আমাদের অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ভাবালুতা প্রবল । সম্ভবত এই কারণেই এই অঞ্চলে আল মাহমুদ আর আবুল ফজলের ফলন বেশি । আহমেদ শরীফ দুর্লভ । বাপ দাদা মা খালারা আজীবন দেখেছেন যৌবনের বিপ্লবী পড়তি বয়েসে লুঙি-পাঞ্জাবি ধরে পাড়ার মসজিদে যাতায়াত শুরু করে । এজন্য আমি নাস্তিক আমি এইসব বিশ্বাস করি না বলে আত্নীয়দের মধ্যে তেমন কোন ভাবান্তর নাই । তারা ধরেই নিছেন , বয়স খারাপ, পুলাপান অমন একটু বলবেই । হুমায়ুন আজাদ মধ্যবয়সে হঠাৎ মারা না গেলে শেষতক কি হইতো সেটা নিয়াও আমি ঠিক নিশ্চিত না।

আক্ষরিক এবং ভাবগত দুই অর্থেই ত্রিকাল-দর্শী যতীন সরকার তাই শেষকালে এসে ভাবালু হয়ে পড়বেন এতে আমি অবাক নই। পারভেজ আলমের সাথে তার কথোপকথনের দুই পর্ব ভালোভাবে পড়ে মনে হলো সেই একই ভাবালুতা যা ফরহাদ মজহার আল মাহমুদদের গ্রাস করেছে তা ধীর পায়ে তার দিকেও এগিয়ে আসছে।

কথোপকথনে তার প্রথম নোংরা ছাপ হচ্ছে , হালের নাস্তিকদের খুনের জন্য নিহত ও তার সমমনাদের ঘাড়ে দোষ চাপানো। প্রথমে মনে হচ্ছিলো তিনি আসলে মুসলমানদের ভিতরে যারা প্রগতিশীল তারা প্রগতিশীলতার ভালো দার্শণিক ভিত্তি যে তৈরী করতে পারে নাই সেটাকে দুষছেন। কিন্তু দুইটি পর্ব ভালোমত পড়লে বুঝা যাবে আসলে তা না । তিনি সেই পিনাকী বা অঞ্জন রায় বা আব্দুনু নুর মত সেই একই কথাই একটু ঘুরিয়ে বলেছেন মাত্র। ঘুরিয়ে বলার কারণ , তার মতে হিন্দু বা মুসলিম এই পরিচয়গুলো নৃতাত্তিক পরিচয়ের মতই মানুষের অবিচ্ছেদ্য অংশ । যেমন আমি বাঙালির দোষের সমালোচনা করলেও, পুরুষতান্ত্রিকতার সমালোচনা করলেও নিজে যে বাঙ্গালি আর নিজে যে পুরুষ এই পরিচয়কে পরিবর্তন করতে পারবো না কোনমতেই । অর্থাৎ মুসলমান প্রগতিশীল বলতে তিনি ভাষার মারপ্যাঁচে মূলত মুসলিম পরিবার থেকে উঠে আসা নাস্তিকদেরই বুঝিয়েছেন।

