অ)
বনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ঝর্নার প্রবাহমান পানি থেকে পান করছিলো এক মেষ শাবক। শাবকটিকে দেখতে পেয়ে ক্ষুধার্ত নেকড়ের লোভ হলো খুব। এমনি এমনি তো আর কাউকে মারা যায়না! সেজন্য সে মনে মনে ফন্দি আঁটলো। এক চুমুক পানি পান করে সে মেষ শাবককে উদ্দেশ্য করে বললো, “এই! তুই আমার পানি ঘোলা করছিস কেনো?” মেষ শাবক কাঁচুমাচু হয়ে জবাব দিলো, “তা কী করে হয়! আমি তো ভাটিতে, আপনি উজানে। ভাটির পানি কি উজানে যায় কখনো?” এমন মোক্ষম জবাবে নেকড়ে বাঁজখাই গলায় চিৎকার করে বললো, “তুই গত বছর অামার পানি ঘোলা করেছিলি না?” মেষ শাবক বললো, “এটাওবা হয় কী করে! আমার বয়স সবে ছয় মাস। গত বছর তো আমি জন্মাইনি।” এবারে থোঁতা মুখ ভোঁতা হওয়ায় নেকড়ে মেষ শাবকের গলায় কামড় বসাতে বসাতে বললো, “তাহলে সেটা তোর বাবা কিংবা বাবার বাবা হবে; যে অামার পানি ঘোলা করেছিলো।”

এ গল্পের শিক্ষা হলোঃ দুষ্টু লোকের ছলের অভাব হয়না।

গল্পটা মনে হয় সবাই জানে। কিন্তু জানার নামই শিক্ষা নয়; বরং শিক্ষা অর্জন করে নিতে হয়।
উপরের গল্প থেকে পাওয়া শিক্ষাটুকু আবারো খেয়াল করুন। ঠিক এ কথাটাই আমরা বরাবরই এই আন্তর্জালে বলে আসছি। আমরা বলছি, “হে মডারেট মুসলমান! আজ নাস্তিককে নাস্তিক উপাধি দিয়ে গলা কেটে এখানে সেখানে ফেলে যাচ্ছে। তুমি নিশ্চুপ। কাল বিধর্মীদের কাফের তকমা লাগিয়ে একইভাবে মেরে ফেলে রেখে চলে যাবে। তুমি ভাব করবে যেনো দেখোইনি। পরশুদিন মাজারে যাওয়া বেদাত বলে তোমার ভাইকে তোমার সামনেই মারবে। তুমি মুখে কুলুপ এটেঁ বসে থাকবে। তার পরের দিন চাপাতিওয়ালারা তোমার দরজায় কড়া নাড়বে একই সাথে চার মাজহাবের শর্ত পূরণ করতে পারোনি বলে!! তখন কী করবে??”

প্রমাণ চাও? তাকিয়ে দেখো আজকের পাকিস্তান, ইরাক, ইরান, মিশর কিংবা সিরিয়ার দিকে। এরা কারা? এরা তোমার-অামার ধর্ম ভাই।

কী বললে? এসব ইহুদি নাসারাদের ষড়যন্ত্র?

তাহলে বলো-
নাইজেরিয়ায় অামেরিকা অাক্রমণ করেনি তবুও বোকোহারাম অাছে। কেনো? বাংলাদেশ, পাকিস্তানে তেলের ততটা মজুদ নেই, আমেরিকাও আক্রমণ করেনি, তবুও অসংখ্য মুসলিম জঙ্গী সংগঠন আছে। কেনো? জাপানে আমেরিকা পারমানবিক বোমা ফেলে আড়াই লাখ লোক মেরেছিলো, তবুও একজনও জাপানি জঙ্গি নেই, আমেরিকায় গিয়ে মানববোমাও মারেনা। হিটলার দশ লক্ষাধিক ইহুদি মেরেছিলো, তবুও ইহুদিরা জঙ্গি হয়নি। বাংলাদেশে হিন্দু ও অাদিবাসীরা খুন, ধর্ষিত, বিতাড়িত হয়। সেক্ষেত্রে তো হিন্দু কিংবা আদিবাসীদের ঘরে ঘরে জঙ্গি থাকার কথা। কিন্তু নেই। কেবল মুসলিমরাই আইএসএ যোগ দেয়, কেনো?

জবাব দাও।

কী? জবাব নেই তো! তাহলে দেখো, উপরের গল্পে পাওয়া শিক্ষাটার সাথে এদের কথাবার্তা মেলাতে পারো কীনা!

