chomsky600.1
[আগের পর্বের পর]
[পাঠসূত্র ]
এই সিরিজের প্রথম পর্বে সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী পাঠককে সাক্ষাৎকারের প্রেক্ষাপটের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। বিশেষ করে নোম চমস্কি যে একজন প্রথিতযশা ভাষাবিদ ও চৈতন্য বিজ্ঞানী, যা তার রাজনৈতিক কর্মকান্ডের নিচে সাধারণ্যে প্রায় আড়াল হতে বসেছে সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এর পর, মানব মস্তিষ্ক বিশ্লেষণে ডেভিড মার এর ত্রিস্তর বিশিষ্ট অনুসন্ধান কাঠামোর সঙ্গে পাঠককে পরিচয় করিয়ে দেন। যেখানে গাণনিক স্তরে মস্তিষ্ক কী ইনপুট নিয়ে কী আউটপুট দিচ্ছে সেটা অনুসন্ধান করা হয়, অ্যালগরিদমিক স্তরে, এই ইনপুট থেকে আউওটপুট এ পৌছানোর সম্ভাব্য অ্যালগরিদম নিয়ে অনুসন্ধান করা হয়, এবং সব শেষে গাঠনিক স্তরে, অনুসন্ধান করা হয় মস্তিষ্কের কোন কোন অংশ এইসব কার্যক্রম সম্পাদন করছে এবং তা কীভাবে। এ ছাড়া পাঠকের সামনে চমস্কিকে তুলে ধরা হয়, সেই গোত্রের চিন্তাবিদ হিসাবে যার গভীরতার কারণে তার ব্যপ্তিতে কোনো কমতি ঘটেনি।

দ্বিতীয় পর্বে, মূল সাক্ষাৎকার শুরু হয়। যেখানে চমস্কি অসোন্তষ প্রকাশ করেন এই বলে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চর্চা চৈতন্য সম্পর্কিত মৌলিক উপলব্ধির দিকে না গিয়ে সেটা ব্যবহার করে নানান প্রযুক্তি উদ্ভবের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এছাড়াও, অন্তর্নিহীত কোনো মৌলিক নীতির খোঁজ না করে, বিপুল পরিমান উপাত্ত সংগ্রহ করে শক্তিশালী কম্পিউটারের মাধ্যমে পারিসাংখ্যিক বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যত উপাত্ত অনুমানের প্রচলনেরও সমালোচনা করেন। কারণ এ থেকে মৌলিক নীতি বোঝার আশা নেই। অবশ্য কার্যকরকিছু প্রযুক্তির উদ্ভব হতে পারে। ঠিক যেমন পদার্থবিজ্ঞানের মূল নীতিগুলো ঘর্ষণবিহীন তল, ইত্যাদি প্রপঞ্চের মাধ্যমে আলোচিত হয়, যদিও বাস্তবে তেমন উপাত্ত পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। অবশ্য পদার্থবিজ্ঞানের তুলনায় চৈতন্য বিজ্ঞান যে অনেক জটিল কিছু ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে সেটাও স্বীকার করেন চমস্কি। এছাড়া মানুষের ভাষাক্ষমতা যে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা দৃষ্টিশক্তির মতই বিবর্তনের মাধ্যমে উদ্ভুত আরেকটি ব্যবস্থা সেটিও দাবি করেন এই যুক্তিতে, যে মানব শিশু খুবই অপ্রতুল এবং অস্পষ্ট ইনপুট থেকেই একটা ভাষা আয়ত্ব করে ফেলতে পারে। এই ক্ষমতা তার সহজাত না হয়ে ইনপুট থেকে অর্জিত হবার উপায় নেই। তবে মূল আলোচনা বিজ্ঞান চর্চার গতিপ্রকৃতি কিভাবে অগ্রসর হচ্ছে এবং কীভাবে হওয়া উচিত সে বিষয়েই আবর্তিত হতে থাকে।

[মূল সাক্ষাৎকার]

মারের ভাষ্যে প্রচ্ছন্নভাবে বলা হয় যে তিনটি স্তর [গাণনিক, অ্যালগরিদমিক এবং গাঠনিক] একসঙ্গে নিয়ে সমান্তরালে কাজ করা যাবে না, বরং আপনাকে উপর থেকে নিচে এগোতে হবে, যেটা খুবই কঠিন শর্ত, কারণ বিজ্ঞান সাধারণত ওভাবে এগোয় না।

চমস্কি: উনি হয়তো এমন বাঁধা ধরা নিয়ম বোঝাতে চাননি। যেমন ধরুন, ভিতরকার কলকব্জা সম্পর্কে আরো তথ্য জানার পরে হয়তো আপনার গাণনিক ধারণাও বদলাতে হতে পারে। কিন্তু, এখানে এক ধরনের যৌক্তিক ক্রম আছে যদিও তা গবেষণার ক্রমের সাথে সব সময় মেলে না। তার পরেও আমি মনে করি চিত্রটা মোটামুটি সঠিক। অবশ্য এখানে উল্লেক্ষ্য যে মারের ধারণা ইনপুট গ্রহনকারী ব্যবস্থা জন্য প্রযোজ্য…

তথ্য-প্রক্রিয়াকারী ব্যবস্থা…

চমস্কি: হ্যাঁ, যেমন যেমন ধরুন দৃষ্টিশক্তি। এটা এক ধরনের তথ্যপ্রক্রিয়াকারী ব্যবস্থা। কারণ বাইরের কিছু উপাত্ত চোখ দিয়ে ঢুকছে এবং ভিতরে সেই তথ্য প্রক্রিয়া হচ্ছে। আবার ধরুণ আপনার সাংখ্যিক গণনার ক্ষমতা…

