ধর্মান্ধতা ও বাঙ্গালী মুসলমান মনস্তত্ত্ব

লেখক: লুব্ধক অনিকেত
বাংলাদেশে মুসলমানরা জন্মের পর থেকেই ধর্মান্ধতা আয়ত্ব করতে শেখে। কেউ যদি বলে বাংলাদেশের বেশীরভাগ মুসলমান উদার মুসলিম সামাজিক সাংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠে সে কথার সাথে আমি মোটেও একমত পোষন করবো না। এদেশের মুসলমানরা অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি কতটা অসহিষ্ণু তা আমি আমার বেড়ে ওঠার প্রক্রিয়ার দেখেছি আর বড় হয়ে একে নিকৃষ্ট বর্ণবাদী ধর্মান্ধ এক সমাজ ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারিনি। অন্তত আমি ছেলেবেলা যে সমাজে বেড়ে উঠেছি সেখানকার অভিজ্ঞতা থেকে আমি এমন ধারনাই পোষন করি। বর্ণবাদী সমাজ একারনেই বললাম যে বর্ণবাদ যেমন নিজ বর্ণ বা জাত ছাড়া অন্য কাউকে পূর্নাঙ্গ মানুষ বলে মনে না করে কেবল ঘৃনা পোষন করে, এদেশের মুসলমানদের বড় একটা অংশই অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি ঘৃনা পোষন করে।

আমি ছেলেবেলাতেই দেখেছি এই মুসলমান সমাজ কিভাবে ভীন্ন ধর্মাবলম্বীকে জোর-জবস্তি করে মুসলমান বানাতে চায়। এসমাজ প্রকাশ্যে অমুসলিমদের বিষদগার করে। যেকোন স্থানেই তারা ভীন্ন ধর্মাবলম্বীদের মালাউন বলে গালমন্দ করতে দ্বিধাবোধ করে না। এমনকি সেখানে ভীন্ন ধর্মাবলম্বী কোন মানুষ আছে বুঝতে পারার পরও এই মুসলমানরা লজ্জিত হয় না, বরং ভীন্ন ধর্মাবলম্বীরা বিপথে আছে বলে তাকে ধর্মন্তরিত হবার পারমর্শ দেয়, আর তারা নিজ ধর্মকে সমর্থনমূলক কথা বললে তাদের পেতে হয় ভৎসনা। মুসলমান ভীন্ন অন্য সবার ধর্মকেই এখানে অবমাননা করা হয়। এখানে ভীন্ন ধর্মাবলম্বী সবাই হিন্দু হিসেবে পরিগনিত হয়। একজন বৌদ্ধ, খ্রিষ্ট্রান বা আদিবাসী হলেও সাধারন সমাজ মনস্বত্ত্ব হল ‘সে হিন্দুই’। এমনকি একজন নাস্তিকও ওই সমাজে হিন্দু হিসেবেই পরিগনিত। মানুষ কতটা গন্ড মূর্খ এমনটা ভাবতে পারে তা বলাই বাহুল্য!

যাহোক, এসব আমি জেনেছি আমার জীবন থেকে, মানে দেখতে দেখতে শুনতে শুনতে জেনেছি। এখানে হিন্দু ধর্মের প্রতি বিদ্বেষ শৈশবের প্রারম্ভ থেকে থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বিস্তৃত। হিন্দু বিদ্বেষ এ দেশের মুসলিম সমাজে একজন শিশু তার সামাজিকিকরন প্রকৃয়ার মধ্য থেকেই শেখে। আমি শৈশবে আমার খেলার সাথীদের কাছ থেকে শিখেছিলাম লাল রংয়ের পিপড়াঁ হিন্দু তাই কামড় দেয় এবং এর কামড়ে বিষ থাকে! আমি আমার পারিপার্শ্বিকতা থেকে শিখেছিলাম হিন্দুরা মারা গেলে ভুত হয় কেননা হিন্দুরা খারাপ মানুষ! আমার সব সহপাঠিই মনে করত ভুতেরা হিন্দু! সে সমাজে শিশুদের শেখানো হয়েছিল কবরস্থান পবিত্র জায়গা আর শ্বশান অপবিত্র জায়গা, তাই শ্বশানে ভুতের আঁখড়া! তাই শশ্বানের পাশ দিয়ে হেঁটে যাবার সময় সুরা পড়তে পড়তে যেতে হত সবাইকে পাছে যদি আবার ভুতে ধরে! আমার ছেলে বেলায় মক্তবে গিয়ে শিখেছিলাম মুসলমান মারা গেলে সাথে সাথে বলতে হবে ‘ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন’ (মৃত ব্যক্তি জান্নাতবাসী হোক) কিন্তু হিন্দু মরলে বলতে হবে ‘ফী নারি জাহান্নাম খালিদীনা ফীহা’ (মৃত ব্যাক্তি চিরকাল জাহান্নামের আগুনে পুড়ুক)! আমার কৈশোরে যখন যৌনতার বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠছিলাম তখন আমার এক সহপাঠির কাছ থেকে শুনেছিলাম যে কুমারী হিন্দু নারীর সাথে যৌন ক্রিয়া করলে নাকি বাতের ব্যাথা ভাল হয়ে যায়!

