সালাফি সেক্যুলার, সহিহ ইসলাম, কোরআনের contextual পাঠ, বিশ্বাসের ভাইরাস ও বিবিধ বিষয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক প্রসঙ্গে

[পারভেজ আলম, অভিজিৎ রায়। দুজনেই আমার পরম শ্রদ্ধার। মুক্তচিন্তা প্রসারে দুজনের অবদানই আমি স্বীকার করি। অসংখ্য বিষয়ে তাদের চিন্তা- দৃষ্টিভঙ্গীর সাথে মিললেও, দুজনের সাথেই আবার আমার অনেক বিষয়ে মতপার্থক্য আছে। সেটাই স্বাভাবিক। মতপার্থক্য কখনোই অশ্রদ্ধার জায়গায় ঠেকেনি। কোন একটা বিষয়ে কাউকে আমি প্রচন্ড রকম ভুল মনে করলেই যে তার আর সমস্ত অবদানের কথা ভুলে যাবো, অশ্রদ্ধা করবো- এমনটা আমি কল্পনাও করিনা। সম্প্রতি, বাংলাভাষী অনলাইন দুনিয়ার এই দুই শক্ত দিকপালের মাঝে ডিবেট শুরু হয়েছে (এখন কিছুটা স্তিমিত) … একটু দেরি করে হলেও- সেই ডিবেট এ অংশ নিতেই এই লেখার অবতারণা। এই ডিবেটে দুজনের কিছু আচরণ আমার ভালো লাগেনি, সেটাও খোলামেলা এখানে বলেছি। সাথে ডিবেট এর জায়গাগুলোতে আমার চিন্তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আমার যুক্তি বুদ্ধিতে যেটা ঠিক মনে করেছি তাই বলেছি, ফলে সমস্ত বক্তব্যের দায় একান্ত আমার। দুজনেই আমার শ্রদ্ধার, দুজনকেই কাছের বন্ধু মনে করি। আশা করি, আমার এই আলোচনাকে তারা চিন্তার জায়গা থেকেই গ্রহণ করবেন। দ্বিমতের জায়গা, আমার ভুল ভ্রান্তি, আমার ভুল বুঝা- এসব নিয়ে যেকেউই কথা বলতে পারেন।]

সালাফি সেক্যুলার?
কিছুদিন আগে ইস্টিশন ব্লগে লেখা পারভেজ আলমের পোস্ট থেকে একটা ডিবেট শুরু হয়। ফেসবুকে পারভেজ আলমের ঐ পোস্ট শেয়ার করা স্ট্যাটাসটা চোখে পড়েছিল আগে। স্ট্যাটাসে শেয়ার করা অংশটুকু এবং ইস্টিশন ব্লগে প্রকাশিত পোস্টের শিরোনামটা দেখে স্বভাবতই পারভেজ আলমের সাথে একমত হতে পারিনি। ইস্টিশন ব্লগে লেখাটির শিরোনাম- “অভিজিৎ রায় কেন সালাফি সেক্যুলার হইলেন?” (http://istishon.com/node/9608) নাস্তিক- সেক্যুলার- মুক্তমনাদের নানারকম অভিধায় অভিষিক্ত করা ইদানিংকালের একটা ফ্যাশন হয়ে দাড়িয়েছে, যেমনটি বামদেরকেও নানা ট্যাগ, বিশেষণে বিশেষায়িত করাটাও অনেকে স্মার্টনেস প্রকাশের উপায় হিসেবে দেখেন। যাহোক, পারভেজ আলমের এই “সালাফি সেক্যুলার” অভিধাটি একদম নতুন মনে হওয়ায়- ‘সালাফি সেক্যুলার’ বস্তুটি যে আসলে কি (তাহা মাথায় দেয় না, গায়ে পরে)- জানার বিশেষ আগ্রহবোধ করি। তা জানার জন্যে ঐ পোস্টে ঢু মারতে হয়না- ঐ স্ট্যাটাসেই একটা সংজ্ঞা পেয়ে যাই। পারভেজ আলম লিখেছেনঃ “সালাফিরা কুরানের কট্টর লিটারাল ইন্টারপ্রিটেশনে বিশ্বাস করে, আইনের ক্ষেত্রে তারা মূলত হাম্বলি মাজহাবপন্থী হওয়ায় দুনিয়ার অন্য মুসলমানদের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ হাদিসকে তারা সহিহ বলে গন্য করে (প্রায় ৫০ হাজার)। এবং তারা কুরান হাদিসের বাইরে অন্য কিছুকে আইনের উৎস হিসাবে স্বীকার করে না। দুনিয়ার অধিকাংশ মুসলমানই ইসলাম সম্বন্ধে সালাফিদের সাথে একমত না। কিন্তু অভিজিৎ রায়ের মতো একজন সেকুলার ব্যক্তি ইসলাম বিষয়ে সালাফিদের সাথে পুরাপুরি একমত। অভিজিৎ রায় কেনো ইসলাম বিষয়ে একজন সালাফি সেকুলার হইলেন তা আমার প্রধান প্রশ্ন”।

শেষ বাক্যদুটোর আগ পর্যন্ত বাক্যগুলোর সাথে প্রায় পুরোমাত্রায় একমত, এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে নিয়ে আসা আলোচনাটা দারুণ- যেমনটা পারভেজ আলমের অসংখ্য লেখাতেই আমরা পাই। পারভেজ আলমের কাছ থেকে সালাফিদের সম্পর্কে আরো জানার আগ্রহ পাই। কিন্তু, ঠিক তারপরেই “কিন্তু” বলে পারভেজ আলম যেভাবে অভিজিৎ রায়কে ইসলাম বিষয়ে সালাফিদের সাথে “একমত” বলে দাবী করলেন এবং “সালাফি সেক্যুলার” এর সংজ্ঞা দাঁড় করলেন- সেটায় অবাকই হলাম। পারভেজ আলমের মূল পোস্টে ঢুকার আগেই, তার স্ট্যাটাস অতটুকু পড়ে মনে হয়েছিল- ইসলাম বিষয়ে সালাফিদের দাবীকৃত “সহি ইসলাম”কে কোন সেক্যুলার/ মুক্তমনা ব্যক্তি যদি কাউন্টার করতে যায়- তবে তাদেরকে “সালাফি”দের সাথে “একমত” বলা যায় কিনা, এবং এই “একমত” দেখিয়ে তাদেরকে একেবারে “সালাফি সেক্যুলার” বলে অভিহিত করা যায় কিনা! যাহোক পারভেজ আলম যে যুক্তিতে “সালাফি সেক্যুলার” অভিধা দিলেন, তার সাথে একমত হওয়ার কোন কারণ দেখিনা- কিন্তু তিনি যখন এই টার্মলজি আমদানি করেই ফেললেন, তখন তার সংজ্ঞা মোতাবেক নিজেকে “সালাফি সেক্যুলার” বলেই মনে হলো। মুশকিলটা হচ্ছে- আমার বিভিন্ন লেখায় কোরআনকে বাই টেক্সট যেমন ব্যবচ্ছেদ করেছি – তেমনি জাকির নায়েক, রাশাদ খলীফা, হারুন ইয়াহিয়া এমন অনেকের ব্যাখ্যারো সমালোচনা করে বিভিন্ন সময়ে লিখেছি- ফলে আমাকে সম্ভবত “সালাফি সেক্যুলার” এর সাথে সাথে ‘নায়েকি সেক্যুলার’, ‘রাশাদি সেক্যুলার’, ‘ইয়াহী সেক্যুলার’ এমন নানা বিশেষণে ডাকা যেতে পারে। তো, আর সব বিশেষণকে দূরে ঠেলে কেন আমি এমন ‘সালাফি সেক্যুলার’ হইলাম- তার জবাবটি দেয়ার জন্যেই আগ্রহ বেশি বোধ করি। মোটাদাগে এবং সংক্ষেপে কারণসমূহ হচ্ছেঃ
১) কোরআনকে কনটেক্সটচুয়ালি বুঝতে গেলেও লিটারেলি বুঝা দরকার বলে মনে করি। কোরআন লিখিত হওয়ার আমলটি ধরতে গেলে কোরআনের লিটারেল ইন্টারপ্রিটেশন সবচেয়ে বেশি কাজের। পরবর্তী যুগের নানা ইন্টারপ্রিটেশন- পরবর্তী সময়ের ইতিহাস- রাজনীতিকে ধরতে পারার ক্ষেত্রে সুবিধাজনক। কিন্তু মুহম্মদ (সাঃ)কে বুঝতে, সেই সময়ের আরবের ঘটনা প্রবাহকে বুঝতে গেলে কোরআনের লিটারাল ইন্টারপ্রিটেশন এবং সে সময়কার সাহাবিদের করা নানা ইন্টারপ্রিটেশন (হাদীস সমূহ) সবচেয়ে বড় অবলম্বন মনে করি।
২) সহি ইসলাম নিয়ে মুসলমানদের নানা মত থাকলেও- একটা বিষয়ে সকলেই একমত যে, কোরআন সবার ভিত্তি- মুহম্মদের জীবনী সবার জন্যে অনুকরণীয়। ফলে সালাফি বলি আর নন সালাফি বলি- ডিবেট এ শেষ পর্যন্ত ঐ কোরআনেই ফিরতে হয়, মুহম্মদ (সাঃ) এর জীবনীতেই ফিরতে হয়। কোরআন লিখিত হওয়ার ৫০০- ১০০০ বছর পরের নানাজনের নানা সুবিধাবাদী ও প্রয়োজনবাদী তথা পরিবর্তিত নৈতিকতা ও জ্ঞানের সাথে সমন্বয়কারী ইন্টারপ্রিটেশনের গলদ দেখানোটা তাই আমার কাছে যথেষ্ট জরুরীই মনে হয়।
৩) কাদের সাথে ডিবেট করছি, কোন উদ্দেশ্যে করছি- সেটাও আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। বাংলাদেশের মুসলমানদের বড় অংশ মডারেট মুসলমান, ধর্ম বিশ্বাসের দিক থেকে যাই হোক- অন্তত পালনের দিক থেকে। অনলাইন দুনিয়ায় এখনো শিক্ষিত মধ্যবিত্ত অংশই প্রধান, যারা ইসলাম- কোরআন- আল্লাহ মানে, বলতে গেলে সেভাবে না জেনেই। এবং এদের নৈতিকতাবোধ ১৪০০ বছর আগের আরব নৈতিকতা থেকে কিছুটা অগ্রসর বলেই মনে করি। ফলে, বহুবিবাহ- খুন খারাবি- যুদ্ধ- ধর্ষণ এসবকে তারা ভালো চোখে দেখে না, বর্তমানের নৈতিকতা থেকেই। তারা আজকের নৈতিকতার সাথে ধর্মবিশ্বাসকেন্দ্রিক নৈতিকতার একটা সমন্বয় করে চলে, মানে- কোরআনকে না লিটারালি- না কন্টেক্সটচুয়ালি পাঠ করে; পাঠ করে অনেকটা হিজিবিজি মন্ত্র পাঠের মত করেই, ভাসাভাসা জ্ঞানে বিশ্বাস করে যে, তাদের পালনকৃত বর্তমান নৈতিকতাই ইসলামিক নৈতিকতা। বরং অনেক সময় দেখা যায় বিভিন্ন ইসলামিস্টদের যে নৈতিকতা তার বর্তমানের নৈতিকতার সাথে মিলে না- তাকে কিছু না জেনে, না বুঝেই রায় দিয়ে ফেলে যে- ওটা ‘আসল বা সহি ইসলাম’ নয় (যেমনঃ ৭১ এ বেশিরভাগ মুসলমান বাঙালি জামাতি ফতোয়াকে গ্রহণ করেনি- তাদের ইসলামকে আসল ইসলাম না বলতে কাউকে কোরআন ঘাটতে হয়নি)। এদেরকে ‘আসল ইসলাম বা সহি ইসলাম’ দেখিয়ে দিয়ে ঐসব উগ্র ইসলামিস্টদের প্রচারিত নৈতিকতাকে গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করা হয়- এমনটা আমি মনে করি না। বরং, ‘সহি ইসলাম’ দেখানোর মধ্য দিয়ে তার পালনকৃত নৈতিকতার সাথে ধর্মবিশ্বাসের একটা দ্বন্দ্ব তৈরি করা খুব সম্ভব বলেই মনে করি। আমাদের বেশিরভাগ নাস্তিকদের নাস্তিক হওয়ার ক্ষেত্রেই এটি ঘটেছে। ধর্ম বিশ্বাসের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকতে এটি খুব কাজের। সেই সাথে এমনটা মনে করি যে, নাস্তিক/ মুক্তমনাদের এ ধরণের লেখা পড়ে- সহি ইসলামের ব্যাখ্যা পড়ে একজন আস্তিক ব্যক্তি তার প্রচলিত নৈতিকতা বনাম ধর্মবিশ্বাসের দ্বন্দ্বে প্রচলিত নৈতিকতাকে ত্যাগ করে নাস্তিকদের কথিত ‘সহি ইসলাম’-এর নৈতিকতাকে গ্রহণ করবে; এমন সম্ভাবনা একেবারেই কম।

যাহোক, এ গেল আমার মোটের উপরে “সালাফি সেক্যুলার” হওয়ার কারণ। কিন্তু “সালাফি সেক্যুলার” হলেও আমি যে সালাফিদের সাথে মোটেও একমত নই- তা আলবৎ বলতে পারি। আল্লাহ বলে কোন কিছুর অস্তিত্বে আমার বিশ্বাস নাই, কোরআনকে মুহম্মদ (সাঃ) ও তার সময়ের সাহাবীদের লেখা এবং ওসমান (রাঃ) এর হাতে সংকলিত একটা গ্রন্থ মনে করি এবং তার চাইতেও বড় বিষয় হচ্ছে- কোরআনকে মুহম্মদ (সাঃ) এর এবং ওসমান (রাঃ) এর প্রেক্ষিতে কনটেক্সটচুয়াল একটা গ্রন্থ হিসেবেই দেখি। (আমার জানামতে অভিজিৎ রায় সহ সমস্ত নাস্তিক এমনই মনে করে)। আয়েশা (রাঃ) এর টপাটপ আয়াত নাযিল করা সংক্রান্ত হাদীসটা বেশিরভাগ নাস্তিকের মত অভিজিৎ রায়েরও যথেষ্ট প্রিয় বলেই জানি (তার লেখাতেও এর উল্লেখ দেখেছি) … সুতরাং সালাফিদের সাথে “সালাফি সেক্যুলার”দের একটা বড় পার্থক্য হচ্ছে- সালাফিরা কোরআনকে আল্লাহ কর্তৃক প্রেরণকৃত ও সংরক্ষণকৃত অপরিবর্তনীয়- অলংঘ্যনীয় মহাপবিত্র ধর্মগ্রন্থ হিসেবে একে লিটারালি দেখে। আর আমরা “সালাফি সেক্যুলার”রা মুহম্মদ (সাঃ) ও সাহাবীদের ভূমিকা, তাদের হাতে ইসলামের উদ্ভব, ঐ সময়ের আরব সমাজ- রাজনীতি- অর্থনীতি- ইতিহাস পরম্পরা বুঝার জন্যে কোরআনের লিটারাল ও হাদীসসমূহ নির্ভর ব্যাখ্যা এবং সমসাময়িক ও সাহাবীদের মাধ্যমে (সরাসরি সাহাবীদের দ্বারা কিংবা সাহাবী থেকে পরবর্তী আরো কয়েক প্রজন্মে) প্রচারিত আলোচনা, ইতিহাস, জীবনী বা সিরাত এর উপর নির্ভর করি! ইতিহাসের এমন পাঠের কোন কোন বিষয় সালাফিদের সাথে “সালাফি সেক্যুলার”দের মিলে গেলেও- তাকে একমত বলা যাবে কিনা ভেবে দেখতে বলি। সেদিন এক দলান্ধ আওয়ামীলীগারকে পেলাম- যিনি দাবী করছিলেন জিয়া নাকি কোনদিনই স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে যাননি, ঘোষণা-টোষণা দেয়া দূরের কথা। আমি বললাম- ভাই, অস্বীকার করে লাভ নেই, এটা প্রমানিত সত্য যে জিয়া গিয়েছিলেন এবং স্বাধীনতার একটা ঘোষণাপত্র পাঠ করেছিলেন- কিন্তু সেটা ২৬ তারিখে না, ২৭ তারিখে- তিনিই প্রথম নন, ঐ বেতার কেন্দ্র থেকে আরো কয়েকজন ২৬ তারিখ থেকেই স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেছিলেন, এবং অন্যান্যদের মত জিয়ার ঘোষণাতেও বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা পাঠ হয়। এটি শুনে ঐ দলান্ধের মনে হলো- আমি নাকি বিএনপির সাথে একমত! “মেজর জিয়া আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে গিয়েছিলেন” – কেবল এতটুকু বয়ানের মিলকে যদি “একমত” বলা হয়, তবে কি বলা যাবে তাকে? বিএনপির মত আমি জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক মনে করি না, মনে করি স্বাধীনতার ঘোষণার অন্যতম পাঠক এবং সামরিক ব্যক্তিদের মধ্যে প্রথম পাঠক, তারপরেও কি একমত বলা যাবে?

