ভাষাবিকৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলুক অবিরাম

ফেসবুক ব্যবহারকারী মাত্রই জানেন, ফেসবুকে কিছুদিন পর পর নতুন ধরণের প্রবণতা (Trend) দেখা যায়। সম্ভবত জাতিগত স্বভাবের কারণেই আমরা সবাই সেই প্রবণতায় গা ভাসিয়ে পরিতৃপ্তি পাই। তারপর আরো কিছুদিন পর আরেকটা নতুন প্রবণতা আসে; পুরাতন প্রবণতা তখন নতুনের জন্য ছেড়ে দেয় স্থান। ইদানীংকার একটা প্রবণতা হলো “মুরাদ টাকলা”র যেকোনো পোস্টে গিয়ে “ধুর মিয়া! আগের মতো মজা পাই না” ধরনের মন্তব্য করতে থাকা। অবশ্য “মুরাদ টাকলা” দাবী করতেই পারে যে তাদের ভাষাবিকৃতি বিরোধী অভিযানের কারণেই ফেসবুকে টাকলামি কমে গেছে। অথবা টাকলামি করলেও “আমরা একই নৌকার মাঝি” বা “আমার ভাগিনার সাথে আজ অনেক দুষ্টুমি করলাম” এর মতো বাক্যগুলো ইংরেজী প্রতিবর্ণে লেখার ক্ষেত্রে টাকলা-টাকলিরা এখন সতর্ক থাকে। ফলে “মুরাদ টাকলা”কে এখন অফটপিক পোস্ট দিয়েই বিনোদনের জোগান দিতে হচ্ছে।

তবে অনেক টাকলাই এখন বাংলা বর্ণে লিখছে; এবং টাকলামি অব্যাহত রেখেছে পুরোদমে। ইংরেজী প্রতিবর্ণ দিয়ে আরো একশো বছর টাকলামি করলেও সার্বজনীন ইংরেজী বা বাংলা কোনো ভাষায় বিকৃতি ঘটানো সম্ভব না, কিন্তু বাংলা শব্দ বাংলা বর্ণমালায় লেখার সময় ভুল করতে থাকলে ভাষাবিকৃতি ঘটবে। আমরা বেশি আতঙ্কিত হই যখন দেখি বানান ভুলের হিড়িক পড়েছে ফেসবুক সেলিব্রিটি, ব্লগার এবং প্রগতিশীল বন্ধুদের লেখালেখিতেও।

আতঙ্কের কারণটা আরেকটু পরিষ্কার করে বলি, ভাষা বিবর্তনের স্বাভাবিক নিয়মে গণমানুষই শব্দের উচ্চারণ তথা মৌখিক রূপে পরিবর্তন আনে। তবে ভাষাবিদ, বৈয়াকরণ আর সাহিত্যিকগণ শব্দের বানান তথা লৈখিক রূপকে শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখার মাধ্যমে সামগ্রিক ভাষায় শৃঙ্খলা ধরে রাখেন। কিন্তু ফেসবুকের যুগে যখন গণমানুষের বিশাল অংশ লেখালেখি করছে এবং সেই লেখা প্রচারও পাচ্ছে, তখন ভাষাবোদ্ধাদের হাতে ভাষার শৃঙ্খল থাকবে কী করে? ফেসবুকের স্ট্যাটাস অপেক্ষা সদ-গ্রন্থ পাঠের পেছনে বেশি সময় ব্যয় করেন-এমন ক’জনইবা আছেন? এই অবস্থায় ভাষাকে রক্ষা করতে পারতেন তারা, যারা আন্তর্জালের জগতে বুদ্ধিজীবী হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু তাদেরই অনেকে একই দোষে দুষ্ট।

যেসব ক্ষেত্রে আমরা বেশি ভুল করি সেগুলো হলো, ই-কার/ঈ-কার, উ-কার/ঊ-কার, ঋ-কার/র-ফলা, জ/য, ণ/ন, র/ড়, শ/ষ/স; বিসর্গ, চন্দ্রবিন্দু ইত্যাদির ব্যবহার ইত্যাদি। সবচেয়ে বড় সমস্যা হয় যুক্তবর্ণের ক্ষেত্রে। নিচের তালিকাটি মন দিয়ে পড়লে অনেকগুলো যুক্তবর্ণ সম্পর্কে বিভ্রান্তি দূর হবে। আমি যেখানে “+” চিহ্ন দিয়েছি, টাইপিংয়ের সময় সেখানে হসন্ত দিতে হবে এ নিশ্চই আপনারা জানেন।

