কানাডার মাধ্যমিক শিক্ষার কিছু চিত্র

By |2014-10-21T02:28:49+00:00অক্টোবর 21, 2014|Categories: ব্লগাড্ডা|11 Comments

এই লেখাটি আমার ধারাবাহিক লেখার একটি অংশ। প্রথম অংশে আমি ফিনল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে লিখেছিলাম। আজকে আমি কানাডার শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কিছু লিখবো। কানাডার শিক্ষা ব্যবস্থাটি অনেকটা বানিজ্যিক কেন্দ্রীক। তবে এই বানিজ্যিক কেন্দ্রীকতা শুরু হয়েছে বার ক্লাসের পরে। অর্থাত হাই স্কুলের পরে পড়াশুনার খরচ নিজেকেই বহন করতে হয়। পৃথিবীর খুব গুটি কয়েক দেশেই শিক্ষা বিনা পয়সায় দেওয়া হচ্ছে। অর্থাত জনগনকে শিক্ষিত করার দায়িত্ব সরকার নিজেই নিয়েছে। এই দেশ গুলো হলো- সুইডেন, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, জার্মান। এই দেশ মানব সম্পদ উন্নয়নে সর্বোচ্চ ভুমিকা রয়েছে। কানাডার শিক্ষার মান অনেক উন্নত। কানাডার শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার মান ৬তম। যদিও উচ্চ শিক্ষার খরচ ব্যক্তিকেই বহন করতে হয়।
কানাডায় জুনিয়ার কিন্ডার গার্ডেন থেকে ক্লাস শুরু হয়। চার/পাচ বছর থেকে পড়া শুনা শুরু হয়। দু বছর জুনিয়ার ও সিনিয়ার শেষ করে গ্রেড অন থেকে সত্যিকারের লেখা পড়া শুরু হয়। সত্যিকারের পড়া শুনা বলেছি এই কারনে যে প্রথম দু বছর খেলা ধুলার মাধ্যমে নিজের সম্পর্কে কিছুটা পরিচয় দেওয়া হয়। এখানে স্কুল দু ভাগে বিভাক্ত।–
1. মাধ্যমিক স্কুল (meddle school JK – grade 8)
2. উচ্চ বিদ্যালয় (high school grade 9 – grade 12)
3. ক্যাথোলিক স্কুল।(ধর্মীয় স্কুল)