ফারাবীকে উদ্ধারে ফারাবী-আত্মীয়ের মিশন?
“সালাফি সেক্যুলার” নিয়ে হয়তো ফেসবুকে ঐ স্ট্যাটাসেই একটা আলোচনা করা যেত, কিন্তু কিছুটা সমায়াভাব, কিছুটা আলসেমি আর বাকিটা পারভেজ আলমের পুরা পোস্ট পড়ে মনে হলো- পারভেজ আলমের পোস্টের শিরোনাম এবং ফেসবুক স্ট্যাটাসে উল্লেখ করা এই অংশটুকু খুব গৌন বিষয় (এবং সবচেয়ে দুর্বল অংশ) হলেও পোস্টের মূল আলোচ্য বিষয় বেশ আগ্রহোদ্দীপক। আসলে এই পোস্টটি অভিজিৎ রায়ের আরেকটি লেখার প্রতিক্রিয়ায় লেখা, এবং একটি সমালোচনামূলক লেখা যা পোস্টের শুরুতেই পারভেজ আলম সরল স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছেন। অভিজিৎ রায়ের লেখাটিও পড়া হয়ে যায় (‘From Farabi to ISIS: The Virus of Faith is Indeed Real : www.mukto-mona.com/wordpress/?p=3167)। পাশাপাশি দুটো লেখা পড়তে বেশ লাগলো, অভিজিৎ রায়ের প্রতি করা পারভেজ আলমের প্রধান প্রশ্নটি বাদে। আমার কাছে বরং এই প্রশ্নটিই গৌন মনে হয়েছে- তার চাইতেও প্রধান ও জরুরি প্রশ্ন একই পোস্টে বর্তমান, বর্তমান সময়ে সাড়া জাগানো মিমতত্ত্ব, বিশ্বাসের ভাইরাস নিয়ে করা প্রশ্নসমূহ, বর্তমান সময়ে ইসলামি জঙ্গীবাদের উত্থানের কারণ হিসেবে ভূ-রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক প্রেক্ষাপট বাদ দিয়ে কেবল “সহি ইসলাম”কেই একমাত্র জ্ঞান করা নিয়ে প্রশ্নসমূহ প্রভৃতি আমার কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে, যৌক্তিক তো বটেই। পারভেজ আলমের সেই পোস্টের অনেক কিছুর সাথেই একমত পোষণ করি। ফলে আশা করেছিলাম দারুণ এক বিতর্কের। আগ্রহ ভরে অপেক্ষাতেও ছিলাম, অভিজিৎ রায় কি জবাব দেন তা দেখার জন্যে।

অভিজিৎ রায় ৪ দিন পরে ফেসবুকের স্টাটাসে (https://www.facebook.com/Avijit.Roy.MuktoMona/posts/768728793183393) যে জবাবটি দিলেন, সেটি পুরোমাত্রায় হতাশ করলো! সত্যি বলতে কি, খুব অবাক হয়েছি- কিছুটা কষ্টও পেয়েছি, কেননা তাঁর কাছে এমন জবাব একেবারেই আশা করিনি। প্রায় ২২শ শব্দের এই স্ট্যাটাসের অন্তত প্রথম এক তৃতীয়াংশ পড়তে গিয়ে আমি বারেবারেই হোচট খাচ্ছিলাম, আর ভাবছিলাম- এই কি আমাদের তরুণ মুক্তমনাদের পরম ভরসার অভিজিৎ রায়ের লেখা? পারভেজ কিছু প্রশ্ন তুলেছে, অভিজিৎ রায়ের সমালোচনা করেছে, ফারাবী থেকে আইসিস শিরোনামের একটি লেখাকে কেন্দ্র করেই পারভেজের সেসমস্ত সমালোচনা- হতে পারে একেবারেই ভুল, একদম বালকসুলভ-কিন্তু সেই লেখাটিকে ফারাবীর পক্ষে, ফারাবীকে রক্ষার জন্যে কেউ বলতে পারে, ফারাবীকে নিয়ে অভিজিতের লেখাটির কারণেই পারভেজ আলম ঝাঁপিয়ে পড়েছে- এমনভাবে কেউ আলোচনাটা শুরু করতে পারে- তা কল্পনাও করতে পারি না। ফারাবীর পক্ষে যায় এমন একটি বাক্য কি পারভেজ আলমের লেখায় পাওয়া কি যায়? তাছাড়া, পারভেজ আলম তার পোস্টে শুরুতে জানাচ্ছেনঃ “পুরো লেখাটি আমার আলোচনার বিষয়বস্তুও না। লেখাটিতে ফারাবির ফতোয়াবাজি, বাংলাদেশের নাস্তিক ব্লগারদের উপর মৌলবাদীদের হামলা, সরকারি নির্যাতন, বাক স্বাধীনতা প্রসঙ্গ, অভিজিৎ রায়ের বই ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’ ও রকমারিডটকম প্রসঙ্গসহ বিভিন্ন বিষয় এসেছে যা নিয়ে আমার এই লেখায় কিছু বলার নাই। আগ্রহী পাঠকরা মূল লেখাটি পড়ে নেবেন। আমি শুধু অভিজিৎ রায় তার এই লেখায় ধর্ম ও টেরোরিজম বিষয়ে যে তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং টেরোরিজম সমস্যা সমাধানের যেধরনের আভাস দিয়েছেন তা নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই”। অভিজিৎ রায় কিভাবে বলতে পারেনঃ “নিধিরাম সর্দার সাহেব যথারীতি তার ঢাল তলোয়ার নিয়ে দাঁড়ালেন ফারাবীর সমর্থনে”? এক “সালাফি সেক্যুলার” বলাতেই এমন তীব্র রাগঃ “ভাসুরের নাম নেয়া যেহেতু বারণ, তাই ফারাবীকে সোজাসুজি সমর্থন না জানিয়ে আমাকে বানালেন, ‘সালাফি সেক্যুলার’”?

পারভেজ আলমের প্রতি ফারাবীকে সমর্থনের অভিযোগ শুধু নয়, একেবারে বড়সড় একটা ইতিহাসও রচিত হলো! ফারাবীর হুমকিতে ভয় পেয়ে “ফারাবীকে নিয়ে কেউ কিছু লিখলেই তিনি নিধিরাম সর্দারের মতো অদৃশ্য ঢাল তলোয়ার নিয়ে বুক চিতিয়ে দাঁড়ান”– এমন ইতিহাসের সাথে সাথে অভিজিৎ রায় ফারাবীর সাথে দুঃসম্পর্কিত আত্মীয়তার সম্পর্কও খুঁজে পেয়েছেন! বুক চিতিয়ে দাঁড়ানো লেখার কোন লিংক বা সন্ধান না দিয়ে এমন কথা বলাটা অভিজিৎ রায়ের কাছে কাম্য নয়। ফারাবীর হয়ে বুক চিতিয়ে দাঁড়াতে পারভেজ আলমকে কখনো দেখিনি, বরং দীর্ঘদিন ধরেই স্বনামে প্রকাশ্যে ইসলাম, ধর্মতত্ত্ব, ইসলামের ইতিহাস নিয়ে ধারাবাহিক লিখে যাচ্ছেন- এমনকি তার আরজ আলী মাতুব্বর পাঠাগারের প্রকাশনায় নাস্তিক্যবাদী প্রবন্ধ প্রকাশ করে লোকজনের হাতে হাতে বিক্রি করতে দেখেছি। আমার “জাকির নায়েক, কোরআন ও নারী” সংক্রান্ত লেখাটি (মুক্তমনা ব্লগের ডানদিকে “সর্বোচ্চ পঠিত” অংশে উপর থেকে তিন নম্বর পোস্ট) তাদের পত্রিকায় প্রকাশ করার দুঃসাহস তিনি দেখিয়েছেন (আমার যাবতীয় লেখার মধ্যে যেকটির কারণে মেসেজে ও পোস্টে সবচেয়ে বেশি আক্রমণের শিকার হয়েছিলাম সেগুলোর মধ্যে এটি ও মুহম্মদ সাঃ এর বিয়ে লেখাটি শীর্ষে থাকবে)। “কে জানে!” বলে অর্থাৎ নিশ্চিত না হয়ে আত্মীয়তার সূত্র আবিস্কার করা আদৌ কতখানি রুচিকর,- তা অভিজিৎ রায়কে আরেকটু ভেবে দেখতে অনুরোধ জানাই। যদি তর্কের খাতিরে ধরেও নিই এ সমস্ত ইতিহাস সত্য (মানে ফারাবীর হুমকিতে পারভেজ আলম ভয় পেয়েছে বা কোনরকম আত্মীয়তার সম্পর্ক আছে- যদিও অভিজিৎ রায় তার লেখায় এসমস্ত অভিযোগের পক্ষে কোন প্রমাণ হাজির করেন নি)- তদুপরি একটা সমালোচনার জবাবে লিখিত স্ট্যাটাসে/ পোস্টে এসব কতখানি অপরিহার্য, কতখানি প্রাসঙ্গিক? আমার কেন জানি লালসালুর মজিদের সেই বিখ্যাত উক্তির কথা মনে পড়ে যায়ঃ “মিঞা, তোমার দাড়ি কোথায়?”

কেবল অভিজিৎ রায় যে “মিঞা তোমার দাড়ি কোথায়?” প্রশ্নটি করেছেন তা নয়, একই কাজ করতে দেখি আসিফ মহিউদ্দিনকে, দেখি মুহাম্মদ গোলাম সারওয়ারকেও। আসিফ মহিউদ্দিন পারভেজ আলমকে জাকির নায়েকের সাথে তুলনা করে বসেন। আর গোলাম সারওয়ার পারভেজ আলমকে ভাইরাস সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান আহরণের পরামর্শ দেন, পারভেজ আলমের বিরুদ্ধে অভিজিৎ রায়কে মুসলিম কমিউনিটির বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর অভিযোগ আনেন- যার প্রমাণ হিসেবে পারভেজের সর্বশেষ পাচটি ব্লগের স্ক্রিনশট উত্থাপিত হয়! পারভেজ আলমের লেখাটিতে ভাইরাস সংক্রান্ত জ্ঞানের কোথায় ঘাটতি বা ভুল আছে তা কয়েকবার পড়েও খুঁজে পাইনি, এমনকি গোলাম সারওয়ার প্রদত্ত ভাইরাসের সংজ্ঞাটি পড়ার পরেও পারভেজের পোস্টে এই ঘাটতি খুঁজে পেলাম না (আফসোস), ফলে মনেই হয়েছে পারভেজকে এইসমস্ত পরামর্শ দেয়ার চাইতে পারভেজের লেখা ধরে দেখানো দরকার ছিল, কোন জায়গায় ‘ভাইরাস’ সম্পর্কে পারভেজ আলমের জানা বোঝার ঘাটতি আছে! অভিজিৎ রায়কে পারভেজ আলমের মুসলিম কমিউনিটির বিরুদ্ধে দাঁড় করার অভিযোগটিও সেইরকম, অভিজিৎ সহ বাংলাদেশের নাস্তিক মুক্তমনারা কবে সেই মোল্লা- মুসলিম কমিউনিটির বিরুদ্ধে দাঁড়ানো ছিল না? পারভেজ নিজেও কি নেই? আর, পারভেজের কি উদ্দেশ্য থাকতে পারে ইতোমধ্যেই মুসলিমদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হিসেবে এই দেশের মোল্লা-মুসলিমদের কাছে পরিচিত একজনকে নতুন করে অমন দাঁড় করানোর (অভিজিৎ রায়ের মত গোলাম সারওয়ারও কি মনে করেন- ফারাবীর ভয়ে ভীত হয়েই একাজ করছেন?)? আর, পাঁচটি ব্লগ পোস্টের স্ক্রিনশট দিয়ে এমন দাবি দেখে অবাকই হলাম। একটা ডিবেট শুরু হওয়ার পরে কাউন্টার- কাউন্টারের কাউন্টার … এমন করে চললে একাধিক লেখা ধারাবাহিকভাবে তো আসতেই পারে, এক পারভেজ আলমের লেখার জবাবে অভিজিৎ রায় ফেসবুকে বড় বড় দুটো লেখা দিয়েছেন, গোলাম সারওয়ার মুক্তমনায় দু দুটো পোস্ট দিয়েছেন, আসিফ মহিউদ্দিনও বড় স্ট্যাটাস দিয়েছেন … তাহলে পারভেজ আলম কেন ৫ টি পোস্ট লিখতে পারবেন না- সেটাই বোধগম্য হলো না। অন্তত এই ব্যাপারে কি বরং সাধুবাদ জানানো উচিৎ না যে, তিনি ডিবেটে থাকতে চান বলেই ধৈর্য ধরে এতগুলো লিখেছেন, লিখছেন?

উল্টোদিকে পারভেজ আলমও যে সেই একই কাজ করেছেন, সেটিও এখানে বলে যাই। “অভিজিৎ রায়ের সমালোচনা করেছি বাংলাদেশের স্বার্থে” শিরোনামে পারভেজ আলমের ৩য় পোস্টের শেষ প্যারাঃ “যাই হউক, আমি অভিজিৎ রায়ের সমালোচনা আসলে ভয়ের চোটেই করেছিলাম। তবে সেটা আমার একার অস্তিত্বের জন্যে নয়। বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্যে ভয়”। এই যে বাংলাদেশের অস্তিত্ব কোথায় কিভাবে বিপন্ন হলো, আর কেনইবা তার জন্যে ভয় পেয়ে অভিজিৎ রায়ের সমালোচনা এত অপরিহার্য মনে হলো- লাখ টাকার প্রশ্ন! অভিজিৎ রায় বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্যে কতটুকু হুমকি, কিংবা ভয়ে কম্পমান পারভেজ আলমের এহেন সমালোচনার আউটপুটটাই বা কি- তথা সমালোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের অস্তিত্ব কতটুকু রক্ষা পেল- বুঝা ভার! বাস্তবে বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষার কথিত সব দায়দায়িত্ব এককভাবে নিজের ঘাড়ে টেনে নেওয়ার কোন মানে দেখিনা, আর অভিজিৎ রায় সহ যারা ধর্ম বিশ্বাসকে বিশ্বাসের ভাইরাস দিয়ে ব্যাখ্যা করছেন, ইসলামিক জঙ্গীদের উত্থানের পেছনে লিটারাল কোরআনের ইন্টারপ্রিটেশন তথা সহি ইসলামকে দায়ী করছেন- তাদের এইসব কিছু আলোচনা, যুক্তি তর্কেই যদি বাংলাদেশের অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন মনে করে কেউ, তবে মনে করি- অভিজিৎ রায়দের সমালোচনার চাইতে আরো অনেক বেশি জরুরি, যে প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতি এই সমস্ত আলাপ- বক্তব্যের অযুহাতে বাংলাদেশের অস্তিত্ব বিপন্ন করতে উদ্যত হচ্ছে- সেই প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতির মোকাবেলা করা।

যাহোক, পারভেজ আলম- অভিজিৎ রায়- গোলাম সারওয়ার প্রমুখের এই সমস্ত “লুজ টক” (যা তাদের নাম ও কাজের সাথে মানানসই বলে আমি মনে করি না) আলোচ্য মূল ডিবেটকে কিছুটা খাটো করেছে, তাদের অসহিষ্ণু ও শিশুসুলভ আচরণ বিতর্কের মেজাজকেও অনেক সময় নষ্ট করেছে বলে মনে হয়েছে বলেই- মূল ডিবেটের চাইতে এতক্ষণ এইসব লুজ টক নিয়ে কথা বলা। আশা করছি, তাদের সমালোচনা করার ধরণটি নিয়ে আমার সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে নিবেন। এবারে অল্প করে মূল ডিবেট প্রসঙ্গে ঢু মারা যাক তাহলে …

কি নিয়ে ডিবেট তবে?
আমার মনে হয়েছে মূল ডিবেটের বিষয়গুলো হচ্ছে, মিমতত্ত্ব – বিশ্বাসের ভাইরাস-সহি ইসলাম – কোরআনের লিটারাল ইন্টারপ্রিটেশন ও কনটেক্সটচুয়াল ইন্টারপ্রিটেশন – বর্তমানের ও যুগে যুগে সংঘটিত নানা ধরণের ধর্মীয় জঙ্গীবাদ, সহিংসতা, ঘৃণা প্রভৃতির মূল উৎস ও কারণ। এসমস্ত বিষয়ই ডিবেটে আসলেও আমার কাছে মনে হয়েছে এই ডিবেটের মূল ভারকেন্দ্র হচ্ছে এই প্রশ্নটি যে- যুগে যুগে সংঘটিত, বিশেষ করে বর্তমানের নানা ধরণের ধর্মীয় জঙ্গীবাদ, স্পেসিফিকালি বললে ইসলামিক জঙ্গীবাদ, সহিংসতা, ঘৃণা প্রভৃতির মূল উৎস ও কারণ কোনটি? সহি ইসলাম, কোরআন ও ধর্মকেন্দ্রিক মতাদর্শ তথা ধর্মান্ধতা? নাকি, জিও পলিটিকস, সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্য বিস্তার, আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপট প্রভৃতি? অন্য বিষয়গুলোতে ধীরে ধীরে আমার চিন্তা তুলে ধরার আগে এই মূল ভারকেন্দ্রের ডিবেটটির ব্যাপারে আমার মতটি দেয়া যাক।
আমার মতে- উৎস বলি, কারণ বলি- উপরে উল্লেখিত দুটো বিষয়কেই সামনে আনতে হবে। কোনটিকে বাদ দিতে চাই না। কোনটি প্রায়োর এই ডিবেট হতেই পারে, কিন্তু আমার কাছে দুই কারণই প্রায় সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই জায়গাটিতেই এই ডিবেটে দুই পক্ষকে আমার দুই মেরুতে অবস্থানকারী মনে হয়েছে। একপক্ষের কাছে একটি কারণের গুরুত্ব আকাশসম তো অপরটি মাইক্রোস্কোপিক! ফলে এখান থেকে যে দ্বিমত বা দূরত্ব তার ব্যপ্তিও হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় অসীম, ফলে সেই ঝাঁজ প্রতিটি বিতর্কেই ফোয়ারা হয়ে উপচে পড়েছে। যাহোক, আমি আমার মতে উভয় বিষয়ের গুরুত্ব নিয়ে আলোকপাত করার চেষ্টা করি।

ছোট দুটো গ্রাম্য চুটকি বলি। প্রথমটাঃ “বাপ বেটা নদীর ঐ পাড়ে ওয়াজ শুনতে গেছে। সারারাত ওয়াজ শুনে ভোররাতের দিকে বাড়ী ফিরতে নদী পার হচ্ছে। হাটু পানি, কিন্তু কিছুটা স্রোত আছে। বাপ খেয়াল করলো- পোলা বারেবারে পিছিয়ে পড়ছে। শেষে বাপ হাক দেয় পোলাকে- কিরে হাসু কি হলো তর? খালি পেছায় পড়স ক্যান? পোলায় বলে- ক্যান, বড় হুজুরে যে কইলো হাটুর উপরে কাপড় তোলা হারাম! বাপে গালি দিয়া পোলারে জবাব দেয়- ঐ হারামজাদা, নদীর ঐ পাড়ের ওয়াজ এই পাড়ে আনতে গেছোস ক্যান?” দ্বিতীয়টাঃ “দূরদেশ থেকে হুজুর গ্রামে আসছে- ওয়াজ হবে,মাহফিল হবে, দোয়া দরুদ হবে। হুজুরের থাকার ব্যবস্থা হইছে গ্রামের মাতবরের বাড়িতে। শীতের রাত হইলেও- অনেক রাত পর্যন্ত মেলা মানুষ হুজুরের ওয়াজ মনোযোগ দিয়া শুনছে- হুজুরের সাথে আল্লার ইবাদত বন্দিগী মেলা করছে! গ্রামের মেয়েদেরও ওয়াজ শোনার আলাদা পর্দা ঘেরা ব্যবস্থা ছিল। তো ওয়াজ শেষে মাতব্বরের বাড়িতে ভালো খাওয়া দাওয়া শেষে মাতব্বর হুজুর আর তার চেলার ঘর দেখিয়ে দিল। শুতে গিয়ে দেখে- বিছানা বালিশ সব আছে, খালি কাঁথা- লেপ- কম্বল কিছুই নাই। এইদিকে শীতকাল, সেইরকম ঠান্ডা। দুজনেই কাঁপতে লাগছে। হুজুর শেষে না পেরে চেলাকে বাড়ির ভিতরে পাঠালো কাঁথা- কম্বল কিছু পাওয়া যায় কিনা। চেলা খালি হাতে ফিরে এসে বলে- হুজুর সর্বনাশ হইছে- আপনি ওয়াজে যে বলছেন, মহিলাদের ব্যবহার করা জিনিসপত্র ব্যাটাছেলের ব্যবহার করা হারাম! ঐটা শুনে আমাগো ঘর থেকে সব কাঁথা সরায় নিছে, কেননা সবই মহিলাদের শাড়ি দিয়ে তৈরি। হুজুর আবার চেলাকে পাঠালো এই বলতে যে, এই ফতোয়া হচ্ছে গরমকালের জন্যে, শীতকালের জন্যে না। চেলা আবার খালি ফিরে এসে বলে- তারে নাকি জিজ্ঞেস করেছে- গরমকালের ওয়াজ শীতকালে শুনান ক্যান? হুজুর আবার চেলাকে বলতে পাঠালো- হুজুর তো সব ঋতুতে, সব কালে আসতে পারবে না- তাই অগ্রিম গরমকালের ওয়াজও এই শীতকালে করে ফেলেছে”।

