কেন আজ নাস্তিক আমি? (পর্ব ১)

লেখক: Sahadat H Hridoy

ব্যাক্তিগত জীবন দিয়ে শুরু করা যাক।

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি পরীক্ষা ওয়েটিং লিস্টে টিকলাম। তখন সবাই বললো ‘তুই পড়ছ নাই তাই একটা সিট জুটে নাই কপালে’।
কয়েকদিন পর দেখা গেল আমি ওয়েট লিস্ট থেকে সিএসসি তে চান্স পেয়েছি। তখন সেই ধার্মিকেরা বললো “আল্লাহর রহমতে টিকসোছ , শুকরিয়া কর সেই দয়ালের”।

না টিকলে দোষ টা আমার, আর টিকলে ক্রেডিট টা আল্লার। নবম শ্রেণী থাকা কালে আকস্মিক লম্বা হয়ে শরীর টা রোগা হতে লাগলো দিন দিন। আম্মু আব্বু মহা ব্যস্ত কি জানি কি রোগ হয়েছে? এই বলে এই ডাক্তার সেই ডাক্তারের কাছে দৌড় ঝাপ। আজ যখন জানলো আমি আল্লাই বিশ্বাসী না। তখন বললো “নাস্তিকের উপর এইটা আল্লাহর গজব, দিন দিন শুকাই কাঙ্গাল হয় যাচ্ছে, যাবেই তো কাফিরের এমনি হয়”।
যদি আল্লাহ অবিশ্বাসী বলে আল্লা রোগা করি দিতেছে। তবে, যখন বিশ্বাসী ছিলাম তখন রোগা হয়ে যাচ্ছি কেন তার জন্য ডাক্তারের কাছে যেতে হয়েছিলো কেন? আল্লাহকে বললে হত, সুস্থ করে দিতো?

মাকে একদিন বললাম মা ফোন টা খারাপ। একটা নতুন ফোন কিনে দাও। মা বললো ‘আল্লাহ কে বল, আল্লা ব্যবস্থা করে দিবে’। তারপর ফোন টা ফেলে দিয়ে বললাম আল্লা ব্যবস্থা করে দিবে। কিন্তু বড় আব্বু মারা গেল আমি খবর পেলাম সাত দিনের দিন। কই আল্লা তো তখন আমাকে একবার বলে দিলো না যে তোর বড় আব্বু মারা গেছ?

যাক সেই ব্যক্তিত্বপণা, এবার সামাজিকতায় আসি।

ওরা বলে মুসলিম বাদে অন্য ধর্মিরা বিনা হিসাবে জাহান্নামে। আবার কোরানে বলে ‘ও রাসূল আপনি ওদের কে যে ভাবে বুঝান না কেন? ওরা সৎ পথ পাবে না, আমি ওদের অন্তরে চিল মেরে দিয়েছি। আল্লা ছাড়া অন্য কেঊ তাদেরকে হেদায়েত দিতে পারবে না’। তার মানে অন্যধর্মীদের আল্লা ইচ্ছে করলে হেদায়াত দিতে পারে, রাসূল নবী পাটানোর কি দরকার ছিলো? আবার হেদায়েত না দিয়ে ইচ্ছে করে ওদের জাহান্নামে পাঠাবে। আগুনে পুড়াবে। আল্লাহ তো অসীম পক্ষপাতদুষ্ট?

এই মূহুর্তে আমার এই লেখাটা পোষ্টেড হলো। ওদের কাছে আমাকে নাস্তিক আর কাফের মনে হল। কয়েকজন এসে আমাকে চাপাতী দিয়ে কুপিয়ে মারলো। এখন যারা বিনা কারণে আমাকে কুপিয়ে মারলো ওরা জান্নাতী, আল্লাহর মেহমান, গাজী। আর আমি……… জাহান্নামী! আবার হাদীস বলে ‘একরাত্রী জ্ঞান আহরণ করা, হাজার রাত্রী নফল নামাজ পড়ার চেয়ে উত্তম’ কিন্তু যারা সারা রাত চাপাতী দার দিলো ওরা জান্নাতী আর সারা রাত্রী জেগে জেগে জ্ঞান আহরণ করা আমি হয়ে গেলাম জাহান্নামী!

