চারপাশ অন্ধকার করে মাঝখানে একফোঁটা জলের মতো ছোট্ট হয়ে বসে আছে রোদ্দুর। রোদের চোখে জল শরতের মেঘের মতো ছুটে ছুটে আসে যায়। যদি দূর থেকে কেউ তাকায়, দেখবে অনেক অন্ধকারের মাঝখানে একটা আলোকবিন্দু। সেই বিন্দু নিজে যখন সামনে তাকায়, তখন শুধুই জেলীর মতো থকথকে অন্ধকার। রোদ্দুর ৫ বছর আগে থেকেই জানে, কেউ বাচবে না। কিন্তু আজ, একই মাসের ভিতর ৫ম ব্লগারের মৃত্যু তাকে ভিতর থেকে একদম নাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতি মুহূর্তে বিক্ষিপ্ত চিন্তাগুলা বসন্তের বাতাসের মতো এলোমেলো হয়ে বুকের মধ্যে হু হু করে বারুদের মতো জ্বালিয়ে দিয়ে যাচ্ছে সব। এ মাসে মারা যাওয়া ৫ জনের মধ্যে ১ জন আসলে ব্লগার ছিলো না, সাগরিকা সাগরপাড়ে জেলেপাড়ার সবচেয়ে বড় মাছের আড়তের মালিক ছিলো সে। হঠাৎ একদিন জেলেপাড়ায় কারা যেন গুজব ছড়াতে লাগলো যে, ভাই ভাই মাছের আড়তের মালিক রহমান অইন্য নাম ব্যবহার করি বোলগ দিয়া ইন্টারনেট চালায়। সেদিন থেকে তাকে মসজিদে ঢুকতে দেয়া হয় না। এর ৫ দিনের মাথায় দিনেদুপুরে তাকে কারা যেন ৫০ টা কোপ দিয়ে ফেলে চলে যায়। এরপর ভাই ভাই মাছের আড়তের একচ্ছত্র মালিক হয় রহমানের ছোটভাই সিদ্দিক। জেলেপাড়ার সমস্ত লোকের সামনে দাঁড়িয়ে সিদ্দিক ঘোষণা করে, এই জেলেপাড়ায় কোনো নাস্তিকের জানাজা, দাফন হবে না। পরদিন সকালে রহমানের পনের বছর বয়সি মেয়ে কলির নগ্নদেহ পুকুরে ভেসে উঠে। সেই ছবি ফেসবুকে দেখে রোদ্দুরের মনে পড়ছিলো ছোটবেলায় দেখা মীরা কেমিকেলস কারখানার পাশে নদীর লাল পানিতে ভেসে উঠা সারি সারি কাতলা মাছের মুখ।

নিহত অন্য ৪ জন ছিলেন ব্লগার, নাস্তিকও ছিলেন এবং সবাই রোদ্দুরের কাছের মানুষ ছিলেন। রোদ্দুর দিকভ্রান্তের মতো চোখ মেলে তাকিয়ে থাকে অন্ধকারের দ্বিমাত্রিক শরীরে। অন্ধকার রোদ্দুরের শরীরকে কাফনের কাপড়ের মতো পেঁচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে ফেলতে চায়, অথচ আলোর এত ক্ষমতা নাই। কাঠঠোকরার মতো কাণ্ডজ্ঞানহীন স্মৃতিগুলা খুটে খুটে খেয়ে ফেলছে তাকে। সে বারবার ঢুকে যাচ্ছে কৃষ্ণগহ্বর থেকে কৃষ্ণগহ্বরে। ডুবন্ত মানুষের খড়কুটা ধরে ভেসে থাকতে চাওয়ার মতো রোদ্দুর বেচে উঠতে চায় স্মৃতির পেঁচানো লতায় হাতপা জড়িয়ে। কিছুক্ষণ পর আবার মনে হতে থাকে, এই পেঁচানো লতাগুলাই তাকে আরো গভীরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। সে কি মারা যাবে? মরতে তো হবেই, কিন্তু মরতে হবে বন্ধুদের মতোই বীররূপে। এভাবে চোখের পানিতে হতাশার বালিতে ক্লেদ করে তাতে অন্ধের মতো গেঁথে গিয়ে শুয়োপোকার মতো বিভ্রান্ত মৃত্যু সে চায় না। যদিও সে শুয়োপোকাকে ঘৃণা করে না, তবে করুণা করে। এভাবে নিজেকে শেষ করা যাবে না। কিন্তু কঠিন, খুব কঠিন! প্রতিদিন রোদ্দুরের মন তার সবগুলা পিলার সমেত ভেঙ্গে গুড়া হয়ে যায় রানা প্লাজার মতো। সেই ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে থাকে রোদ্দুর নিজে। বারবার উঠে দাঁড়ানো সহজ নয়। বারবার ভেঙ্গে যাওয়া মনের টুকরা জোড়া লাগাতে লাগাতে মনের ভিতর স্থায়ী অসুখ হয়ে যায়। কঠিন, অসম্ভব রকমের কঠিন!