চুটকি দুটি সাদামাটা, তেমন হাসি আসেনা- কিন্তু আমার কাছে খুব সিগনিফিকেন্ট মনে হয়। অনেক আগে গ্রামের বাড়িতে এই চুটকি শোনা, আস্তিক ব্যক্তির কাছে শোনা- আমি ছাড়া বাকি শ্রোতারাও ছিল আস্তিক। বুঝতে পারি, এরকম চুটকি সম্ভবত বাস্তব অভিজ্ঞতাজাত। আর এ কারণেই এগুলো আমার কাছে খুব সিগনিফিকেন্ট মনে হয়, আমাদের ধর্ম বিশ্বাস আর ধর্মাচরণ- আমাদের সুযোগ সুবিধা অনুযায়ী আবর্তিত হয়- সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, পারিপার্শিক নানা কিছুর সাথে একরকম সমন্বয় সাধন করেই এগুলো চলে। ফলে, এগুলো পরিবর্তিতও হয়। ধর্ম জিনিসটাই লৌকিক, একেবারে মানুষের হাতে গড়া। ফলে, এখানে কোন ধর্মের পক্ষেই একেবারে উৎসকালীন বিশুদ্ধতা নিয়ে সর্বসময়ে সর্বদেশে টিকে থাকা সম্ভব নয়। হ্যাঁ, ধর্মের ঐশ্বরিক বিশুদ্ধতার দাবি- সমাজ সংস্কৃতি নৈতিকতার পরিবর্তনকে মন্থর করে দেয় ঠিকই, কিন্তু একেবারে বন্ধ করতে পারে না। এবং আজ পর্যন্ত কোন ধর্মই কোনরূপ পরিবর্তন ছাড়া, অন্য সংস্কৃতি- নৈতিকতা- আচার- কায়দা কানুনের সাথে মিথস্ক্রিয়া ছাড়া দেশ-কাল পাড়ি দিতে পারেনি। একইভাবে ১৪০০ বছর আগের আরব সমাজের প্রেক্ষাপটে, সেখানকার রীতি নীতি, আচার, সংস্কৃতি, নীতি-নৈতিকতার সাথে সমন্বয় করে এবং ক্ষেত্র বিশেষে দ্বন্দ্ব করেই যেমন ইসলামের উদ্ভব হয়েছিল, ঠিক তেমনি সেই একই ইসলাম যখন আরব পার হয়ে আফ্রিকায় গিয়েছে, ইউরোপে গিয়েছে, এই ভারত মহাদেশে এসেছে- তার অনেক কিছুই পাল্টাতে হয়েছে। আবার সময়ের সাথে সমাজের আর্থ সামাজিক নানা প্রেক্ষাপটের পরিবর্তনেও ইসলামকে অনেক কিছু পাল্টে নিতে হয়েছে। খোদ সৌদি আরবেই সেই মুহম্মদ সাঃ এর সম সাময়িক অনেক ইসলামিক রীতি নীতি আজ আর পাওয়া যাবে না। যুদ্ধ বিগ্রহ- লুন্ঠন- ডাকাতি নির্ভর আরব সমাজে আয় রোজগারের জন্যে যতই কোরআনে ‘গনীমতের মাল’ এর বিধান থাকুক না কেন, পরিবর্তিত আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটে আজ আরব দেশে এই গনীমতের মালের উপর নির্ভর করে অর্থনীতি চালাতে হয় না। জ্ঞান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যত উন্মেষ ও প্রসার ঘটেছে ধর্মীয় যাদু টোনা তুক তাকের উপর নির্ভরতা ততই কমেছে, কমছে এবং আরো কমবে- যতই খোদ নবী মুহম্মদ সাঃ নিজেই যাদু টোনার শিকার হয়ে তা থেকে মুক্ত হতে কোরআনের আয়াত/ সুরা নাযিল হোক না কেন। অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে নারীদের যতবেশি যুক্ত হওয়ার প্রয়োজনিয়তা অনুভূত হবে, তত বেশি তাদের শিক্ষায় আসতে হবে, যতবেশি তারা অর্থনৈতিক কাজে কর্মে যুক্ত হবে- সমাজে তাদেরকে ঘরে আটকে রাখা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে- এটাই হচ্ছে আজকের বাস্তবতা। ফলে, হেফাজত তান্ডব চালিয়ে নাস্তিকদের বিরুদ্ধে তুলকালাম করে ফেললেও গার্মেন্টস সেক্টরে নারীদের আগমন কমাতে পারেনি এতখানি, এমনকি গার্মেন্টসের বিশ্বাসী নারীদের গায়ে বোরখাও চাপাতে পারেনি। এতসব আলোচনার আসলে উদ্দেশ্য এটাই যে, আমি মনে করি যে- আজকের ধার্মিক বা আস্তিকদের সমস্ত ধর্মীয় আচার আচরণ, এমনকি ধর্মীয় বিশ্বাস একেবারে উৎপত্তিকালের ধর্মীয় আচার- আচরণ- বিশ্বাস- নীতি- নৈতিকতা দিয়ে বুঝতে যাওয়াটা ভুল, বরং আজকের আর্থ সামাজিক পরিস্থিতি, আজকের আচার আচরণ, নীতি নৈতিকতার ধারণা, বিশ্ব রাজনৈতিক পরিস্থিতি এসব দিয়ে বুঝাটা খুব জরুরি। এ অর্থে আমিও পারভেজ আলমের মত মনে করি- ফারাবি, হেফাজত থেকে শুরু করে তালিবান- আইসিস সমস্তকে আজকের প্রেক্ষাপট বাদ দিয়ে ১৪০০ বছর আগের মুহম্মদ সাঃ প্রবর্তিত ইসলাম দিয়ে বুঝতে চাইলে আংশিক একটা দিকই বুঝতে পারবো। ফারাবির ফারাবি হওয়া, হেফাজতের হেফাজত হওয়া, তালিবানের তালিবান হওয়া কিংবা আইসিসের আইসিস হওয়ার পেছনে কেবল যদি আমরা মুহম্মদ সাঃ প্রবর্তিত সহি ইসলাম আর বাই টেক্সট কোরআনকে দেখি, তাহলে বাংলাদেশের কোটি কোটি মুহম্মদ সাঃ উম্মত- সহি ইসলামে বিশ্বাসী মুসলিম আরো অনেক আগে ফারাবি হয়ে বসে থাকতো, হেফাজত হয়ে সেই পাক পাকিস্তান রক্ষার লড়াইয়ে ৭১ এ ইসলামী বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলত! খেলাফত ঘোষণার জন্যে আইসিসকে ২০১৪ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো না, কিংবা খেলাফত ঘোষণার সাথে সাথে দুনিয়ার শত কোটি মুমিন বান্দা অস্ত্র সস্ত্র হাতে নিয়ে সেই খেলাফতকে দুনিয়াব্যাপি ছড়িয়ে দিতে ঝাঁপিয়ে পড়ত! কিন্তু এসবের কিছু ঘটেনি, ঘটছে না, কেননা দুনিয়াজুড়ে সমস্ত উম্মত মুমিন মুসলিম বান্দারা একইভাবে ক্রিয়া করছে না, এমনকি বিশ্বাসের জায়গা থেকে সহমর্মী হলেও সমর্থন করলেও- একই কাজে একইভাবে নামছে না। কেন? হেফাজতের বড় সোর্স আমাদের মাদ্রাসা- স্বাধীনতার পর থেকে গত ৪০ বছরে যেভাবে মাদ্রাসা শিক্ষার বিস্তার হয়েছে, যেভাবে লুটপাটের অর্থনীতিতে কর্মসংস্থানহীন একটা সমাজ ব্যবস্থাতে আনাচে কানাচে মাদ্রাসা- মসজিদ অন্যান্য সামাজিক- সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের জায়গা দখল করেছে- তা নাহলে কি হেফাজতের বাস্তবতা আমাদের দেখতে হতো? আমি এমনটা মনে করি না। তালেবান- আইসিস নিয়েও বলা যায়, কেন এইসব জঙ্গী ঐ মধ্যপ্রাচ্যেই তৈরি হচ্ছে? কেন পাকিস্তানেই তৈরি হচ্ছে? কেন মালয়েশিয়ায় হচ্ছে না? কেন ইন্দোনেশিয়ায় তৈরি হচ্ছে না? বাংলাদেশে হচ্ছে না? কিংবা আজকে যেভাবে দুনিয়ার মুসলিম দেশগুলোতে জঙ্গীবাদের উত্থান ঘটছে- সেটা ৫০-৬০ বছর আগেও ছিল না কেন? ৫০-৬০ বছর আগে সহি ইসলাম কি অন্যরকম ছিল?

ফলে, মধ্যপ্রাচ্যের সমস্ত ঘটনাপ্রবাহের মাঝে কেউ যদি ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে দেখতে চায়, পাওয়ার নিয়ে দুনিয়ার মোড়লদের পলিটিকসকে দেখতে চায়- তাকে কি খুব ভুল বলা চলে? এই অঞ্চলে মার্কিন নেতৃত্বে ন্যাটো, জাতিসংঘের নানা হস্তক্ষেপের কথা কি কেউ অস্বীকার করতে পারবে? বড় বড় তেল কোম্পানির উদ্যোগ, পরিকল্পনা, পাইপ লাইন বসিয়ে তেলের নানা রুট তৈরি করা, ডলারের অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা- এসব কি অস্বীকার করা যাবে? এবং এইসব আইসিস বলি, তালেবান বলি, হিজবুল্লাহ বলি- তাদের ব্যবহৃত অস্ত্র কি তারা তৈরি করেছে? কোথায় পেয়েছে অস্ত্র? কে দিয়েছে ট্রেইনিং? এমনকি ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া সহ বিভিন্ন দেশে এত এত অস্ত্র কিভাবে ঢুকেছে? সিরিয়ার বাশার সরকারকে উৎখাত করতে আইসিসকে অস্ত্র- প্রশিক্ষণ দেয়ার যে খবর এসেছে, তা কি অস্বীকার করা যাবে? সেই যুক্তরাষ্ট্রই এখন আবার আইসিসকে শায়েস্তা করতে সিরিয়ার আরেক বিদ্রোহী গ্রুপকে অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এরা আবার যখন কন্ট্রোলের বাইরে চলে যাবে, তাদের শায়েস্তা করতে আরেক গ্রুপকে দিবে? আফগানিস্তানে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাব নষ্ট করতে তালেবানকে যে যুক্তরাষ্ট্র পয়দা করলো, সেটাকেই ধ্বংস করতে দুনিয়াজুড়ে ওয়ার অন টেরর পরিচালনা করলো- এই ইতিহাস কি অস্বীকার করা যাবে? সেটা যদি অস্বীকার না করি, তাহলে কিভাবে কেবল ‘সহি ইসলাম’কে দোষারোপ করতে পারি? ফলে, এই জায়গাটিতে আমি স্পষ্টতই পারভেজ আলমের অবস্থানকে সঠিক মনে করি, অভিজিৎ রায়ের সাথে দ্বিমত করি।

কিন্তু, পারভেজ আলমের পুরো অবস্থানকে, সমস্ত বক্তব্য, বক্তব্য উপস্থাপনের ঢং এর সাথে দ্বিমত করি। এ কি অস্বীকার করার কোন জো আছে যে, এই যে ধর্ম আছে বলেই, অযৌক্তিক- কুপমন্ডুক ধর্মীয় বিশ্বাস আছে বলেই- একে ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে, যুগে যুগে একে ব্যবহার করে মানুষে মানুষে বিভেদ, হিংসা, দ্বেষ ছড়ানো হয়েছে? কেউ কি অস্বীকার করতে পারবে যে, ধর্ম- জাত পাত- প্রথা- বর্ণ ভেদ আছে বলেই- মানুষকে এত বিভক্ত করা সহজ হয়েছে? কেউ কি অস্বীকার করতে পারবে যে, ধর্ম আছে বলেই এককালে রাজা বাদশারা পুরোহিততন্ত্রকে ব্যবহার করে নিজেদের রাজত্ব কায়েমে প্রজাকে অনুগত করতো, ধর্ম আছে বলেই ধর্মীয় বিভেদকে উসকে দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ঔপনিবেশিক দখলদারিত্ব টিকে রাখার সুযোগ পেয়েছে, ধর্ম আছে বলেই হিটলার ইহুদি বিদ্বেষ ছড়িয়ে দুনিয়ার নৃশংসতম হত্যাকান্ড চালাতে পেরেছিল? কেউ কি অস্বীকার করতে পারবে যে, ধর্ম আছে বলেই আজকের সাম্রাজ্যবাদীরা নিজেদের লুন্ঠনকে আড়াল করতে ধর্মযুদ্ধ বা ক্রুসেডকে সামনে আনতে পারছে? পারভেজ আলমকে জিজ্ঞেস করি- ইসলাম না থাকলে, কোরআন না থাকলে, মুহম্মদ সাঃ আরব দেশে যে উপায়ে ইসলাম কায়েম করেছেন তা না করলে- কি আদৌ ফারাবি- হেফাজত- তালেবান- আইসিসকে আমরা দেখতাম? কোরআনে যদি সেই হিংসার কথা না থাকতো, মুহম্মদ সাঃ ও তার সাহাবীরা যদি একের পর এক যুদ্ধগুলোর মাধ্যমে (আদতে এগুলোর একটা বড় অংশ ডাকাতি, লুন্ঠন ছাড়া কিছুই ছিল না, বিশেষত মদীনার ইহুদী গোষ্ঠীগুলোকে যেভাবে আক্রমণ করা হয়েছিল) ইসলাম প্রতিষ্ঠা না করলে কি তালেবান, আইসিস, হেফাজতরা ইসলামী বিপ্লবের লাইন খুঁজে পেত? আমাদের এখানে হিন্দু মুসলিমরা কেউ না থাকলে কি বৃটিশরা ধর্মীয় দাঙ্গা লাগাতে পারতো? তেমনি, চাইলেই কি আমেরিকা হাজার চেষ্টা করেও কি তালেবান, আইসিসকে গড়ে তুলতে পারতো?

ফলে, যে ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে জেহাদি জোস অর্জিত হচ্ছে, ধর্মীয় যে ঘৃণার বানী থেকে আজকেও ঘৃণার প্রচার- প্রসার, সেটাকে যারা ধরিয়ে দেয়, সেটাকে যারা সামনে আনে- তাদের কাজটাকে আমি এতটুকু কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করি না; যেমন কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করি না- যারা আজকের প্রেক্ষাপটে জঙ্গীদের উত্থানে ভূ-রাজনৈতিক কারণকে সামনে এনে লিখছেন কথা বলছেন। পারভেজ আলম যখন সালাফি আইসিসের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো মুক্তমনাদের ‘সালাফি সেক্যুলার’ আখ্যা দেন- কেবল সালাফি আইসিসের রুট হিসেবে তাদের দাবী করা কোরআন- ইসলামকে সামনে আনার অপরাধে, তখন মনে হয়- এই অশ্রদ্ধা মুক্তমনারা নাও পেতে পারতো!

এই হচ্ছে মূল ডিবেটের বিষয়ে আমার বক্তব্য বা অবস্থান। এবার ডালপালা নিয়ে সংক্ষেপে কিছু বলে শেষ করছি। প্রথমে সহি ইসলাম প্রসঙ্গ, তারপরে বিশ্বাসের ভাইরাস প্রসঙ্গ।

‘সহি ইসলাম’ জিনিসটা কি? এই ভেজাল দুনিয়ায় ‘সহি’ বলিয়া কি কিছু আছে নাকি মশাই?
অভিজিৎ রায়, আসিফ মহিউদ্দিন যখন ইসলামিক নানা ঘটনা উল্লেখ করে জানান দেন- এটাই সহি ইসলাম, তখন ঠিক একমত পোষণ করতে পারি না। বাস্তবে, আমার মতে ‘সহি ইসলাম’ বলে কিছুই নেই। কোন ‘সহি’ ই আসলে সহি নয়। সহি হিন্দুইজম, সহি ইহুদি, সহি খ্রিস্টানিজম- এসব বলে কিছুই নাই। কেননা, সমস্তই মানুষের তৈরি, একটা নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট ভূখন্ডে- মানুষের হাত ধরে এসব ধর্মের উতপত্তি, আরো অসংখ্য মানুষের হাত ধরে এসব ধর্মের দেশ কালের সীমা পাড়ি দেয়া … সুতরাং প্রতিটা পর্যায়েই এগুলোর পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন, বিয়োজন ঘটেছে- এমনকি অনেক ধর্মের উৎপত্তিকালকেও যদি ধরি- সেখানে এক বা একাধিক মানুষের আস্ত জীবনকালে নানা ঘটনা, নানা পরিস্থিতিতে ভিন্ন ভিন্ন আচরণ, বক্তব্য দেখা যায়- যেগুলো ধর্ম হিসেবে স্থান পেলে- সেসবের মধ্যে ঠিক কোনটি সহি- কোনটি অসহি এমন বিপাকে পড়তে হয়! হিন্দুরা এককালে গরু খেলেও, ইন্দোনেশিয়ার বালির হিন্দুরা আজকেও গরু খেলেও- বলতে পারি না যে, বালির হিন্দুদের গরু খাওয়াই সহি বা ভারতের হিন্দুদের গরু মাতাকে না হত্যা করাই সহি। ইসলামের কোরআন এর লিটারাল ব্যাখ্যাকেও সহি বলতে পারি না, কেননা ওসমান আমলে এরকম আরো অনেক খন্ড কোরআন পুড়ে ধ্বংস করা হয়েছে। নবীর জীবনকেও সহি ইসলাম বলতে পারি না, কেননা তিনি নিজেই তো একেক সময়ে একেক আচরণ করেছেন। মক্কায় থাকা অবস্থায় যখন চাপে ছিলেন- তখন আল্লাহ প্রেম, মানব প্রেম এর বানী ছেড়েছেন- যার যার ধর্ম তার তার- এসব ভালো ভালো কথা বলেছেন, আবার যখন মদীনায় গিয়ে ক্ষমতার কাছাকাছি গেলেন- আরো ক্ষমতা করায়ত্ত্ব করতে গিয়ে ঠিক উল্টো কাজ করেছেন- রাজনীতির প্রয়োজনে হিংসার বানী ছড়িয়েছেন। নিজের প্রয়োজনমত, সুবিধামত আল্লাহর বানী পয়দা করেছেন- কোনটাকে সহি বলবো? নবী মারা যাবার পর পরেই তার সাহাবীদের মধ্যে, আত্মীয়দের মধ্যে খেলাফত নিয়ে ক্যাচাল হয়েছে। সাহাবীদের মধ্যেই কোরআনের ব্যাখ্যা নিয়ে, হাদীস নিয়ে মতপার্থক্য হয়েছে, কোরআন সংকলন নিয়ে তীব্র মতপার্থক্য হয়েছে; ক্ষমতায় থাকা খলিফাদের রাজনীতির স্বার্থেই যেসব কোরআন হাদীস টিকেছে- সেগুলো পরবর্তী আমলে যেতে পেরেছে! খলিফাদের বেশিরভাগই মুসলমানের হাতে খুন হয়েছেন। কারবালায় দুই গ্রুপ মুসলিমের মধ্যে ভয়ানক যুদ্ধ হয়েছে। এইসব সাহাবীরাই তো মুহম্মদ সাঃ পরবর্তী ইসলামকে পরবর্তী যুগে নিয়ে গিয়েছে। ফলে, কোনটা সহি- কিভাবে সিদ্ধান্ত নেই? ফলে, আমার মতে যার কাছে যেভাবে ইসলাম গিয়েছে- সেটাকেই সে সহি ভাবতেই পারে!