এ মুসলমান সমাজে একটি শিশু এসব শুনতে শুনতেই হিন্দুদের শত্রু হিসেবে নিজের অজান্তে দাঁড় করায়। ফলে এমন মনস্বত্ত্ব তৈরী হয় যে বড় হয়ে এসব মুসলমানের কাছে হিন্দু নারী ধর্ষন, মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর, ধর্মন্তারকরন এক একটা একটা পূন্য কাজ বলে মনে হয়। আমার ছেলেবেলায় দেখছি ভারত পাকিস্থানের ম্যাচে ভারত জিতুক বা হারুক যাই হোক আমার হিন্দু বন্ধুদের বাড়ীর চালে ডিল পড়েছে। খুব ছোট থেকেই দেখেছি মানুষ অনায়াসে হিন্দুদের ডান্ডি, ডেডা ইত্যাদি নামে ডাকছে। আমার এক বন্ধুর নাম ছিল সঞ্জিব, ওকে আমিসহ আমার বন্ধুরা অবলিলায় বলে দিতাম ‘কিরে হিন্দু তুই কালকে কই ছিলি’ এ জাতিয় কথা । মাঝে মাঝে ডান্ডিও বলতাম সামনা সামনি। সেও এধরনের সম্বোধন শুনে অভ্যস্ত ছিল। পরে বুঝেছি কিভাবে এই ধরনের সম্বোধন একজন মানুষের মাঝে ভয়ংকর ভাবে আদারনেস তৈরী করে।

আমি যখন খুব ছোট তখন আমাদের পাশের হিন্দু পাড়ার দিলিপ একদিন মুসলমান হল। সে বয়সে ঘটনার সারমর্ম যা বুঝেছিলাম আর যতটুকু মনে আছে সে অনুসারে বলা যায় দিলিপ অভাবের তাড়নায় এক রেলওয়ে কর্মকর্তা দেয়া চাকরির প্রলোভনে মুসলমান হয়েছিল। দিলিপের নতুন নাম হয়েছিল রুস্তম। পাড়ায় রুস্তমকে নিয়ে একটা উৎসব আমেজ তৈরী হল। রুস্তমকে সবাই দাওয়াত করে খাওয়ায়। অল্পদিনেই রুস্তম বেশ মোটাতাজা হয়ে উঠল কিন্তু শুকিয়ে গেল রুস্তমের দুই মেয়ে আর বউ, ওরা মুসলমান না হওয়ায় মুসলমানরা ওদের ডেকে খাওয়ায় না আর অন্যদিকে নিন্মবর্ণের হিন্দু প্রতিবেশীরাও রুস্তমের পরিবারের বোঝা বইতে পারে না। একদিন দেখি পাড়ায় রুস্তমের সালিশ বসেছে কেননা তাকে হিন্দু পাড়ায় তার ঘরে বউ-বাচ্চা সাথে সাথে রাত কাটাতে দেখা গেছে। সালিশে কি বিচার হয়েছিল মনে নাই। তবে মনে আছে, রুস্তমের পরিবারের উপর নেমে এসেছিল এক সংকট। একদিকে পরিবার মুসলমান না হওয়ায় রুস্তম পরিবারের কাছে যেতে পারে না। অন্যদিকে পরিবারের নেই কোন খোরাকি। এভাবে একদিন রুস্তমের বউ দুই মেয়েকে নিয়ে মুসলমান হতে হল। তাদের জন্য পাড়ায় নতুন খুপড়ি ঘর বানান হল। একদিন রুস্তমের চাকরিও হল। কিন্তু আবার বিপত্তি দেখা দিল কেননা রুস্তমের বউকে নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গেল সে লুকিয়ে মন্দিরে যায়। এরপর আরো অনেক সালিশই হতে দেখেছি রুস্তমের বউয়ের মন্দিরে যাওয়া নিয়ে। কি বিচার হয়েছিল তাও ভুলে গেছি। অনেক ছোট ছিলাম সবকিছু মনে নেই ঠিকঠাক। তবে সমাজটা যে নিষ্ঠুর ছিল এটা বুঝেছিলাম। তাই ভুলে যেতে পারিনি এঘটনা কোনদিনই। বড় হয়ে বুঝেছিলাম এটা ছিল একটি জোর-জবস্তির ধর্মান্তরকরন। এরকম আরো হাজার হাজার ঘটনা আজো ঘটে চলেছে এদেশের আনাচ কানাচে।