ভিক্টিমের ঘাড়ে অপরাধের দোষ চাপানো আসলে শুনতে র‍্যাডিক্যাল শুনা গেলেও, রসুনের গোড়ায় গেলে সেই বিষাক্ত বাটপারি ছাড়া আর কিছু নেই । এই মনস্তত্ত মূলত নিজের অকর্মন্যতা ও কাপুরুষতাকে চটুল কথায় ঢাকার চেষ্টা । মানুষের ভিতরে এম্প্যাথি ও ন্যায়ের বিচার , সামাজিকভাবে বিবর্তিত হওয়ার কারণে বিল্ট-ইন । যেকোন অন্যায়ের মুখে মানুষ দ্রুত বুঝে যায় কোনটা ন্যায় আর কোনটা অন্যায় । কিন্তু এই ন্যায়-অন্যায় বুঝে যাবার মধ্যে ঝামেলা আছে । একটা কাজ অন্যায় এইটা বুঝে যাবার পর স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসাবে প্রতিবাদ করাটা মানুষের জন্য বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়ায় । কিন্তু যে কাপুরুষ, যে ভিতরে অলস, নিজের দায়িত্বকে এড়াতে চায় , সেই এড়ানো সে আবার একেবারে নিরাবেগ , নির্বিবাদ করতে পারে না । মনের ভিতরের খচখচ থেকেই যায় । সেই খচখচ ভাবকে মোকাবেলা করার জন্য বাটপাড়ি যুক্তির সরবরাহ করে মস্তিষ্ক । ধর্ষিত মেয়ের উপর অপরাধ হইছে এটা স্বীকার করার পর ধর্ষককে বিচারের আওতায় আনার জন্য যে পরিশ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করতে হবে তার চাইতে সহজ হচ্ছে মেয়েটার কাপড় অশ্লীল , তার চলাফেরার ঠিক নাই এগুলো বলে মেয়েটাকে দোষী সাব্যস্ত করে দেয়া । তাতে নিজের কাপড়ের ভাঁজও নষ্ট হলো না, আরাম কেদারা থেকে পাছাটাকেও উঠাতে হলো না কিন্তু ন্যায়ের অবতার হিসাবে দায়িত্বপালন ও হয়ে গেলো । এই প্রক্রিয়া যেমন নারী – পুরুষ দুই পক্ষই চালাতে পারে তেমনি নিজে নাস্তিক হয়েও নাস্তিকের খুনের দোষের সিংহভাগ নাস্তিকের উপর চাপিয়ে দেয়া যায় এইভাবে । বরং নিজে নাস্তিক এবং কাপুরুষ, মেরুদন্ডহীন, অলস অথর্ব হইলেই এই র‍্যাশনালাইযেশনের দরকার পড়ে বেশি । কারণ এক্ষেত্রে যেহেতু তার নিজের সমমনা কারো খুনের কথা আসছে, সেহেতু প্রতিবাদ প্রতিরোধের ন্যায্য চাপ তার আরো বেশি অনুভব করার কথা অন্যদের চাইতে । সেজন্য কিছু করতে না চাইলে , র‍্যাশনালাইযেশনের চাপও বেশি ।

তবে হ্যাঁ, এখানে একটা দিকে ভেবে দেখার মতো কথা বলেছেন যতীন সরকার। সেটা হচ্ছে কে নাস্তিক আর কে মুসলমান এই পরিচয় ট্যাগ লাগিয়ে দেবার একচ্ছত্র অধিকার মৌলবাদীদের দিয়ে দেয়াটা ঠিক হয় নাই । ভালো কথা । অর্থাৎ নিজেদের মুসলমান পরিচয়কে রিক্লেইম করতে হবে নাস্তিকদের । কিন্তু নাস্তিকরাতো মুসলমান পরিচয়ের যতটুকু নিজের ভিতর থেকে উঠানো যাবে না, যেমন , মুসলমানের ঘরে জন্ম, তার বাইরে আর কিছু নিজের অস্তিত্তের সাথে রাখতে চায় না । ধর্মীয় পরিচয় এমন কোন বায়োলজিক্যাল জিনিস না যে একে বয়ে বেড়াতেই হবে । পাকিস্তানের জন্ম-মৃত্যু দর্শণের মত বইয়ের লেখক কিভাবে ধর্মীয় পরিচয়কে এইভাবে শরীরের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করতে পারেন এই বয়সে এসে, সেটা বিস্ময়কর ।

নাকি উনার এই কথার পিছনের কারণটা আরো ব্যাবহারিক । মানে নাস্তিক হও ভালো কথা । কিন্তু সেটা প্রকাশ্যে স্বীকার করো না । পারভেজের মত বা বাইং মাছের মত ত্যাড়িয়ে ব্যাড়িয়ে একটা ধূলার আস্তরণ তৈরী করে রাখো নিজের চারপাশে, যেনো মৌলবাদী তোমাকে নাস্তিক বলে সনাক্ত না করতে পারে আবার নিজেদের দলেও ভাবতে না পারে । এইটা কি আমাদের অঞ্চলে সেই চিরাচরিত অবদমন ও নিজের চিন্তার সাথে অসততা করার যেই বৈষয়িক কূটশিক্ষা আমাদের দেয়া হয়, তারই চর্বিত চর্বন না ?