তবু তাকে পারতে হবে। ইস্পাতের মতো দৃঢ়তা নিয়ে তাকে এগোতে হবে অন্ধকারের শরীর ছিন্ন করতে করতে। হয়তো অন্ধকারের শরীর এক লক্ষ আলোকবর্ষ পুরুত্বের কংক্রিটের প্রাচীর। হয়তো রোদ্দুর তার সমস্ত প্রবন্ধ, গল্প, কবিতা, স্যাটায়ার, ফেসবুক পোস্ট দিয়ে এই প্রাচীরে একটা আধইঞ্চি গভীর গর্ত করতে পারবে। সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও হয়তো এই জীবনে সে আলো দেখতে পারবে না। তবু তাই হোক। নিভে যাবার আগে দপদপ করে জ্বলে উঠুক প্রদীপ। আরো কয়েকটা পতঙ্গ জ্বলে যাক। তারপর, প্রদীপ নিভে গেলে যে অল্প একটু ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে, তাতে কোনোদিন কোনো সরকারের হাঁচির উদ্রেক হয় না। তবুও তাই হোক।

মোবাইল বেজে উঠলো। আম্মার ফোন।

বাবা, আইজকে আরেকজনরে কোবাই দিছে। তুই আমার কসম কাইট্যা বল, এখন কি তুই আর ঐসব লিখস?

না, মা। আমি তো সেই কবেই এসব ছেড়ে দিয়েছি। আমাকে নিয়ে আর ভয় নাই।

সত্যিই তো, বাবা? তুই আমার নামে কসম কইরা বল।

রোদ্দুর একটু নিচুশ্বরে বললো, কসম।

মায়ের কসম খেয়ে মিথ্যা বললে কিছুই হয় না। কিন্তু যেদিন রোদ্দুর খুন হয়ে যাবে, সেদিন মা বুঝতে পারবে, ছেলে তাঁকে মিথ্যা বলেছে। – ছেলে আসলে শেষদিন পর্যন্তই লেখালিখি করে গেছিলো। তার জীবনের শেষদিনটা পর্যন্ত সে কাঁপিয়ে ছেড়েছিলো আরশে সমাসীন ত্রাসের রাজাকে। বারবার নাকে দড়ি বেঁধে সোজা ধুলায় নামিয়ে এনেছিলো বালুকণা আর মহাদেশের স্রষ্টাকে, জল আর অতল সাগরের একচ্ছত্র বিধাতাকে। তখন মা কষ্ট পাবেন। রোদ্দুর আবার মাটিতে বসে পড়ে। আবার বারুদ জ্বলে বুক পুড়ে যাচ্ছে। উফ কষ্ট! আবার কাঠঠোকরা, অন্ধকার, শ্বাসরোধ, কৃষ্ণগহ্বর, পেঁচানো লতা, শুয়োপোকা, ধ্বংসস্তূপ …। অসহ্য প্রকারের কঠিন এইসব।

শৈশবকে মনে পড়ে। স্কুলের ফার্স্টবয় ছিলো। স্কুলের সবচেয়ে বড় বিস্ময়ের উপলক্ষ্য ছিলো, মাঝে মাঝে রোদ্দুরের সেকেন্ড হয়ে যাওয়া। আব্বা স্কুলের মাস্টার, পড়ালেখার দাম ভালোই বোঝেন। সততার দামও বোঝেন। সবচেয়ে বেশি যেটা বোঝেন সেটা হলো, মাস্টারি করে কোনো লাভ নাই। যেহেতু দেশে শুধু তিনটাই পেশা আছে এবং তাদের একটার মধ্যে তিনি কোনো লাভ দেখেন না, সেহেতু ছেলেকে হতে হবে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার। কিন্তু কলেজে উঠে ছেলে বিগড়ে গেলো। মোটা মোটা বই পড়তে লাগলো, যাদের কোনোটাই ইহকাল এবং পরকালের পরীক্ষায় কাজে আসে না। কিছুদিনের মধ্যে ইন্টারনেটে লেখালিখিও শুরু করলো। ইহকালের পরীক্ষায় অবনতি হতে লাগলো। নামাজ রোজায় অনিয়ম দেখে বোঝা গেলো, পরকালের পরীক্ষার প্রিপারেশান আরো খারাপ।

