কোলকাতার হিন্দু বাঙালীর কুয়োর জগৎ

By |2016-08-28T08:05:04+00:00আগস্ট 28, 2016|Categories: বাংলাদেশ, ভারত|27 Comments

১)
এমনিতেই অপ্রিয় সত্যকথনের অধিকথায় স্যোশাল মিডিয়াতে আমি ব্রাত্যজন। তাই বহুদিন থেকেই এই লেখাটি লিখবো লিখবো করেও সাহস হয়ে ওঠে নি। কিন্ত কাল সুমন্ত্র মাইতির একটা পোষ্টের পরে, মনে হল, এই লেখাটি না লিখলে তা হবে আমার “ঐতিহাসিক অপরাধ”।

আমি ওর পোষ্ট থেকেই জানলাম আল আমিন মিশনের তিনশো ছাত্র এবার ইঞ্জিনিয়ারিং জয়েন্টে পেয়েছে। এটি আনন্দের খবর। কারন গোটা ভারতেই শিক্ষা দিক্ষায় মুসলমানরা পিছিয়ে আছে। তাদের এগিয়ে যাওয়ার খবর নিঃসন্দেহে আনন্দের। তাছাড়া আল আমিন মিশনে খুব গরীব এবং নিম্নমধ্যবিত্তরা পড়াশোনা করে। গরীব এবং নিম্নমধ্যবিত্তদের স্যোশাল আপওয়ার্ড মোবিলিটি সবসময় দরকার।

ওই পোষ্টে এটাও দেখলাম তাতে বর্ণহিন্দুদের গা জ্বলছে। তাদের বিশ্বাস মমতা সরকারের সাম্প্রদায়িক তোষনের ইহা নবতম সংযোজন। যদিও যারাই জয়েন্ট এন্ট্রান্স দিয়েছেন, তারা সবাই জানেন এইসব পরীক্ষায়, পরীক্ষার্থীর নাম তুলে নাম্বার বসিয়ে পরীক্ষকের কাছে পাঠানো হয়। তাছাড়া রামকৃষ্ণ মিশন থেকেও প্রতি বছর কয়েকশো ছেলে জয়েন্ট ভাল র‍্যাঙ্ক করে।

আসল ব্যপারটা স্পষ্ট। এদের মনোভাব থেকে পরিস্কার, এরা মনে করে ভারতের উচ্চপদে একমাত্র বর্ণহিন্দুদেরই অধিকার। ইনারা আবার বিজেপির সদস্য। মুসলমান মানে জঙ্গী হবে, চোর হবে, ড্রাইভার হবে- ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ারের মতন সামাজিক উচ্চপেশায় কেন?

(২)

আজ থেকে একশো বছর আগে বর্ণহিন্দুদের এই মনোভাব ছিল বলেই মুসলমানরা প্রথমে বঙ্গভঙ্গ পরে মুসলীমলীগের মাধ্যমে দেশভাগ করেছে। যদিও আমার ফ্যামিলি বাংলাদেশের মুসলমানদের হাতে মার খেয়েই পশ্চিম বঙ্গে এসেছিল-আমি ত দেখছি, দেশভাগ না হলে আজকে বাংলাদেশে বাঙালীরা বানিজ্য এবং মানব সম্পদে যা উন্নতি করেছে, সেটা সম্ভব হত না।

হ্যা আমি জানি পশ্চিমবঙ্গবাসী মনে করে বাংলাদেশ মানে ইসলামি জঙ্গীদের জঙ্গলরাজ্য। সেটা দেশটা মুসলমান হওয়ার উত্তরাধিকার কারন ঐ ধর্মটা যে দেশে থাকবে তার রাজনীতিতে ইসলামের কুপ্রভাব থাকবেই। কিন্ত বাংলাদেশের উন্নতিগুলো নিয়ে পশ্চিম বঙ্গের উচ্চবর্ণের হিন্দুরা কিছু জানেন কি? কজন পশ্চিম বঙ্গবাসী বাংলাদেশের বেকন ফার্মাসিউটিক্যালের নাম শুনেছেন? যারা হেপাটাইটিস সির প্রথম জেনেরিক ড্রাগ আবিস্কার করেছে এবং তা আমেরিকার এফ ডি এতেও পাশ করে এখন আমেরিকাতেও পাওয়া যাবে। এই ড্রাগ চশমখোর আমেরিকান ড্রাগ কোম্পানি গিলাডের বহুমূল্য এপক্লজার থেকে আমেরিকানবাসীদের মুক্ত করবে। বাংলাদেশে ফার্মা এখন দক্ষিন এশিয়াতে জেনেরিক ড্রাগে ভারতের ফার্মাগুলির সাথে সমানে পাল্লা দিচ্ছে। টেক্সটাইলের ক্ষেত্রে রপ্তানী মার্কেটে বহুদিন আগেই বাংলাদেশ ভারতকে পেছনে ফেলেছে।

শুধু তাই না-বাংলাদশের মাদ্রাসা শিক্ষাই শুধু ভারতের মিডিয়াতে আসে। আমি দেখিনি পশ্চিম বঙ্গের কোন মিডিয়া কোনদিন লিখেছে, বাংলাদেশ স্কুল শিক্ষায় প্রোগ্রামিং কোডিং ইত্যাদি বহুদিন হল চালু করেছে প্রায় সব স্তরে। পশ্চিম বঙ্গে আছে শুধু ঐচ্ছিক হিসাবে। বাংলাদেশ ম্যাথ অলিম্পিয়াডে এখন ভারতের থেকে ভাল র‍্যঙ্ক করে অথচ ভারতের ছেলেরা গণিতে খুব ভাল-এটা হচ্ছে আমাদের সাধারন ধারনা। 2014 সালে ম্যাথ অলিম্পিয়াডে ভারতের র‍্যাঙ্ক ৩৭, বাংলাদেশের ৩৩। এসব বাদই দিলাম। মানব সম্পদ অগ্রগতির সূচক-যা শিশুশিক্ষা, অনাহার ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে ইউ এন থেকে দিয়ে থাকে, সেখানে ভারতের অবস্থান ১৩০ [0.609], বাংলাদেশের ১৪০ [.555]। কিন্ত যদি শুধু পশ্চিম বঙ্গের এইচ ডি আই ধরি, তা বাংলাদেশের থেকে কিছু কম হবে। আমার কাছে এক্সাক্ট নাম্বার নেই-কিন্ত ২০১০ সালে পশ্চিম বঙ্গের এইচ ডি আই ছিল 0.495. [ India was 0.519]।

কোলকাতার বাঙালীদের অবস্থাটা ঠিক কি? কোলকাতার যারা বুদ্ধিমান তাদের অনেকেই আমেরিকা ব্যাঙ্গালোর ইংল্যান্ডে গিয়ে বড় ব্যবসা গড়েছেন-তা ঠিক। কিন্ত যারা খোদ কোলকাতায় পড়ে আছেন-সেই বাঙালীদের অবস্থাটা কি? কোলকাতার ব্যবসার সব মারোয়ারীদের হাতে। এবং সেখানে বাংলাদেশের মতন উন্নত ফার্মা শিল্প গড়ে ওঠে নি-কারন মারোয়ারীরা রিসার্চ নির্ভর শিল্প গড়তে চান না। তাছাড়া কোলকাতার সব পরিশেবা ব্যবসাও মারোয়ারীদের হাতে যার ফল হল বিদ্যুতের দাম কোলকাতায় সব থেকে বেশী। একটা ঠিক ঠাক আইটি হাব পর্যন্ত নেই। সেক্টর ফাইভের আই টি হাব একটা টোটাল স্ক্যাম। ওটা কোন আইটি ফেসিলিটিই না। যা ঝড়ে বসে যায়, বন্যায় ডুবে যায়। বাঙালী খুব বেশী হলে মারোয়াড়ি কোম্পানীগুলোতে ডিরেক্টর বা ভিপির পজিশন পায়-ব্যবসার নীতি নির্ধারনে যাদের কোন ভূমিকা নেই।

