সমকামী বিবাহের রাস্ট্রীয় স্বীকৃতির অসমর্থণে

By |2015-06-27T20:48:51+00:00জুন 27, 2015|Categories: ব্লগাড্ডা|21 Comments

সমকামীদের অধিকার নিয়ে আমার কোন আপত্তি নাই । সাধারণ মানুষের যেসব অধিকার তার সবগুলোই সমকামী, বিষমকামী, উভকামী, অকামী সবার জন্যই প্রযোজ্য ।

সমকামীদের বিবাহের অধিকার নিয়ে দুইখান কথা আছে । প্রথম কথা, আগে বিবাহ কি জিনিস সেটা নিয়ে আমি নিশ্চিত হতে পারছি না । মানে বিবাহ কি রাস্ট্রের এখতিয়ারভুক্ত কিছু নাকি ধর্মীয় কিছু । দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তাদের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে সংগম ও সন্তান লালন করবে , এটাতে কেউ কিছু মনে করবে না , বিবাহের সংজ্ঞা এইরকম । দুইজন মানুষ নিজেদের সম্মতির ভিত্তিতে সংগম করলে এমনিতেও রাস্ট্রের বলার কিছু নাই । দ্যাট ইজ, আধুনিক নূন্যতম সভ্য রাস্ট্রের । মদীনা ছনদের ভিত্তিতে চলা রাস্ট্রের ক্ষেত্রে না । আবার দুজন যদি তাদের বায়োলজিক্যাল সন্তান, অথবা যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দত্তক নেয়া সন্তান লালন করে সেখানেও রাস্ট্রের বলার কিছু নাই ।

তাহলে কি বিবাহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ? ধর্ম তার নিজস্ব বোঝাপড়া অনুযায়ী তার অনুসারীদের জন্য কোনটা হালাল আর কোনটা হারাম সে দিক-নির্দেশণা দেয় । ধর্ম যেহেতু পরিষ্কার ভাবে সমকামী সম্পর্ককেই অবৈধ বলে ঘোষনা করে সেখানে সমকামী বিবাহের স্বীকৃতির জন্য ধর্মের কাছে ধর্ণা দেয়াটা ছাগলামি । আধুনিক সভ্য সমাজে ধর্ম যেহেতু আপনাকে তার অনুসারী হওয়ার জন্য বাধ্য করতে পারছে না , সেখানে আপনার কেনো ধর্মকে আপনার পছন্দের স্বীকৃতির জন্য চাপ দিতে হবে ? ধর্ম আপনার পছন্দকে মানছে না , আপনিও ধর্মকে টুট টুট বলে সরে আসুন ।

তবে না । আধুনিক রাস্ট্রে নানান দার্শণিক দিক অমীমাংসিত রেখে, নানান হেঁয়ালি রেখেও বিবাহ শেষমেশ রাস্ট্রের এখতিয়ারভুক্ত প্রতিষ্ঠানই রয়ে গেছে । রাস্ট্র বিবাহিত লোকজনকে বেশ কিছু সুবিধা দেয় । সেসব সুবিধা আবার সবার কাছ থেকে ট্যাক্স হিসাবে আদায় করা টাকা খরচ করেই দেয় । যেমন দম্পতিদের জন্য ট্যাক্স ব্রেক, চিকিৎসা ক্ষেত্রে সহায়তা, কম ভাড়ায় বাড়ি দেয়া, একজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বুড়া বয়সে দুইজনকে পেনশন দেয়া, দম্পতির সন্তানদের জন্য কম খরচে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এইজাতীয় সুযোগ-সুবিধা এইসব ।

এখন কথা হচ্ছে, রাস্ট্র বিবাহিত দম্পতির জন্য এতকিছু যে করে, তার সবকিছুই একটা এজাম্পশনের উপর নির্ভর করে । সেটা হচ্ছে বিবাহিত দম্পতি, গড়পড়তা, সন্তান উৎপাদন এবং লালন করবে, যারা সমাজকে চলমান রাখবে যখন এক জেনারেশন বুড়ো হয়ে রিটায়ার্ড করবে তখন । সমাজকে চলমান রাখা যেহেতু সমাজের সবার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে, সেটা আপনি নিতে চান কি না চান, সেজন্য রাস্ট্র সবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে বিবাহিত , সন্তান-উৎপাদনশীল লোকজনকে কিছুটা সাহায্য করে ।

সমকামীদের বিবাহে রাস্ট্রের এই এজাম্পসনতো টিকছে না । রাস্ট্র আগে থেকেই নিশ্চিত আপনাদের যুগল থেকে বায়োলজিক্যালি কোন সন্তান আসার সম্ভাবণা নাই । তাহলে রাস্ট্র কেনো আপনাদের জন্য পয়সা খরচ করবে ? হ্যাঁ , আপনারা সন্তান দত্তক নিয়ে রাস্ট্র ও সমাজের চলমানতায় ভূমিকা রাখতে পারেন । কিন্তু সেটাতেতো রাস্ট্র নিশ্চিত না । রাস্ট্র কি তবে আপনাদের এই শর্ত দিয়ে বিবাহ করতে অনুমতি দিতে পারে যে, প্রত্যেক সমকামী বিবাহিত যুগলকে কমপক্ষে দুইজন সন্তান দত্তক নিতে হবে ? না, সেটাও করা সম্ভব না । কারণ সেটা সমকামীদের উপর রাস্ট্রীয় নির্যাতনের পর্যায়ে পড়বে । অনেক বিবাহিত দম্পতি আছে যারা নিজেদের ইচ্ছাতে সন্তান নিচ্ছে না । রাস্ট্রকেতো তাহলে তাদেরও বাধ্য করতে হয় ।

আবার বিষমকামী দম্পতি বিবাহের পর সন্তান উৎপাদনের পর আলাদা হয়ে যেতে পারে । ডিভোর্স নিতে পারে । সেক্ষেত্রেও রাস্ট্র যৌক্তিকভাবে ধারণা করে নিতে পারে, আলাদা হয়ে যাবার পরও তারা নিজেদের সন্তানদের দেখভাল করবে । কারণ বায়োলজিক্যাল সন্তানের উপর বাবা-মা দুইজনেরই প্রানীগত টান থাকবে , যেটা ডিভোর্সের কারণে উধাও হয়ে যাবে না । সমকামী বিবাহিত যুগল কি আলাদা হয়ে যাবার পর দত্তক নেয়া সন্তানের ব্যাপারে একই রকম অনুভব করবে ? হয়তো করবে হয়তো করবে না । রাস্ট্রের পক্ষে , করবে বলে ধরে নেয়াটা অযৌক্তিক । কোন শক্ত বৈজ্ঞানিক কারণ নাই ।