এছাড়া আরো অন্যান্য স্কুল আছে।
যেমন-
1. বিশেষ স্কুল (especial school)
2. ফ্রেন্স স্কুল (medium French)
3. Gifted স্কুল
4. বয়স্ক স্কুল (adult school)
এই ভাবে স্কুলগুলো ভাগ করা হয়েছে। স্কুলের কারিকুলাম দেখলে বুঝা যায় যে পড়াশুনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কি। ক্লাসে কোন পাঠ্য পুস্তক নেই। তবে হাই স্কুলের শিক্ষকরা কিছু কিছু বই অনুসরন করে। তবে নির্দিষ্ট করে দেওয়া নেই যে এই বই পড়তে হবে। এই ব্যবস্থাটি কারনেই শিক্ষার পদ্ধতিতে রয়েছে বহুবিদ মাধ্যম। কোন একটি বইয়ের মধ্যে যেন সীমাবদ্ধ না থাকে। তবে প্রতিটি গ্রেডের জন্য কিছু এস্পেক্টেসন আছে। এখানকার দ্বিতীয় ভাষা ফ্রেন্স। তাই গ্রেড ফোর থেকে ফ্রেন্স ভাষা শেখানো হয়। বিশেষ স্কুলে অটিষ্টিক বা মানসিক প্রতিবন্ধী বাচ্চাদের ভর্তি করানো হয়। গিফটেড স্কুলে সেই সব শিক্ষার্থীদের জন্য যাদের ভিতরে জিনিয়াস কিছু রয়েছে। শিক্ষকের রিকমেন্ডেশন থাকলে যে কোন সময় গিফটেড স্কুলে ভর্তি হওয়া যায়। এর পাশা পাশি হাইস্কুলে আরো একটা প্রোগ্রাম রয়েছে, সেটা হলো এপি প্রগ্রাম (Advanced Placement Program)। এটা যে সব ছেলে মেয়েরা খুব ভালো স্কোর তুলেছে শুধু তাদের জন্যে এবং এটি শুরু হয় গ্রেড নাইন থেকে। হাইস্কুল গ্রাজুয়েশনের পর যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবে এই এপি প্রোগ্রামটি তাদের কাজে আসে। এপি প্রোগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডার গ্রেডের প্রথম বর্ষের কিছু কোর্স এই ভাবে হাইস্কুলে পড়িয়ে নেয়া হয়, তাতে করে ঐ কোর্সগুলো তাদের আর বিশ্ববিদ্যালয়ে যেয়ে নেয়া লাগে না। তবে সব বিশ্ববিদ্যালয় এই ক্রেডিট ট্রান্সফার এলাউ করে না। তবে হাইস্কুলে কোর্সগুলো ফ্রি করতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু পয়সা সাশ্রয় হয়।
গ্রেড ৩,৬,৯,১০ তে একটা প্রভিনসিয়াল EQAO টেষ্ট হয়। যার মাধ্যমে ছাত্র ছাত্রীদের অংক ও ভাষাগত জ্ঞান কতটা তা যাচাই করা হয়। শিক্ষা ব্যবস্থায় বিভিন্ন ধরনের ট্যুর রয়েছে, যার মাধ্যমে তারা প্রকৃতি সম্পর্কে জানতে ও বুঝতে পারে। মু্খস্থ পদ্ধতির প্রচলন একে বারেই নেই। নামত্তা গুলো কালারিং বা ছকের মাধ্যমে সেখানো হয়। এখানকার শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো সৃজনশীলতা বৃদ্ধি। ক্লাসে একজন আরেক জনের রেজাল্ট কখনো জানতে পারে না। শিক্ষক এটি সব সময় তা গোপন রাখে। শিক্ষার দক্ষতা ও কাজের অভ্যাসের উপর ও মার্কিন আছে। যেমন-
1. Responsibility
2. Independent work.
3. Initiative
4. Organization.
5. Collaboration.
6. Self- regulation.
এই মার্কিন গুলো এই ভাবে দেওয়া হয় E-Excellent, G-Good, S-Satisfactory, N- Needs improve
চার মাস পর পর রেজাল্ট দেওয়া হয়। এই রেজাল্ট উপর আলোচানার জন্য শিক্ষক ও পিতা মাতার মধ্যে একটা আলোচনা হয়। গ্রেড ফোর থেকে স্বাস্থ্য বিজ্ঞান (health science) পড়ানো শুরু হয়। এটি যৌন বিজ্ঞান। কি ভাবে মানুষের জন্ম হয়, কি ভাবে বাচ্চাদের উপর যৌন অত্যাচার চলতে পারে সেই সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়া হয়। এই সব কাজে কি কি অসুখ বিসুখ হতে পারে এবং তার থেকে বাচার জন্য কি কি প্রতিরোধ নেওয়া যায় এই সব বিষয় নিয়ে এই বিষয়টি সাজানো হয়েছে।
আজকে আমি বিজ্ঞান বিষয়ে কিছু আলোচনা করবো। কিন্ডার গার্ডেন থেকে শুরু হয় প্রানী ও গাছ গাছালি সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়া। গ্রেড ৪-৫ থেকে শুরু হয় শক্তি বা এনার্জি সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়া। কি কি ধরনের এনার্জি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সেই এনার্জি কি ভাবে তৈরী হচ্ছে। আর কি কি ধরনের এনার্জি পরিবেশ বান্ধব এবং কোন কোন দেশে পরিবেশ বান্ধব এনার্জি বেশী ব্যবহৃত হয়, এই সব এনার্জির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কি সে সম্পর্কে যে জ্ঞান দেওয়া হয় তা আমাদের দেশের ৮-৯ ছেলে মেয়েরাও জানে না। তেমনি Heat, sound, Matter, Space, All systems of human body, Light ইত্যাদি বিষয়ে অনেক জ্ঞান দেওয়া হয়। তবে এই সব কিছু পড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পারিপার্শ্বিক পরিবেশের উপর এর প্রভাব ও প্রয়োগের উপর বেশী জোর দেওয়া হয়। এই বিষয়ে আরো ভাল ভাবে জানার জন্য গ্রেড ৮ এর বিজ্ঞান বিষয়ে কারিকুলাম আলোচনা করার দরকার।

আমি শুধু একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। যেমন কোষ বা সেল। Big Idea:
1. Cell is the basic of life.
2. Cell organizes into tissue, tissue into organ, organ into organ system, and organ systems into organism.
3. Healthy cell contributes to healthy organism
4. Systems are independent.
এই সেল পড়াতে গিয়ে দুটো বিষয় পড়ে। তা হলো –
1. Systems and instruction.
2. Structural and function.

