গত কয়েক বছর ধরে যে বস্তু আমাদেরকে অতি ঘনঘন বিজয় উদযাপনের সুযোগ এনে দিচ্ছে সেটি হলো ক্রিকেট। জন্মের পর থেকে বাংলাদেশ খুব বেশি তো বিজয় দেখে নি। নেতিবাচক দিক থেকে দেখেছে বটে; দুর্নীতিতে আমাদের ধারাবাহিক পারফরমেন্স ঈর্ষণীয়। তবে ইতিবাচক বিজয়ের অভিজ্ঞতা কম বলেই কিনা, আমাদের বিজয়োল্লাসে পেশাদারিত্ব আসে নি এখনো। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ আমি নিজেই। এই লেখায় যেসব আচরণের সমালোচনা করা হবে, সেগুলার মধ্যে কিছু কিছু আমি নিজেও কাল-পরশু করেছি। হয়তো করেছি না ভেবেই, অথবা অতি আবেগে, কিংবা বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে বা নিজের নৈতিক দুর্বলতায়। এখানে উদ্বিগ্ন হবার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। যারা ধর্ষণ করে না হলেও পত্রপত্রিকায় ধর্ষণের খবর পড়ে যৌনসুখ নিতে পারে, তারাই “ইন্ডিয়ারে ভরে দিছি” কথাটা আনন্দের সাথে উচ্চারণ করতে পারে। আনন্দ-উদযাপনের সময় মানুষ ভেবে কাজ করে কম, উপভোগ করে বেশি। সুতরাং উদযাপনের সময়ই মানুষের সুপ্ত জৈবিক ও মানসিক তাড়নাগুলো সবচেয়ে ভালো করে বোঝা যায়।

“চুদা” এবং একই ধাতুজাত অন্য ক্রিয়াপদগুলো বেশ পুরুষতান্ত্রিক। “তোর মায়ের সাথে সঙ্গম করি” – এভাবে কেউ গালি দেয় না। বরং বলে,”তোর মায়েরে চুদি”। “সঙ্গম” এ দুজনের অংশগ্রহণ প্রয়োজন, কিন্তু “চোদা”র জন্য নারীটি কেবল একটি বস্তু, যার যোনি আছে। কবিতা, যেখানে বাস্তবতা নয় বরং শিল্পই মুখ্য, সেখানেও “চোদা” শব্দটি দেখলে আমরা ক্ষেপে যাই, অথচ “মুস্তাফিজ একাই ইন্ডিয়ারে চুদে দিছে” এই বাক্য আমরা গর্ব করে বলি। অদ্ভুত না? আসলে আমাদের শিশ্ন আছে তো তাই ঘিলু থাকার দরকার নাই।

একিরকম পুরুষতান্ত্রিক গৌরব অনুভব করি “ভরে দিবানি”,”হোগায় বাঁশ দিমু” এসব বাক্যে, এবং মিডল ফিঙ্গার প্রদর্শনের সময়। ঢুকিয়ে দেয়ার মানে বিজয়ী হওয়া, যার ভিতর ঢুকেছে সে পরাজিত। যত নির্মমভাবে ঢুকেছে তত বিজয়ীর আনন্দ বেশি। ব্যথায় যত বেশি কাতরাচ্ছে তত বিজয়ীর গৌরব বেশি। সংবাদ সম্মেলনে যখন পরাজিত ক্যাপ্টেনের মাথা নিচু, তখন আমাদের অবচেতন মন ধর্ষিতার লজ্জিত অশ্রুসিক্ত বদন কল্পনা করে মজা নেয়।

এই প্রসঙ্গে ফেসবুকে একটি চমৎকার স্ট্যাটাস দিয়েছেন আসিফ মহিউদ্দিন (যদিও তার সাথে সব ব্যাপারে আমি একমত নই, যেমন কারো সাথেই নই) সেখান থেকে কিছু অংশ-