ফলে পশ্চিম বঙ্গের আসল ভূত ভবিষত আসলেই মারোয়াড়িদের হাতে-শুধু রাজনৈতিক ক্যাঁচাল, রাজনৈকিক খুনোখুনির উত্তরাধিকার হিন্দু বাঙালীর। কলকাতার বাঙালী সম্পূর্ন ভৃত্যশ্রেনীর একটা নিম্ন মেধার জাতি এখন।

(৩)

কোলকাতার বাঙালীর একদম ভৃত্য হয়ে ওঠার কাহিনীটা অবশ্য উনবিংশ শতাব্দির। বাঙালীর হিরোদের দিকে তাকান-সবাই ভৃত্যসুল্ভ মনোভাবাপন্ন ছিলেন।

রাজা রামমোহন রায়? কেউ কি প্রিভি কাউন্সিলে লেখা উনার চিঠি পড়েছেন? আমি রেফারেন্স দিয়ে এই লেখা ভারাক্রান্ত করতে চাইছি না। ইন্টারনেটেই আছে পড়ে নেবেন-তাতে উনি লিখছেন সমগ্র ভারতবাসী তার উন্নতিকল্পে বৃটিশদের মতন সুশিক্ষিত নীতিপরায়ন একজন জাতির রাজাকে পেয়ে নিজেদের ধন্য বলে মনে করছে!

বঙ্গিম চন্দ্র? উনিত সারা জীবন বৃটিশদের গোলামী করেই কাটালেন।

রবীন্দ্রনাথ ? উনি চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের জমিদার। যারা আদতে বৃটিশদের খাশ গোলাম । লিখেছেন গোলামীর বিরুদ্ধে, স্বাধীন চিন্তার পক্ষে। কিন্ত জিন্না যখন ভারতের প্রথম বাল্যবিবাহ রোধে আইন আনার জন্য লড়ছেন ( সারদা এক্ট) , উনি তখন একের পর এক নিজের মেয়েদের বাল্যবিবাহ দিয়ে স্ববিরোধিতায় ভুগেছেন।

বিবেকানন্দ নেতাজি বিদ্যাসাগর এরা সবাই গোলামীর বিপক্ষেই ছিলেন। কিন্ত গোলামী কাটাতে যে ইক্যুইটি বা সম্পদের বা বিজনেসের মালিক হতে হয়, শিল্প গড়তে হয় নিজেদের এসব এদের মাথায় ছিল না। নেতাজি আগাগোড়াই মিসগাইডেড রোম্যান্টিক নেতা। একই সাথে হিটলার তেজো স্টালিন এবং মুসোলিনির রাজনৈতিক লাইনের সিরিয়াস গুনগান গাইতে পারেন যিনি, তিনি রাজনীতি কতটা আদৌ বুঝতেন, সন্দেহ আছে। নেতাজি বাঙালী ট্রাশ রাজনৈতিক রোম্যান্টিকতার উজ্জ্বল নির্দশন।

বিবেকানন্দ ভাববাদি জল দিয়ে সেই দাসত্বমুক্তির ডাক দিলেন। জল দিয়ে কি দুধের কাজ হয়?

পদপ্রদর্শক যে বাঙালীর ছিল না তা না। প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর, ভারতের প্রথম আধুনিক আন্তারপ্রেনার। স্টিম ইঞ্জিনের সাথে সাথে যে কয়লা সাপ্লাইএর দরকার হবে, সেটা বুঝে কয়লার খনির ব্যবসায় নেমে গেলেন। প্রচুর লাভ ও করেছেন ব্যবসা করে-যার অধিকাংশই ছিল একদম অত্যাধুনিক, বৃটিশদের টেক্কা দিয়ে। কিন্ত উনার ছেলে দেবেন্দ্রনাথ আবার সেই জমিদারি ব্যবসার নিশ্চিত ইনকাম আর ভাববাদি ব্রাহ্মজলে ডুবে রইলেন।

ছিলেন স্যার রাজেন মুখার্জি। যিনি জামসেদজীর টাটার বহুদিন আগে কুল্টিতে ভারতের প্রথম স্টিল শিল্প স্থাপনে উদ্যোগ নিলেন। আজ টাটা গ্রুপ ভারতের বৃহত্তম শুধু না-পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম। আর কোথায় গেলেন রাজেন মুখার্জির ছেলে স্যার বীরেন মুখার্জি? উনার তৈরী ইস্কোকে ধ্বংস করে হিন্দু বাঙালীর শ্রমিক আন্দোলন। উনি ভগ্ন হৃদয়ে মারা যান।

ছিলেন প্রফুল্ল চন্দ্র রায়। মাত্র সাতশো টাকায় তৈরী করেছিলেন বেঙ্গ্ল কেমিক্যাল। আস্তে আস্তে তা মহীরুহ হয় তিনটে ফ্যাক্টরিতে। কিন্ত স্বাধীনতার পরে বাঙালীর শর্টকাটে মেরেদাও টাইপের শ্রমিক আন্দোলন বেঙ্গল কেমিক্যাল এবং ইস্কোকে জাতীয়করনে বাধ্য করে এবং ক্রমশ এরা গঙ্গাপ্রাপ্তির দিকে এগোতে থাকে।

এরা কেউ বাঙালীর হিরো না-হিরো হচ্ছে তারা যারা হয় ভৃত্যভাবে কাটিয়েছেন সারাজীবন- কিন্ত গাদাগুচ্ছের ভাল ভাল কথা লিখে গেছেন । বাঙালীর আরাধ্য জ্যোতিবোসের মতন রাজনৈতিক নেতৃত্ব-যাদের রাজনৈতিক বিদ্যাবুদ্ধি পশ্চিম বাংলাকে আরো অনেক পিছিয়ে দিয়েছে মার্ক্সবাদের নামে মাছভাতের সাধনায়।

তার ফল দেখছি আজকে। এইভাবে এত ভৃত্যগিরির সাধ যাদের মজ্জায় মজ্জায়, সেই বাঙালী হিন্দুর আসল অবস্থাটা কি? বাংলাদেশে না হয় মুসলমানরা মেরে ধরে তাড়াচ্ছে। পশ্চিম বঙ্গে কি অবস্থা? এখানে ত তারা মারোয়াড়ীদের চাকরবাকর।

(৪)

হিন্দুদের বর্ণবাদ এবং ইসলামের প্রভাবে বাঙালীর আরব বেদুইন হওয়ার স্বপ্ন-আসলেই এক অলস জাতির ভ্রান্তিবিলাস। যা বাঙালীর উন্নতির অন্তরায়।