রোদ্দুর শেষাবধি ডাক্তারি বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়তে পারে নাই। একটা সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা সাধারণ সাবজেক্টে ভর্তি হয় সে। তারপর আব্বা বললেন, “কী আর করবি! ভার্সিটিতে ফার্স্ট হয়ে এখানেই মাস্টার হয়ে যা।” এখন ভার্সিটির শেষবর্ষ। প্রথম বর্ষ থেকে এত্তগুলা ফেল জমা হতে হতে মাথার উপর পাহাড় হয়ে গেছে। সে তার ব্যাচের সাথে বেরুতে পারবে না। হয়তো তার পরের ব্যাচেরও পরে সে বেরুবে। বাংলাদেশে কয়টা থানা আছে বা বাংলাদেশের সর্বশেষ বিভাগের নাম কী এসব সে জানে না – বিসিএসে কিচ্ছু পারবে না। ইন্টারভিউতে কেউ জানতে চাইবে না আরজ আলী মাতুব্বরের দর্শন সম্পর্কে, যদিও তার জীবনের একমাত্র গবেষণা কর্মের নাম আরজ আলী মাতুব্বর। কেউ চাকরি দেবে না। শিশিরদের মধ্যে শিশির হয়ে মিশে থেকে সেও পদদলিত হবে। ৩ বছর আগে ছেড়ে চলে যাওয়া সুন্দরি সদ্য চাকরি পাওয়া কোনো ইঞ্জিনিয়ারের সাথে পার্কে হেঁটে বেড়াবে। আলতো হাতে শিশির ছুঁইতে ছুঁইতে রোদ্দুরকেও ছুঁয়ে যাবে।

উফ! মাথাটা পুরাই এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। সিগারেট ধরায় রোদ্দুর। কোনো ভাবনা নয় আর। একদম মাথা ঠাণ্ডা। গোসল সেরে বনু কুরাইজা গণহত্যা সম্পর্কিত সিরিজটার শেষপর্ব লিখে ফেলতে হবে।

গোসলের পর লিখতে বসে মাথায় একটা শব্দও আসে না। টিউশনি ৩ টার মধ্যে ২ টাই হাতছাড়া হয়ে গেছে। বাকিটাতেও যে হারে অনিয়ম করা শুরু করেছে, তাতে ওটাও বেশিদিন হাতে থাকবে না। উপায় কী? আব্বার অসুখ। চিকিৎসার পিছনে হাজার হাজার টাকা যাচ্ছে। আব্বা একটু পর পর খুকখুক করে কাশেন আর আক্ষেপ করে বলেন, ছেলেটা যদি ডাক্তার হতো তাহলে চিকিৎসার পিছনে এতোগুলা টাকা খরচ হতো না। এ অবস্থায় বাসায় টাকা চাওয়ার কোনো অর্থ নাই। কীভাবে চলবে ভবিষ্যৎ?

ভবিষ্যৎ! আনমনে একটু হাসলো রোদ্দুর। নিজের হাসিকে নিরেট কাঠের বাক্সের প্রান্তে একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ছিদ্রের মতো মনে হয়। আমার আবার কীসের ভবিষ্যৎ? আমি তো বেশি হলে আর বছর দেড়েক বাঁচবো। যারা বিদেশে পালাতে পেরেছে তারা না হয় ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাববে, বার্গার খেতে খেতে ফকফকা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলবে। রোদ্দুরের মতো যারা, তারা স্বপ্নে সেসব রাস্তায় মুখ ঘসবে। তারপর একদিন তাদের নিথর মুখ পড়ে থাকবে এদেশেরই নোংরা রাস্তায়, ডাস্টবিনের পাশে। হয়তো ডাস্টবিনের কাক এসে বসবে তার মাথার ওপর। তখন সালমা আপার কী হবে? আপার একটা ভালো বিয়ে দেয়া দরকার। বিয়ের বয়স পার হয়ে যাচ্ছে। গতকালও মা বলেছিলেন, তোর আপার কেমন মন উদাস থাকে। হয়তো বান্ধবীদের সবার বিয়ে হয়ে যাওয়া দেখেই। আপা তো দুঃখ সহ্য করতে পারেন না। বেশি মানসিক চাপ পড়লেই গড়গড় করে বমি করে দেন। আমার ওরকম মৃত্যু তাঁর সহ্য হবে? আর আব্বা? এই অবস্থায় ওনার যদি স্ট্রোক হয়ে যায়? আম্মার কী হবে? তিনি কি চিৎকার করে সারা পাড়া মাথায় তুলে ফেলবেন? গলার জোরে আমার মৃত্যু সম্পর্কিত নিউজগুলাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে ফেলবেন? আচ্ছা, তাঁরা কি আমার হত্যার বিচার চাইবেন? রোদ্দুর কল্পনা করতে থাকে, আব্বা মুখটাকে পাথরের মতো শক্ত করে রেখেছেন, তাঁর চোখ দিয়ে আগুন ঠিকরে বেরুচ্ছে। তিনি পৃথিবীর গম্ভীরতম স্বরে উচ্চারণ করছেন, “এই সরকারের প্রতি আমি শতভাগ অনাস্থা জ্ঞাপন করি। এই সরকারের কাছে আমি কোনো বিচার চাই না।” কল্পনা করে সুখ পায় রোদ্দুর। পরক্ষণেই চোখমুখ কুঁচকে নিজেকে গালি দিতে থাকে সে। আরেকটা সিগারেট ধরায়। মনকে বোঝাতে চেষ্টা করে, লিখো। লিখায় মন দাও। আর বেশি সময় নাই হাতে। সব লিখে ফেলতে হবে। সব। ক্ষণিকের অন্যমনস্কতা, ক্ষণিকের অলসতারও সুযোগ নাই। অনেক বই পড়া বাকি। পড়ে ফেলো। শেষদিন পর্যন্ত বিকশিত হও। সেই আলো রেখে যাও ভবিষ্যতের মানুষের জন্য। লিখো। সব লিখে ফেলো। সব। সময় নাই। সময় নাই।