….. সাধারণত যৌন সম্পর্কের সময় পুরুষ তার পুরুষাঙ্গ প্রবেশ করায়। এটা কোন বিশাল মহৎ ব্যাপার নয়, খুব সাধারণ শারীরিক কাজ। এতে গর্বিত বা লজ্জিত হবার মত কিছু নেই। নারীও পুরুষাঙ্গ গ্রহণ করে, তাতেও গর্বিত বা লজ্জিত হবার মত আদৌ কিছু নেই। ….. এতে কারো মর্যাদা হানী হচ্ছে না, কারো সম্ভ্রম চলে যাচ্ছে না। কিন্তু যৌনতা সম্পর্কে আমাদের যেই ধারণা ছোটবেলা থেকে দেয়া হয়, তাতে মনে হয়, পুরুষ এখানে খাদক এবং নারী হচ্ছে তার খাদ্য। সম্পর্কটা ভোক্তা এবং পণ্যের। মনে হয়, পুরুষ কাজটিতে আনন্দ পায় এবং নারী পায় কষ্ট। পুরুষ এখানে আধিপত্য বিস্তার করে, দখল করে, ভোগ করে, আর নারী সেখানে নিজেকে, নিজের সম্ভ্রমকে সমার্পন করে। পুরুষ এখানে গৌরব বোধ করে, আর নারী এখানে অসম্মানিত হয়। …..

এ কারণেই ক্রিকেট খেলায় ভারতের পরাজয়ে উল্লাসের ভাষা এমন থাকে যে, ভারতকে ভরে দেয়া হয়েছে, ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ ভারত এখানে নারীর মতই অসম্মানিত হয়েছে। তার ইজ্জত নষ্ট হয়েছে। তার সর্বস্ব খোয়া গেছে। …..

ক্রিকেটে বাংলাদেশ জয়ী হয়েছে, এটা খুব ভাল ব্যাপার। কিন্তু উল্লাসের ভাষায় যখন এমন শব্দ ব্যবহৃত হয়, নারীর জন্য অবমাননাকর শব্দ থাকে, ব্যাপারগুলো আর এত সরল সহজ মজা থাকে না। খুব কৌশলে মনের ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়া হয় পুরুষতান্ত্রিকতা। পুরুষের আধিপত্যের কথা। শিশুকিশোর এবং নারীর মনে গেঁথে দেয়া হয়, যাদের ভরে দেয়া হচ্ছে, যাদের ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে, তারা খুব অসম্মানিত। তাদের ইজ্জত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

…..আশ্চর্য হই, যখন বন্ধু তালিকার অজস্র নারী ভারতকে ভরে দিয়েছে, ঢুকিয়ে দিয়েছে, বাঁশ সান্ধাইয়া, বালাৎকার করে দিয়েছে বলে উল্লাসিত হয়। তারা আসলে কিসের উল্লাস করে? ধর্ষণ, পাশবিকভাবে নারীর শরীরে পুরুষাঙ্গ প্রবেশ করিয়ে দেয়া, এগুলো কোন মহৎ বিষয় নয়। কোন পরম আকাঙ্ক্ষিত বিষয় নয়। এতে কারো গৌরব হয় না। কেউ অসম্মানিতও হয় না। এসব বলে উল্লাস করা ধর্ষণকে মহৎ করে তোলার, গৌরবময় করে তোলার মতই কদর্য বিষয়।

বাংলাদেশ ভারতের ক্রিকেট টীমের বিরুদ্ধে খেলেছে, কোনো হিন্দুসংঘের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যায় নি। বাংলাদেশ পাকিস্তানের ক্রিকেট টীমের বিরুদ্ধে খেলেছে, কোনো ইসলামিক দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধজয় করতে যায় নি। ভারত পাকিস্তানকে হারালে সেটা আল্লাহর বিরুদ্ধে ভগবানের জয় হয়ে যায় না; পাকিস্তান ভারতকে হারালে সেটা ভগবানের বিরুদ্ধে আল্লাহর জয় হয়ে যায় না। অথচ খেলার সময় আমরা (মুসলিম, হিন্দু, নাস্তিক সবাই) এই কথাগুলা অবলীলায় ভুলে যাই। একশো রকম ছলে ছড়াতে চেষ্টা করি সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প।

