লেখকঃ রাজীব মন্ডল

পাঠক কে অবশ্যই ১৬+ এবং প্রাপ্ত মনস্ক হতে হবে

বিঃদ্রঃ প্রথম পর্ব না পড়া থাকলে এই লেখাটি পড়ার পূর্বে, ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বোঝার সুবিধার জন্য যৌনতা ও জীবনঃ একটি তুলনামূলক পর্যালোচনা। পর্ব-১ পড়ে নেওয়ার অনুরোধ করা হল।
লেখার উদ্দেশ্যঃ মানুষ কে তাদের যৌন জীবন ও স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতন করে তোলা এবং সঠিক যৌন শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে সহযোগিতা করা।
এই সিরিজ লেখার জন্য যৌন জীবন কে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়।
১। নরমাল সেক্স লাইফ ২। অনিয়ন্ত্রিত সেক্স লাইফ ৩। বিকৃত সেক্স লাইফ
প্রথম পর্বে যৌন জীবনের মানসিক বিকৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এবং এই পর্বে ‘অনিয়ন্ত্রিত যৌন জীবন’ এর বিষয়টা পর্যালোচনা করে দেখার চেষ্টার পাশাপাশি ‘যৌন আচরণ বিকৃতির’ সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিত যৌন জীবনের কোন সম্পর্ক আছে কিনা সেটা খুজে দেখার চেষ্টা করা হয়েছে।
প্রথমেই জেনে নেই যৌন আকাঙ্খা সম্পর্কিত কিছু তথ্য।
লিবিডোঃ সেক্স ড্রাইভ বা যৌন চাহিদা নামেও পরিচিত। লিবিডো শব্দটা যৌন কাজের প্রতি মানুষের সামগ্রিক আকাঙ্খা কে বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, ‘যৌন স্বাস্থ্য’ হল মানুষের শারীরিক-স্বাস্থ্য, মন-মানসিকতা, সামাজিক বন্ধন এর সঙ্গে যৌন আকাঙ্খার একটা সম্পর্কিত রুপ।
বায়োলজিক্যাল দিক থেকে যৌন চাহিদা নির্ভর করে যৌনতা নিয়ন্ত্রক হরমোন এন্ড্রোজেন, ভেসোপ্রেসিন, অক্সিটোসিন এবং নিউরট্রান্সমিটার নামে পরিচিত মন-মানসিকতা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন ডোপামিন, সেরোটনিন, নরেপিনফ্রিন এর ভারসাম্যের উপর। এছাড়া সামাজিক দিক যেমন পরিবার এবং কাজ, মানসিক দিক যেমন ব্যক্তির ব্যক্তিত্ববোধ, স্ট্রেস লেভেল, হতাশা, বিষণ্ণতা, উদ্বেগ যৌন আকাঙ্খার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রতিটা মানুষের যৌন চাহিদা এবং যৌন আকাঙ্ক্ষর পরিমাণ আলাদা। কিন্তু তারপরও মেডিক্যাল, সাইকোলজিক্যাল এবং সামাজিক বিষয় বিবেচনায় রেখে ‘অনিয়ন্ত্রিত যৌন জীবন’ কে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। শুরুতেই একটা সংজ্ঞার ভিতরে নিয়ে আসার চেয়ে প্রথমে এটা কে ২ ভাগে ভাগ করে নেই।
১। যৌনতার প্রতি অনীহা (হাইপোএক্টিভ সেক্সুয়াল ডিজঅর্ডার)
২। তীব্র যৌন আকাঙ্ক্ষা (হাইপার সেক্সুয়াল ডিজঅর্ডার)
প্রথম পর্বের মতন এখানেও আমরা গুরুত্ব বিবেচনায় শেষের দিক থেকে পর্যালোচনা শুরু করব।
তীব্র যৌন আকাঙ্ক্ষা(হাইপার সেক্সুয়াল ডিজঅর্ডার): কিছু মানুষ সব প্রায় সময়ই তীব্র যৌন চাহিদা অনুভব করে, আবার কারো কারো ক্ষেত্রে হঠাত করে যৌন চাহিদা খুব বেশি বেড়ে যায়, এবং অনেকে আবার বার বার যৌন মিলন করেও মানসিক তৃপ্তি লাভ করে না এধরনের অবস্থাকে হাইপার সেক্সুয়াল ডিজঅর্ডার বলা হয়।
বিভিন্ন সময়ের প্রায় সব সমাজেই ‘বিবর্তনগত কারনে’ পুরুষের যৌন আকাঙ্ক্ষা নারীর তুলনায় বেশি, এই পার্থক্য ‘কালচারাল ইউনিভার্সাল’ এর অন্তর্গত, এছাড়াও পুরুষের দেহে টেস্টসটেরন নামক হরমোন সাধারনত মেয়েদের তুলনায় গড়ে ১০+ গুন বেশি হওয়ায় তারা বেশি যৌন আকাঙ্খা প্রিয় হয়ে থাকে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে এই আকাঙ্ক্ষার পরিমাণ এতটাই বেশি হয়ে যায় যে, তখন তা আর নিয়ন্ত্রণ এর ভিতরে থাকে না, এবং এরকম হওয়ার ফলে ব্যক্তির মন এবং স্বাস্থ্যের উপর ছাড়াও সামাজিক পর্যায়ে বেশ বড় খারাপ প্রভাব ফেলে। তবে শুধু পুরুষ নয় মেয়েরাও হাইপারসেক্সুয়াল-ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত হয়ে পড়তে পারে। সাধারণত হাইপারসেক্সুয়াল ডিজঅর্ডারে আক্রান্তদের মধ্যে, পুরুষ এবং নারীর অনুপাত হল ৫:১।
কি ধরনের পরিস্থিতিকে আমরা হাইপার সেক্সুয়াল ডিজঅর্ডার বলবোঃ
১। বার বার প্রচন্ড যৌন মিলনের আকাঙ্ক্ষা থাকা সত্তেও মিলনের পর পরিতৃপ্ত হওয়া বা না হওয়া।
২। যৌন আকাঙ্খা কোন নিয়ন্ত্রণের ভিতরে না থাকা। যখন তখন, পাবলিক প্লেসে বা কর্মক্ষেত্রে যৌন উত্তেজনা অনুভুত হওয়া।**
৩। হতাশা, বিষণ্ণতা, উদ্বেগ এবং মানসিক চাপ থেকে ক্ষণিক মুক্তির জন্য পালানোর পথ হিসাবে বার বার সেক্স কে ব্যবহার করা। একে বলা হয় কম্পালসিভ বিহ্যাভিয়ার।***
৪। ইম্পালসিভ বিহ্যাভিয়ার যেমন – স্বতস্ফূর্ত ভাবে যৌন কর্মকাণ্ডে বার বার লিপ্ত হতে হতে এক সময় এটাতে খুব বেশি অভ্যস্ত এবং নির্ভরশীল(ডিপেন্ডেন্ট) হয়ে পড়া যা জীবনের অন্যন্য আনুষঙ্গিকতায় বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে থাকতে পারে।*

৫। বার বার এমন ধরনের যৌন আচরনে জড়িয়ে পড়া যেটা সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত না। (এই অংশে আপনার যৌন কার্যকলাপ এর প্রভাব সমাজের অন্যদের উপরও পড়ছে ধরে নিয়ে বলা হয়েছে। ব্যক্তিগত ব্যাপারে বলা হয়নি)