তাহলে কথা হচ্ছে, সমকামী দম্পতি রাস্ট্রের ও সমাজের চলমানতায় কোন ভূমিকা রাখবে কি রাখবে না সেটা নিয়ে রাস্ট্র কোন যৌক্তিক এজাম্পশন করতে পারে না । সেজন্য সমকামীদের বিবাহকে রাস্ট্র স্বীকার না করতে চাইলে আমার কাছে দোষের কিছু মনে হয় না । আমি নিজেও আমার টাকায় সমকামী দম্পতিদের সুবিধা দিতে অনিচ্ছুক । তবে সভ্য গণতান্ত্রিক দেশের স্বিদ্ধান্তকে আমি মেনে নিচ্ছি । ভিতরে উসখুশ থাকলেও । রাস্ট্র এমনিতেও অনেক খাতেই আমার টাকা খরচ করছে যেগুলো আমি পছন্দ করছি না ।

সমকামী বিবাহ নিয়ে ঝামেলাটা দাঁড়িয়ে গেছে একটা মিথ্যা দ্বন্দের (False dichotomy) উপর ভর করে । সমকামী বিবাহেের বিপক্ষে যারা , তারা একেবারে প্যান-প্যাসেফিক বলদ । তাদের ঝামেলা বিবাহ, সন্তান দত্তক এইসব ফাইন পয়েন্ট বাদ দিয়ে একেবারে সমকামী সম্পর্কের গোড়া নিয়েই । তারা সমকাম জিনিসকেই দেখে নিজস্ব কূপমন্ডুকতা, সংকীর্ণতা ও ধর্মীয় বিষজাত ঘৃণা থেকে । যারা এর পক্ষে কথা বলছে তাদেরও বেশিরভাগ মূলত সেই ধর্মীয় সংকীর্ণতার বিরোধীতা, সকল রকমের মানুষের স্বাভাবিক সম্পর্ক করার যে অধিকার, সেখান থেকে করছে । রাস্ট্র, বিবাহের সংজ্ঞা, রাস্ট্রের এখতিয়ারের সীমা এসব দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাপারটাকে ভেবে দেখা হচ্ছে না । সমাজের সবাই যদি স্বাভাবিক এ সত্যটাকে, যে সমকামী লোকজনের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে নিজেদের ভিতর যেমন খুশি তেমন জীবনযাপনের অধিকার আছে , এইটুকু বেসিক অংশে একমত হতো, তাহলে আলোচনাটা আরো যৌক্তিক ও অর্থবহ হতে পারতো ।

আমার যৌক্তিক ঝামেলা এইটুকু । বাকীসব প্রতিক্রিয়াশীল ঘৃণাভরা হৃদয়ের মানুষ যারা আসলে নিজেদের ভিতরে নিজের চাইতে আলাদা লোকজনকে নিয়ে পোষণ করা তীব্র ঘৃণা ও তা থেকে উৎসারিত ভয়ের জন্য সমকামীদের বিবাহ ছাড়াও গোটা পছন্দব্যাবস্থাকেই অপছন্দ করেন , যারা মনে করেন সমকামীকাতে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিলে সমকামীরা রাস্তায় বের হয়ে জোর করে সবার পায়ুমৈথুন করবে , বা সমকামীদের কথা মনে হলেই যাদের বমনোদ্রেক হয়, যারা বুঝতে পারেন না সমকামীরা কিভাবে একজন আরেকজনকে লাগাবে , এইসব চুলচামড়া সবাইকে টুট টুট টুট ।

ভালোবাসায় জয় হোক ।

About the Author:

মন্তব্যসমূহ

  1. জাবেদ হাসান জুলাই 2, 2015 at 12:42 অপরাহ্ন - Reply

    আপনার লেখার প্রেক্ষিতে যা যা লিখতে চেয়েছিলাম তার অনেক কিছুই ওপরে অন্যরা লিখে দিয়েছে, এবং বেশ ভালোই লিখেছে। তাই সেসব বিষয় নিয়ে কিছু আর বলছিনা। তবে আপনার রাষ্ট্রের ধারনার ব্যাপারে বিশাল গলদ আছে। রাষ্ট্রের যেকোন বিশেষ জনগোষ্ঠী, সে জনগোষ্ঠি যতটা সংখ্যালঘুই হোক না কেন তার কারনে যদি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে রাষ্ট্র সমস্যায় পরে তার দায় সেই ক্ষ্রুদ্র জনগোষ্ঠী নিবেনা। বরং রাষ্ট্রকেই আলাদা একটি ব্যবস্থার দ্বারস্থ হতে হবে। রাষ্ট্র হিন্দুদের সুবিধা দিতে গিয়ে বিশাল অঙ্কের মুসলমানদের সমস্যায় ফেলছে, হিন্দুরা সন্ধ্যায় উলু দিয়ে, ঘন্টা বাজিয়ে পূজা দিলে মুসলমানদের সমস্যা হয়। এখন কি মুসলমানরা সংখ্যায় বেশি বলে রাষ্ট্র তাদের সুবিধা দেয়ার জন্য হিন্দুদের পূজা দিতে না করবে? মুসলমানরা নিজের পকেট থেকে ট্যাক্স দিবে আর রাষ্ট্র কিনা হিন্দুদের পূজার ব্যবস্থা করে দিবে এমন নিয়ম মানেনা মুসলমানরা, একথা বললেই কি হবে নাকি?

