণ সমস্যা, নায়েক সাহেব শুধু সেটাকে আরও শক্তভাবে আপহোল্ড করছেন আর কি। সেটা হচ্ছে, ইসলামের মহিমা তুলে ধরার জন্য অবধারিতভাবে অন্য ধর্ম সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করা। তাকে যদি প্রশ্ন করা হয় ইসলামে নারী অধিকার সম্পর্কে, তিনি শুরুই করেন অন্য কোন ধর্মে নারীদেরকে কতভাবে অবদমিত করা হয়েছে, এভাবে অন্য ধর্ম সম্পর্কে বিষোদগার করে তবেই তিনি ইসলাম ধর্ম বিষয়ে প্রবেশ করেন। আপনি যদি যেকোন সাধারণ আলোচনায় অন্য ধর্ম সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করতে থাকেন তাহলে যারা এই বক্তব্য শুনছে তাদের মধ্যে খুব স্বাভাবিকভাবেই সুপারিয়রিটি কমপ্লেক্স তৈরি হয় এবং অন্য ধর্মের মানুষকে নিচু চোখে দেখার প্রবণটা তৈরি হয়। আর নিজেকে শুধু ধর্মের কারণে সুপিরিয়র ভাবা এবং অন্য ধর্মের মানুষকে ছোট ভাবা- ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার উত্থান আসলে এখান থেকেই হয়।
আজকে এরকম দুইটি বক্তব্য নিয়ে আলোচনা করব। প্রথমটি শুনুন এখানে

এই ভিডিওতে মুসলমান পুরুষদের ৪ বিবাহ করার অধিকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল জাকির নায়েককে। এবং জাকির নায়েক সাহেব তার উত্তর শুরুই করলেন ‘only in Quran, Only in Islam, not other any religion’ এই মুখস্থ বান্ধা শব্দগুচ্ছ দিয়ে। রামের একাধিক স্ত্রী ছিল, শ্রীকৃষ্ণের প্রায় ১৬০০০ গোপিনী ছিল এই তথ্য দিয়ে তিনি পালটা প্রশ্ন করলেন তাহলে একজন মুসলমান কেন ৪ স্ত্রী রাখতে পারবেন না। শ্রীকৃষ্ণর ১৬০০০ স্ত্রী ছিল এইটা কিন্তু একজন মুসলমানের ৪ স্ত্রী রাখাকে জাস্টিফাই করে না, এটা কোন যুক্তিই না। আর জাকির নায়েক যেখানে দাবিই করছে ইসলাম শ্রেষ্ঠ ধর্ম সেখানে অন্য ধর্মের সাথে তুলনা দিয়ে কেন তাকে এই শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে হবে? তার কাছে তো ৪ স্ত্রী রাখার জাস্টিফিকেশন চাওয়া হয়েছিল, আরেকজনের ৫ স্ত্রী ছিল তাই আমি ৪ স্ত্রী রাখতে পারবো না এইটা কেমন ধরণের উত্তর হল? এর মাধ্যমে তিনি তো প্রশ্নের উত্তর দিলেনই না বরং অন্য ধর্ম নিয়ে হাসাহাসি করে উত্তরটা এড়িয়ে গেলেন। এই ধরণের বক্তব্য যখন বারবার মানুষের মাঝে প্রচার করা হয় তখন খুব স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মধ্যে অন্য ধর্মকে অবমাননা করা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। অথচ অন্য ধর্মের মানুষ ইসলামের সমালোচনা করলে তারা সেটাকে গ্রহণ করতে তো পারেই না, ধর্মানুভুতির অজুহাত দেখিয়ে মুখ বন্ধ করে দেয়ার চেষ্টা করে।

