নাস্তিকদের প্রতি এত ঘৃণা কেন? নাস্তিকদের ধর্ম নেই ?

অভিজিতের মৃত্যু আমার জীবনের সব থেকে বড় আঘাত । আমি শুধুই কারন খোঁজার চেষ্টা করছি-ওরা কেন মারল এই নৃশংস ভাবে। ঘৃণা ? তাহলে কেন এত ঘৃণা ? যে বাংলাদেশের মানুষকে ও এত ভালোবেসে গেল, তারা ওর মৃত্যুর পর কেন সর্বত্র লিখে যাচ্ছে নাস্তিকরা নরকের কীট-তাদের ওমন শাস্তি প্রাপ্য! কেন এত ঘৃণা নাস্তিকদের প্রতি যে তাদের মেরে ফেলতে হবে ?

নাস্তিকদের প্রতি ঘৃণা মুসলিমদের একার না । খৃষ্টানরাও মনে করে নাস্তিকরা শয়তান । তবে খ্রীষ্টানরা আধুনিক হয়েছে বলে সেই ঘৃণা খুনের রক্তে রাঙাবে না । হিন্দু ধর্মে নাস্তিক্য ট্রাডিশন ধর্মের অংশ বলে, এই ধর্মে নাস্তিক থাকা অত কঠিন না -তবে সামান্য সমস্যা আছে শ্রাদ্ধ শান্তি ইত্যাদি লৌকিকতা না করলে। লৌকিকতাটুকু করলে, হিন্দু ধর্মে কে নাস্তিক কে আস্তিক তাই নিয়ে কেও মাথা ঘামায় না ।

নাস্তিকদের বুঝতে মুসলমানদের বিরাট ভুল হচ্ছে । হয়ত এটা আমার, আমাদের , মুক্তমনাদের দোষ। আমরা বোঝাতে পারি নি।

মুসলিম, হিন্দু, খ্রীষ্ঠান-সবার জানা উচিত নাস্তিকরাও ধার্মিক। তাদের ও সবার ধর্ম বিশ্বাস আছে। ধর্ম বিশ্বাস নেই এমন লোক পৃথিবীতে থাকতে পারে না । শুধু আমাদের ধর্মে ঈশ্বর নেই -প্রফেট নেই । ধর্মগ্রন্থ নেই ।আছে যুক্তি, বিজ্ঞান, বাস্তবতা । আমরা জীবন , বিজ্ঞান, অভিজ্ঞতা থেকে যা শিখি, তাই দিয়ে তৈরী হয় আমাদের ধর্ম। আমাদের বিশ্বাস ।

আমার নিজের বিশ্বাস- বুদ্ধি, কঠোর পরিশ্রম, আর সততায়। এই তিন বিশ্বাসের পিলার আমার নিজের ধর্ম। আমি নিজের জীবনের প্রতিটা সিদ্ধান্ত এই তিনটে পিলারের ওপর দাঁড়িয়ে নিই। অভিজিতের বিশ্বাস ছিল না ? নিশ্চয় ছিল। ও বিশ্বাস রাখত যুক্তি, বিজ্ঞান এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসায়। সেটাই ওর ধর্ম আর ধর্ম বিশ্বাস। সেই ধর্ম বিশ্বাসেই ও প্রাণ দিয়েছে।

কেন ধর্মগুরু, প্রথাগত ধর্ম ছেড়ে, ধর্মগ্রন্থ ছেড়ে নিজের অধিত বিদ্যায়, অভিজ্ঞতায় বিশ্বাস রাখি?

অন্যের কারন জানি না । নিজেরটা বলার দরকার। ধর্মগ্রন্থ গুলি উইক টেক্সট। সেটা কি? সেটা নিয়ে মুক্তমনাতে আমার একটা দীর্ঘ প্রবন্ধ আছে । তার আগে বুঝুন স্ট্রং টেক্সট কি। যেমন ধরুন নিউটনের সূত্র। এটার দ্বিতীয় কোন ব্যাখ্যা হয় না । পৃথিবীর সবাই নিউটনের সূত্র মানে ওর তিন গতিসূত্র বুঝবে এবং তার গণিতিক রূপ সর্বত্র এক। কিন্ত কোরান বা গীতার ক্ষেত্রে প্রতিটা আয়াতের ব্যখ্যা আলাদা। আল কায়দা, সৌদি, আমেরিকান আর বাংলাদেশের মুসলিম -সবাই এক ইসলাম মানে না । সবাই ইসলামের কোন না কোন ব্যখ্যা মানে। আঠারোশো মিলিয়ান মুসলমানের জন্য মোটেও একটা ইসলাম না । কোন দুই মুসলমান পাবেন না -যাদের কাছে ইসলামের মানে এক।

এতে যেটা হয় ধর্মগুরুরা নিজেদের মতন ব্যখ্যা দেয়। ভাল লোক হলে, তার ইসলাম ভাল হয়। খারাপ লোক হলে তার ইসলাম খারাপ হয়। হিন্দুদের এই ভাবে আছে অসংখ্য ধর্মগুরু। কিছু ভাল । অধিকাংশ খারাপ।

তারমানে ধর্মগ্রন্থ মানেই তার সবটা খারাপ এটা মনে করি না । যেহেতু এগুলো উইক টেক্সট, কেও যদি উন্নত মানবিকতার হয়, সে ধর্মগ্রন্থগুলো থেকে মানবিক দিকের সন্ধান পাবে, যে রাজনীতিবিদ, সে ধর্মগ্রন্থগুলিকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করবে। আমি নিজেও দিনরাত উপনিষদ, গীতা, কোরান, ধর্মপাদ, জৈনসূত্র , মহাভারত পড়ি। শুধু লেখালেখির কারনে এই পড়াশোনা তা না। এসবের মধ্যে থেকে এমন কিছু পাব, যা জীবনের কাজে আসবে, সেই আশাতেই পড়ি। ঠিক একই ভাবে সান জুর আর্ট ওব ওয়ার ও পড়ি। এর মধ্যে যা কাজের মনে হয়, সেটা জীবনে কি ভাবে কাজে লাগানো যায় সেটাও ভাবি। উপনিষদের গল্পগুলো আমার জীবনের সব থেকে বড় স্ট্রেস রিলিভার। প্রচন্ড কাজের চাপে থাকলে, আমি কোটিকর্ন এবং অষ্টবক্রর গল্পে মুখ গুঁজি। কারন তা এই পার্থিব বাস্তবতা থেকে -এর বাইরেও যে একটা রিয়ালিটি আছে, সেই চেতনাকে সামনে এনে আমার অহংকার কমায়।

কিন্ত এর জন্যে কেন আমাকে হিন্দু মুসলমান হতে হবে ? ঈশ্বরে বিশ্বাসী হতে হবে? এই ত বেশ ভাল আছি-সব ধর্ম বিজ্ঞান দর্শন থেকে, যা মনে হয় জীবন পাথেয় তা সংগ্রহ করি-যদি জীবনের কঠিন সময়ে কাজে লাগে!!

নাস্তিকেরা কি অবাধ যৌন জীবনের পরকীয়ার লাইসেন্স খোঁজে ? তারা কি ছেলে মেয়ের যত্ন নেয় না ? আত্নসুখী? এরকম নাস্তিক দেখেছেন কখনো? নাস্তিক বা আস্তিক। আমরা সবাই বায়োলজিক্যাল। ছেলে মেয়ে মানুষ করতে হবে-এটা কি ধর্ম শেখায়? এটা ত আমাদের ডিএন এতে আছে!! অভিজিত রায় বা আমি কি অন্য কোন মুসলমান বা হিন্দু বাবার থেকে আলাদা? তৃষার জন্য অভিজিতের যে চিন্তা, আমার মেয়ের জন্য আমার যে চিন্তা-সেটা কি কোন মুসলমান বা হিন্দু বাবার থেকে আলাদা? না আমরা নাস্তিক বলে আমাদের ছেলেমেয়েদের কম ভালোবাসি? আরে বাবা এটা আমাদের সবার মধ্যের একটা জৈবিক দায়িত্ব। বাবা হিসাবে আমরা আস্তিক নাস্তিক সবাই এক । তাহলে আমরা কি করে নরকের কীট হলাম ??

অনেকেই বলবেন, মশাই আপনি রামকৃষ্ণ মিশনে পড়েছেন, তাই আপনি নাস্তিক হলেও আচরনে আস্তিকদের মতন রক্ষণশীল। বাকী নাস্তিকরা না । সেই যুক্তিও হাস্যকর । পরকীয়া, অবাধ যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়ার লোক আস্তিক নাস্তিক দুই ক্যাম্পেই আছে। খুনী, অপরাধি দুই ক্যাম্পেই আছে। আস্তিক নাস্তিক দিয়ে লোক বিচার করতে যাবেন না । একটা লোক ভাল অথবা খারাপ। ভাল নাস্তিক, খারাপ নাস্তিক যেমন আছে-ভাল মুসলমান, খারাপ মুসলমান ও আছে।

অভিজিত রায় নাস্তিক-তাই দিয়ে অভিজিতকে মাপলে আপনাদের সব থেকে বড় ভুল হবে। একজন মুসলমানকেও যদি আমি এইভাবে মাপি যে ও মুসলমান তাই ও ফারাবী বা ওসামা-তাহলেও সেই একভুল হবে। লোকটাকে দেখুন। দেখুন সে দেশ, সমাজ, পরিবারকে কত ভালোবাসে??