১। “ব্রাহ্মণ” বানানে “হ্ম” যুক্তবর্ণটি লিখতে হবে “হ+ম” এভাবে;

২। “আকাঙ্ক্ষা” বানানে “ঙ্ক্ষ” যুক্তবর্ণটি লিখতে হবে “ঙ+ক+ষ” এভাবে;

৩। “উজ্জ্বল” বানানে “জ্জ্ব” যুক্তবর্ণটি লিখতে হবে “জ+জ+ব” এভাবে;

৪। “প্রজ্বলন” বানানে “জ্ব” যুক্তবর্ণটি লিখতে হবে “জ+ব” এভাবে।

৫। “বিজ্ঞান” বানানে “জ্ঞ” যুক্তবর্ণটি লিখতে হবে “জ+ঞ” এভাবে।

৬। “বঞ্চিত” বানানে “ঞ্চ” যুক্তবর্ণটি লিখতে হবে “ঞ+চ” এভাবে।

৭। “লাঞ্ছনা” বানানে “ঞ্ছ” যুক্তবর্ণটি লিখতে হবে “ঞ+ছ” এভাবে।

৮। “সঞ্জয়” বানানে “ঞ্জ” যুক্তবর্ণটি লিখতে হবে “ঞ+জ” এভাবে।

৯। “ঝঞ্ঝা” বানানে “ঞ্ঝ” যুক্তবর্ণটি লিখতে হবে “ঞ+ঝ” এভাবে।

১০। “খড়্গ” বানানে “ড়্গ” যুক্তবর্ণটি লিখতে হবে “ড়+গ” এভাবে।

১১। “প্রত্নতত্ত্ব” বানানে “ত্ন” যুক্তবর্ণটি লিখতে হবে “ত+ন” এভাবে। আর “ত্ত্ব” যুক্তবর্ণটি লিখতে হবে “ত+ত+ব” এভাবে।

১২। “উদ্যোগ” সঠিক বানান, “উদ্দোগ” ভুল।

১৩। “পদ্ম” বানানে “দ্ম” যুক্তবর্ণটি লিখতে হবে “দ+ম” এভাবে।

১৪। “সান্ত্বনা” সঠিক বানান, “সান্তনা” ভুল।

১৫। “বিষণ্ন” বানানে “ণ+ন” হবে।

১৬। “স্বাতন্ত্র্য” বানানে য-ফলা থাকবে, “স্বতন্ত্র” বানানে থাকবে না।

১৭। “বন্ধ্যা” সঠিক বানান, “বন্ধা” ভুল।

১৮। “ন্যুব্জ” বানানে ন-এর সাথে য-ফলা আছে, আর যুক্তবর্ণটি হবে “ব+জ” এভাবে।

শেষ পাঁচটি পয়েণ্ট গুরুত্বপূর্ণ:

১৯। “উষ্ণ” বানানে “ষ্ণ” যুক্তবর্ণটি হবে “ষ+ণ” এভাবে।

২০। “চিহ্ন” বানানে “হ্ন” যুক্তবর্ণটি হবে “হ+ন” এভাবে।

২১। “অপরাহ্ণ” বানানে “হ্ণ” যুক্তবর্ণটি হবে “হ+ণ” এভাবে।

২২। ট, ঠ, ড, ঢ এর সাথে “ন” যুক্ত হয় না; ত, থ, দ, ধ এর সাথে “ণ” যুক্ত হয় না।

২৩। বিদেশি শব্দের সাথে “ণ” ও “ষ” যুক্ত হয় না। যেমন “ফটোষ্ট্যাট” শব্দের সঠিক বানান “ফটোস্ট্যাট”।

এসব সমস্যা হতো না, যদি নিদেনপক্ষে নবম-দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ বইটা (এনসিটিবি প্রণীত) আমাদের ভালোভাবে পড়া থাকতো। ছোট্ট এই বইটা বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও দারুণ কাজ দেয়। আগে পড়িনি তাতে কী হয়েছে? এখন তো সংগ্রহ করে রাখতেই পারি। আমরা অনেকেই জানিনা ১ম শ্রেণী থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত সাধারণ শিক্ষা, মাদ্রাসা বোড ও কারিগরি বোর্ডে এনসিটিবি প্রণীত বইগুলোর চমত্‍কার একটি ওয়েবসাইট আছে। লিংক http://www.ebook.gov.bd।