ক্ষমতাটা আমার খুবই দুর্বল যদিও…

চমস্কি: আচ্ছা [হাসি]। এটা এক ধরনের অন্তর্গত ক্ষমতা, আপনি জানেন যে আপনার মস্তিস্ক আসলে একধরনের টুরিং মেশিনের নিয়ন্ত্রক। যেই মেশিনের কিছু বাহ্যিক উপাত্ত, যেমন স্মৃতিকোষ, সময় ইত্যাদির নিয়ন্ত্রনাধিকার আছে। এবং তাত্ত্বিকভাবে দেখলে আপনি যে কোনো দুইটি সংখ্যাকে গুণ করতে পারবেন, যদিও কার্যক্ষেত্রে সেটা সব সময় সত্যি নয়। এখন আপনার সেই অন্তর্গত ব্যবস্থাটা কেমন তা যদি আপনি বের করতে চান তাহলে মারের স্তরগুলো খুব একটা কাজ করবে না। অবশ্য গাণনিক স্তর নিয়ে আপনি কথা বলতে পারবেন। হয়ত সেই স্তরের নিয়মগুলো হয়তো পিয়ানোর স্বীকার্য [সম্পাদকের টীকা: ইটালীয় গণিতবিদ গিউসেপ্পে পিয়ানোর নাম অনুসারে একটা গাণিতিক তত্ত্ব যা গণনা ও স্বাভাবিক সংখ্যা সংক্রান্ত কিছু মৌলিক নিয়ম বর্ণনা করে যা থেকে গণিতের কার্যকর অনেক তথ্য নির্ণয় করা যায়], বা অন্য কিছু। সেগুলো যা-ই হোক না কেন তারাই হচ্ছে গাণনিক স্তর। তাত্ত্বিকভাবে, যদিও আমরা প্রক্রিয়াটা জানি না, আপনি স্নায়ুশারীরবৃতীয় স্থর নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। কিভাবে করা হবে তা কেউ জানে না, কিন্তু বাস্তবে তেমন কোনো অ্যালগরিদমিক স্থর নেই। কারণ জ্ঞানের গণনা বলে কিছু নেই, এটা স্রেফ জ্ঞানীয় ব্যবস্থা। এই জ্ঞানীয় ব্যবস্থার প্রকৃতি নির্ণয়ের কোনো অ্যালগরিদম নেই, কারণ এটা কোনো প্রক্রিয়া নয়। অবশ্য জ্ঞানীয় ব্যবস্থাকে ব্যবহার করাটা এক ধরনের প্রক্রিয়া, কিন্তু সেটা ভিন্ন জিনিস।

কিন্তু আমরা যে সব ভুল করি, সেগুলো কি কোনো একটা চলমান প্রক্রিয়ার ভ্রান্তি নির্দেশক নয়?

চমস্কি: ঐ প্রক্রিয়াটা হচ্ছে আমাদের অন্তর্নিহিত ব্যবস্থার ব্যবহারের প্রক্রিয়া। কিন্তু ঐ অন্তর্নিহিত ব্যবস্থা নিজেই একটা প্রক্রিয়া নয়, কারণ তার কোনো নিজস্ব অ্যালগরিদম নেই। সাধারণ গণিতের কথা ধরুন। আপনি যদি পিয়ানোর স্বীকার্য, এবং অবধারণের নিয়মগুলো ধরেন এরাই সাংখ্যিক গণনার সবকিছু নির্ধারণ করে দেয়, কিন্তু এরা কোনো অ্যালগরিদম নয়। আপনি প্রশ্ন করতে পারেন একজন গণিতবিদ কীভাবে এগুলোর প্রয়োগ করেন; সেটা নানান উপায়ে হতে পারে। হয়তো আপনি স্বীকার্যগুলো থেকে শুরু না করে, অবধারণের নিয়মগুলো থেকে শুরু করবেন। প্রথমে উপপাদ্যটা নিয়ে দেখতে হবে, এর কোনো লেমাকে দাঁড়া করানো যাচ্ছে কি না। সেটা সম্ভব হলে দেখতে হবে ঐ লেমা কোনো ভিত্তির উপর স্থাপন করা যায় কি না, এভাবে আপনি একটা গাণিতিক প্রমাণ পাবেন যে প্রমাণটা একটা জ্যামিতিক বস্তু।

কিন্তু সেটা তো, আমার মনে মনে দুইটা সংখ্যা যোগ করার থেকে মৌলিকভাবে ভিন্ন কার্যক্রম। হয়তো যোগ করার কোনো ধরনের অ্যালগরিদম আমার মাথায় আছে।

চমস্কি: ব্যাপারটা অপরিহার্য নয়। উভয় ক্ষেত্রেই প্রক্রিয়াটার একটা অ্যালগরিদম আছে। কিন্তু এই অন্তর্গত ব্যবস্থার নিজস্ব কোনো অ্যালগরিদমিক গঠন নেই, আপনি এক ধরনের শ্রেণীবিন্যাসগত ভুল করছেন। পিয়ানোর স্বীকার্য, এবং তার অবধারণের নিয়মগুলো কী কী প্রক্রিয়াকে সংজ্ঞায়িত করছে সেই প্রশ্ন আপনি করবেন না, কারণ এদের মাঝে কোনো প্রক্রিয়া নেই। এগুলোকে ব্যবহার করার প্রক্রিয়া থাকতে পারে। এবং সেই প্রক্রিয়া হয়তো জটিল প্রক্রিয়া, আপনার সাংখ্যিক গণনার ক্ষেত্রেও এটা সত্য। আপনার অন্তর্নিহিত যে ব্যবস্থা আছে তার অন্তর্গত প্রক্রিয়ার প্রশ্নটা আসছে না। কিন্তু সেই অন্তর্নিহিত ব্যবস্থাটা আপনি কীভাবে ব্যবহার করছেন সে প্রশ্নে প্রক্রিয়ার কথাটা আসতে পারে। একটা গুণ অংক আপনি ভিতরে ভিতরে নানান রকম ভাবেই করে থাকতে পারেন। মনে করেন আপনি ৭ এবং ৬ যোগ করতে চান। যেমন, এর একটা অ্যালগরিদম হতে পারে, শুরুতে আপনি ভাববেন ৭ থেকে ১০ এ যেতে কত লাগে? — লাগবে ৩ এরপর বাকি থাকলো আরো ৩। আপনি ১০ এর সাথে এই ৩ যোগ করবেন, ফলাফল ১৩। এটা যোগ করার এক ধরনের অ্যালগরিদম— আসলে আমাকে কিন্টারগার্টেনে এভাবেই শেখানো হয়েছিল। এটা একটা যোগের উপায়।

কিন্তু যোগ করার অন্য অনেক উপায়ই আছে— একমাত্র সঠিক অ্যালগরিদম বলে কিছু নেই। এসব হচ্ছে আমাদের মনের মধ্যকার চৈতন্যব্যবস্থাকে চালিয়ে নেবার নানান রকম অ্যালগরিদম। ফলে এই ব্যবস্থার নিজরস্ব অ্যালগরিদমটা কী সে প্রশ্ন অর্থহীন। আপনি গাণনিক স্থর সম্পর্কে পশ্ন করতে পারেন, গাঠনিক স্থর সম্পর্কেও প্রশ্ন করতে পারেন। কিন্তু এই ব্যবস্থার কোনো অ্যালগরিদম স্তর নেই। ব্যাপারটা ভাষার ক্ষেত্রেও একই রকম। ভাষা অনেকটা এই সাংখ্যিক গণনার ক্ষমতার মত। ভিতরে এক ধরনের ব্যবস্থা আছে যা অসীম সংখ্যক বাক্যের অর্থ নির্ধারণ করছে। কিন্তু তার অ্যালগরিদমটা কি, সে প্রশ্ন আসে না। ঠিক যেমন সাংখ্যিক গণনার স্বীকার্যসমূহ উপপাদ্য প্রমাণের নিয়ম সম্পর্কে কী বলছে, সে প্রশ্নও আসে না। কোনো ব্যবস্থাকে ব্যবহার করা কে বলে প্রক্রিয়া, যা মারের ত্রিস্তরী বিশ্লেষণের মাধ্যমে অধ্যয়ন করা সম্ভব। কোনটা প্রক্রিয়া আর কোনটা প্রক্রিয়া না সেই ধারণা পরিস্কার থাকা জরুরী।