আমার বোনকে বলছিলাম- বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে এত বড় ভুল অভিজিত করলো -আমি ভাবতে পারছি না । আমার বোন বরং বললো, যারা দেশকে মাতৃভূমিকে এত ভালবাসে তারা ভুল ঠিকের হিসাব করে না । করলে কোন দেশ নেতাকে আমরা পেতাম না যারা জেল খেটে প্রানের বিনিময়ে স্বাধীনতা এনেছে। অভিজিত রায় সেই পর্যায়ের একজন মহান ব্যক্তি। আস্তিকতা নাস্তিকতা দিয়ে এই মহান প্রানের হিসাব করা যায় না । তাজুউদ্দিন একজন ধর্মপ্রান মুসলিম ছিলেন। আমি নাস্তিক- কিন্ত তাও আমি বলবো উনি আমার জানা সেরা বাঙালী রাজনীতিবিদ। লেনিন, স্তালিন নাস্তিক রাজনীতিবিদ ছিলেন। নাস্তিকতার জন্য আমি তাদের তাজুউদ্দিনের থেকে বেশী পছন্দ করবো? মোটেও না । আস্তিকতা নাস্তিকতা না -আমি একজন ব্যক্তিকে মুল্যায়ন করবো-তার কাজের ভিত্তিতে। তার সততার ভিত্তিতে।

আমি ব্যবসায়ী লোক । বুদ্ধিজীবিদের মতন পড়াশোনা, পান্ডিত্য, থিওরী-কোনটাই আমার নেই । আমি শুধু জানি ব্যবসা চালাতে প্রতিটা মুহুর্তে অসংখ্য সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আর সেই সিদ্ধান্ত গুলি যুক্তি বুদ্ধি দিয়ে না নিয়ে, আল্লা বা ঈশ্বরের ভরসায় নিলে ভরাডুবি অবসম্ভাবী। তাতেও অনেক ভুল হয়। কিন্ত তখন ঈশ্বরের কাছে নালিশের সুযোগ থাকে না । যেহেতু আমার ভুল, ওটার দ্বায়িত্ব আমাকেই নিতে হয়। ঠিক এই জন্যে আমার নাস্তিক থাকা ছাড়া উপায় নেই ! ঠিক এই জন্যেই আমেরিকার টপ সি ই ও দের বা এদেশে ব্যবসার নেতৃত্ব স্থানীয় লোকেদের ৯০% নাস্তিক বা নিধার্মিক। আমার কাছে এটা শখ বা ফ্যাশন না । প্রতিযোগিতার মার্কেটে টিকে থাকার জন্য সব থেকে গুরুত্বপূর্ন একটা প্র্যাকটিস।

এখন বলতেই পারেন টাকার জন্য তাহলে ঈশ্বর ত্যাগ?? তাহলে ত আপনি সেই নরকের কীটই হইলেন?

নারে ভাই টাকার জন্য আমি ব্যবসায় আসি নি। আমি স্বাধীনচেতা লোক, কারুর অধীনে কাজ করা, চাকরি বাকরির অধীনতা পোষায় না । স্বাধীন ভাবে, মুক্তচিন্তা নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য, আমি নাস্তিকতার চেয়ে আর ভাল কোন পথ পাই নি। তাই আমি নাস্তিক। নরকের কীট নই। আমার দুই ছেলে মেয়ে-তারা যাতে ভাল নাগরিক হয়ে গড়ে ওঠে সেটাই আমার উদ্দেশ্য। সেখানে আমি, আপনি-কোন ধর্মের লোক, রাজনীতির লোক আলাদা হতে পারে না । তাহলে এত বিভেদের রাজনীতি কেন?

আমি মোটেও বলছি না আপনি নাস্তিক হৌন। বলছি না ইসলাম ভুল না ঠিক। আমার কাছে বহুদিন থেকে ইসলাম, হিন্দু, নাস্তিকতা, কমিনিউস্ট সব ফালতু। ভাল মানুষ হওয়া অনেক বেশী জরুরী।

মুসলমান, হিন্দু, কমিনিউস্ট, নাস্তিক অনেক পাওয়া যায়রে ভাই। ভাল মানুষ পাওয়া যায় না -যার হৃদয় আছে, মনন আছে, মানুষকে ভালোবাসতে পারে। অভিজিত রায় ছিল সেই বিরল মানুষ।

About the Author:

আমেরিকা প্রবাসী আলোক প্রযুক্তিবিদ ও লেখক।

মন্তব্যসমূহ

  1. বিপ্লব পাল মার্চ 5, 2015 at 7:29 অপরাহ্ন - Reply

    এই লেখাটা পড়ে একজন মুসলিমের সাথে আমার চ্যাটে কথপোকপন দেখুন-তার নিরাপত্তার জন্য, আমি আই ডি দেখালাম না –এই ছেলেটি এক সময় ফারাবি গংদের সাথে মিশে গিয়েছিল। আমার সাথে তর্ক করতে এসেছিল তিনমাস আগে। আমি ওকে মুক্তমনার লিংক দিয়েছিলাম, আরো কিছু লিং দিয়েছিলাম। বলেছিলাম, চারিদিতে লোকে এত মিথ্যে রটায়, আগে নিজে নিজে গুগল করে, সত্যটা আবিস্কার কর। সত্যটা কি আমি বলবো না। আমি শুধু বলবো-তোমার বুদ্ধি আছে-সব সোর্স ঘাঁট। নিজেই সত্যে পৌছবে-সেই ছেলেটির সাথে আমার কাল চ্যাট- প্লিজ সবাই পড়ে দেখবেন। তাহলেই ফারাবী গঙদের আসল সমস্যা বুঝতে পারবেন।

    ছেলেটি>>
    tobe ami ekhon half atheist & half Muslim.

    Biplab Pal
    3/3, 6:42am
    Biplab Pal
    does not matter–tomake ekjan valo manush hate habe
    atheist, muslim hindu esab arthohin sadhana
    valo manush howata ekmatro uddesho howa uchit
    tar janne sahas lage, buddhi lage, honest thakte hoi

    ছেলেটি>>
    3/3, 6:43am
    ছেলেটি>>
    amar jiboner dharati apni , mahakal o faruk islam change korechhen.

    Biplab Pal
    3/3, 6:43am
    Biplab Pal

    Thank you

    ছেলেটি>>
    tobe ekhono amar mone ektu sahaser obhab achhe.

    Biplab Pal
    3/3, 6:45am
    Biplab Pal
    sahas ase buddhi aar honesty theke
    if you are honest and intelligent, courage will follow you

    ছেলেটি>>
    apni janen na apnar onek post porechhi, kintu comment ba like korini… tobe moulobadir voye kichhu bolte parini.

    Biplab Pal
    3/3, 6:47am
    Biplab Pal
    oder atkate aar tin mas lagbe

    ছেলেটি>>
    bujhlam na?>

    Biplab Pal
    3/3, 6:47am
    Biplab Pal
    USA and BD Govt will follow each of them for potential terrorism

    ছেলেটি>>
    eti toh onek ager theke achhe, kintu kichhu toh hochchhe na.

    Biplab Pal
    3/3, 6:48am
    Biplab Pal
    this death will make it happen
    watch and see

    ছেলেটি>>
    tobe ekti kotha bolbo, apnar kothai i ami muktomana blog guli niye besi porasuna arambho korlam.

    Biplab Pal
    3/3, 6:50am
    Biplab Pal
    good
    open your mind

    ছেলেটি>>
    kichhu din age, amar gramer ek moubi amar name bibhinno mittha chorate thake..
    karon holo amai sothik kotha bolte je arambho korlam.

    Bইপ
    osab oder ke voi pawar karon nei..but dont hurt anyone

    ছেলেটি>>
    tobe amake onek kichhu porte hobe, onek kichhu jante hobe.

    Biplab Pal
    3/3, 6:51am
    Biplab Pal
    we all need to do that

    ছেলেটি>>
    oplo gane nastik hoya jai na, kintu nastik hoyar age valo manush hoya khubi joruri..
    ei kothati amar ek fb bondhu bolechhe.
    onek kichhu bolar thake kichu sahas hoi na.
    moulobadir voye..
    apnake osonkho dhonnobad – amake ondhokar theke alote niye ashar jonno.

