দুর্ভিক্ষ পীড়িত থানচির আদিবাসীদের জন্য সবিনয়ে নিবেদন

১। গত বেশ কয়েকদিন থেকে সোস্যাল মিডিয়ায় ছবিসহ একটি মানবিক আবেদনসংবলিত পোস্ট অনেকের ওয়ালে ঠাঁই পেতে দেখা যাচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম থানচিতে আদিবাসিদের মাঝে চরম খাদ্যাভাব দেখা দিয়েছে। দেশের অন্যান্য জায়াগায় ভালো ফসল উতপাদন হলেও থানচিতে নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারনে ফসল উতপাদন ব্যহত হয়। ফলে দেখা দেয় খাদ্যাভাব। বোঝাই যাচ্ছে স্থানীয়ভাবে এই দুর্যোগ মোকাবেলায় আদিবাসীদের সক্ষমতা নেই। আবার প্রশাসনেরও কার্যকর কিছু চোখে পড়ছে না। ৬৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েই সবাই হাত-পা গুটিয়ে বসে আছে।
thanci

২। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মানবতাবিরোধী কাজ করে সমালোচিত হয়েও ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এবার ভারতে কয়েকটি মরুভুমি ও পাহাড়ি অঞ্চলে তীব্র পানি সংকট দেখা দেয়। তিনি ভারতীয় রেলওয়েকে নির্দেশ দেন ঐসব এলাকায় পানি ভর্তি লরি পাঠানোর জন্য। বিষয়টা পত্রিকার খবর হওয়ার আগেই নিষ্পত্তি হয়ে যায়। এখানেই একজন রাষ্ট্রনায়কের সফলতা। জনগনের সমস্যাক্রান্ত বিষয় জানাজানি হওয়ার আগেই নিষ্পত্তি।

thanchi1

৩। নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেন দেখিয়েছেন ’৭৪ সালে মিডিয়া যদি স্বাধীন হতো তাহলে এ দেশে দুর্ভিক্ষ হতো না। কিন্তু এখন তো মিডিয়া স্বাধীন তবুও বিষয়টা সেখানে আলোচিত হচ্ছে না কেন? কেন শুধু সোস্যাল মিডিয়ায় ব্যাপারটা ঘুরপাক খাচ্ছে? এখানে কারনটা ভিন্ন। বহু মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, কর্পোরেট হাউস, ব্যবসায়ী, আমলা, পিএসসির সাবেক সদস্য, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যরা আদিবাসিদের চাষের জমি দখল করে বসে আছে। বহু পরিবারকে উচ্ছেদ করেছে এইসব “সুশীল” রা। তারা কখনোই চাইবে না এই মানবিক বিপর্যয় সবার সামনে আসুক। কোন না কোন ভাবে এইসব সুশিলদের লোভের বলি পাহাড়ের আদিবাসিরা।

৪। এই বছর আমার গ্রামের বাড়িতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য তাদের শীতকালীন মহড়া করে। মাঝেই মাঝেই লোক মারফত খবর নিয়ে জানতে চায়, সেনাবাহিনীর অবস্থানের কারনে কারো কোন অসুবিধা হচ্ছে কি না। মাঝখানে একদিন তারা শীতবস্ত্রও বিতরন করে। বিদেশে অবস্থানরত সেনাসদস্যদের দেখা যায় সেখানকার অধিবাসীদের আহারের ব্যবস্থা করতে।এই একই সেনাবাহিনী পাহাড়ের আদিবাসিদের সাথে যে আচরন করছে তা সমতলের মানুষের সাথে যে আচরন করে তার সম্পুর্ন বিপরীত। সেখানে একটি শিশু ছোটবেলা থেকেই দেখে সেনাবাহিনীর বন্দুক তার দিকে তাক করা। এভাবেই সে বড় হয়। আবার মাঝেই মাঝেই দেখা যায় পুরো একটি পাড়ার উপর সেনাসদস্যরা চড়াও হয়ে তাদের ভিটে-মাটি উচ্ছেদ করছে। পাহাড়ের গায়ে সেনাবাহিনীর সম্প্রতির বানী সংবলিত সাইনবোর্ড দেখা যায়। কিন্তু আদিবাসী কেউ সেই সাইনবোর্ডের বানী বিশ্বাস করে বলে মনে হয় না। এখন একটা সুযোগ এসেছে তাদের সামনে। এলাকাটা দুর্গম বলে যেখানে অন্যদের যেতে সমস্যা হয়, সেনাবাহিনী অনায়সে সেখানে যেতে পারে। এই দুর্ভিক্ষে তাদের পাশে থেকে সবধরনের সহযোগিতা করতে পারে।