দেখা যাচ্ছে গাণনিক স্তর, যেমন পিয়ানোর স্বীকার্যসমূহ, থেকে মারের তৃতীয় স্তরে …

চমস্কি: গাঠনিক স্তর…

… গাঠনিক আর প্রায়োগিক স্তরে …

চমস্কি: আচ্ছা…

মাঝে কোনো ধরনের অ্যালগরিদমিক স্তর বাদ দিয়ে পৌছানোটা রীতিমত বিস্ময়কর।

চমস্কি: আমি অবশ্য তা মনে করি না। হয়তো কিভাবে এটা ব্যবহৃত হচ্ছে সেখান থেকেই গাঠনিক স্তর সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব। আমাদের চেয়েও উচতর কোনো বুদ্ধিমত্তা হয়তো এই অন্তর্গত ব্যবস্থাটা দেখতে পারবে, কারণ এর একটা শারীরিবৃত্তীয় ভিত্তি আছে, আমরাও এটা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারি। অন্তঃস্থ ব্যবস্থাটাকে কী প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা হচ্ছে সেটা না দেখেও এই অধ্যয়ন সমভব। এটা সম্ভব, যে এইসব প্রক্রিয়া কীভাবে কাজ করছে তা দেখে অন্তঃস্থ ব্যবস্থার গঠন সম্পর্কে মূল্যবান ধারণা পাওয়া যাবে। কিন্তু ধারণাগত ভাবে সেটা একটা ভিন্ন সমস্যা। কারণ, কোনো সমস্যা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সেরা উপায় কী সেই প্রশ্ন এখানে এসে যাচ্ছে। তাই হয়তো, পিয়ানোর স্বীকার্যের সাথে স্নায়ুকোষের সম্পর্ক বোঝার সেরা উপায় হচ্ছে গণিতবিদদের উপপাদ্য প্রমাণ করতে দেখা। কারণ, হয়তো এ থেকে কিছু কার্যকর তথ্য পাওয়া যাবে। এই নিরীক্ষা থেকে উদ্দিষ্ট ফলাফল হচ্ছে মস্তিস্কের অন্তস্থ ব্যবস্থার একটা শারীরবৃত্তীয় ভিত্তি খুজে বের করা, কোনো ধরনের অ্যালগরিদমের উল্লেখ না করে। অ্যালগরিদম হচ্ছে এই অন্তস্ত ব্যবস্থা ব্যবহারের প্রক্রিয়া, যার সম্পর্কে জানলে হয়তো কিছু উত্তর খুঁজতে সুবিধা হবে। যেমন, অবনত তলের দিকে তাকিয়ে, সেই তল বরাবর পতনের হার সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়, ওদিকে নিউটনের সূত্র কিন্তু অবনত তল নিয়ে কিছু বলে না।

ঠিক। তার মানে, চৈতন্য ব্যবস্থা বা ভাষা ব্যবস্থার অধ্যায়নে মারের স্তরবিভাগের প্রয়োগের পিছনে যুক্তি আছে। আবার, আপনি যেহেতু যুক্তি দিয়েছেন যে ভাষা ক্ষমতা বংশগতীয়ভাবে পাওয়া, তার মানে অন্যান্য জৈবব্যবস্থা যেমন, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা, সংবহন তন্ত্র এগুলোর অধ্যায়নেও মারের পদ্ধতি খাটানো যাবে…

চমস্কি: অবশ্যই, আমি মনে করি এদের অনেক মিল। রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার অধ্যয়ন নিয়েও আপনি একই কথা বলতে পারেন।

হয়ত চৈতন্যের তুলনায় এসব সিস্টেম নিয়ে এভাবে কাজ করাটা আরো সহজ হবে।

চমস্কি: একইভাবে পরিপাকতন্ত্রের উপরও গবেষণা করা সম্ভব। যদিও সে ক্ষেত্রে সম্ভাব্য উত্তরগুলো ভিন্ন। ধরুন কেউ পরিপাক তন্ত্র নিয়ে গবেষণা করছে। তাদের গবেষণা নিশ্চই আপনার পেটখারাপ হলে কী হয়, বা একটা বড় বার্গার খাবার পরপর কি ঘটে শুধু সে সব নিয়ে হবে না। সেই জানালার বাইরের ছবি তোলার উপমাতে ফিরে যাওয়া যাক। পরিপাক তন্ত্র নিয়ে কাজ করার একটা উপায় হচ্ছে সম্ভাব্য সব রকম পরিস্থিতিতে ব্যবস্থাটি কী করে সে বিষয়ক সম্ভাব্য সব রকমের তথ্য সংগ্রহ করে একটা বড় কম্পিউটারে ঢুকিয়ে পারিসাংখ্যিক বিশ্লেষণ করা — হয়তো এ থেকে কিছু পাওয়া যাবে। কিন্তু একজন জীববিজ্ঞানী এমনটা করবেন না। তারা শুরুতেই, পেট খারাপ হবার মত, আপাত দৃষ্টিতে অপ্রাসঙ্গিক চলকগুলোকে (কখনো কখনো ভুলভাবে, কারণ আপনি ভুল করতেই পারেন) বাদ দিতে চান।

কিন্তু জীববিজ্ঞানীরা তো সেটাই করছেন। তারা একদল সুস্থ্য এবং অসুস্থ্য মানুষকে নিয়ে তাদের পরিপাক তন্ত্রের ক্রিয়াকলাপ তুলনা করছেন এবং এ থেকে জৈবনিক বৈশিষ্ট্যসমূহ অনুমানের চেষ্টা করছেন।

চমস্কি: তারা এটা করছেন বেশ অনেকটা অগ্রসর পর্যায়ে পৌছানোর পর। তারা ইতোমধ্যেই পরিপাকতন্ত্রের গঠন সম্পর্কে অনেক কিছু জানেন, না হলে কিসের সাথে কিসের তুলনা করছি, কে অসুস্থ্য কে সুস্থ্য সেটাই তো বোঝা যাবে না।

তারা পারিসাংখ্যিক পদ্ধতিতেই চলকগুলোকে বাছাই করছেন। এভাবে কাজ করলে ফান্ডিং পাওয়াও সহজ, কারণ আপনি অসুস্থ্য মানুষের ব্যাপারে অধ্যয়ন করার কথা বলছেন।

চমস্কি: ফান্ডিং পাবার এটা একটা উপায় হতেও পারে। যেমন ভাষা নিয়ে গবেষণায় ফান্ড পেতে কেউ হয়তো দাবি করল, এটা অটিজম নিরাময়ে সাহায্য করে। এসব কথা আলাদা [হাসি]। কিন্তু, কোনো ব্যবস্থার অধ্যয়নে শুরুতে আপনাকে যে সব চলক অপ্রাসঙ্গিক মনে হবে সেগুলোকে বাদ দিয়েই একটা বিমূর্ত মডেল তৈরি করতে হবে, এবং বিষয়টার মৌলিক প্রকৃতি বোঝার চেষ্টা করতে হবে— তারপর এক সময় আপনি প্রশ্ন করবেন, দেখি তো এইসব বাড়তি চলক, যেমন পেঠের পীড়া, বিবেচনায় আনলে কী হয়।