অনেকের অভিযোগ, অভ্র ব্যবহার করে সঠিক বানান লেখা যায় না। এটা ঠিক নয়, সময় একটু বেশি লাগলেও অভ্র দিয়ে শতভাগ শুদ্ধ বাংলা লেখা যায়। যেমন “অন্য” শব্দটি লিখতে হলে টাইপ করতে হবে “onyo”, কারণ “য” এর প্রতিবর্ণ “yo”. আপনি “onno” টাইপ করলে অভ্র সেটাকে দেখাবে “অন্ন”, কারণ “n” হচ্ছে “ন” এর প্রতিবর্ণ। ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক ও শিবপ্রসন্ন লাহিড়ী সম্পাদিত “বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান” বইটিতে বাংলা বর্ণমালার ইংরেজী ও আরবি-ফারসি প্রতিবর্ণের একটি তালিকা রয়েছে। এছাড়াও আছে যুক্তবর্ণের তালিকা। অভিধানটিতে শব্দার্থ খুঁজে বের করার প্রক্রিয়ায় ব্যাকরণ সম্পর্কেও আপনার ভালো ধারণা গড়ে উঠবে। যারা বাংলা ভাষায় লেখালেখি করেন তাদের সংগ্রহে এ বইটা অবশ্যই থাকা উচিত বলেই আমার মনে হয়।

ধন্যবাদ সবাইকে। ভাষা বিকৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলুক অবিরাম।

এই লেখাটি শেয়ার করুন:
0
By | 2015-06-16T17:50:30+00:00 November 28, 2014|Categories: শিক্ষা, সংস্কৃতি|32 Comments

32 Comments

  1. লাবিব ওয়াহিদ,
    চমৎকার গঠনমূলক লেখা। মুক্তমনায় স্বাগতম।

    • লাবিব ওয়াহিদ November 28, 2014 at 10:13 pm - Reply

      @কেশব কুমার অধিকারী, অনেক ধন্যবাদ।

  2. তামান্না ঝুমু November 28, 2014 at 10:15 pm - Reply

    ভাষাকে বিকৃতির হাত থেকে বাঁচানর চেষ্টা আমাদের সকলের দায়িত্ব। স্বাগতম মুক্তমনায়।

    • লাবিব ওয়াহিদ November 28, 2014 at 10:25 pm - Reply

      @তামান্না ঝুমু, ধন্যবাদ। একইসাথে দুঃখিত-একটা ছোট্ট বানানত্রুটি আপনার মন্তব্যেও রয়ে গেছে।

      • তামান্না ঝুমু November 30, 2014 at 10:53 am - Reply

        @লাবিব ওয়াহিদ,
        কোনটা? বাঁচানর কি? এই বানানটা বাঁচানর ও বাঁচানোর দু’ভাবেই শুদ্ধ কিন্তু।

        • লাবিব ওয়াহিদ November 30, 2014 at 11:01 am - Reply

          @তামান্না ঝুমু, আমি নিশ্চিত নই।

          • তামান্না ঝুমু November 30, 2014 at 11:42 am - Reply

            @লাবিব ওয়াহিদ,
            আমি নিশ্চিত। পশ্চিম বাংলায় এভাবে লেখা হয়। বাঁচানর, দেখানর, বোঝানর, পড়ানর ইত্যাদি।

            • লাবিব ওয়াহিদ November 30, 2014 at 3:30 pm - Reply

              @তামান্না ঝুমু, তথ্যের জন্য ধন্যবাদ। 🙂

  3. অভিজিৎ November 29, 2014 at 5:11 am - Reply

    চমৎকার এ লেখাটি মুক্তমনায় পাঠানোর জন্য অনেক ধন্যবাদ।

    আর মুক্তমনায় স্বগতম!

