এ মাটি আমার নয়

By |2015-09-12T05:52:15+00:00সেপ্টেম্বর 9, 2015|Categories: কবিতা|3 Comments

কতদিন আকাশের চোখে চেয়ে দেখিনি,
আকাশের নীলে মন খারাপের চাদর
বিষণ্নতার মেঘ ছুঁয়েছে পাহাড়ের ঘরবাড়ি
কতদিন বাতাসের গন্ধ শুঁকিনি আমি
সিসার অকারণ ক্ষোভ জমেছে বুকে
বাতাসে আজ হতাশার বাড়াবাড়ি ।
কতদিন সোনারোদে গা ভেজাইনি
সোনার ঝালরে ঢাকা রোদ কেবলই পালিয়ে বেড়ায়
রোদেরও রংয়ে অতিকায় বড্ড বেগুনী লেপা
আকাশ-বাতাস-নদী-রোদ;
এসবের তৃষ্ণা বড্ড ক্লান্ত করে আমায়।

কতদিন মাটির শোঁদা গন্ধে খুঁজি না আমার ছেলেবেলা
মায়ের বুকে শিশু যেমন খোঁজে দুধেল গন্ধ ।
দূর আকাশের সীমান্তে দেখি না আকাশ-মাটির মিশে যাওয়া,
কতদিন আঁধারের রূপ দেখি না আমি,
রাতের গায়ে ফুটে থাকা নিখাদ আঁধারের বুকে মুখ ডুবিয়ে
কতদিন কথা হয়না;
বৃষ্টিতে ভিজি না কতকাল আমি,
বৃষ্টিও রোমাঞ্চ হারিয়ে কেবলই ঝরে পরিমিত প্রয়োজনে,
আদ্যপান্ত বেরসিক নাগরিক এই জীবনে।

এ মাটির শোঁদা গন্ধ নেই,
অসাড় এ মাটিতে উত্তাপ নেই,
স্নায়ুর অনুরণনে নেই শেকড়ের টান।
এখানে রাতের আকাশে তারার মেলা নেই
শীতের চাবুকে সন্ধ্যা নামে;
গুঁড়ো মরিচের ছুড়ি চালায় মৌন-নিথর-দীর্ঘ রাত,
তুষার বাতাসে শুভ্র ফুলের ফেনা;
তুলোর ভেলায় উড়ে উড়ে শ্বেত পাহাড়ের গায়ে মৃত্তিকারা হারায়,
বৃক্ষের কঙ্কালে থমকে যায় নিঃসঙ্গ নিঃশব্দ সময়,
ঋতুরা স্থবির; একে একে সময়ের পালক খসে।

সালমা ইয়াসমিন নিতি, এনজিও কর্মী, ঢাকা, বাংলাদেশ । একজন সৎ ও আদর্শবান মানুষ হিসেবে জীবন যাপনের চেষ্টা, আশেপাশের মানুষগুলোর সুখি মুখ দেখার স্বপ্ন, বঞ্চিতদের পাশে দাঁড়ানো, কাজের ফাঁকে গান, লেখালেখি, আড্ডা, কবিতা আর একমাত্র মেয়ের সাথে সময় কাটানো। অতি সাধারণ আমি, এখনও নিরন্তর লড়াই নিজের সাথে-‘আমি মানুষ হতে চাই’ এই প্রত্যাশা পূরণে। চাই নিপীড়িত , বঞ্চিত আর শোষিতদের মাঝে তোমাদের লোক হয়ে হাজার বছর বেঁচে থাকতে। সালমা ইয়াসমিন এর ফেসবুক নাম সঙ্গীতা ইয়াসমিন, এই নামেই কবিতা পোস্ট করে থাকি।

মন্তব্যসমূহ

  1. সালমা ইয়াসমিন নিতি সেপ্টেম্বর 10, 2015 at 7:30 অপরাহ্ন - Reply

    পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ! স্বাধীন মতামত ও মন্তব্য প্রকাশের অধিকার আপনার আছে বইকি! তবে মনে হল আমি কি আপনার হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগিয়ে দিলাম? কিম্বা এগুলো হয়ত আমারই বেদনা একাকার হয়ে গেল আপনার সাথে… অনেক শুভকামনা!

  2. নশ্বর সেপ্টেম্বর 10, 2015 at 6:07 অপরাহ্ন - Reply

    লেখাটি অনেক ভালো হয়েছে। 🙂

  3. অনিন্দ্য সেপ্টেম্বর 10, 2015 at 10:12 পূর্বাহ্ন - Reply

    মাননীয়া,
    আমার একটি বহু পুরোন প্রশ্ন আপনি আবার খুচিয়ে তুল্লেন। আমি যদি কবিতায় সোনা রোদ লিখি তাহলে সে এমন অসাড়, মৃত, মেকি শোনায় কেন? আমি কবিতায় বৃষ্টির চিত্রকল্প আকলে সে এমন শুকনো মনে হয় কেন? সে বৃষ্টি আপনার বৃষ্টির মত ভিজিয়ে দিতে পারে না কেন? আমার মাটি আপনার মাটির মত একটি অঙ্কুরে প্রান ঢেলে দিতে পারেনা কেন? বহুদিন আগে আমার এক বন্ধু নীপা দি’র একটা কবিতা পড়েছিলাম। নাম ছিল সমান্তরাল। সে যে কী দারুন প্রাণশক্তি সে কবিতায়। নীপা দি ঢাকা থেকে কলকাতা চলে এসেছিল সপরিবারে। সাথে এনেছিল এইরকম ভিজিয়ে দেয়া বৃষ্টি। এই রকম ফিনিক্স পাখির মত সোনা রোদ। এই রকম ভিজে মাটি যা অবাধ্য জংলা গাছের জন্ম দ্যায়। সে অনেক দিনের কথা। তার পর আমি অসনে বসনে লাইনে রেশনে ভালোই গুছিয়ে নিয়েছি। আমার নির্বিকার কালযাপনের আড়ালে বেশ তো ছিলাম। আজ এদ্দিন পরে আপনার এই কবিতা আমার সে অসাড়তার ঢাল ভেঙ্গে দিল যে! এই সাত সকালে আমি প্রায় বিবস্ত্র হয়ে আমার-ই অসাড় অক্ষমতার দিকে ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে রইলাম। নীপা দি , আপনি, আপনারা পারেন। আমি পারিনা। আমি কেবল আপনাদের বৃষ্টিতে আমার চোখের জল মিশিয়ে ভিজি… ভিজতেই থাকি… ভিজতেই থাকছি।
    আমায় মার্জনা করবেন এ মন্তব্য জানি মোটেও কন্সট্রাক্টিভলি ক্রিটিক্যাল হোল না। কিন্তু না লিখেও থাকতে পারলাম না!

মন্তব্য করুন