তারপরেও মার এর ত্রিস্তরী বিশ্লেষণ এ ধরনের ব্যবস্থায় প্রয়োগ করা খুবই কঠিন মনে হচ্ছে। আপনি যদি জিজ্ঞেস করেন, মস্তিষ্ক কী ধরনের গাণনিক কার্য সম্পাদন করছে, আমাদের কাছে তার এক ধরনের উত্তর আছে, কারণ মস্তিষ্ক এক রকম কম্পিউটারের মতই। কিন্তু আপনি যদি প্রশ্ন করেন, আমাদের ফুসফুস কী ধরনের গাণনিক কার্য সম্পাদন করছে, ব্যাপারটা নিয়ে চিন্তা করাই খুব মুশকিল— স্পষ্টতই এটা কোনো তথ্যপ্রক্রিয়াকারী কাজ করছে না।

চমস্কি: তা নয়, কিন্তু এটা ভাবার কোনো কারণ নেই যে সম্পূর্ণ জীববিজ্ঞানই গাণনিক। কিন্তু, চৈতন্য কে গাননিক মনে করার অনেক কারণ থাকতে পারে। বস্তুত, গ্যালিস্টেল বলছেন না যে শরীরের সবকিছু অধ্যায়ন করতেই আগে /পড়া/লেখা/ এবং নির্দেশকারী এককগুলোকে চিহ্নিত করতে হবে।

এটা বিবর্তনীয় ধারণার বিপরীত মনে হচ্ছে। এইসব ব্যবস্থা তো সম্মিলিতভাবে বিবর্তিত হয়ছে, এবং ব্যবস্থাগুলো বিভিন্ন অংশ, বিভিন্ন অণু, এবং প্রক্রিয়া মিলিয়ে-মিশিয়ে পুনর্ব্যবহার করে। কোষগুলো নানান কিছু গণনা করছে।

চমস্কি: কিন্তু, আপনি নিশ্চই ফুসফুক কীভাবে কাজ করে সেটা অধ্যয়ন করতে গিয়ে কোষগুলো কী গণনা করছে সেটা জিজ্ঞেস করেন না। আপনি, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা, দৃষ্টি ব্যবস্থা এসব নিয়ে অধ্যয়ন করতে পারেন, কিন্তু দুটো থেকেই একই উত্তর পাবার আশা করতে পারেন না। একটা জীব, খুবই মডিউলার একটা ব্যবস্থা। এদের মধ্যে বহু জটিল উপব্যবস্থা থাকে যারা ভিতরে ভিতরে সংযুক্ত। তারা ভিন্ন ভিন্ন নীতি মেনে চলে। জৈব ক্রিয়াকলাপ খুবই মডিউলার। আপনি এমনটা ভাবতে পারেন না যে এটা তালগোল পাকানো একটা বিশাল জিনিস, যার পুরোটাই একই ভাবে কাজ করছে।

নিশ্চয়ই তা না, কিন্তু আমি বলছি আপনি তাদের সবাইকে অধ্যয়ন করতেই একই ধরনের পদ্ধতি অবলম্বন করবেন।

চমস্কি: যদি মডিউলগুলো ভিন্ন হয় তাহলে সবসময় তা নাও হতে পারে। কিছু কিছু মডিউল হয়ত গাণনিক অন্যরা না।

তাহলে আপনার অভিমত কি? স্রেফ পারিসাংখ্যিক ভাবে উপাত্ত অনুমান করার বদলে, বাখ্যামূলক তত্ত্বের কী ধরনের বৈশিষ্ট্য থাকবে? বিশেষ করে যেসব ব্যবস্থা গাণনিক নয় তাদের ক্ষেত্রে— আমরা কি এসব ব্যবস্থা বুঝতে পারব?

চমস্কি: অবশ্যই। যেমন ধরুন, কোনো একটা ভ্রুণ কেন মুরগিছানা হয়ে যাচ্ছে, কেন ইঁদুর হয়ে যাচ্ছে না, এ ধরনের প্রশ্নের ব্যাপারে আপনি অনেক কিছুই জানতে পারবেন। এটা খুবই জটিল একটা ব্যবস্থা এতে বিভিন্ন রাসায়নিক মিথস্ক্রিয়া সহ নানান রকম জিনিস জড়িত। এমনকি সেই গোলকৃমির কথাই ধরুণ। এখানকার এক গবেষণাতেই দেখা গেছে, যে এটাকে স্রেফ একটা স্নায়ুয়োকোষের নেটওয়ার্ক হিসাবে দেখে বোঝা সম্ভব নয়। আপনাকে মস্তিষ্কের মধ্যে, স্নায়ুতন্ত্রের মধ্যে ঘটমান জটিল রাসায়নিক মিথস্ক্রিয়াগুলোর দিকেও তাকাতে হবে। এইসব সিস্টেমগুলোকে আলাদা আলাদা ভাবেই দেখতে হবে। হয়তো এদের কোনোটা আপনার সাংখ্যিক ক্ষমতার সাথে সম্পর্কিত নয়, কিন্তু আপনার হাত আপনি উচু করবেন কি না তার সাথে সম্পর্কিত।

যদিও, আপনি যদি রাসায়নিক মিথস্ক্রিয়াগুলোকে অধ্যয়ন করেন তাহলে হয়তো শেষমেস, আপনি যেটাকে বলেছেন, ঘটনার একটা পুনর্বিবরণীতে পৌছে যাবেন।

চমস্কিঃ কিংবা একটা বাখ্যায়। কারণ হয়তো এটা সরাসরি খুব গুরুত্বপূর্ণভাবে জড়িত।

কিন্তু আপনি যদি এ ধরনের কিছু খুঁজে পান যে, অমুক রাসায়নিক উপাদানটি সক্রিয় হতে হবে, বা অমুক জিনটি সক্রিয় হতে হবে, তাতে কিন্তু কোনো জীব কীভাবে এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তা আপনি জানতে পারছেন না। আপনি স্রেফ একটা সুইচ খুঁজে পেয়েছেন।

চমস্কি: তারপর আপনি আরো গভীরে তাকাবেন। এই জিনগুলো এইসব পরিস্থিতিতে এক রকম কাজ করছে এবং ভিন্ন পরিস্থিতিতে অন্য রকম কাজ করছে সেটা খুঁজে বের করবেন।