তবে হ্যাঁ, আমার কাছে সহি ইসলাম বলে কিছু নেই, কিন্তু যে মোমিন ব্যক্তি এই সহি ইসলামে বিশ্বাস করে, যার কাছে কোরআন মুহম্মদ সাঃ ও তার সাহাবীদের লেখা না- স্বয়ং আল্লাহ এটা লিখে পৃথিবীতে মানব কল্যাণে পাঠিয়েছে- তাদেরকে সেই সহি ইসলামের লিটারাল ব্যাখ্যা- আলোচনা তুলে দেখানোটা খুব জরুরি মনে করি। যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে- তার ইসলাম উৎপত্তির সময় থেকেই খুব শান্তির ধর্ম- কোরআনে কোন ঘৃণার বাণী নেই- তাদের ভুল ভেঙ্গে দেয়ার কাজটি কম জরুরি না, সে জায়গা থেকেই তাদের সহি ইসলামের আসল অবস্থা তুলে ধরাটা দরকার। আরেক কারণে এই লিটারাল ব্যাখ্যা দেখানো দরকার। জাকির নায়েক- হারুন ইয়াহিয়া – বুকাইলি সহ অনেক মোমিন মনে করে এই কোরআন হচ্ছে জ্ঞান বিজ্ঞানের আকড়। তারা যখন কোরআনের অনুবাদ- ব্যাখ্যা থেকেই মহা বিজ্ঞান আবিস্কার করে ফেলছেন, তখন মুহম্মদ সাঃ (তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী আল্লাহ) যে কত বড় মুর্খ ছিলেন তা দেখিয়ে দেয়া খুব আবশ্যক মনে করি।

বিশ্বাসের ভাইরাস? বাপরে বাপ- ডরাইছি …
এবারে, শেষ প্রসঙ্গ- বিশ্বাসের ভাইরাস। মুক্তমনাতেই এ সম্পর্কে প্রথম জানতে পেরেছি। দিগন্ত সরকার রিচার্ড ডকিন্সের একটা প্রবন্ধ অনুবাদ করেছিলেন- সেখানে তার নিজের বক্তব্যও যুক্ত করেছিলেন- সেটা প্রথম পড়া। এরপরে অভিজিৎ রায়ের অল্প সল্প কিছু লেখা পড়েছি। কেন জানি, এটা আমাকে টানতে পারেনি। ফলে, এ নিয়ে খুব বেশি পড়া হয়নি। অভিজিৎ রায়ের বইটি তাই আমার পড়া হয়নি। অভিজিৎ রায়ের বই না পড়েই পারভেজ আলম বিশ্বাসের ভাইরাস নিয়ে কেন কথা বলতে গিয়েছেন এটা এক অভিযোগ, এমনকি ভাইরাস সম্পর্কে সাধারণ বিজ্ঞানের বই পারভেজের পড়া নেই- এটা আরেক অভিযোগ! দুই অভিযোগই আমার কাছে দুর্বল মনে হয়েছে। পারভেজ যতটুকু আলোচনা করেছে, যুক্তি উপস্থাপন করেছে- সেটায় ভুল থাকলে ধরিয়ে দেয়াই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু, আমি সেই জবাবগুলোয় সন্তুষ্ট হইনি। পারভেজের তোলা প্রশ্নগুলোর গোলাম সারওয়ার বা অভিজিৎ রায় কি পরিস্কার করতে পেরেছেন? আমার মনে হয়, না। এই সংক্রান্ত আলোচনায় আমার কম বুঝ থেকেই দু চারটি কথা ভয়ে ভয়ে বলি। ভয়ে ভয়ে বলছি কারণ পারভেজ আলমের মত আমারো বিশ্বাসের ভাইরাস নিয়ে কম পড়াশুনা, আমার হয়তো একেবারেই কম পড়া। সেই কম পড়া থেকেই এই ডিবেটে পারভেজ আলম- অভিজিৎ রায়- গোলাম সারওয়ারের আলোচনাগুলো পড়েছি- সেই যুক্তি তর্ক টুকু নিয়েও আমার মধ্যে চিন্তা তৈরি হতে পারে, মত তৈরি হতে পারে- অনেক প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। ফলে সেসব আমি উপস্থাপন করতেই পারি। আমার এই চিন্তা, মত, প্রশ্ন প্রচন্ড ভুল হতে পারে, অযৌক্তিকও মনে হতে পারে- আশা করি, এমন মনে হবে যার, তিনি তা ধরিয়ে দিবেন- কিন্তু কেন আমি অভিজিৎ রায়ের বইটা না পড়েই, বা এ সংক্রান্ত গাদা গাদা বই পড়ে গাদা গাদা জ্ঞান অর্জন না করেই আলোচনা করতে যাচ্ছি- সেই কৈফিয়ত চাবেন না।

শুরুতেই বলে নেই- কেন আমি মিমতত্ত্ব, বিশ্বাসের ভাইরাস নিয়ে আগ্রহবোধ করিনি। কারণ, মানব সমাজ- মানব প্রকৃতি- মানব ইতিহাসকে বুঝতে এইসব তত্ত্বকে আমার আবশ্যক মনে হয়নি। এর চাইতেও অন্য আরো ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ আমাকে অধিক সন্তুষ্ট করে বলেই- এতে আগ্রহ পাইনি। এখানেই পারভেজ আলমের একটা প্রশ্ন আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছেঃ “কারন দিনশেষে মিমতত্ত্ব এখন পর্যন্ত অবশ্যই একটি তত্ত্ব। কোন প্রমানিত বৈজ্ঞানিক সত্য না”। একইভাবে ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’ও কি বৈজ্ঞানিক প্রমানিত সত্য? সমাজ বিজ্ঞান, তথা মানব সমাজ- তার গতি প্রকৃতি, ইতিহাস, সংস্কৃতি- এসব ব্যাখ্যায় মিমতত্ত্ব বা বিশ্বাসের ভাইরাস ছাড়া প্রকৃত সত্য আমরা বুঝতে পারবো না, এমন কি? এমন যদি না হয়, তাহলে আমি একে বাদ দিয়ে চলার তো স্বাধীনতা দাবী করতেই পারি, না কি? গোলাম সারওয়ার পারভেজ আলমের জবাবে লিখেছেনঃ “অভিজিৎ বা ডকিন্স বা এ বিষয়ে আরও হাজারো আগ্রহী মানুষের কেউ কি দাবী করেছেন যে “মিম” বিষয়ক আলোচনা গুলো “বৈজ্ঞানিক সত্য”?”– অর্থাৎ কেউ দাবী করেননি, যে এই আলোচনাগুলো ‘বৈজ্ঞানিক সত্য’, কিন্তু তিনি ঠিক তার পরেই লিখেছেন- এই আলোচনাগুলো বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য। ‘বৈজ্ঞানিক সত্য’ বিষয়টা আসলে কি- সারওয়ার সাহেবের এমন প্রশ্নের মত আমারো মাথায় প্রশ্ন এসেছে- ‘বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য’ বিষয়টাই বা কি? বিষয় যাই হোক, এ সমস্ত আলোচনাগুলোর বৈজ্ঞানিক সত্যতা বা গ্রহণযোগ্যতার দাবী কতখানি সঠিক সে বিষয়ে আমার প্রশ্ন আছে, সেই সাথে বলে রাখি- বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য বা সত্য ধরিয়ে দিতে পারলে নিশ্চয়ই একটু আগে যে এই ব্যাখ্যা- বিশ্লেষণ বাদ দিয়ে মানব সমাজ- ইতিহাস- সংস্কৃতিকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করার স্বাধীনতার কথা বলেছিলাম, সেটা ফিরিয়ে নিতে হবে বলে মনে করি। কেননা, সুনির্দিষ্ট রোগ বালাই এর আলোচনায় ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়ার কথা বাদ দিয়ে কথা বলা যেমন যায় না, জীবজগতের বৈচিত্রের ইতিহাস যেমন বিবর্তনবাদকে বাদ দিয়ে হয় না, বংশগতির আলোচনায় জিনতত্ত্বকে বাদ দেয়া যেমন সম্ভব না- তেমনি কি মানব ইতিহাস, সমাজ- সংস্কৃতির বিবর্তন, ধর্মের উৎপত্তি, টিকে থাকা ও বিবর্তন সম্পর্কিত আলোচনায় মিমতত্ত্ব- বিশ্বাসের ভাইরাস সংক্রান্ত আলোচনা কি একই রকম আবশ্যক, একইরকম বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য? বিজ্ঞানের শাখা হিসেবে কি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে? গবেষণাপত্র কি বের হয়েছে? প্রচুর গবেষণা কি হচ্ছে? বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের জনপ্রিয় প্রবন্ধ, বই- আর গবেষণাপত্র এক নয় বলেই জানি; একজন বিজ্ঞানী বিজ্ঞানের বিষয়েও প্রবন্ধ, বই লিখতে পারেন- সেসবকে আমাদের গ্রহণ করতেই হবে- কারণ একজন বিজ্ঞানী এই প্রবন্ধ বা বই লিখেছেন তা নয়- বরং তার চাইতেও বেশি কারণ হচ্ছে যে, যে বিষয়ে তিনি বই লিখেছেন সেই বিষয়টি নিয়ে তার বা অন্যের স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র আছে। ফলে, একজন বিজ্ঞানী একটা বিষয়ে বই বা প্রবন্ধ লিখলেই- জনপ্রিয় কোন আলোচনা করলেই সেটা বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না- আইনস্টাইনও ‘কেন সমাজতন্ত্র’ নামে প্রবন্ধ লিখেছিলেন- তার মানে এই না যে, এই প্রবন্ধকে বা সমাজতন্ত্রকে বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য বলতে হবে! সুতরাং, রিচার্ড ডকিন্সের বেস্ট সেলার বই থেকে রেফারেন্সের চাইতে বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র, যা বৈজ্ঞানিক মহলে স্বীকৃত, এমন কিছু নমুনা আমি প্রত্যাশা করি। একইভাবে, বৈজ্ঞানিক সত্য বা গ্রহণযোগ্য হওয়ার আরেকটা ক্রাইটেরিয়া হচ্ছে- তার প্রমাণযোগ্যতা, এবং নানা প্রশ্নের জবাব দিতে পারার সামর্থ্য। মিম কিংবা বিশ্বাসের ভাইরাস কি প্রমাণিত? এসব বাদ দিয়ে, এই আলোচনাগুলোকে আমার বিজ্ঞানের বিষয় বলে মানতেই কিছুটা আপত্তি আছে, সমাজ- সংস্কৃতি- ইতিহাস প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা করা হবে, আর সেখানে রাজনীতির কথা জিজ্ঞেস করলে সেটাকে অবৈজ্ঞানিক হিসাবে আখ্যা দেয়া হবে- তখন সেটাকেই বরং খুব ‘অবৈজ্ঞানিক’ বলে মনে হয়।

দাবী বিজ্ঞানের, উপস্থাপনের ঢংটাও বিজ্ঞানের। স্কুলবেলায় পরীক্ষায় আসতো- মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে শক্তির নিত্যতা সূত্র প্রতিপাদন করো! বিজ্ঞানের একটা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা- অমুক মডেলে বা ঘটনায় তমুক সূত্রের খাপ খাওয়ানো। ঠিক একই রকম কায়দায় যেন, গোলাম সারওয়ার পারভেজ আলমের বলা ইতিহাসের একটা ঘটনার ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’ তত্ত্বের খাপ খাওয়াতে গেলেন! সেটা খাওয়াতে গিয়ে কি বললেন? “আপনার এই গল্পটি হচ্ছে একটি আদর্শ উদাহরন যে কুরআন বা যেকোনো গ্রন্থ হচ্ছে এক রকমের নিরেট নির্জীব পদার্থ, যার নিজের কোনও স্বাধীন কার্যক্ষমতা নেই, যার সক্রিয় হবার জন্যে অন্যের কাঁধে সওয়ার হতে হয়, অর্থাৎ যার সক্রিয় হবার জন্যে অবশ্যই একজন হোস্ট দরকার হয়, ঠিক যেমনটা দরকার হয় ভাইরাসের”। কোথায় কি আলী, আর কোথায় খারেজিরা- আর কোথায় পারভেজের গল্পের সেই কোরআনের ব্যাখ্যা নিয়ে বাহাস! এমন খাপ খাওয়াটা আমার কাছে বেশ চমকপ্রদই মনে হয়েছে। গোলাম সারওয়ারের যে কথাটা এখানে উদ্ধৃত করেছি সেটি গোটা দুনিয়ার যেকোন জায়গার যেকোন সময়ের যেকোন মুসলমানদের কাজ কর্মের পরে এই বক্তব্যটি তুলে ধরে বিশ্বাসের ভাইরাস তত্ত্বকে প্রমাণ করা যাবে বোধ হয়। অন্য ধর্মের আচার আচরণের প্রেক্ষাপটে কেবল কোরআনের বদলে ঐ ধর্মের ধর্মগ্রন্থকে প্রতিস্থাপন করলেও চলে। একেবারে ভাইরাসের চরম প্রমাণ বলতে হবে বৈকি। যাকে বলে সর্বরোগের একই মহৌষধ! আমি খালি ভাবি, আচ্ছা- কেউ তো দাবী করছে না যে, কোরআন একটা নিরেট নির্জীব পদার্থ না। আদতে মনুষ্য সৃষ্ট সমস্ত বই পত্র, এমনকি জ্ঞানও তো একই রকম নির্জীব! আইনস্টাইনের ‘আপেক্ষিকতা তত্ত্ব’ বলেন আর ডকিন্সের ‘গড ইলুশন’ বলেন- কিংবা অভিজিৎ রায়ের ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’- গাদা গাদা বই লিখে ফেলে রাখলে কি সেই বই এর নিজস্ব কোন ক্ষমতা আছে সক্রিয় হওয়ার? ফলে এ সমস্ত জ্ঞানের জন্যেও তো মানুষের কাঁধে সওয়ার না হয়ে উপায় দেখছি না! মানুষ বিনা জ্ঞানের কোন মূল্য কি আছে? এ সব কিছুই কি তবে ভাইরাস? জন্মের পরে পরেই আমরা ভাষা শিখি। সেই ভাষার উপর ভর করে আরো কোন কিছু শিখি। পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে চারপাশের অনেক কিছু অভিজ্ঞতা হয়ে মস্তিস্কে জমা হতে থাকে। আমরা চিন্তা করতে শিখি। যুক্তি করতে শিখি। সিদ্ধান্ত নিতে শিখি। এ সব কিছুই- সেই ভাষা থেকে শুরু করে, অভিজ্ঞতা, চিন্তা, সিদ্ধান্ত, যুক্তি এ সমস্তই তো মানব মস্তিস্কের উপর ভিত্তি করেই এগিয়ে চলে, পারস্পরিক আদান প্রদান হয়, টিকে থাকে, বিবর্তিত হয়। তাহলে মানব চিন্তাকেই কেন ভাইরাস বলা যাবে না- সেটাও একটা প্রশ্ন বটে!

পারভেজের এই আলোচনারও কোন জবাব পাইনিঃ “জৈবিক বিবর্তনে জিন যেই ভুমিকা পালন করে, সামাজিক বা সাংস্কৃতিক বিবর্তনে সেই ভুমিকা পালন করে ‘মিম’, এই হলো মিমতত্ত্বের সার কথা। অর্থাৎ, কালচারাল ইভোলুশনও ডারউইনিয় ‘সিলেকশন’ পদ্ধতি অনুসরণ করে … জিনের যেমন ডিএনএর মতো কোড স্ক্রিপ্ট আছে, মিমএর ক্ষেত্রে তেমন কিছু কিছুর অস্তিত্ব আমরা জানি না”। একইভাবে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, প্যারাসাইট- এসবের উপস্থিতির প্রমাণ আমরা জানি, অণুবীক্ষণ যন্ত্রে আমরা দেখতেও পারি, এদের গঠন শুধু না- এদেরকে ব্যবচ্ছেদ পর্যন্ত করতে পারি, সেখানে ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’ কথিত ধার্মিক ব্যক্তির মস্তিস্কে থাকা সেই ভাইরাসের এধরণের কোন প্রমানাদি কি আছে? এ সমস্ত প্রশ্নের জবাবে গোলাম সারওয়ার ভাইরাস সম্পর্কে আরো পড়াশুনার উপদেশ দিয়ে বিস্তারিত জ্ঞানও দান করলেন, কিন্তু যে ভাইরাস সম্পর্কে জ্ঞান দিলেন- সেটা তো আসল ভাইরাস-ই, মানব মস্তিস্কের কথিত সেই ভাইরাস নয়! অভিজিৎ রায় যেমন মনোবিজ্ঞানী ডেরেল রে’র বরাতে ঘাস ফড়িংকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করতে নেমাটোমর্ফ হেয়ারওয়ার্ম নামের প্যারাসাইটের কথা বললেন, কিন্তু মানব বোমা বুকে নিয়ে আত্মহত্যা ও মানবহত্যায় প্ররোচিত করা কোন ভাইরাসের কথা, নাম কি জানাতে পারলেন? আমি বিজ্ঞানের খুব দুর্বল ছাত্র (ব্যাকবেঞ্চার) হিসেবে এমনটাই জানি যে, ঘাস ফড়িং এড় আত্মহত্যায় প্ররোচিত করা প্যারাসাইট এর প্রমাণ ঐ ঘাস ফড়ীং বা নেমাটোমর্ফ হেয়ারওয়ার্ম এর জন্যে প্রযোজ্য, তাকে মানব মস্তিস্কের ভাইরাসের প্রমাণ হিসেবে হাজির করা যায় না! হ্যাঁ, তুলনা আপনি দিতে পারেন। তুলনা, রূপক, উপমা- এসব ভালো সাহিত্যের বড় গুন, অলংকার- কিন্তু বিজ্ঞানের শাখায় তুলনা দিয়ে কিছু প্রমাণ করা যায় না বলেই আমি জানি (আমার জানা ভুল হলে দেখিয়ে দিবেন, তখন বলবো- ‘জানতাম’)।

এই তুলনা নিয়েই নাহয় একটু গল্প করি। আমার ছোট বাচ্চার মারাত্মক জেদ, মাঝে মধ্যে এমন ম্যারাথন কান্না কাটি- চিৎকার করে যে কি বলবো! তো, একদিন ওরকম আমি মজা করে বললাম- ওর মাথায় না একটা পোকা থাকে, ঐ পোকাটা যখনই বিগড়ে যায়- কামড় দেয়, তখনই ও এমন চিৎকার চেচামেচি কান্না কাটি করে। আমার বড় বাচ্চা অবিশ্বাসের সুরে প্রশ্ন করলো- ইস, মাথায় পোকা থাকবে কি করে, ওর রাগ হয়েছে সেজন্যে এমন করছে! আমি মজা করে যুক্তি দিলাম- ছোট ছোট পোকা যখন তোমাকে কামড় দেয় তখন কেমন করো? এই কামড় যদি বেশি তীব্র হয়, তখন কি করো … ইত্যাদি। এমন বাচ্চাদের সাথে মজা করে কথা বললেও মনে করি- মাথার পোকার প্রমাণ কখনো বাইরের পোকার সংজ্ঞা, কাজ কারবার দিয়ে করা যায় না। ঠিক একইরকম যুক্তি ধর্মবাদীরা, ইশ্বরবাদীরা দেয়! আমাদের ক্লাসের ইসলাম শিক্ষায়- ইশ্বরের প্রমাণ দেখাতে গিয়ে বলা হয়েছিল- এই দুনিয়া জগত কত সুশৃঙ্খলভাবে চলে। তখনো যুক্তি করে বলেছিলাম, তুলনা দিয়ে মনের ভাব প্রকাশ হতে পারে, সাহিত্য হতে পারে- কিন্তু প্রমাণ হয়না। মানুষের হাতে তৈরি জিনিসপত্রের উদাহরণ দিয়ে মানুষের এসব জিনিসপত্র তৈরির সামর্থের প্রমাণ হতে পারে- তার সাথে তুলনা করে ইশ্বরের জগতসৃষ্টির প্রমাণ করা যায় না।
একই রকম যুক্তি আমরা মুক্তমনারা কি করছি না?