ফেসবুক বন্ধুতালিকার মণিকা মুনার একটি স্ট্যাটাস হুবহু তুলে দিচ্ছি-

ব্যাপারটা এইরকম যে, আমাদের বাংলাদেশ টিমে যে দুটি কিউট বাঘের বাচ্চা আছে না- সৌম্য আর লিটন? ওদের ছোট ভাই-বোনেরা ওদের ‘দাদা’ বলে ডাকে। আমার জেঠুর দুই ছেলে যারা আমার চেয়ে বয়সে ছোট- ওদের আমি বলি ‘ভাই’, ওরা বলে-‘দিদি!’ এই ডাকাডাকিটা একেবারেই বাঙালির। আরো বিশেষ করে বলতে গেলে- বাঙালি হিন্দু পরিবারে জন্ম নেয়া মানুষগুলোর। ভারতীয় ক্রিকেট দলে এই মুহূর্তে কোনো বাঙালি সম্ভবতঃ নেই। । যারা আছেন তাঁরা হিন্দী ভাষাই মূলত বলেন- এবং হিন্দীতে ‘দাদা’ শব্দটার ব্যবহার নেই বলেই আমি জানি। আপনারা যারা বিশেষ করে ‘দাদাদের’ নিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তারা এই বিষয়টা নিয়ে অবগত নন বলে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। এত হিন্দী সিনেমা দেখেন, এত টিভি সিরিয়ালের যুগে এই মামুলি বস্তুটি আপনি জানেন বলেই আমি ধরে নিচ্ছি।

তারপরেও যখন- ভারতীয় দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘দাদারা এয়েচেন, দাদারা খেয়ে যাবেন কিন্তু’ ধরনের স্ট্যাটাস দেন- এবং কয়েকশ লোক এসে সেটা পছন্দ করে যায় তখন আপনার আর আপনার ভক্তদের ভেতরের সুপ্ত কুৎসিত সাম্প্রদায়িকতা আমাকে ব্যথিত এবং লজ্জিত করে।

বাংলাদেশের জয়ে আপনার চেয়ে আমি কোনভাবেই কম আনন্দিত নই। কিন্তু আপনার মানসিক কদর্যতা দেখতে হচ্ছে বলে সেই জয়ের আনন্দের একটা অংশ আমার লজ্জায় ঢেকে যায়।

আমরা জানি, একমাত্র ক্রিকেটই আমাদেরকে এক করে। তাহলে ক্রিকেটের প্রসঙ্গ এলে নিজেদের এসব রেষারেষি বন্ধ রাখা উচিৎ না কী? আজ যদি ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে একটা সাম্প্রদায়িক হানাহানি হয়ে যায় তাহলে মাশরাফি সাকিব মুস্তাফিজুরদের জন্য এরচেয়ে বড় অপমান আর কিছু হবে না।

মুস্তাফিজকে ধোনির ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়ার ঘটনাটি নিয়ে ফেসবুকে তুলকালাম হয়ে গেছে। আমরা কি নির্মোহ দৃষ্টিতে ভিডিও রিপ্লেগুলো দেখেছি? ধোনি ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা দিয়েছে তাই প্রধান অপরাধী অবশ্যই ধোনি, কিন্তু মুস্তাফিজের কি কোনোই দোষ ছিলো না? শ্রদ্ধেয় ফরিদ আহমেদ মুক্তমনায় তাঁর সর্বশেষ লেখা এই দিন দিন নয় তে বেশ জোরেসোরেই মুস্তাফিজকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন।