কিন্তু জিন যদি ভুল স্তরের বিমূর্তায়ন হয় তাহলে তো আপনি শেষ।

চমস্কি: সেক্ষেত্রে আপনি সঠিক উত্তরটি পাবেন না। এবং হয়তো জিনরা সঠিক বিমূর্তায়নের স্তর নয়। যেমন ধরুন, স্রেফ জিনোম থেকে কীভাবে একটা জীবের উদ্ভব হচ্ছে সেটা বের করা খুবই কঠিন। কোষের মধ্যে নানান রকম জিনিস উৎপাদন হচ্ছে। আপনি শুধু জিনের দিকে তাকালে হয়তো সঠিক বিমুর্ত স্তরে নাও থাকতে পারেন। আপনি জানেন না বলেই তো এটা নিয়ে গবেষণা করছেন। আমার তো মনে হয় এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার কোনো অ্যালগরিদম নেই। আপনাকে স্রেফ চেষ্টা করে যেতে হবে।

আমি আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে বিবর্তনের দিকে নিতে চাই। আপনি একটা আগ্রোহদ্দীপক ধারনার সমালচনা করেছেন, যেটার নাম দিয়েছেন “জিনতাত্ত্বিক অভিজ্ঞতাবাদ”। আপনি এই পদ্ধতির সমালোচনায় বলেছেন যে এরা কোনো বাখ্যা করার ক্ষমতা নেই। এটা স্রেফ বলে- মন এমন কারণ প্রকৃতিতে আমরা অভিযোজীত হতে গিয়ে এভাবেই বিবর্তিত হয়েছি। এবং এটা নির্ধারিত হয়েছে প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে। আপনি বলেছেন এটা তেমন কোনো বাখ্যা দেয় না কারণ সবকিছুর ব্যাখ্যাতেই পরিব্যপ্তি আর নির্বাচনের দারস্থ হওয়া যায়।

চমস্কি: আমি ওদের পদ্ধতিতে অসন্তুষ্ট হলেও, হয়তো ওরাই সঠিক। এমন হতেই পারে যে আপনার সাংখ্যিক গণনার ক্ষমতা স্রেফ বিক্ষিপ্ত পরিব্যপ্তি এবং নির্বাচনের মাধ্যমেই উদ্ভূত হয়েছে। যদি দেখা যায় এটাই সঠিক, তাহলে তো ভালো।

শুনে মনে হচ্ছে সত্যভাষ(truism)।

চমস্কি: আমি বোঝাতে চাচ্ছি, এটা মিথ্যা নয়। সত্যভাষ তো সত্যই [হাসি]

কিন্তু এ থেকে তেমন কোনো বাখ্যা পাওয়া যায় না।

চমস্কি: হয়তো এটাই সর্বোচ্চ পর্যায়ের বাখ্যা। আপনি একটা জগৎ কল্পনা করতে পারেন— আমাদের জগৎ যদিও এমন না বলে মনে করি আমি— যেখানে বিভিন্ন বস্ত্যুর মধ্যে এলোমেলো পরিবর্তন ছাড়া কিছুই ঘটে না। এবং বাহ্যিক কোনো বল নির্বাচনের কাজটা করে। আমি মনে করি না আমাদের জগৎ এভাবে কাজ করে, কোনো জীববিজ্ঞানীও এমন ধারণা পোষণ করেন বলে আমি মনে করি না। প্রাকৃতিক নিয়মসমূহ থেকে হাজার উপায়ে একটা ব্যবস্থার উদ্ভত হতে পারে, যেখানে প্রাকৃতিক নির্বাচন কাজ করবে, এবং যেখানে কিছু জিনিস ঘটবে এবং কিছু জিনিস ঘটবে না। জৈব ব্যবস্থায়, বা বিভিন্ন জীবের মধ্যে অনেক কিছুই ঘটে যারা এমন নয়। প্রথমে মিয়োসিসের কথা ধরুন। কেন কোষগুলো বিভক্ত হয়ে আলাদা গোলকে পরিণত হয়? কেন ঘণকে পরিণত হয় না? এর জন্য কোনো জিনের বিক্ষিপ্ত পরিব্যপ্তি দায়ী নয়। বরং, পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম দায়ী। পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম শুধু এখানেই থেমে গেছে তা ভাবার কারণ নেই, পুরো ব্যস্থার সব স্তরেই এই নিয়মগুলো কাজ করছে।

হ্যাঁ, নিয়মগুলো নিশ্চিত ভাবেই জৈব ব্যবস্থার সীমা নির্ধারণ করে।

চমস্কি: তার মানে এটা স্রেফ বিক্ষিপ্ত পরিব্যপ্তি আর নির্বাচন নয়। বরং বিক্ষিপ্ত পরিব্যপ্তি, নির্বাচন এবং বাকি যা কিছু প্রোযোজ্য, তেমন সবকিছুর সমন্বয়। যেমন, পদার্থ বিজ্ঞানের সূত্রসমূহ।

তাহলে কি “তুলনামূলক জীনবিশ্লেষণতত্বে” এ ধরনের প্রচেষ্টার কোনো স্থান আছে? এখানে (এমআইটি/ হার্ভার্ড) বোর্ড ইন্সটিটিউট বিভিন্ন প্রাণীর বিভিন্ন জিনমকে বিভিন্ন পরিবেশে রেখে সেখান থেক উৎপাদিত সব ধরনের অণুর সূত্র লিপিবদ্ধ করে বিপুল পরিমান উপাত্ত সংগ্রহ করছে। উচ্চ স্তরের চৈতন্য প্রক্রিয়া সম্পর্কে এ ধরনের তুলনামূলক বিবর্তনীয় অনুসন্ধান থেকে কি কোনো ধারণা পাওয়া সম্ভব, নাকি এটা অসময়োচিত?

চমস্কি: আমি বলছি না যে এ ধরনের প্রচেষ্টা ভুল, কিন্তু এর থেকে কী ধরনের উপসংহারে পৌছানো সম্ভব তা আমি জানি না। তেমন কিছু পাবার আশা করাও উচিত নয়।

আপনি এমন কোনো উদাহরণের কথা জানেন না যেখানে এ ধরনের বিবর্তনীয় বিশ্লেষণ থেকে কোনো ধারণা পাওয়া গেছে? যেমন Foxp2 পরিব্যপ্তি? [সম্পাদকের টীকা: এটা একটা জিন যা বাকশক্তি, এবং ভাষা ক্ষমতার সাথে জড়িত বলে ধারণা করা হয়। একটা পরিবারের যাদের সবার মধ্যে সুনির্দিষ্ট ধরনের বাক প্রতিবন্ধকতা ছিলো, তাদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, পরিব্যপ্তির ফলে এই এই জিন বদলে গেছে। বিবর্তনের মানব শাখায় এই জিন বেশ কিছু অনন্য পরিব্যপ্তির মধ্য দিয়ে গেছে, যা অন্য জীবের ক্ষেত্রে দেখা যায় না।]