আচ্ছা, সময় যে এত কম – তার কি নিজের শেষ ইচ্ছার কথা ঘোষণা করে যাওয়া উচিত না? তার জন্য যেন জানাজা পড়ানো না হয়, কবরও যেন দেয়া না হয় তাকে। ওর শরীর যেন মানুষের জীবন বাঁচানোর কাজে লাগে। কিন্তু এই কথাগুলা সে বাসায় বলবে কীভাবে? এটা কি সম্ভব? মৃত্যুর পর এতবড় অপমান হবে – ভাবলে আর মরতে ইচ্ছা করে না।

ধুর! আবার আজাইরা চিন্তা শুরু হইসে। মাথা ঠাণ্ডা করতে হবে। আসল কাজে ফোকাস করতে হবে। ফোকাস! একদম মাথা ঠাণ্ডা! মনের সাথে যুদ্ধ করতে থাকে প্রতিমুহূর্তে। একের পর এক সিগারেট ধরাতে থাকে। কিন্তু একবারের জন্যেও সে হার মানে না। লেখাটা শেষ হয় প্রায় ৮ ঘণ্টা নিজের সাথে যুদ্ধের পর। “ইতিহাসের অন্ধকার অধ্যায় বনু কুরাইজা গণহত্যা : শেষ পর্ব”। লেখাটা ব্লগে পোস্ট করে দুইটা পাউরুটি আর একটা কলা খেয়ে রাত প্রায় আড়াইটার দিকে ঘুমিয়ে পড়ে রোদ্দুর।

সকালে ঘুম ভাঙ্গে এগারোটায়। পেটের ভিতরে ক্ষুধার কামান ঘনঘন বিস্ফোরিত হচ্ছে। তবু বারোটা পর্যন্ত অপেক্ষা করা দরকার – সকাল আর দুপুরের খাবার একসাথে খেয়ে নেয়া যাবে। সিগারেট ধরিয়ে বারান্দায় আসলো রোদ্দুর। মরুভূমির গরমে আর তৃষ্ণার কালে কেউ যদি এক বালতি ঠাণ্ডা পানি সজোরে গায়ে ঢেলে ভিজিয়ে দেয় তখন যেরকম অনুভূতি হয়, বারান্দায় আলোর ঝলকানিতে রোদ্দুরের তেমন অনুভূতি হলো। সামনের বাড়ির ছাদে দোলনায় বসে ভেজাচুল শুকাচ্ছে লাল কিশোরী। দুটা কাক ডেকে ডেকে পাড়া মাথায় তুলছে। ভালো লাগছে। সকালের বাতাসে একটা গন্ধ থাকে – আঁতুড় ঘরের মতো কিছুটা, কিছুটা হুইল পাওডারে ধোয়া কাথার মতো, আমড়া তেলে মাখা মায়ের চুলের মতো কিছুটা, কিছুটা নতুন চাকরি পাওয়া যুবকের গায়ের হ্যাভক বডি স্প্রের মতো। সকালের খালিপেটে গোল্ডলিফের অন্যরকম আবেদন আছে, তার সাথে কড়া এককাপ দুধচা থাকলে তো কথাই নাই।