আইসিসির এই বিচার দেখে গ্রাম্য সালিশের কথা মনে হলো আমার। গ্রামে মাতব্বরের ছেলে কাজের মেয়েকে ধর্ষণ করে হাতে নাতে ধরা পড়ে গেলে, তার বিচার না করে উপায় থাকে না। নইলে জনরোষের কবলে পড়তে হতে পারে। এই আশংকায় বিচার হয় বটে, তবে যতো দূর সম্ভব কম শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হয় তাকে। শুধু যে কম শাস্তি দেওয়া হয় তা নয়, বরং তারপর তার অপরাধকে লঘু করার জন্য কাজের মেয়ের অপরাধেরও খতিয়ান নেওয়া হয়। মাতব্বরের ছেলে ঘরে একা আছে জেনেও সে কেনো ওই ঘর ঝাড়ু দিতে গেল? নিশ্চয় মনে তার নষ্টামি ছিলো ভরা। এই অপরাধে তাকেও শাস্তি দেওয়া হোক। চুল কেটে, গালে মুখে চুনকালি মেখে, পিঠে দুই ঘা লাগিয়ে দিয়ে ভাগিয়ে দেওয়া হোক এই নষ্টা মেয়েকে গ্রাম থেকে।

প্রবন্ধের ২য় প্যারাতেই এমন ভয়াবহ তুলনা দেখে পাঠকের রক্ত গরম হয়ে যেতে পারে। এবং তারপর ৩য় প্যারা পড়ে তারাও লেখকের সুরে সুর মিলিয়ে বলবে, ১ম খেলতে এসেছে, তাই না হয় ছোটখাট ভুলচুক করেছে। ৩য় প্যারাটা এমন-

বাচ্চা একটা ছেলে সবে মাত্র তার প্রথম ম্যাচে নেমেছে। তাও যেই সেই ম্যাচ নয়। দুই দুইবারে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, বর্তমান ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি ভারতের বিপক্ষে। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে অন্যায়ভাবে বাংলাদেশকে হারানোর কারণে এটি পরিণত হয়েছিলো এক হাই ভোল্টেজ ম্যাচে। এখানে তার মতো নবীন খেলোয়াড়ের এরকম উত্তেজনার ম্যাচে ভুলচুক করাটাই স্বাভাবিক। সেটাই করেছে সে। ভুলক্রমে ব্যাটসম্যানের লাইনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ভুল মুস্তাফিজ যে ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম করেছে, তা নয়। অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ও খেলার উত্তেজনায় এমন ভুল অতীতে বহুবার করেছে।

ভিডিও রিপ্লেতে দেখা যায়, মুস্তাফিজ আগেই একবার তাকিয়ে ব্যাটসম্যানকে আসতে দেখেছে। তবুও সে লাইন থেকে না সরে বরং আরো এগিয়ে গেছে। একই কাজ সেদিন সে করেছে রোহিত শর্মার সাথেও। বয়স বিবেচ্য নয়, বিভিন্ন পর্যায়ে প্রচুর ম্যাচ খেলেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এসেছে সে। সুতরাং এইসব ব্যপার অবশ্যই জানা থাকার কথা।

ফরিদ আহমেদ ক্রিকইনফোর যে প্রতিবেদন থেকে রেফারেন্স দিয়েছেন সেখানেই কিন্তু বলা হয়েছে, মুস্তাফিজ নিজেই অপরাধ স্বীকার করেছে।

Mustafizur admitted his guilt when faced with video evidence of the incident. “Mustafizur was fined 50% of his match fee after he admitted that his actions in not getting out of the batsman’s way were inappropriate and he should have done more to avoid the contact,” Pycroft said.

এই ব্যাপারটা মেনে নিলে সমস্যা কোথায়? এতে কি মুস্তাফিজের ১ম ২ ম্যাচে ১১ উইকেট নেয়ার অনন্য কীর্তি মুছে যাবে? নাকি জাতি হিসেবে আমাদের নাক কেটে যাবে?