‘বিশ্বাসের ভাইরাস’ নিয়ে আরো কিছু প্রশ্ন ছিল। পারভেজ আলমও করেছিলেন। ধর্মীয় বিশ্বাসই কি কেবল ভাইরাস? নাকি কেবল, যে ধর্মীয় বিশ্বাস ঘৃণা ছড়ায় তাও ভাইরাস? জাতীয়তাবাদ কি ভাইরাস? যে জাতীয়তাবাদ আত্মহত্যা ও অন্যকে হত্যা করায় কেবল তাই কি ভাইরাস? অভিজিৎ রায় ও গোলাম সারওয়ার জবাব দিয়েছেন। জাতীয়তাবাদও ভাইরাস। ধর্মীয় বিশ্বাস মাত্রই ভাইরাস, ভাইরাস মাত্রই তো আর মারাত্মক না, সুপ্ত অবস্থায়ও থাকতে পারে। তারপরেও মনে হয়- ভাইরাস যেমন সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে- কিছু কিছু ভাইরাস, ব্যাক্টেরিয়া উপকারও করে, প্রাণিদেহে অসংখ্য ভাইরাস ব্যাক্টেরিয়া জীবাণু আছে যা কোন ক্ষতি তো করেই না, বরং প্রাণির জন্যে অপরিহার্য! তাহলে, সে হিসেবে যেকোন উপকারী টাইপের বিশ্বাসের ভাইরাসও থাকতে পারে? অভিজিৎ রায় মেইল থেকে মেইলের মাধ্যমে তথ্য ছড়ানোর একটা উদাহরণ দিয়েছেন। বাস্তবে, দুনিয়ায় অধিকাংশ তথ্য এভাবেই প্রবাহিত হয়, ছড়িয়ে পড়ে, টিকে থাকে বা হারিয়ে যায়! খুব অল্প মানুষই সুযোগ পান সমস্ত তথ্য যাচাই বাছাই করে গ্রহণ করার। পত্র পত্রিকা, মিডিয়া ইত্যাদি শক্তিশালী মাধ্যমে প্রচারিত, গুরুজন-শিক্ষক- বন্ধু- আত্মীয় স্বজন প্রভৃতির মাধ্যমে তথ্য পরিভ্রমণ করে। ভালো, উপকারী তথ্যের মত ক্ষতিকর তথ্যও পরিভ্রমণ করে। মানব মস্তিস্ক ভাইরাসের পোষক দেহের বা হোস্ট দেহের মত করে এসমস্ত ভালো/ উপকারী বা ক্ষতিকর তথ্যের হোস্ট হিসেবে কি কাজ করছে? তাহলে সমস্ত মানুষের মাথায় এই ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’ কিলবিল করছে- এমনটা বলা কি যাবে? রিচার্ড ডকিন্স, … প্রমুখরা মিমতত্ত্ব, বিশ্বাসের ভাইরাস নিয়ে বলার সাথে সাথে যারা এই মিমতত্ত্ব, বিশ্বাসের ভাইরাসের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়ে এই যে এত কথা বলছেন- তার পেছনেও কি কোন ভাইরাসের অবদান নাই?

এ বিষয়ে আমার জানাবোঝা কম, আশা করি আমার এই আশংকা ভুল প্রমানিত হবে যে, এটা ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’ -এ বিশ্বাস আনয়নের লক্ষে কোন ভাইরাসের কাজ কারবার না!

পরিশিষ্টঃ
আরেকটা বিশেষণ চোখে পড়লো- সুন্নতি সেক্যুলার! সালাফির দিন কি শেষ তবে? এখন থেকে আমি নাহয় সুন্নতিই হলাম …

মন্তব্যসমূহ

  1. শান নভেম্বর 8, 2014 at 2:53 অপরাহ্ন - Reply

    @নাস্তিকের ধর্মকথা,

    একজন বিজ্ঞানী একটা বিষয়ে বই বা প্রবন্ধ লিখলেই- জনপ্রিয় কোন আলোচনা করলেই সেটা বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না- আইনস্টাইনও ‘কেন সমাজতন্ত্র’ নামে প্রবন্ধ লিখেছিলেন- তার মানে এই না যে, এই প্রবন্ধকে বা সমাজতন্ত্রকে বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য বলতে হবে! সুতরাং, রিচার্ড ডকিন্সের বেস্ট সেলার বই থেকে রেফারেন্সের চাইতে বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র, যা বৈজ্ঞানিক মহলে স্বীকৃত, এমন কিছু নমুনা আমি প্রত্যাশা করি। একইভাবে, বৈজ্ঞানিক সত্য বা গ্রহণযোগ্য হওয়ার আরেকটা ক্রাইটেরিয়া হচ্ছে- তার প্রমাণযোগ্যতা, এবং নানা প্রশ্নের জবাব দিতে পারার সামর্থ্য। মিম কিংবা বিশ্বাসের ভাইরাস কি প্রমাণিত? এসব বাদ দিয়ে, এই আলোচনাগুলোকে আমার বিজ্ঞানের বিষয় বলে মানতেই কিছুটা আপত্তি আছে, সমাজ- সংস্কৃতি- ইতিহাস প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা করা হবে, আর সেখানে রাজনীতির কথা জিজ্ঞেস করলে সেটাকে অবৈজ্ঞানিক হিসাবে আখ্যা দেয়া হবে- তখন সেটাকেই বরং খুব ‘অবৈজ্ঞানিক’ বলে মনে হয়।

    সহমত পোষণ করছি।
    অনেকেই বিজ্ঞানকে পুঁজি করে বিজ্ঞানের বই লিখতে গিয়ে নিজস্ব অভিমতকে প্রতিষ্ঠিত করেন বিভিন্ন জরিপের উপাত্তের সমারোহে। আবার অনেকেই ভুলে যান যে Hypothesis আর Science – এক জিনিস না।

  2. অভিজিৎ অক্টোবর 20, 2014 at 9:33 অপরাহ্ন - Reply

    এসব মডারেটগিরির নেট ফলাফল আরো ভয়াবহ। পাগলকে সাঁকো নাড়াতে নিষেধ করার নামান্তর। সর্বগ্রাহ্য সহি ইন্টারপ্রেটেশন বলে কিছু হওয়া সম্ভব না। লাভের লাভ হবে সহিত্ব নিয়ে নিজেদের ভেতর খুনাখুনী হবে যার উদাহরন ইসলামের আদি যুগ থেকে বর্তমান নিউক্লিয়ার যুগ পর্যন্ত অহরহ দেখা যায়। যতদিন না কোরান হাদীস এসবকে পূর্ন জীবন বিধান মানার ভূত মাথা থেকে বার না হবে ততদিন শান্তি বলে কিছু আসবে না। কিছু আলেম আইসিসকে অনৈসলামিম রায় দেবে, আর আইসিস বন্দনায় অনেকে মেতে উঠবে, তাদের দলে যোগ দিতে নিজের নিরাপদ জীবন ত্যাগ করে ছুটে যাবে। এই বিভ্রান্তি জিইয়ে রাখতে মৌলবাদীদের থেকে সহি ইন্টারপ্রেটেশনের দাবীদার মডারেটগনেরই ভূমিকা বেশী।

    আপনার কথার সাথে পুরোপুরি সহমত পোষণ করছি। ধর্মের, সমালচনার জন্য আমাদের ‘সালাফি সেক্যুলার’ ট্যাগ করা হচ্ছে (যদিও খেয়াল করবেন, অমানবিক আয়াত বা শ্লোকগুলো আমরা বানাইনি, বিধাতার বাণী হিসেবে ঐশ্বরিক বলে কথিত ধর্মগ্রন্থগুলোতেই এভাবে আছে – কেবল সমস্যা হয় আমরা উল্লেখ করলেই ), কিন্তু ধর্মের কালোদিকের সমালোচনা না হলে সমাজ এগুবে না। এটা বাস্তবতা। কে যেন বলেছিলেন, যে কোন সামাজিক অগ্রগামিতার সূত্রপাত ঘটে ব্লাসফেমি থেকেই – কথাটা বোধ হয় মিথ্যে নয়। ধর্মের নামে অমানবিকতা যে একটা ইস্যু, সেটা এখন সব মেইনস্ট্রিম মিডিয়াতেই আসছে। সাম্প্রতিক রেজা আসলান, বেন আফলাক, বিল মার আর স্যামহারিস বিতর্ক সেই ইংগিতই দেয়।

    আশার কথা যে, অধিকাংশ মডারেটদের কাছে আমাদের আবেদন ‘অরণ্যে রোদন’ মনে হলেও মডারেটদের হিপোক্রেসিগুলো অন্ততঃ কেউ কেউ বুঝতে পারছেন, এবং এ নিয়ে লেখাও শুরু করেছেন। আমি হাফিংটন পোস্টে প্রকাশিত আলি রিজভীর এই চিঠিটার সাথে খুবই একমত – মডারেট মুসলিমদের মডারেটগিরি নয়, আমাদের দরকার রিফরমারদের।

    An Open Letter to Moderate Muslims – Ali A. Rizvi

    • আদিল মাহমুদ অক্টোবর 20, 2014 at 9:56 অপরাহ্ন - Reply

      @অভিজিৎ,

      ভদ্রলোকের চিঠিখানা পড়ে দেখবো সময় নিয়ে।

      আমি ব্যাক্তিগতভাবে ধর্মের রিফর্ম তত্ত্বে বিশ্বাসী না।

      এক সময় ধর্ম নিয়ে নানান মাত্রায় সমস্যা অন্যান্য সব ধর্মাবলম্বী সমাজেই কম বেশী হয়েছে। বর্তমানে সেসব সমাজে তেমন কিছুই বলতে গেলে নেই। সেটা সম্ভব হয়েছে ধর্মের রিফর্ম করে নয়, ধর্মকে জীবন ব্যাবস্থা থেকে বাদ দেওয়ার মানসিক পরিপক্কতা অর্জনের পর। ইনকুইজিশনের বানীওয়ালা বাইবেল, জাতপাতের নির্দেশনা ওয়ালা বেদ গীতার একটা লাইনও কাটা হয়নি, বহাল তবিয়তেই সব আছে। এমনকি সেসবের যুগোপযূগী কন্টেক্সুয়াল সহি ব্যাখ্যা বার করেছে বলে আমার জানা নেই যা দিয়ে সমস্যা দূর হয়েছে।

      ইসলাম সব ধর্ম থেকে কালের হিসেবে এগিয়ে থাকলেও মূল সমস্যা একই। সমাধানও কেবল একভাবেই সম্ভব। রিফর্ম বলে কিছু নেই, হতে পারে জীবন ব্যাবস্থা হতে পৃথিকীকরন। অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা যেভাবে তাদের ধর্মীয় সূত্র দেখে (মানসিক শান্তি বা স্পিরিচুয়াল মুক্তি এসবের মাধ্যম) সেভাবে দেখা। মুশকিল হল এই সরল সত্যটা স্বীকার করার মত মানসিক শক্তি মডারেটগনের নেই, মৌলবাদীরা সংখ্যায় লঘু হলেও মডারেটগনের সহি ইসলাম খোঁজার উন্মাদনায় মৌলবাদীদের হঠানো যায় না।

  3. আদিল মাহমুদ অক্টোবর 20, 2014 at 7:25 অপরাহ্ন - Reply

    “সালাফি নাস্তিক” নাস্তিকের ধর্মকথার লেখা ভাল পাই।

    অধিকাংশ মুসলমান এটা মানে বা মানে না সে দিয়ে কি ইসলাম আসলেই কি বলে তা বিচার করা যায়? যাদের ধর্ম সম্পর্কে ভাসা ভাসা ধারনা আছে তারা এভাবে বলতে পারে, যারা দীর্ঘদিন ইসলাম নিয়ে সামান্য গভীরে পড়াশুনা করেছেন তাদের কাছ থেকে এই ধরনের কথা শোনা হতাশা ব্যাঞ্জক। ইসলাম বা কোরান হাদিসে কি বলে তা মুসলমানদের ভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়?

    শিয়াদের অনেক সুন্নী অমুসলমান মনে করে, সংখ্যার দিকে তারাই দলে ভারী। তাহলে শিয়ারা অমুসলমান হয়ে গেল?

    যেমন মওদূদীবাদের বিরুদ্ধে বহু প্রসিদ্ধ আলেমের ফতোয়া আছে। – এমনকি বাংলাদেশেও আওয়ামী লীগ গতবারে সরকারে এসে এই মতবাদ নিষিদ্ধ ঘোষনা করেছে। এখান থেকে আমরা সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে মওদূদীবাদ ইসলাম বিরুদ্ধ।

    অন্যদিকে মওদূদীবাদের স্বপক্ষেও একইভাবে নানান দেশের আলেম মোল্লারা আছেন। মিশরের ব্রাদারহুডের কাছে মওদূদীবাদ উদ্দীপনার তত্ত্ব। সৌদী আরবে মওদূদী এতই জনপ্রিয় যে ওনাকে সৌদী সরকারের তরফ থেকে ইসলাম সেবার জন্য আরব বিশ্বে নোবেল হিসেবে পরিচিত বিশেষ পুরষ্কার পেয়েছেন। -এখান থেকে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি যে মওদূদী ইসলাম বিষয়ে ব্যাপক জ্ঞানী।

    এখন ওপরের দুই অনুসিদ্ধান্ত থেকে কি সিদ্ধান্তে আসা যায়? নাকি আদৌ কোন সিদ্ধান্তে কোনদিন আসা সম্ভব? এসবের কোন মাথামুন্ডু আছে?

    সালাফি ব্যাপারটাও তেমন। যতই বিরুদ্ধে মত থাক, এর সমর্থনও আছে।

    কাদিয়ানীদের অমুসলমান ঘোষনা নিয়ে আলেমদের তেমন মতভেদ নেই, শিয়াদেরও অমুসলমান বলে মত দেওয়ার বহু আলেম আছে। মওদূদী বা সালাফিদের অমুসলমান বলতে কয়জনকে শোনা যায়?

    আসল ইসলাম, কোরানের সহি ইন্টারপ্রেটেশন, সহি হাদীস এসবই আপেক্ষিক। কন্টেক্সট বোঝার তত্ত্বটাও কোন ধরাবাধা নিয়ম নয়, এটা হল সুবিধাবাদী তত্ত্ব। বিশেষ করে সমালোচনার মুখে এই তত্ত্ব দারুন কাজে দেয়, যেমন দাসী বিষয়ক বা ধর্ষন জ্বীনা এসব আয়াতের ব্যাখ্যায়। আবার যেসব আয়াত শান্তি সহনশীলতার কথা বলে সেসব আয়াতের কোন ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট কন্টেক্সট এসব কিছু জানার দরকার পড়ে না, সেসব হয়ে যায় ইউনিভার্সেল বা পারপেচুয়াল।

    এসব মডারেটগিরির নেট ফলাফল আরো ভয়াবহ। পাগলকে সাঁকো নাড়াতে নিষেধ করার নামান্তর। সর্বগ্রাহ্য সহি ইন্টারপ্রেটেশন বলে কিছু হওয়া সম্ভব না। লাভের লাভ হবে সহিত্ব নিয়ে নিজেদের ভেতর খুনাখুনী হবে যার উদাহরন ইসলামের আদি যুগ থেকে বর্তমান নিউক্লিয়ার যুগ পর্যন্ত অহরহ দেখা যায়। যতদিন না কোরান হাদীস এসবকে পূর্ন জীবন বিধান মানার ভূত মাথা থেকে বার না হবে ততদিন শান্তি বলে কিছু আসবে না। কিছু আলেম আইসিসকে অনৈসলামিম রায় দেবে, আর আইসিস বন্দনায় অনেকে মেতে উঠবে, তাদের দলে যোগ দিতে নিজের নিরাপদ জীবন ত্যাগ করে ছুটে যাবে। এই বিভ্রান্তি জিইয়ে রাখতে মৌলবাদীদের থেকে সহি ইন্টারপ্রেটেশনের দাবীদার মডারেটগনেরই ভূমিকা বেশী।

  4. অভিষেক অক্টোবর 20, 2014 at 7:05 অপরাহ্ন - Reply

    আলোচনায় শরিক হওয়ার মতো সময় পাচ্ছিলাম না বলে ব্লগে কমেন্ট করি নি। ভাবেছিলাম মেসেজে দুই লাইনে আমার মতামত জানিয়ে দিই না. ধ.-কে, কিন্তু লিখতে গিয়ে দেখলাম বড় হয়ে গেছে। এটিও ফেসবুকের মেসেজের জবাবেই লেখা, কিছুটা পরিমার্জিত। না. ধ. জানতে চেয়েছিলেন মেথডলজিক্যালি মেমেটিক্স কী কারণে সায়েন্টিফিক। মূলত তার জবাবেই এটি লেখা। সায়েন্টিফিক অ্যাপ্রোচ বলতে আসলে বুঝাচ্ছিলাম যে মেমেটিক্সের দাবিগুলো একেবারে ইন্ট্যাঞ্জিবল, অপরীক্ষণীয় বিষয়াদি নিয়ে নয়। মেমেটিক্স অনুযায়ী যেকোন কালচারাল আইডিয়ার ইউনিট হচ্ছে মিম। শর্তানুযায়ী কোন কিছুকে মিম হতে গেলে সেটার রেপ্লিকেশনের সক্ষমতা থাকতে হবে, অর্থাৎ যেটা মানুষ আরেকজনকে দেখে ইমিটেইট করতে পারে। যেমন ধরুন, আপনি যেটা ভাবছেন, লিখে, বলে বা অন্য যেকোনভাবে যদি সেই ভাবনাটাই আমার মধ্যে ট্রান্সমিট করতে পারেন যেন আমিও ঠিক সেটাই ভাবতে পারি, তাহলেই সেটি মিম। কেবল বিমূর্ত চিন্তা-ভাবনা না, ধরাছোঁয়া যায় এমন বস্তুও মিম হতে পারে। যেমন ধরুন বিল ক্লিন্টনের টাইয়ের নট থেকে শুরু করে সিরিয়ালের পাখি ড্রেস, সবকিছুই। ফেসবুকিং, ব্লগিং – এগুলোও মিম। এসব শুনতে খুব লেইম মনে হতে পারে, হয়ত ভাবছেন, মানুষ অনুকরণপ্রিয় সোজা কথায় এটা বললেই হয়, এতো তুলনা-টুলনার মধ্যে যাওয়ার কী দরকার। আসলে মেমেটিক্সের বিস্তার আরো গভীরে। সাংষ্কৃতিক বিবর্তন তো আছেই, মানুষের বায়োলজিক্যাল বিবর্তনের ব্যাখ্যাও অনেকে মেমেটিক্সের আলোকে দিতে চেষ্টা করেছেন। যেমন ধরেন ঠিক কী কারণে মানুষের মস্তিষ্কের বিকাশ বহুবছর যাবৎ ধীর গতিতে এগুনোর পর হঠাৎ করেই বাড়তে শুরু করলো, সমাজ-সভ্যতার শুরু কীভাবে কীসের ফলের হলো- এগুলো সবই ব্যাখ্যা করা যায় মেমেটিক্স দিয়ে, এমনকি নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষার মাধ্যমে বিজ্ঞানসম্মতভাবে এ ব্যাখ্যা সঠিক কিনা যাচাইও করা সম্ভব। দ্যা মিম মেশিন বইয়ের কথা যে বললাম, ওটাতে মানুষের বুদ্ধিমত্তার বিকাশে জিনের চেয়ে মিম বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছে এমন একটা দাবি আছে। মানুষ জিনেটিক্যালিই এমনভাবে বিবর্তিত হয়েছে যে তার কাজকর্ম, চিন্তাভাবনা সবকিছুই এমন যেন কেবল খাওয়াদাওয়া আর সন্তান উৎপাদনের চাইতে মিম প্রোপাগেইট করাও মোটেই কম গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়। আর মিমের ধারণাটা যেহেতু পুরোপুরিভাবেই নির্ভর করে মস্তিষ্কের উপর, তাই এর বড় একটা অংশ যে কেবল মিম প্রোপাগেশনের জন্যই বিকশিত হয়েছে এমনটা বললে আসলে অত্যুক্তি হয় না। পরিবেশের সঙ্গে খাপ খেতে গিয়েই যে কেবল বিবর্তিত হয়েছি আমরা তা নয়, বরং বিবর্তনের একটা পর্যায়ে আমরা এতইটাই মিমনির্ভর হয়ে পড়ি যে মিম ট্রান্সমিট করতে গিয়ে আমাদের মধ্যে কে সেরা সেই প্রতিযোগিতা থেকেও আমাদের বিবর্তন ঘটে – ঠিক যেমন ন্যাচারাল সিলেকশনের ক্ষেত্রে জিন ট্রান্সমিট করতে যে সেরা সে ফেভার্‌ড হয়, তেমন। সুজান ব্ল্যাকমোর এজন্য প্রেডিকশন দিয়েছেন – অধিকতর ভালোভাবে মিম ট্রান্সমিট করতে সক্ষম হওয়ার জন্য অধিকতর বড় মস্তিষ্কের প্রয়োজন, পরীক্ষানিরীক্ষার মাধ্যমে এটি সত্য প্রমাণিত হলে সেটা হবে মেমেটিক্সের জন্য বড় একটা সফলতা। ছোট্ট একটা মন্তব্যে আসলে পরিষ্কার করে মেমেটিক্স বুঝানো সম্ভব না। এ ব্যাপারে জানার জন্য বইয়ের কোন বিকল্প নেই। আর এ সম্বন্ধে আমার চেয়ে ঢের বেশি জানা অনেক ব্লগার আছেন মুক্তমনায়, তাদেরকে অনুরোধ রইলো মেমেটিক্সের একদম প্রাথমিক ধারণা নিয়ে সুন্দর একটা প্রবন্ধ লিখে ফেলার। অল্প পড়ে জানতে আগ্রহীদের অনেক কাজে দেবে।

    • অভিজিৎ অক্টোবর 20, 2014 at 10:01 অপরাহ্ন - Reply

      @অভিষেক,

      আপনার কমেন্টটি দেখে খুব খুশি হলাম। অন্ততঃ একজন হলেও বুঝতে পারছেন আমি ঠিক কি বলতে চেয়েছি। হ্যা, সুসান ব্ল্যকমোরের ‘মিম মেশিন’ বইটি মেমেটিক্সকে বোঝার জন্য খুবই ভাল। আমার ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’ বইটি এই মেমেটিক্সের ধারনার উপরেই লেখা। সেই সাথে রিচার্ড ব্রডির লেখা ‘ভাইরাস অব মাইন্ড’ , ডেরেল রে’র ‘দ্য গড ভাইরাস’ কিংবা ক্রেগ জেমসের ‘দ্য রিলিজিয়ন ভাইরাস’ প্রভৃতি বইগুলো আলোচনায় এনেছি। পারভেজ কিংবা অন্যান্যরা যারা আমার ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’ কনসেপ্টটির সমালোচনা করছেন, তারা যদি আগে বইগুলো পড়ে নিতেন, তবে হয়তো উপকার হত।

      মিম নিয়ে আপনার চিন্তাধারা বেশ স্বচ্ছ আছে বলেই মনে হয়। অন্য মুক্তমনা সদস্যদের আশায় বসে না থেকে আপনি নিজেই একটা লেখা লিখে ফেলুন না। আপনার ত মুক্তমনায় এক্সেস রয়েছে অনেক দিন ধরেই। কিন্তু লেখা তো পাই না। খালি মাছি মারলে হবে? 🙂 লিখুন আমাদের জন্য!