    ওপরে সবাই বোঝানোর চেষ্টা করেছে প্রচলিত পদ্ধতিতেও সমকামীদের কারনে বৃহৎ সংখ্যার স্ট্রেইটদের সুযোগ-সুবিধা দিতে রাষ্ট্র ব্যর্থ হবেনা। কিন্তু আমার কথা হচ্ছে যদি সমকামিদের বিয়ের কারনে রাষ্ট্র সমস্যায় পরেও তার জন্য সমকামীদের দায় চাপাতে পারেনা সে। বরং রাষ্ট্রকেই এখন আগের পলিসি পালটে প্রয়োজনে নতুন পলিসি নিতে হবে। রাষ্ট্রকে ধ্রুবক মনে করে মানবতাকে যদি তার সাপেক্ষে আপেক্ষিক একটি চলক মনে করেন তবে রাষ্ট্র আর কোনদিন পাল্টাবেনা, বরং মানবতাই দিন দিন ক্ষুদ্র থেকে আরো ক্ষুদ্রতর হয়ে যাবে। একাত্তরে বাংলাদেশের মানুষই পাকিস্তান রাষ্ট্রব্যবস্থায় ধাক্কা দিয়েছিলো, কিন্তু তাদের সে ধাক্কা যৌক্তিক ও মানবতার পক্ষে হওয়াতে রাষ্ট্রকেই ভেঙ্গে নতুন পথে আগাতে হয়েছে। সমকামীরাও যদি রাষ্ট্রের প্রচলিত ব্যবস্থায় ধাক্কা দেয় তবে প্রয়োজনে রাষ্ট্রকে একটু পালটে গিয়ে তাদের উপযোগী হতে হবে। কারন সমকামীদের দাবীটা এখানে যৌক্তিক ও মানবিক, একজন মানবতাবাদী মানুষ হিসেবে তাদের পক্ষে থাকতে হবে। এখানে রাষ্ট্র থাকলো কি গেলো সেটি ভাববার বিষয় নয়।

  2. আন্দালিব জুন 29, 2015 at 11:31 অপরাহ্ন - Reply

    মহিলা সমকামীরা স্পার্ম ব্যাংকের সাহায্যে নিজের গর্ভে বাচ্চা নেন। তার সাথে একজন বিষমকামী “একাকী-মা” (single mother-এর বাংলা কী?)-এর কোন পার্থক্য নাই। সঙ্গীর থেকে আলাদা হলেও সন্তান তার। দেখভালও তিনি করবেন।

    বহু পুরুষ সমকামীই বিয়ের পরে সারোগেট-মা ব্যবহার করে বাবা হচ্ছেন। এদের সন্তানও তার। ডিভোর্স হলে দেখভাল তিনি করবেন।

    বায়োলজিকাল পিতৃত্ব বা মাতৃত্বের চেয়ে অভিভাবক বাবা-মায়ের গুরুত্ব অনেক অনেক অনেক অনেক বেশি। যে কোন বিষমকামী-সমকামী-ট্রান্সজেন্ডার বাবা-মাকে জিজ্ঞেস করে দেখেন, তারা নিজেকে সন্তানের পিতা-মাতা ভাবে কি না। আমার ধারণা তারা আরও বেশি ভাবে। তারা বিষয়টাকে given ধরে নেন না, তাদের কাছে বিষয়টা অটোমেটিক না। বায়োলজিক্যাল অভিভাবকদের চেয়ে তাদের আবেগ-অনুভূতি-দায়িত্ব কোন অংশেই কম না।

    আর ড্যুশব্যাগ প্যারেন্টিং-এর সাথে সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশনের কোন সম্পর্কই নাই!

    • দূরের পাখি জুন 30, 2015 at 10:38 পূর্বাহ্ন - Reply

      এগুলোর কোন ফরমাল জরীপের ফলাফল আছে ? মানে বহু পুরষ সমকামী, যেকোন বাবা-মা এধরণের না হয়ে ধরুণ, এক বছরের অধিক সময় ধরে একত্রে বাস করছে এমন পুরুষ ও নারী সমপ্রেমী যুগলের মধ্যে কতভাগ সন্তান দত্তক নিয়েছেন বা সারোগেট ওভারি/স্পার্ম ব্যাবহারের মাধ্যেম সন্তান নিয়েছেন । এ ধরণের স্টাডি ম্যাটেরিয়াল সাজেস্ট করতে পারলে খুশি হবো ।

      তবে এখন যেহেতু সমপ্রেমীরা বিয়ে করা শুরু করবে , দুএক দশকের মধ্যে এধরণের রেজাল্ট আসা শুরু করবে । আমি সেগুলোর জন্যও আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করবো ।

      • আন্দালিব জুন 30, 2015 at 11:37 পূর্বাহ্ন - Reply

        এখানে দেখতে পারেন। এই সূত্রমতে সমকামী পরিবারে ৭২.৮% সন্তানই বায়োলজিক্যাল, বাকিরা দত্তক।

        আমার ধারণা দত্তকের পরিমাণ আরো কমতো যদি বায়োলজিক্যালি সন্তান জন্ম দেয়ার খরচ কম হতো। সারোগেট মাদার (পুরুষদের জন্য) বা ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন ও আর্টিফিশিয়াল ইনসেমিনেশনের (মহিলাদের জন্য) অবিশ্বাস্য রকমের খরুচে ব্যাপার। যা অনেক সমকামী জুটিই অ্যাফর্ড করতে পারে না।

  3. দূরের পাখি জুন 28, 2015 at 9:02 অপরাহ্ন - Reply

    আপনি সম্ভবত জানেন না যে বিসমকামি দম্পতিরাও সন্তান দত্তক নেন। এবং তাদেরও ডিভোর্স হয়ে যায়।

    অনেক বিষমকামি মানুষই বিয়ের অনেক আগেই কোনো মেডিক্যাল কারণে জেনে যায় যে তারা কখনো সন্তান ধারণ করতে পারবে না।

    আবার, অনেক দেশে অনেক বিষমকামি মানুষ বিয়ে না করেও সন্তান সন্ততি নিয়ে জীবন যাপন করছে। আবার সমকামিরাও, বায়োলজিক্যাল সন্তান ধারণ করেন। অন্যের স্পার্ম বা ওভারি গ্রহণ করার মাধ্যমে। সেসব খবর রাখেন

    এই তিনটা পয়েন্টেই আপনার একটা সাধারণ ভুল হচ্ছে । মনে হচ্ছিলো সম্ভবত আপনি পরিসংখ্যান নিয়ে জানেন না, অথবা সোশাল সায়েন্স নিয়ে জানেন না । আপনার পুরনো পোস্টগুলো ঘেঁটে মনে হলো না, পরিসংখ্যান নিয়ে আপনার জানাশোনা বিশালই হবে । সম্ভবত সোশ্যাল সায়েন্স নিয়ে জানাতে কিছুটা ঘাটতি আছে । সোশ্যাল পলিসির ক্ষেত্রে লজিক গেইটের মত রেজাল্ট দিয়ে বিবেচনা করা যায় না । কোন পরীক্ষায় যদি দেখা যায় ৯০ ভাগ মানুষ আইসক্রিম পছন্দ করে তাহলে ,মানুষ সাধারণত আইসক্রিম পছন্দ করে এই এজাম্পশন ধরে নিয়েই পলিসি ঠিক করা হয় । আমার যুক্তির ক্ষেত্রেও আমি গড়পড়তা বিষমকামী দম্পতি সন্তান উৎপাদন ও লালনের মাধ্যমে সামাজিক ধারা বজায় রাখবে এই এজাম্পশনই নিয়েছি । এই বিষয়ে বাকী কথাগুলো অর্থহীন বাগাড়ম্বর ।