  2. অতঃপর জুবায়ের মার্চ 5, 2015 at 4:24 পূর্বাহ্ন - Reply

    সকল চিন্তার অবসান ঘটিয়ে মুক্তচিন্তারর বিকাশ ঘটবেই একদিন ।

  3. অনির্বাণ মার্চ 4, 2015 at 11:52 অপরাহ্ন - Reply

    অভিজিৎ রায়দের মৃত্যু হয় না। অভিজিৎ রায়দের মারতে পারে এমন শুয়োয়ের বাচ্চা পৃথিবীতে জন্মায়নি, ভবিষ্যতেও জন্মাবে না। ঈশ্বরের নামে, ধর্মের নামে যারা মধুচক্র চালাবে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই জারি থাকবে। বৈষম্যমূলক ও শোষণমূলক সমাজে থাকে নানা ধরনের অসুস্থ্ নিষ্ঠুর উপসর্গ যা কোনো অনুভূতিশীল মানুষের মন বেদনার্ত করে তুলবে। এই বেদনাই ধর্মের বিরুদ্ধে কলম ধরতে আমাদের মধ্যে প্রেষণা সৃষ্টি করে। অভিজিতের সঙ্গেই থাকতে হবে। অভিজিতের পথই আমাদের পথ। এই পথ দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর করার লক্ষ্যে আমাদের সংগ্রাম। রিলে করে করে বাটনটা হাতে তুলে নিতে হবে আমাদের। যুদ্ধ শুরু। যাঁরা মুক্তমনে লেখালেখি করেন তারা সশস্ত্র হয়ে থাকুন সবসময়। আততায়ীর মুখোমুখি হলে মোকাবিলা করুন। পালটা জবাব দিন। ওরা যুক্তিবাদীদের দুর্বল ভাবে, নিরস্ত্রের সুযোগ নিয়ে সদব্যবহার করে। আত্মরক্ষার অধিকারকে প্রাধান্য দিন। শুধু কলমে নয়, প্রয়োজনে অস্ত্রেও গর্জে ওঠা আয়ত্ত করতে হবে। শুধুই প্রতিবাদ নয় — ফিরিয়ে দিতে হবে প্রত্যাঘাত, গড়ে তুলবে প্রতিরোধ। দেশ-জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে। মৌলবাদের কোনো দেশ নেই, কোনো জাতি নেই, কোনো ধর্ম নেই।
    যেসব আস্তিকগণ সব পাপকর্ম সম্পন্ন করে ঈশ্বরের ঘাড়ে চাপিয়ে দেন, আমাদের লড়াই তাদের বিরুদ্ধে জারি থাকবে। আস্তিকগণদের কাছে আমার একটাই বিনম্র আবেদন, বিশ্বে একটাই ধর্ম করুন। পারবেন ? যতদিন পৃথিবীতে হাজার একটা ধর্ম থাকবে ততদিন ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। সেই ‘একমেব’ ধর্ম নিয়ে আমরা একটি প্রশ্নও তুলব না। ঘরে বসে নিরাপদে থেকে ন্যাজ নাড়াতে নাড়াতে ডায়লগ মারা ছাড়ুন। কিছু করুন, কিছু করে দেখান। পৃথিবীতে একটিমাত্র ধর্ম চাই। হিন্দু-মুসলিম-খ্রিস্টান-বৌদ্ধ জাতীয় কোনো ধর্মই থাকবে না। সারা পৃথিবীর ৭০০ কোটি মানুষ একই রকমের ধর্মাচরণ করবে। ভিন্ন ধরনের নয়। ঈশ্বর থাকবে হয় নিরাকার, নয় আকার। হাজার ধারণায় নয়। আইন বা নিষেধাজ্ঞা একটাই থাকবে। হয় ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা, নয় রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞা। দুটোই একসঙ্গে চলতে পারে না। আপনাদের ঈশ্বরের কাছে এই নিয়েই দরবার করুন। পৃথিবীতে শান্তি আসবে। ধর্মের কারণে পৃথিবী আর রক্তস্নাত হবে না। যদি না পারেন তাহলে পৃথিবী জুড়ে যেসব ধর্মের কারণে হত্যা হয়েছে, হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে হবে সেসবের সব দায় আপনাকে নিতে হবে।
    আমরা কেউ কেউ চেষ্টা করলে ডাক্তার হতে পারব, চেষ্টা করলে ইঞ্জিনিয়ার হতে পারব, চেষ্টা করলে বৈজ্ঞানিক হতে পারব, আমরা চেষ্টা করলে পাইলট হতে পারব, আমরা চেষ্টা করলে মৌলবাদী হতে পারব, আমরা চেষ্টা করলে হিন্দু থেকে মুসলমান হতে পারব – মুসলমান থেকে হিন্দু হতে পারব, আমরা চেষ্টা করলে নেতা হতে পারব, অভিনেতাও হতে পারব — কিন্তু হাজার চেষ্টা করলেও অভিজিৎ রায় হতে পারব না। অভিজিৎ আমার পথপ্রদর্শক, অভিজিৎ আমার প্রেরণা, অভিজিৎ আমার আকর। শুধু অভিজিৎবাবুই নয়, বন্যাকেও আমরা মনে রাখব একসঙ্গে। কারণ বন্যাও ভণ্ড ধার্মিকদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের শরিক। আমাদের সহযাত্রী। অজয়বাবুকে আমার কোটি কোটি প্রণাম। “মুক্তমনা” চলুক টগবগিয়ে, বিশ্বজয়ে। আমরা আগের মতোই ঢুঁ দেব, পাঠ করব, ঋদ্ধ হব। বন্যাও থাকুক, বন্যাও লিখুক। প্লাবিত করুক আলোর বন্যায়। খ্রিস্টানদের স্বপ্ন যদি সমগ্র পৃথিবীর ৭০০ কোটি মানুষ খ্রিস্টান বানানো ন্যায্য হয়, মুসলিমদের স্বপ্ন যদি সমগ্র পৃথিবীর ৭০০ কোটি মানুষ মুসলিম বানানো ন্যায্য হয়, হিন্দুদের স্বপ্ন যদি সমগ্র পৃথিবীর ৭০০ কোটি মানুষ হিন্দু বানানো ন্যায্য হয়, খ্রিস্টানদের স্বপ্ন যদি সমগ্র পৃথিবীর ৭০০ কোটি মানুষ খ্রিস্টান বানানো ন্যায্য হয়, বৌদ্ধদের স্বপ্ন যদি সমগ্র পৃথিবীর ৭০০ কোটি মানুষ বৌদ্ধ বানানো ন্যায্য হয় – তবে অবশ্যই নাস্তিক চিন্তাশীল মানুষরাও স্বপ্ন দেখবে সমগ্র পৃথিবীর ৭০০ কোটি মানুষকে নাস্তিক বানানোর এবং অবশ্যই সেটা ন্যায্য হয়। দেখছিলাম কতিপয় ধর্মান্ধ ব্যক্তি রাস্তায় “নাস্তিকদের ফাঁসি চাই” লিখে দাবি জানাচ্ছে, নাস্তিকরাও বলুক ওইসব ধর্মান্ধ “আস্তিকদের ফাঁসি চাই”। কেনই-বা ফাঁসিতে ঝোলানো হবে নাস্তিকদের ? নাস্তিকতা কোনো অপরাধ হতে পারে না। নাস্তিক্যবাদীরা অপরাধী হলে আস্তিক্যবাদীরাও সমান অপরাধী। কোনো আস্তিক কোনো ধর্মকে শ্রেষ্ঠ বলছে মানে বাকি সব ধর্মকে নিকৃষ্ট বলছেন — এই নিকৃষ্ট বলার অপরাধেই সেইসব আস্তিকদের ফাঁসি হওয়া উচিত। আস্তিকদের এই ধারণাই বিশ্বজুড়ে রক্তপাত ঘটায়। যাঁরা রক্তপাত ঘটান তাঁরা দীর্ঘজীবন লাভ করবেন, আর যাঁরা মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে আনার চেষ্টা করে চলেছে নিরন্তর, তাঁদের ধরে ধরে ফাঁসি দেবেন। বাঃ। মধুচক্রে উঁকি মারা মানা যে ! আস্তিকগণ মনে রাখুন, নাস্তিকদের বাঁচার অধিকার আছে, যতটা অধিকার আপনাদের। তাদের ফাঁসি চাওয়ার কে তোমরা ? তাদেরকে তাদের মতো বাঁচতে দাও। মানুষকে ভালবাসাই ধর্ম, এর বাইরে আর কিছু বলার নেই ।

  4. ভীতুর ডিম মার্চ 4, 2015 at 6:25 অপরাহ্ন - Reply

    শুধু মানুষ কেন , এই বিশ্বের প্রতিটি কণার ধর্ম আছে । সেই হিসাবে নাস্তিকেরও ধর্ম আছে । আমি নাস্তিক কিন্তু আমিও ধার্মিক । ধর্ম মানে কিছু কাগজের লিখন নয় , যা মেনে চললেই ধার্মিক হওয়া যায় ।আর না মানলেই নরকের কীট ! মানুষের ধর্ম মানুষের মানবিক গুণ , যা মানুষকে অন্য প্রাণীর থেকে আলাদা করে । তাই প্রতিটি ধার্মিক কে অনুরোধ …
    আসুন অস্ত্র ছেড়ে কলম ধরুন ! দেখুন এতে কত সুখ , এতে কত আনন্দ !
    এটা আপনাদের চাপাতিকে ভয় পেয়ে কাকুতি মিনতি নয় … এটা মানব ধর্মের আজান ।।

  5. মুহাইমীন মার্চ 4, 2015 at 3:24 অপরাহ্ন - Reply

    এই ধরনের লেখাই এখন এই মুহুর্তে দরকার। মডারেট মুসলিমদের যুক্তিবাদ এর প্রতি আগ্রহ তৈরী করতে হবে। নাস্তিকতা, বিজ্ঞান, ধর্ম কি সেটা আস্তে করে কাধে হাত বুলিয়ে শেখাতে হবে। নাহলে মুসলিম সমাজের পরিবর্তন করা যাবে না।

  6. বিপ্লব পাল মার্চ 4, 2015 at 9:05 পূর্বাহ্ন - Reply

    আমার লেখাটি ভাববাদি। আমি জানি মিলিটান্ট এথিস্টরা এই ভাববাদি লেখায় খুশী হবেন না । কিন্ত তাদের জন্য এই লেখা না । এই লেখার মাধ্যমে আমি মুসলমানদের মধ্যে যে মডারেট শ্রেনীটি আছে তাদের কাছে পৌছানোর চেষ্টা করছি। আমি সম্পূর্ন ভাবেই মুসলিম সমাজের কথা ভেবেই লিখেছি এই লেখা। যাতে ডায়ালোগের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়।