জায়গায় জায়গায় আরেকটি উন্নাসিক মনোভাব বিরক্তিকর লেগেছে । তা হলো, তোমরা নতুন নাস্তিকরা ধর্ম নিয়ে পড়াশোনা করোনা, ধর্ম নিয়ে বেশি না জেনেই কথা বলো এই অভিযোগ । তিনি কিভাবে জানলেন আমরা ধর্ম নিয়ে পড়াশোনা করি নাই ? তিনি কিভাবে জানলেন আমরা ধর্ম নিয়ে তেমন বেশি না ভেবেই ধর্মকে বাতিল করে দিচ্ছি । এমন হওয়ার কি কোন সম্ভাবণাই নাই যে, আমরা ধর্মের, বিশেষভাবে যারা মুসলিম ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসেছি তারা ইসলাম ধর্মের অলিগলি সব দেখেশুনেই বলছি যে, ইসলাম একটি বিপদজনক মিথ্যা ? ভালো কথা, তিনি হয়তো মনে করতে পারেন আমাদের লেখা দেখে তার মনে হয়েছে আমরা ভালোমত পড়ি নাই । কিন্তু এই মনে হওয়াটা কি উন্নাসিকতা না ? তিনিই একটু আগে বলছেন, একটা বই কি প্রবন্ধ একেক পাঠক একেকভাবে পড়তে পারে । একই বই পড়ে ভিন্ন রকমের স্বিদ্ধান্তে আসতে পারে । তাহলে তিনি নিজে ইসলাম সম্পর্কে পড়ে যে স্বিদ্ধান্তে এসেছেন, অন্যরা সেই স্বিদ্ধান্তে আসে নাই দেখেই তিনি কিভাবে হুট করে বলে দেন, তোমরা ধর্মের বই পড় না, তোমরা ইতিহাস পড় না ।

ওয়েল ওস্তাদ, আমরা ইসলামের অলিগলি সব ভালোমত পড়েই এই স্বিদ্ধান্তে এসেছি যে এটা মানব সভ্যতার জন্য হুমকি । এবং এই স্বিদ্ধান্ত আমরা গিরগিটির মত রং পাল্টিয়ে , ম্যাক্সিমাম জনগোষ্ঠীর মামুবাড়ির আবদারানুভুতির কাছে নত না হয়ে, সরাসরি সৎভাবেই বলতে চাই । আপনার চিন্তাজগতে আলোড়ন হবে দেখে আপনি সেটাকে নরমসরম , সহনীয় করতে বলছেন বটে, কিন্তু তেমন করতে গেলে পৃথিবীর ইতিহাসের কোন ন্যায়ভিত্তিক উন্নতিই সম্ভব হতো না । দাস-মালিকদের অনুভুতি আর সহনশীলতার তোয়াক্কা করতে গেলে দাস ব্যাবস্থা কোনদিনই উঠতো না , পুরুষের সুবিধার জায়গাগুলো নিয়ে সংবেদনশীলতা দেখাতে গেলে এই সমাজ কোনদিনই নারীর জন্য বাসযোগ্য হবে না।

ছোটবেলায় নিম্নবুদ্ধির পোলাপানের মধ্যে একটা জোকস খুব চলতো । হঠাৎ দেখা । সবার সামনে বলে উঠলো, এই তুই নাকি বেলিরে নিয়া বাথরুমে যাস ? প্রথমবার সবার সামনে লজ্জায় লাল হয়ে যাবার কিছুক্ষণ পর বুঝলাম, ও আসলে বেলি বলতে ইংরেজি বেলি অর্থাৎ পেট বুঝিয়েছে ।