দুই রুমের বাসা। পচিশশো টাকা ভাড়া। মূল আকর্ষণ এই বারান্দাটাই। রোদ্দুর একাকিত্ব পছন্দ করে। তাই খরচে না পোষালেও এখানে থাকে। একটু ভেতরের দিকে আছে বাসাটা, চাপাতিধারীরা সহজে খুঁজে পাবে না। রাতের পর রাত সে বারান্দায় দাঁড়িয়ে চাঁদ দেখেছে, কতশত গোধুলিবেলায় দেখেছে আকাশের সর্বগ্রাসী লালের মধ্যে উড়ন্ত পাখিরা একে একে বিলীন হয়ে যায়। সকালবেলা দাঁড়িয়ে দেখা যায় মানুষের কর্মব্যস্ততা। এমনকি গরু ছাগলগুলাও ব্যস্ত হয়ে উঠে। বাসার নিচে চিপারাস্তায় একটা গরু বাঁধা। গরুটার মনে হয় রোদ্দুরের মতোই উদাসীনতার ব্যারাম আছে। শুন্যচোখে এমনভাবে সামনে তাকিয়ে আছে যেন তার যম আসবে এখনি – চাপাতি হাতে নিয়ে। কুরবানীর ঈদের সময় তো এমনটাই হয়। একটা গরুর সামনে দিয়ে আরেকটাকে জবাই করা হয়। একের পর এক স্বজাতিদের মৃত্যু ঘটতে দেখে বেচারা অর্ধেক মরেই যায়। সেই জীবন্মৃত অবস্থায় তার মাথায় একটা কথাই ঘুরতে থাকে, কিছুক্ষণের মধ্যেই তাকেও পাকড়াও করে হবে। বাচবে না কেউ। আচ্ছা আমারও কি একই দশা নয়? – রোদ্দুর ভাবে। তারপর জোর করে সেই চিন্তা বন্ধ করতে চায়, সকালটা উপভোগ করা দরকার।

পাশের বাসায় কলেজের কিছু ছাত্র মেস করে থাকে। বুয়া এসে রেঁধে দিয়ে যায়। রোদ্দুরের খাওয়া দাওয়া ওদের সাথেই। ছেলেগুলার সাথে তার ভালোই সম্পর্ক। নিজের লেখালিখি সম্পর্কে সে যদিও বলে বেড়ায় না, তবু এসব কথা ছড়াতে বেশি সময় নেয় না। তা সত্ত্বেও কোনো সমস্যা হয় নি, শুধু একটা ছেলেই আছে একটু বাঁকা স্বভাবের। রোদ্দুর তাদের ঘরে ঢুকলে ছেলেটা কেমন একটা দায়সাড়া গোছের ভাব নিয়ে অন্যদিকে ফিরে থাকে। ছেলে নিরীহ স্বভাবের না, বরং দেখে মনে হয় স্কুলজীবনে ভালোই মারামারি করে এসেছে। আজ খেতে বসার পর ছেলেটা রোদ্দুরকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলতে লাগলো, “দ্যাশের নাস্তিক তো প্রায় শ্যাষ। বাকিগুলারে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব খতম কইরা দেয়া হইবো।”

