এবার অনন্ত!

প্রথম আলোর সিলেট প্রতিনিধি জানাচ্ছেন যে যুক্তি পত্রিকার সম্পাদক এবং আমাদের মুক্তমনার লেখক অনন্ত বিজয় দাশ কে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। অনন্ত মঙ্গলবার সকালে তাঁর সুবিদ বাজার এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর এই ঘটনা ঘটে। পেছন থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু ঘটে।

আমরা অভিজিৎ রায়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শোক সামলে উঠতে পারি নি, অথচ এরই মধ্যে ব্লগার বাবুর পর আমাদের আরও একজনকে একইভাবে কেড়ে নেয়া হল। ঘটনাগুলোর সাদৃশ্য নির্দেশ করে যে এগুলো কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এমন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী যে এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনের শক্তি একই। একথাও বলা যায় যে, এই নির্মমতা এখানেই থেমে থাকবে না; অচিরেই এর পুনরাবৃত্তি ঘটবে।

দুঃখজনক হলেও একথা সত্যি যে আমরা আজ পর্যন্ত দেশে মুক্তচিন্তার ধারক লেখক/ব্লগারদের উপর হামলা বা তাদের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে কোন সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি দেখিনি। যদিও দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক অবনতি ঘটেছে, তারপরেও একাত্তরের বুদ্ধিজীবী হত্যার প্রেক্ষাপটে লেখক/ব্লগারদের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডগুলো বিশেষ গুরুত্ব পাওয়ার দাবী রাখে।

আঁধার রাতে ফোটা অভিজিৎ নামের জ্বলজ্বলে নক্ষত্রটির পাশে আরেকটি নক্ষত্র হয়ে অনন্ত অমর হয়ে থাকবেন। ঘৃণা আর ধ্বংসের পূজারীদের সাধ্য নেই তাঁদের আলো কেড়ে নেয়।

[8 বার পঠিত]

এই লেখাটি শেয়ার করুন:
0
By | 2015-05-12T15:48:41+00:00 May 12, 2015|Categories: ব্লগাড্ডা|১৩ Comments

Leave a Reply

13 Comments on "এবার অনন্ত!"

avatar
Sort by:   newest | oldest
তানবীরা
Member

হায়েনা রক্তের স্বাদ পেয়ে গেছে

প্রদীপ দেব
Member

আঁধার রাতে ফোটা অভিজিৎ নামের জ্বলজ্বলে নক্ষত্রটির পাশে আরেকটি নক্ষত্র হয়ে অনন্ত অমর হয়ে থাকবেন। ঘৃণা আর ধ্বংসের পূজারীদের সাধ্য নেই তাঁদের আলো কেড়ে নেয়।

কলম চলুক।

Anish Saha
Member

আর কত জন কে মারতে পারবে কট্টরপন্থীরা,কত জন লেখকএর প্রান নেবে। একদিন না একদিন এর শেষ তো হবেই।
ওরা কট্টরপন্থীরা সব নপুংসক, ওরা অমানব, ওরা শুভ বুদ্ধিহীন, ওরা কৃত্তিম, ওরা জানোয়ার, ওদের কোন রকম সাধারণ বিচার ক্ষমতাও নেই।

বিপ্লব রহমান
Member

তারা কেউ মরে নাই। আমাদের চেতনায় সমুজ্জ্বল।

পুষপল
Member

ছুরি দিয়ে মানুষ ভাজ্ঙ্গতে পারো কলমটাকে কী পারবে
যুকতিটাকে যতই ভেজাও লাল নীল রকতে
চিনতার তো মরণ নেই তাকে কীভাবে মারবে

ক্ষতবিক্ষত শরীরটা হয়তো নড়বেনা
আহত হাতেদের ব্যথা কেউ জানবেনা
আগ্রাসী নিসতবধতার মাঝে
তবু সাদা কালো অক্ষরগুলোর চিৎকার
যারা কখোনও মানতে শেখেনি হার
বার বার ভাঙ্গবে জমে থাকা নীরবতাটাকে

সমাজ যদি এখন জাগতে চায়
বহুদিনের পর সূৱযদয় দেখতে চায়
রকতের চাদর দিয়ে তাকে কী ঢেকে রাখা সমভব
আজ পূরাতন নূতনকে করে সাথী
জালীয়ে হাজার হাজার মুকতির বাতি
পুরোনো ভাঙ্গাচোরা রাসতাটায়
আবার করবে কলরব

ছুরি দিয়ে হয়তো মানুষ ভাঙ্গতে পারো
রাসতাটাকে কী পারবে
ভেঙ্গে যাওয়া রাসতা বারবার ভাঙ্গলেও
ঠিক নিজের পথ খুজে পাবে

গীতা দাস
Member

গতকালও যার লেখায় লাইক দিয়েছি আজ তাকে আর কোথাও খুঁজে পাব না।

নিকসন কান্তি
Member
নিকসন কান্তি

আমার ধারনা আওয়ামী লীগ সরকার অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে এখন বেশী জনপ্রিয়। কেন? কারন, আগে যারা তাদের সমর্থন করতো তারাতো আছেই, এখন মনে হয় ঐ খুনিরাও চায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকুক। বিচারহীনতার সংস্কৃতিটা তাদের খুব কাজে লাগছে যে।

মোঃ তারিকুল ইসলাম
Member
মোঃ তারিকুল ইসলাম

এভাবে আর কত হত্যা দেখতে হবে?!!

বিপ্লব কর্মকার
Member
বিভিন্ন বক্তা লেখক-ব্লগারদের হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে বার বার বলে আসছে যে, আজ থেকে ২০ বছর আগে পুলিশ দেশের যে কোন স্থানে সংঘটিত অপরাধের আপরাধীকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতারে সক্ষম ছিল। এটা একজন অবসরপ্রাপ্ত আইজির স্বীকারোক্তি । আজ দেশের বহু স্থানে ব্রীজ হওয়ার কারনে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে, মোবাইল যোগাযোগ এসেছে। পুলিশ চাইলে নাগরিকরা যে কোন গোপন উপায়ে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে পারে। ফেসবুকে পুলিশসহ সকল সংস্থার একাউন্ট আছে। থানার সংখ্যাও বেড়েছে, গড়ে ২০ বর্গমাইলের মধ্যে একটি থানা, ৪ বর্গমাইলের মধ্যে একটি পুলিশ ফাঁড়ি । সবকিছু বিবেচনায় ২০ বছর আগের ৪৮ ঘন্টা এখন ১০ ঘন্টা হওয়া উচিত। এরপরও যদি… Read more »
wpDiscuz

মুক্তমনার সাথে থাকুন