আস্তিক নাস্তিক নিয়ে যতীন সরকার এমন নিম্নবুদ্ধির কৌতুক না করলেও পারতেন । তিনি হয়তো এটাকে চটুল ভেবেছেন । কিছু বামপন্থী ভাবুক আবার এই কথার মধ্যে গভীর ভাবার্থও খুঁজে পেয়েছেন, যেমন পিরের মুরিদরা পিরের গুয়ের মধ্যেও নূরের জযবা দেখে। যা আছে তাতে বিশ্বাস করা আস্তিকতা, তাতে বিশ্বাস না করা নাস্তিকতা । মানে এইযে ম্যাটেরিয়াল দুনিয়া আমরা দেখি তাতে বিশ্বাস করাই আস্তিকতা । তাইলে জনাব, নিতান্ত বদ্ধপাগল ছাড়া কাউকে কি পাওয়া সম্ভব, যে নাস্তিক, মানে যে এই চারপাশের দুনিয়াদারীতে বিশ্বাস করে না? ভাষার মারপ্যাঁচের এই স্থূল রসিকতা নিতান্ত বাংলামূর্খ মোল্লাও বুঝবে যে , আপনি নাস্তিক , কিন্তু শিরদাঁড়া সোজা নাই বলে , আমি জগত সংসারের অস্তিত্তে বিশ্বাস করি তাই আমি আস্তিক বলে বাঁচতে চাইছেন। পাছে আবার মৌলবাদী বন্ধুটি কষ্ট পেয়ে যায় যে তার হৃদয়ের গভীরের বিশ্বাসে আপনার বিশ্বাস নাই এই কথা শুনে।

এবার আসা যাক প্রথমে যে বললাম যতীন সরকার ও পারভেজ আলম যে ধীরে ধীরে আলমাহমুদ ও বরবাদ মজহারের সিলসিলায় ঢুকে যাচ্ছেন সে বিষয়ে । কথোপকথনের এক পর্যায় পারভেজ ও যতীন সরকার দুইজনেই এক বিষয়ে একমত হচ্ছেন যে বুদ্ধ, যিসাস ও মোহাম্মদের আন্দোলনকে দাসপ্রথার বিরুদ্ধে ধাপে ধাপের বিপ্লব হিসাবে দেখা যায় । কেনো তারা এরকম ভাবছেন, এর পিছনের মনস্তত্ত নিয়ে আমার কিছুটা পর্যবেক্ষণ আছে । তা হচ্ছে এই অঞ্চলে এবং পৃথিবী গ্রহের বিশাল একটা অংশে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের কোন সফলতা না পাওয়াতে এখন বরং তারা মৌলবাদী, ধর্মোম্মাদ গোষ্ঠীকে তাদের অযৌক্তিক বিশ্বাসের তোষামোদের মাধ্যেম নিজেদের দলে এনে বা নিজেরা সেখানে ঢুকে গিয়ে বিপ্লবের স্বপ্নদোষ দেখছেন, সে কারণে হয়তো । আমি কেবল আমার অভিমত বলতে পারি । তাদের মনের ভিতরের কথাতো আর জানি না ।

কিন্তু বুদ্ধ, যিসাস ও মোহাম্মদের আন্দোলনকে দাসপ্রথার বিরুদ্ধে ধাপে ধাপের বিপ্লব হিসাবে দেখার মধ্যে কিছু মৌলিক সমস্যা আছে। প্রথমটা নিতান্ত বুদ্ধির । আইকিউ পরীক্ষার একেবারে প্রথম দিকে কিছু প্রশ্ন থাকে, যেমন নিচের তিনটার মধ্যে কোনটা অন্যদের চাইতে ভিন্ন সেটা বের করো । গরু ছাগল মুরগি । সামান্যতম বুদ্ধি থাকলে আপনার বুঝা উচিৎ , এর উত্তর মুরগি । বুদ্ধ, জিসাস, মোহাম্মদ এই তিনজনকে দিয়ে প্রশ্নটা করলে , উত্তর হবে মোহাম্মদ। দাসপ্রথা নিয়ে বুদ্ধের তেমন কোন অগ্রগতির কথা আমি শুনি নাই। আরো বিস্তারিত হয়তো তারা পরে বলবেন । জিসাসেরও ঠিক দাসপ্রথা নিয়ে তেমন বড়সড় কোন আপত্তির কথা শুনা যায় নাই । কিন্তু তিনি নিজে দাস কিনেন নাই, বিক্রি করেন নাই । মোহাম্মদকে এই সিরিজে ফালানোটা মৌলিক আইকিউর সমস্যা। মোহাম্মদ নিজে দাসী উপভোগ করেছেন, নিজে দাস বানিয়ে বিক্রি করেছেন। কালেভদ্রে তার মতে দীক্ষা নেয়া কয়েকজনকে তিনি মুক্তি করেছেন। এইটা ঠিক দাসপ্রথার বিরুদ্ধে একটা ফুলের টোকারও মূল্য পায় না।

