বাংলাদেশের গল্প

ইহা একটি ডেমোক্রেটিক মোসলিম কাণ্ট্রি। ডেমোক্রেসি হইলো মানুষের জইন্য, কিন্তু দুকখের ব্যপার এই আজব কাণ্ট্রিতে মাত্র দুই হাজার মানুষ। বাকিসব শুয়োর কুকুর বেড়াল গাধা গরু খচ্চর। যেহেতু মানুষগুলার উন্নতিতেই দেশের উন্নতি, সেহেতু এ দ্যাশের উন্নতির লেখ ঊর্ধ্বমুখী। যেহেতু মানুষ নিরাপদ মানেই দেশ নিরাপদ, সেহেতু এ দ্যাশ পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ। যেহেতু মানুষ সুখী মানেই দেশ সুখী, সেহেতু এ দ্যাশ এক নম্বর পিসফুল নেশন। এদেশের অধিবাসীদের পেশা ব্যবসা, মূলধন ধর্ম। এখানে উপাসনালয়ের পাশাপাশি ইস্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় সচিবালয় সংসদ ভবন এয়ারপোর্ট সোহরাওয়ার্দী উদ্যান মাছ বাজার কাচা বাজার পাবলিক টয়লেট সবখানে দেদারসে ধর্ম বিক্রি হয়। এদেশের নাস্তিকরা শেষ বয়সে হজ্ব পালন করিয়া পবিত্র অমল পদ্মফুল হয়। এদেশের মার্ক্সব্যবসায়ীরা সম্বিধান পাঠের পূর্বে বিসমিল্লা পাঠ করে। এদেশের সম্বিধানের একটাই স্তম্ভ- মদিনা সনদ। এ দেশে একখান সুস্বাদু খাদ্য আছে, যেটা মানুষে শুয়োরে খচ্চরে একপাতে খায়- ইসলাম। মসজিদ নামক একটা কনভার্টার আছে, যেটা ওয়াজ নামের সফটওয়্যার দিয়া চলে, ঐ কনভার্টারে মানুষ শুয়োর খচ্চর যেই ঢুকে সেই ছাগল হই বাইরয়। আজকাল এই কনভার্টারের টিভি ভার্সন মোবাইল ভার্সন ইউটিউব ভার্সন ফেসবুক ভার্সন প্রথম আলো ভার্সন ইত্যাদি বাইরইছে। ডিজিটাল কাণ্ট্রি বলি কথা।

সকাল বেলা ইউছুপের দোকানে গুল্লিফ দিয়া চা খাইতেছিলাম। কোত্থাইকা জানি দুইডা বুদ্ধিজীবী আসি বইসলো। আমাগো টেলিভিশনে কয়টা শো আছে, যেগুলার নাম টকমারানি শো। টকমারানি শো আমাগো সব চ্যানেলে কচুরিপানার মতো ছড়াইয়া আর সব কিছু ঢাকি ফেইলছে। আমাগো টেলিভিশনে এখন খালি দুইডা অনুষ্ঠান- টকমারানি শো আর আজান। ইউছুপের দোকানে বসা লোক দুইডারে দেইখা আমার কাছে টকমারানিই মনে হইলো। একজন কইলো,”ডিপ্লোম্যাসি আমি বুঝি। আমি জানি, আমাদের সং চেহারার গণতন্ত্র এবং পশ্চিমাদের সাম্রাজ্যবাদী গণতন্ত্র উভয়কেই চোখের পানি ফেলতে হয় অসভ্য রাজতন্ত্রের শোকে শোকার্ত হয়ে। কেননা আমাদের ঠ্যাকা আছে। কিন্তু চোখের পানিরও সীমা থাকতে হয়। একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক কীসের জন্য? কেন আমার দেশের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখতে হবে? কেন আমার দেশের রাষ্ট্রপতিকে সাথে সাথেই উড়ে যেতে হবে সামান্য একটা কবরে মাটি দিতে?”

মাথাডা গরম অইয়া গ্যালো। আমি জানি, এই শালাটার পায়জামা খুললে দেখা যাইবো আগা কাটে নাই। কিছু মালু এখনো রই গেছে এ কাণ্ট্রিতে। কিন্তু যাইবা কই, লুঙ্গি তুললেই ধরা। আমার নবীজী এমন ব্যবস্থা করি গেছেন যে পৃথিবী যতই কাছে আসুক, মোসলিম থাইকবো চিরকালই আলাদা। সুভানাল্লা।

এ কাণ্ট্রির একটাই প্রবলেম-সবাই বেশি বেশি বুজে। যেমন ধরেন, একটা রাজনৈতিক দল এখন বিলুপ্ত হই গেছে। তো তারা সন্ত্রাষীদের খাতায় নাম লিখাইতেই পারে-এটা নিয়া সমালোচনার কী আছে? সন্ত্রাসের সময় তোমরা রাস্তায় নামো ক্যা? দুই একমাস না খাইলে কী আর হইবো? বড়জোর মরি যাবা, এর বেশি কিছু তো হইবো না। মরি যাওয়া মানিই হইলো বাঁচি যাওয়া, বুঝলা?