হিন্দুদের বর্ণবাদ মানে ব্রাহ্মনরা শুদ্রদের নীচু জাত মনে করে সেটা বলছি না। সেটা এখন নেই। এই বর্নবাদ আসলে এক গুঢ় রোগ। যা মানুষকে উঁচু নীচু-কাজকে উঁচু নীচু দেখার রোগ। একজন সিডিউলড কাস্ট বা হরিজন আই এ এস অফিসারকে চিনতাম আই আই টির ছাত্রজীবনে। উনি আই আই টিতে কোটা সিস্টেমে ঢুকে- ইন্ডিয়ান এডমিনিস্ট্রিটেটভ সিস্টেম ও কোটায় নামালেন। ছাত্রজীবনে বামপন্থী ছিলেন বলে একটু ইয়ারদোস্তির আলাপ। সদ্য ডিএম হয়ে একটা জেলায় পোস্টেড। একদিন আই আই টি দর্শনে এলেন সিকিউরিটি গার্ড, ড্রাইভার সহ। আড্ডা মারার পর খেতে যাওয়ার জন্য বললো-গাড়িতে উঠে পর। ও বাবা-যেই গাড়িতে উঠতে গেছি সেই সিকিউরিটি গার্ড, সেলাম ঠুকে দরজা খুলে দিচ্ছে আমাদের জন্য। আমি ওকে বল্লাম আচ্ছা এটাত বন্ধ করতে বলতে পারতে বস-এগুলোই ত আসল বর্নবাদি আইডিয়া যে একটা লোক সিকিউরিটি গার্ড বলে, বা ড্রাইভার বলে তাকে তার বাবুর পায়ে হাত দিয়ে চলতে হবে। তাহলে আর তোমাকে বর্ণবাদ বিরোধি কোটায় ঢুকিয়ে লাভটা কি হল?

উঁচু কাজ নীচু কাজের বিভেদ রেখে কোন জাতি বড় হতে পারে না।

ইসলাম ক্ষতি করছে মূলত নারীমুক্তির প্রক্রিয়াটা পিছিয়ে দিয়ে। একটা জাতিকে এগোতে গেলে, মেয়েদের এগোতে হবে আগে। সমস্ত বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা বলছে ছেলেমেয়েদের পরবর্তী জীবনের সাফল্য নির্ভর করে মায়েদের শিক্ষাদীক্ষা এবং জ্ঞানের ওপরে। মুসলমানদের শরিয়ার খোয়াব যে দেশটাকে শুয়োরের খোঁয়াড়ে পরিণত করবে, এটা বোঝার বোধ অধিকাংশ মুসলমানের নেই। বাঙালী মুসলমান মেয়েরা অনেক পিছিয়ে আছে শিক্ষা দীক্ষায়-্ যা বাংলার ইসলাম ধর্মের সব থেকে বড় কুফল। এর সাথে সাথে ধর্ম নিরেপেক্ষ গণতান্ত্রিক কাঠামো ভাঙার পাঁয়তারা ত আছেই।

আজকে যদি স্বাধীন বাংলাদেশ ইসলামকে ছুঁড়ে ফেলে বাঙালী জাতিয়তাবোধের ভিত্তিতে বাংলাদেশ গড়ত-সেই বাংলাদেশ হতে পারত সিঙ্গাপুর বা সাউথ কোরিয়ার মতন এক উন্নত দেশ। কারন বাংলাদেশীরা একই সাথে বুদ্ধিমান এবং পরিশ্রমী।

আমি হিন্দু মুসলমানে বিশ্বাস করি না। কারন ওই দুই ধর্ম বাঙালী জাতির সব থেকে বড় দুর্দিনের কারন। ব্রাহ্মন্য ধর্ম বাংলায় ঢোকার আগে ধর্মপাল, দেবপালরা সমগ্র ভারত শাসন করেছে। আর এই ব্রাহ্মন্য ধর্ম বাংলায় ঢোকার পরে বাঙালী হিন্দুদের খোয়াব হচ্ছে উত্তরভারতের খাঁটি বামুনত্বের উত্তরাধিকারি ভাবা। এবং মুসলমানদের খোয়াব হচ্ছে নিজেদের তুর্কী বা ইরাকের খাঁটি মুসলমানদের বংশধর ভেবে, তাদের আদাব কালচারের হনুকরন। যাদের নিজেদের উত্তরাধিকারের গৌরব নেই, তাদের দিয়ে কদ্দুর কি হবে?

তবে আমার বিশ্বাস ইন্টারনেটের প্রভাবে এই মুক্তজ্ঞানের বিশ্বে বাঙালী- হিন্দু মুসলমান, কমিউনিজম, লেনিন -ইত্যাদি বিজাতীয় বিষের থেকে নিজেকে মুক্ত করে জগত সভায় শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার হবে।

About the Author:

আমেরিকা প্রবাসী আলোক প্রযুক্তিবিদ ও লেখক।

মন্তব্যসমূহ

  1. Pratima Madhuri Kalyani নভেম্বর 29, 2016 at 10:48 অপরাহ্ন - Reply

    ‘… পশ্চিম বঙ্গের আসল ভূত ভবিষত আসলেই মারোয়াড়িদের হাতে-শুধু রাজনৈতিক ক্যাঁচাল, রাজনৈকিক খুনোখুনির উত্তরাধিকার হিন্দু বাঙালীর। কলকাতার বাঙালী সম্পূর্ন ভৃত্যশ্রেনীর একটা নিম্ন মেধার জাতি এখন।’
    – যথার্থ মন্তব্য। ভিন্ন আঙ্গিকের অবতারণা ভালো লাগল।

  2. মিজান খান। সেপ্টেম্বর 10, 2016 at 12:54 পূর্বাহ্ন - Reply

    প্রথমত আপনি দু দেশের পাশাপাশি তুলনা করেছেন যেটা আমি কখনোই মুক্তমনায় দেখতে চাইনা।
    দ্বিতীয়ত একটা সংগঠন যার লক্ষ্য শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে প্রশিক্ষণ দেয়া, তাকে সাম্প্রদায়িক বলার মধ্যে আমি দোষের কিছু দেখিনা। বরং তার হয়ে ছাফাই গাওয়াটা নিন্দনীয়। যা মুক্তমনার লেখকদের মানায় না।
    তৃতীয়ত, মুসলিম ইঞ্জিনিয়ার হোক তাতে সমস্যা নেই কারো। তাতে কেউ ভয় পায়না, ভয় পায়না। ভয়টা সংগঠন নিয়ে, যেহেতু তার উদ্দেশ্যটাই সাম্প্রদায়িক। মোট কথা একটা নোবেল প্রফেশনে জঙ্গি ঢুকাচ্ছে।
    আরেকটা কথা দেশ পলাতক বাহাদুরদের আশ্রয় দেয়া জাতির বিরুদ্ধে কুৎসা রটাতে নেই। বিষয়টা খানিকটা নেমোকহারামী।

  3. ইন্দ্রনীল গাঙ্গুলী সেপ্টেম্বর 4, 2016 at 2:43 অপরাহ্ন - Reply

    জ্যোতি বসুর অপশাসন নিয়ে দিন , কম্যুনিস্ট অপশাসন নিয়ে দিন

  4. ফিকোজ আহমেদ সেপ্টেম্বর 3, 2016 at 10:45 অপরাহ্ন - Reply

    খুব ভাল আলোচনা. চালিয়ে যান. আমাদের knowledge বাড়ুক

  5. Kaisar Huq সেপ্টেম্বর 1, 2016 at 10:12 অপরাহ্ন - Reply

    one of the worst essays ever published here :negative:

  6. অনামী সেপ্টেম্বর 1, 2016 at 6:06 অপরাহ্ন - Reply

    একটা দুটো মুসলমান ডাক্তার, উকিল ইঞ্জিনিয়ার, ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ কর্তা হবে, ঠিক আছে! না হলে একটু খারাপই দেখায়| সেক্যুলার প্রগতিশীল দেশ বলে কথা| তাই বলে একটা মাদ্রাসা থেকেই একেবারে 300! এইটা কি করে মেনে নেওয়া যায়? উচ্চবর্ণ উচ্চবিত্তের গায়ে লাগবেনা? তাও কি হয়!