    ধরুণ দুজন পার্টনারের একজন কোমায় চলে গেল। এখন সিদ্ধান্ত নেওহা হবে লাইফ সাপোর্ট খুলেদেওয়া হবে কি না। এই সিদ্ধান্ত সাধারণত স্ত্রী, বা স্বামী নিয়ে থাকেন। এছাড়াও হাজার রকম ব্যাপার আছে যেখানে সমকামি জুটি, আর দশটা পরিবারের মত বন্ধনে আবদ্ধ থেকেও আর দশটা পরিবারের সমান রাষ্ট্রীয় সুবিধা/স্বীকৃতি পান না। আইনের মাইরপ্যাচে পড়ে।

    হ্যাঁ, এটা একটা ভালো পয়েন্ট । ফেইসবুকে আরেকজন একটা পয়েন্ট ধরেছিলেন যে, দীর্ঘদিন একত্রে থেকে আলাদা হয়ে যাবার সময় সমকামী যুগলের ক্ষেত্রে সাধারণ সম্পদের ভাগাভাগি নিয়ে ঝামেলা হয় রাস্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত নীতিমালা না থাকার কারণে । এসব ক্ষেত্রে বিবাহিত স্ট্যাটাস হলে এইসব ঝামেলা থাকে না ।

    রাস্ট্র সমকামী যুগলকে এসব সমস্যা সমাধানে সাহায্য করার জন্য কি করতে পারে সেটা নিয়ে আলোচনা হতে পারে । আমার পয়েন্ট হচ্ছে সেটা তাদের বিবাহকে রাস্ট্রীয় স্বীকৃতির মাধ্যমে করতে হবে এমন কোন কথা নাই । রাস্ট্র হোক কোন সংগঠন হোক, অবশ্যই কিছু এজাম্পশন এর উপর ভিত্তি করে তাদের আইন তৈরী করে । যেমন ধরুন সম্পত্তির উত্তরাধিকার । রাস্ট্র ধরে নেয় যে মানুষ চায় তার সন্তানসন্ততি তার রেখে যাওয়া সম্পদ ভোগ করুক । এজন্য কেউ মারা যাবার সময় স্পষ্ট উইল না রেখে গেলে রাস্ট্র সাধারণভাবে তার সেই সম্পদ তার ছেলেমেয়েদের মধ্যে ভাগ করে দেয় বা ভাগ করে নিলে সেখানে বাগড়া দেয় না । এখন অনেক লোকই থাকবে যারা এটা চায় না । রাস্ট্র সেটাকে ধ্রুব ধরে নিয়ে আইন করতে পারে না । যারা চায়না তাদের জন্য আলাদা প্রভিশন রাখতে পারে । যেটা রাস্ট্র তৈরী করে রেখেছে উইল সিস্টেমের মাধ্যমে । আমার মনে হয় যেসব ঝামেলা সমকামী যুগল ফেইস করে সেগুলোর জন্য রাস্ট্র আলাদা প্রভিশন রাখতে পারে । তাদের বিবাহকে সাধারণ বিবাহের সাথে এক না করে ফেলেও ।

    আপনার মত করে অহেতুক ব্যাক্তি আক্রমণে গেলাম না । শুধু একটা ছোট কৌতুহল । আপনি কি বিবাহিত ?

    • তানভীর জুন 28, 2015 at 9:23 অপরাহ্ন - Reply

      পলিসি আর আইন এক বিষয় নয়। পলিসি নির্ধারণের সময় নানান রকম স্ট্যাটিস্টিক্স ঘাটতেই হয়। ওখানে নানান রকম অপটিমাইজেশনের ব্যাপার আছে। কিন্তু, ধমাধাম আইন বানিয়ে ফেললে, অনেক মানুষ নিষ্পেশনের শিকার হয়। কারণ কোর্টে আইনের ক্লজ গুলো লজিক গেইট এর মত করেই এক্সিকিউট করা হয়।

      আপনার মত স্ট্যাটিস্টিক্স বিশারদদের জন্যই সারা দুনিয়ায় সংখ্যালঘুদের এই দূরাবস্থা। আইন কানুন পলিসি সব ঐ ৯৯% এর জন্যই করে বসে থাকুন গিয়ে। এখানে মন্তব্যের ঘরে আপনাকে মানবিক বিদ্যার শিক্ষা দেওয়া কারো কম্মো নয়।

      আমি সাধারণত ব্যক্তি আক্রমণ করি না। কিন্তু এই পোস্টের প্রথম লাইনের পরে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে নানান রকম অদ্ভুত গ্যাজানো শুরু করেছেন। তাতে আর মাথা ঠান্ডা রাখা গেল না।

    • তানভীর জুন 28, 2015 at 9:27 অপরাহ্ন - Reply

      এই রোগ আগে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাওয়া নিয়ে ত্যানা পেচাইতে চাইত যারা তাদের মধ্যে দেখতাম। “যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমিও চাই কিন্তু… ব্লা ব্লা ব্লা” …

      আপনিও সমকামীদের সাধারণ মানুষের মত সব রকম অধিকার দিতে রাজি, কিন্তু …[ত্যানা প্যাচানি]

      আর হ্যা, সমকামীরাও ট্যাক্স দেয়। আপনার ট্যাক্সের টাকা সরকার তাদের উপর খরচ করলে। তাদের ট্যাক্সের টাকাও আপনার উপর খরচ হয়। অবশ্য সংখ্যালঘুদের দুয়েকটা টাকার চেয়ে আপনাদের টাকা হয়তো বেশি। সেই গরবেই অন্যের অধিকার হরণ করতে নেমেছেন।

      • কাজী রহমান জুন 29, 2015 at 3:52 পূর্বাহ্ন - Reply

        আর হ্যা, সমকামীরাও ট্যাক্স দেয়।

        মার্কিন বিলিয়নিয়ার সমকামী ট্যাক্সপেয়ার ইনভেস্টর’দের কথা তো বলাই হয়নি। মাত্র ৪ পার্সেন্ট সমকামীর মধ্যে আবার রয়েছে উচ্চ স্থানীয় বিলিয়নিয়ার। নিজের খরচ নিজে দেবার পরও দেশ ও বিশ্বের জন্য ভাগ দিচ্ছে তার অর্থ বিত্তের। অথচ সাধারণ নাগরিক অধিকার চাইলে বা পেলে মডারেট ঘ্যানঘ্যান শুনতে হচ্ছে !