আমার ছোটবেলার সেই পাড়া থেকে বেড়িয়ে এসে একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে এলাম। এখানে এসে দেখলাম ভীন্ন ধর্মাবলম্বীদের আদারনেস প্রব্লেম আরো বড়। তাদের জন্য একেবারে আলাদা হলই। ৮৪ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিধি, নাম, যশ বেশ বেড়েছে কিন্তু ধর্মকেন্দ্রীক পৃথকীকরন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় বের হতে পারেনি। তাই আজো অমুসলিম ছাত্রদের জন্য আলাদা আবাসন ব্যবস্থা এদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠে। কয়েকদিন আগে শুনলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ নতুন একটি হল সব শিক্ষার্থীর উম্মুক্ত করার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে মুসলমান শিক্ষার্থীরা। যেদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ধর্মন্ধতা অস্তিত্বশীল সেদেশে সাধারন মানুষের মনস্তত্ত্ব কেমন তা সহজেই অনমেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে এসেছি বছর দশেক চলছে এখনও আশপাশ থেকে কানে ভেসে আসে ‘মালউনের বাচ্চাদের একপা ভারতে’ এজাতিয় কথা। এইতো সেদিন অফিসের এক প্রকল্প পরিচালক সম্পর্কে এক কলিগ অভিযোগ করল তিনি নাকি বলেছেন, তার প্রজেক্টে কোন মালাউন রাখা হবে না। সেদিন বাংলাদেশ-ভারতের খেলায় লিটন দাস ভাল পারফর্মেন্স না দেখানোয় পরিচিত একজন মন্তব্য করে বসল, নামের শেষে দাস আছে সে জন্যই দলে চান্স পেয়েছে। সেদিন তো একজন তর্কই জুড়ে দিল বাংলাদেশ নাকি ইসলামিক দেশ। তাকে কোনভাবে বোঝানো গেল না এদেশে প্রায় ১৫ ভাগ অন্য ধর্মের মানুষ বাস করে। বোঝানো যাবেই বা কিভাবে? সংবিধানে একদিকে লেখা আছে রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম আর অন্যদিকে বলা হচ্ছে বাংলাদেশ ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র। আর এ কারনেই পাশ থেকে একজন টিপ্পনি কেটে উঠল, ভাই কি ধর্ম নিরপেক্ষ নাকি?

[931 বার পঠিত]

এই লেখাটি শেয়ার করুন:
0

Leave a Reply

41 Comments on "ধর্মান্ধতা ও বাঙ্গালী মুসলমান মনস্তত্ত্ব"

avatar
Sort by:   newest | oldest
সৌমিত্র মহান্তি
Member
সৌমিত্র মহান্তি

কথায় কথায় প্রসঙ্গে অপ্রসঙ্গে ভারত দেশটার কথা আসবেই ! নিন্দা বা প্রশংসার ছলে দেশটার নাম বলার জন্য অনেককেই একগাদা করে ধন্যবাদ!