ওরা নারীদের বলে বোরকা পড়, কেউ যেন তোমাকে দেখতে না পারে। তোমাদের বক্কদেশ ঢেকে রাখো। তবুও কেউ একজন দেখলো খালাতো ভাই, মামাতো ভাই কেউ একজন। ছাত্র মানুষ, প্রেমে পড়ে গেল ছেলেটা। এসে বলেও ফেললো, মেয়েটা অনেক ধার্মিক। বললো ‘ না এইটা হারাম’। ছেলেটা হাত কাটলো, চাকু দিয়ে কেটে মেয়েটার নাম লিখলো, অনেক পিছু পিছু ঘুরলো। তবুও মেয়েটা একি কথাই বললো ‘না প্রেম করা ইসলামে হারাম, মুবিন আল্লাহকে ভয় কর’। কিছু দিন পড়ে একটা ডাক্তার আসলো মেয়েটার বিয়ে প্রস্তাব নিয়ে,প্রচুর টাকা খুড়ির মালিক। আধা ঘণ্টার কথা বার্তায় বিয়ে সম্পূর্ণ। মহরাণা ধার্য হলো ২ লক্ষ টাকা। দুই তিন মাস পরে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গেল। দুই লক্ষ টাকা মহরাণা দিয়ে ডাক্তার সাহেব একদম পূর্তপবিত্র হয়ে গেলেন। এখন নতুন আরেক টা বিয়ে করলেও কোন সমস্যা নেয়।

সারাজীবন বোরকা নিচে ঝাপায় রেখে নারী মূল্য দুই লক্ষ টাকা। আর যে ভালবাসলো তার কাছে যাওয়া টা হারাম!

যাক সব যুক্তি খালে,আজ থেকে মুসলিম হয়ে গেলাম। টুপি, পাঞ্জাবি পড়ে আল্লার খুজে মসজিদে গেলাম। নিরবতা পালন করুন, আল্লাহর ঘরে সৌন্দর্য রক্ষা করুণ। নীতিবাক্য পড়ে মনে হল এখানেই আল্লা থাকে। যাক পাওয়া গেল আল্লা কে। নামাজ পড়ে বের হয়ে দেখি নতুন জুতা জোড়া নাই।

যে কিনা একজোড়া জুতা দেখে রাখতে পারে না , সেই কিভাবে দুনিয়া চালন করতেছে?

[412 বার পঠিত]

এই লেখাটি শেয়ার করুন:
0

Leave a Reply

21 Comments on "কেন আজ নাস্তিক আমি? (পর্ব ১)"

avatar
Sort by:   newest | oldest
মামুন
Member

কিছুই বলবো না

masud
Member
জুতা সামলানো তো আল্লাহর কাজ না ভাই। আমরা যা করি তার সব কিছু কি আল্লাহ নিজে দাড়িয়ে থেকে করান? আমাদের জন্য ভালো রাস্তাও খোলা আছে, খারাপ রাস্তাও খোলা আছে। যে যেদিকে যেতে চায় যেতে পারে। আল্লাহর কাছে সবাই সমান। আপনি আল্লাহ কে দেখেন নাই। আমরা কেওই দেখি নাই। তাই বলে কি আমরা বলতে পারি আল্লাহ বলে কেও নাই। নিজেকে নাস্তিক বলছেন অথচ আল্লাহ দেখেন নাই। কথা দুটো conflict করে। একটা কথা তো বিশ্বাস করেন যে একদিন মরবেন? প্রতিদিন একবার ২০-২৫ সেকেন্ড দম বন্ধ করে মরার মত করে শুয়ে থাকেন। আপনি যে কত তুচ্ছ তা বুঝবেন। হজরত আবুবকর (রাঃ) একটা কথা… Read more »
আশরাফ হোসেন ওয়াদুদ
Member
আশরাফ হোসেন ওয়াদুদ

ভাই সাহাদাত এইচ হৃদয় , আপনি শ্রষ্টা ছাড়া কি সৃষ্টি???????