      • নাস্তিকের ধর্মকথা অক্টোবর 21, 2014 at 10:16 পূর্বাহ্ন - Reply

        @অভিজিৎ রায়,
        আপনার সাথে একমত।
        অভিষেকের উচিৎ এ নিয়ে লেখালেখি করা। পোলাটার মাথা ভালো … দেখেন ধরে বেধে আলসেমিটা ভাঙ্গাতে পারেন কি না …

    • নাস্তিকের ধর্মকথা অক্টোবর 21, 2014 at 10:20 পূর্বাহ্ন - Reply

      অভিষেক খানকে জিজ্ঞেস বলেছিলাম- ///আমি ঠিক বুঝলাম না কিভাবে মেমেটিক্সের অ্যাপ্রোচ মেথডোলজিক্যালি সায়েন্টিফিক! মিম- মিমেটিক্স সম্পর্কিত সাধারণ ধারণা দিতে চেয়েছেন- সেটা ভালোভাবেই দিতে পেরেছেন- এই আলোচনাগুলো মোটামুটি মুক্তমনার সুবাদে কমবেশি জানা … আমার কাছে এই ‘মিম’ এর প্রস্তাবনাটা একটা ‘ধারণা’মাত্র মনে হয়েছে (অবশ্যই আপনার বা মুক্তমনায় প্রকাশিত লেখাগুলো পড়ে, রিচার্ড ডকিন্স, সুজানের বই- এমনকি অভিজিৎ রায়ের বই না পড়েই, ডকিন্সের একটা প্রবন্ধের অনুবাদ অবশ্য পড়া হয়েছে) … আপনাদের যাবতীয় আলোচনা এবং যুক্তি তর্ক মনে হয়েছে এই ‘ধারণা’কে ফিট করার লক্ষে। সেকারণেই জানতে চাচ্ছিলাম, মেমেটিক্সের অ্যাপ্রোচ মেথডোলজিক্যালি সায়েন্টিফিক- এটা একটু ব্যাখ্যা করেন!

      আপনি যেসব উদাহরণ দিয়েছেন, সেসবের অনেক কিছুর আলোচনা ‘মিমতত্ত্ব’কে বাদ দিয়েও একইভাবে করা যায়- মানুষের চিন্তা, জ্ঞান, অভিজ্ঞতা- এসব মানুষ হতে মানুষে- ট্রান্সমিট করে- প্রপাগেট করে বা পরিভ্রমণ করে- এটা গভীরে বুঝার জন্যে ‘মিম’ এর ধারণা কতখানি সহায়ক আমি এখনো বুঝে উঠতে পারি না …///

      জবাবে অভিষেক বলেছেঃ

      আগের মেসেজেই কিন্তু এটা বলার চেষ্টা করেছি, আমি নিজেই আসলে অত ভালো মিম মেশিন নই বলে সেটা ঠিকভাবে বুঝাতে পারি নি। যাহোক, সায়েন্টিফিক মেথড বলতে ঠিক কী বুঝায়? অক্সফোর্ড বলছে, “a method or procedure that has characterized natural science since the 17th century, consisting in systematic observation, measurement, and experiment, and the formulation, testing, and modification of hypotheses.”

      কেম্ব্রিজেও একই কথা, “the systematic study of the structure and behaviour of the physical world, especially by watching, measuring and doing experiments , and the development of theories to describe the results of these activities.”

      মেমেটিক্স কিন্তু স্রেফ ধারণার উপর প্রতিষ্ঠিত নয়। মেমেটিক্সের আওতায় সমাজ-সংষ্কৃতির প্রতিটা এলিমেন্টই পড়ে, এগুলোকে স্টাডি করে, প্রপোজিশন, হাইপোথিসিস, টেস্ট্যাবল প্রেডিকশন সবকিছুই দিচ্ছে, তাহলে সায়েন্টিফিক অ্যাপ্রোচে ঘাটতিটা কোথায়?

      মিমতত্বের স্বীকার্যগুলো সংক্ষেপে আবার বলছি।

      ১. সমাজের প্রতিটা ধারণাকে ক্ষুদ্রতম ইউনিটে ভাগ করা যায়, এগুলো হচ্ছে মিম – মানুষের চিন্তা, জ্ঞান, অভিজ্ঞতা সব। এই মিমগুলোর অবস্থান মানুষের মস্তিষ্কে, বিভিন্ন মাধ্যমে এগুলো মস্তিষ্কে জায়গা নেয়।

      ২. মানুষ হচ্ছে ‘মিম মেশিন’ যার কাজ হচ্ছে মিমের সঞ্চারন। মানুষ জেনেটিক্যালিই এমনভাবে বিবর্তিত হয়েছে যাতে সে একই সঙ্গে মিম ছড়াতেও চায়, আবার অন্যদের থেকে বিভিন্ন মিমকে নিজের মস্তিষ্কে নিতে চায়। আপনার কথাই ধরুন, সকালে উঠে পত্রিকা পড়তে চাওয়ার উদ্দেশ্য কী? এর বিবর্তনীয় ব্যাখ্যা কী? ফেসবুকে আসার উদ্দেশ্য কী? স্রেফ সোশাল হওয়ার জন্য? বই পড়তে চাওয়ার উদ্দেশ্য কী? বিভিন্ন বিষয়ে জানার আগ্রহ কী কারণে আসে? এই গেল বিভিন্ন মিমকে মস্তিষ্কে নেয়ার প্রবনতা – এটা জেনেটিক। এরপর ব্লগিং করা, ফেসবুকিং করা, বই লেখা, নিজের মনের ভেতরকার বিষয়গুলো মানুষকে জানানোর যে একটা স্পৃহা, এমনকি গান গাওয়া বা অন্যান্য শিল্পচর্চা – এসবের মাধ্যমে মিমগুলোকে অনেক মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া যায় – এ প্রবনাগুলোও জেনেটিক। এগুলো কংক্রিট ফ্যাক্ট, গাছ থেকে আপেল মাটিতে পড়ার মতোই। তো এই জেনেটিক বৈশিষ্ট্যটির বিবর্তন হয়েছে বায়োলজিক্যালি যাতে মূল চালিকাশক্তির কাজ করেছে মিম, আরো স্পেসিফিক্যালি বললে মিমের আদানপ্রদান করার প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে। এখন মিমতত্ত্বে যেটা হয়, মিমের পার্স্পেক্টিভ থেকে সমাজ-সংষ্কৃতির এ সবকিছুই ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হয়, যার মধ্যে অর্থনীতি, রাজনীতি, খেলাধুলা, ধর্ম সবকিছু এসে পড়ে। অর্থাৎ এক্কেবারে গোড়ায় গিয়ে সমাজটাকে দেখার চেষ্টা হয় মিমতত্ত্বে। জেনেটিক্সের বিশদ জ্ঞান না থাকলেও বায়োলজির অনেকটা যেমন বোঝা সম্ভব, মেমেটিক্সের ক্ষেত্রেও একই কথা, কিন্তু, এটাকে বাদ দিলে আসলে জ্ঞান অসম্পূর্ণ রয়ে যায়। আর বিবর্তনীয় ব্যাখ্যার কথা যেটা বললাম, মেমেটিক্স দিয়ে এসব খুব সুন্দর করে ব্যাখ্যা করা যায়। এমনকি ভাষার উদ্ভবেও মেমেটিক্সের ব্যাখ্যাটা চমৎকার লেগেছে – সহজ করে বললে ঠিক যে মুহূর্ত থেকে মিম ট্রান্সমিট করাটা মানুষের পূর্বপুরুষদের মধ্যে অত্যাবশ্যকীয় হয়ে উঠলো, তখন থেকেই এই ট্রান্সমিশনের জন্য একটা মিডিয়ামের বিবর্তন শুরু হয়, যেটার সঙ্গে সহবিবর্তনের ফলে মানুষের মস্তিষ্কে ভাষাকেন্দ্র বিকশিত হতে থাকে, মানুষ উদ্ভাবন করে ভাষা।

      মিমতত্ত্ব নিজেও একটা মিমকমপ্লেক্স, আপনার মস্তিষ্কে ঠিক জায়গা করে উঠতে পারছে না, কারণ ওখানে আগে থেকেই কিছু প্রিভেইলিং মিম উপস্থিত আছে, যার মধ্যে মিমতত্ত্বকে গ্রহণ না করতে আপনাকে প্ররোচিতকারী মিমও আছে (মিমতত্ত্ব ভাইরাস হলে ওগুলোকে অ্যান্টি-ভাইরাস বলতে পারেন)। পারভেজ আলমের লেখাটা পড়লাম, মিম ধরা যায় না, ছোঁয়া যায় না, তাই মেমেটিক্স স্যুডোসায়ান্স – এটা আমার কাছে ফ্যালাশাস মনে হলো, ব্যাপারটা এমন যেন ডিএনএ আবিষ্কারের আগে জেনেটিক্সও স্যুডোসায়ান্স ছিল, কিংবা প্যাঞ্জেনেসিস ডারউইনিজমকেই ভুল প্রমাণ করে দেয়। আর দুই-এক লাইনের কোটেশন দিয়ে আসলে পুরো সিনারিওটা বোঝা সম্ভব না। আপনি এক কাজ করেন, অনিচ্ছা আলসেমি বাদ দিয়ে এটা নিয়ে পড়া শুরু করে দেন। বিবর্তনতত্ত্ব নিয়ে যেমনটা আছে, মেমেটিক্সের পক্ষে-বিপক্ষে বাংলায় তেমন লেখা নেই। আপনাদের কাছ থেকে আশা করছি।
      সংশোধনঃ “জেনেটিক বৈশিষ্ট্যটির বিবর্তন হয়েছে বায়োলজিক্যালি যাতে মূল চালিকাশক্তির কাজ করেছে মিম, আরো স্পেসিফিক্যালি বললে মিমের আদানপ্রদান করার প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে। ”

      এটা ফ্যাক্ট নয়, মিমতত্ত্বের দাবি। এক্সপেরিমেন্টের মাধ্যমে এ দাবি ভুলও প্রমাণিত হতে পারে, কিন্তু এরকম হাইপোথিসিস দাঁড় করানোর ব্যাপারটা সায়েন্টিফিক।

  5. নাস্তিকের ধর্মকথা অক্টোবর 20, 2014 at 4:14 অপরাহ্ন - Reply

    অভিষেক খান আমাদের একটা মেসেজ থ্রেড এই চমৎকার মন্তব্যটি করেছেন, কপি করে দিচ্ছিঃ

    নাঃধঃ ভাইয়ের আজকের লেখাটা কেউ না পড়লে পড়ে ফেলেন। ভালো একটা বিতর্ক হবে আশা করি। লেখায় মেমেটিক্স অংশের আগ পর্যন্ত পুরোপুরি সহমত, এখানটাতে গোলাম সরোয়ারের লেখাতেই সমর্থন দিচ্ছি। ধর্মকে কী কারণে ভাইরাস বলা হছে সেটা উনার লেখাতে যথেষ্ট পরিষ্কার মনে হয়েছে। ধর্ম হচ্ছে একেকটা মিমকমপ্লেক্স, ফাংশনালিটিতে ভাইরাসের সঙ্গে যার অনেক মিল। শুধু ধর্ম না, ভাইরাস আপনার লেখার মধ্যেও আছে,যে-দু’টো চুটকি আছে লেখায়, ওগুলো অলরেডি আমাকে ইনফেক্ট করে ফেলেছে। এ পর্যন্ত যে ২৭২ জন পড়েছে, তাদেরও। এই চুটকি যখন আমরা অন্যদের বলবো, তখন আমাদের থেকে ওগুলো অন্যকেও ইনফেক্ট করবে, হয়ত বর্ণনায় এদিক-ওদিক কিছু বদলাতে পারে, মিউটেশনের মতো। আবার আপনার পুরো লেখাটাই একটা মিমকমপ্লেক্স, এ পর্যন্ত যতজন লেখাটি পড়েছে, সবাই ইনফেক্টেড হয়েছে। ফেসবুকে যতটি শেয়ার হয়েছে, ততবার সেটা ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে পড়েছে, ঠিক যেমন হাঁচি-কাশি দিয়ে আমরা বায়োলজিক্যাল ভাইরাস ছড়াই। ধর্মকে অনেক দিক থেকে বিশ্লেষন করা যায়, যার যেভাবে ইচ্ছা। বিজ্ঞান লেখক হওয়ার কারণেই বোধহয় অভিজিৎ রায় মেমেটিক্যালি এগিয়েছেন। যাহোক, মেমেটিক্সকে ঠিক কী কারণে বিজ্ঞান বলা যাবে না জানা নাই, তবে যতটুকু জানি মেমেটিক্সের অ্যাপ্রোচ মেথডোলজিক্যালি সায়েন্টিফিক। এ ব্যাপারে জানতে পারসোনালি সাজেস্ট করবো সুজান ব্ল্যাকমোরের দ্যা মিম মেশিন বইটি পড়তে। ধর্ম নিয়ে কচকচানি না, শুধু মেমেটিক্সেরই পরিষ্কার আইডিয়া পেতে বইটি পড়া উচিত সবার। দুইটা বই জগতকে বুঝতে আমাকে নতুনুভাবে ভাবতে বাধ্য করেছে – একটা সেলফিশ জিন, যেটা বায়োলজির পার্স্পপেক্টিভ থেকে, আরেকটা এই মিম মেশিন – দুটিকেই খুব শক্তিশালী ভাইরাস বলতে হবে, ইবোলার মতো, সহজে ছড়ায় না, কিন্তু যখন কাউরে ধরে একবার, শ্যাষ কইরা দেয়।

  6. নাস্তিকের ধর্মকথা অক্টোবর 18, 2014 at 12:57 অপরাহ্ন - Reply

    পারভেজ আলম ফেসবুকে নিচের স্ট্যাটাসটা দিয়েছেনঃ

    Well, if ISIS is not Islamic, then the Inquisition was not Catholic.
    অনুবাদঃ আইসিস যদি ইসলামিক না হয় তাইলে ইনকুইজিশনও ক্যাথলিক ছিল না।

    উপরের বক্তব্যটি জীববিজ্ঞানী জেরি কয়েনের। বক্তব্যটি অভিজিৎ রায় তার ‘ফ্রম ফারাবী টু আইসিসঃ দা ভাইরাস অফ ফেইথ ইজ ইনডিড রিয়েল’ প্রবন্ধে তুলে দিয়েছিলেন। ‘নাস্তিকের ধর্মকথা’ সাম্প্রতিক ইসলাম ও টেরোরিজম বিষয়ক বিতর্কের অংশ হিসাবে মুক্তমনায় অভিজিৎ রায় এবং আমার, দুইজনের লেখারই সমালোচনা করে একটি ব্লগ লিখেছেন (লিংক কমেন্টে সংযোজিত)। এই লেখাটির জবাবেও দেখলাম অভিজিৎ রায় জেরি কয়েনের উপরোক্ত বক্তব্য তুলে ধরে তার অবস্থান প্রকাশ করেছেন।

    জেরি কয়েনের এই উক্তিতে একটা বড় ধরণের সমস্যা আছে। তিনি বলছেন, “আইসিস যদি ইসলামিক না হয় তাইলে ইনকুইজিশনও ক্যাথলিক ছিল না”। তিনি কিন্তু বলছেন না, “আইসিস যদি ইসলামিক না হয় তাইলে ইনকুইজিশনও খ্রিষ্টান ছিল না”। অর্থাৎ, ক্যাথলিসিজম খ্রিষ্টান ধর্মের একটা ধারা হলেও, তিনি ক্যাথলিসিজমের কথাই বলছেন, খ্রিষ্টান ধর্মের কথা বলছেন না। কিন্তু আইসিসের ক্ষেত্রে তিনি সরাসরি ইসলামের কথা বলছেন। আইসিসের ইসলামও যে ইসলামের ইতিহাসে বিকশিত বহু ধারার মধ্যে একটি ধারা এবং এই ধারাটি যে সালাফিজম নামে পরিচিত, সেই প্রসঙ্গটি বুঝে অথবা না বুঝে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

    রেনেসা থেকে এনলাইটেনমেন্টের সময়কালটিতে সমাজ পরিবর্তন ও প্রগতির বিরুদ্ধে অর্থডক্স ক্রিশ্চিয়ানিটির দাবি নিয়ে ক্যাথলিসিজম একটা শক্ত অবস্থান গ্রহণ করেছিল, ভিন্নমতকে বর্বর ভাবে দমন করার চেষ্টা করেছিল। মূলত ক্যাথলিসিজম এবং ক্যাথলিক চার্চের বিরুদ্ধে খ্রিষ্টানদের মধ্যে যে সংস্কারবাদী আন্দোলনের সুচনা হয়েছিল, তার পথ ধরেই ইউরোপের রাষ্ট্রগুলো রোমান ক্যাথলিক চার্চের প্রভাব ও কর্তৃত্ব থেকে মুক্ত হতে পেরেছিল। ইউরোপের রাষ্ট্রগুলো এখন সেকুলার, তার মানে এই না যে ইউরোপের সব মানুষ খ্রিষ্টান ধর্ম ত্যাগ করে নাস্তিক হয়ে গেছে। যা হয়েছে তা হলো রাষ্ট্র ও জনগণের উপর থেকে ক্যাথলিক কর্তৃত্বের বিনাশ হয়ে গেছে। খ্রিষ্টান ধর্মের ভেতরে মনোলিথের বিরুদ্ধে ডাইভার্সিটির বিজয়ের ফশল আজকের ইউরোপের সেকুলার রাষ্ট্রব্যবস্থা।