হাইপার সেক্সুয়াল ডিজঅর্ডার এমন একটি বিতর্কিত বিষয় যে, এটা ঠিক কিভাবে নির্ণয় (ডায়াগনোসিস) করা হবে তা নিয়ে এখনো পর্যন্ত গবেষকগন কোন উপসংহারে পৌছুতে পারেন নি। কিন্তু তা্র মানেই এই না যে এই জিনিষটা মানুষের মাঝে দেখা যায় না। বরং এটা বেশ ভাল পরিমানেই দেখা যায়। বরং ‘পেয়ার রিভিউড জার্নাল’ গুলতে ‘হাইপারসেক্সুয়ালিটির’ কেস ‘প্যারাফিলিয়ার’ কেস থেকেও উল্লেখযোগ্য ভাবে বেশি বার অন্তর্ভুক্ত হয়। পশ্চিমা চিকিৎসা ব্যবস্থায় ১৭০০ সেঞ্চুরির শেষের দিকে এই বিষয়টা সর্ব প্রথম ক্লিনিক্যালি উল্লেখ করা হয় এবং এর পর ‘শুধুমাত্র ১৭০০ থেকে ১৯৭০’ সালের ভিতরেই অনেক ডাক্তার এবং প্যাথলজিস্ট বা ক্লিনিশিয়ান্স এর মাধ্যমে অসংখ্য বার বিষয়টা প্রকাশ করা হয়। তবে এর সাথে সাইকোলজিক্যাল, প্যাথলজিক্যাল, নিউরোলজিক্যাল এবং সামাজিক ব্যাপার যুক্ত থাকায় হাইপারসেক্সুয়ালিটির ব্যাপারটা মূলত ডায়াগনোসিস এর জন্য জটিল হয়ে গেছে।
হাইপারসেক্সুয়াল-ডিজঅর্ডার নির্ণয় করার জন্য বেশ কয়েকটি ডায়াগনোসিস মডেল আছে। হাইপারসেক্সুয়াল-ডিজঅর্ডার কে শুরুতে ‘নন-প্যারাফিলিক’ ধরে নিয়ে DSM-V এ অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রস্তাবিত যে ডায়াগনোসিস মডেল তা মোটামুটি এরকমঃ
১। ৬ মাসের বেশি সময় ধরে একটানা বার বার তীব্র ইচ্ছার বশবর্তী হয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেয়ে যৌন ফ্যান্টাসি তে ভুগা বা যৌন আচরনে জড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি নিচের ৫ টার ভিতরে যেকোন ৩ টি আচরনে জড়িয়ে পড়াঃ
১.১। দিনের অনেকটা সময় একটানা যৌন ফ্যান্টাসির ভিতরে থাকা, এবং যৌন আচরনে জড়িয়ে পড়া এবং এটা প্রায় প্রতিদিনই চলতে থাকা, যা জীবনের অন্য লক্ষ্য বা নন-সেক্সুয়াল কাজে বাধার সৃষ্টি করছে উপলব্ধি করা। যেমন- কাজ, পড়াশুনা ইত্যাদিঃ
১.২। ‘শুধুমাত্র’ হতাশা, উদ্বেগ, বিরক্তি বা একঘেয়েমি কাটানোর জন্য প্রতিদিনই অথবা দিনে একাধিকবার সেক্সুয়াল ফ্যান্টাসি এবং সেক্সুয়াল এক্টিভিটিতে জড়ানো। যেমন মাস্টারবেশন, বা পর্ণ দেখা(কম্পালসিভ বিহেভিওরঃ)
১.৩। দৈনন্দিন জীবনের চাপ কে পাশ কাটানোর জন্য সেক্সুয়াল ফ্যান্টাসি বা সেক্সুয়াল এক্টিভিটিতে প্রতিদিন বা দিনে একাধিকবার জড়িয়ে পড়া (ইম্পালসিভ বিহেভিওরঃ)
১.৪। বার বার এই ধরনের আচরন থেকে বেরিয়ে আশার চেষ্টা করেও বার বার ব্যর্থ হওয়া। (অতিরিক্ত সেক্সুয়াল ফ্যান্টাসি বা অতিরিক্ত সেক্সুয়াল এক্টিভিটি থেকে নিজেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেও সফল না হওয়া। (উইথড্রয়াল সিম্পটমঃ)
১.৫। নিজের বা অন্যের শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হচ্ছে এটা উপলব্ধি করার পরও সেটাকে উপেক্ষা করে বার বার সেক্সুয়াল এক্টিভিটিতে জড়িয়ে পড়া, (সেক্সুয়াল এডিকশনঃ)
২। অতিরিক্ত সেক্সুয়াল এক্টিভিটি, সেক্সুয়াল ফ্যান্টাসির ফলে সামাজিক, কর্মক্ষেত্র বা জীবনের অন্যন্য এলাকা গুলতে ক্ষতি হওয়া এবং চিকিৎসাগত ভাবেই (ক্লিনিক্যালি) উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিগত মর্মপীড়ার স্বীকার হওয়াঃ
৩। এবং উপরের আচরণ গুলো ড্রাগ ব্যবহার বা কোন ঔষধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কিনাঃ
পাশাপাশিঃ
১। সাপ্তাহিক মাস্টারবেশন ফ্রিকুয়েন্সিঃ
২। সাপ্তাহিক পর্ণ দেখার সময়ের পরিমানঃ
৩। টেলিফোন সেক্স, সাইবারসেক্সে আসক্তির পরিমান, ইত্যাদিঃ
উপরের বর্ণিত মডেল বা অনুরূপ মডেলের ভিত্তিতে করা বহু রিপোর্টের কয়েকটি রিপোর্ট নিচে তুলে ধরা হলঃ
নন ক্লিনিক্যাল স্যাম্পেল (যেখানে অধিকাংশই সাধারন মানুষ, আক্রান্ত নয় এমন) এর উপরে করা কিছু রিপোর্টঃ
১। ১৯৪৮ সালে, ৫৩০০ আমেরিকান পুরুষের উপর করা একটা রিপোর্টে বলা হয় মাত্র ৭.৬% পুরুষ সপ্তাহে ৭ বা ৭ বারের বেশি সেক্সুয়াল এক্টিভিটিতে যুক্ত ছিল প্রায় ৫ বছরের বেশি সময় ধরে। (মাস্টারবেশন, ইটারকোর্স বা অন্যন্য)।
২। ১৯৮৭ সালে, ১০৭৭ জন হাইস্কুল ও কলেজ ছাত্রের উপর করা রিপোর্টে মাত্র ৫% হাইস্কুল ও ৩% কলেজ ছাত্র সপ্তাহে ৭ বা ৭+ টাইম সেক্সুয়াল এক্টিভিটিতে যুক্ত ছিল।
৩। ২০০৭ সালে, ৬৪৫৮ জন ‘সাধারন পুরুষ’ এবং ৭৯৩৮ জন ‘সাধারন নারীর’ উপর ইন্টারনেট ভিত্তিক এক জরিপে দেখা যায় ১০৭ জন পুরুষ (১.৬%) এবং ৬৯ জন নারী (.৮%) “কম্পালসিভ সেক্সুয়াল বিহ্যাভিওর” এ আক্রান্ত এবং ডাক্তারি সহায়তা চাচ্ছে।
৪। ২০০২ এর একটা রিপোর্টে বলা হয় অধিকাংশ স্কুল/কলেজ স্টুডেন্ট সপ্তাহে এভারেজে ৩ বার মাস্টারবেশনে যুক্ত ছিল।
৫। সুইডিশ কমিউনিটিতে, ২৪৫০ জন সাধারন পুরুষ এবং নারী উপর করা রিপোর্টে, ১২.২১% পুরুষ (১২৪৪ জনের ভিতরে) এবং ৬.৮% নারী (১১৭১ জনের ভিতর) সব থেকে বেশি সেক্সুয়াল এক্টিভিটিতে যুক্ত ছিল (৭ বা ৭+ টাইম) এবং বেশি একটিভ গ্রুপের ভিতরে অনেকেই হাইপারসেক্সুয়াল ডিজঅর্ডার সহ সল্প মাত্রার প্যারাফিলিয়া আক্রান্ত ছিল।
ক্লিনিক্যাল স্যাম্পেলের (ডাক্তারি সহায়তা চাইছেন এমন) উপর করা কিছু রিপোর্টঃ
১। ২০০৩ এর রিপোর্ট, সপ্তাহে ৭+ টাইম সেক্সুয়াল এক্তিভিটিসে (ইটারকোর্স বা মাস্টারবেশন, অন্যন্য) যুক্ত ২৪০ জনের ভিতরে ৭২-৮০% কে দেখা যায় হাইপারসেক্সুয়াল ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত এবং ডাক্তারি সহায়তা চাইতে। ফ্রিকুএন্সি যদি ৫+ ধরা হয় তবে সংখ্যাটা দাড়াবে ৯০%।