thanchi2

৫। ছোটবেলায় সমাজবিজ্ঞান বইতে পাহাড়িদের জীবনযাপন পড়ানোর সময় স্যার বলেছিলেন, পাহাড়ি আদিবাসীরা একটি গর্তে বছরের বিভিন্ন সময়ে ফলে এমন সকল ফসলের বীজ একসাথে করে পুতে দেয়। তারপর সারা বছর ধরে ফসল তোলে। বোঝাই যাচ্ছে তাদের চাষবাস আধুনিক নয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পোকামাকড়ের আক্রমন, ইদুরের দৌরাত্ম বৃদ্ধি পেলে কি করতে হবে তা তাদের জানতে হবে। চাষাবাদ পদ্ধতি আধুনিক হতে হবে। উন্নতমানের বীজ, প্রয়োজন ও সময়মত সারও কীটনাশকের ব্যবহার জানতে হবে। দেশের অন্যান্য স্থানে যেমন উচ্চফলশীল বীজ ও সার সরকার সরবরাহ করে পার্বত্য অঞ্চলেও করতে হবে। কৃষকদের প্রশিক্ষন দিতে হবে। সেখানে প্রশিক্ষনের একটা সুবিধা হল- যেহেতু তারা দলবদ্ধভাবে বাস করে তাই দলের প্রধান বা কারবারীকে প্রশিক্ষন দিলেই চলবে। অর্থ্যাত এধরনের ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয় তা সরকারকে ভাবতে হবে।

৬। দেশের ভেতরের দুর্যোগকে ভালোভাবে বিদেশে মার্কেটিং করে সাহায্য আনার ক্ষেত্রে সফল ছিল এরশাদ সরকার। বিদেশী সাহায্যের ছিটেফোটা বিতরন হতো, বেশিরভাগই হতো লুটপাট। দেশের দুর্যোগকে বিদেশে প্রচার করতে গিয়ে দেশের মান সম্মানের যে নেগেটিভ মার্কেটিং হতো তা হয়ত সেই সরকারের কর্তাব্যাক্তিদের মাথায় ছিল না। এটা টের পায় পরবর্তী সময়ে দেশের বাইরে যাওয়া ছাত্র-শিক্ষক-গবেষক ও চাকুরীজীবীরা। দেশে এখন সামর্থ্যবান লোকের সংখ্যা বেড়েছে। দেশের এক অঞ্চলে দুর্যোগ হলে অন্য অঞ্চলের মানুষের এগিয়ে আসা উচিত। দেশের সমস্যায় দেশের মানুষই এগিয়ে আসবে –এটাই স্বাভাবিক। সেই দিন হয়ত বিদেশী সাহায্যের পরিমান শুন্যতে নেমে আসবে।

৭। সাহায্য পাঠানোর ক্ষেত্রে সমস্যা একটাই, যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্গম। তাই আদিবাসীদের মাধ্যমে পাঠানো ছাড়া কোন উপায় নেই। সেই রকম কয়েকজন আদিবাসী যুবকের কাছে অর্থ পাঠানো হিসাব নাম্বার দিলাম।
সহযোগিতা পাঠাতে যোগাযোগ করুনঃ-
১. রাজুময় তঞ্চঙ্গ্যা- বিকাশ নং ০১৮১৮৭৩৪৮৬১ (পারসনাল)
২. ডি.সি মং মারমা-বিকাশ নং -০১৮২৫৬৫৪৮৭৮ (পারসনাল)
৩. অজল দেওয়ান- বিকাশ নংঃ ০১৭৩৭৪৪০২৬৯ (পারসোনাল)
৪. রাজুময় তঞ্চঙ্গ্যা্-ডিবিবিএল-০১৮১৮৭৩৪৮৬১৮ (মোবাইল ব্যাংকিং)
5. Rajumoy Tangchangya
acct no:0062-0310002481
Trust Bank Limited
routing number:240030135
Bandarban Brunch.