    • Salina মার্চ 5, 2015 at 5:00 পূর্বাহ্ন - Reply

      @বিপ্লব পাল,
      নাস্তিকের কি ধর্ম নাই ? আপনার প্রশ্নটা সবার জন্যই কিন্তু প্রযজ্য । ধর্মের অন্ধত্ত পৃথিবীতে থাকুক আর নাই থাকুক আমাদের মানুষের চিন্তার সীমাবদ্ধতা সব্ সময়ই থাকবে । আমাদের যার যার গন্ডির বাইরের কোনো কিছুই আমরা সহজে গ্রহণ করি না । হাজারটা প্রশ্ন করি, আমরা ভয় পাই । আমরা যারা সাধারণ তারা তো আরো না। সেটা শুধুই কি ধর্ম নিয়ে? তবে এটা ঠিক ধর্ম নিয়ে যে কোনো আলোড়ন তোলা খুবই সহজ । কারণ মানুষের চিন্তার যেখানে শেষ ,সেখান থেকেই বিশ্বাসের শুরু । আমি অন্য কথায় চলে যাচ্ছি- ক্ষমা করবেন । আপনারা মুক্তমনা , জ্ঞান -বিজ্ঞানের চর্চা করেন। তাই আমার এখানে কিছু বলতে ভয় হছেনা। আমার মনে হয় আমি কি বলতে চাচ্ছি , সেটা বোঝার চেষ্টা করবেন । দেখুন মানুষ একটা জায়গায় গিয়ে যখন অসহায় বোধ করে , শুন্যতা আসে – তখন ধর্ম অবলম্বন করে অধিকাংশ মানুষ বাচতে চায় । আপনাদের সৃষ্টিকর্তাকে না মানার মত মানসিক বলিষ্ঠতা আছে , আপনাদের কে আমি হিংসাই করি। আপনাদের পরিবার, পারিপার্শিক পরিবেশ কিংবা ব্রেন কেমিক্যালস – সব মিলিয়ে এইটা আপনাদের জন্য সহজ। কিন্তু কি ভাবে আশা করেন লক্ষ লক্ষ মানুষ একই ভাবে চিন্তা করতে পারবে ? আমি যখন দেখি মৃত প্রায় সন্তানকে আকড়ে ধরে এলো চুলে একজন মাকে বিড়বিড় করে দোআ পড়তে – ভাবি ভাগ্গিস ধর্ম ছিল । ক্ষতি কি এই অবলম্বন টুকু সত্য কি মিথ্যা তা নিয়ে তর্ক না তুললে ? নাস্তিকতার তত্ত্ব কথা কিংবা মৌলবাদীর চোখ রাঙ্গানি , কোনো কিছুই কি তাকে পরশ করবে আর ?

      আমার ছেলে যখন ১৬, একদিন আমাকে বলল সে নাস্তিক । চোখে তার পানি – কিছুটা ভয়ে আর কিছুটা মা কে কষ্ট দিচ্ছে ভেবে । আমি ওকে একটাই কথা বলেছিলাম – বাবা তুমি যাই হও আমার তাতে কোনই অসুবিধা নাই, আমার অসুবিধা সেখানেই যদি তোমার জ্ঞানের অহংবোধে তুমি একটাও মনে আঘাত কর , যেমন মৌলবাদীরা আঘাত করে তাদের অতিরিক্ত বিশ্বাসের অহংবোধ দিয়ে বাকি সবাইকে। সেদিন আমার ছেলের কাছে আমি শিখেছিলাম কেন মৃতু দন্ড তুলে দিযা উচিত । ধরেন , হত্যাকারী ধরা পড়ল- কি হবে তার বিচার ?

      আমি সহনসীলতা আর সহ-অবস্থানে বিশ্বাস করি । তাই আমার নিজের হাজারটা প্রশ্ন এখন ।আমিও নিজের তৈরী ধর্ম আর জীবন দর্শন দিয়ে চলি , কিন্তু তা বলব না কাওকে কারণ এমনি তেই অনেক মতবাদ । আর মতবাদ দিয়ে বিভেদ কেন ? পৃথিবীর সভ্যতা যুগ যুগ ধরে একটা জায়গায় গিয়ে তারপর ধংশ হয়ে যায় । আমরা যার যার পারসেপশন কে যদি ভাবি ধ্রুব সত্য তা হলে তো এই ধ্বংস কেও আটকাতে পারবেনা । আপনারা মুক্তমনা ,হয়ত অহংবোধ আর আবেগ যদি নিজেদের বসে রাখেন আপনারাই অনেক উত্তর দিতে পারবেন । আমার পরিসর খুবই ছোট – রাধার পরে খাওয়া আর খাওয়া আর পরে রাধা , তবুও আমি আমার নাস্তিক ছেলে আর অনেক কট্টর ধার্মিক আত্তীয় – বন্ধু নিয়ে ভালই আছি।

      গত কিছু দিন ফেসবুকে এত পোস্টিং দেখছি যে আমি কৌতুহল না হয়ে পারলাম না । শুধু মাত্র গোটা কতক পোস্টিং দেখে কিছু মানুষের মতবাদ কে ভালো না মন্দ – বিচার করার আমি কে ? আপনি সাধারণ মুসলমান দের কথা বলছেন ? আমরাই তো সংখ্যায় বেশি তাই না? তার মধ্যে আমাদের মা-বাবারা আছেন , আমাদের নানা-নানী দাদা-দাদীরা আছেন — আমার মত লক্ষ মানুষ আছে । আমি আপনাকে বলতে পারি এই চির পরিচিত মানুষরা কেউই বলবেনা — অভিজিত রায়ের মত একজন কে তার নাস্তিকতার জন্য হত্যা করাটা ঠিক হয়েছে ।একজন অপরিচিত নাস্তিক যতখানি হতভম্ব হয়েছেন এই খবরে আমরাও ততখানিই হয়েছি । আমি তার আত্মার প্রতি আমার শ্রদ্ধা জানাই।

  7. শফি আমীন মার্চ 3, 2015 at 6:44 অপরাহ্ন - Reply

    হত্যাকারী কাপুরুষগুলোও একদিন মরবে, স্বর্গের সব আশ্বাস মিথ্যে হবে, মর্ত্যেও কেও মনে রাখবে না ওদের আদর করে। কি নিদারুন নিষ্ফল জীবন ওদের, ওরা না জানলেও আমরা জানি। আর আরো জানি, অভিজিতরা হারে না, অভিজিতরা মরেও না, ওরা অমর, এটা প্রকৃতিরই বিধান, প্রকৃতিরই ইচ্ছা।

  8. বিপ্লব রহমান মার্চ 3, 2015 at 6:11 অপরাহ্ন - Reply

    সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অভি দা’র মরদেহ আনা হয়েছিল। টিভিতে লাইভ দেখাচ্ছিল। ইচ্ছে হচ্ছিল ছুটে যাই, কফিনটি একবার ছুঁয়ে দেখি। …

    আবার ভাবলাম, কি লাভ! শুধু শুধু কষ্ট বাড়বে। টিভি স্ক্রিনে অজয় স্যারের ক্রন্দনরত চেহারাটা দেখে বুকের ভেতর মুচড়ে উঠলো!

    ঠিক এই সময় ফোন করলেন মুক্তমনার ব্লগার মাহফুজ ভাই। আরো পরে আরেক ব্লগার আফরোজা আপা। টিভি দেখেই তারা ফোন করেছেন। আফরোজা আপা আরেকটু হলেই কেঁদে ফেলতেন।

    তাদের বলেছি, পান্ডুলিপি পোড়ে না। প্রকৃত লেখকের মৃত্যু নেই। মৃত্যু নেই মুক্তচিন্তার। আমরা প্রত্যেকেই এখন একেকজন অভিজিৎ। বলা ভালো, আমিই অভিজিৎ। মৌলবাদের নাতি, এসো লড়বে যদি… :good:

  9. শুভেন্দু পাল মার্চ 3, 2015 at 11:20 পূর্বাহ্ন - Reply

    আমি খালি একটা কথাই বলব হিন্দুরা মুসলিমদের মত অত উগ্র ও ধর্মান্ধ নয়। হিন্দুরাও যদি মুসলিম দের মত ধর্মান্ধ ও সাম্প্রদায়িক হত তাহলে ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা কমতেই থাকত, বাড়ত না। পিকের মত মুভি করেও আমির খানকে কেউ একটা হত্যার হুমকিও দেয় নি। মুসলিম প্রধান দেশে এইরকম ইসলাম বিদ্বেষী মুভি বের করলে পরিচালক ও অভিনেতাদের কল্লা উড়ে যেত।