২। ২০৭ জনের একটি কম্পালসিভ গ্রুপের উপর জরিপে ফ্রিকুয়েন্ট বিহ্যাভিওর এর ভিত্তিতে, ৮১.১% পর্ণগ্রাফী ব্যবহার, ৭৮.৩% মাস্টারবেশন, ১৮.১% সাইবারসেক্স কে রিপোর্ট করে।
৩। ১৯৯৭ সালে, ডাক্তারি সহায়তা চাইতে আসা ৫৩ জনের (৪৭ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী) ৯৮% এর ভিতরে কমপক্ষে ৩ বারের বেশি উইথড্রয়াল সিম্পটম দেখা যায়। ৯৪% এর ভিতরে চেষ্টা করেও কয়েকবার নিজেকে কন্ট্রোল করতে ব্যর্থ হওয়া, ৯২% এর ভিতরে নিজের ক্ষতি হচ্ছে বুঝেও মাত্রাতিরিক্ত সেক্সুয়াল এক্টিভিটিতে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা পাওয়া যায়।
৪। ২০০৪ সালে ৮৭৬ জন ও ২০০৮ সালে ৩৯০ জন কলেজ স্টুডেন্ট এর উপরে করা গবেষণায় দেখা যায়, যারা বেশি সেক্সুয়ালি এক্টিভ ছিল (মাস্টারবেশন) তারা বেশি “ কম্পালসিভ বিহ্যাভিওরে” এবং “সেক্সুয়াল রিস্ক-টেকিং বিহ্যাভিওর” এ আক্রান্ত ছিল।
৫। ১৯১ জন হাইপারসেক্সুয়াল এবং ৬৭ জন সাধারন পুরুষের উপরে করা তুলনামুলক জরিপে দেখা যায় হাইপার সেক্সুয়ালিটিতে আক্রান্তরা সেক্সুয়াল এডিকশনের স্বীকার।
৬। ২০০৭ সালে, ১০২৬ জন ল্যাটিনো পুরুষের উপর করা জরিপে দেখা যায় যারা বেশি সেক্সুয়ালি কম্পালসিভ ছিল তারা বেশি আনপ্রোটেক্টেড সেক্স এবং বেশি সেক্সুয়াল পার্টনারের সাথে যুক্ত ছিল।
৭। ২০০৫ সালে, মোট ২০৪ জনের (১১২ জন নারী এবং ৯২ জন পুরুষ) উপরে জরিপে দেখা যায়, ৩১% স্যাম্পেল জীবনে কমপক্ষে একবার হলেও সেক্সুয়ালি ইম্পালসিভ, ৪.৯% সারা জীবনই সেক্সুয়ালি কম্পালসিভ ছিল, এবং এদের প্রতি ১০ জনের ৯ জনই বর্তমানে সেক্সুয়ালি কম্পালসিভ হিসাবে নিজেদের কে রিপোর্ট করে।
৮। সেক্স হেল্প ডট কমের ইন্টারনেট ভিত্তিক এক জরিপে ৫০০৫ জন পুরুষ ও ১০০৩ জন নারীর অংশগ্রহণ করে, সেখানে সেক্স এডিকশন স্ক্রিন টেস্টে দেখা যায় সেক্সুয়াল কম্পালসিভ গ্রুপ নন-কম্পালসিভ গ্রুপ এর চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় ইন্টারনেট ভিত্তিক সেক্সুয়াল কন্টেন্ট এবং সেক্সুয়াল এক্টিভিটিতে অংশ নিচ্ছেন, অনেক বেশি টাইম সেক্সুয়াল আর্টিকেল ও ম্যাটেরিয়ালের পেছনে ব্যায় করছেন। কম্পালসিভিটি দেখা যায় ২০১৩ জন পুরুষ এবং ৫৫৩ জন নারীর ক্ষেত্রে। যেখানে নন-কম্পালসিভ গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ছিল মোট ২৫৬৬ জন।
৯। ২০০৭ সালে, জার্মান সোসাইটিতে হাইপার-সেক্সুয়ালিটিতে আক্রান্ত ডাক্তারি সহায়তা চাইতে আসা ৭৮ জন পুরুষ এবং ১৯ জন নারীর উপরে জরিপে দেখা যায় তাদের ৪৮.৭% পর্ণগ্রাফী ডিপেন্ডেন্সি, ৩৪.৬% কম্পালসিভ-মাস্টারবেশন এবং ২০.৫% এলোমেলো/অনিয়ন্ত্রিত সেক্সুয়াল আচরণে ভুগছিল।
১০। ২০০৯ সালে ডাক্তারি সহায়তা চাইতে আসা ৫৯ জন পুরুষের ভিতরে ৫৬% কম্পালসিভ-মাস্টারবেশন, ৫১% পর্ণগ্রাফী ডিপেন্ডেন্সি, ৩৯% অনেক গুলো মিলিত অনিয়ন্ত্রিত সেক্সুয়াল সমস্যায় আক্রান্ত ছিল।
এছাড়া বিভিন্ন সময়ে করা আরও কয়েকটি জরিপে দেখা যায় ৩৬ জন পুরুষ ৮ জন নারী, ২৩২ জন পুরুষ ৫৮ জন নারী, ৭৮ জন পুরুষ ১৯ জন নারী হাইপারসেক্সুয়ালিটি জনিত সমস্যায় আক্রান্ত এবং ডাক্তারি সহায়তা চাইছেন।
উপরের সাধারন মানুষের উপরে জরিপ এবং ডাক্তারি সহায়তা চাইতে আসা জরিপের তালিকা গুলি মেলালে দেখতে পাওয়া যায় যে হাইপারসেক্সুয়ালিটিতে আক্রান্ত লিস্ট এর বেশিরভাগি অতিরিক্ত পরিমান সেক্সুয়াল এক্টিভিটি (সপ্তাহে ৭+ টাইম মাস্টারবেশন বা ইন্টার কোর্স, অন্যন্য), কম্পালসিভ-মাস্টারবেশন, ইম্পালসিভ-সেক্স, সেক্স এডিকশন, পর্ণ এডিকশন ইত্যাদির সাথে যুক্ত ছিলেন।
পরবর্তীতে আমরা ব্রেইনের উপরে পর্ণগ্রাফী এডিকশন এবং এক্সেসিভ মাস্টারবেশন এর প্রভাব গুলো দেখবো। তার আগে হাইপারসেক্সুয়ালিটিতে আক্রান্ত দুজন মানুষের সংক্ষিপ্ত গল্পঃ
১। স্টাডি-১-পর্ণ এডিকশনঃ রাজেশ ২২ বছরের যুবক, যাকে ইন্টারনেট পর্ণগ্রাফী এডিকশনের জন্য ডাক্তারি সহায়তা নিতে পাঠানো হয়। সে বলেছিল যে সে প্রতিদিন ৩/৪ ঘন্টা পর্ণগ্রাফী দেখে। কিন্তু সে নিশ্চিত না তার কোন সমস্যা আছে কিনা, সে ১৪ বছর বয়স থেকে এটা শুরু করে এবং বর্তমানে দিনে ১-৩ বার মাস্টারবেট করে। সে বলে যে, সে একই জিনিষ বার বার দেখতে পছন্দ করে না, তাই সে সব সময় নতুন ছবি এবং ভিডিও খোজে, যাতে তার অনেক সময় ব্যয় হয়, এবং সে ক্লাসেও মাঝে মাঝে দেরি করে পৌছায় কারন সে সময় সে মাস্টারবেশন করছিল। সে আরও বলে যে, সে এটাতে এখন ক্লান্ত হয়ে গেছে, সে নিজেকে একটা চক্রাকার খাতে আবদ্ধ মনে করে, সে অন্য গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল কাজে বা দৈনন্দিন কাজে সময় দিতে পারে না এবং জীবন কে তার এখন কঠিন মনে হয়।
২। স্টাডি-২-অনুতপ্ত বোধ করাঃ কেলি ৪০ বছর বয়স্কা হেটারোসেক্সুয়াল নারী, ৯ বছর বিবাহিত এবং পূর্বে অত্যাধিক কম্পালসিভ আচরণ ও দীর্ঘস্থায়ী অবসাদগ্রস্ত হিসাবে যাকে সনাক্ত করা হয়েছিল। এবং বর্তমানে তাকে তার গৃহ চিকিৎসক সেক্সুয়াল এডিকশনের জন্য বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠায়। সে বলে যে, তার যদি এনার্জি থাকতো তাহলে সে প্রতিদিন ইচ্ছে মতন সেক্স করত। সে সপ্তাহে দু বার ভাইব্রেটর ব্যবহার করে যখন তার স্বামী বাসায় থাকে না, কারন সে তার সাথে ইন্টারকোর্স এ পরিতৃপ্ত না, এবং তার স্বামী এটা জেনে কষ্ট পেতে পারে তাই তাকে জানতে দিতে চায় না। কেলি বলে যে, সে প্রায়ই চিন্তা করে “কোন এক জনের সাথে সে সেক্স করছে, যাদের কে তার তখন মনে আসে, সে যে কেউই হতে পারে”। এবং এসবের জন্য সে অনুতপ্ত বোধ করে।