লেখককে জানাই, ওটা আপনার অভিজ্ঞতা ! কিন্তু দেশটার সমস্ত মানুষের মনের কথা নাও হতে পারে!

সমীর সামন্ত
Member
সমীর সামন্ত

সকলের বক্তব্যই পড়লাম, বুঝলাম, ধর্ম আছ‌ে তাই ধর্মান্ধতাও । শরীর এর মধ্যেই ক্যান্সার জন্ম লয় । প্রতিরোধ গড়ে তুলুন সর্বতো ভাবে
সুস্থ সমাজ যদিও কখনো হবে না । কারন মানুষ ক‌োনদিন নিঃস্বার্থ হবে না । আর ইতিহাস পড়ুন যদি আসল পাওয়া যায় , ওটাও বিকৃত ।

মান্ওয়া মানব
Member
মান্ওয়া মানব

বাংলাদেশের অজপাড়া থেকে ঝা চকচকে শহরেও ধর্মীয় উগ্রতা বিদ্যমান। মানুষ এখানে ছদ্মবেশ ধারণ করে থাকে প্রতিনিয়ত। কেউ সুযোগ পেলে চুরি করে, কেউ ধর্ষণ করে, কেউ লুটকরাজ করে আরও কত কী! তাই আমি এখন বর্তমানে মানুষদের ছদ্মবেশী মানুষ বলে থাকি ।।

ফলোমী
Member

আমি ধর্ম নিয়ে বলছি না, আপনি আপনার লেখেয় যেভাবে মানুষএর দুইটা ধর্ম নিয়ে লিখেছেন আসলে মানুষ হিসাবে মানুষের সাথে কখনো এমন করার কথা না
যদি ও করে থাকে তাহলে আমি ধরে নেব আপনার অই সমাজে আলোর অনেক অভাব ।। আসলেই অনেক অভাব