এমনভাবে কথাটা বললো যেন, যারা নাস্তিক খতম করার কাজে নেমেছে তাদের নীতিনির্ধারণী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সে। সারাদেশের মানুষই কি খুনিদের সাথে এমন একাত্মতা অনুভব করে? নিজের রক্তমাংসের অংশ মনে করে? ওদের সাফল্যকে নিজের সাফল্য ভাবে? ওদের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করে? ওদের একেকটা টার্গেট খতম হবার পর ঘরে ঘরে আনন্দের নীরব হিল্লোল বয়ে যায়? বাপও খুশি হয়, পোলাও খুশি হয়, তবে হয়তো পরস্পরের সাথে সেটা ভাগাভাগি করে না। গভীর ভিতর থেকে হয়তো কেউ বাঁধা দেয়। তাই মানুষ যতই স্বস্তি পাক, তবু বাড়ি বাড়ি মিষ্টি বিতরণ করা হয় না। কারণ যতই তারা খুশি হোক, তবু বেশির ভাগ মানুষেরই ভিতর থেকে ডাক আসে – এটা ঠিক হলো না। বিশ্বজুড়ে মুসলমানের মানসে এই সংকট চলছে। এটা আত্মপরিচয়ের সংকট। তারা নৃশংসতার সাথে একাত্মবোধ করে, আবার সহজাত মানবতাবোধ তাদেরকে বিপরীত দিকে টানে। তারা হয়ে থাকে অসম্পূর্ণ মস্তিস্কের অকর্মণ্য জীব। তারা প্রেমে কামে আকৃষ্ট হয়, তারা কবিতাকে বুক পেতে নিতে চায়, তারা সংগীতে ডুবে থাকতে চায় সারারাত, তারাও বাঁধনবিহীন চিন্তা করতে চায়, সৃজনশীলতা দিয়ে – কল্পনা দিয়ে – ভাবনার অভিনবত্ব দিয়ে তারাও বদলে দিতে চায় পৃথিবীর গতিপথ, অথচ তারা আবদ্ধ। এই আবদ্ধতা, নিজেদের প্রতিদিনকার জীবনে এই সংকীর্ণতা, এই সাংস্কৃতিক-মানসিক পঙ্গুত্ব তাদেরকে ঈর্ষান্বিত করে। অন্যান্য বেশির ভাগ সম্প্রদায় এসব পঙ্গুত্ব কাটিয়ে উঠতে শিখেছে বা শিখছে। কিন্তু মুসলিমদের সবচেয়ে বড় শত্রু তাদের নিজেদের গোঁয়ার্তুমি। তারা নিজেদের শাস্ত্রে সংস্কার আনবে না কখনো, কিন্তু অন্য সকল সম্প্রদায়কে হিংসার চোখে, শত্রুর চোখে দেখবে। খ্রিস্টানরা তাদের শত্রু, ইহুদিরা তাদের রক্তপিপাসু, হিন্দুরা তাদের ওপর অত্যাচার করেছে (এবং তারা যেন কাউকেই কিছু করে নি)। পশ্চিমাদের উন্নত অবস্থা তাদেরকে ঈর্ষান্বিত করে, মুসলিম বিজ্ঞানীদের অবদানকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে তারা পশ্চিমা সভ্যতায় নিজেদের দাবি পেশ করতে চায়। যদিও সেই বিজ্ঞানীরা ধর্মের সংকীর্ণ গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছিলেন বলেই তারা কিছুটা অবদান রাখতে পেরেছিলেন। এবং সেই কারণে সারাটা জীবনভর মুসলিমদের অত্যাচার সইতে হয়েছিলো তাদেরকে, এবং সেসব বাধার কারণেই বিশ্বসভ্যতায় তাঁদের অবদান আরো কয়েকগুণ বেশি হতে পারে নি। রোদ্দুরের মনে হলো, মুসলিমদের এই মানসিক দৈন্য নিয়ে একটা কিছু লেখা দরকার। খেতে খেতে মাথার ভিতরে রসদ জোগাড় করতে থাকে সে। বেশকিছু বই পড়া আছে, সেগুলা থেকে রেফারেন্স দিতে হবে। আরো কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ বই পড়া দরকার, কিন্তু তা সময় সাপেক্ষ। আহমদ ছফার “বাঙালি মুসলমানের মন” প্রবন্ধের মতো প্রায় কমন হয়ে যাওয়া কিছু কিছু লেখা এখনো পড়া হয় নি। ওগুলা যতটা সম্ভব পড়ে ফেলে বিকালের দিকে লেখার প্লট সাজাতে হবে। সন্ধ্যায় সিগারেট খেতে খেতে গোধুলি দেখা হবে, তারপরেই মহাসমারোহে লিখতে বসে যাবো – রোদ্দুরের মন আনন্দে ঝলমল করে উঠে।

এভাবেই পুরাদমে এগিয়ে যেতে থাকে লেখালিখি। সব লিখে ফেলতে হবে। হাতে একদম সময় নাই। প্রায় প্রতিদিন সে নতুন কোনো লেখা নিয়ে বসে, লেখা শেষ হবার আগে উঠে না। যেসব দিনে লেখা হয় না, সেসব দিনে দুই-তিনটা বই পড়ে শেষ করে ফেলে। আফসোস, পৃথিবীর সব বই পড়া হলো না। আরেকটা ঘটনা ঘটতে থাকে এসময়ে – রোদ্দুর ধীরে ধীরে একটা মেয়ের ঘনিষ্ঠ হতে থাকে। শুভ্রা নাম মেয়েটার। আগে ফেসবুকে অনেক সময় যেতো, অনেকের সাথে কথা হতো। সেই সময়গুলাতেই শুভ্রার সাথে পরিচয়। এখন যদিও নিজেকে অনেকটা গুটিয়ে নিয়েছে সে, তবু শুভ্রার সাথে ফোনে কথা হয়, স্কাইপে কথা হয়। ফেসবুকে প্রথম নক দিয়েছিলো শুভ্রা, “ঐ মিয়া, আপনি এত ভালো লিখেন কেন?” মনে হচ্ছিলো, ভালো লিখারও হয়তো কোনো সীমা আছে – রোদ্দুর সেই সীমা লংঘন করে এখন বকা খাচ্ছে। তবে এক সময় রোদ্দুর আবিস্কার করলো, শুভ্রা নিজেও বেশ ভালো লিখে। সবচেয়ে বড় কথা, শুভ্রার পড়াশোনার লেভেল রোদ্দুরের চেয়ে কয়েক ডিগ্রি উপরে। সেদিন হুমায়ুন আজাদের সবগুলা বই পড়া শেষ করলো, কোনো বাছবিচার নাই – ভাষাতত্ত্ব, কবিতা, উপন্যাস, গল্প, কলামসমগ্র, সাক্ষাৎকার, প্রবচন সব। তারপর একটা বিশাল প্রবন্ধ লিখলো, যেখানে কোনো আবেগের ছড়াছড়ি নাই, প্রশংসার মালা নাই, বরং হুমায়ুন আজাদ কোন কোন ক্ষেত্রে অতীব গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন এবং তাঁর কী কী কাজ একদমই আজাইরা ছিলো, সেসবের গঠনমূলক বিশ্লেষণ ছিলো প্রবন্ধটা।