    • লাবিব ওয়াহিদ November 29, 2014 at 7:49 am - Reply

      @অভিজিৎ দা, লেখা পাঠানোর মতো অন্য কোনো জায়গা ছিলো না। মূল্যায়নের জন্য ধন্যবাদ।

  4. রিজভীউল কবির November 29, 2014 at 1:49 pm - Reply

    ইংরেজী বানান ভুল হলে আমারা যতটুকু লজ্জিত হই, বাংলা বানান ভুল হলে তাঁর ভগ্নাংশও লজ্জিত হই না। এই অবস্থান উন্নতিতে যেমন মানসিকতার পরিবর্তন দরকার তেমনি দরকার ভাষাজ্ঞান। ভাষাবিকৃতি রোধে আপনার লেখাটি সাহায্য করবে সন্দেহ নেই। ধন্যবাদ তথ্যসমৃদ্ধ লেখাটির জন্য।

    (নবম-দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ বইটি খুঁজে পাইনি)

    • লাবিব ওয়াহিদ November 29, 2014 at 3:02 pm - Reply

      @রিজভীউল কবির, আমি খুবই দুঃখিত, আমি ভেবেছিলাম NCTB’র ওয়েবসাইটে সকল পাঠ্যবইয়ের pdf আছে। এখন দেখলাম, নেই। আমি বইটির কোন লিংক পেলেমাত্রই জানিয়ে দিবো।

      আমাদের ভাষাজ্ঞান কম- এটা মূল সমস্যা নয়। মূল সমস্যা হলো, ভাষার ব্যাপারে আমরা খামখেয়ালি প্রবণ। ভুল বাংলা লেখাটাকে আমরা লজ্জার ব্যাপার মনে করি না। ভর্তি কোচিংয়ে ক্লাস করার সময় দেখেছি বুয়েটের ভাইয়াদের বানানের দুরবস্থা। একদিন ভুল ধরিয়ে দেয়ার কারণে সারা ক্লাস আমার উপর বিরক্ত হয়েছিলো।

      সবাই আমাকে ”আপনি” করে ডাকছেন, বিব্রত হচ্ছি। আমি আসলে অনেক ছোটো। 🙂

  5. সুষুপ্ত পাঠক November 29, 2014 at 3:16 pm - Reply

    যারা বিজয় কি-বোর্ডে লিখতে অভ্যস্ত তারা অভ্র দিয়েও বিজয় কি-বোর্ড অনুসারে লিখতে পারেন অভ্র ৪.৫ দিয়ে। তাহলে আর বাংলা শব্দগুলোকে ইংরেজি বর্ণে উচ্চারণ করে লিখতে হবে না। খুবই ভাল একটি লেখা। বানান সম্পর্কে দেয়া টিপসগুলো সবাই কাজে লাগাক এটাই চাই।

    • লাবিব ওয়াহিদ November 29, 2014 at 5:38 pm - Reply

      @সুষুপ্ত পাঠক, ধন্যবাদ। আপনারা সচেতন এবং সচেষ্ট থাকলে অন্যরাও দায়িত্বশীল হয়ে উঠবে।

  6. শ্রাবণী November 29, 2014 at 5:56 pm - Reply

    এটার শুরু খুব সম্ভবত ইংরেজী মাধ্যমে পড়ুয়া ছেলে মেয়ে হতে। তারা বাংলা কে যাচ্ছে তাই ভাবেই ব্যবহার করে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বললাম। এক্ষেত্রে সচেষ্ট হওয়ার প্রয়োজন আছে যাতে করে তারা বাংলা শুদ্ধ ভাবে লিখতে পড়তে ও ব্যবহার এর সময় ইংরেজীর সাথে গুলিয়ে নিউ অযাচিত বিশেষণ যেন ছড়িয়ে না দেয়।

    • লাবিব ওয়াহিদ November 29, 2014 at 11:23 pm - Reply

      @শ্রাবণী, প্রথমত, বাঙ্গালি শিক্ষার্থীদের ইংরেজি মাধ্যমে পড়ার কারণ আমার বোধগম্য নয়। ওসব বাদ দিয়ে বাংলা মাধ্যমেই ইংরেজি চর্চার সুযোগ বাড়ানো উচিত। তবে যে যে মাধ্যমেই পড়ুক, আগে অবশ্যই বাংলা শেখাতে হবে।