চমস্কি: Foxp2 বেশ আগ্রোহদ্দীপক। কিন্তু ভাষার সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। বরং, এটা সুক্ষ্ম নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণের সাথে সম্পর্কিত। এ ধরনের সুক্ষ্ম নড়াচড়া ভাষার ব্যবহারের সাথে জড়িত, যেমন আপনি কথা বলার সময় আপনার ঠোট এবং অন্যান্য অংশ সুক্ষ্মভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন। কিন্তু এটা ভাষার বাহ্যিক ব্যাপার এবং আমরা ব্যাপারটা জানি। সে আপনি বাগযন্ত্র ব্যবহার করে ভাষা প্রকাশ করুন, অথবা হাত নেড়ে ইঙ্গিত ভাষার মাধ্যমে প্রকাশ করুন, মূল ভাষাটা তো একই। এমনকি উভয় ক্ষেত্রেই মস্তিস্কের একই অংশসমূহে কথাগুলো উৎপাদন এবং বিশ্লেষণ হচ্ছে, যদিও এক ক্ষেত্রে নড়ছে আপনার ঠোট, অন্যক্ষেত্রে হাত। তার মানে যে ভাবেই আপনি বহিঃপ্রকাশ করুন, সেই প্রকাশ প্রক্রিয়াটা বাহ্যিক। এসব নিয়ে কথা বলা বেশ জটিল, কিন্তু আমি মনে করি আপনি যদি ভাষার বিভিন্ন গঠনের দিকে লক্ষ্য করেন আমার কথারই প্রমাণ পাবেন। এমন কিছু আগ্রহোদ্দীপক উদাহরণ আছে যেখানে ভাষার গাণনিক দক্ষতার সাথে, যোগাযোগ দক্ষতার সঙ্ঘাত দেখা যায়।

সরল ক্রম বিষয়ক উদাহরণের কথা তো আমি বলেছিই। আপনি যদি জানতে চান, কোন ক্রিয়া-বিশেষণটি কোন ক্রিয়ার সাথে যুক্ত হচ্ছে তখন, এমনকি কোনো শিশুও স্বভাবজাতভাবেই, সরল দূরত্বের বদলে গাঠনিক দূরত্ব হিসাব করে। সরল দূরত্ব ব্যবহারের জন্য তার কাছে সরল ক্রম বিচারে ক্ষমতা থাকতে হবে। কিন্তু সরল ক্রম যদি স্রেফ ইন্দ্রিয়-সঞ্চালন(sensory-motor) তন্ত্রের একটা সহজাত প্রবণতা হয়, তাহলে ওই শিশুর ক্ষেত্রে সেটা পূর্ণরূপে বিকশিত হয়ে নাও থাকতে পারে। এটা একটা প্রমাণ যে অন্তর্গত ব্যবস্থার সাথে ইন্দ্রিয়-সঞ্চালন ব্যবস্থার সংযোগ গাণনিক ব্যবস্থার কার্যক্রমের ক্ষেত্রে স্রেফ একটা গৌণ ব্যাপার।

কিন্তু এটা ঐ ব্যবস্থাকে সীমাবদ্ধ করে থাকতে পারে, ঠিক যেভাবে পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম কোষ বিভাজনকে সীমাবদ্ধ করে?

চমস্কি: হতে পারে, কিন্তু তার সপক্ষে তেমন কোনো প্রমাণ নেই। যেমন, কোনো বাক্যের বামপাশের অংশের— বাম বলতে শুরুর অংশ বোঝাচ্ছে এখানে— সাথে ডান পাশের অংশের বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য আছে। আপনি যদি জিজ্ঞেস করতে চান, “Who did you see?” তখন আপনি “Who” কথাটা শুরুতে লেখেন, শেষে লেখেন না। সব ভাষাতেই, যেখানে wh-phrase যেমন who, which, বা এমন কিছু আছে সেখানে ওগুলো সামনের দিকে সরে যায়। পিছনের দিকে নয়। এটা খুব সম্ভবত প্রক্রিয়াকরণ জনিত কোনো সীমাবদ্ধতা। বাক্যের শুরুতেই শ্রোতাকে জানিয়ে দেওয়া যে কী ধরনের বাক্য হতে যাচ্ছে এটি। এটা সবার শেষে থাকলে, শুরুতে একটা বর্ণনামূলক বাক্য থাকবে এবং শেষে আমি কী জানতে চাচ্ছি বোঝা যাবে। তার মানে, এই ধরনের wh কে সামনে আনাটা কোনো ধরনের প্রক্রিয়াকরণ জনিত সীমাবদ্ধতা থেকে উদ্ভুত হতে পারে। তো এটা যদি সত্যি হয়, তাহলে প্রক্রিয়াকরণের সীমাবদ্ধতা, যেটা বাহ্যিক প্রকাশের সাথে জড়িত, সেটা ভাষার গঠন ও ভাবগত চরিত্রকে প্রভাবিত করছে।

কিছু কিছু উদাহরণ আছে যেখানে গাণনিক দক্ষতার সাথে যোগাযোগ দক্ষতার সুস্পষ্ট সংঘর্ষ দেখা যায়। একটা সহজ উদাহরণ ধরুন। আমি যদি বলি, “Visiting relatives can be a nuisance”। কথাটা অস্পষ্ট। কারণ, বেড়াতে আসা আত্মীয়রা বিরক্তিকর নাকি আত্মীয় বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া বিরক্তিকর সেটা বোঝা যাচ্ছে না। দেখা যায় আমাদের জানা এধরনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই অস্পষ্টতা আসে ভাষার নিয়মগুলোকে কোনোভাবে সীমাবদ্ধ না করে মুক্তভাবে ব্যবহৃত হতে দিয়ে। কারণ এরকম মুক্ত ব্যবহার গাণনিকভাবে সহজসাধ্য, কিন্তু যোগাযোগের ক্ষত্রে এটা দুঃসাধ্য কারণ এখানে অনিরুপণযোগ্য অস্পটতার সৃষ্টি হয়েছে।