  10. কেশব কুমার অধিকারী মার্চ 3, 2015 at 8:37 পূর্বাহ্ন - Reply

    বিপ্লবদা,

    অভিজিৎ দা আর নেই! উনি কতো ভালো ছিলেন সে কথা আজ ওদের বুঝিযে লাভ নেই। কিন্তু অভিজিৎ দা যে আলো টুকু জ্বেলেছিলেন তা আছে। এখন কাজ হলে সেটাই হবে সেই আলোটুকু ছড়াতে হবে। অন্ধকে নিভে যাওযা প্রদীপে আলো ছিলো কিনা বুঝিয়ে কি লাভ? অন্ধ তো আগেও অন্ধ এখনো অন্ধ! তাই না আস্তিক-নাস্তিকের প্রশ্ন আসছে। আসল কথা তারা বেমালুম জানে যে, তারা জানে যে, তাদের দর্শন মানে ধর্মীয় দর্শন হলো নির্বোধ পশুদের জন্যে প্রযোজ্য! আর তাই নির্বোধ পশুর মতোই তারা ঝাপিয়েছিলো একজন মানুষের উপড়ে! কল্পনা করুন না ন্যশনাল জিওগ্রাফিকের হায়েনাদের হরিন শিকারের চিত্রটা! আপনি কি মনে করেন তারা তাদের কৃত অপরাধের কথা জানেনা? ভুল করে করেছে? এখন শুধু দোহাই খুঁজছে, যুক্তি ওদেরও লাগে। এ হলো কৃতকর্মের সপক্ষে যুক্তি! তো জানোয়ারেরা জানোয়ারবিদ্যা রপ্ত করেছে এক পশু লালন-পালন গ্রন্থ থেকে! যা শিখেছে তা তো ঠিক শিখেছে! নাকি? কাজেই সে রকম আচড়ণ করেছে! ওদের দোষ দিয়ে কি হবে? বরং ভাবুন জগৎ জুড়ে এইযে কোটি কোটি মানুষ এইসব পশুপালন গ্রন্থ থেকে বিদ্যা নিচ্ছে সেই পশুপালন গ্রন্থগুলো থেকে কিকরে মানুষ গুলোকে ফেরানো যায়। সেটা বরং কাজের কাজ হবে।

    • বিপ্লব পাল মার্চ 3, 2015 at 9:26 পূর্বাহ্ন - Reply

      @কেশব কুমার অধিকারী,
      আমি ওই ফারাবী টাইপের লোকেদের কথা ভেবে এই ব্লগ লিখি নি। আমেরিকাকে যখন বাংলাদেশ এই তদন্তে গ্রহণ করেছে, এই সব উটকো জঙ্গি গ্রুপগুলোর সব লোক দু দিন মাসেই ধরা পড়বে। বাংলাদেশে জঙ্গীদের দিন শেষ। জাস্ট অপেক্ষা করুন। কারন জঙ্গী শেষ না হলে হাসিনা শেষ হবে। দুটোর একটা হবে। আমেরিকাকে পাশে দরকার ছিল। হাসিনা সেটা পেয়ে গেছে। এখনো যদি হাসিনা ক্রস ফায়ারে এই আগাছা গুলো শেষ করতে না পারে, হাসিনাও অভিজিতের মতন মারা যাবে জঙ্গীদের হাতে। এতদিন বাংলাদেশের হাতে প্রযুক্তি ছিল না। এখন এসে গেছে।

      ওদের জন্য আমি চিন্তিত না। আমি ফেসবুকে দেখছি সাধারন মডারেট মুসলিমরাও অভিজিত মৃত্যু সমর্থন করছে কারন ও নাস্তিক। সেটা সহ্য করা আরো কঠিন হচ্ছে। এরা জঙ্গী না। আমার ব্লগ এদের জন্য।

    • বিপ্লব পাল মার্চ 3, 2015 at 10:14 পূর্বাহ্ন - Reply

      @কেশব কুমার অধিকারী,

      তো জানোয়ারেরা জানোয়ারবিদ্যা রপ্ত করেছে এক পশু লালন-পালন গ্রন্থ থেকে! যা শিখেছে তা তো ঠিক শিখেছে! নাকি? কাজেই সে রকম আচড়ণ করেছে!

      ৯৯% লোক ধর্মগ্রন্থ পড়ে না। বুচারি বা নৃশংসতাতে হিন্দুরা বা কমিনিউস্টরাও কম যায় না। গত বছর মে মাসে সাদেক আলি নামে এক আই টি কর্মীকে পিটিয়ে মারে হনুমান সেনারা মহারাষ্ট্রএ । অপরাধ? শিবাজিকে নিয়ে সে ফেসবুকে কটুক্তি করেছিল। সিপিএমের লোকেরা নৃশংসভাবে খুন করেছে তাদের জমানায়। এই নৃশংসতা শুধু ইসলামিস্টদের এটা অতিসরলীকরন হবে।

      ধর্মগ্রন্থ পড়েই কেও নৃশংস হয় না। সেই অর্থে গীতা কোরানের থেকে আরো অনেক ভয়ংকর।

      কিন্ত মুসলমানরা আরো সহিংস ঐতিহাসিক ভাবে এর কারন ইসলামের জন্ম আরবের অসহিষ্ণু সমাজ থেকে। সেটা অবশ্যই সময়ের সাথে সাথে সহিষ্ণু হবে। চরম দুর্ভাগ্য এই যে অভিজিতের মতন আরো অনেক প্রান হয়ত যাবে এই সমাজকে আলোর পথ দেখাতে। এখন সেটা যাতে না হয়, তার জন্য অবশ্যই আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এযুগের যুদ্ধের রীতিনীতি শিখতে হবে। শুধু পেনে এ কাজ হবে না। সেটাও আমি নিশ্চিত।

      • কেশব কুমার অধিকারী মার্চ 4, 2015 at 6:07 পূর্বাহ্ন - Reply

        @বিপ্লব পাল,

        াদাদা, আপনার সাথে এই মুহূর্তে বিতর্ক করা আমার উদ্দ্যেশ্য নয়। আমি ক্ষুব্ধ! আমি আমার মন্তব্যের কোথাও কিন্তু ইসলামিক জঙ্গীদের কথা বলিনি। আমি সব কটা ধর্মের জঘন্যতার কথাই বলেছি। সে জন্যে সাধারন ভাবে ‘ধর্ম’ শব্দের প্রয়োগ। মানুষ ধর্মের আড়ালে বিশেষভাবে নিজেকে আলাদা করতে শেখে, ঘৃনা করতে শেখে, শেখানো হয় এবং শেখার সুযোগ তৈরী হয়। আমি ভালো করছি কি খারাপ করছি এই বোধ ১৮/২০ বছরের আগে একজন মানব সন্তানের আহরিত অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণতা পায়না। ধর্ম জিনিষটি বুঝার ক্ষমতাও বোধ করি তার থাকে না। যা হয় একটি মিথের আশ্রয়ে সে এক আশরিরী অবয়বকে ভয় করতে শেখে। কিন্তু পূর্ণতা প্রাপ্তির পরে সে বুঝতে শেখে কি ভালো কি মন্দ। আর এই সব ভালো মন্দ যে আপেক্ষিক তাও তার মাঝে স্বাভাবিক নিয়মেই আসে। এর জন্যে ধর্মীয় বোধের আশ্রয় নেবার দরকার পরে না। আমার ফেস বুকে আপনারা ছাড়াও আমার অসংখ্য ছাত্র ছাত্রী যুক্ত আছে। তাদের মধ্যে মাত্র একজন (সে আমার ছাত্রত্ত্ব অস্বীকারও করেছে এ বিতর্কে!) উল্লসিত! এরকম অসংখ্য আছে। আমি ধর্মীয় জঙ্গীপনায় যারা নিয়োজিত, তাদের ছাড়াও যারা এধরনের আত্মপ্রসাদ লাভ করছে সবাইকেই একি দল ভূক্ত মনে করি। পার্থক্য হলো যারা অস্ত্র হাতে নামে তারা সাহসী এবং জিঘাংসু। কিন্তু যারা নামেনা তারা সাহসী নয় তবে জিঘাংসু। পরিবেশ পেলে এরাও নেমে পরবে এতে কোনই সন্দেহ আমার নেই। আর এ দেশে যখন রায়ট হয়, কিংবা নিকট অতীতে ২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দেশের সংখ্যালঘুদের উপড়ে যে নাশকতা নেমে এসেছিলো সেখানে কি শুধু জঙ্গীরা ছিলো, জামাত-শিবির ছিলো, মডারেটরা ছিলোনা? আপনার লেখার আরোও একটা জায়গায় আমার খটকা ছিলো যা তখন আমি উল্লেখ করিনি। এই সুযোগে তা উল্লেখ করা উচিৎ মনে করছি।

        মুসলিম, হিন্দু, খ্রীষ্ঠান-সবার জানা উচিত নাস্তিকরাও ধার্মিক। তাদের ও সবার ধর্ম বিশ্বাস আছে। ধর্ম বিশ্বাস নেই এমন লোক পৃথিবীতে থাকতে পারে না । শুধু আমাদের ধর্মে ঈশ্বর নেই -প্রফেট নেই । ধর্মগ্রন্থ নেই ।আছে যুক্তি, বিজ্ঞান, বাস্তবতা । আমরা জীবন , বিজ্ঞান, অভিজ্ঞতা থেকে যা শিখি, তাই দিয়ে তৈরী হয় আমাদের ধর্ম। আমাদের বিশ্বাস ।

        নাস্তিকরাও ধার্মিক, কি করে? তাদের ঈশ্বর, নবী, ধর্মগ্রন্থ নেই! ঠিক আছে , তাহলে বিশ্বাসটা কোথায়? বিজ্ঞানে? বিজ্ঞানকি স্ট্যাটিক? যুক্তিতে? যুক্তিকি আপেক্ষিক নয়? কন্ডিশনাল নয়? ধর্মতো সট্যাটিক, ধর্মগ্রন্থ সেও। ও তো তথাকথিত ঈশ্বরের বাণী! যিনি নিজেই জানেন না কিকরে তার সৃষ্টিকে তিনি সাজিয়েছিলেন!