বিবর্তিত মানুষ
Member
বিবর্তিত মানুষ

ভালো কাজ করলে, ভালো কিছু হলে সবকিছু আল্লাহ করায়! মানুষ তো উছিলা মাত্র!! আর কেউ খারাপ কিছু করলে বা খারাপ কিছু ঘটলে তা ঘটে শয়তানের প্ররোচনায়! মানে খারাপ কিছুকে ঠেকানোর শক্তি আল্লাহর নেই! এই ব্যাপারে শয়তানেই আল্লাহর চেয়ে পটু ও শক্তিশালী!!!

Dhormopocharok
Member

২ নাম্বার পর্ব কোথায়?

Nurul Hoque
Member

ভাই আপনার লেখনিতে আমাদের নিত্য দিনের একটি অংশ তুলে ধরা হল, এই বিষয়টাকে ধম্রিয় দিক থেকে না দেখে যদি প্রত্থাহিক জীবনের দিকে তাকাই তাহলে একই চিত্র পাওয়া যাবে। ভাল কিছু হলে সবাই বাহাবা নিতে চাই কিন্তু খারাপের বেলা নাই।

জাবেদ হাসান
Member
জাবেদ হাসান
ওপরে কয়েকজনই অভিযোগ করেছেন কিছুটা সস্তা টাইপ লেখা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো ধর্ম এমন কি মহান দর্শন ও যুক্তিতে ভরপুর যা খন্ডাতে পিএইচডি করে হাজার হাজার বই পড়ে এসে কথা বলতে হবে! সত্যি কথা বলতে কি আমি মনে করিনা ধর্মের মত অসাড় জিনিস তার অসাড়তা প্রমানের জন্য অভিজিৎ, রিচার্ড ডকিন্স কিংবা হুমায়ুন আজাদদের মত মেধাবীদের সমালোচনা ডিজার্ভ করে। লেখাটি লেখকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। সস্তা জিনিস যে সস্তা সেটা উপলব্ধির করার প্রক্রিয়াটাও সস্তাই হবে। এখানে লেখকের দোষ নেই, দোষ হলো সেই সস্তা ধর্মের যা জন্মের পর থেকে তার ওপরে চেপে বসেছিলো। তবে কথা থেকে যায়, তাহলে কি মিথ্যা ও হাস্যকর… Read more »
মধু মণ্ডল
Member
মধু মণ্ডল