ঐদিন শহীদ মিনারের সামনে এক লম্বাচুল আলা কবি বক্তৃতা দিছিলো। দ্যাশে সহীহ ইসলাম কায়েম হয় নাই তার প্রমাণ হইলো এই শহীদ মিনার আর কবিতা। মালুগুলার কারণেই আল্লার রহমত পুরাপুরি পাইতেছি না আমরা। কবি কী কইছিলো একটু একটু মনে আছে,”একটা ছেলের পরীক্ষা দিতে যাবার কথা ছিলো, সে এখন কাতড়াচ্ছে বার্ণ ইউনিটে। ছেলেটার দরিদ্র পরিবার তার চোখেই দেখতে পেয়েছিলো অনাগত স্বাধীনতা। একজন মধ্যবয়স্কা স্কুল শিক্ষিকা তাঁর ছোট্ট ছেলেটার প্রিয় শিক কাবাব কিনে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে তিনি নিজে কাবাব হয়ে গেছেন। অথবা এক দিনমজুর সারাদিন খেটে দেড়শো টাকা উপার্জন করে তাই নিয়েই ছুটে যাচ্ছিলেন বাড়িতে। রাস্তার পাশে ফুলদোকান থেকে প্রিয়তমা স্ত্রীর জন্য একটা বাসি গোলাপ কিনে সন্তর্পণে পকেটে রেখে দিয়েছিলেন; স্ত্রী ঘুমিয়ে পড়লে চাটাইয়ের এককোণায় রেখে দেবেন, স্ত্রী সকালে উঠে ওটা দেখতে পাবে। কিন্তু তাঁর আর বাড়ি যাওয়া হয় নি। অপেক্ষায় ছিলো পাঁচটা ক্ষুধার্ত উদর।” থাকো ক্যা অপেক্ষায়? তোমরা হইলা কুকুর বিড়াল হাঁস মুরগি-তোমাগো কীসের অপেক্ষা? তোমরা আর তোমাগো জন্মদাতারা সৌদি আরবের বাদশা না, বুঝলা?

ইউছুপের দোকানের মালুটা এখনো কতা কইতেছে, “সৌদি আরবের বাদশা মারা গেছে। আমি তার নাম জানি না। শুনেছি তার বাইশজন স্ত্রী ছিলো। এর বাইরেও নিশ্চয়ই অনেক ভোগ করেছে সে। আমি জানি তার যোগ্যতা ছিলো সে তার পূর্ববর্তী বাদশাহর বংশধর। এই যোগ্যতা তাকে এনে দিয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে বিলাসবহুল জীবন। ইউরোপের বিয়ার আমিরাতের ওয়াইন চীনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র হয়তো কাশ্মীরের সুস্বাদু আপেল এবং আরো যা কিছু আমাদের কল্পনাতে ধরে না। তবে আমরা এটাও জানি ঐ লোকের মৃত্যুতে পৃথিবীর কোনো মানুষ অকূল পাথারে পড়ে নি। ঐ লোকের মৃত্যুতে একজন মানুষেরও নিজের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে বুক কেঁপে ওঠে নি। তাহলে কীসের এতো শোক! ডেমোক্র্যাসি আর ডিপ্লোম্যাসি, তোমাদের জানাই লাল সালাম।”

এই লেখাটি শেয়ার করুন:
0

4 Comments

  1. বাংলার জামিনদার January 26, 2015 at 1:22 am - Reply

    যাস্ট একটা অপদার্থ মারা গেছে, পৃথিবীর কোনো ক্ষতিবৃদ্ধি হয়নাই।

  2. শফি আমীন January 26, 2015 at 11:50 am - Reply

    খাসা হয়েছে। অই তেলি বেটাদের চেহারা দেখলেই গা জ্বলে। আলখাল্লার ভিতর পড়তে পড়তে বদমাইশ। ওদের জন্য শোক করে তিরিশ সেকেণ্ড নষ্ট করাটাও আমার রুচিতে বাঁধবে। আর এদের পাচাটা ভিক্ষুক গুলোর জন্য হয় আমার করুনা। সবটাই আপনার লেখায় ফুটে এসেছে দারুন নির্মম ভাবে। খাসা হয়েছে।

  3. লাবিব ওয়াহিদ January 26, 2015 at 5:28 pm - Reply

    বাংলার জমিনদার, শফি আমীন @ ধন্যবাদ আপনাদের। সবাই এমন করে ভাবলে আর কোন সমস্যাই থাকতো না।

  4. মানবিক মানব January 28, 2015 at 2:24 am - Reply

    আপনার খোঁচাটা ঠিকই আছে, তবে স্বাধারণ মানুষদেরকে আরেকটু উচুতে তুললে মনে হয় ভালো হতো । একেবারে পরপর এতোগুলো নিরীহ প্রাণীর নামে ডাকাটা উচিৎ হয়নি ।
    তাছাড়া লেখাটা অনেক স্মার্ট হয়েছে ।

Leave A Comment

মুক্তমনার সাথে থাকুন