  7. যুক্তি পথিক আগস্ট 31, 2016 at 10:26 পূর্বাহ্ন - Reply

    বিপ্লব দা ভারত কে অন্য ভাবে দেখেছেন যিনি সেই মুক্ত মনা আম্বেদকরের সমাজ ও ধর্ম ভাবনা নিয়ে একটি লেখা চাই । তিনি অবহেলিত হয়ে এসেছেন । আমাদের কে হয় তো এবার তাকে আবিষ্কারের সময় এসেছে ।আমার মনে হয় আমরা সেখানে কথা বলার নতুন জায়গা পাব ।

  8. বিপ্লব পাল আগস্ট 31, 2016 at 6:37 পূর্বাহ্ন - Reply

    জ্যোতি বোসের নির্মোহ এক সমালোচনা করতে গেলে, অনেক পড়তে হবে-তথ্য দরকার । সিপিএম পশ্চিম বঙ্গে এখন মৃত।
    ভুতের পেছনে দৌড়ে লাভ কি?

  9. বিপ্লব পাল আগস্ট 31, 2016 at 6:35 পূর্বাহ্ন - Reply

    হ! সিপাহীরা ইংল্যান্ডের অধীনে থাকার জন্য বিদ্রোহ করেছিল!!!

  10. সোমনাথ আগস্ট 31, 2016 at 1:14 পূর্বাহ্ন - Reply

    অপনি কোন ধর্মের ওটা আগে বলেন। কারণ আপনি ব্লগ লিখছেন না, আপনি লিখছেন হিন্দু ধর্মকে হেনো করার আপনার ইচ্ছা। কেন এত ভালো বাংলাদেশ আর বাংলাদেশের মানুষকে ছেড়ে চলে আসলেন। যান না আবার আপনার পরিবারকে নিয়ে স্থায়ী ভাবে থাকার জন্য আর একবার মুসলিম বিরুধী একটা পোস্ট করুন দেখি আপনি আপনি অভিজিৎ দার মতো খুন হন কি না।

    • সত্য সন্ধানী আগস্ট 31, 2016 at 8:58 পূর্বাহ্ন - Reply

      বিপ্লব পাল নিজে জানে না যে সে কি বলছে | বাংলাদেশ যদি এতই উন্নতি করে তাহলে তিনি বাংলাদেশে থাকলেন না কেন ? আর মুসলিম বিরোধী পোস্ট ? বিপ্লব পালের এত মাজার জোর নেই যে সে তা করবে | সে শুধু উল্টাপাল্টা মাতালের ভাট বকে যাচ্ছে |

    • সত্য সন্ধানী আগস্ট 31, 2016 at 9:23 পূর্বাহ্ন - Reply

      বিপ্লব বাবুর হিন্দু মুসলমানের লজিকটা একটু বাজিয়ে দেখা যাক |

      ওই পোষ্টে এটাও দেখলাম তাতে বর্ণহিন্দুদের গা জ্বলছে। তাদের বিশ্বাস মমতা সরকারের সাম্প্রদায়িক তোষনের ইহা নবতম সংযোজন। যদিও যারাই জয়েন্ট এন্ট্রান্স দিয়েছেন, তারা সবাই জানেন এইসব পরীক্ষায়, পরীক্ষার্থীর নাম তুলে নাম্বার বসিয়ে পরীক্ষকের কাছে পাঠানো হয়। তাছাড়া রামকৃষ্ণ মিশন থেকেও প্রতি বছর কয়েকশো ছেলে জয়েন্ট ভাল র‍্যাঙ্ক করে।

      এই বর্ণহিন্দু কোন রাজ্যের ? এটা কি সারা ভারতব্যাপী বর্ণহিন্দু না পশ্চিমবঙ্গের বর্ণহিন্দু ? তাদের গা জ্বলাটা কেমন ? এই বর্ণহিন্দুদের অর্থনৈতিক স্তর কোনটি ? উচ্চবিত্ত , মধ্যবিত্ত না নিম্নবিত্ত ? শিক্ষা দীক্ষা কেমন ? উচ্চশিক্ষিত , মধ্যশিক্ষিত না অশিক্ষিত ? এদের জীবিকা কেমন ? চাকুরিজীবি , ব্যবসায়ী না পেশাদার ? লিঙ্গভিত্তিক ভাগ কেমন ? নারী না পুরুষ না হিজড়ে ?

      এসব ডিটেলে বলা কি উচিত নয় বিপ্লববাবু ? কিন্তু ওনার শুধু একটাই লক্ষ্য : হিন্দুদের হেন্নত করা |

  11. বিপ্লব পাল আগস্ট 30, 2016 at 4:59 অপরাহ্ন - Reply

    তাহলে রুজভেল্ট গান্ধীজির কথা শুনেছেন | তাহলে গান্ধীজির অবদান কিছুটা হলেও তো আছে | এটাও বিপ্লব বাবু নিজেও স্বীকার করছেন পরোক্ষ ভাবে |

    জডনের স্বাধীনতার জন্য রুজভেল্ট কার কথা শুনলেন? এই যার লজিক্যাল সেন্স, তার সাথে তর্ক করাও বৃথা।

    তাছাড়া সিপাহি বিদ্রোহের কারন সাংস্কৃতিক না, অর্থনৈতিক। আর বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী ডিজারেলিই তখন এটাকে জাতীয় বিদ্রোহ বলেছিলেন। এমন প্রাইমারি ইতিহাস জ্ঞান যার নেই, লজিক্যাল সেন্স জিরো, সময় নষ্টের ইচ্ছা আমার নেই।

    • সত্য সন্ধানী আগস্ট 30, 2016 at 10:11 অপরাহ্ন - Reply

      আর বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী ডিজারেলিই তখন এটাকে জাতীয় বিদ্রোহ বলেছিলেন।

      বিদ্রোহ আর স্বাধীনতা সংগ্রামে বিস্তর ফারাক | এটা স্বাধীনতা সংগ্রাম ছিল না |

  12. ami আগস্ট 30, 2016 at 4:48 অপরাহ্ন - Reply

    amio chai je biplab babu ekta lekha den Jyoti basu o West Bengal e communist aposashon niye

  13. ইন্দ্রনীল গাঙ্গুলী আগস্ট 30, 2016 at 1:56 অপরাহ্ন - Reply

    আপনাকে ধন্যবাদ লেখক মহাশয় । কুয়োর ব্যাঙ মানসিকতা আমাদের শেষ করছে দিনে দিনে। জ্যোতি বসুর অপশাসন ,
    প্রাথমিক স্তরে ইংরাজি তুলে দেওয়া এবং আই টি আসতে না দেওয়া আমাদের অনেক পিছিয়ে ফেলেছে। ছোট বেলায় দেখেছি ব্রিটিশ ডিসিপ্লিনের নামে বাপের হুকুমের পর হুকুম জেটা Dominating nature ছাড়া আর কিসসু না। আই টি নিয়ে আমি প্রতিষ্ঠিত কিন্তু এই পেশায় আসবার আগে শুনতে হয়েছিল ” তোমায় কেউ সাহাজ্য করতে এগিয়ে আসবে না”। লেখক ঠিক বলেছেন নিজের জীবন দিয়ে বুঝি। মা সবার কথা অমান্য করে আমার স্ত্রী কে লাইব্রেরি পাঠাত জার ফলে সে ssc পাশ করে শিক্ষিকা হতে পেরেছে। আমি কিছুটা নিয়ম ভাঙতে পেরে আজকের দিনে এসে বুঝি যে কুয়োর ব্যাঙ মানসিকতা দিনে শেষ করেই চলেছে আর ৭০ শতাংশের ঘুম ভাংছে না। আপনি যদি জ্যোতি বসুর অপশাসন নিয়ে একটি লেখা দেন খুব ভাল হয় । সত্যি টা সামনে আসুক সবার।