এবং এধরনের পরিস্থিতি কে সেক্সুয়ালি গিল্ট ফিলিং বলা হয়, যা হতাশা, মন খারাপ বাড়িয়ে দেয় এবং প্রাত্যাহিক জীবনে ব্যঘাত ঘটায়।
হাইপার সেক্সুয়ালিটির কেস গুলোতে বিভিন্ন জরিপ এবং রিকোভারি সেন্টারে অংশগ্রহণকারীদের করা কনফেশন থেকে জানা যায় বেশিরভাগ হাইপারসেক্সুয়াল সাবজেক্টই সপ্তাহে প্রতিদিনই (প্রায় ১-৩ ঘন্টা করে) পর্ণ দেখায় যুক্ত ছিলেন। এবং স্বভাবতই পর্ণ দেখার সাথে মাস্টারবেশনের একটা সম্পর্ক চলে আসে।
পর্ণগ্রাফী এবং ব্রেইনঃ যৌনতা হচ্ছে জীবের আদিম প্রবৃত্তি যা টিকে থাকা এবং বংশ বৃদ্ধির জন্যই প্রকৃতির গড়া ডিজাইন। তাই মানুষের ব্রেইন বাস্তবের যৌন ইঙ্গিত বা যৌনতা প্রকাশ করে এমন ছবি বা ভিডিওর ক্ষেত্রে খুব সহজেই সাড়া দেয়। পর্ণগ্রাফী ও এর ব্যতিক্রম না। পর্ণগ্রাফীর সল্প ব্যবহার যৌন আকাঙ্খ্যা বৃদ্ধি এবং পার্টনার ভিত্তিক সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটালেও দীর্ঘ দিন ধরে অতিরিক্ত মাত্রায় পর্ণগ্রাফী ব্যবহার বা পর্ণগ্রাফী এডিকশন ব্রেইনের জন্য এবং সেক্সুয়াল লাইফের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। একটা স্বাভাবিক সুস্থ পার্টনার ভিত্তিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যৌন সঙ্গমের চাহিদাটাই শুধু মুখ্য নয়, সেখানে স্পর্শ থাকে, পরস্পরের চোখে তাকানো থাকে, পারস্পরিক বোঝাপড়া থাকে। কিন্তু পর্ণইন্ডাস্ট্রি গুলো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির মতন হওয়ায় সেখানে বাস্তবতার চেয়ে দর্শক কে আকৃষ্ট করার উপায়ই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। তাই বাস্তবে স্বাভাবিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যেটা সাধারনত হয়না এমন ধরনের ভঙ্গিমা এবং উপায়ে যৌনতাকে পর্ণগ্রাফী গুলতে প্রেজেন্ট করা হয়। তাই একশন বা এডভেঞ্চার ফিল্ম এর মতন মানুষ সহজেই পর্ণগ্রাফী তে আকৃষ্ট হয়, বরং এর সাথে দৈহিক ও মানসিক সুখের অনুভুতি যুক্ত থাকায় ফিল্ম থেকেও পর্ণগ্রাফী বেশি সফল বিজনেস। পার্টনার ভিত্তিক সম্পর্ক বা পর্ণগ্রাফী দেখার সময় আমাদের মস্তিষ্কে হরমন নিঃসরণ হয়। আর এই হরমন এর উচ্ছ্বাসই আমাদের ভাল লাগার অনুভূতি দিয়ে থাকে। ডোপামিন এমন একটি হরমন। পর্ণগ্রাফী দেখলে যা হয় তা হল শুরুর দিকে পর্ণ দেখার সময় পর্ণগ্রাফীর বিশেষ ভাবে তৈরি বৈশিষ্টের জন্য আমাদের মস্তিষ্কের এই ডোপামিনের নিঃসরণ স্বাভাবিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যা হওয়ার কথা তার তুলনায় অনেক বেশি হয়। এবং এই বেশি বেশি ডোপামিনের উচ্ছ্বাস দর্শক কে খুব বেশি উদ্দীপ্ত করতে পারে যাকে ‘ডোপামিন-স্পাইক’ বলে। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন স্টাইলের পর্ণ দেখতে দেখতে আমরা সেগুলো দেখায় খুব বেশি অভ্যস্ত হয়ে পড়ি। তাই তখন আর সল্পসময় ধরে বা ভালবাসাপূর্ণ রোমান্স কে রিপ্রেজেন্ট করে এমন ধরনের পর্ণ দেখায় আমাদের এই ডোপামিনের আর নিঃসরণ হয় না, বা নিঃসরণের পরিমান কমে যায়। কিন্তু ততদিনে আমাদের মস্তিষ্কের ডোপামিন রিসেপ্টর গুলো বেশি বেশি ডোপামিনের প্রবাহে অভ্যস্ত হয়ে গেছে, তাই কম পরিমান ডোপামিন তাকে আগের সেই ভাললাগা সুখের অনুভূতি দিতে পারে না। তাই পর্ণ দেখতে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া এবং এডিকশনে পরিনত হওয়া মানুষ গুলো ক্রমাগতই অতিরিক্ত ডোপামিনের স্বাদ পাবার জন্য পর্ণ দেখার সময়ের পরিমান বাড়িয়ে দেয় এবং হার্ডকোর শ্রেণীর এবং স্বাভাবিক সম্পর্কের বাইরে যেয়ে শুধুমাত্র নাটকীয় আবহে তৈরি পর্ণ গুলোই বেশি বেশি খুজতে থাকে। এবং মুভি স্টাইলে তৈরি এই পর্ণগ্রাফীর জালে খুব বেশি জড়িয়ে গেলে যেটা হয় তা হল স্বাভাবিক পার্টনার ভিত্তিক রিলেশনে আর ‘ওই পরিমান’ ডোপামিনের উচ্ছ্বাস থাকে না যেটা তাকে সুখের অনুভূতি দিতে পারে, কারন বাস্তবের সম্পর্ক পর্ণগ্রাফীর মতন না। তাই পর্ণ দেখায় সুখ খুজে পেলেও বাস্তবে আর সুখের অনুভূতি পাওয়া যায় না। এই অবস্থা কে বলে “একমুখী নিউরোলজিক্যাল সুপার হাইওয়ে” যেটা কাজ করে পাহাড়ি রাস্তায় মোটর সাইকেল রেস বা বরফের মাঝে স্কি করার মতন। একটা বাধা পেরোলেই পরের বাধা আরও উঁচুতে থাকে। তাই পর্ণ এডিক্টরাও ক্রমাগত বেশি সময় ধরে পর্ণ দেখতে থাকে এবং হার্ড থেকে হার্ডকোর পর্ণের দিকে ঝুকতে থাকে সুখের নেশায়। ড্রাগ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এই রকম একই জিনিষই হয়। তাছাড়াও পর্ণ আমাদের যৌন ফ্যান্টাসি কে ডাল-পালা গজাতে সাহায্য করে। মানুষ বেশি বেশি পর্ণে দেখানো স্টাইল গুলো নিয়ে ভাবতে থাকে এবং যেই জিনিষ মানুষ পর্ণে দেখে অভ্যস্ত বাস্তবেও তার প্রতিফলন ঘটাতে চায়, ফলাফল হিসাবে বাস্তবে সেটা প্রায়ই সম্ভব হয়ে ওঠে না বলে পার্টনারের সাথে সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং ওই ধরনের স্টাইল ছাড়া সেও আর তৃপ্তি পায় না।