এত কিছু পড়ানোর পরে ছাত্র ছাত্রীর কাছে কি এক্সপেক্টশন হবে তা দুভাবে বলা যায়।
Overall Expectation.
Specific Expectation.

Overall expectation এর তিনটা বিষয় হতে পারে। যেমন
1. Assess the impact of cell biology on individual, society and the environment.
2. Investigate function and process of plant and animal cell.
3. Demonstrate and understanding of basic structure and function of plant and animal cell.

এই হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য যার মাধ্যমে কোষ বা সেল সম্পর্কে অনেক কিছু পড়ানো হয়। এখন একটা উদাহারন দেওয়া যেতে পারে। ধ রা যাক আমার topic এর মুল উদ্দেশ্য হচ্ছে — Relating society and technology to society and the environment.
1. Assess the role of selected technology—
E.G- The development of electron microscope,
The ability to infuse dyes into cells, the in-vitro fertilization, in enhancing our understanding of cell and cellular process.

Sample of question:
1.How have electron microscope helps our understanding of cell and cell process?
2. What are disadvantages of using this technology?
3. How might infusing dye into cell be a useful tools for diagnosing and /or treated diseases or for understanding how cell works?

এই ভাবেই এই প্রশ্ন গুলোকে সামনে রেখে একজন শিক্ষক ক্লাস ৮ ছেলে মেয়েদের ক্লাস সম্পর্কে জ্ঞান দিয়ে থাকে। এখানে কোন নির্দিষ্ট বই থাকে না। ছেলে মেয়েরা বিভিন্ন বই থেকে এই বিষয়ে জ্ঞান লাভ করতে পারে। তবে ক্লাসে শিক্ষকরা প্রিন্টং পেপের দিয়ে থাকেন।

এখন Specific expectation থেকে একটা sample question নিয়ে নাড়াচাড়া করলেই দেখা যাবে সেখানে কি পাওয়া যায়।
1. How might the understanding of cells and the cell processes help in treating disease? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে আমাকে কত দূর পর্যন্ত পড়া লাগবে? এই প্রশ্নটি গ্রেড এইটের কারিকুলাম থেকে নেওয়া হয়েছে। এই প্রশ্নের উত্তরটি আন্ডারগ্রাজুয়েশন পর্যন্ত কভার করে। কিন্তু আমি ৮,৯,১০,১১,১২ পর্যন্ত একটু একটু করে বিষয় ভিক্তিক পাঠ দিবো। একজন শিক্ষকই তা ঠিক করবেন কিভাবে তিনি তার ছাত্র ছাত্রীদের এই জ্ঞানটুকু দিতে পারবেন।

এই হচ্ছে ক্লাস এইটের পড়ুয়া একটি বাচ্চার সেল সম্পর্কে জ্ঞান লাভের প্রসেস। এখন আপনারাই দেখুন আমাদের দেশে পড়ুয়া একটি বাচ্চাকে সেল সম্পর্কে কি জ্ঞান দেওয়া হচ্ছে? সেই জ্ঞানের ভিক্তিতে তারা সমাজ সম্পর্কে কতটা সচেতন হচ্ছে? নিজ সম্পর্কে কি ধারনা হচ্ছে?বহিঃবিশ্বের সম্পর্কে কি ধারনা হচ্ছে? এই উত্তর গুলোর মাধ্যমেই আমাদের দেশের লেখা পড়ার মান বের করতে পারবেন। আমি অনেক ছেলে মেয়েদের যাচাই করে দেখেছি আন্তঃজার্তিক মানদন্ডে বিজ্ঞান বিষয়ে তাদের জ্ঞান এত কম যা অবাকই করার মত। আমাদের দেশের লেখা পড়ার উদ্দেশ্য হলো গল্ডেন জিপিএ। সেটাই অর্জিত হয়েছে তাই মান উন্নয়ন আর হয় নি।

About the Author:

লিখতে ভাললাগে তাই লিখি- নিজের জন্যে লিখি।

মন্তব্যসমূহ

  1. দিনেশ মার্চ 31, 2015 at 5:47 অপরাহ্ন - Reply

    আপনার লেখা থেকে জানতে পারলাম বাইরের দেশের লেখাপড়ার সাথে আমাদের দেশের লেখাপড়ার মুল পার্থক্য কত। আমাদের দেশের লেখাপড়া আসলেই গ্রেড ভিত্তিক হয়ে গেছে।