  14. বিপ্লব পাল আগস্ট 30, 2016 at 2:05 পূর্বাহ্ন - Reply

    ১৮৫৭ সালের ওই সৈন্য অভ্যুত্থান কি স্বাধীনতা সংগ্রাম ছিল না আধুনিকতার বিরুদ্ধে দেশী সংস্কৃতির প্রতিবাদ ছিল ? খেয়াল করুন ১৮৩৫ সালে লর্ড মেকলে ভারতে ইংরাজি শিক্ষার প্রবর্তন করেন | ইংরাজি শিক্ষার সাথে সাথে ইংরাজি সংস্কৃতিও নিশ্চয় এসেছিল কারণ সংস্কৃতিটা শিক্ষার সাথে সাথে যায় | এরই পরিনাম ওই এনফিল্ড রাইফেলের গরু-শুওর মার্কা গুলি | এই সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ হয়েছিল | এই সুযোগে কিছু দিশি রাজা ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেবেছিল | সুতরাং এটা স্বাধীনতা সংগ্রাম ছিল না | এর পাশাপাশি আজাদ হিন্দ ফৌজকে দেখুন | ধর্ম ও সংস্কৃতির উর্ধে উঠে কিভাবে দেশের জন্য আত্মত্যাগ করতে হয় তা আজাদ হিন্দ ফৌজ দেখিয়েছে | তূলোনা করুন বুঝতে পারবেন |

    আমি এটা পড়ে হাঁসতে হাঁসতে চেয়ার থেকে পড়ে যাচ্ছিলাম। আচ্ছা আমি দুটো প্রশ্ন রাখি

    (১) সিপাহি বিদ্রোহে শুধু হিন্দু সৈনিকরাই ছিল? মুসলমান সেনারা ছিল না? দিল্লীতে যেসব সেনারা শহীদ হয়েছিল তাদের কত % হিন্দু আর কত % মুসলমান? রাইবেরিলীতে?

    (২) বৃটিশ ছাড়া আর কোন ঐতিহাসিক আছেন, যারা সিপাহী বিদ্রোহকে স্বাধীনতার যুদ্ধ বলে মনে করেন না?

    (৩) আচ্ছা বিদ্রোহ করেছিল ত বৃটিশ সেনার ভারতীয় উইং-তাদের সাথে দেশী রাজাদের কি সম্পর্ক?

    ঐসব কলোনির নিজস্ব নেতারা ছিলেন যারা নেতাজি গান্ধীজির মত ছিলেন |

    জর্ডন ভারতের সাথে সাথেই প্রায় স্বাধীন হয়। বৃটিশরা জর্ডনের রাজার কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়। জর্ডনের গান্ধী বা নেতাজি কে ছিল ? বা ধরুন সৌদি আরবের?
    আপনাকে আল্টলান্টিক সনদ নিয়ে পড়তে বল্লাম। পড়লেন না। ফলে আপনার জ্ঞান সেই প্রাইমারী লেভেলেই রয়ে গেল।
    আটলান্টিক সনদ কি আগে সেটা পড়ুন। তালেই বুঝবেন গান্ধী, নেহেরু, নেতাজি না থাকলেও ভারত বৃটিশদের থেকে স্বাধীনতা পেত। এদেরকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে দেখানো হয়। কারন এদের উত্তরাধিকারিরাই গণতন্ত্রে ক্ষমতা দখল করে। আটলান্টিক সনদ নিয়ে একটু ঘাঁটলে, আপনার ঘটে স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে কিছু ঢুকবে।

    স্কুলের ইতিহাস দিয়ে বাচ্চাদের মাথা মুর্গী করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে ভোলানোর জন্য ১৯৭৫-১৯৯৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কোন ইতিহাস বইতে তার নাম ছিল না। ঠিক তেমনই ভারতের ইতিহাস বইতে স্বাধীনতার ক্ষেত্রে আটলান্টিক সনদের ইতিহাস চাপা হয়। কারন অঈ সনদে ইংল্যান্ড সাক্ষর করেছিল যে তারা ৪০ টা কলোনী ছেরে পালাবে যুদ্ধের পরে। এবং যিনি বৃটিশদের এতে বাধ্য করিয়েছিলেন তিনি আমেরিকান প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট। বরং গান্ধীই রুজভেল্টকে লেখেন -মিঃ প্রেসিডেন্ট প্লিজ দেখবেন যেন সনদে “সার্বভৌমত্বের” ওপরে জোর দেওয়া হয়। এইসব ইতিহাস ভারতে পড়ানো হয় না। কারন তাহলে ভারতের লোকে জানবে ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের ভূমিকা স্বাধীনতার জন্য আসলে কিস্যুই না।

    আর আমিও এসব নিয়ে লিখি না-কারন ভেঁড়ার পালে সাইরেন বাজালে ভেঁড়া পালিয়ে যায়। শুধু গালাগাল দিয়ে যায়।

    • সত্য সন্ধানী আগস্ট 30, 2016 at 1:34 অপরাহ্ন - Reply

      ১) সিপাহি বিদ্রোহে শুধু হিন্দু সৈনিকরাই ছিল? মুসলমান সেনারা ছিল না? দিল্লীতে যেসব সেনারা শহীদ হয়েছিল তাদের কত % হিন্দু আর কত % মুসলমান? রাইবেরিলীতে?

      কিছু লোক আছে যাদের কোনো বুদ্ধি নেই অথচ বুদ্ধিজীবী সাজার বাসনাটা আছে | আমি বলেছিলাম যে ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ দেশী সংস্কৃতির সাথে বিদেশী সংস্কৃতির সংঘাত | দেশী সংস্কৃতিকে বিপ্লব পাল বুঝলেন হিন্দু সংস্কৃতি | তাই উনি প্রশ্ন করেছেন কত শতাংশ হিন্দু আর কত শতাংশ মুসলিম ছিল | ওনার অবগতির জন্য জানাই যে দেশী সংস্কৃতির মানে মুসলিম সংস্কৃতি + হিন্দু সংস্কৃতি | তাই হিন্দু আর মুসলিম উভয় সিপাহিই বিদ্রোহী ছিল |পিরিয়ড |

      (২) বৃটিশ ছাড়া আর কোন ঐতিহাসিক আছেন, যারা সিপাহী বিদ্রোহকে স্বাধীনতার যুদ্ধ বলে মনে করেন না?

      ব্রিটিশ ছাড়া সমস্ত ইউরোপীয় ঐতিহাসিকই আছেন যারা সিপাহী বিদ্রোহকে স্বাধীনতা যুদ্ধ বলে মনে করেন না |

      (৩) আচ্ছা বিদ্রোহ করেছিল ত বৃটিশ সেনার ভারতীয় উইং-তাদের সাথে দেশী রাজাদের কি সম্পর্ক?