মোঃ কামরুজ্জামান
Member
মোঃ কামরুজ্জামান

লেখাটা পড়লাম ভাল লাগল আবার খারাপ ও লাগল। ভাল লাগল এজন্য অনেক বাস্তবিক বিষয় তুলে ধরার কারনে। আর খারাপ লাগল প্রত্যেকটা দেশের সংখ্যা লঘিষ্টরা এভাবে সারা জীবন শোষিত হয় বা হবে এজন্য। আসলে এটা পৃথিবী ধংসের পূর্ব পর্যন্তই চলমান থাকবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
Member
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
@ লেখক: আমার জীবনের একটি ঘটনা আপনার সাথে শেয়ার করি। ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় বাধনের (সেচ্ছায় রক্তদান সংস্থা) যুক্ত ছিলাম। একবার ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতাল থেকে একজন এলো তার রোগীর জন্য বি পজেটিভ রক্ত লাগবে (২ ব্যাগ)। আমি রিকুজিশন পেপার দেখেশুনে আমি ও আমার এক জুনিয়রকে সাথে নিয়ে সেই লোকের সাথে হাসপাতালে গেলাম রক্ত দিতে। ব্লাড-ক্যান্সার রোগী। রক্ত পরীক্ষার ফাকে লোকটি আমাদের রোগীকে দেখাতে নিয়ে গেলেন। রোগীর এক আত্মীয় (বয়স্ক লোক) আমাদের নাম ধাম শুনে আমাদেরকে নিতে আসা লোকটিকে চরমভাবে গালিগালাজ করলেন। এর কারন হিসাবে তিনি বললেন আমরা মুসলমান, আমাদের রক্ত নিলে তাদের পাপ হবে। বয়স্ক লোকটি একথা গুলো আমাদের সামনে অবলীলায়… Read more »
লুব্ধক অনিকেত
Member
লুব্ধক অনিকেত
@নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, “সব ধর্মের লোকের মধ্যেই গোঁড়ামী আছে”-সত্য কথা। ধর্মীয় গোঁড়ামী আর সংখ্যালঘুর উপর নিপিড়ন পরস্পর সম্পর্কযুক্ত হলেও এক কথা না। বাংলাদেশ সহ এই উপমহাদেশে হিন্দু মুসলমান পরস্পরের ঘরে না খাওয়া, রক্ত গ্রহন না করা এসব বহুকাল ধরে এই সমাজে চলমান। এগুলো হিন্দু-মুসলমান দুই সম্প্রদায়ের অনেক পরিবারেই প্রবলভাবে বিদ্যমান। কিন্তু এই গোড়াঁমীকে মেনে নিয়ে সংখ্যালঘু নিপিড়নকে মেনে নেয়ার অর্থ হল সংখ্যালঘু নিপিড়নকে সমর্থন করা। আপনি যে গোঁড়ামীর জন্য মন:কষ্ট পেয়েছেন এটা খুব সাবজেকক্টিভ, কিন্তু এটা এসমাজের মূলে প্রথিত একটি সমস্যা। সংখ্যালঘু নির্যাতন./নিপিড়ন একটা দৃশ্যমান সামগ্রীক বিষয় এটা ধর্মীয় গোঁড়ামী থেকেই উদ্ভুত। আপনি যে এটা মেনে নিতে বলছেন সেটাও ধর্মীয়… Read more »
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
Member
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
@ লেখক “বাংলাদেশ সহ এই উপমহাদেশে হিন্দু মুসলমান পরস্পরের ঘরে না খাওয়া, রক্ত গ্রহন না করা এসব বহুকাল ধরে এই সমাজে চলমান। এগুলো হিন্দু-মুসলমান দুই সম্প্রদায়ের অনেক পরিবারেই প্রবলভাবে বিদ্যমান।” এখানেই আমি আপনার সাথে সম্পূর্ন একমত। আপনি নিশ্চয় চলমান সামাজিক প্রথা কে ভেঙ্গে বের করে মানুষকে উন্নত জীবন দেয়ার কথাটি মাথায় নিয়েছেন। একটি সামাজিক রীতি ভেঙ্গে ফেলার জন্য অন্তত এক প্রজন্মের দরকার হয়। বিষয়টি মনে হয়না এত সহজভাবে সমাধান করা যাবে। আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে মনে হয় যে, আমাদের সমাজে পারিবারিক মূল্যবোধের পাশাপাশি ধর্মীয় মূল্যবোধের বিষয়টি এর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা যদি সঠিক ভাবে ধর্মীয় শিক্ষা পেয়ে থাকি তবে অন্য… Read more »
লুব্ধক অনিকেত
Member
লুব্ধক অনিকেত
@ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, নিজধর্ম বা পরধর্ম বা ধর্মহীনতা বা ধর্ম নিরপেক্ষতা যে যেই মতবাদেই বিশ্বাসী হন না কেন সবারই নিজস্ব বিশ্বাসের অথবা অন্যের বিশ্বাসের সমালোচনা মেনে নেয়ার মানসিকতা থাকা দরকার। যেহেতু আমি মুসলিম সমাজে বড় হয়েছি তাই এসমাজ কিভাবে একজন মানুষের সামাজিকিকরন প্রকৃয়ায় সংখ্যালঘুদের প্রতি বিদ্বেষ তৈরী করে তা আমার গোচরীভূত হয়েছে। এটা আমাদের সমাজের মনস্বত্ত্বে গভীরভাবে প্রথিত। হয়ত হিন্দু সমাজে বেড়ে উঠেছে এমন কেউ হিন্দু সমাজের মুসলমান বিদ্বেষ তার সমালোচনায় তুলে ধরছে। এ ধরনের সমালোচনা এবং গালমন্দ করা এক নয়। আপনার মন্তব্যের পর আবার লেখাটা পড়ে দেখলাম কোথায় আমি ইসলাম ধর্মকে গালমন্দ করেছি বলে দেখছি না। যাদের যুক্তি… Read more »
প্রসূনজিৎ
Member

আমি বর্তমানে মুক্তমনায় বাংগালি বা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী মুক্তমনা যারা আছেন তাদের কাছে একটি প্রশ্ন করতে চাচ্ছি। তা হল ভারত বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময়ের পর বাংলাদেশী ভূখন্ডের ছিটগুলোর প্রায় নব্বই ভাগেরও বেশী হিন্দু অধিবাসী ভারতে চলে যেতে চেয়েছেন। কিন্তু ভারতীয় ছিটগুলোর মুসলমান অধিবাসীদের একজনও বাংলাদেশে আসতে চাননি।
যদিও আমার ক্ষুদ্রজ্ঞানে যতটুকু জানি দুই দেশেই ছিটগুলোতে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ।