        তবুও আজকের প্রক্ষাপটে এইটেই আমার পক্ষে মানা সম্ভব নয় যে অভিজিৎ দা কে বিদায় নিতে হলো। কেনো? মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্যে। যুক্তিকে প্রতিষ্ঠার জন্যে। বিজ্ঞান মনষ্ক হবার জন্যে, ধর্মহীন হবার জন্যে। আলোর দিশারী হবার জন্যে। তবে এটা ঠিক আজ আমাদের বিতর্কের সময় নয় । আমার আসলে ভালোও লাগছে না। তবে আমাদের কোন বার্তা যাতে ভুল সংকেত না দেয, কিংবা ভুল বুঝতে সহায়তা না করে সেদিকটা মনে রাখা জরুরী।

        অন্ধকার ঘরে কেউ সেঁধিয়ে থাকলে আশেপাশে আমাদের সবারই অস্বস্তি হয়। আমরা ধাক্কাদিযে , দরজা ভেঙ্গে হলেও তাকে আলোতে আনি। নিদেন পক্ষে একটা ফুটো দিযে হলেও তার অস্তিত্ত্ব সম্পর্কে একটু আলোর দিশা দেবার জন্যে চেষ্টা করি। অভিজিৎদা আমাদের অন্ধকারে সেঁধিয়ে পরা সমাজটাকে ঘা দিচ্ছিলেন। বই গুলো, লেখালেখি নিছক ড্রিল মেশিনের মতো! একটু আলো তো পাক। তখন, কারোও যদি ইচ্ছে করে আলোটুকু ছুঁয়ে দেখবার!

        • বিপ্লব পাল মার্চ 4, 2015 at 9:03 পূর্বাহ্ন - Reply

          @কেশব কুমার অধিকারী,

          মানুষ ধর্মের আড়ালে বিশেষভাবে নিজেকে আলাদা করতে শেখে, ঘৃনা করতে শেখে, শেখানো হয় এবং শেখার সুযোগ তৈরী হয়।

          খ্রীষ্ঠান, হিন্দু, ইসলামে হয়। ইসলামে অনেক অনেক বেশী হয়। বৌদ্ধ ধর্মে কম। জৈন ধর্মে ঘৃণার কোন স্থান নেই ।

          প্রশ্ন হচ্ছে আপনি মানুষকে ভালোবাসতে শিখলেন কি করে?

          সেটাও বায়োলজিক্যাল। আমাদের দেশেই আছে।

          সন্তানকে ভালোবাসতে মায়ের কি কোন ধর্মের দরকার হয় ?

    • শাওন মার্চ 3, 2015 at 6:38 অপরাহ্ন - Reply

      ধম’ কারও একার না । ধম’ সবার । ধর্ম নিয়া গবেসনা হতেয় পারে । তবে শেটি কাওকে আক্রমন করার জন্য না । যারা আক্রমন করার জন্য বেবহার করছেন তারাই প্রকিত গবেশক দের বিপদ এ ফেলছেন ।

      • কেশব কুমার অধিকারী মার্চ 4, 2015 at 6:32 পূর্বাহ্ন - Reply

        @শাওন,

        উপড়ে দেখুন ধর্ম সম্পর্কে আমার উপলব্ধীর খানিকটা লিখেছি। এখন একজন ধার্মীক আমার এই বার্তায় মনে কষ্ট পেতেই পারেন। যে আমি তার বিশ্বাসে আঘাত করেছি। আমি যা উপলব্ধী করি তা যদি কারো পছন্দ না হয় তাহলে কি তার অধিকার আছে আমার প্রতি অস্ত্র প্রয়োগের? আমি উপড়ে বলেছি আমার অনেক ছাত্রদের মধ্যে মাত্র একজনকে পেয়েছি, যে কিনা অভিজিৎ রায়ের মৃত্যুতে কাতুকুতুর সুখানুভূতি পাচ্ছে। আমি যে ক্ষুব্ধ সেটা জেনে সে আমার ছাত্রত্ত্ব পর্যন্ত অস্বীকার করেছে আমাকে লিখিত ভাবে জানিয়ে! আমি তাতে দুঃখ পেয়েছি কষ্ট হচ্ছে ছেলেটির জন্যে, তার ভুল অনুভূতির জন্যে, কিন্তু আমি তার প্রতি ভিনডিকটিভ নই। বরং আমারই মনে হচ্ছে হয়তো তার প্রতি সঠিক যত্ন শিক্ষাকালিন নেওয়া যায়নি কোন ভাবে। এ দায় তার পুরোটা নয় আমাদের এবং আমারো হয়তো আছে। কাজেই “ধর্ম কারো একার না” এটা ঠিক না, ধর্ম ব্যক্তিগত। আর গবেষনা করতে গেলে তো আঘাতের জন্যে প্রস্তুত থাকতেই হবে। যদিও আমি আপনার প্রকৃত গবেষক বা অপ্রকৃত গবেষক বিষয়টি ঠিক বুজতে পারিনি। তবে যা বুঝেছি তা যদি ঠিক হয় তাহলে তো মনে হচ্ছে ধর্ম সংক্রান্ত গবেষনার ফলাফল প্রকাশের ক্ষেত্রে আলাদা রুলস-রেগুলেশন মানতে হবে! কারণ গবেষনায় সেটি যৌক্তিক হতেও পারে আবার আবর্জনা বলে পরিত্যাক্তও হতে পারে! যেমন অনেক অনেক বৈজ্ঞানিক গবেষনার ফলাফল হালে পরিত্যাক্ত হয়েছে সেসবের অসারতা প্রমানের পর। কাজেই ধর্ম নিয়ে নয় বরং সংশ্লিষ্ট ধর্মের উদ্ভবকালীন আর্থসামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে গবেষনা চলতে পারে। আমরা বুঝতে চেষ্টা করতে পারি যে সেসব ধর্মীয় দর্শনের উদ্ভবের পেছনে কি ধরনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো, বিজ্ঞান, কলা, কৃষি, শিল্প, সংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক প্রকৃয়া ও প্রভাব বিদ্যমান ছিলো বা ছিলো বলেই তার আবির্ভাব সমাজে অবশ্যম্ভাবী হিসেবে দেখা দিয়েছিলো। আজ যার যৌক্তিকতা বা প্রয়োজনীয়তা আদৌ আছে কিনা….!

        • শাওন মার্চ 4, 2015 at 1:38 অপরাহ্ন - Reply

          @কেশব কুমার অধিকারী,

          যেই লেখাটিতে আমি মন্তব্য করেছি সেখানে কাওকে আক্রমন করেনি । কিন্তু বিপ্লব পাল কমেন্টে যেভাবে বলেছেন সেখানে তিনি কোন যুক্তির কথা বলেছেন । সেটি তো স্পশট ভাবে সকল ধর্মকে আক্রমন করে । যেমন হিন্দুরা ভাবে আমাদের টি ভুল, আমরা ভাবি হিন্দু এর টা ভুল । আপনি ভাবতেই পারেন আমার টি ভুল । কিন্তু সেটি আপনি কিভাবে গালি বা পশু এর সাথে তুলনা করেন । নাস্তিকদের মুল ধর্ম হল মানবতা, তাহলে কিভাবে এত মানুষ কে কষ্ট দিয়া মানবতা কে পালন করসেন । আপনাদের তো ধর্ম বিসয় এ গবেষনা এখন ও চলছে , তাহলে গবেষনা ধিন বিষয় প্রচার করতে পারেন কিভাবে ?? । আজ পযন্ত বিজ্ঞান তাদের নিজের আবিষ্কার নিয়ে অনেকবার মন্তব্য পরিবতন করেছে । বিজ্ঞান যা আবিষ্কার করেছে তার ফলাফল সবসময় একিসাথে ধনাত্তক বা ঝনাত্তক দুটি ছিল এবং আসে । যদি শুধু বিজ্ঞানকে বিবেচনায় নিতে চান তাতেও সকল ধমের ধর্ম গ্রন্থ বিজ্ঞান সম্মত কথা আছে । যদি সুধু যুক্তির কারনে মেনে নেই এর মদ্ধে অনেক গুলো ভুল আসে , তারপরেও কিছুটো সটিক আছে । আর যদি সটিক থাকে তাহলে আপনি কিভাবে সেটাকে ছোট করতে পারেন কারণ আপনি তো সেখান থেকে কিছু হলেও শিখেছেন । যদি বলেন সবই ভুল তাও তো বলতে হবে এই গ্রন্থ আপনাকে সত্য কে কোজঁ করার জন্য উতসাহিত করেছে । যার মানে এই গ্রন্থদের থেকে আপনি ভুল বা সটিক বিবেচনা করে আপনি সটিক পথ পেয়েছেন । আর যেখান থেকে বিন্দু মাত্র হলেও শিখেছেন সেটাকে অপমান বা গালি দেওয়া কি আপনার টিক হয়েছে ?? । গ্রন্থ টি কি তাতে কোন কারাপ বা ভাল অনুভব করছে ?? নিশ্চয় না । আঘাত পেয়েছে সুধু মানুষ গুলো । মানবতার ধর্ম (নাস্তিক ধর্ম) কি ভাবে মানুষ কে সুধুই মানুষকে কষ্ট দিয়েই চলেছে ।