শুভ্রার একটা ভালো গুণ হলো সে সবরকম মানুষের সাথে মিশতে পারে। শুভ্রা ঢাকায় থাকে। ভার্সিটিতে সবার একটা ফ্রেন্ডসার্কেল থাকে যেখানে কে কোন ধর্মের, কোন এলাকার, কোন শ্রেণির, কার সিজিপিএ কতো এসব নিয়ে কেউ মাথায় ঘামায় না। তারা একসাথে আড্ডা দেয়, ক্লাস ফাঁকি দেয়, ঘুরতে যায়। রোদ্দুরের কখনো এমনকিছু ছিলো না, তবে শুভ্রার আছে। শুভ্রা তার বন্ধুদের কথা অনেক বলে, রোদ্দুরের খানিকটা হিংসা হয়। শুভ্রা এসেছিলো বেড়াতে রোদ্দুরের শহরে। ওরা একসাথে দেখেছে শহর, শহরের প্রান্তে নদী। শুভ্রার প্রতি মায়া জমেছে কিছুটা; অনেকদিন পর নারীর প্রতি প্রেম অথবা প্রেমভাবের জাগরণ উপভোগ্য হয়ে উঠে রোদ্দুরের কাছে। খুব দ্রুতই রোদ্দুরের কাছে জীবনের সংজ্ঞা হয়ে উঠতে লাগলো বইপড়া, লেখালিখি করা আর শুভ্রা। শুভ্রার বিদুষিতা, প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব এবং একইসাথে কুয়াশার মতো কোমলতা, শিশিরের মতো স্নিগ্ধতা, মায়ের হাতের রসের পিঠার মতো স্নেহ রোদ্দুরকে আচ্ছন্ন করে রাখে। স্বাভাবিকভাবেই টিউশনি হাতছাড়া হয়ে গেলো। তারপর শুভ্রাই ওকে প্রতিমাসের হাতখরচ পাঠাতো। রোদ্দুর যখনি ইতস্তত করতো তখনি শুভ্রা বলতো, প্রথম বই বেরুলেই সব শোধ করে দিবেন, বুঝলেন? আরো বলতো, আপনার ইদানিংকার কবিতাগুলা তো সব আমাকেই পাঠাচ্ছেন। একদিন রোদ রোদ্দুরের অপ্রকাশিত কবিতার সংকলন বের করে আমি ধনী হয়ে যাবো। আমাকে নিয়ে ভাবতে হবে না।

চমৎকার কেটে যাচ্ছিলো সময়। যার ভবিষ্যৎ নাই, তাকে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে হয় না। সে তখন স্বজাতির ভবিষ্যতের প্রয়োজনে আত্মোৎসর্গ করতে পারে। রোদ্দুরকে এমনকি বর্তমান নিয়েও ভাবতে হচ্ছিলো না, নিশ্চিন্তমনে সে একের পর এক ক্ষুরধার লেখা লিখে যাচ্ছিলো। সমানতালে লেখালিখি চালিয়ে যাচ্ছিলো শুভ্রাও। দ্বিতীয়বার শুভ্রা যখন এলো রোদ্দুরের শহরে, রোদ্দুর তাকে নিয়ে এসেছিলো নিজের অগোছালো ঘরে। নিমিষে তার অবিশ্রান্ত বিধ্বস্ত ঘর পরিণত হলো শান্ত পরিপাটি নিবিড় নীলিমায়। ওরা কখনো পরস্পরের কাছে ভালোবাসার কথা বলে নি। এমনকি সেদিনও লোকালয় থেকে হাজার মাইল উপরের ক্ষুদ্র গুহায় সহাবস্থান করেও ভালোবাসার কথা ঠোঁট ফুড়ে বেরোয় নি। তবে ধীরে ধীরে পরস্পরের ঠোঁটে ঠোঁট পুরে নিয়েছিলো ওরা। জেনে নিয়েছিলো পরস্পরের কথা। শুভ্রার মুখে হাত রেখে রোদ্দুরের মনে হয়েছিলো, জীবনটা তাহলে পরিপূর্ণ হলো। পাহাড়ের বৃষ্টির মতো অবিশ্রান্তভাবে তারা সেদিন ঝরে পড়েছিলো পরস্পরের শরীরে।