আজকের আলোচনা শেষ করবো আর একটি ভিডিও দিয়ে। পৃথিবীর মোটামুটি সব দেশেই ইসলাম সহ অন্য ধর্ম প্রচার করার অধিকার আছে, সকল ধর্মের উপসনালয় প্রতিষ্ঠার অধিকার আছে, একমাত্র ইসলামিক দেশগুলোতেই ইসলাম বাদে অন্য ধর্মের প্রচার নিষিদ্ধ। আইন করে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা আছে। এটা খুবই স্বাভাবিক প্রশ্ন যে অন্য দেশে মুসলমানরা যদি ইসলাম প্রচার করতে পারে তাহলে নিজের দেশে কেন তারা অন্য ধর্মের প্রচার আইন করে নিষিদ্ধ করে রেখেছে! এই বিষয়ে জাকির নায়েককে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন

এখানে সে একটা স্কুল শিক্ষক নিয়োগের উদাহরণ দেখিয়েছে। বলেছে, যে শিক্ষক ২+২ এর সঠিক উত্তর দিতে পারবে না তাকে তো সে নিয়োগ দেবে না। একই ভাবে সে যেহেতু জানে যে অন্য ধর্ম ভুল তাহলে কেন সেটা সে ইসলামিক দেশের প্রচার করতে দেবে! আর আমেরিকায় কেন ইসলাম ধর্ম প্রচারে বাধা দেয়ে না, কারণ আমেরিকার লোকজন এখন কোনটা সঠিক জানে না, এইজন্য তারা অন্য ধর্মের প্রচারে বাধা দেয় না। এর চেয়ে হাস্যকর আর ফ্যাসিস্ট কথা আর হতে পারে না। প্রথমত, অন্য দেশগুলো যে ইসলামসহ অন্য ধর্ম প্রচারে বাধা দিচ্ছে না এটাকে সে কোন ধরণের উদারতা বলেই গ্রহণ করল না, উলটা তাদেরকে কঠাক্ষ করল এই বলে যে তারা এখনও সঠিক ধর্ম খুঁজে পায়নি, আর যেহেতু সৌদি আরবের মত দেশ জানে ইসলাম বাদে বাকি সব ধর্ম ভুয়া তাই তারা অন্য ধর্ম প্রচার করতে দেয় না (এরপরও আমাদের ভাই ব্রাদারও আমেরিকাতেই কেন যায়, সৌদি আরবে কেন যায় না এই প্রশ্ন করলে তো গাইল খাইতে হয়!)। এই বক্তব্য যখন কোন মানুষ শুনবে তার মধ্যে পরধর্ম সহিষ্ণুতা তো আসবেই না বরং নিজের দেশে (এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশ) কিভাবে অন্য ধর্মের মানুষকে ধর্মাচরণ বাধাগ্রস্ত করা যায় এবং এইটাই যে সঠিক পন্থা এই বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত হবে। জাকির নায়েকের বক্তব্য এভাবেই মানুষকে অসহিষ্ণু ও অন্য ধর্ম সম্পর্কে অশ্রদ্ধাশীল করে তোলে, আর জঙ্গিবাদের বিস্তারে এই অসহিষ্ণুতাবোধই মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।

জাকির নায়েক সহ অন্যান্য তথাকথিত মুসলিম স্কলারের এধরণের বক্তব্য নিজের ধর্ম সম্পর্কে মানুষকে এতোই অন্ধ করে ফেলে যে তারা ধর্মের সমালোচনা করার জন্য কাউকে কুপিয়ে মারা হলে সেই হত্যাকান্ডের সমালোচনা করতেও তারা কুন্ঠাবোধ করে, বরং ইনিয়ে বিনিয়ে সেই হত্যাকান্ডকে সমর্থন করে। কারণ তাদের কাছে শুধু তাদের ধর্মই সঠিক ধর্ম, বাকিসব ভুয়া, এবং তাদের অধিকার আছে অন্য ধর্মকে ভুয়া বলার কিন্তু অন্য কারও অধিকার নাই তাদের ধর্মের সমালোচনা করার।
(চলবে)

[2106 বার পঠিত]

এই লেখাটি শেয়ার করুন:
0