          • কেশব কুমার অধিকারী মার্চ 5, 2015 at 7:37 পূর্বাহ্ন - Reply

            @শাওন,

            না শাওন। আমার কোন ইচ্ছে নেই তাদের আগাত করা যারা ধর্ম বিশ্বাস করে। তবে তারা কষ্ট পায় যখন যুক্তি দিয়ে ধর্ম গ্রন্থে বর্নিত বুষয় গুলোর অসারতা দেখানো হয়। যেমন আমি জানি না আপনি কোন ধর্মকে অনুস্মরণ করেন, তবে যেটাই করেন দয়া করে দেখুন তো সেখানে বাশ্ব ভ্রম্মান্ডের জন্ম সম্পর্কে কি বলা আছে। তার বর্ণিত চেহারা আর বিবরণ অদুনিক বিজ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা! যদি না হয় তাহলে কথিত ঈশ্বরের এটি বাণী হয় কি করে? কাজেই এগুলো মিথ। জনশ্রুতি। আপনি ধর্মকে প্রশ্ন না করেই এ গুলোকে বিশ্বাস হিসেবে মেনে নিয়েছেন। আমি অনেক ছোট বেলায় আমার বাবাকে (তিনিও ধর্ম বিশ্বাস করতেন তবে অত্যন্ত সেকুলার ও উদার ছিলেন এ ব্যাপারে। এমনকি আমি যখন খুব ছোট তখন এক পরশী ঈদের দিনে আমাকে এক খন্ড গোমাংস ধরিয়ে দিয়েছিলেন খাবার জন্যে যদিও তিনি জানতেন যে আমি হিন্দু পরিবারের সন্তান! আমার মা এ নিয়ে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত হলেও বাবা নাকি বলেছিলেন, ও খাবার জিনিস একজন সখ করে দিয়েছে, যে দিয়েছে সে হয়তো এতে তুষ্ট হয়েছে! সৃষ্টিকর্তা তো একজনই। মানুষ তুষ্ট হলে তিনিও তুষ্ট হন! তুমি বরং ওকে বলে দেও যে যে কেউ কিছু দিলেই যেনো আমি সেটা হ্যাংলার মতো না নেই বা খাই। আমি এই ঔদার্য আমার ধর্ম থেকে শিখিনি, শিখেছি আমার পরিবার থেকে! কার্যতঃ ধর্ম থেকে আপনি কি শিখেছেন? আমি কিছুই শিখিনি। শুধু শিখেছিলাম যে আমি হিন্দু পরিবারের একজন এবং এ সমাজেও আমি দ্বিতীয় গোত্র ভূক্ত! যেটা আমার ভেতর থেকে দূর হয়ে গিয়েছিলো আমার পরিবারের প্র্যাকটুস থেকে সেই ৬ষ্ঠ-৭ম শ্রেণীতে যখন পড়ি তখনই। আমার বন্ধুরা আমাকে পথে মাঝে মাঝে এই বলে টিটকিরি মারতো, ” হিন্দু হিন্দু তুলসীপাতা তোরা খাস গরুর মাথা”! আমার স্পষ্ট মনে আছে। আমি বাবাকে সেকথা বলেছিলাম, এর প্রতিকার কি হতে পারে তার প্রত্যাশায়। বাবার উত্তর ছিলো অনেকটা এরকম, ” বলোতো পৃথিবীতে মোট মানুষের সংখ্যা কতো? আমি বল্লাম প্রায় সাড়ে চারশো কোটি! এর মধ্যে কি সবাই মানুষ? বুজলাম কথাটা প্রতিকী, আমি বললাম যারা বুদ্ধিমান, লেখাপড়া জানে তারাই মানুষ! বাবা বললেন তুমি যাদের মানুষ বললে তারা কি কাউকে কটুকথা বলে? আমি বললাম না বোধ হয় শুনিনি। তখন উনি বললেন, “তাহলে তোমার মতোই মানুষ হও, ওদের মতো নয়।” আমাকে তিনি ধর্ম গ্রন্থ পড়ে মানুষ হতে বলেন নি। বলেছেন নিজ বিবেচনায় যেটা ভালো মনে করবে সেটা করবে। আমি আমার সারা জীবনে সেই প্র্যাকটিসটাই করেছি। এবার তাহলে আসি আপনার প্রশ্নের জবাবে।

            আপনাদের তো ধর্ম বিসয় এ গবেষনা এখন ও চলছে

            আমি ধর্ম গ্রন্থকে পশুপালন গ্রন্থ বলেছি। কারণ অভিজিৎ রায়ের মতো একজনকে যারা ধর্মে আঘাত দিয়েছে বলে খুন করার তাগিদ অনুভব করে, তাদের শিক্ষা যে গ্রন্থকে কেন্দ্র করে তা মনুষের স্বাভাবিক বুদ্ধিবৃত্তিকে নাশ করে বলেই পশু সুলভ কাপুরুষের মতো পেছন থেকে আক্রমন করে মেরে ফেলতে পারে! এই যে ধর্ম সম্পকে বিশ্লেষনটি দিলাম এও প্রত্যক্ষ প্রমানের ভিত্তিতে! নয়কি? এটিকি বিজ্ঞান সিদ্ধ নয়? আপনি প্রত্যক্ষ প্রমান দেখছেন না? এটিই একমাত্র প্রমান নয়, পৃথিবীর দিকে দিকে তাকান আরোও প্রমান আপনি নিজেই পাবেন। আমাদের ধর্ম বিষয়ে কোন গবেষনা চলছে না। বিজ্ঞান বিষয়ে গবেষনা চলছে। সত্যের অনুসন্ধান চলছে। সত্য যখন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে তখন প্রচলিত মিথ গুলো থেকে কূপমন্ডুক, অসার, নির্বোধ ও আপাতঃ সরলমনা মানুষ গুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা করছি মাত্র। যারা নিজের বোধের আলোতে তার কিছুমাত্র অনুভব করছে তারা নতুন করে ভাবতে শিখছে। যারা কট্টরভাবে রক্ষনশীল তারা তেড়ে আসছে! আচড়ন করচে পশুবৎ। কিন্তু শিক্ষাটা সেই মহাগ্রন্থ থেকে যা মানুষকে পশু হতে শিক্ষা দেয়। আপনি হয়তো বললবেন এতো কোটি জনতার সামান্য সংখ্যক কেনো পশু হলো বাকিরা? এরও উত্তর আছে। ঈভিজিৎ রায়ের বিশ্বাসের ভাইরাস বইটা একবার পড়ুন বুঝতে পারবেন। আমি হলফ করে বলতে পারি ওতে ধর্ম নিয়ে কোন কটু কথা বলা হয়নি, বরং ধর্ম বা ধর্মগ্রন্থগুলো কিকরে ভাইরাসের মতো মানুষের মস্তিষ্ককে অধিকার করে এবং কোন কোন মানুষকে আত্মহত্যার মতো কাজে প্রবৃত্ত করে! পাবেন এর বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষন! এই তো কিছুদিন আগেই এবোলা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লো! পৃথিবীর সাতশো কোটি মানুষের মধ্যে হাজার দশেককে নিকেশ করে এখন একটু নিয়ন্ত্রনে। ধর্ম বিশ্বাসের ভাইরাসও তেমনি কোটি মানুষের মধ্যে কিছু সংখ্যককে আক্রমন করেছে! বাকীদেরও আক্রমনকরে তবে তাদের বোধের প্রতিরোধেই তারা রক্ষা পান। যেমন আপনি আপাততঃ মুক্ত!

            যদি শুধু বিজ্ঞানকে বিবেচনায় নিতে চান তাতেও সকল ধমের ধর্ম গ্রন্থ বিজ্ঞান সম্মত কথা আছে ।

            একটুও না! ধর্মে কোন বিজ্ঞান নেই। ধর্ম ও বিজ্ঞানের গতি পথ ১৮০ ডিগ্রি কোনে! পরষ্পর বিপরীত! সে জন্যে ধর্ম গুলোকে সাধারনতঃ দর্শন বা মিথ হিসেবে দেখা হয়। এটি বিশ্বাস নির্ভর। বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠিত হয় বৈজ্ঞানিক নিরীক্ষন-পরীক্ষন ও তার বাস্তব ফলাফলের ভিত্তিতে। এখানে বিশ্বাসের কোন স্থান নেই।

            যদি সুধু যুক্তির কারনে মেনে নেই এর মদ্ধে অনেক গুলো ভুল আসে , তারপরেও কিছুটো সটিক আছে ।

            এটি যে আপনার এক মহা ভ্রান্ত উপলব্ধী এ মন্তব্যের শুরুতেই তা আপনাকে আমি বলেছি। একন যেটা বলবো সেটা আরোও বেদনা দায়ক মনে হবে আপনার। ধর্ম গ্রন্থ তো ঈশ্বর প্রেরিত! তিনি সর্বজ্ঞ! তার মানে আজকের বিজ্ঞানও তার না জানা নয়! তাহলে ডঃ অভিজিতের খুনীদের ধর্ম গ্রন্থে সমতল পৃথিবীর উপড়ের আকাশ দাঁড়িয়ে আছে সু-উচ্চ পাহাড় গুলোর উপড়ে যেখানে পাহাড় গুলো পিলার! তা নাহলে ভেঙ্গে মাথায় পড়তো! এতোবড় বৈজ্ঞানিক ঈশ্বরের বানীকে আপনার কিছুটা ভুল বলে মনে হচ্ছে! কখনো কোন বৈজ্ঞানিক গবষনার প্রকাশিত কোন জর্নালে কোন ধর্ম গ্রন্থের রেফারেন্স দিতে দেখেছেন? সে জন্যেই ও গুলো আমার কাছে নিছকই আবর্জনা!