উত্তেজক পোষাকে বেড়িয়েছিলো নিশ্চয়ই

এটাও দেখো-
তাইলে শরীলের উঁচু-নিচু জায়গাগুলো

এখন কী বলবে?

আ)

তনু একটা বাংলা শব্দ। যার অর্থ শরীর। যে শরীরের জন্যই মানুষ নামের দুপেয়ে দৈত্য রাক্ষসে পরিণত হয়। ভুল বললাম কি? ভুলই মনে হয়! হয়তো রাক্ষসও এতোটা নৃশংস হতে পারে না। সে তো তার পেটের ক্ষুধা নিবারণ করার জন্য খেতে চায়। অার এরা…

অনেকে বলতে পারেন উঠতি বয়সে মস্তিষ্কে টেস্টোস্টেরন নামক হরমোন নিঃসরণ হয় বলে ছেলে-পেলে উত্তেজিত থাকে।
আচ্ছা! শুধুমাত্র টেস্টোস্টেরন এর ক্ষরণই কি এর কারণ?
সেক্ষেত্রে এই চল্লিশ বছর বয়সী ইমামের কাণ্ড দেখতে পারেন।
তাছাড়াও দেখতে পারেন মসজিদের ছাদে নিয়ে শিশু বলাৎকার
কিংবা বাংলায় ধর্ষণ লিখে লিখে গুগলে সার্চ করলেও এ সংক্রান্ত শত শত ঘটনা পাবেন যেসবে প্রায় সব বয়সের সব প্রকৃতির লোকই যুক্ত ছিলো।
টেস্টোস্টেরন অবশ্যই একটা ফ্যাক্ট। কিন্তু আরো একটি ফ্যাক্ট হলো আমাদের সমাজকে ধীরে ধীরে গ্রাস করতে চলা অতি রক্ষণশীলতা।

কীভাবে?
কন্যা সন্তান জন্মাবার পরেই তাকে প্যাকেট করা প্রক্রিয়া শুরু হয়! ইন্টারনেটে খুঁজলে এমন হাজারো হিজাবি বাচ্চা দেখতে পাবেন যাদের দুধদাঁতই পড়েনি। তার মানে কি এই যে, নিচের এই শিশুকে দেখলেও কারো মনে কামভাব জাগতে পারে??! অবিশ্বাস্য শোনালেও সত্য মোল্লাদের নাকি সেটাই মনে হয়!

আসলে মুসলমান নারী-পুরুষেরা ছোট থেকে নানা বিধিনিষেধের মধ্য দিয়ে চলে। একটু বুঝ আসার পরে তাকে জানানো হয়, ‍‍‌‌‍”তুমি মুসলমান। তোমার ঠিকানা জান্নাত। এই দুনিয়ায় তুমি মুসাফির। জান্নাতে তোমার জন্য বাহাত্তরটি আয়তলোচনা সুন্দরী অপেক্ষা করে আছে যাদের কেউ স্পর্শ করেনি।”
অর্থাৎ এটা বুঝানো যে, মোটামুটিভাবে সর্বোচ্চ সুখ-শান্তি নারীদেহেই বর্তমান! এভাবে যারা হুরীর নেশায় বুঁদ হয়ে থাকে তাদের মাথায় বেশিরভাগ সময় কামভাব থাকবে না তো থাকবে কাদের মাথায়? নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি মানুষের আকর্ষণ বরাবরই দুর্বার। ফলশ্রুতিতে নারী ও পুরুষের মধ্যে মিলনের তীব্র আকাঙ্খা জন্মাতেই পারে। একজন নারীর সাথে সেক্স বাদেও অনেক কিছু যে করা যায় সেটাই তেমন একটা শেখানো হয়না মুসলমান সমাজে।

ইসলামে মাহরাম বলে একটা কথা আছে। যাদের সামনে বিপরীত লিঙ্গের কেউ আসতে পারবে ও কথা বলতে পারবে নেকাব ছাড়াই।