        • দূরের পাখি জুন 29, 2015 at 9:34 পূর্বাহ্ন - Reply

          ট্যাক্স খরচের খাত কি যৌক্তিক না অযৌক্তিক সে আলোচনায় ট্যাক্স কারা দেয় না দেয় এটার গুরুত্ব ঘোড়ার ডিমের ভরের সমান ।

          • কাজী রহমান জুন 29, 2015 at 2:03 অপরাহ্ন - Reply

            আহা হা রেগেমেগে ঘোড়ার ডিম দাগছেন কেন? ওরা নাগরিক অধিকার চেয়েছে, পেয়েছে। আপনার এত লাগছে কেন? ট্যাক্স রিফান্ড যদি না পান, দু দশ পয়সা না’হয় দিয়েছেন ট্যাক্স; তো? আর মার্কিন মুলুকের সর্বোচ্চ আদালত তো ঘাস খেয়ে রায় দেয় নি; প্রচলিত আইন মেনেই দিয়েছে। ওদের যোগ্যতাও প্রশ্নাতীত। কারণ প্রশ্নসাগর পার হয়েই ওরা ওই আদালতের বিচারক আর বিচার প্রক্রিয়া চালানোর দায়িত্ব পেয়েছে। ভালোই তো লিখছিলেন; আপনার আবার কি হল? যাই হোক, ভালো থাকুন; ভালো লেখা লিখুন। শুভেচ্ছা।

            • দূরের পাখি জুন 29, 2015 at 5:13 অপরাহ্ন - Reply

              কথার চাতুর্য্য কারো যুক্তিকে শক্তি যোগ করেনা, তাই আপনার কথার চাতুর্য্যের সাথে এনগেজ হইলাম না আর ।

              আর মার্কিন মুলুকের সর্বোচ্চ আদালত তো ঘাস খেয়ে রায় দেয় নি; প্রচলিত আইন মেনেই দিয়েছে।

              হ্যাঁ, এটা ভ্যালিড পয়েন্ট বলেছেন । আদালত গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে স্বিদ্ধান্ত দিয়েছে । সেটা আমি লেখাতেও বলেছি begrudgingly মেনে নিয়েছি । প্রচলিত আইন মেনেই দিয়েছে কিনা সেটা আপনি সন্দেহাতীত বলতে পারেন না । আইনের ইন্টারপ্রিটেশন একেক বিচারকের কাছে একেকরকম হতে পারে । এক্ষেত্রেও তা-ই ঘটেছে । স্বিদ্ধান্তটা কিন্তু পাশ হয়েছে ৫-৪ এ । খুবই মার্জিনালি । যতটা তর্কাতীত, সন্দেহাতীত , প্রশ্নাতীত দাবী করছেন, সেরকম যদি আসলেই হতো তাহলে ৯-০ তেই হবার কথা ছিলো ।

      • দূরের পাখি জুন 29, 2015 at 9:32 পূর্বাহ্ন - Reply

        এই রোগ আগে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাওয়া নিয়ে ত্যানা পেচাইতে চাইত যারা তাদের মধ্যে দেখতাম। “যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমিও চাই কিন্তু… ব্লা ব্লা ব্লা” …

        এটা অত্যন্ত সস্তা স্টান্ট হয়ে গেলো । বাঁশের কেল্লার এডমিনও ভাতে আলু মেখে খায়, আপনেও তাই, অতএব দুইজনেই ছাগু । এমন ধরণের হয়ে গেলো ।

        যেকোন মতামত আপনার কাছে যতটাই অবভিয়াস মনে হোক সেটা সবার মধ্যে একেবারে মনোলিথিক থাকতে হবে এমন কোন কথা নাই । ফাইন পয়েন্টের দ্বিধাদ্বন্দ, বোঝাপড়ার পার্থক্য এগুলোকে একেবারে নারদ নারদ বলে মার মার কাট কাট ভংগীতে ঝাঁপিয়ে পড়াটা হাস্যকর বোধ হলো ।

  4. সৌম্য​ জুন 28, 2015 at 8:47 অপরাহ্ন - Reply

    আপনার লেখাটার মধ্যে প্রচুর presumption আছে যা হ​য়ত আপনি দেখতে পাচ্ছেন না। রাষ্ট্র ও পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক কি হওয়া উচিত​, সেটা বলতে গেলে আপনাকে অনেকগুল বেসিক প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। যেমন- আপনি রাষ্ট্র বলতে কি বোঝেন​? পরিবার মানে কি? রাষ্ট্রের মানুষের সাথে সম্পর্ক কি হবে? বিবাহের মানে কি? কিভাবে বিবাহ পরিবারের সাথে যুক্ত​? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আপনি দেননি। আর যদি রাষ্ট্র, পরিবার, বিয়ে- এই জিনিসগুলো আপনি শুধু যৌক্তিক কাঠামর ওপ​ড় আপনি ব্যাক্ষা করতে চান​, তবে এই উত্তরগুলো না দিলেই ন​য়​।

    আপনার লেখাটার দ্বিতীয় সমস্যা হল​, আপনি সামাজিক প্রশ্নের উত্তর খুজছেন খুব “ইউটেলিটেরিয়ান​” পদ্ধতিতে। এটা কিন্তু খুবই বিপজ্জনক​। সমস্ত ফ্যাসিস্ট শক্তি যারা হাজার হাজার মানুষকে মেরেছে, তাদেরও যুক্তি কিন্তু ছিল “ইউটেলিটেরিয়ান​”। “ইউটেলিটেরিয়ানিসম্” আপাতপক্ষে ভ​য়ম্কর কিছু না হলেও, সামাজিক প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে গিয়ে প্রায়ই ভুল দিকে যায়​।