মুক্তমনা ব্লগার

মন্তব্যসমূহ

  1. বন রত্ন জুন 15, 2016 at 1:34 পূর্বাহ্ন - Reply

    বেশকিছু প্রশাসনিক জটিলতার করনে অর্থ সংগ্রহ স্থগিত করতে বাধ্য হতে হয়েছে। তাই যতদূর জানি এখন সাহায্য উঠানো হচ্ছেনা।
    আর জটিলতা এতই বেশি যে, যে টাকা উঠেছে সে টাকাগুলোও এখনো পর্যন্ত বিতরন সম্ভব হয়নি।

  2. গীতা দাস জুন 6, 2016 at 9:41 অপরাহ্ন - Reply

    আমি চেষ্টা করেছিলাম ব্যক্তিগত পর্যায়ে কিছু করা। এক বেসরকারী সংগঠনের প্রধানের সাথে এ নিয়ে আলোচনাও হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন বাইরের কোন ত্রাণ বা কোন রকম সহযোগিতা করার পদক্ষেপ নিতে না করেছে।সরকারই নাকি এ দুরবাস্থা কাটিয়ে উঠতে যথেষ্ঠ শক্তিশালী।

    • বিপ্লব কর্মকার জুন 15, 2016 at 8:57 পূর্বাহ্ন - Reply

      সরকারই নাকি এ দুরবাস্থা কাটিয়ে উঠতে যথেষ্ঠ শক্তিশালী।

      হাসাইলেন………
      গতকালের খবর
      http://www.thedailystar.net/backpage/thanchi-people-go-hunger-1239382

      কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন বাইরের কোন ত্রাণ বা কোন রকম সহযোগিতা করার পদক্ষেপ নিতে না করেছে।

      নিজেরাও কিছু করে না, অন্যদেরও কিছু করতে বাধা দেয়। ভাত দেয়ার মুরোদ নেই কিল মারার গোসাই !

  3. মনজুর মুরশেদ জুন 3, 2016 at 11:53 অপরাহ্ন - Reply

    লেখার জন্য ধন্যবাদ! পাঠকদের বিচ্ছিন্ন অর্থ-সাহায্য পরিস্থিতির উন্নতিতে কতটা সাহায্য করতে পারেবে তা নিয়ে দ্বিধা আছে। হয়তো সাময়িকভাবে কিছু লোকের সাহায্য হবে, কিন্তু এটা কোন দীর্ঘ-মেয়াদী সমাধান নয়। মূলধারার পত্রপত্রিকায় এ নিয়ে লেখা আসা উচিত। উত্তরবঙ্গে মঙ্গা দূর করতে যে ব্যবস্থাগুলো কাজে লেগেছে, সেধরনের কিছু করা যায় কিনা তাও ভেবে দেখা দরকার।

  4. বিপ্লব রহমান জুন 2, 2016 at 5:13 অপরাহ্ন - Reply

    নিরব দুর্ভিক্ষ শুধু থানচি নয়, জুম (পাহাড়ের ঢালে বিশেষ চাষাবাদ) এর ফসল নষ্ট হলে বা কম খাদ্য উৎপাদন হলে দুর্গম পাহাড়ে সর্বত্রই দেখা যায় এমন দুরাবস্থা। তখন প্রশাসন থেকে খাদ্য সাহায্য দিতে হয়।

    পাহাড়ে সেনা সেটালার আধিক্যের কারণে ক্রমেই কমছে জুম চাষ। এটিও কম খাদ্য উৎপাদনের কারণ।

    পাহাড়ে বিকল্প কর্মসংস্থানই এর সমাধান। আর সেনা সেটেলার পাকিপনার অবসান।

    এই নোটে জুম চাষ সম্পর্কে যে তথ্য দেয়া হয়েছে, তা শিশুতোষ ও বিভ্রান্তিকর। উচ্চ ফলনশিল শষ্যর ধারণাও অজ্ঞতার পরিচায়ক।

    অনেক আগে “জুম চাষ: একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা” নোটে পাহাড়ের কৃষি সম্পর্কে বিস্তারিত বলেছি, গুগল করলে সেটি পাওয়া যাবে।

    শান্তিচুক্তির আলোকে সমাধান চাই এখনই।

    • বিপ্লব কর্মকার জুন 2, 2016 at 5:48 অপরাহ্ন - Reply

      ১। জুমচাষ নিয়ে যা বলেছেন – হতে পারে। জেনে নিব।
      ২। আমার কাছে দখলদার সুশীলদের যে তালিকা আছে তাতে মর্মাহত হয়েছি । এদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলে না। সেটেলার বলে এককথায় এড়িয়ে যায় বা এদের আড়ালে রাখে।
      ৩।আশার কথা সরকার এগিয়ে এসেছে। তবে এটা চিরস্থায়ী কোন সমাধান নয়।

মন্তব্য করুন