      ইংরেজি মাধ্যমের সিংহভাগ শিক্ষার্থীর বাংলাজ্ঞান নিচুস্তরের- এটা অনস্বীকার্য। এবং তারা বাংলা না জানাকেই গৌরব ভাবে- এটাও অনস্বীকার্য। বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থীদেরও দেখা যায় কথার মধ্যে অযথা ইংরেজি শব্দের প্রবেশ ঘটাতে পছন্দ করে। নিজের ভাষার প্রতি এমন দায়িত্ববোধহীনতা আমাদের জাতীয় সমস্যা। এটা নিয়েও একটা প্রবন্ধ লেখা উচিত।

      তবে ভাষা বিকৃতিতে সংখ্যালঘুদের ভুমিকা কম। আমরা যারা বাংলা মাধ্যমে পড়েও বাংলাকে অবহেলা করি তাদেরকেই দায় নিতে হবে।

  7. ফাই সিদ্ধি November 30, 2014 at 2:34 pm - Reply

    বানানের বিষয় গেল।’আমি ভাত খামু,তুই ভাত খাইছস’-এ বিকৃতি কিভাবে রোধ হবে? নাটক-সিনেমা,সাহিত্যে এধরনের ভাষা অহরহ ব্যবহার হচ্ছে।

    • লাবিব ওয়াহিদ November 30, 2014 at 10:06 pm - Reply

      @ফাই সিদ্ধি, ফেসবুকে দেখবেন ”আইছি” ”খাইছি” এগুলোই বেশি লাইক পায়। আপনি শুদ্ধ ভাষা ব্যবহার করলেই আঁতেল উপাধি পাবেন। দায়িত্বহীনতা আমাদের জাতিগত সমস্যা। পর্দায় বা সাহিত্যেও তো চাহিদা যেমন, জোগানও তেমনই হবে ।

      কিন্তু ফেসবুক থেকেই সচেতনতার শুরু করা যেতে পারে। এটার জন্য সবাই মিলে প্রচারনা চালাতে হবে।

  8. কাজী রহমান December 1, 2014 at 1:46 am - Reply

    ১ থেকে ২৩ তালিকাটি ভাষার প্রতি লেখকের আন্তরিকতা আর অতিরিক্ত দ্বায়িত্ব ভাবনার পরিচায়ক।

    ভালো কাজটির জন্য ধন্যবাদ।

    • লাবিব ওয়াহিদ December 1, 2014 at 1:55 am - Reply

      @কাজী রহমান, পড়ার জন্য ধন্যবাদ। এটা আমাদের সবারই দায়িত্ব।

  9. গুবরে ফড়িং December 2, 2014 at 9:57 pm - Reply

    অসাধারণ লেখা। চলুক।

  10. শাফি আমীন December 3, 2014 at 12:14 pm - Reply

    চমৎকার লেখাটির জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ…

  11. গীতা দাস December 6, 2014 at 3:32 pm - Reply

    প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ লেখা নিসঃন্দেহে।তবে শিরোনাম ভাষা বিকৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলুক অবিরাম না হয়ে তা শুদ্ধ বানান লেখা শেখানোর (শেখানর বা বাঁচানর মত শব্দের প্রচলন অবশ্য আমার জানা নেই) জন্য যুদ্ধে নামার আহ্বান মনে হয়েছে। যাহোক,সাথে আছি।

    • লাবিব ওয়াহিদ December 6, 2014 at 6:23 pm - Reply

      @গীতা দাস, একটা নির্দিষ্ট ভুল বানানে সবাই অভ্যস্ত হয়ে গেলে সেটা ভাষায় গৃহীত হয়ে যায়-এটা একরকম ভাষাবিকৃতি। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। “নিঃসন্দেহে” বানান ভুল হয়েছে। 🙂

      • আকাশ মালিক December 6, 2014 at 9:27 pm - Reply

        @লাবিব ওয়াহিদ,

        একটা নির্দিষ্ট ভুল বানানে সবাই অভ্যস্ত হয়ে গেলে সেটা ভাষায় গৃহীত হয়ে যায়-এটা একরকম ভাষাবিকৃতি।

        আমি এক ব্লগের মডুকে বললাম, ছোট্ট একটি লেখায় নিজে যদি এত বানান ভুল করেন তাহলে অন্যরা করবে কী? উনি বললেন- এটা ব্লগ, পরীক্ষাহল না। আমি বললাম, ভাই স্যরি। তওবাহ আর এমনটা বলবোনা। ।