  2. পলাশ অক্টোবর 24, 2014 at 8:33 অপরাহ্ন - Reply

    চমত্কার লেখা।

  3. গুবরে ফড়িং অক্টোবর 22, 2014 at 12:29 পূর্বাহ্ন - Reply

    আমাদের শিক্ষা পদ্ধতি বদলাতে হবে, বদলাচ্ছে, কিন্তু আরও বদলাতে হবে এবং খুব দ্রুত। আপনার এই লেখাটি সেই বদলানোর অনুপ্রেরনা যোগাবে নিশ্চিত করেই বলা যায়।

    ক্লাসে একজন আরেক জনের রেজাল্ট কখনো জানতে পারে না। শিক্ষক এটি সব সময় তা গোপন রাখে।

    বা,

    ক্লাসে কোন পাঠ্য পুস্তক নেই। তবে হাই স্কুলের শিক্ষকরা কিছু কিছু বই অনুসরন করে।

    বা,

    গিফটেড স্কুলে সেই সব শিক্ষার্থীদের জন্য যাদের ভিতরে জিনিয়াস কিছু রয়েছে। শিক্ষকের রিকমেন্ডেশন থাকলে যে কোন সময় গিফটেড স্কুলে ভর্তি হওয়া যায়।

    বা,

    গ্রেড ফোর থেকে স্বাস্থ্য বিজ্ঞান (health science) পড়ানো শুরু হয়। এটি যৌন বিজ্ঞান। কি ভাবে মানুষের জন্ম হয়, কি ভাবে বাচ্চাদের উপর যৌন অত্যাচার চলতে পারে সেই সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়া হয়। এই সব কাজে কি কি অসুখ বিসুখ হতে পারে এবং তার থেকে বাচার জন্য কি কি প্রতিরোধ নেওয়া যায় এই সব বিষয় নিয়ে এই বিষয়টি সাজানো হয়েছে।

    এমনি সব অনেক নতুন তথ্য জানা গেল।

    লেখিকাকে ধন্যবাদ প্রয়োজনীয় একটি বিষয় নিয়ে লেখার জন্য, শুধু শব্দ বিভ্রাট দূর করতে হবে এবং আর একটু গোছানো হতে হবে।

    • রওশন আরা অক্টোবর 22, 2014 at 5:15 পূর্বাহ্ন - Reply

      @গুবরে ফড়িং,
      কিছুটা এডিট করার দরকার ছিল। স্বল্পতার কারনে পারি নাই। পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

  4. অভিজিৎ অক্টোবর 21, 2014 at 11:03 অপরাহ্ন - Reply

    মুক্তমনায় স্বাগতম, এবং চমৎকার লেখাটির জন্য ধন্যবাদ।

    সিরিজের জন্য শুভকামনা!

    • রওশন আরা অক্টোবর 22, 2014 at 5:01 পূর্বাহ্ন - Reply

      @অভিজিৎ,
      ধন্যবাদ আপনাকে আমাকে লেখার সুযোগ করে দেবার জন্য। এই বিষয়ে লেখার আগ্রহ ছিল অনেক আগে তা নিয়ে ফেসবুকে লেখা লেখি করেছি তবে সেখানে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সুযোগ পাই না। আশা করি এখানে আলোচনার অনেক সুযোগ রয়েছে।

  5. নিলয় নীল অক্টোবর 21, 2014 at 11:45 পূর্বাহ্ন - Reply

    ক্লাসে একজন আরেক জনের রেজাল্ট কখনো জানতে পারে না।

    আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে একটু অবাকই হতে হয় :-O

    • রওশন আরা অক্টোবর 22, 2014 at 5:16 পূর্বাহ্ন - Reply

      @নিলয় নীল,
      ঠিকই বলেছেন। দেশের প্রেক্ষাপটে অবাক হবারই কথা। পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