খেলার মৌসুমে জমে উঠে চেতনা আর লাইক ব্যবসা। কিছু কিছু মানুষ যেভাবে বিদেশি খেলোয়াড়-সমর্থকদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়াতে থাকেন, তা দেখে মসজিদের ওয়াজে নানা ছলছুতায় বিধর্মীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর কথা কথা মনে পড়ে যায়। এদের মধ্যে ইমরান এইচ সরকার বেশ কিছুদিন ধরেই অগ্রপথিক, যেহেতু ওনার রাজনৈতিক উচ্চাশা আছে। তার সর্বশেষ পোস্টটা দেখুন-

ভারত ও পাকিস্তানের পোর্টালগুলোতে গিয়ে মনে হলো, ‘তারা এখন ভাই ভাই, বাংলাদেশের রক্ষা নাই!’ পাকিস্তানি ও ভারতীয়দের গালির ভাষা মোটামুটি এক, সম্ভবত জাস্ট কপি-পেস্ট।

দারুণ ব্যাপার কিন্তু!

১ম কথা হলো, ওয়েব পোর্টালের মন্তব্যকারীরা গোটা দেশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছে না। ২য় কথা হলো, বাংলাদেশের মন্তব্যকারীরাও একই ভাষাতেই গালি দেয়-জাস্ট কপি পেস্ট। এসব বিদ্বেষমূলক পোস্ট, কথায় কথায় “ইনশাল্লাহ” বলা- এগুলা করা হয় শুধুমাত্র নিজের রাজনৈতিক ইমেজ তৈরি করতে।

আমাদের নিয়ে প্রচুর অপমানজনক কথা বলা হয়- এটা সত্যি। কিন্তু কখনো কখনো আমরা সরল সত্যকেও মানতে চাই না- এটাও সত্যি। যেমন, ১ম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ব্যাটিং করার সময় ভারতীয় ধারাভাষ্যকার বললেন, নাসির হোসেন আউট হয়ে গেলে এই দলের ৫০ ওভার ব্যাটিং করতে কষ্ট হয়ে যাবে। ম্যাচের সেই পরিস্থিতিতে এটা সত্যি কথাই ছিলো এবং আমরা আসলেই ৫০ ওভার পূর্ণ হবার কয়েক বল আগেই অলআউট হয়ে গিয়েছি। অথচ ধারাভাষ্যকার কথাটা বলার সাথে সাথেই আমার বন্ধুরা হেই হেই করে চিৎকার দিয়ে উঠেছিলো।

তাছাড়া এক সিধু বা রমিজ রাজার কথায় আমার দেশের মানুষজন এত প্রভাবিত কেন হবে? মাঝেমাঝে ‘ইগনোর’ও করা উচিত।

আমাদেরকে উগ্র স্বজাত্যবোধের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এই বস্তু বুকে ধারণ করে দেশ বা দুনিয়ার কল্যাণসাধন করা সম্ভব না হলেও অনেকবছরের হিংসার বীজ বপন করে দেয়া যায়। আমরা যেদিন খেলা, অর্থনৈতিক সামর্থ্য, মিডিয়া – সবকিছুতে আজকের ভারতের সমপর্যায়ে পৌঁছাবো, সেদিন আমাদের থেকে নতুন কোনো সিধুর সৃষ্টি হোক- এমনটা আমরা চাই না। আমরা একদিন বিশ্বসেরা হবো, সেদিন আমরা সদ্য টেস্ট মর্যাদা পাওয়া একটি দলকে অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশে খেলতে আসার আমন্ত্রণ জানাবো – এমন মনন নিয়েই প্রজন্ম বেড়ে উঠুক। বর্জিত হোক যাবতীয় আত্ম-অহমিকা ও প্রতিহিংসা।

[430 বার পঠিত]