ইসলামের প্রসারের শুরুর দিনগুলো থেকে শুরু করে, গত শতাব্দীতে শেষমেশ ধ্বংস হওয়া অটোমান খিলাফত পর্যন্ত, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দাস-দাসী ধরে নিয়ে পাইকারি ব্যাবসা ছিলো মোহাম্মদের অনুসারীদের আয়ের অন্যতম একটা বড় উৎস । ব্রিটিশদের ঠ্যাটানি ও লিংকনের অনমীয়নতার কারণে পৃথিবীব্যাপি দাস-ব্যাবসা , লিগ্যালি উঠে গেলেও, মোহাম্মদের অনুসারী আরবরা এখনো কিন্তু বাড়ীর কাজের লোক, কাজের মহিলাদের সাথে ক্রীতদাসের মতই আচরণ করে । ক্রীতদাসের মতই দেখে । কোরানের সেই বিখ্যাত , তোমাদের ডান হাত যাদের ধরে রেখেছে, তাদেরকে লাগানো জায়েজ আয়াতের কথা হয়তো যতীন সরকারের জানা নাই । পারভেজের জানা থাকলেও , সে ধূর্ততার সাথে সেটাকে সময়মত ভুলে যেতে পারে । এটা ঠিক মোহাম্মদের প্রথমদিকের অনুসারীদের মধ্যে দাস ছিলো অনেকে । সেটা সামাজিক স্তরবিন্যাসে এর চাইতে উপরের কারো কাছে তার উদ্ভট দাবী গ্রহণযোগ্য হয় নাই বলেই হয়েছে । দাসরা এমনিতে যে অবস্থায় ছিলো, এমনিতে জীবনের যে নীচু নীচু স্তরে ছিলো, তাতে যেকোন কিছুতেই তাদের বিশ্বাস অবিশ্বাস নিয়ে কারো মাথাব্যাথা ছিলো না । এই কারণে মোহাম্মদের আন্দোলনকে দাসপ্রথার বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র কোন অগ্রগতি ভাবলে, দুনিয়াব্যাপী ব্রিটিশদের উপনিবেশ স্থাপণকে বলা যায় বিশ্বের সবচে বড় চ্যারিটি, সবচে বড় মহানুভবতা । উপনিবেশ স্থাপণকে বলা যায় জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্প-বিপ্লবের সুফল পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার উদার উদ্দেশ্যের বাস্তবায়ন ।

এনিহাউ, ইন্টারনেটের দুনিয়াকে প্রবীণদের এত ভয়ের কারণ হচ্ছে, এখানে আপনার সারাজীবনের অর্জনের কথা ভেবে, লাত্থি উষ্ঠা খাওয়ার মত কথা বললে তাতে লাত্থি উষ্ঠা দেয়া থেকে বিরত থাকবে না এমন ঘাড়ত্যাড়া পোলাপান অনেক বেশি । অন্যান্য বিষয়ে আপনার বলা কথা, আপনার জ্ঞান-প্রজ্ঞা সবকিছুই সম্মানজনক । যেটুকু অংশে লাত্থি উষ্ঠা খাওয়ার মত কথা বলবেন সেটুকু অংশে আপনার প্রাপ্য আপনাকে পেতেই হবে । সামন্ত দুনিয়া এখন আর নাই।

[154 বার পঠিত]