    আমি নিজেও এই বিশাল প্রশ্নগুলোর উত্তর দেবার দুঃসাহশ করছিনা। কিন্তু তা হলেও, সমকামী বিবাহকে যুক্তি দিয়ে সমর্থন সহজেই সম্ভব​। দেখুন, নিখুত সংগা না দিলেও আমার মনে হ​য় আপনি একমত হবেন​, পরিবার প্রায় সবখানেই একটা social security net হিসাবে কাজ করে। আমার মনে হ​য় পরিবার এবং বিয়ের ধারনা এইকারনেই বিবর্তনের একটা সাভাবিক প্রকাশ হিসাবে তৈরি হ​য়েছিল​। এর সাথে রাষ্ট্রকে না যুক্ত করলেও চলে। রাষ্ট্র যখন বিবাহকে আইনগতভাবে স্বিকার করে, তারও কারন কিন্তু একই। আপনি সমকামী বিবাহ মেনে না নিলে একটা দেশের ১০% মানুষকে কিন্তু এই social security net-এর বাইরে রাখছেন বা তাদের আত্মপ্রতারনায় বাধ্য করছেন​। পশ্চিমের দেশগুলোতে তাও social security যথেষ্ট শক্তিশালী, ভারত, বাংলাদেশ​, পাকিস্তানের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশে পরিবারই একমাত্র​ social security । যদি রাষ্ট্রের উদ্দেস্য হ​য় জনগনের হিত দেখা, তবে আমার মনে হ​য় না সমকামী বিবাহ সমর্থন না করার রাষ্ট্রের কোন অধিকার আছে।

    • দূরের পাখি জুন 30, 2015 at 10:47 পূর্বাহ্ন - Reply

      আপনার মন্তব্যটির জবাব দিতে গিয়ে সবচে বেশি ভাবতে হলো ।

      রাস্ট্র পরিবার বিয়ে এগুলো সম্পর্ক নিয়ে আমি নিজেও যে পুরোপুরি নিশ্চিত নই সেটা লেখার প্রথমদিকে উল্লেখ করেছি । এবং এটাও ঠিক এগুলো হয়তো রাস্ট্র বা ব্যাক্তির নিজের কাছেই পরিষ্কার নয় । আমার কাছে মনে হয় সমপ্রেমী যেসব লোকজন বিয়ের অধিকারের জন্য আন্দোলন করছে তাদের কাছেও ব্যাপারটা পুরোপুরি পরিষ্কার নয় । একটা আন্দোলন দীর্ঘদিন ধরে চলতে চলতে দেখা যায় বেশিরভাগ আন্দোলনকারীর কাছে পুরো আন্দোলনের দার্শণিকতা ও গুরুত্ব এসব কিছুর বদলে কেবল একটা জেদ চেপে যায় যে এই আন্দোলনে জিততে হবে । এটা মানুষের বৈশিষ্ট্য । আমার ধারণা সমপ্রেমীদেরও ব্যাপারটা এরকমই হয়েছে । যেখানে পুরো বিয়ে নাম প্রথাটাই নড়বড়ে হয়ে উঠেছে , হয়তো আর এক শতাব্দী টিকবে না , সেখানে তারা বিয়ে করার অধিকার পেলে তাদের ওভারঅল জীবনের আদৌ কোন পরিবর্তন হবে কিনা আমি সন্দিহান ।

      আপনার দ্বিতীয় পয়েন্টে আই প্লিড গিল্টি । আমার চিন্তাভাবনা ইউটেলিটারিয়ান । এর দূর্বলতা গুলো আমি জানি । কিন্তু ভালো কোন অলটারনেটিভও চোখে পড়ে না । মোরালিটি অথবা এথিকসে পরম কিছুও ধরে নেয়া সম্ভব না । সেটারো দূর্বলতা আছে ।

      সুচিন্তিত মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।

  5. তানভীর জুন 28, 2015 at 12:22 অপরাহ্ন - Reply

    পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিলো আপনার কাছে কি একটা টাইম মেশিন পাঠাবো? মধ্যযুগ থেকে একটু এগিয়ে আসতেন সেটায় চড়ে। 🙂

    সমকামীদের অধিকার নিয়ে আমার কোন আপত্তি নাই । সাধারণ মানুষের যেসব অধিকার তার সবগুলোই সমকামী, বিষমকামী, উভকামী, অকামী সবার জন্যই প্রযোজ্য ।

    ব্যাস, প্রথমে এই কথার পরই কিন্তু আপনার কথা শেষ হয়ে গেছে। আর দশজন মানুষের মত সমকামিদেরও সবরকম অধিকার থাকবে। সেটা বিবাহ, লিভটুগেদার, সন্তান দত্তক নেওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি অনেক কিছুই হতে পারে।

    কারণ বায়োলজিক্যাল সন্তানের উপর বাবা-মা দুইজনেরই প্রানীগত টান থাকবে , যেটা ডিভোর্সের কারণে উধাও হয়ে যাবে না । সমকামী বিবাহিত যুগল কি আলাদা হয়ে যাবার পর দত্তক নেয়া সন্তানের ব্যাপারে একই রকম অনুভব করবে ? হয়তো করবে হয়তো করবে না ।

    আপনি সম্ভবত জানেন না যে বিসমকামি দম্পতিরাও সন্তান দত্তক নেন। এবং তাদেরও ডিভোর্স হয়ে যায়। তাহলে আপনার সমস্যা কোথায়? আপনি আসলে কী বলতে চাইছেন একটু ভাবুন তো!

    রাস্ট্র বিবাহিত দম্পতির জন্য এতকিছু যে করে, তার সবকিছুই একটা এজাম্পশনের উপর নির্ভর করে । সেটা হচ্ছে বিবাহিত দম্পতি, গড়পড়তা, সন্তান উৎপাদন এবং লালন করবে, যারা সমাজকে চলমান রাখবে যখন এক জেনারেশন বুড়ো হয়ে রিটায়ার্ড করবে তখন ।

    এটা আপনাকে কে বলল? অনেক বিষমকামি মানুষই বিয়ের অনেক আগেই কোনো মেডিক্যাল কারণে জেনে যায় যে তারা কখনো সন্তান ধারণ করতে পারবে না। আপনার মত বুদ্ধি নিয়ে যদি রাষ্ট্রের আইনপ্রনয়ন করা হত তাহলে এদের বিবাহও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হত না।
    আবার, অনেক দেশে অনেক বিষমকামি মানুষ বিয়ে না করেও সন্তান সন্ততি নিয়ে জীবন যাপন করছে। আবার সমকামিরাও, বায়োলজিক্যাল সন্তান ধারণ করেন। অন্যের স্পার্ম বা ওভারি গ্রহণ করার মাধ্যমে। সেসব খবর রাখেন? বিয়ে একটা প্রতিষ্ঠান, যে চাইবে সে-ই সেই প্রতিষ্ঠান সূচনার অধিকার রাখে।

