শোনো হন্তারক!

কয়টা দিন ধরে নিখুঁত পরিকল্পনার ছক এঁকে,
দুরাকাত নফল পড়ে যেই মুহূর্তে আমার সম্মুখে
তুমি এসে দাঁড়াবে

তোমাকে তখনো আমি ভাই বলেই ডাকবো।
ভাইয়ের হাতের চাপাতি – সেতো লাল গোলাপ!

‘কবিতা পড়ো’ – এটুকু বলতে চাইবো;
এক সেকেন্ড সময় দিয়ো।

যেইমুহূর্তে তোমার আরেকটি মান্থলি সাকসেস হয়ে
মাটিতে লুটিয়ে পড়বো, সেইক্ষণেই ছুটে পালিয়ো না।
কেউ তোমায় ধরতে আসবে না, তাই নিশ্চিন্তে একটি সেকেন্ড
কানটি পেতো আমার ঠোঁটের কাছে –

অবসরে ছবি এঁকো – অস্ফুটস্বরে এটুকু কথা বলবো।

যখন ছুটে পালাচ্ছো অযথাই, শ্রান্ত শরীর নিয়ে যখন
হয়তো পৌছালে জিইসি কিংবা শাহবাগ অথবা মাইজদি রোডে,
যদি মাইকে শুনতে পাও রবীন্দ্রসংগীত অথবা
‘সব কটা জানালা খুলে দাও আজ’,
তুমি একটু জিরিয়ে নিয়ো।

জেনো, ততক্ষণে আমিও রবীন্দ্রসংগীত হয়ে গেছি।

যদি খুব পিপাসায় বুক ফেটে যায়,
রাজীবের মতো কোনো ছিমছাম, রোদে পুড়ে তামাটে
যুবকের কাছে জল খুঁজে নিয়ো।

জেনো, রাজীবেরা হয়ে গেছে সাগরের জল।

যদি খুব ভয় লেগে ওঠে হঠাত ক্ষণিকের বিশ্বাসের দূর্বলতায়,
আর তোমার কান্না পায়, দেখো ফুটপাতে দাঁড়ানো ওয়াশিকুর
এগিয়ে আসে অশ্রু মুছে দিতে।

তুমি জানবে, ওয়াশিকুররা চিরকাল এগিয়ে যায়।

আচ্ছা তুমি কি মনে রাখো তোমার জন্মদিন?
দেখবে কোনো এক জন্মদিনে তোমার জন্য
একগুচ্ছ বই হাতে উপস্থিত অনন্ত বিজয় দাস।

আমরা তো অনন্তই – কখনো শেষ হই না।

আচ্ছা, তোমার কি প্রেমিকা আছে? ছিলো কখনো, এখন কি নেই?
ভালোবেসেছিলে কাউকে? সহপাঠিনী অথবা খালাতো বোন?

শোনো আমার শেষ ইচ্ছা – একটা তুমুল প্রেম করবে তুমি।
লিখতে গেলেই লিখবে প্রেমের কবিতা।

তারপর যেদিন প্রেমিকার বিয়ে হয়ে যাবে সৌদি বরের সাথে,
তুমি সেদিন বনে যাবে। সেদিন গাছের ডালের ফাঁক দিয়ে
প্রথমবার আকাশ দেখবে তুমি। সেদিন তুমি দেখবে,
তারা সেজে অভিজিৎ সবার ওপর হাসে।

একদিন তুমিও সুখি হবে। গৃহে তোমারো থাকবে অন্ত:সত্ত্বা স্ত্রী।

শোনো হন্তারক নাস্তিকের আশাবাদ –
তোমার স্ত্রীর গর্ভে আসুক
দ্বিতীয় হুমায়ুন আজাদ।

[46 বার পঠিত]

এই লেখাটি শেয়ার করুন:
0
By | 2015-05-12T17:57:31+00:00 May 12, 2015|Categories: কবিতা|১৪ Comments

Leave a Reply

14 Comments on "শোনো হন্তারক!"

avatar
Sort by:   newest | oldest
Gangchil
Member

কেউ তোমায় ধরতে আসবে না, তাই নিশ্চিন্তে একটি সেকেন্ড
কানটি পেতো আমার ঠোঁটের কাছে : অসাধারণ

Gangchil
Member

খুবই ভালো লেগেছে , অসাধারণ শিল্পিত মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।

চার্বাক বিপ্লব
Member
চার্বাক বিপ্লব

শোনো হন্তারক নাস্তিকের আশাবাদ –
তোমার স্ত্রীর গর্ভে আসুক
দ্বিতীয় হুমায়ুন আজাদ!!

তানবীরা
Member

অনন্ত****

তানবীরা
Member

অন্তত জীবনের অনেক অনেক পর্বের স্বাদ পাবার আগেই কবিতা হয়ে গেলো

প্রদীপ দেব
Member

আচ্ছা তুমি কি মনে রাখো তোমার জন্মদিন?
দেখবে কোনো এক জন্মদিনে তোমার জন্য
একগুচ্ছ বই হাতে উপস্থিত অনন্ত বিজয় দাস।

পশুদের জন্মদিন কি কেউ মনে রাখে?

কলম চলুক।

করবী ঘোষ
Member
করবী ঘোষ

আধাঁর কেটে আলো আসবেই, যেমন রাতের পরে দিন আসে। হয়ত আমি থাকব না সেদিন কিন্তু আমার সন্তান তা দেখবেই।

Nirmal
Member

জানি না তোমরা কেমন মানুষ । এটুকু বুঝি যুদ্ধক্ষেত্রে দাড়িয়ে কবিতা লিখতে সত্যিই সাহস লাগে ।
বাংলাদেশ আরো দরিদ্র হয়ে পড়ল । তোমাদের কারণে আজ সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশ কে দেখানো হচ্ছে ।
তোমরা সাবধানে থেকো ।

rabbani
Member
ধর্মের সম্মোহনী শক্তি সম্পর্কে এতদিনেও আপনার ঠাওর হয়েছে বলে মনে হয় না। একটা মানুষ যখন ধর্মে সম্মোহিত হয় তখন সে স্থায়ী ঘোরের ভেতর ঢোকে। তার বাপ মা, বোন, ঔরশজাত সন্তান, কবিতা, গান, প্রেমিকাকে ডিঙ্গিয়েই অজান্তে বাংলাভাই, লাদেন, শফি হয়ে ওঠে। নফল নামাজ পড়ে যে সকালে সে চাপাতিটা ব্যাগে ভরে বের হয়, তখন কিন্তু সে ঘরে ফিরবে এমনটা নাকচ করেই বের হয়, সে কিন্তু শহীদ হবার জন্যেই বের হয়। দু’হাত তুলে মুনাজানতে সে কী কথা বলে সেদিন? দিন শেষে আযাদ, অভিজিত, ওয়াশিকুর, অনন্তের খুনিরাও মানুষ, ঘরে তাদের মা, বোন, প্রেমিকা আছে- আমি বিশ্বাস করি না। শিল্পের দিকে তুড়ি নাচিয়ে বলতে ইচ্ছে… Read more »
সুজন
Member

অন্ধকার নিকষকালো হয়নি এখনো…
আলো,সেও বহু আলোকবর্ষ দূরে …

তবুও আশাবাদ রইল …

wpDiscuz

মুক্তমনার সাথে থাকুন