ভালো লাগলো

সত্যানুসন্ধান
Member
সত্যানুসন্ধান
আল্লাহ যাকে স্বীকৃতি আর ভালোবাসা দান করেন, সামান্য ২-৪ জন উটকো দের কথায় তার সম্মান হানি হওয়া কোন ভাবেই সম্ভব না। মুক্ত মনা কি তা আমি জানতাম ও না। জানার দরকারও ছিলনা। মাঝ খানে এতো ঘটনার পর টের পেলাম! গরু মাংস খেতে পারেনা তার সে বোধ নেই। কিন্তু তা নিয়ে এতো হৈ চৈ কেন ? এক আল্লাহর একত্ববাদ কে উপলব্ধি করো ।। কোন মজলিশে ‘ইবনু দুখশুন’ নামের জনৈক লোক সম্পর্কে আল্লাহর রাসুল সাঃ কে কেউ একজন বললেন- সে মুনাফিক। সে মহান আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলকে ভালবাসে না। তখন আল্লাহর রাসূল সাঃ বললেন- এরূপ বলো না। তুমি কি দেখছ না যে,… Read more »
সোহান
Member
আপনার লেখা সম্পূর্ণ খুড়া যুক্তিতে ভরপুর ৷ আপনি আল্লাহকে বিশ্বাস করেন না, কারন আল্লাহর অস্তিত্ব অনুভব করার ইন্দ্রিয় আপনার মধ্যে অনুপস্থিত ৷ জুতা চুরি মসজিদে হয়, মন্দিরে ও হয় ৷ চোরের শাস্তি চোরে পাবে ৷ সব যদি দুনিয়ায় হতো তাহলে বেহেস্ত, দোজখের প্রয়োজন হতে ৷ আল্লাহ মানুষের কর্মকে নিয়ন্ত্রণ করেন না,কারন তিনি মানুষকে বিবেক নামক একটা জিনিস দিয়েছেন, যেটা ভাল ও খারাপের পার্থক্য বুঝতে সক্ষম ৷ তাই আল্লাহ সবার ডাকই শোনেন, এবং মানুষ তার কর্মফল ভোগ করে ৷ ইসলাম সম্পর্কে মন্তব্য করার আগে ভাল ভাবে জেনে নিন, সেটা আপনার জন্যই ভাল হবে ৷ নিরাপদে থাকুন ৷ আল্লাহ আপনাকে হেদায়েত করুক… Read more »
শাহিন শাহ
Member
শাহিন শাহ
Comment…তা সোহান,বেহেস্ত দোযোক যেহেতু বানানো হয়েছে সেখানে কাওকে না কাওকে ভরা হবে, কোনো একটি একেবারে খালি থাকবে না,অার কাকে কোথায় ভরা সব তিনি অাগে ভাগেই জানেন,অর্থাৎ ভাগ্য পূর্ব থেকেই তিনি নির্ধারণ করে রেখেছেন,সয়তান যেহেতু তিনি গড়েছেন,তার কথাওতো কাওকে না কাওকে রাখতে হবে,কেয়ামতের পূর্বলক্ষণ তিনি বাতলে দিয়েছেন,সেই লক্ষ্যে সামিল না হলে কেয়ামত হবে কী করে!তো এই পথে কাওকে তো অাসতে হবে,না অাসলে তো তার কথার অবাধ্য হওয়া হবে,তাহলে পাপিকেও তো অাল্লাহর প্রয়োজন,তাহলে পাপির তো অার দোষ দেখিনা।ধর্মের কোনো ভিত্তি নেই এরকম হাজারটা প্রমান অাছে,কিন্তু তা যে সত্যি তার কোনো প্রমান এককভাবে কোনো ধর্মও দিতে পারবেনা,অার যদি প্রমান দিতে পারে তাহলে জেনে… Read more »
sohel
Member

Comment…মানুষ সময়ের খাচায় বন্দি,আল্লাহ নয়, এখন আপনি যদি সময়ের আগে যেতে পারেন তবে আপনি ও বলতে পারতেন, কোরানের বানী গুলো সমাজ ও বিজ্ঞান উভয়ের উন্নতির জন্য,

Mif
Member
জান্নাত ও জাহান্নাম এ প্রতিটি মানুশের জন্য জায়গা আছে। জান্নাতে সব মানুশের জন্য একটি করে বাড়ি আছে। কারন তারা তাদের সৃষ্টিকর্তার কাছে শপথ করেছিলো যে তারা পৃথীবিতে তার আনুগত্য করবে। তো সৃষ্টিকর্তা সবার জন্য জান্নাতে ঘর বানিয়ে রাখলেন। অত:পর তারা দুনিয়ায় এসে এই সমস্ত কর্ম করে বেড়াচ্ছে। আর প্রত্যেকেই নিজ কর্ম দ্বারা আবদ্ধ থাকবে।। তাহলে তাদের জান্নাতের ঘর গুলো কি হবে? সেগুলো জান্নাত বাসিদের মধ্যে বন্ঠন করে দেওয়া হবে। পাপিদের আল্লাহর প্রয়োজন নেই বলেই জান্নাত হতে আদমকে এখানে কিসুকালের জন্য নির্বাসন দেওয়া হয়েছে শুদ্ধতা অর্জনের জন্য। অত:পর তোমরা তোমাদের রব্বের দিকেই প্রত্যাগমন করবে।। uuhuhu.. how exciting.. কি হবে তখন? এখানে… Read more »
ন্যায় বক্তা
Member
ন্যায় বক্তা

ভাই শুনে ভালো লাগল।

Sahadat H Hredoy
Member

ধন্যবাদ, সবাইকে ভুল ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ।

wpDiscuz

মুক্তমনার সাথে থাকুন