    আর বিবাহ সম্পর্কে, এবং কেন সমকামিরা বিবাহের অধিকার চাইছে, সেসব সম্পর্কে কিচ্ছ্যুটি না জেনে এরকম প্রবন্ধ ফেদে ফেলা খুবই কাঁচা কাজ হয়েছে। একটা উদাহরণ দেই, ধরুণ দুজন পার্টনারের একজন কোমায় চলে গেল। এখন সিদ্ধান্ত নেওহা হবে লাইফ সাপোর্ট খুলেদেওয়া হবে কি না। এই সিদ্ধান্ত সাধারণত স্ত্রী, বা স্বামী নিয়ে থাকেন। এছাড়াও হাজার রকম ব্যাপার আছে যেখানে সমকামি জুটি, আর দশটা পরিবারের মত বন্ধনে আবদ্ধ থেকেও আর দশটা পরিবারের সমান রাষ্ট্রীয় সুবিধা/স্বীকৃতি পান না। আইনের মাইরপ্যাচে পড়ে। সমকামি বিবাহ এসব ব্যাপার এড়াতে সাহায্য করে। তাছাড়া বিবাহ স্রেফ একটা আইনি প্রক্রিয়া না। মানুষের কাছে এর ইমোশনাল আবেদনও আছে।

    আপনি সমকামিতাকে স্রেফ এক ধরনের যৌন আকাংখা চরিতার্থ করার বাসনা হিসাবে ধরছেন। বলছেন ওরা যা করে করুক। কিন্তু বিয়ে করবে কেন! কিন্তু সমকামিরাও মানুষ। তাদের ভালোবাসাও, আর দশজনের ভালোবাসার মতই। বিয়ের অধিকারের দাবিটা স্রেফ আপনার ট্যাক্সের টাকায় কিছু লাভের গুড় খাওয়ার জন্য না।

    আপনার লেখার প্রতিটা লাইন ধরে ধরে সমালোচনা চাইকি আপনাকে তুলোধোনাও করা সম্ভব। সেই সময় এবং ধৈর্য এখন করে উঠতে পারছি না। আশাকরি অন্য পাঠকরা আরো আলোকিত মন্তব্য করবে।

  6. অতিথি লেখক জুন 28, 2015 at 12:11 অপরাহ্ন - Reply

    তাহলে সমকামীদের সন্তান হতে হবে. যদি স্বাভাবিকভাবে না হয় তাহলে দত্তক নিতে হবে. আর রাষ্ট্র যেহেতু তা করতে বাধ্য করতে পারে না, সেহেতু সমকামী বিবাহের যৌক্তিকতা নেই. আবার বিচ্ছেদের পর সমকামীদের যেহেতু সন্তানের ওপর তান থাকে না সেহেতু এই বিবাহ ঠিক নয়.

    অসাধারণ. এই তো মুক্তমনার মত কথা. ঝুলি থেকে এমনই বেড়াল দুই একটা মাঝে মধ্যে বেরিয়ে এলে মন্দ নয় বলুন.

    আচ্ছা একটা কথা বলুন তো. বিয়ে করলেই কি সন্তান উত্পাদন করতে হবে? সন্তান উত্পাদন করাটা কি বাধ্যতামূলক? কোন আইনে এবং কোন যুক্তিতে? সন্তান উত্পাদন না করে কি বিবাহিত জীবন কাটানো যায় না? এটা কোন মানবাধিলার সনদে বলা আছে?

    তাছাড়া যে হারে জনসংখ্যা বাড়ছে , তাতে যদি বাচ্চা না হয় তাহলেই তো ভালো হয় তাই না?

    বিবাহিত হলেই যে বাচ্চার প্রয়োজন হয় না তাতে ডিভোর্সের সময়ও সুবিধা পাওয়া যায়. তাতে ডিভোর্স টা তাড়াতাড়ি হয়.

    • দূরের পাখি জুন 28, 2015 at 7:46 অপরাহ্ন - Reply

      বিয়ে করলেই সন্তান উৎপাদন বাধ্যতামূলক না । সন্তান উৎপাদন করতেই হবে এমন কোন কথাও নেই । রাস্ট্র বা কোন সংঘটন প্রত্যেক যুগলের ইউনিক অবস্থা অনুযায়ী পলিসি চেঞ্জ করবে সেটা সম্ভব না । এজন্যই রাস্ট্রকে গড়পড়তা কি ঘটে সেটা দিয়েই পলিসি ঠিক করতে হবে । বিবাহিত যুগল পুরো জীবনের কোন সময় ধরেই সন্তান নেয়নি এমন যুগলের শতকরা হার কত হবে সেটা নিয়ে তেমন কোন পরিসংখ্যান পেলাম না । একটা পরিসংখ্যান পেলাম ৪০-৪৪ বছর বয়সের আমেরিকান নারীদের মধ্যে ১৯% হচ্ছে কখনোই সন্তান নেয় নি । ধারণা করা যায় এদের বেশিরভাগই কখনো বিয়ে করেনি । সেক্ষেত্রে বিবাহিত যুগল কখনো সন্তান নেয় নাই এমন যুগলের সংখ্যা বড়জোর এক ডিজিটের কোন একটা সংখ্যা হবে । উল্টোটা যদি ধরি যে এদের সবাই বিবাহিত তাহলেও ৮১% লোকজন সন্তান নিচ্ছে এই এজাম্পশনের ভিত্তিতেইতো রাস্ট্র বিবাহের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে পলিসি ঠিক করবে ।

      জনসংখ্যা বৃদ্ধির সমস্যা অন্যদিকে । যেখানে সমকামী বিবাহের অধিকার নিয়ে কথা চলছে তার বেশিরভাগ দেশেই উল্টো জনসংখ্যা কমে যাওয়া নিয়েই সমস্যায় আছে ।

      • অতিথি লেখক জুলাই 1, 2015 at 9:17 অপরাহ্ন - Reply

        একটা পরিসংখ্যান পেলাম ৪০-৪৪ বছর বয়সের আমেরিকান নারীদের মধ্যে ১৯% হচ্ছে কখনোই সন্তান নেয় নি । ধারণা করা যায় এদের বেশিরভাগই কখনো বিয়ে করেনি ।

        কেন? এটা ধরে নেব কেন? এটা কি একেবারেই অসম্ভব যে বিয়ে করলেই সন্তান হতে হবে না ? রাসেল বিয়ে করেছেন কিন্তু সন্তান হয়নি. সার্ত্র আর সিমন বোভায়ার বিয়ে করেছেন অথচ সন্তান হয় নি. এমন আরো অনেক উদাহরণ খুজলে পাওয়া যাবে. খোজার ভার সত্যিকারের মুক্তমনাদের ওপর ছেড়ে দিলাম.