    পুরুষদের মাহরাম

ছেলেদের জন্য মাহরাম হল ১৪ জন। তারা হলেন,

*মায়ের মত ৫ জন
মা
খালা
ফুফু
শাশুড়ি
দুধ-মা

*বোনের মত ৫ জন
বোন
দাদি
নানি
নাতনি
দুধ-বোন

*মেয়ের মত ৪ জন
মেয়ে
ভাই-এর মেয়ে
বোনের মেয়ে
ছেলের বউ

    মহিলাদের মাহরাম

মহিলাদের মাহরাম ১৪ জনঃ

*বাবার মত ৫ জন
বাবা
চাচা
মামা
শ্বশুর
দুধ-বাপ

*ভাই-এর মত ৫ জন
ভাই
দাদা
নানা
নাতি
দুধ-ভাই

*ছেলের মত ৪ জন
ছেলে
ভাই-এর ছেলে
বোনের ছেলে
মেয়ের জামাই

এদের বাইরে কোনো পুরুষ কোনো মহিলার সামনে বোরকা ও নেকাব ব্যতীত যেতে পারবে না। এর ফলে একটি ছেলে খুব কম সংখ্যক মেয়ের সাহচর্যে আসে যেখান থেকে সে বিপরীত লিঙ্গের মানুষজন সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা পায় না। তার কাছে মেয়ে মানে কুরানে বর্ণিত সুরা বাক্বারার ২২৩ নম্বর আয়াত অনুসারে স্রেফ শস্যক্ষেত্র; সন্তান উৎপাদনের কারখানা। (রাসূল [সা.] অন্যত্র বলেন, ‘পুণ্যময়ী ও অধিক সন্তানপ্রসূ নারীকে বিয়ে করো। কেয়ামতে তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে সব আম্বিয়ার কাছে আমি গর্ব করব।’ (মুসনাদে আহমাদ : ৩/২৪৫)।)

দেখে না বলেই চোখ দেখার জন্য তৃষ্ণার্ত থাকে। মজার ব্যাপার হলো এটা সার্চ ইঞ্জিনে পর্ন সার্চ সংক্রান্ত একটি ওয়েবসাইট গত বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশ করেছে যে, বিশ্বে সবচেয়ে বেশিবার যে দশটা দেশ থেকে পর্ন ভিডিও খোঁজা হয়েছে তার ৬ টিই মুসলিমপ্রধান। নামগুলো যথাক্রমে পাকিস্তান, ইজিপ্ট, ভিয়েতনাম, ইরান, মরক্কো, ভারত, সৌদি আরব, তুরস্ক, ফিলিপিন, পোল্যান্ড।

সমপ্রতি সেক্সের স্থায়িত্ব নিয়ে একটা গ্লোবাল জরিপ করা হয়। মোট ৫০০ কাপলের সেক্সের স্থায়িত্ব রীতিমতো স্টপ ওয়াচ ধরে হিসেব করে একটা তথ্যচিত্র দাঁড় করানো হয় যার মধ্যে দেশ হিসেবে সবচাইতে কম স্থায়িত্বের দেশটাও হয় মুসলিম দেশ! এটাও অতিরিক্ত উত্তেজনার ফল। যদিও আবহাওয়া ও পরিবেশগত কিছু ফ্যাক্টরের কারণেও সময়ের হেরফের হতে পারে। তবে মস্তিষ্কে কামভাব প্রায় সর্বদাই জাগ্রত থাকাটাও অন্যতম কারণ।

উপরন্তু আমাদের দেশে ছেলে ও মেয়েদের ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পড়ানোর ব্যবস্থা করা আছে। এর ফলেও পারস্পরিক বোঝাপড়াটা সঠিক হচ্ছেনা। আমাদের পাঠ্যক্রমগুলোতেও এসব শেখাবার ব্যাপারে খুব একটা উৎসাহ দেখা যায় না।

তাহলে অামাদের করণীয় কী? পাশ্চাত্য কালচার আমদানি করবো নাকি?
উত্তরটা হলো- না। অামাদের নিজস্ব একটা সংস্কৃতি আছে না?! সেটার চর্চা করা যেতে পারে। তবে সবার আগে রক্ষণশীলতাকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে হবে। মানুষে মানুষে বন্ধন আরো শক্ত করতে হবে… (ধুর! এসব মনে হয়না সহসা হবে! তাই এখানেই খ্যামা দিলুম!)

শুরু করেছিলাম তনুকে দিয়ে। তাকে দিয়েই শেষ করি। আমাদের আশার জায়গাটা অাসলে এটাই। আগে এমন শত শত তনুর শ্লীলতাহানি হয়েছে। সেসব পড়ে থেকেছে পত্রিকার মাঝের পৃষ্ঠায় এক কলামে ৪ ইঞ্চি লেখাতে। কিন্তু এখন আন্তর্জালের বদৌলতে অনেক দাবি উঠেছে। তরুণ প্রাণ সোচ্চার হয়েছে। অনেকে ধর্ষণের সবোর্চ্চ শাস্তি ফাঁসি দাবী করেছে। আইন করে নির্দিষ্ট কার্যদিবসের মধ্যে যদি সবোর্চ্চ সাজা নিশ্চিত করা যায় তাহলেও ধর্ষণ প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে।

[549 বার পঠিত]

এই লেখাটি শেয়ার করুন:
0