অথবা আরেকটা উদাহরণ ধরুন, যেটাকে বলে বাগান-রাস্তা বাক্য ( garden path sentence) [অনুবাদকের টীকা- বাগান রাস্তা বাক্য হচ্ছে এমন ধরনের ব্যাকরণগতভাবে সঠিক বাক্য, যেটা পড়াতে পড়তে পাঠক প্রথম বারে ভুলভাবে বোঝে। মনোভাষাতাত্বিকেরা এ ধরনের বাক্য ব্যবহার করেন আমরা যে বাক্যের শব্দগুলো একটা একটা করে প্রক্রিয়া করি তা প্রমাণ করতে]। “The horse raced past the barn fell”। যেভাবে বলা হয়েছে তাতে এই বাক্য শুনলে মানুষ বুঝতে পারে না। “The horse raced past the barn” এটুকুকেই বাক্য মনে হয়। তারপর হঠাত শেষের “fell” দেখে মনে হয়, এই শব্দ আবার এখানে কী করছে! কিন্তু আপনি যদি ভেবে দেখেন, এটা একটা সুগঠিত বাক্য। এর অর্থ, যে ঘোড়াটি গোলাঘরের পাশ দিয়ে দৌড়ে গেল সেটা আছাড় খেয়েছে। কিন্তু এখানে ব্যকরণের বিভিন্ন নিয়ম, ঠিকঠাক কাজ করেও শুরুতে একটা বিভ্রান্তিকর স্থানে পৌছে দিচ্ছে পাঠককে। এমন ভুরি ভুরি উদাহরণ আছে। কিছু কিছু কথা আছে, যা আপনি স্রেফ বলতেই পারবেন না। যেমন আমি যদি বলি, “The mechanic fixed the cars.” এবং আপনি বলেন, “They wondered if the mechanics fiexed the cars.” শুনে আপনি গাড়ি সম্পর্কে প্রশ্ন করতে পারেন, “How many cars did they wonder if the mechanics fixed?” যেটা কম-বেশি সঠিক। কিন্তু ধরুন আপনি মেকানিকদের সম্পর্কে প্রশ্ন করতে চান। “How many mechanics did they wonder if fixed the cars?” কেন যেন এ ধরনের বাক্য কাজ করে না। এটা একটা ঠিকঠাক চিন্তা, কিন্তু আপনি তা বলতে পারছেন না। আপনি যদি খেয়াল করেন, দেখবেন সবচেয়ে দক্ষ গাণনিক নিয়মের কারণেই কথাটা আপনি বলতে পারছেন না। কিন্তু স্রেফ চিন্তার বহিঃপ্রকাশের জন্য, যোগাযোগের জন্য, আপনি যদি এই কথাটা বলতে পারতেন তাহলে ভাল হত— তার মানে এখানে একটা সঙ্ঘাত দেখা যাচ্ছে।

বাস্তবে দেখা যায়, এমন সব ধরনের সঙ্ঘাতের ক্ষেত্রে গাণনিক সহজ-সাধ্যতাই জিতছে। বাহ্যিক প্রকাশের সহজ-সাধ্যতা থেকে অনেক ধরনের অস্পষ্টতা সৃষ্টি হয়, কিন্তু দেখা যায় ভিতরে ভিতরে ভাষা ব্যবস্থা গাণনিক দক্ষতার কথা মাথায় রেখেই হিসাব করছে, সেখানে বাহ্যিক প্রকাশে নিয়ে কোনো মাথাব্যাথা নেই। আমি সম্ভবত খুব বিশ্বাসযোগ্যভাবে ব্যাপারটা উপস্থাপন করতে পারলাম না। তবে পুরো ব্যাপারটা গুছিয়ে লিখে একটা গ্রহনযোগ্য যুক্তি দাঁড়া করানো সম্ভব।

এ থেকে বিবর্তন সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়। কারণ এটা স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, ভাষাক্ষমতার বিবর্তনের ক্ষেত্রে শুরুতে একটা অন্তর্গত গাণনিক ব্যবস্থা উদ্ভব হয়েছে, এর পর বাহ্যিক প্রকাশের ব্যবস্থা। আপনি যদি কোনো বিশেষ ভাষা কীভাবে উদ্ভব হলো সেটা নিয়ে চিন্তা করেন, তখনও একই উপসংহারে পৌছাবেন। মানব বিবর্তনের কোনো এক পর্যায়ে, প্রত্নতাত্বিক প্রমাণ অনুযায়ী হয়তো এক লক্ষ বছর আগে, যা বিবর্তনীয় হিসাবে খুবই কম সময়, প্রথম এই গাণনিক ব্যবস্থার উদ্ভব হয়, যা অন্য কোনো জীবের মধ্যে হয়নি। এর এক ধরনের সাংখ্যিক গণিতীয় গুণাবলি আছে…

এর মাধ্যমে, বাহ্যিকপ্রকাশের ক্ষমতার আগেই ভালভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা উদ্ভব হয়?

চমস্কি: এর ফলে আপনি চিন্তাক্ষমতা পাচ্ছেন। হয়তো কোনো একক ব্যক্তির মস্তিস্কের মধ্যে কিছু একটা ভিন্নভাবে যুক্ত হলো, পুরো গোত্রের মধ্যে নয়। ফলে সেই ব্যক্তির মধ্যে চিন্তাভনার ক্ষমতার উদয় হলো, পুরো গোত্রে নয়। ফলে তখনো কারো কাছে ভাবনার বহিঃপ্রকাশের কোনো প্রশ্ন আসছে না। পরবর্তীতে, এই জিনগত ভিন্নতা যখন আরো অনেকের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ল, তখন হয়তো ভাবনা বহিঃপ্রকাশের প্রশ্ন এসে যায়। আর তখনই ইন্দ্রিয়-সঞ্চালন ব্যবস্থার সাথে সেই অন্তঃস্থব্যবস্থার সংযোগের প্রশ্ন আসে। কিন্তু সেটা দ্বিতীয় ধাপের প্রক্রিয়া।

যদি না, এই বহিঃপ্রকাশ এবং অন্তর্গত ভাবনার ব্যবস্থাগুলো এমনভাবে জড়িত হয়ে থাকে যা আমরা অনুমান করতে পারছি না।

চমস্কি: আমরা এধরনের অনুমান করিও না, এবং এ ধরনের অনুমান অর্থবহও নয়। কেন এটা বাহ্যিক ব্যবস্থার সাথে সংযুক্ত হবে? যেমন ধরুন, আপনার সাংখ্যিক গাণিতিক ব্যবস্থা তো সেভাবে বাহ্যিক কিছুর সাথে সংযুক্ত নয়। অন্যান্য প্রাণীতেও এমন আছে যেমন গানের পাখি, যাদের অন্তর্গত গাণনিক ব্যবস্থা আছে, যেটা হচ্ছে তাদের গান। এটা হয়তো ভাষাক্ষমতার মত কোনো ব্যবস্থা না, কিন্তু এটা একটা অন্তর্গত গাণনিক ব্যবস্থা তো বটেই। এবং কোখনো এটা বহিঃপ্রকাশিত হয়, আবার কখনো কখনো হয় না। কিছু কিছু প্রজাতির ছানারা অনেক আগেই তাদের গান আত্মস্থ করে নেয়, কিন্তু পুরোপুরি সেয়ানা হয়ে ওঠার আগে প্রকাশ করে না। সেই প্রাথমিক অবস্থায়, এদের ভিতরে গানটা ঠিকই আছে, কিন্তু বহিঃপ্রকাশের জন্য দরকারি বাহ্যিক ব্যবস্থাটা নেই। ব্যাপারটা মানুষের ক্ষেত্রেও সত্যি। যেমন মানব শিশু যা কিছু বলতে পারে তার চেয়ে অনেক কিছু বুঝতে পারে, — এ ঘটনার প্রচুর পরীক্ষামূলক প্রমাণ আছে। অর্থাৎ, তাদের অন্তঃস্থব্যবস্থাটা আছে, কিন্তু সেটাকে বহিঃপ্রকাশ করার বাহ্যিক ব্যবস্থাটা তখনো বিকশিত হয়নি। হয়তো তখনো তার স্মৃতিসংরক্ষণ ক্ষমতা যথেষ্ট নয়, বা অন্য কোনো কারণে।