        এজন্যই রাস্ট্রকে গড়পড়তা কি ঘটে সেটা দিয়েই পলিসি ঠিক করতে হবে ।

        সমকামী বিবাহে গড়পরতা বাচ্চা এডপসন ঘটে. তাই ধরে নিয়ে রাষ্ট্রের পলিসি তৈরী করা উচিত. অর্থাত সমকামীদের বিবাহ দেওয়া উচিত.

        আর ভবিষ্যতের কথা কে বলতে পারে? হয়ত ক্লোনিং এর মাধ্যমে সমকামীরাও বাচ্চার জন্ম দেবে.

        আপনার মধ্যযুগীয় চিন্তাধারার পরিচয়ের জন্য ধন্যবাদ.

        • দূরের পাখি জুলাই 2, 2015 at 7:19 পূর্বাহ্ন - Reply

          কেন? এটা ধরে নেব কেন? এটা কি একেবারেই অসম্ভব যে বিয়ে করলেই সন্তান হতে হবে না ? রাসেল বিয়ে করেছেন কিন্তু সন্তান হয়নি. সার্ত্র আর সিমন বোভায়ার বিয়ে করেছেন অথচ সন্তান হয় নি. এমন আরো অনেক উদাহরণ খুজলে পাওয়া যাবে.

          আমি কিন্তু বেশিরভাগের কথা বলেছি । এই ১৯ পার্সেন্টের সবাই যে বিয়ে করে নাই কখনো সেটা ধরি নাই । স্বাভাবিকতা বিচারে বেশিরভাগই কখনো বিয়েই করে নাই সেটা হওয়ার কথা , সেটা এজ লং এজ আমার কাছে কোন ডেটা নাই ততক্ষণ পর্যন্তই ধরছি । যেহেতু ডেটা নাই সেহেতু আমি মুদ্রার একেবারে উল্টো পিঠের কথাও কিন্তু ধরেছি । যদি ১৯% এর সবাই বিবাহিত কিন্তু বাচ্চা নেয় নাই তা-ও ধরে নিই , সেক্ষেত্রেও বাকী ৮১% জীবনের কোন না কোন এক পর্যায়ে বাচ্চা জন্ম দিয়েছে । আপনি নিজের ঝাল মেটানোর জন্য খালি অর্ধেক কথাকে তুলোধূনা করলেন ।

          সমকামী বিবাহে গড়পরতা বাচ্চা এডপসন ঘটে. তাই ধরে নিয়ে রাষ্ট্রের পলিসি তৈরী করা উচিত. অর্থাত সমকামীদের বিবাহ দেওয়া উচিত.

          আর ভবিষ্যতের কথা কে বলতে পারে? হয়ত ক্লোনিং এর মাধ্যমে সমকামীরাও বাচ্চার জন্ম দেবে.

          এই ধরে নেয়ার জন্য যেহেতু কোন তাত্তিক কারণ নাই, সেজন্যই এম্পিরিকাল ডেটা লাগবে । যেসব দেশে অনেক বছর ধরে সমকামী বিয়ে বৈধ আছে, সেখানে কতভাগ সমকামী বিবাহিত দম্পতি সন্তান দত্তক নিয়েছে বা অন্যকোনভাবে জন্ম দিয়ে লালন করছে সেরকম যদি কোন ডেটা থাকে , যদি দেখাতে পারেন এই হার ৮০% এর উপর তাহলেই আমার মুখের উপর ঝাঁটা মারা হবে, আমিও সেটা মেনে নেবো ।

          এমনিতে মধ্যযুগ ফধ্যযুগ এইসব চুলচামড়া কথার দাম নাই ।

  7. আকাশ মালিক জুন 28, 2015 at 8:46 পূর্বাহ্ন - Reply

    ধর্ম যেহেতু পরিষ্কার ভাবে সমকামী সম্পর্ককেই অবৈধ বলে ঘোষনা করে সেখানে সমকামী বিবাহের স্বীকৃতির জন্য ধর্মের কাছে ধর্ণা দেয়াটা ছাগলামি ।

    ধর্মে সমকামী সম্পর্ক বৈধ বলে শুনি । ভগিরথের জন্ম ও স্বর্গ থেকে মর্তে গঙ্গার আগমনের কাহিনি তার প্রমাণ । কাহিনি কী ?

    অযোধ্যার রাজা দিলীপ সন্তানহীন অবস্থায় মারা যান । কথা ছিল এই সূর্য্যবংশে বিষ্ণু অবতার হয়ে আসবেন । এখন উপায় ? রাজা যে নির্বংশ হয়ে মারা গেলেন । ব্রহ্মা একটা উপায় বের করলেন । তিনি শিবকে রাজা দিলীপের দুই বিধবার কাছে পাঠিয়ে দিলেন । শিব এসে বললেন যে তাদের গর্ভে এক পুত্র সন্তান জন্ম নিবে । বিষ্ময়চোখে দুই বিধবা শিবকে শুধায়-

    দুই নারী কহে শুনি শিবের বচন।
    বিধবা আমরা কিসে হইবে নন্দন।।
    শঙ্কর বলেন দুই জনে কর রতি।
    মম বরে একের হইবে সুসন্ততি।।

    আরেক বর্ণনায় আছে-

    উভয় রাণীকে ডাকি আনে মুনিবর।
    পুত্র দিল, হরষিতে দোঁহে গেল ঘর।।
    আসিয়া সকল মুনি করিল কল্যাণ।
    ভগে ভগে জন্ম হেতু ভগীরথ নাম।।

    ঘটনার বিস্তারিত পাবেন অভিজিৎ রায়ের এই লেখায়-

    • দূরের পাখি জুন 28, 2015 at 9:18 পূর্বাহ্ন - Reply

      ঘটনা আম্রিকার তো ,সেজন্য মাথায় মূলত খ্রিস্টিয়ানিটির কথাই ছিলো । এর বাইরেও আমার জানাশোনা মূলত ইসলাম ও কিছুটা আব্রাহাম্মক ধর্মগুলো নিয়ে । সনাতন ধর্মের অতল ভান্ডার নিয়ে তেমন জানা নাই বললেই চলে । গীতা আর কিশোর মহাভারত পর্যন্ত পড়াশোনা ।

মন্তব্য করুন