অমিত কর
Member

আমি ১৩ বছর ধরে ভারতীয় সেনাতে আছি। এখানে সর্ব-ধর্ম-স্থল হয় যেখানে রাধা-কৃষ্ঞর মুর্তির পাশে মক্কা-মদিনার ছবি থাকে,যিষুখৃষ্টের,গুরু নানকের। আরতীর শেষে বলা হয়—-ধর্মের জয় হোক,অধর্মের নাশ হোক,প্রানীদের মধ্যে সদ্ভাব হোক,বিশ্বের কল্যান হোক। এখানে মন্দিরে কোনো মুসলিম সৈনিক যদি টুপি পরে আসে বা সে নামাজ আদা করলে তার বিরোধিতা হয় এমন কোনোদিন দেখিনি। বরং বলা হয় নামাজের সামনে দিয়ে যাসনা। ইদের সময় ইফতিয়ার পার্টি দেয় হিন্দু সাথীরা। এখানে JKLI,JKRIFএর মতো মুসলিম পল্টন আছে। এর থেকে আর বেশী কিছু বলার প্রয়োজন হবে না আশাকরি?

বিবর্তিত মানুষ
Member
বিবর্তিত মানুষ

জন্মের পর থেকেই ‘ লা ইলাহা ইল্লালাহ মুহাম্মদের রসুরুল্লাহ’ ক্রমাগত বলতে থাকলে বোধে কখনোই অন্য ধর্মের প্রতি, অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা বোধ আসবে না বরং বড়দের কাছ থেকে অর্জিত বিধর্মী কাফের গালিই আয়ত্ব আসে বেশি!! তাছাড়া অনেক মওলানা, হুজুর ও ধর্মীয় প্রবক্তাদের কাছ থেকে অনেক মুসলিম ছেলে মেয়ে শৈশব থেকে এমন ধারনাই পেয়ে থাকে বেশি ।

অবসরের গান
Member
অবসরের গান

আমারই হয়তো প্রশ্নটা আরেকটু খুলে করা উচিত ছিল । বিজেপি হিন্দুত্ব বাদী দল আমরা এটা জানি । কিন্তু তাদের কয়েকজনই উচ্চপদস্ত কর্মকর্তা মুসলিম । কিন্তু জামায়েত ইসলামীতে হিন্দুদের ” হ ” ও নেই । আমি বলতে চাচ্ছি এবং আমার নিজস্ব মতামত যে বাংলাদেশের সকল হিন্দুদের বলা হয় ভারতে গেলে তাদের জীবন ধারনের জন্য সব ধরনের সহযোগীতা করা হবে , তাহলে সকলে নাহলেও বেশীরভাগ মানুষ সেখানে চলে যাবে । কিন্তু পক্ষান্তরে ভারতের মুসলমানদের বলুন বাংলাদেশে আসলে এই দেশ তাদের সেই সকল সব সুযোগই দেবে । আপনাদের কি মনে হয় ? কজন আসতে চাইবে ? এর কারন। কি ?

অনিন্দ্যসুন্দর চক্রবর্ত্তী
Member

প্রথমত… বিজেপির সাথে জামাতের তুলনাটি ঠিক হোল না… সেখানে যেমন হিন্দু নেতা নেই তেমনি বিশ্ব হিন্দু পরিষদ কি বজরং দলে একটিও মুসলিম নেতা বা কর্মি নেই। বিজেপি কে ভোট আদায় না করতে হলে সেখানেও থাকত না। তবে একথা সত্য ভারতের অবস্থা নানান অসুবিধে থাকা সত্বেও বাংলাদেশের থেকে কিঞ্চিৎ ভালো…এখানকার সংখ্যালঘুরা ওদেশের সংখ্যালঘুদের থেকে কিন্তু মোটের ওপর নিরাপদ। এটা ভুলে গেলে চলবে না ভারতের কিন্তু কোন স্টেট রিলিজিয়ন নেই… ফলে সাংবিধানিক ভাবে রাষ্ট্র দুম করে ধর্মিয় ব্যপারে নাক গলাতে পারে না…

wpDiscuz

মুক্তমনার সাথে থাকুন