নিচের বাম পাশের এক নাম্বার ছবিতে সাধারন স্বাস্থ্যবান মানুষ এবং পর্ণ এডিক্ট দের ডোপামিনের লেভেলের তুলোনার ইমেজিং দেখানো হয়েছে।

porn on brain image-01
এছাড়াও পর্ণগ্রাফীতে বিভিন্ন ধরনের “ফেটিজম” কে খুব বেশি বেশি ব্যবহার করতে দেখা যায় তাই পর্ণ এডিক্টরা বিভিন্ন ধরনের ‘ফেটিজমেও” অভ্যস্ত বা আক্রান্ত হয়ে পড়তে পারে!, কারন মানুষের মাঝে অনুকরণ করার প্রবনতা খুব বেশি, একে বলা হয় “মিরর-নিউরন ইফেক্ট”। তা ছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে যে একজন সঙ্গীর সাথে দীর্ঘদিন ধরে সঙ্গমের ফলে সঙ্গমের সময়কাল বাড়ে যেটা হয়ত আনন্দদায়ক, কিন্তু প্রায়ই আলাদা আলাদা সঙ্গীর সাথে মীলনের ফলে মীলনের সময়কাল কমে যায়। পর্ণে আলাদা আলাদা মানুষ কে প্রতিদিন দেখতে থাকলে এডিক্টরা তাই সাধারনত শীঘ্র বা দ্রুত অরগাজম/ইজাকুলেশনের স্বীকার হয়, উপরের ডান পাশের দুই নাম্বার ছবিতে সেটাই দেখানো হয়েছে। এছাড়াও যেটা হয় তা হল মানসিক চাপ বা উদ্বেগ, হতাশা কে পাশ কাটাতে পর্ণ দেখায় অভ্যস্ত হয়ে গেলে উদ্বেগ বা হতাশ থাকেলই পর্ণ দেখতে ইচ্ছে করে এবং পর্ণের সাথে সাধারনত মাস্টারবেশন ও যুক্ত থাকে, তাই পর্ণ এডিক্টরা সাধারনের তুলোনায় বেশি পরিমান মাস্টারবেট করে থাকে, যেটা উদ্বেগ বা হতাশাকে আরও বাড়িয়ে তোলে, এবং মানুষ ফাইনালি “কম্পালসিভ-বিহ্যেভিওরে” আক্রান্ত হয়ে পড়ে।
“পর্ণগ্রাফীর” প্রতি কম্পালসিভ-সেক্সুয়াল-বিহ্যাভিওরে আক্রান্ত গ্রুপ এবং নরমাল স্বাস্থ্যবান গ্রুপের ভিতরে তুলনামূলক রেসপন্স(নিচে):
image-02

পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের কে একটা নিয়ন্ত্রিত নির্দিষ্ট অল্প সময় ধরে পর্ণগ্রাফী রিলেটেড ভিডিও দেখতে দেওয়া হয় এবং তাদের মস্তিষ্কের নিউরাল এক্টিভিটি ইমেজিং এর পর গ্রাফ করে দেখা যায় যে, স্বাস্থ্যবান ভল্যেন্টিয়ার দের তুলনায় সেক্সুয়াল-কম্পালসিভিটিতে আক্রান্ত গ্রুপ পর্ণগ্রাফীর প্রতি তুলনামূলক বেশি সাড়া দিচ্ছে। উপরের গ্রাফে নিউরাল এক্টিভিটি দেখানো হয়েছে যেখানে কালো রঙে আছে সাধারন স্বাস্থ্যবান গ্রুপ এবং লাল রঙে সেক্সুয়াল-কম্পালসিভ গ্রুপ কে দেখানো হয়েছে।
পর্ণগ্রাফী জনপ্রিয়তা পায় পৃথিবী ব্যাপি ইন্টারনেটের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ইন্টারনেট সহজ লভ্য হবার পরই। এবং একে একে প্রায় সব দেশেই পর্ণ ইন্ডাস্ট্রির ব্যবসা গড়ে উঠতে থাকে। এটা সাধারনত হয় ১৯৯৫ সালের পরেই। তাই পর্ণগ্রাফী এবং এর সাথে এডিকশন বা অন্যন্য সমস্যার শনাক্ত করণের ব্যাপারটাও খুব বেশি দিনের নয়। এজন্যই এই সেক্টরে এখনো যথেষ্ট পরিমান গবেষণা হয়নি। আর তাছাড়া পর্ণ ইন্ডাস্ট্রি গুলোর চাহিদা এবং আয়ের পরিমাণও ভয়াবহ রকমের বেশি, তাই তাদের এই শিল্প ধংস হয়ে যাক নিশ্চয়ই ইন্ডাস্ট্রি মালিকরা সেটা চাইবে না। এজন্যই “পর্ণ এডিকশন” এবং এর “খারাপ প্রভাব” বলে কিছু নেই এমন মতবাদও বাজারে প্রচলিত আছে।
নিচের পর্ণ নিয়ে গবেষণা করছেন এমন একজন গবেষকের এর ইউটিউব ভিডিওর লিঙ্ক দেওয়া হলঃ

নিচের অংশে ২০০৬ সালের করা পৃথিবী ব্যাপি পর্ণগ্রাফী সম্পর্কিত পরিসংখ্যানের উপাত্ত সংক্ষেপে তুলে ধরা হল।
ইন্টারনেট পর্ণ গ্রাফী পরিসংখ্যান-২০০৬- By Jerry Ropelato
সময় ভিত্তিক পরিসংখ্যান(২০০৬):
প্রতি সেকেন্ডে গড়েঃ $৩০৭৫ ডলার ব্যবহারকারীরা খরচ করছে।
প্রতি সেকেন্ডে গড়েঃ ২৮২৫৮ জন পর্ণ দেখছে
প্রতি সেকেন্ডে – ৩৭২ জন সার্চ ইঞ্জিনে পর্ণ খুজছে
প্রায় প্রতি ৩৯ মিনিটে একটি নতুন ভিডিও আপলোড হয়।
বিদ্রঃ এটা ২০০৬ সালে হওয়া জরিপ থেকে প্রাপ্ত ডাটা। বর্তমানে রাজস্ব, পর্ণ-পেজ, নির্মাতা, ভোক্তা, প্রভৃতির সংখ্যা এই পরিসংখ্যানের তুলনায় “অনেক বেশি”।
Porn-Stat
পর্ণইন্ডাস্ট্রি গুলোর মোট আয়ও, অনলাইনের অন্যন্য জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানের মিলিত আয় থেকে বেশি।
এছাড়া ২০-০১-২০১৬ইং তারিখে নেওয়া একটি স্ন্যাপ-শট যেখানে চাইল্ড পর্ণগ্রাফীর চাহিদা তুলে ধরা হয়েছেঃ
image-03
বাংলাদেশ ও পর্ণগ্রাফীঃ পর্ণগ্রাফী ব্যবহারে বাংলাদেশ ও পিছিয়ে নেই। ১৯৯০ এর শুরুর দিকে ডায়াল-আপ কানেকশনের মধ্য দিয়ে ইন্টারনেট এর ব্যবহার শুরু হয় বাংলাদেশে, এবং ২০০৫ এর ভিতরেই ১৮০+ রেজিস্টারড ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (ISP) তালিকাভুক্ত হয়। এরপর ২০০৮ সালে সাবমেরিন ক্যবলের আওতায় চলে আসে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে ২০১৪ সালে ইন্টারনেটের মুল্য অনেক কমে যায়। ২০১৫ থেকেই সারা দেশের প্রায় সব মোবাইল অপারেটর ৩জি প্রযুক্তি চালু করে। সেই সঙ্গে ২০০৯ সালে যেখানে প্রতি মেগাবাইট মোবাইল ইন্টারনেট ডাটার মুল্য ছিল প্রায় ২০ টাকা সেখানে ২০১৫ সালে এসে সেই মুল্য দাড়ায় গড়ে প্রতি গিগাবাইট ডাটা ১৫০ টাকা। এছাড়া ব্রডব্যান্ড এবং ওয়াইম্যাক্স সংযোগের উচ্চ গতির আনলিমিটেড ইন্টারনেট ব্যবহার তো আছেই। শুধু ইন্টারনেট ব্যবহার না, ইন্টারনেটের সঙ্গে একই হারে তাল মিলিয়ে ব্যক্তিগত মোবাইল এবং কম্পিউটারের ব্যবহারও জনপ্রিয়তা পায়। ২০০৯ সালে যেখানে সিম্বিয়ান অপারেটিং এর নোকিয়া বা আইওএস ফোনের মুল্য ছিল গড়ে ২০ হাজার এর কাছাকাছি সেখানে এন্ড্রয়েড জনপ্রিয়তা পাওয়ায় এবং চায়না স্মার্ট ফোন বাজার দখল করায় ৪জি প্রজুক্তির স্মার্ট ফোন ২০১৩/২০১৪ তে এসেই ৫-১০+ হাজার টাকায় পাওয়া যেতে শুরু করে। এবং কম্পিউটার এর মুল্য ও ২০১৪ তে এসে দাড়ায় গড়ে ২৫ হাজার টাকা।