      ব্রিটিশ সেনার ভারতীয় উইং বিদ্রোহ করেছিল ঠিকই , কিন্তু এই সুযোগে ব্রিটিশদের তথাকথিত “বন্ধু” রাজারা একযোগে বিদ্রোহ ঘোষণা করে | বিপ্লব বাবুর হয়ত জানা নেই যে বিপদে পড়লে কাছের মানুষরাই শত্রু হয়ে পড়ে | এইভাবেই দেশীয় রাজারা তথাকথিত বিদ্রোহে জড়িয়ে পড়েছিলেন |

      আপনাকে আল্টলান্টিক সনদ নিয়ে পড়তে বল্লাম। পড়লেন না। ফলে আপনার জ্ঞান সেই প্রাইমারী লেভেলেই রয়ে গেল।
      আটলান্টিক সনদ কি আগে সেটা পড়ুন। তালেই বুঝবেন গান্ধী, নেহেরু, নেতাজি না থাকলেও ভারত বৃটিশদের থেকে স্বাধীনতা পেত। এদেরকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে দেখানো হয়। কারন এদের উত্তরাধিকারিরাই গণতন্ত্রে ক্ষমতা দখল করে। আটলান্টিক সনদ নিয়ে একটু ঘাঁটলে, আপনার ঘটে স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে কিছু ঢুকবে।

      আমি একবার আটলান্টিক সনদের অস্তিত্ব বা তার প্রভাবের কথা অস্বীকার করছিনা | কিন্তু তাই বলে গান্ধী-নেহেরু-নেতাজীর অবদান কমে যায় না | বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ গান্ধীজির অবদান মনে রেখেছে | বিশ্বে উনিই প্রথম অহিংস আন্দোলনের কনসেপ্ট হাজির করেন | ওনার আগে এই ধরনের আন্দোলন কে করেছিল ?

      নেতাজি স্বাধীন ভারতের সেনাবাহিনীর রূপকার | আর নেতাজিই প্রথম ফরওয়ার্ড ব্লক নাম রাজনৈতিক দল স্থাপন করেন | তিনি কিছুকালের জন্য হলেও আজাদ হিন্দ সরকার নাম স্বাধীন ভারতীয় সরকার স্থাপন করেন | জাপান আজও তাঁকে মনে রেখেছে | উল্লেখ্য, কংগ্রেস কমিটি যেখানে ভারতের অধিরাজ্য মর্যাদা বা ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাসের পক্ষে মত প্রদান করে, সেখানে সুভাষচন্দ্রই প্রথম ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতার পক্ষে মত দেন। জওহরলাল নেহরু সহ অন্যান্য যুবনেতারা তাঁকে সমর্থন করেন। শেষপর্যন্ত জাতীয় কংগ্রেসের ঐতিহাসিক লাহোর অধিবেশনে কংগ্রস পূর্ণ স্বরাজ মতবাদ গ্রহণে বাধ্য হয়। নেতাজি প্রথম ভারতের নারী সেনাবাহিনী রানী লক্ষী বাই কমব্যাট স্থাপন করেন যাতে ৮৫০০০ নারী সেনা ছিল | এটা ভারতের ইতিহাসে প্রথম | এইগুলি কি ফ্যাক্ট নয় ? নেতাজীর এইসব অবদানগুলি কি অস্বীকার করা যায় ? আটলান্টিক সনদের ফলে ভারত স্বাধীনতা পেলেও গান্ধীজি আর নেতাজীর অবদান অস্বীকার করা যায় না |

      বরং গান্ধীই রুজভেল্টকে লেখেন -মিঃ প্রেসিডেন্ট প্লিজ দেখবেন যেন সনদে “সার্বভৌমত্বের” ওপরে জোর দেওয়া হয়।

      তাহলে রুজভেল্ট গান্ধীজির কথা শুনেছেন | তাহলে গান্ধীজির অবদান কিছুটা হলেও তো আছে | এটাও বিপ্লব বাবু নিজেও স্বীকার করছেন পরোক্ষ ভাবে |

      আর আমিও এসব নিয়ে লিখি না-কারন ভেঁড়ার পালে সাইরেন বাজালে ভেঁড়া পালিয়ে যায়। শুধু গালাগাল দিয়ে যায়।

      ভেড়ার পাল পালিয়ে যায় কিন্তু বিপ্লব পাল মাতালের ভাট বকে যায় | কোনটা ডেঞ্জারাস ? পালিয়ে যাওয়া না ভাট বকা ?

  15. gouranga malakar আগস্ট 29, 2016 at 5:59 অপরাহ্ন - Reply

    আলামিন মিশনে কেবল মুসলিম ছেলেমেয়েদেরই ভর্তি করে।
    রামকৃষ্ণ মিশনে সব ধর্মের ছেলেরাই ভর্তি হতে পারে।
    বিহারের সুপার ৩০ তেও সব ধর্মের ছেলেরাই ভর্তি
    হতে পারে।
    এরকম আর কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে কিনা আমি জানি না যেখানে কেবল একটি ধর্মের ছেলেমেয়েরাই ভর্তি হতে পারে?

  16. বিপ্লব পাল আগস্ট 29, 2016 at 12:41 অপরাহ্ন - Reply

    ভাববাদী গোলামী রোমান্টিক চিন্তা নয় | বিবেকানন্দের সময়ে বহু হিন্দু খ্রিস্টান হয়ে যাচ্ছিল | সাহেবরা আমাদের ধর্মকে নিচু নজরে দেখত | খ্রিষ্টধর্মের অনুকরণেই ব্রাহ্ম ধর্মের সৃষ্টি হয়েছিল | এই ধর্মীয় গোলামী থেকে বিবেকানন্দ আমাদের মুক্তি দিয়েছিলেন হিন্দু ধর্মের মহিমা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে |

    >>>
    হ! এমন মুক্তি দিয়েছেন ভারত এখনো ধর্মীয় কুসংস্কারে জগত সভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে। এক গু চাটা থেকে অন্যগু চেটে লাভ নেই। অর্থনৈতিক উন্নতি এবং ইক্যুইটী না থাকলে হাতে, এইসব ধর্ম কম্মো আল্টিমেটলি রাষ্ট্র এবং সমাজকে ঠকাতে সক্ষম শুধু।
    আপনার এই চিন্তাধারাগুলোই বাঙালীর মূল সমস্যা-এবং কুয়োর আসল জগত। কুয়োর মধ্যে হাগুমুতু দেওয়া জলে বড় হলে, ব্যাঙ সেটাকেই শ্রেষ্ট পরিবেশ বলে মানে। এবং সেখানেই লাফাতে থাকে। যেমন বিবেকানন্দ বিবেকানন্দ বলে বাঙালি লাফায়। তা বলি এত গুলো বিবেকানন্দ, রামকৃষ্ণ নামিয়ে কি লাভ হল? পশ্চিম বঙ্গের ৭০% লোক এখনো মাসে ৫০০০ এর কম ইনকাম। কোন রকমে বেঁচে থাকে। চীন, দক্ষিন কোরিয়া ভিয়েতনাম-এরা অনেক অনেক এগিয়ে গেছে। অন্দ্র, তামিলনাডু, কেরালা অনেক এগিয়ে। আর বাঙালী বিবেকানন্দের জল খাচ্ছে। জল দুধ না মশাই। এটা যেদিন বাঙালী বুঝবে, তার হবে।

    নেতাজীর সময়ে ভারতীয়রা স্বাধীনতার জন্য ভাবগত দিক থেকে তৈরী ছিল না | নেতাজিই তাদের প্রথম সংগঠিত করে স্বাধীনতা সংগ্রামকে সংগঠিত আকার দেন | এই কাজ করতে গিয়ে উনি আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করেন | এটাই স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রথম সাংগঠনিক রূপ |

    উরিব্বাস। আপনার ইতিহাস জ্ঞান একদম বাঙালীর মতন। তা মশাই ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের নেতা কি নেতাজি ছিলেন?