            যদি বলেন সবই ভুল তাও তো বলতে হবে এই গ্রন্থ আপনাকে সত্য কে কোজঁ করার জন্য উতসাহিত করেছে । যার মানে এই গ্রন্থদের থেকে আপনি ভুল বা সটিক বিবেচনা করে আপনি সটিক পথ পেয়েছেন ।

            ধর্ম গ্রন্থ ভুল কি ঠিক সে বিতর্কে না গিয়েও আমি দৃঢভাবে বলছি যে ধর্ম বা ধর্মগ্রন্থ থেকে আমি একবিন্দু বিসর্গ কিছু শিখিনি। আমার কাছ থেকে আপনি যা যা পেলেন তা সম্পূর্ন আমার নিজের অর্জিত উপলব্ধী ও কিছুটা পরিবার থেকে পাওয়া। এমন একটি পরিবার যেখানে আমি জীবনেও কোনদিন ধর্ম নিযে তার লালন পালন নিয়ে সামান্যতম আবদার বা বল প্রয়োগ অনুবব করিনি। আমার বাবা মৃত্যুকালে তাঁর শেষ কৃত্যানুষ্ঠানেও (তিনি এসব মূল্যহীন মনে করতেন) আমাদের কষ্ট হবে মনে করে সেসব নিষেধ করেছিলেন আমার মা কে। আমার মা-ও বলেছেন এসবের কোন প্রয়োজন নেই। সব চেযে গুরুত্ত্বপূর্ণ হলো সত্য-মিথ্যা, ন্যায়-অন্যায়, উচিৎ-অনুচিৎ এসব বিষয় গুলো ধর্ম থেকে আসেনা। ধর্ম একতরফা সত্য, ন্যায়, উচিতের কথা বললেও সেটা গ্রহনযোগ্য নয় কারণ এগুরো সবই আপেক্ষিক। যে সত্য আপনার জন্যে সধিক তা অন্যের জন্যে মিথ্যে হতে পারে। ঠিক তেমনই ন্রায়-অন্যায়, উচিৎ অনুচিৎ বিষয় গুলো। উপড়ে বিপ্লব পাল ভারবাসার কথা বলেছেন, যা আসলে প্রকৃতিক, তিনি সঠুকই বলেছেন। এগুলো প্রত্যেকের মধ্যে আছে এবং জেনেটিক্যলী অবশ্যম্ভাবী। সেজন্যে মানুষ, পশু পাখি সবার মধ্যেই এই জিনিষ দেখবেন। দেখবেন উচিৎ-অনুচিৎ বিষয গুলোও। আমার সঠিক পথ কিনা সময় তা বলে দেবে। তবে আমি যা বলছি যা করছি নিশ্চয়ই তার জন্যে আমার নিজের কাছে যুক্তি আছে। সেভাবেই চলছি, বলছি ও করছি। আপনিও ভাবুন এবং দেখুন যুক্তি আপনাকেও সাহসী ও আত্মপ্রত্যয়ী মানুষ হতে শেখাবে।

            • শাওন মার্চ 5, 2015 at 5:58 অপরাহ্ন - Reply

              @কেশব কুমার অধিকারী,

              ধর্ম কখনও তার পালন কারিদের উপর নির্ভরশীল না । ধর্ম তার নিজ গতিতে চলে । আজ পযন্ত ধর্ম তার গতিপথ পরিবর্তন করেনি । করেছে মানুষ । ধর্ম কাওকে খুন করেনি, করেছে মানুষ । পৃথিবীতে তখনই ধর্মের আবির্ভাব দেখা গেছে যখন খুন এবং রাহাজারিতে পৃথিবী অতিষ্ট । যদি বলেন ধর্ম এর স্রস্টা হোল মানুষ মানে আমাদের পূর্ব পুরুষ এবং এই ধর্ম তাহলে আমাদের মধ্যকার অশান্তিকে নাশ করে শান্তি এনেছিল যদি বলেন সেটা সিমিত সময় এর জন্য ধরে নিলাম তাই হবে।এটা থেকে এটি তো প্রমাণ হয় যে ধর্মের যাত্রার উদ্দেশ ছিল শান্তি প্রতিষ্টা । অথাথ আমারা যতটুকু শান্তি এর পথে আছি তার সব অবদান প্রচলিত সকল ধর্মের ।
              যুক্তি এর খাতিরে মেনে নিচ্ছি সকল ধর্ম ভুল ।

              আপনি তো আমাকে শান্তি এর পথে ঢাকছেন, পথ টা বিজ্ঞান এর পথ ।
              আপনি বলছেন আপনি গবেষনা করছেন বিজ্ঞান নিয়ে । যার অর্থ আপনার গবেষনা এখনও শেষ হইনি এটা চলমান । তাহলে কি আপনি আমাদের কে পরিক্কায় ব্যাবহার এর উপাদান বানাতে চাচ্ছেন ?? আমাদের উপর প্রয়োগ করে ফলাফল ভুল হলে তা পালটে নেবেন এর মাঝে আমার যদি কোন খতি হয় সেটি কি আপনি গবেষনার ভুল বলে চালিয়ে দিবেন ??

              যদি বলেন আধুনিক জ্ঞান এবং বিজ্ঞান , এর ই তো একটি আবিষ্কার হল ক্যামেরা এই ক্যামেরা মানুষকে কত ভাবে ক্ষতি করে চলেছে , কত মানুষ এর মরণ এর কারন হয়েছে । এবার হইত বলবেন এটা তো ক্যামেরা নিজের থেকে করেনি, করেছে এর ব্যাবহারকারী তাহলে তো ক্যামেরা এর দোষ নেই । এই যুক্তিটি যদি ব্যাবহার করি ধর্ম এর ক্ষেএে যে ধর্ম তো কাওকে খুন করেনি করেছে একজন মানুষ যে এটাকে আদর্শ মনে করলেও আদর্শ মানেনি এমন একজন ব্যাক্তি খুন করেছে ।

              গবেষনায় অনেক রেফারেন্স ব্যাবহার করা হয় কিন্তু সেগুলো কখনও তুলে ধরা হয়না, সুধু তুলে ধরা হয় যিনি আবিস্কার করেছেন তার কথা যেমন আপনি যেই গ্রন্থ এর কথা বললেন যা বলছে সমতল পৃথিবীর উপড়ের আকাশ দাঁড়িয়ে আছে সু-উচ্চ পাহাড় গুলোর উপড়ে যেখানে পাহাড় গুলো পিলার! তা নাহলে ভেঙ্গে মাথায় পড়তো। এটাকে যদি ভিত্তি ধরে গবেষনা করে থাকেন তাহলে তো বলতে হবে এই গ্রন্থটিকে তিনি রেফারেন্স ভেবসেন । হইত প্রকাশ করেছেন হয়ত বা করেননি ।

              আসুন বিজ্ঞান এর সব থেকে বড় চমক এলিয়েন নিয়ে বলি – ধর্ম বলে পৃথিবী এর সব থেকে বুদ্ধিমান প্রাণী মানুস , বিজ্ঞান বলছে এলিয়েন , যা তারা আজ পযন্ত প্রমান করতে পারেনি । এমন কি তারা এটা নিয়ে ব্যাপক প্রচ্চেষ্টা চালাচ্ছে একটা প্রাণী কে খুজে বের করার জন্ন্য । এবং ব্যাপক শোরগোল সোনা যায় যে তারা জীবাশ্ম দেখতে পেয়েছেন ।

              আসুন বিজ্ঞান এর আর এক বিশাল আবিস্কার পরমাণু নিয়ে বলি – এটাতে পড়ানো হয় সর্ব প্রথম ডাল্টন এর সুত্র এবং তার ত্রুটি ।
              প্রথমে এটা সঠিক মনে হলেও পরে তা ভুল ই সুধু প্রমান হয়েছে । যার অর্থ বিজ্ঞান প্রতি মুহুরতে পরিবর্তন হচ্ছে ।
              তাই পরিবর্তন শিল বিজ্ঞান মানুষ এর জীবন কিভাবে চলবে তা নিয়ন্তন করতে পারে না ।
              ধর্ম এর প্রয়জন আসে এটি প্রমানিত । যদি ভাবেন প্রচলিত ধর্ম ভুল তাহলে আপনি সটিক ধর্ম কে খোঁজ করুন । আপনি দিশে হারা আমাদের কেও কেনও দিশেহারা পথ আবলম্বন করতে বলছেন । হতে পারি আমরা ভুল পথের পথিক তাই বলছি আগে আপনি সটিক পথ টা বের করুন তারপর আমাদের ডাকুন ।
              আর মানুষকে একটু সম্মান দিবেন – যেই বিজ্ঞান কে নিয়ে বলছেন সেই বিজ্ঞান কিন্তু এই সব মানুষ র ই তৈরি ।

              সত্য যখন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে তখন প্রচলিত মিথ গুলো থেকে কূপমন্ডুক, অসার, নির্বোধ ও আপাতঃ সরলমনা মানুষ গুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা করছি মাত্র ।

  11. আসমা সুলতানা মিতা মার্চ 3, 2015 at 7:23 পূর্বাহ্ন - Reply

    খুব সত্যি কথা বলেছেন দাদা ভালো মানুষ বিরল । যদিও তার দেখা মেলে তারপরেও তাদের আমরা বেশীদিন ধরে রাখতে পারি না ।

মন্তব্য করুন