এবং ইন্টারনেট ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় শুধু পর্ণ দেখা না, ছোট পরিসরে বাংলাদেশ পর্ণ বানানো এবং পর্ণগ্রাফী আর্টিকেল তৈরির সাথেও যুক্ত হয়। এর প্রমান পাওয়া যায় “ইউটিউব” বা “গুগলে” বিভিন্ন প্রচলিত বাংলা কি-ওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করলে যে রেজাল্ট দেখায় তার থেকেই।
এছাড়া এই সিরিজের প্রথম-পর্বে একটা পরিসংখ্যান দেওয়া হয়, যেখানে ২০১০-২০১৫ সালের ভিতরে (যে সময়টাতে মোবাইল এবং ইটারনেট প্রযুক্তিও জনপ্রিয়তা পায়) বাংলাদেশে চাইল্ড-রেপ ভিক্টিম এর পরিমানও আশঙ্কা জনক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে তা নির্দেশ করে। একই সময়ের ভিতরে এডাল্ট রেপ ভিক্টিম এর সংখ্যা বৃদ্ধির হারও আনুপাতিক ভাবে উল্লেখযোগ্য।
“হাইপারসেক্সুয়ালিটি” সম্পূর্ণ আলাদা সমস্যা। কিন্তু হাইপারসেক্সুয়ালিটির সাথে “প্যারাফিলিয়ার” সম্পর্কটা এমন যে, “হাইপারসেক্সুয়ালিটিতে আক্রান্ত দের অনেকেই আবার প্যারাফিলিয়ায় ও আক্রান্ত। তাছাড়া হাইপারসেক্সুয়ালিটির সমস্যা আছে এমন অনেকেই খুব বেশি পর্ণ এডিক্ট এবং, পর্ণগ্রাফীর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ‘ফেটিজম এবং রেপ ধরনের স্টাইল কে’ রিপ্রেজেন্ট করেও পর্ণ বানানো হয়। তাই মানুষের ব্রেইনের “মিরর-নিউরন” মেকানিজমের প্রভাবের কারনে অনেকেই সেটাতে উদ্বুদ্ধ হতে পারে। যদিও স্পষ্ট কোন বর্ণনা নেই কেউ সেটায় উদ্বুদ্ধ হবে কিনা!। এটা ব্যক্তির মানসিকতা, শিক্ষা, নৈতিকতা অনেক কিছুর উপরে নির্ভরশীল। কিন্তু তারপরো বাংলাদেশে রেইপ ভিক্টিমের সংখ্যা আশঙ্কা জনক ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এ ব্যাপারে আমাদের দেশ বড় পরিসরে গবেষণার দাবি রাখে।
পর্ণগ্রাফী এডিকশন এবং কম্পালসিভ সেক্স বা কম্পালসিভ মাস্টারবেশন কি ধরনের ক্ষতি করেঃ
১। যৌন উত্তেজনা কমে যেতে পারে যা ইরেক্টাইল ডিজফাংশন নামে পরিচিত।
২। যৌন আচরনে অর্গাজম লাভ না করা এবং যৌনাঙ্গে অনুভুতি/সেন্সিটিভিটি কমে যাওয়া।
৩। খুব বেশি মাস্টারবেশনের ফলে যৌনাঙ্গের নার্ভ এন্ডিংস গুলো এবং ছোট বড় ব্লাড ভেসেল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যে কারনেই মুলত সেন্সিটিভিটি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
৪। পর্ণ দেখে সুখ খুজে পেলেও বাস্তব জীবনে যৌনাকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়া।
৫। ফেটিজমে আক্রান্ত হয়ে পড়া।
৬। মস্তিষ্কের গ্রে-ম্যাটেরিয়াল কমে যাওয়া, যা স্মৃতি শক্তির সাথে সম্পর্কিত।
৭। হতাশা, উদ্বেগ বা মানসিক চাপে ভুগা এবং সামাজিক সম্পর্কের অবনতি ঘটা এবং অমনযোগী হয়ে পড়া।
তবে গবেষণায় দেখা গেছে অন্যন্য এডিকশন গুলোর মতনই পর্ণ এডিকশন থেকেও নিষ্কৃতি পাওয়া সম্ভব। তার জন্য প্রয়োজন ডাক্তার এবং সাইকোলোজিস্ট এর পরামর্শ এবং পারিবারিক সহযোগিতা। পর্ণ ছেড়ে দেওয়ার পর শুরুতে মানসিক কষ্ট এবং বিষণ্ণতা ভর করতে পারে যেটা অন্য ড্রাগ গুলো ছেড়ে দেবার পর যেমন হয়। একে উইথড্রয়াল সিম্পটম বলে। তখন ভয় না পেয়ে বরং জীবনের অন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে বেশি সময় দেওয়া উচিত এবং মন ভাল করে এমন সাংস্কৃতিক বা বিনোদনমূলক কোন কিছুর সাথে যুক্ত হওয়া যেতে পারে। একবার বেরিয়ে আসতে পারলে বরং আত্মবিশ্বাস অনেক গুণ বেড়ে যায় এবং সুস্থ ও সফল জীবন কাটানো যায়।
এখানে একটি ইউটিউব লিঙ্ক দেওয়া হল যেখানে একজন এক্স-পর্ণ এডিক্ট এর পর্ণ ছেড়ে দেওয়া এবং এগিয়ে যাওয়ার গল্প আছেঃ

বাংলাদেশের জন্য যা করা যেতে পারেঃ
১। প্রথম পর্বেই বলা হয়েছে স্কুল, কলেজ এবং পারিবারিক পর্যায়ে আন্তরিকতার সাথে সন্তান কে কিশোর বয়সে যৌনতা সম্পর্কে সুস্থ ধারনা দেওয়া। শুধুমাত্র এটা ঠিক না এটা করা যাবে না এরকম না বলে, বরং কেন করা যাবে না বা ঠিক কি করা উচিত সে সম্পর্কে উপযুক্ত ধারনা দেওয়া।
২। পর্ণগ্রাফী ব্যবহার কমাতে সরকার ফ্রি-পর্ণ সাইট গুলো বাংলাদেশ থেকে প্রবেশ বন্ধ করে দিতে পারে অথবা বয়স ভেরিফিকেশনের ব্যবস্থা রাখতে পারে। তবে উপরের ডাটা থেকে দেখা যায় যে রক্ষণশীল মনভাবের দেশ গুলোতেই পর্ণ-এডিকশনের পরিমান তুলনামূলক বেশি।
৩। বাচ্চা বাড়িতে যাতে পর্ণগ্রাফী ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য তার ব্যবহৃত ডিভাইসে “প্যারেন্টাল-কন্ট্রোল” চালু করা।
৪। হাইপারসেক্সুয়ালিটি এবং এধরনের সমস্যায় যারা ভুগছেন তাদের জন্য সরকারী হাসপাতাল নির্মাণ এবং সাইকোথ্যারাপী কেন্দ্র নির্মাণ।