    আরো কঠিন সত্য জানতে চান? অবশ্য আপনাকে বলে লাভ নেই। কারন ইতিহাসে একজন প্রাইমারী ছাত্রের যা জ্ঞান থাকে তা আপনার নেই। শুধু একটা টিজার দিচ্ছি। ১৯৪৬-৫৭ সালের মধ্যে সব বৃটিশ কলোনি (৪০টি) স্বাধীনতা পায়। এদের মধ্যে কটা দেশের নেতাজি বা গান্ধিজি লেগেছে স্বাধীনতা পেতে?

    আর উত্তর না জানা থাকলে আলটান্টিক সনদ কাকে বলে, সেটা গুগল করে জেনে নিন। ভারতের স্বাধীনতা গান্ধী নেতাজি কারুর জন্যেই আসে নি। এসেছে, বিশ্বযুদ্ধের পরিস্থিতিতে । নইলে বৃটিশদের যাওয়ার কোন ইচ্ছা ছিল না।

    তবে ইতিহাসে আপনার যা জ্ঞান, অতটা বুঝতে এখনো অনেক সময় লাগবে। আগে প্রাথমিক স্কুলের ইতিহাস বইগুলো পড়ে আসুন।

    • সত্য সন্ধানী আগস্ট 29, 2016 at 1:33 অপরাহ্ন - Reply

      চীন, দক্ষিন কোরিয়া ভিয়েতনাম-এরা অনেক অনেক এগিয়ে গেছে। অন্দ্র, তামিলনাডু, কেরালা অনেক এগিয়ে।

      তা বলে চীন দক্ষিন কোরিয়া ভিয়েতনাম বা অন্ধ্র , তামিলনাড়ু, কেরালাতে কি ধর্ম নেই ? ধর্ম আছে মশাই | এইসব রাজ্যে মন্দির, বৌদ্ধ প্যাগোডা এইসব কি নেই ? প্রত্যেকে নিজেদের ধর্ম নিয়েই এগিয়েছে | বাঙালির পিছিয়ে পড়ার একটাই কারণ আছে : তা হলো কম্মুনিসম | বাংলার কমিউনিস্ট (পড়ুন কামিয়ে নিস ) পার্টি বাংলায় বনধ এনেছে, শ্রমিক আন্দোলন এনেছে, আলস্যের সংস্কৃতি এনেছে, স্বার্থপরতা , সুবিধাবাদ এনেছে | এইগুলিই পতনের কারণ | ধর্ম নয় | ধর্ম এইগুলির বিপরীত কথাই বলে | সে শুনে আপনার কাজ নেই |

      তা মশাই ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের নেতা কি নেতাজি ছিলেন?

      আপনার ইতিহাস জ্ঞান একদম কমিউনিস্টদের মত | ১৮৫৭ সালের ওই সৈন্য অভ্যুত্থান কি স্বাধীনতা সংগ্রাম ছিল না আধুনিকতার বিরুদ্ধে দেশী সংস্কৃতির প্রতিবাদ ছিল ? খেয়াল করুন ১৮৩৫ সালে লর্ড মেকলে ভারতে ইংরাজি শিক্ষার প্রবর্তন করেন | ইংরাজি শিক্ষার সাথে সাথে ইংরাজি সংস্কৃতিও নিশ্চয় এসেছিল কারণ সংস্কৃতিটা শিক্ষার সাথে সাথে যায় | এরই পরিনাম ওই এনফিল্ড রাইফেলের গরু-শুওর মার্কা গুলি | এই সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ হয়েছিল | এই সুযোগে কিছু দিশি রাজা ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেবেছিল | সুতরাং এটা স্বাধীনতা সংগ্রাম ছিল না | এর পাশাপাশি আজাদ হিন্দ ফৌজকে দেখুন | ধর্ম ও সংস্কৃতির উর্ধে উঠে কিভাবে দেশের জন্য আত্মত্যাগ করতে হয় তা আজাদ হিন্দ ফৌজ দেখিয়েছে | তূলোনা করুন বুঝতে পারবেন |

      ১৯৪৬-৫৭ সালের মধ্যে সব বৃটিশ কলোনি (৪০টি) স্বাধীনতা পায়। এদের মধ্যে কটা দেশের নেতাজি বা গান্ধিজি লেগেছে স্বাধীনতা পেতে?

      ঐসব কলোনির নিজস্ব নেতারা ছিলেন যারা নেতাজি গান্ধীজির মত ছিলেন |

      একদম সত্যি কথা | কিন্তু তাই বলে কি নেতাজিদের অবদান ব্যর্থ হয়ে যায় ? তাহলে তো এটাও বলতে হয় যে রাশিয়ায় কম্মুনিসম এসেছে তার অত্যাচারিত কৃষক শ্রেনীর জন্য , লেনিনের জন্য নয় | চীনে কম্মুনিসম এসেছে সেখানকার নিপীড়িত শ্রমিকশ্রেণী আর দক্ষিন চিনের উদার সংস্কৃতির জন্য , মাও সে তুঙ্গের জন্য নয় | যুক্তিগুলি ঠিকঠাক দেন মশাই |

  17. বিপ্লব পাল আগস্ট 29, 2016 at 9:49 পূর্বাহ্ন - Reply

    উনি সত্যি কথাই বলেছেন |
    >>
    চীন এবং জাপানের ইতিহাস তা বলে না । এই প্রসঙ্গে পরে লিখছি।

    বিপ্লববাবু গোলামিটা শুধু অর্থনৈতিক নয় , ধর্মীয়, শিক্ষাগত ও আদর্শগতও ছিল | এঁরা এই তিনটি ক্ষেত্রে গোলামী দূর করেছিলেন |

    -এটাই বাঙালীর রোম্যান্টিক চিন্তা। অর্থনৈতিক গোলামি না কাটিয়ে অন্য কিছু ভাববাদি গোলামি কাটানো যায় না।

    তাই বুঝি আনন্দমঠ উপন্যাস লিখেছিলেন | বাবু উপন্যাসও ওনারই লেখা |

    আনন্দমঠ পড়ে লিখলেন? আনন্দ মঠে শাসক-যবন। মুসলামান। বৃটিশ না।

    সেইজন্যই তো ব্রিটিশদের দেয়া নাইট উপাধি ত্যাগ করলেন | এত বড় গোলাম ছিলেন কিনা |

    – জেনারেল ডায়ারে ফায়ারিং এক্সট্রম কেস। উনি কিন্ত বিপ্লবীদের কাজ কর্ম বা গান্ধীজির আন্দোলনে কোনদিন সামিল হোন নি।

    আর হ্যা, ইস্কোর শ্রমিক নেতারা সবাই উচ্চবর্নের হিন্দুই ছিল। নামগুলো দিতে চাইছি না।

    • সত্য সন্ধানী আগস্ট 29, 2016 at 10:36 পূর্বাহ্ন - Reply

      বিপ্লববাবু গোলামিটা শুধু অর্থনৈতিক নয় , ধর্মীয়, শিক্ষাগত ও আদর্শগতও ছিল | এঁরা এই তিনটি ক্ষেত্রে গোলামী দূর করেছিলেন

      |

      -এটাই বাঙালীর রোম্যান্টিক চিন্তা। অর্থনৈতিক গোলামি না কাটিয়ে অন্য কিছু ভাববাদি গোলামি কাটানো যায় না।

      ভাববাদী গোলামী রোমান্টিক চিন্তা নয় | বিবেকানন্দের সময়ে বহু হিন্দু খ্রিস্টান হয়ে যাচ্ছিল | সাহেবরা আমাদের ধর্মকে নিচু নজরে দেখত | খ্রিষ্টধর্মের অনুকরণেই ব্রাহ্ম ধর্মের সৃষ্টি হয়েছিল | এই ধর্মীয় গোলামী থেকে বিবেকানন্দ আমাদের মুক্তি দিয়েছিলেন হিন্দু ধর্মের মহিমা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে |

      নেতাজীর সময়ে ভারতীয়রা স্বাধীনতার জন্য ভাবগত দিক থেকে তৈরী ছিল না | নেতাজিই তাদের প্রথম সংগঠিত করে স্বাধীনতা সংগ্রামকে সংগঠিত আকার দেন | এই কাজ করতে গিয়ে উনি আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করেন | এটাই স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রথম সাংগঠনিক রূপ |

      এইসব কিছুই না জেনে প্রলাপ কেন বকছেন বিপ্লব বাবু ? এরা রোমান্টিক নন আসল বিপ্লবী | এদের সময়ে বাংলাদেশে কজন এইরকম মানুষ জন্মেছিলেন ?