পরদিন সকাল থেকে ঘোর দুর্যোগ। সকালবেলা বিদ্যুৎ ভাই ফোন করে প্রথম জানিয়েছিলো খবরটা। প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা করেছে তাঁরই দেহরক্ষী। সেই প্রধানমন্ত্রী, যিনি পরম প্রতাপে এক যুগব্যাপী করে গেলেন ভোট আর মৃত্যুর সওদা। যিনি ইচ্ছামতো আঙ্গুলে নাচালেন আবেগের আর বিচারের সমস্ত বাণী। প্রধানমন্ত্রী আর নেই। তারপরের ঘটনাগুলা ঘটতে লাগলো খুব দ্রুত। মন্ত্রীসভার একজন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে আসীন হলেন, যিনি তার সমগ্র রাজনৈতিক ক্যারিয়ারজুড়ে প্রতিটা সুযোগে মৌলবাদের প্রতি ভালোবাসার প্রমাণ দিয়ে গেছেন। মন্ত্রীসভার বেশকিছু রদবদল হয়ে গেলো মধ্যদুপুরের মধ্যেই। যেন বেছে বেছে সবচেয়ে ময়লা গিরগিটি আর সাপগুলাকেই রাখা হয়েছে। বিকালের ভিতরেই দেশে থাকা গুরুত্বপূর্ণ লেখক, ব্লগার আর প্রকাশকদের অনেকের নিহত হবার খবর আসতে লাগলো। রোদ অনেককে ফোন করেছে, যাদের ভেতর অনেকেই ফোন রিসিভ করে নি, আর কখনো ফোন রিসিভ করবে না। শুভ্রাকে পাওয়া গিয়েছিলো সন্ধ্যা পর্যন্ত। টিএসসিতে গিয়েছিলো আড্ডা দিতে। গণ্ডগোলের কথা শুনে ওখান থাকে আর বেরোয় নি। সন্ধ্যার পর ফোনে আর পাওয়া যাচ্ছে না।

সাতটার দিকে ফোন করলো সীমান্ত। কাঁদতে কাঁদতে জানালো, শুভ্রার লাশ ঢাকা মেডিকেলে। রোদ্দুর জানে না কীসের উপর দিয়ে, কীভাবে সে গিয়েছিলো, তবে সে ছুটে গিয়েছিলো শুভ্রার কাছে। ওর ঠোঁটগুলার কি কোনো উপমা হয়? মাঝেমাঝে কিশলয়ের মতো মনে হয়। ওর হাতের ছোঁয়া? রোদ্দুর অনেকবার কল্পনা করেছে, যদি সে কখনো আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়, শুভ্রার হাতের ছোঁয়ায় নিমিষে জ্ঞান ফিরে পাবে, নিঃশ্বাস স্বাভাবিক হয়ে আসবে। কিন্তু শুভ্রা তো চলে গেছে ওর আগেই। ওর কি কান্না পাচ্ছে? কেমন বমির মতো একটা ভাব হচ্ছে যেন। দেশটার প্রতি? না না, ভালোবাসি। যেমন ভালোবাসি মাকে, যেমন ভালোবাসি সালমা আপাকে, ভালোবাসি বাবা আর শ্রাবনের মেঘকে, যেমন করে ভালোবাসি শুভ্রাকে, তারচেয়ে বেশি ভালোবাসি আমার বাংলা, আমার বাংলাদেশ। ঝুম বৃষ্টি নেমে এসেছে বাংলাদেশের গায়ে। ঢেকে যাচ্ছে বাংলাদেশের চোখের জল। রোদ্দুর অন্ধকার রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। আস্তে আস্তে কালো কালো মেঘে চারপাশ ছেয়ে যেতে থাকে। রোদ্দুর বুঝতে পারে তাকে ঘিরে ধরেছে অন্ধকার। শেষবার বুক পেতে নেয় সুবাস। আম্মার রান্না করা চিরিং মাছের মতো গন্ধে, শুভ্রার দুই গম্বুজের মতো পবিত্রতায় বাংলাদেশ কাঁদো কাঁদো চোখে প্রবেশ করে রোদ্দুরের ফুসফুসে, রক্তে, অস্তিত্বে। হিংস্র মেঘ চারপাশ থেকে এগিয়ে আসতে থাকে। তাদের ঘড়ঘড় ঘড়ঘড় গর্জনের শব্দ শুনা যায়। বজ্রপাতের আর বেশি দেরি নেই।

[525 বার পঠিত]

এই লেখাটি শেয়ার করুন:
0