    খ্রিষ্টান সংখ্যাগরিষ্ট দেশগুলাতে ক্যাথলিসিজম যেই ভুমিকা পালন করেছে, আজকে মুসলিম দুনিয়ার আধুনিকায়নের কালে সেই ভুমিকা পালন করছে সালাফিজম। যদিও ইসলামে খ্রিষ্টান চার্চের মতো কোন ফর্মাল ক্লারিকাল অথরিটি নাই, এবং সালাফিজম দুনিয়ার সংখ্যাগরিষ্ট মুসলমানের ইসলামও নয়, কিন্তু পৃথিবীর প্রথম সালাফি ইসলামিক স্টেস্ট হিসাবে আবির্ভুত হয়ে এবং মুসলমানদের প্রধান পূন্যভুমি হিসাবে মক্কা, মদিনার উপর কর্তৃত্ব আরোপ করে, পেট্রো ডলার খরচ করে সৌদি আরব সমগ্র মুসলিম দুনিয়াতেই সালাফিবাদের অর্থডক্স কর্তৃত্ব কায়েম করেছে এবং সালাফি টেরোরিজমের এক্সপোর্টও করছে।

    প্রাচ্যের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট দেশগুলো এখন একটি যুগসন্ধিক্ষনে দাঁড়িয়ে আছে। তাদেরকে একিসাথে পাশ্চাত্যের সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্ত্ব এবং ইসলামের নামে অর্থডক্সির বিরুদ্ধে লড়াই করে টিকে থাকতে হচ্ছে। এই দুইকে পরাজিত করেই তকে সামনে আগাতে হবে। ইরাক, আফগানিস্তানের মতো দেশগুলোতে, যেখানে সাম্রাজ্যবাদ এবং সালাফিবাদ এই দুইয়ের আধিপত্বই প্রবল হয়েছে সেখানে এইসব রাষ্ট্রের কাঠামোই ধ্বসে গেছে। একিসাথে সাম্রাজ্যবাদ এবং সালাফিবাদের পৃষ্ঠপোষক হিসাবে সৌদি আরব দাঁড়িয়ে আছে সমগ্র মুসলিম জাহানের কেন্দ্র হয়ে। এই কেন্দ্র ধ্বসে না পরা পর্যন্ত সামনে আগানো কঠিন হবে।

    সুতরাং, আমাদের আসলে বলা উচিৎ ‘ইনকুইজিশন যেমন ক্যাথলিক ছিল, আইসিস তেমনি সালফি’। সারা দুনিয়ার আপামর মুসলিম জনসাধারাণের উপর কর্তৃত্বের দাবিকারী সালাফিবাদকে চিহ্নিত না করে গড়পরতা ‘ইসলামে’র ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে কি মুসলিম সমাজের প্রগতির পথে কোন উপকার করা যাবে? মনে হয় না।

    • অভিজিৎ অক্টোবর 18, 2014 at 10:36 অপরাহ্ন - Reply

      @নাস্তিকের ধর্মকথা,
      আমি খুব অবাক হচ্ছি, আপনার কি এখানে পারভেজ আলমের স্পোকম্যান হিসেবে কাজ করার কথা? পারভেজ আলম একটা স্ট্যাটাস দিলেন, আর সেটা আপনি কপি পেস্ট করে এখানে দিয়ে দিলেন? আপনি যদি স্ট্যাটাসটা আগাগোড়া উঠিয়ে না দিয়ে এর উপর নিজস্ব অভিমত দিতেন (যেকরম অভিমত দিয়েছেন আপনার লেখায়), তবে হয়তো যুক্তিযুক্ত হত।

      যা হোক, পারভেজের এ স্ট্যাটাসের দুর্বলতাগুলো আপনি জানেন না? ইনকুইজিশন শুরুই হয়েছিল ক্যাথলিক চার্চের দ্বারা, এটা তো ইতিহাস। সেজন্যই জেরি কয়েন ‘ক্যাথলিক’ শব্দটি বলেছেন। ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরতে হলে তো এভাবেই বলতে হবে। কিন্তু পুরো প্রবন্ধে জেরি কয়েন খ্রিস্টানিটি হিসেবেই সমস্যার কথা বলেছেন। যেমন প্রবন্ধের এই বাক্যগুলো দেখুন –

      the truest religion could be that which sticks the closest to scripture. In that case the “truest” Christianity and Judaism would be literalist and fundamentalist. They would adhere to the creationism set out in Genesis, as well as to the immoral behaviors sanctioned by God in the Old Testament. These include killing those children who curse their parents, as well as adulterers and those who work on the Sabbath. Although these are clear moral dictates of God, no modern Christians or Jews obey them, for the rules are reprehensible. Nevertheless, there is a case to be made that a fundamentalist Southern Baptist is a “truer Christian” than a liberal Unitarian, and a misogynist Orthodox Jew a truer believer than a modern reform Jew.

      You can cherry-pick the Qur’an as easily as you can the Bible, for both are filled with calls for violence and genocide that distress us. While Volksky and Jenkins quote one conciliatory verse from the Qur’an, there are a far greater number of verses calling for violence, characterizing Jews as “apes and swine,” dictating the killing of infidels and apostates, and dooming nonbelievers to hell. Why shouldn’t adherents to those views be considered “true” Muslims?

      আপনার কি মনে হয় জেরি কয়েন কেবল ওটাকে ক্যাথলিক সমস্যা বলে সুগারকোট গেছেন? আমার তো মনে হয়নি। যথারীতি পারভেজ প্রবন্ধটি পড়েননি, কেবল ‘If ISIS Is Not Islamic, then the Inquisition Was Not Catholic’ শব্দকটির লিটারাল অনুবাদ ( যদিও কোনকিছুর লিটারাল অনুবাদের বিরুদ্ধেই নাকি তার ইদানিংকার বিপ্লব 🙂 ) করে বিশাল একটা কিছু করে ফেলেছেন ভাবছেন। এমনকি যে লাইনটি নিয়ে সমস্যা করছেন পারভেজ, সেটাও খুব একটা ভুল নয়। হোরাস কিন্তু পারভেজের স্ট্যাটাসে কমেন্ট করে বলেছেন, ‘ক্যাথলিকদের সাথে সালাফিজমের তুলনা কি করা যায়? ক্যাথলিক হল শিয়া, সুন্নীর মত একটা সেক্ট। আর সালাফিজম অর্থডক্সির সর্বোচ্চ লেভেল। ক্যাথলিকরা খ্রীস্টান্দের অন্যান্য গ্রুপ থেকে অনেক বেশী অর্থডক্স। তবে তুলনা করার সময় সুন্নি, অথবা শিয়াদের সাথেই করাটাই বেশী যুক্তিযুক্ত। সেই হিসাবে জেরি কয়েনের কথাটা খুব একটা ভুল না।’ আরেকজন দেখলাম এমন কমেন্টও করেছেন –

      ক্যাবলামিতে এওয়ার্ড পাওয়ার মত স্ট্যাটাস। অবশ্য ক্যাবলামি না হয়ে হিপোক্রেসিও হতে পারে, রাগ করে আবার ব্লক করবেন না প্লিজ।

      যা হোক, জেরি কয়েনের উদ্ধৃতিটা দেবার উদ্দেশ্য ছিল এটা বোঝানো যে ইসলামে পারভেজের মত নানা পদের ইন্টারপ্রিটেশন খোঁজা সুফি ঘরনার মুসলিম যেমন আছে, ঠিক তেমনি আলকায়দা, আইসিসের মতো জিহাদী এবং গলাকাটা বাহিনীও আছে। কাজেই খালি পারভেজের মতো সুফি মানুষেরা সহি ইসলাম অনুসরণ করে, আর জিহাদীরা নয়, এটা বলা হিপোক্রেসি। এটার বিরুদ্ধে কোন শক্তিশালী যুক্তি পেলাম না।

      আমার মনে হয় আপনার যে অসাধারণ বিশ্লেষণ ক্ষমতা আছে, এটার অপব্যবহার না করলেই ভাল হবে। 🙂

      • নাস্তিকের ধর্মকথা অক্টোবর 19, 2014 at 10:41 অপরাহ্ন - Reply

        @অভিজিৎ রায়,
        আপনার কমেন্টটি পড়ে আমিও কিছুটা অবাক হলাম … 😕

        আমি খুব অবাক হচ্ছি, আপনার কি এখানে পারভেজ আলমের স্পোকম্যান হিসেবে কাজ করার কথা? পারভেজ আলম একটা স্ট্যাটাস দিলেন, আর সেটা আপনি কপি পেস্ট করে এখানে দিয়ে দিলেন?

        পারভেজ আলমের একটা প্রাসঙ্গিক স্ট্যাটাস এখানে কপি করে দেয়ায় কি অপরাধ করলাম, বুঝতে পারলাম না! আমার আলোচ্য পোস্ট- আপনি এবং পারভেজ আলম উভয়ের বিতর্কের বিষয়কে নিয়েই আবর্তিত, ফলে আপনাদের দুজনের বক্তব্য, আলোচনা আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনি বা পারভেজ আলম যাই বলেন- তার সঠিকতা- বেঠিকতা বিচার, তার দুর্বলতা বের করার আগে, আমার একমত দ্বিমত দেখানোর আগেও – আপনারা যে এই ডিবেট এর খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ সেটা স্বীকার করি এবং আপনাদের বক্তব্য এই পোস্টের সাথে মোটেও সাংঘর্ষিক নয়- বরং এই ডিবেটকে আরো সমৃদ্ধ করবে বলেই মনে করি … সে কারণেই পারভেজ আলমের বক্তব্য অবিকল আমার কোনরূপ মত দেয়া ছাড়াই এখানে উপস্থাপন করেছি।

        এই পোস্টে আপনার কমেন্ট যেমন গুরুত্বপূর্ণ, গোলাম সারওয়ারের মত আমিও মনে করি- আমার ও পাঠকদের জন্যে খুব দরকারী- তেমনি একইরকম ভাবে পারভেজ আলমের অংশগ্রহণও আমার কাম্য ছিল- যেহেতু তিনি মুক্তমনায় লিখছেন না- সেহেতু তার স্ট্যাটাসটি এখানে তুলে দিয়েছি …

        আলোচ্য পোস্ট দেয়ার পর থেকেই চাকুরিগত ব্যস্ততার কারণে আলোচনায় অংশ নিতে পারছিলাম না- আপনার কমেন্টের জবাবেও কিছু বলি নি, পারভেজ আলমের স্ট্যাটাস নিয়ে আমার মতামত দেয়ার সময় সুযোগও পাইনি- ফলে মুক্তমনার পাঠকদের জন্যে সেই স্ট্যাটাসটি কপি করে দিয়েছি … এতে এত আপত্তির কি বুঝিনি …

        আর আপত্তি যদি থাকেও, আরেকটু সংযত ভাষা ব্যবহার কি করতে পারতেন না? আমাকে যে কেউ যে কোন কথা বলতে পারে, পারভেজ আলমের স্পোকম্যান শুধু না- আরো গালি দিলেও আমি খুব বেশি আহত হইনা, কেননা জানি, এসব আমার সম্মানহানি খুব কমই করতে পারে, কিন্তু কষ্টটা পাই আপনাকে নিয়েই … আপনার এমন অসংযত আচরণ কি আপনার জন্যে খুব সম্মানকর? মোল্লাদের হাজারো গালিতে কখনো বিচলিত হইনি- বরং এনজয়ই করেছি বিভিন্ন সময়ে, কিন্তু আপনারটায় খুব বিব্রত হয়েছি- আপনার কাছে তো এমনটা আশা করি না! ভিন্নমতকে সহজভাবে গ্রহণ করা তো আমাদের মুক্তমনাদের সবচেয়ে বড় গুন, তাই নয় কি? অথচ, পারভেজ আলমের স্ট্যাটাসটিতে করা একটা গালি আপনার এট পছন্দ হয়ে গেলঃ

        ক্যাবলামিতে এওয়ার্ড পাওয়ার মত স্ট্যাটাস। অবশ্য ক্যাবলামি না হয়ে হিপোক্রেসিও হতে পারে, রাগ করে আবার ব্লক করবেন না প্লিজ।

        এ কি আপনি? আমাদের অভিজিৎ রায়!

        • অভিজিৎ অক্টোবর 20, 2014 at 1:26 পূর্বাহ্ন - Reply

          @নাস্তিকের ধর্মকথা,

          পারভেজ আলমের একটা প্রাসঙ্গিক স্ট্যাটাস এখানে কপি করে দেয়ায় কি অপরাধ করলাম, বুঝতে পারলাম না! আমার আলোচ্য পোস্ট- আপনি এবং পারভেজ আলম উভয়ের বিতর্কের বিষয়কে নিয়েই আবর্তিত, ফলে আপনাদের দুজনের বক্তব্য, আলোচনা আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ।

          নাহ, অপরাধ করেননি একেবারেই। আলোচনার জন্য যদি দিয়ে থাকেন তবে ঠিক আছে। কিন্তু আপনি যেভাবে তার স্ট্যাটাসটি পেস্ট করেছেন, আমার মনে হয়ছে আপনি এটা সমর্থন করেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিজের যুক্তিকে জোরালো করার জন্য, কিংবা সমর্থনসূচক কিছু বলার জন্য উদ্ধৃতি, স্ট্যাটাস ইত্যাদি ব্যবহার করি, যদিনা পরিস্কারভাবে যুক্তি খণ্ডনের জন্য দেয়ার কথা উল্লেখ না থাকে। আপনি বলেননি পারভেজ আলমের স্ট্যাটাসটি সম্বন্ধে আপনার অভিমত, সেটা কি আপনি বিরোধিতা করেন, দুর্বল মনে করেন, অযৌক্তিক মনে করেন? পুরো স্ট্যাটাসটি তুলে দিয়েছেন আর উপরে বলেছেন – ‘পারভেজ আলম ফেসবুকে নিচের স্ট্যাটাসটা দিয়েছেন’।

          আমি ভবেছিলাম কিছুটা হলেও হয়তো আপনি পারভেজের এই স্ট্যাটাসের বিষয়ে একমত (আপনি কিন্তু উল্টোভাবে আমার কোন মন্তব্য পারভেজ আলমের পেইজে কগিয়ে পেস্ট করেননি) যাহোক আলোচনার জন্য যেহেতু দিয়েছেন বলেছেন, আমি মেনে নিচ্ছি আপনার কথা। আমি স্ট্যাটাসটি নিয়েই বাদবাকি আলোচনা করেছি।

          আলোচ্য পোস্ট দেয়ার পর থেকেই চাকুরিগত ব্যস্ততার কারণে আলোচনায় অংশ নিতে পারছিলাম না- আপনার কমেন্টের জবাবেও কিছু বলি নি,

          এটা ঠিক। বুঝতে পারি – সবারই পরিবার পরিজন, ব্যক্তিগত ঝুট ঝামেলা, চাকরি বাকরি থাকে। তারপরেও লেখালিখি করতে হয়, মনের তাগিদেই। আমি করছি, আপনিও করেছেন। আপনি এতবড় একটা বিশ্লেষণমূলক লেখা লিখেছেন সময় নিয়ে, মন্তব্য করছেন, ধন্যবাদ অবশ্যই আপনার প্রাপ্য। আমিও যতদূর সম্ভব অব্জেক্টিভ আলোচনা করতে চেয়েছি।

          টেক ইয়োর টাইম!

          আর আপত্তি যদি থাকেও, আরেকটু সংযত ভাষা ব্যবহার কি করতে পারতেন না? আমাকে যে কেউ যে কোন কথা বলতে পারে, পারভেজ আলমের স্পোকম্যান শুধু না- আরো গালি দিলেও আমি খুব বেশি আহত হইনা, কেননা জানি, এসব আমার সম্মানহানি খুব কমই করতে পারে, কিন্তু কষ্টটা পাই আপনাকে নিয়েই … আপনার এমন অসংযত আচরণ কি আপনার জন্যে খুব সম্মানকর?

          স্বীকার করছি ‘পারভেজ আলমের স্পোকম্যান’ বলা একেবারেই উচিৎ হয়নি। আগেই বলেছি যেভাবে স্ট্যাটাসটি পেস্ট করেছেন, আমার মনে হয়ছে আপনি এটা সমর্থন করেন। আর তাছাড়া আপনি যেভাবে এখানে পারভেজ আলমের স্ট্যাটাসটি পেস্ট করেছেন, উল্টোভাবে আমার কোন মন্তব্য পারভেজ আলমের পেইজে গিয়ে পেস্ট করেননি। যাহোক তারপরেও স্পোকম্যান টাইপের কিছু উল্লেখ না করাই বাঞ্ছনীয় ছিল।

          আর লক্ষ্য করবেন, আমি কিন্তু মন্তব্যে পারভেজ আলমের স্ট্যাটস নিয়ে যথেষ্টই আলোচনা করেছি।

          পারভেজ আলমের স্ট্যাটাসটিতে করা একটা গালি আপনার এট পছন্দ হয়ে গেলঃ… এ কি আপনি? আমাদের অভিজিৎ রায়!

          আপনার শেষ লাইনটিতেও খঁচা আছে যথেষ্টই, তবে এটাকে আমি হৃষ্টচিত্তেই নিলাম। দেখুন ব্যাপারটাকে কনটেক্সটে বিচার করতে হবে। যেমন, আপনিও কিন্তু আপনার সাম্প্রতিক স্ট্যাটাসের একটি মন্তব্য ‘চুদির ভাই’ ব্যবহার করেছেন –
          [img]http://blog.mukto-mona.com/wp-content/uploads/2014/10/nastiker_dhormokotha_gali.png[/img]

          কেউ এর পেছনের কনটেক্সট না জানলে গালি হিসেবে নিতে পারেন। কিন্তু ‘গালিটা’ কিন্তু আমার পছন্দ হয়েছে, কারণ আমি জানি কি বলতে চেয়েছেন।

          পারভেজ আলমকে গালিটা আমি দেইনি, কিন্তু এটার উল্লেখ করেছি তার স্ট্যাটাসের দুর্বলতা আর কনটেক্সট বোঝাতেই। অন্য কিছু নয়।

          যাহোক, ইস্তফা দেই আলোচনায়। আপনি না হয় খোঁচা দিয়ে মন্তব্য শেষ করেছেন, আমি এর বিপরীতটা দিয়েই করি বরং।

          আপনি শক্তিশালী লেখক (মিন করেই বলছি)। আপনার সাথে বিতর্ক এবং আলোচনা সবসময়ই আমার জন্য এক আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা।

          ভাল থাকুন।

  7. অভিজিৎ অক্টোবর 17, 2014 at 10:51 অপরাহ্ন - Reply

    আমি নাস্তিকের ধর্মকথাকে ধন্যবাদ জানাই, লেখাটির জন্য। অত্যন্ত শক্তিশালী লেখা নিঃসন্দেহে। পারভেজ এবং আমার দু’জনের লেখা নিয়ে আলোচনা করেছেন, দুর্বলতাগুলো দেখাতেও সচেষ্ট হয়েছেন। তবে লেখাটির যে কিছু দুর্বল দিক নেই তা নয়। কিন্তু এত বিশাল লেখার পয়েন্ট বাই পয়েন্ট আলোচনা হয়তো মন্তব্যে সম্ভব নয়। আর বিষয়টা নিয়ে এত জল ইতোমধ্যেই ঘোলা হয়ে গেছে যে, নতুন লেখা দিতেও আমার মন সায় দিচ্ছে না। এমনকি কেউ যদি খেয়াল করেন তবে দেখবেন, পারভেজের লেখাটির বিপরীতে আমি ফেসবুকে দুটো স্ট্যাটাস দিলেও আমি মুক্তমনায় এ নিয়ে কিছু লিখিনি। তানভীরুল উপরে যে ক্যাচালের এবং মেটাট্যাগিং এর ব্যাপারটা বলতে চাইছেন সেটার মর্মার্থ আমি বুঝি। সে কারণেই এ থেকে দূরে থাকতে চাইছিলাম। তা বোধ হয় আর হল না। 🙂