৫। বাংলাদেশের মানুষ সাইকোলজিক্যাল সমস্যায় অন্যন্য দেশের মানুষের মতনই ভুগে কিন্তু গুরুত্ব দেয় না, নিম্ন আয় এর একটা কারন। তবে সাইকোলজিক্যাল সমস্যা গুলো অবহেলা না করে বরং প্রফেশনাল থেরাপিস্ট এর পরামর্শ নেওয়া।
ক্রিটিক্যাল রিভিউঃ
অতীতে নন-প্যারাফিলিক হাইপারসেক্সচুয়াল-ডিসঅর্ডারের “যথেষ্ট তথ্য নেই” এই অজুহাতে হাইপারসেক্সুয়াল-ডিসঅর্ডারকে আলাদা কোনো সুনির্দিষ্ট রোগনির্দেশক যৌনআচরণ হিসেবে ধরা হতো না, বরং “উল্লেখ করার মতো নয়” বলে এড়িয়ে যাওয়া হতো। কিন্তু বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, পশ্চিমাবিশ্বে হাইপারসেক্সচুয়াল-ডিজঅর্ডারের রিপোর্টেড কেসের সংখ্যা সমস্ত পারাফিলিক-ডিজঅর্ডারের চেয়েও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। হাইপারসেক্সচুয়াল-ডিজঅর্ডার একটি প্রচলিত ও সঙ্কটজনক ক্লিনিকাল পরিস্থিতি যার উপসর্গগুলো হলো, মাত্রাতিরিক্ত যৌন চিন্তা, যৌনতাড়না ও আচরণের পুনরাবৃত্ত ঘটা, পর্ণগ্রাফী-আসক্তি, এক্সেসিভ অদম্য-মাস্টারবেশন, অপরিকল্পিত গর্ভাবস্থা, দাম্পত্য কলহ, বিবাহবিচ্ছেদ, যৌনবাহিত রোগের ঝুঁকিতে থাকা, ইত্যাদি। কিন্তু আপাত দৃষ্টিতে হাইপারসেক্সচুয়াল-ডিজঅর্ডারের প্রচুর ক্লিনিকাল নজির দেখা গেলেও, হাইপারসেক্সুয়াল ডিজঅর্ডার নির্ণয়ের জন্য আমাদেরকে যৌনতা প্রকাশের ‘স্বাভাবিক’ ও ‘মাত্রাতিরিক্ত’ এই ‘দুই মাত্রার’ মাঝে একটা সর্বসম্মত সীমানা টানতে হবে, যেটা মোটেও সহজ নয়। যেমন, মাস্টারবেশন বা ইটারকোর্স কে, কখন অদম্য বা আশংকাজনক হিসেবে ধরা হবে বা যৌন উদ্দীপনার কোন পর্যায়কে আসক্তি হিসেবে গণ্য করা হবে সেটা পরিষ্কার নয়। হাইপারসেক্সচুয়াল-ডিসঅর্ডার নির্ণয়ের মডেলে ব্যাধি-নির্ধারক একাধিক মানদন্ড আছে। যেখানে ধরে নেয়া হয় যে, পুনরাবৃত্তিমূলক যৌন তাড়না, কল্পনা ও আচরণগুলো প্রকাশ পায় হাইপারসেক্সচুয়াল-ডিসঅর্ডার উপসর্গের বৈরী প্রতিক্রিয়া হিসেবে। কিন্তু, দেখা যায় যে, এই ধরণের যৌন-প্রতিক্রিয়াগুলো দুশ্চিন্তা ও মুড-ডিজঅর্ডার এর সাথে “যুগপত” হতে পারে। হাইপারসেক্সুয়ালিটি নির্ণয়ের মডেলে কয়েকটি সমস্যা আছেঃ
১। যদিও গত কয়েক দশক ধরে বেশ কয়েকটি সনাতন পদ্ধতি ব্যবহার করে পুরুষ ও নারীদের ছোট ছোট নিয়ন্ত্রিত গ্রুপের হাইপারসেক্সচুয়াল-ডিস্অর্ডারের মাত্রা ও এর বৈরী প্রভাব নির্ভরযোগ্যভাবে বের করা গেছে, কিন্তু, এই পদ্ধতিগুলোর কোনটাতেই হাইপারসেক্সচুয়াল-ডিজঅর্ডারের প্রস্তাবকৃত সুনির্দিষ্ট মানদণ্ডগুলোর সবকটাকে একসাথে অন্তর্ভুক্ত করা যায়নি।
২। অনেক গবেষকের ধারণা, যৌন-প্রতিক্রিয়া কোনো স্বতন্ত্র ব্যাধি নির্দেশ করেনা বরং এরা অন্য কোনো মানসিক ব্যাধির (যেমন, হতাশা, দুশ্চিন্তা ও মুড-ডিজঅর্ডার) বৈরী প্রভাব লাঘব করে। এই সব মানসিক ব্যাধির চিকিৎসা সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট যৌন-প্রতিক্রিয়াগুলোও লোপ পায়। তাই, উদ্ভুত যৌন-প্রতিক্রিয়াগুলোর আলাদা কোনো চিকিৎসা না দিয়ে বরং সগুলো মানিয়ে নেবার কৌশল বের করা দরকার।
৩। কিছু গবেষক মনে করেন, মানসিক ব্যাধির উন্নয়নে পুনরাবৃত্তিমূলক যৌনতায় জড়িয়ে পড়াকে যদি স্বতন্ত্র সেক্স-ডিসঅর্ডার হিসেবে ধরা হয়, তবে অন্য পুনরাবৃত্তিমূলক অযৌন আচরণ যা কিনা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করে, যেমন: শখ, শপিং ইত্যাদি ইত্যাদি এগুলোও কোনো না কোনো মানসিক ব্যাধি নির্দেশ করা উচিত। যদিও পুনরাবৃত্তিমূলক যৌন ও অযৌন প্রতিক্রিয়াগুলো সদৃশ, মাত্রাতিরিক্ত টিভি দেখা বা শপিং করাকে কিন্তু DSM এর অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি।
৪। হাইপারসেক্সচুয়াল-ডিজঅর্ডারের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে, জানায় এখনো অনেক ফাঁক রয়ে গেছে, যেমন, নিউরোবায়োলজি, নিউরোসাইকোলজি, পারিবারিক-ইতিহাস, রোগের ক্লিনিকাল গতিপথ ও ঝুঁকির লক্ষণের ক্রমবিকাশ ইত্যাদি।
তবে, বলাবাহুল্য একসময় পারাফিলিক-ডিজঅর্ডারকেও “যথেষ্ট তথ্য নেই”, “সামাজিক-কলঙ্কায়ন” ইত্যাদি অজুহাতে রোগনির্দেশক ডিজঅর্ডার হিসাবে গণ্য না করার দাবি উঠেছিল। যৌনতার মতই অন্যান্য প্রবৃত্তিগত আচরণ যেমন, ক্ষুধা, ঘুম, তৃষ্ণা ইত্যাদিও অনিয়ন্ত্রিত ও অদম্য হয় উঠতে পারে। যেমন, মনোরোগ বিজ্ঞানে মাত্রাতিরিক্ত ঘুমকে প্রাইমারি-হাইপারসোমনিয়া আর মাত্রাতিরিক্ত খাওয়াকে বিঞ্জ-ইটিং-ডিজঅর্ডার হিসেবে চিকিৎসা দেয়া হয়। হাইপার সেক্সুয়ালিটি ডায়াগনোসিস মডেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, মাত্রাতিরিক্ত যৌন কল্পনা, তাড়না, আচরণ ইত্যাদি বেদনাদায়ক ও স্বাস্থ্যবৈকল্যের কারণ হতে পারে। এটা সম্ভবত এই মডেলের সবচেয়ে কার্যকর মানদণ্ড। কারণ, এটাই ব্যাখ্যা করে কেনো একজন হাইপারসেক্সুয়াল-ডিজঅর্ডারের রোগী চিকিৎসকের দারস্থ হবেন। কিন্তু, হাইপারসেক্সচুয়াল-ডিজঅর্ডার ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার আগে, রোগীর সামাজিক সীমাবদ্ধতাগুলো ভালো করে যাচাই করা উচিত। যৌনতা ও যৌনতা প্রকাশে রক্ষণশীল ও নিয়ন্ত্রণমূলক দৃষ্টিভঙ্গি সামান্য যৌন তাড়নার বৃদ্ধিতে পীড়াদায়ক অবস্থা তৈরী জন্য দায়ী হতে পারে, যদিও এই ধরণের যৌনতা-বৃদ্ধি আদর্শ মানদন্ডের অন্তর্ভুক্ত। লজ্জা, উদ্বেগ, অপরাধবোধ এবং তার সাথে বাড়তি যৌনকামনা ও যৌনবঞ্চনা ইত্যাদি একত্রে একজন সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষকেও চিকিৎসার মুখাপেক্ষী করতে পারে।