  6. কেশব কুমার অধিকারী অক্টোবর 21, 2014 at 9:25 পূর্বাহ্ন - Reply

    রওশন আরা,

    মুক্তমনায় বোধ করি এটি আপনার প্রথম লেখা, বা এটি আমার প্রথম পড়া আপনার প্রবন্ধ! যাইহোক, আমার তরফ থেকে সু স্বাগতম। আলোচনাটি চমৎকার। তবে বুঝতে পারছিনা যে শিক্ষা নীতির ঠিক কোন দিকগুলো নিয়ে আলোচনায় প্রাধান্য দেবেন! সেখানে কি একটি নির্দ্দিষ্ট কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি বহাল আছে? সেই শিক্ষানীতি বিষয়ে আলোকপাত করলে সম্ভবতঃ একটা সাধারন রূপরেখা পাওয়া যেতো। কানাডার ম্যনিটোবা মিনিষ্ট্রি অব এডুকেশন সম্পর্কে কি কিছু বলবেন? এধরনের অন্যান্য এলাকা ভিত্তিক এডুকেশন সিস্টেম গুলো কি কি? এদের বিশেষত্ত্ব গুলো কি, কিইবা এদের মাঝে পার্থক্য? এক একটা বিষয় ধরে ধরে আলোচনা তো একটা জটীল প্রকৃয়া! বিষয়ের গভীরেও যাওয়া যায় না আবার অবয়বটাও ঠিক ফুটে উঠেনা। আপনি কি নির্দ্দিষ্ট বিষয়ে বাংলাদশের পাঠ্যক্রম আর কানাডার পাঠ্যক্রমের তুলনা তুলে ধরতে চাইছেন? তবে এটা ঠিক যে আপনার লেখা থেকে বেশ বুঝা যাচ্ছে যে ঐ মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বকীয়তা, সৃজনশীলতা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংকল্প গঠনে বেশ ভূমিকা আছে! ধরাবাহিক লেখাটি চলুক…!

    • রওশন আরা অক্টোবর 21, 2014 at 7:27 অপরাহ্ন - Reply

      @কেশব কুমার অধিকারী,
      কেশব কুমার অধিকারী, আপনি আমাকে অনেক গুলো প্রশ্ন করেছেন। কানাডার সকল প্রভিন্স একই শিক্ষা নীতির অধীনে। যদিও ভিন্ন ভিন্ন স্কুল রয়েছে। শিক্ষার উদ্দেশ্য কি তা কারিকুলামে সুস্পষ্ট ইংগিত রয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের যে কারিকুলাম রয়েছে তা পড়লে মনে হয় শিক্ষার শিক্ষা সংক্রান্ত এক বিরাট ইনসাইক্লোপেডিয়া। শিক্ষার উদ্দেশ্য এবং লক্ষ সব প্রভিন্সে এক ও অভিন্ন, তবে বিষয়বস্তু নির্বাচনের ক্ষেত্রে কারিকুলামে ভিন্নতা থাকতে পারে। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছাত্রদের একটা ক্রিয়েটিভ ও এনালাইটিক মাইণ্ড তৈরী করা। আবারো একটা বিষয় উল্লেখযোগ্য, সব প্রভিন্সে শিক্ষাদানের পদ্ধতি একই। যেমন বীজ থেকে গাছ কি ভাবে তৈরী হয় এটি একটি বাচ্চা কে বোঝানোর জন্য প্রথমে প্রত্যক্ষ দর্শনের ব্যবস্থা করে। যেমন প্লাস্টিকের জীপারে ব্যাগে একটি ন্যাপ কিন বা টাওয়াল পেপার পানিতে ভিজিয়ে একটি বীজ কয়েক দিন রাখার ব্যবস্থা করা হয়। আস্তে আস্তে সেই বীজটি কি পরিবর্তন হচ্ছে তা স্বচক্ষে বাচ্চাদের দেখানো হচ্ছে। তা দেখেই বাচ্চাদের লেখতে দেওয়া হয়। যে যার মত করে লেখবে। শিক্ষকে জীবনের সাথে একাত্বতা করার একটা প্রক্রিয়া চলে যা জীবন ও সমাজকে সমৃদ্ধ করে। আমি এই লেখাটি দিয়েছি বাংলাদেশের সাথে একটা তুলনা মুলক আলোচনা করার জন্য। ছেলে মেয়েরা খুব ভাল করছে রেজাল্টের ক্ষেত্রে তবে পরবর্তিতে তাদের যে অবদান থাকার কথা ছিল সমাজ কি তা পাচ্ছে? শিক্ষা কী শুধু পেশা ভিক্তিক হয়ে যাচ্ছে না মানবিক উতকর্ষতার দিকে যাচ্ছে সেটি ও দেখার বিষয়।

  7. তামান্না ঝুমু অক্টোবর 21, 2014 at 7:31 পূর্বাহ্ন - Reply

    আমেরিকার শিক্ষা ব্যবস্থাও অনেকটা এই রকম।

মন্তব্য করুন