  18. সত্য সন্ধানী আগস্ট 28, 2016 at 10:39 অপরাহ্ন - Reply

    আমার মনে হয় যদি এই পোস্টের উত্তর না দেই তবে সেটা হবে ঐতিহাসিক অপরাধ |

    রাজা রামমোহন রায়? কেউ কি প্রিভি কাউন্সিলে লেখা উনার চিঠি পড়েছেন? আমি রেফারেন্স দিয়ে এই লেখা ভারাক্রান্ত করতে চাইছি না। ইন্টারনেটেই আছে পড়ে নেবেন-তাতে উনি লিখছেন সমগ্র ভারতবাসী তার উন্নতিকল্পে বৃটিশদের মতন সুশিক্ষিত নীতিপরায়ন একজন জাতির রাজাকে পেয়ে নিজেদের ধন্য বলে মনে করছে!

    উনি সত্যি কথাই বলেছেন |

    বঙ্গিম চন্দ্র? উনিত সারা জীবন বৃটিশদের গোলামী করেই কাটালেন।

    তাই বুঝি আনন্দমঠ উপন্যাস লিখেছিলেন | বাবু উপন্যাসও ওনারই লেখা |

    রবীন্দ্রনাথ ? উনি চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের জমিদার। যারা আদতে বৃটিশদের খাশ গোলাম । লিখেছেন গোলামীর বিরুদ্ধে, স্বাধীন চিন্তার পক্ষে। কিন্ত জিন্না যখন ভারতের প্রথম বাল্যবিবাহ রোধে আইন আনার জন্য লড়ছেন ( সারদা এক্ট) , উনি তখন একের পর এক নিজের মেয়েদের বাল্যবিবাহ দিয়ে স্ববিরোধিতায় ভুগেছেন।

    সেইজন্যই তো ব্রিটিশদের দেয়া নাইট উপাধি ত্যাগ করলেন | এত বড় গোলাম ছিলেন কিনা |

    বিবেকানন্দ নেতাজি বিদ্যাসাগর এরা সবাই গোলামীর বিপক্ষেই ছিলেন। কিন্ত গোলামী কাটাতে যে ইক্যুইটি বা সম্পদের বা বিজনেসের মালিক হতে হয়, শিল্প গড়তে হয় নিজেদের এসব এদের মাথায় ছিল না।

    বিপ্লববাবু গোলামিটা শুধু অর্থনৈতিক নয় , ধর্মীয়, শিক্ষাগত ও আদর্শগতও ছিল | এঁরা এই তিনটি ক্ষেত্রে গোলামী দূর করেছিলেন |

    ছিলেন স্যার রাজেন মুখার্জি। যিনি জামসেদজীর টাটার বহুদিন আগে কুল্টিতে ভারতের প্রথম স্টিল শিল্প স্থাপনে উদ্যোগ নিলেন। আজ টাটা গ্রুপ ভারতের বৃহত্তম শুধু না-পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম। আর কোথায় গেলেন রাজেন মুখার্জির ছেলে স্যার বীরেন মুখার্জি? উনার তৈরী ইস্কোকে ধ্বংস করে হিন্দু বাঙালীর শ্রমিক আন্দোলন। উনি ভগ্ন হৃদয়ে মারা যান।

    আর সেই শ্রমিক আন্দোলন কে করেছিল ? বামপন্থী কমিউনিস্টরা নয়তো ? আর শ্রমিকরা যে সব্বাই হিন্দু ছিলেন , এটা জোর দিয়ে বলা যায় কি ?

    ছিলেন প্রফুল্ল চন্দ্র রায়। মাত্র সাতশো টাকায় তৈরী করেছিলেন বেঙ্গ্ল কেমিক্যাল। আস্তে আস্তে তা মহীরুহ হয় তিনটে ফ্যাক্টরিতে। কিন্ত স্বাধীনতার পরে বাঙালীর শর্টকাটে মেরেদাও টাইপের শ্রমিক আন্দোলন বেঙ্গল কেমিক্যাল এবং ইস্কোকে জাতীয়করনে বাধ্য করে এবং ক্রমশ এরা গঙ্গাপ্রাপ্তির দিকে এগোতে থাকে।

    বাঙালিরা জাতীয়করণে বাধ্য করেছিল | কেনই বা করবে না ? সরকারী সুযোগ সুবিধে সবারই কাম্য | নয় কি ?

    বাঙালীর আরাধ্য জ্যোতিবোসের মতন রাজনৈতিক নেতৃত্ব-যাদের রাজনৈতিক বিদ্যাবুদ্ধি পশ্চিম বাংলাকে আরো অনেক পিছিয়ে দিয়েছে মার্ক্সবাদের নামে মাছভাতের সাধনায়।

    আর বাঙালদের আরাধ্য কে ? জিন্না না মুজিব ?

    এই গোটা লেখাটায় দেখানো হয়েছে যে ব্রিটিশ আমলের বাঙালি বুদ্ধিজীবিরাই স্বাধীন ভারতের বাঙালির পতনের জন্য দায়ী |

    কিন্তু মজার কথা হচ্ছে দুই দেশের তুলনা নিয়ে | বাংলাদেশের বর্তমানের সাথে ভারতের বর্তমানের তুলনা হচ্ছে | বাংলাদেশ খুব এগিয়ে , ভালো কথা | কিন্তু ব্রিটিশ আমলে বাংলাদেশ ঠিক কতটা এগিয়ে ছিল তা জানতে ইচ্ছে করে | ব্রিটিশ আমলে পশ্চিমবাংলা এগিয়ে ছিল সবদিক থেকে |

    এইবার একটা লজিকের প্রশ্ন | বলুনতো বীজ আর ফল কি এক হবে না আলাদা হবে ? বীজ আমের হলে ফল কি তেঁতুল হবে ? নিশ্চই না | সুতরাং যে বাংলা ব্রিটিশ আমলে উন্নত ছিল তারা বর্তমান বাংলার পতনের জন্য দায়ী হবে কেন এবং কি করে ? উন্নত বীজ থেকে কি অনুন্নত ফল হয় বিপ্লববাবু ? সুতরাং আপনার গোটা লজিকটাই একখানি ভুলের পাহাড় |

    কলকাতার বাঙালির পতনের জন্য দায়ী অন্য কেউ | ব্রিটিশ আমলের উন্নত বাঙালি নয় | অনুন্নত কেউ | কে সে , সেটা খুঁজে দেখতে হবে |

  19. Pandit আগস্ট 28, 2016 at 3:48 অপরাহ্ন - Reply

    যাদের নিজেদের উত্তরাধিকারের গৌরব নেই, তাদের দিয়ে কদ্দুর কি হবে?
    রাজা রামমোহন রায়?বঙ্গিম চন্দ্র? রবীন্দ্রনাথ ?
    রবীন্দ্রনাথ ?রবীন্দ্রনাথ ?

মন্তব্য করুন