আমি বিজ্ঞানের দর্শন বিষয়ক একটা প্রশ্ন দিয়ে এই আলোচনার ইতি টানতে চাই। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে আপনি বলেছেন, সমস্যার একটা বড় অংশ হচ্ছে বিজ্ঞানীরা কী করতে চাচ্ছেন তা নিয়ে নিজেরা ভাবছেন না। আপনি বলেছেন যে আপনি এমআইটিতে বিজ্ঞানের দর্শন বিষয়ক একটি বিষয় পড়িয়েছেন এবং সেখানে ছাত্ররা, ধরুন উইলার্ড ভান অরমান কোয়াইন এর লেখা পড়লেও সেটা তাদের এক কান দিয়ে ঢুকে আরেক কান দিয়ে বেরিয়ে যেত, এবং পরে তারা যে ধরনের বিজ্ঞান চর্চা করছিলো সেখানেই ফিরে যেত। বিজ্ঞানের দর্শন থেকে কী ধরনের অন্তঃর্জ্ঞান আমরা পেতে পারি যেটা বিজ্ঞানীদের কাজে লাগবে। যেমন ধরুন যারা জীবজগৎকে ব্যাখ্যা করতে চাচ্ছে, তারা কিভাবে স্রেফ একটা ঘটনার পুণঃর্লিখন করার বদলে, ঘটনাটির একটা ব্যাখ্যামূলক বর্ণনা দাঁড় করাতে পারবে? এ ধরনের একটা তত্ত্বের থেকে আপনি কি আশা করেন, এবং কী ধরনের অন্তঃর্জ্ঞান বিজ্ঞানকে সেই পথে চালিত করতে পারে? যেমন স্নায়ুবিজ্ঞানীদের মাঝে প্রচলিত আচরণবাদী (behaviorist) ধ্যান ধারণার বদলে।

চমস্কি: বিজ্ঞানের দর্শন খুব আগ্রহোদ্দীপক একটা ক্ষেত্র, কিন্তু আমি মনে করি বিজ্ঞানে এর তেমন কোনো অবদান নেই। বরং এটাই বিজ্ঞান থেকে শেখে। এটা বুঝতে চেষ্টা করে, বিজ্ঞান কি করছে, কেন তারা কিছু জিনিষ অর্জন করছে, বিজ্ঞানের ভুল পথ কোনগুলো, দেখি তো এগুলোকে লিপিবদ্ধ করে কিছু বোঝা যায় কি না। সে তুলনায় আমি মনে করি, বিজ্ঞানের ইতিহাস বরং গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয় বিজ্ঞানের ইতিহাস থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতে পারি যা আগমনী বিজ্ঞানের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে, আমরা যদি বুঝতে পারি, ধরুন চৈতন্য বিজ্ঞানে আমরা এখনো গ্যালিলিও পূর্ব যুগে আছি। আমরা কী খুঁজতে হবে সেটাই জানিনা, গ্যালিলিও যেমন জানতেন না। এ থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। যেমন, আদি বিজ্ঞানের, (শুধুমাত্র গ্যালিলিয়ান নয়) একটা বিষ্ময়কর আবিষ্কার হচ্ছে- আপাত সরল জিনিসও হতবুদ্ধিকর হতে পারে।

যেমন ধরুন, আমি এই কাপটা ধরে আছি [পানির কাপ], এবং ধরুন পানিটা ফুটছে, জলীয় বাষ্প উপরের দিকে উঠতে থাকবে, কিন্ত আমি যদি ছেড়ে দেই, তাহলে কাপটা নিজের দিকে পড়বে। কিন্তু কেন কাপ নিচের দিকে পড়ছে, আবার জলীয়বাষ্প উপরের দিকে উঠছে? হাজার বছর ধরে এর একটা সন্তোষজনক উত্তর ছিলো: এরা এদের সহজাত অবস্থানের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

যেমন অ্যারিস্টিটলিয় পদার্থবিজ্ঞানে?

চমস্কি: হ্যাঁ ওটা অ্যারিস্টটলিয় পদার্থবিজ্ঞান। সবার সেরা আর মহত্তম বিজ্ঞানী ভেবেছিলেন এটাই উত্তর। কিন্তু গ্যালিলিও এই ব্যাপারটা নিয়ে নিজেকে ধাঁধায় পড়তে দেন। যখনই আপনি কোনো কিছু নিয়ে নিজেকে ধাঁধায় পড়তে দেবেন সাথে সাথেই দেখবেন আপনার সব অন্তঃর্জ্ঞানই ভুল প্রমাণিত হচ্ছে। যেমন ভারী বস্তু বনাম হালকা বস্তুর পতন ইত্যাদি। দেখবেন আপনার সকল অন্তঃর্জ্ঞান ভুল, যে দিকেই তাকাবেন শুধু ধাঁধা। বিজ্ঞানের ইতিহাস থেকে এইটা শেখার আছে। যে উদাহরণটা আমি আপনাকে আগে দিয়েছি সেটার কথাই ভাবুন, “Instinctively eagles that fly swim.” কেউ ভাবেনি এর মধ্যে কোনো ধাঁধা আছে— কেন ভাববে? কিন্তু ব্যাপারটা নিয়ে যদি আপনি ভাবেন দেখবেন এটা বেশ হতবুদ্ধিকর, একটা সোজাসাপ্টা হিসাব করার বদলে আপনি একটা জটিল হিসাব করছন। আপনি যদি এই কাপ পড়ে যাওয়ার মত ব্যাপার নিয়ে নিজেকে ধাঁধায় পড়তে দেন, এবং জিজ্ঞেস করেন, “কেন?” তাহলে এমন এক পথের দিকে ধাবিত হবেন যেখানে বেশ আগ্রোহদ্দীপক কিছু উত্তর আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। যেমন, হয়তো সরল ক্রম আমাদের গাণনিক ব্যবস্থার অংশই নয়, যেটা মনের গঠন সম্পর্কে খুব শক্তিশালি একটা দাবি— কারণ এই দাবি মতে সরল ক্রম হয়তো আমাদের বহিঃপ্রকাশ ব্যবস্থার অংশ, যা গৌন। এবং এর ফলে অনেক দরজা খুঁলে যাবে। এটা অন্য আর সবকিছুর ক্ষেত্রেই সত্য।

আরেকটা উদাহরণ ধরুন: বিভাজন (reduction) আর সমন্বিত করণের (unification) ভিন্নতাটা লক্ষ্য করুণ। বিজ্ঞানের ইতিহাস এই ভিন্নতার কিছু খুব আগ্রহোদ্দীপক নিদর্শন পাওয়া যায়, যেমন রসায়ন ও পদার্থবিদ্যা। এবং আমি মনে করি এগুলো এখনকার চৈতন্য ও স্নায়ুবিজ্ঞানের চর্চায় খুবই প্রাসঙ্গিক।

[230 বার পঠিত]