        • লাবিব ওয়াহিদ December 7, 2014 at 10:13 am - Reply

          @আকাশ মালিক, উনি তো এমন ভাব নিয়েছেন যেন পরীক্ষা হলে সঠিক বানান লিখেন আর ব্লগে ইচ্ছা করেই ভুল করেন! শুদ্ধ বানান লেখাটা একটা অভ্যাস, যার সেটা নাই তাকে অপমানিত করে হলেও সেই অভ্যাস করাতে হবে।

      • গীতা দাস December 7, 2014 at 10:21 am - Reply

        @লাবিব ওয়াহিদ,
        “নিঃসন্দেহে” আপনি ধন্যবাদ পাবেন। এখন মনে হচ্ছে অসর্তকতাই বানান ভুলের কারণ।

  12. ডাক্তার বিপুল মিত্র December 7, 2014 at 4:43 am - Reply

    আমার পুরানো কথা মনে পড়ে গেল এই লেখাটা পড়ে। আমি সংস্কৃত সাহিত্যের ব্যাকরণ পড়েছিলাম , আদ্য ও মধ্য পাশ করবার পর ছেড়ে দিয়েছিলাম স্কুল-এ নবম শ্রেনীতে পড়া কালে। এটা স্কুল-এর পড়ার বাইরে নিজের সময়ে পড়তে হতো আমায় । যাই হোক , ওই ব্যাকরণ-এ শব্দের উচ্চারণ-এর “ফোনেটিক্স” পড়তে হতো। সেটা বাংলার মতই। কারণ বাংলার ব্যাকরণ আসে সংস্কৃত থেকে। ওটা পড়লে বোঝা যায় কোথায় “ণ” বা “ন ” হবে। যেমন যে শব্দ উচ্চারণ করতে জিভ “palate” বা মুখের ছাদকে স্পর্শ করে সেটা “ণ ” হয়। আর যখন দাঁতকে স্পর্শ করে তখন সেটা “ন” হয়। শব্দের উপসর্গ গুলিও আসে সংস্কৃত থেকে এক-ই ভাবে। ২০-টি উপসর্গ আছে সংস্কৃত -এ। ওগুলি-ই বাংলায় ব্যবহার হয়। একটা শব্দের আগে উপসর্গ লাগালে শব্দের অর্থ কেমন পরিবর্তন হয়ে যায়। যেমন “গতি”-র আগে “প্র” লাগালে “প্রগতি ” হয়ে অর্থটা কেমন ভিন্য হয়ে যাচ্ছে। এগুলি সব সংস্কৃত থেকে এসেছে।

    • লাবিব ওয়াহিদ December 7, 2014 at 3:36 pm - Reply

      @ডাক্তার বিপুল মিত্র, ধন্যবাদ। নির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য ছিলো কিনা বোঝা গেলো না। তবে বিশটি সংস্কৃত উপসর্গের পাশাপাশি বাংলায় আরো অনেক উপসর্গ ব্যবহৃত হয়। যেমন “অকাজ” এর অ, “গরহাজির” এর গর।

  13. আশরাফুল আলম January 2, 2015 at 12:30 pm - Reply

    @লাবিব ওয়াহিদ, সুন্দর এই লেখাটির জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

    ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক ও শিবপ্রসন্ন লাহিড়ী সম্পাদিত “বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান” বইটিতে বাংলা বর্ণমালার ইংরেজী ও আরবি-ফারসি প্রতিবর্ণের একটি তালিকা রয়েছে। এছাড়াও আছে যুক্তবর্ণের তালিকা।

    আমার কাছে এই অভিধানটি নেই। অনেকদিন প্রবাসে, ফলে সময় করে যে আনব, সেটা হয়ে উঠেনি। এই পাতাগুলো কি কোনভাবে (যেমন পিডিএফ/স্ক্যান) পাওয়া যেতে পারে?

    ধন্যবাদ।

  14. লাবিব ওয়াহিদ January 7, 2015 at 9:02 pm - Reply

    @আশরাফুল আলম, এমন কোনো লিংক আমার জানা নেই। খুঁজেছি, পাই নি। অনলাইন বাজারে অর্ডার দিয়ে কেনা যায়, কাউকে দিয়ে কিনিয়ে নিতে পারেন।

Leave A Comment

মুক্তমনার সাথে থাকুন