এই ধরনের মতবিরোধ যুক্ত থাকায় “হাইপারসেক্সুয়াল-ডিজঅর্ডার” কে ২০১৩ তে প্রকাশিত DSM-5 (The Diagnostic and Statistical Manual of Mental Disorders – Fifth Edition) এ অফিশিয়ালি সাইকিয়াট্রিক ডিজঅর্ডার হিসাবে যুক্ত করা হয়নি। এটাকে শুধুমাত্র ‘ডিজঅর্ডার’ হিসাবে আরও বেশি রিসার্চ হওয়া দরকার এই মর্মে সেকশন III তে অন্তর্ভুক্ত করে রাখা হয়।
তবে অনেক গবেষক, থেরাপিস্ট, সাইকোলোজিস্ট, DSM এর এই সিদ্ধান্ত কে স্বাগত জানান নি। কারন তাদের মতে, “হাইপারসেক্সুয়ালিটির মতন অনিয়ন্ত্রিত অদম্য যৌনাসক্তি, জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির এবং ব্যক্তি ও আক্রান্ত ব্যক্তির পারিবারিক পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং ইমোশনাল-সম্পর্কের জন্য ক্ষতির কারন”।

বিশেষ ধন্যবাদঃ Abuhayat Khan ভাই কে, যিনি আর্টিকেলটি লিখতে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন।
তথ্যসূত্রঃ
Journal Report on Hypersexuality:
0. Hypersexual Disorder: A Proposed Diagnosis for DSM-V
Martin P. Kafka DOI 10.1007/s10508-009-9574-7 http://www.dsm5.org/Research/Documents/Kafka_Hypersexual_ASB.pdf
1. Debating the Conceptualization of Sex as an Addictive Disorder
Drew A. Kingston1,2 DOI 10.1007/s40429-015-0059-6
2. Sexual Impulsivity in Hypersexual Men
Rory C. Reid & Heather A. Berlin & Drew A. Kingston
DOI 10.1007/s40473-015-0034-5
3. A Treatment-Oriented Typology of Self-Identified Hypersexuality Referrals JamesM. Cantor • Carolin Klein • Amy Lykins • Jordan E. Rullo •
Lea Thaler • Bobbi R. Walling DOI 10.1007/s10508-013-0085-1
4. Mood as a mediator of the link between child sexual abuse and psychosis S. Marwaha • P. Bebbington DOI 10.1007/s00127-014-0966-1
5. The Functional Anatomy of Impulse Control Disorders
Catharina C. Probst & Thilo van Eimeren DOI 10.1007/s11910-013-0386-8
6. Evaluating Outcome Research for Hypersexual Behavior
Joshua B. Grubbs1 & Joshua N. Hook2 & Brandon J. Griffin3 & Don E. Davis DOI 10.1007/s40429-015-0061-z
7. Hypersexual Disorder: A More Cautious Approach
Jason Winters DOI 10.1007/s10508-010-9607-2
8. Headaches Induced by Pornography Use Kuljeet Singh Anand • Vikas Dhikav DOI 10.1007/s10508-012-9988-5
1. http://www.readcube.com/articles/10.1111%2Fjsm.12865?r3_referer=wol&tracking_action=preview_click&show_checkout=1&purchase_referrer=onlinelibrary.wiley.com&purchase_site_license=LICENSE_DENIED
2. https://www.psychologytoday.com/blog/sex-lies-trauma/201212/sex-addiction-beyond-the-dsm-v
sexual desier difference in men and women:
www.uni-konstanz.de/iscience/reips/pubs/papers/ISDP_JPSP.pdf
http://www.darionardi.com/BulletinArt9.html
Pornography Reaction on Brain:
1. https://books.google.com.bd/books?hl=en&lr=&id=1Nqv0-pMS5oC&oi=fnd&pg=PA9&dq=pornography+and+brain&ots=emJsb4ugSg&sig=Jr_xMjAxuenuXGoFGR2c_3hopSg&redir_esc=y#v=onepage&q=pornography%20and%20brain&f=false
2. http://archpsyc.jamanetwork.com/article.aspx?articleid=1874574&resultclick=1
3. http://journals.plos.org/plosone/article?id=10.1371/journal.pone.0102419
4. http://www.cam.ac.uk/research/news/brain-activity-in-sex-addiction-mirrors-that-of-drug-addiction
5. http://www.dailymail.co.uk/health/article-3196809/It-induces-addiction-makes-men-hopeless-bed-discover-porn-affect-BRAIN.html
6. https://www.addiction.com/3902/brain-on-porn-gary-wilson/
7. http://yourbrainonporn.com/
8. https://en.wikipedia.org/wiki/Coolidge_effect
9. http://www.medicaldaily.com/watching-adult-films-alters-brain-activity-similar-drug-addicts-alcoholics-347224

Porn Related Stat-data:
1. http://web.archive.org/web/20070314191401/http://internet-filter-review.toptenreviews.com/internet-pornography-statistics.html#anchor5
2. http://tribune.com.pk/story/829178/not-the-worlds-top-porn-searching-nation/
3. http://www.salon.com/2015/01/15/why_porn_is_exploding_in_the_middle_east_partner/
4. http://www.roadtograce.net/current-porn-statistics/
5. http://www.foxnews.com/world/2010/07/12/data-shows-pakistan-googling-pornographic-material.html
libido:
1. http://humrep.oxfordjournals.org/content/19/7/1539.long
2. http://www.webmd.com/men/features/revving-up-low-libido
3. http://www.news-medical.net/health/What-is-Libido.aspx

[2125 বার পঠিত]