    এবারে লেখাটির প্রসঙ্গে আসি। লেখাটি যে ভাল তা তো আগেই বলেছি। তবে একটি দুর্বলতা মনে হয়েছে যে অতিমাত্রায় ব্যাল্যান্স করার একটি প্রবণতা (সবকিছু ব্যালেন্সড হবার দরকার নেই কিন্তু, ওয়ান সাইড ক্যান বি রং, ডেড রং)। লেখাটার ধরণ এমন – পারভেজ আলম এবং অভিজিৎ সম্বন্ধে কিছু ভাল কথা দিয়ে শুরু করলাম, ‘দুজনেই পরম শ্রদ্ধার’ , ‘মুক্তচিন্তা প্রসারে দুজনের অবদানই স্বীকার করি’, ‘দিকপাল’ ইত্যাদি বিশেষণ প্রয়োগের পর দুজনেরই কিছু কিছু দিকের সমালোচনা করলাম, এবং শেষ করলাম নিজস্ব কিছু অভিমত দিয়ে। এই স্ট্রাকচারে দোষের কিছু নেই। তবে যে অভিমত দিয়ে শেষ করা হয়েছে সে অভিমতগুলোতে নতুন কিছু পাওয়া গেলো না। আমি যদি ভুল বুঝে না থাকি (ভুল হলে ধরিয়ে দেবেন) ধর্মকে বিশ্লেষণ করতে হলে ভাইরাস ফাইরাস নয়, রাজনীতি, সমাজ সাংস্কৃতিক বিশ্লেষণ ইত্যাদি লাগবে – এটাই এই প্রবন্ধের মূল সুর।

    আমার মতে, ব্যাপারগুলো মিচুয়ালি এক্সক্লুসিভ কিছু নয়। রাজনীতির বিশ্লেষণ তো অহরহই হচ্ছে। আগেও হয়েছে, ভবিষ্যতেও হবে। কিন্তু ধর্মকে সেজন্য ভাইরাসের সাথে তুলনা করা যাবে না তা নয়, ইনফ্যাক্ট ডেরেল রে যে কথাটি তার বইয়ে বলেছেন, ধর্মকে বিশ্লেষণের জন্য অনেকেই নানা ধরণের মডেল ব্যবহার করেছেন, কিন্তু রিচার্ড ডকিন্সের ভাইরাসেস অব দ্য মাইন্ড নামের গবেষণাপত্রটি আসার আগে ধর্মের মডেলকে এতো ভালভাবে বোঝা যায় নি – এর সাথে আমি অনেকাংশেই একমত পোষন করি। তবে এটা নিয়ে লিখতে গিয়ে রাজনৈতিক কারণ এবং বিশ্লেষণ অগ্রাহ্য করতে হবে তা কিন্তু নয়। হ্যাঁ, আমি যখন বই লিখি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ হাজির করি বৈকি। আমার ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’ বইয়েই কিন্তু আছে –

    প্যালেস্টিনীয়দের বঞ্চিত করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলো যেভাবে দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলকে নগ্ন ভাবে সমর্থন করেছে তাও মুসলিম সমাজকে সংঘাতের পথে ঠেলে দিয়েছে। এই রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া আর প্রতিহিংসার ব্যাপারগুলো ভুলে গেলে কোন আলোচনাই কখনও সম্পূর্ণ হতে পারে না’।

    কিংবা এও বলেছি –

    জনবিধ্বংসী যুদ্ধাস্ত্র না পাওয়া কিংবা সাদ্দামের সাথে আল-কায়েদার কোনো সম্পর্ক না খুঁজে পাওয়া কিংবা জৈব-যুদ্ধাস্ত্র না পাওয়া সত্ত্বেও নির্লজ্জভাবে ইরাকের উপর যে আগ্রাসন চালিয়েছে তা শুধু যে আমেরিকার চিরচেনা সাম্রাজ্যবাদী চেহারাটাকেই স্পষ্ট করে তুলেছে তা নয়, ইসলামি বিশ্ব এই আগ্রাসনকে যেকোনো কারণেই হোক ‘ইসলামের উপর আঘাত’ হিসেবে নিয়েছে। সেজন্য রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সেসমস্ত দেশেই ইসলামি আত্মঘাতী বোমা হামলার মাত্রাটা বেশি যে দেশের সরকার ইরাক যুদ্ধে বুশ-ব্লেয়ারকে নগ্ন ভাবে সমর্থন করেছে। প্যালেস্টাইনিদের বঞ্চিত করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলো যেভাবে দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলকে নগ্নভাবে সমর্থন করেছে তাও মুসলিম সমাজকে সংঘাতের পথে ঠেলে দিয়েছে। এই রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া আর প্রতিহিংসার ব্যাপারগুলো ভুলে গেলে কোনো আলোচনাই কখনো সম্পূর্ণ হতে পারে না। আরেকটি ব্যাপার উল্লেখ করাও বোধহয় এক্ষেত্রে অপ্রাসঙ্গিক হবে না। রাষ্ট্রযন্ত্র কীভাবে ধর্ম ও মৌলবাদকে লালন করে, পালন করে আর সময় বিশেষে উস্কে দেয় তার একটি বাস্তব প্রমাণ হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বিজ্ঞানীরা স্টেম সেল নিয়ে গবেষণা করবে কি করবে না, কৃত্রিমভাবে সংযুক্ত জীবন রক্ষাকারী যন্ত্র তুলে ফেলা হবে কি হবে না, স্কুলে বিবর্তনবাদ পড়ানো হবে কিনা, আর হলে কী ভাবেইবা পড়াতে হবে, সবকিছুই সূক্ষ্মভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে সরকার। বিজ্ঞানীদের গবেষণা আর কাজকর্ম নৈতিক না অনৈতিক- এ নিয়েও উপযাজক হয়ে জ্ঞানগর্ভ মত দিতে এগিয়ে আসছে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত অর্ধশিক্ষিত পাদ্রি আর যাজকেরা। যুদ্ধের আগে নবী-রাসুলদের মতোই ‘ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর’ শুনতে পেয়েছে সে দেশের প্রেসিডেন্ট; মিডিয়া, বৃহৎ পত্রিকা গোষ্ঠী আর প্রকাশক নির্ধারণ করে দিচ্ছে কোন্ খবরে আমরা বিশ্বাস করব, আর কোন খবর চেপে যাওয়া হবে। আসলে ‘মুক্ত বিশ্বের’ কথা মুখে বলে এভাবেই নাগরিক রুচি, চাহিদা, চেতনা আর পুরো জীবনধারাকেই নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে ধর্মান্ধ শাসককুল আর ধনকুবের গোষ্ঠী…’

    এগুলো কি রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক বিশ্লেষণ নয়? এ ধরণের অনেক বিশ্লেষণই পাবেন পাঠকেরা যদি তারা বইটি পড়েন। হ্যাঁ, বইটি ‘পড়া’র উপর গুরুত্ব দিচ্ছি, কারণ, কারো ধারণা খণ্ডন করে লিখতে হলে আগে তার কাজ এবং বইটি পড়তে হবে।

    পারভেজ আলম সেই কাজটিই করেছেন যেটা সবচেয়ে অন্যায়। উনি আমার বইটি পড়েননি (সেটা উনি লেখাতেই স্বীকার করেছেন), কিন্তু আমার ধারণা খণ্ডন করতে মাঠে নেমেছেন। শুধু নামেননি, আমাকে ‘সালাফি সেক্যুলার’ হিসেবে ট্যাগ করেছেন। নিজে ব্যক্তিআক্রমণ শুরু করে পরে আমাকে দোষারোপ করেছেন মিথ্যাচারের এবং ব্যক্তি আক্রমণের, যেটা একেবারেই অন্যায়। যেটা ভাল লাগেনা সেটা পড়ব না – এই মনোভাবটা সরাসরি না হলেও আপনার লেখাতেও আছে। আপনি ফলাও করে বলেছেন –

    আমি মিমতত্ত্ব, বিশ্বাসের ভাইরাস নিয়ে আগ্রহবোধ করিনি। কারণ, মানব সমাজ- মানব প্রকৃতি- মানব ইতিহাসকে বুঝতে এইসব তত্ত্বকে আমার আবশ্যক মনে হয়নি। এর চাইতেও অন্য আরো ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ আমাকে অধিক সন্তুষ্ট করে বলেই- এতে আগ্রহ পাইনি।

    এই মনোভাব বিপজ্জনক। যেহেতু এটা নিয়ে আগ্রহবোধ করেননা, তাই এটা পাতে নেয়া যাবে না, পড়ার চেষ্টা, জানার চেষ্টা করা যাবে না, কিন্তু না পড়েই আক্রমণ করা যাবে, যেটা পারভেজ করেছেন। এই অবিমৃষ্যকারিতার জন্যই কেবল দৃষ্টিভঙ্গি কেবল ‘দলীয়’ কাঠামোতেই ঘুরাফেরা করে। বামেরা কেবল বামের কাঠামোতেই সব বিচার করবে, অন্য কিছু ‘পুঁজিবাদী ষড়যন্ত্র’, ডানেরা আবার যে কোন বাম বিশ্লেষণই অগ্রাহ্য করে, আওয়ামীলীগ তাদের দলীয় বুদ্ধিজীবীদের ছাড়া সবাইকেই রাজাকার বানায়, বিএনপি জামাত আবার তাদের তাঁবেদার দলকানা টোকশোজীবী ছাড়া কাউকে পড়ার বা জানার যোগ্য মনে করে না। কিছু মুমিন যে কোরান নামক মহাগ্রন্থ ছাড়া সবকিছুকেই বাতিল করে দেয় – এই মনোভাবও সেই সংকীর্ণ মনোভাব থেকেই উৎসারিত। জানতে হলে পড়তে হবে, পছন্দনীয় না হলেও। আপনি যেমন কোরান পড়েছেন, তার আয়াতগুলো কন-টেক্সট অনুযায়ী বিশ্লেষণ করেছেন, কোরানে চার বিয়ে করার উল্লেখ আছে কিনা, দাসী সহবত করার প্রমাণ আছে কিনা, জিহাদ করার আহ্বান আছে কিনা – সব কিছুই আপনি আগ্রহ নিয়ে পড়েছেন, জেনেছেন। অথচ যে কেউ বলতে পারে, মানব সমাজ- মানব প্রকৃতি- মানব ইতিহাসকে বুঝতে ১৪০০ বছর আগেকার একটা বই আমার আবশ্যক মনে হয়নি। এর চাইতেও অন্য আরও ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ আমাকে অধিক সন্তুষ্ট করে। হয়তো সেটা ঠিক, কিন্তু আপনি কোরান না পড়লে বিশ্লেষণ পূর্ণ হবে না। পড়ার কোন বিকল্প নেই।

    আর রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদ নিয়ে যেগুলো বলা হচ্ছে, তার সাথে আমি একমত পোষণ করি, এবং এ নিয়ে আমাদের মধ্যে কোন বিরোধ নেই, আমি নিজেও কাশ্মীরীদের জন্য লিখেছি, প্যালেস্টাইনদের অধিকারের কথা বলেছি আমার বহু লেখাতেই (এবং যথারীতি হিন্দুত্ববাদীদের তোপেও পড়েছি); মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ কিভাবে ধর্মের শোষণে জিইয়ে রেখেছে, কিংবা ব্যবহার করছে তার উল্লেখ যথেষ্টই আছে আমার লেখায়। কিন্তু – পাশাপাশি – এ কথাও আমি স্পষ্ট করে বলব – মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ সমস্যা হলেও আমি মনে করি না সেটা ইসলামি সন্ত্রাসবাদের কারণ। ইসলামি সন্ত্রাসবাদের উৎস মূলত ইসলামেই নিহিত। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কারণে কোরআনে ‘যেখানেই অবিশ্বাসীদের পাওয়া যাক তাদের হত্যা’ করার আয়াত, ‘তাদের সাথে সংঘাতে লিপ্ত হবার’ আয়াত, বিধর্মীদের উপর ‘জিজিয়া কর আরোপ করার’ আয়াত, ‘গর্দানে আঘাত করার’ আয়াত পয়দা হয়নি। ধর্মগ্রন্থগুলোতে নারীদের অবরুদ্ধ রাখার, শস্যক্ষেত্রের সাথে তুলনা করার, কিংবা যুদ্ধবন্দিনীদের সাথে সহবাসের আয়াত, অথবা ব্যভিচারী নারীদের পাথর ছুঁড়ে হত্যার নির্দেশ মার্কিনরা করে যায়নি। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় মহানবী মুহাম্মদ নিজে ৬২৪ খ্রিস্টাব্দে বনি কুয়ানুকা, ৬২৫ খ্রিস্টাব্দে বনি নাদির আর ৬২৭ খ্রিস্টাব্দে বনি কুরাইজার ইহুদি ট্রাইবকে আক্রমণ করে তাদের হত্যা করেন। বনি কুয়ানুকার ইহুদিদের সাতশ জনকে এক সকালের মধ্যে হত্যা করতে সচেষ্ট হন (কিন্তু ‘ভণ্ড’ বলে কথিত আব্দুল্লাহ ইবনে ওবাইয়ের হস্তক্ষেপে সেটা বাস্তবায়িত হয়নি) , আর বনি কুরাইজার প্রায় আটশ থেকে নয়শ লোককে আব্দুল্লাহর বাধা উপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত হত্যা করেই ফেলেন, এমন কি তারা আত্মসমর্পণ করার পরও । হত্যার ভয়াবহতা এতই বেশি ছিল যে, ক্যারেন আর্মস্ট্রং-এর মতো লেখিকা, যিনি মুসলিম সমাজের পছন্দের তালিকায় শীর্ষস্থানীয় হিসবে গণ্য হন, তিনি পর্যন্ত এধরনের কর্মকাণ্ডকে নাৎসি বর্বরতার সাথে তুলনা করেছেন । কিন্তু তারপরেও অনেকেই আবার আছেন যারা ইতিহাস এবং বাস্তবতা ভুলে কেবল আমেরিকাকেই সব সময় ইসলামি সন্ত্রাসবাদের উৎস বলে মনে করেন। হিন্দুদের সতীদাহের বলি হয়ে হাজার হাজার নারীকে পোড়ানো হয়েছিল অতীতে। এটা তো মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের জন্য হয়নি। ঠিক তেমনি, মুসলিম বিশ্বে সমকামীদের ঘৃণা, মুরতাদদের হত্যা, সৌদী আরবে মেয়েদের ড্রাইভিং করতে না দেয়া, নাইজেরিয়ায় মেয়েদের ব্যাভিচারের জন্য পাথর মারা, কিংবা ইসলামের তাগুদি সেনাদের আল্লাহু আকবর ধ্বনি দিয়ে কাফিরদের শিরোচ্ছেদ করা – কোনটাই কেবল মার্কিনদের জন্য হয়নি। মুসলিম সন্ত্রাসবাদের উত্থান যদি সমস্যা হয়ে থাকে, তবে সমস্যার মূল কারণ হলো, ফান্ডামেন্টালস অফ ইসলাম।

    আর এখানেই ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’ ব্যাপারটা প্রাসঙ্গিক। আমি কিন্তু আমার লেখায় বহুবারই বলেছি যে, এইটা একটা রূপক। ইংরেজিতে মেটাফর। কিন্তু খুব শক্তিশালী মেটাফর। রিচার্ড ডকিন্স ব্যাপারটা সেলফিশ জিনে তো বলেছিলেনই, বলেছিলেন তার একটি পেপারেও, যেটা ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের ওয়েব সাইটে পাওয়া যাবে অনলাইনে –

    http://vserver1.cscs.lsa.umich.edu/~crshalizi/Dawkins/viruses-of-the-mind.html

    পরে এ ধরনের অনেক পেপারই লেখা হয়েছে। লেখা হয়েছে অনেক বইও। সেগুলোতে আর নাই বা গেলাম এখানে। তার চেয়ে যেটা মূল কথা সেই – ‘মেটাফরের’ ব্যাপারটাই পরিস্কার করি বরং।

    কার্ল মার্ক্স এক সময় ধর্মকে অপিয়ামের সাথে তুলনা করেছিলেন। ধর্মের সম্মোহনী শক্তি বোঝাতেই এটা করেছিলেন তিনি। এখন কেউ যদি এর সমালোচনায় লেখে, অপিয়াম হচ্ছে এলকালয়িড গ্রুপের একটা ড্রাগ – যে গ্রুপে আছে মরফিন কোডিনের মত ড্রাগ ল্যাবে পরীক্ষা করে দেখা গেছে এগুলো মস্তিস্কের স্নায়ুকে বিকল করতে পারে। কিন্তু ধর্মকে কি ল্যাবে পরীক্ষা করে এরকম পাওয়া গেছে। অপিয়ামের রাসায়নিক উপাদান বাস্তবে পাওয়া গেছে, ধর্মের ক্ষেত্রে কি সেরকম কিছু পাওয়া গেছে? এগুলো বলা শুরু করলে পুরো ব্যাপারটা হাস্যকর লেভেলে চলে যাবে। সেটাই গেছে। ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’ কথিত ধার্মিক ব্যক্তির মস্তিষ্কে থাকা সেই ভাইরাসের এধরণের কোন প্রমানাদি কি আছে?’ অনেকটা সেরকমের হাস্যকর প্রশ্ন। মার্ক্স যেমন ধর্মকে অপিয়ামের মতো সম্মোহনী শক্তিধারী মনে করেন, আমি মনে করি ধর্ম অনেকটাই ভাইরাসের মতো সংক্রামক। (আর আমি কিন্তু জনপ্রিয়ধারার বইই লিখেছি, কোন গাণিতিক প্রমাণ বা ল্যাবওয়ার্কের কাজের উপর গবেষণাগ্রন্থ নয়।) আমার কথা না হয় বাদ দিলাম; কেন ধর্ম ভাইরাসের মতো সঙ্ক্রামক তা পেশায় চিকিৎসক এবং লেখক গোলাম সরোয়ার তার লেখায় খুব চমৎকার ভাবে দেখিয়েছেন। তিনি ভাইরাসের শারীরিক গড়ন, ভাইরাসের কর্মক্ষমতা এবং এর কাজের ধরণ, ভাইরাসের ক্ষতিকর দিক এবং এমনকি ভাইরাসের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও ধর্মের সাথে ভাইরাসের প্রবল সাযুজ্যের উদাহরণ উল্লেখ করেছেন।

    আমিও আমার লেখায় এ ধরণের অসংখ্য উদাহরণ দিয়েছি। খুব পরিষ্কার করেই বলেছি – সব বিশ্বাস হয়তো খারাপ কিংবা ক্ষতিকর নয়, কিন্তু অসংখ্য মন্দ বিশ্বাস অনেক সময়ই জন্ম দিতে পারে ‘বিশ্বাসের ভাইরাসের’। গোত্রাধিপতিদের কথাকে শিরোধার্য করে তার একনিষ্ঠ অনুগামীরা বিধর্মীদের হত্যা, ডাইনী পোড়ানোতে কিংবা সতীদাহে মেতে উঠে, কখনো গণ-আত্মহত্যায় জীবন শেষ করে দেয় কিংবা বিমান নিয়ে সোজা হামলে পড়ে টুইন টাওয়ারের উপর। আমরা কি জোন্সটাউন ম্যাসাকার (১৯৭৮), সোলার টেম্পল (১৯৯৪-১৯৯৭), হেভেন্স গেট (১৯৯৭) সহ বিভিন্ন ঘটনার উদাহরণ কি জানিনা, যেখানে গোত্রাধিপতির কিংবা ধর্মগুরুর কথায় তাদের মুরিদেরা হাসিমুখে আত্মাহুতি দিয়েছিল নিজস্ব বিশ্বাসকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরে? এটার কোন খণ্ডন পেলামনা পারভেজের লেখায়, আপনারও।

    আমি প্রাসঙ্গিকভাবে রাজীব হত্যার প্রসঙ্গও এনেছিলাম। মুফতি জসিমের নির্দেশে সাতজনের দল গঠন করে থাবা বাবাকে পল্লবী থানার সামনে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল ২০১৩ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি। প্রাচীন ধর্মগ্রন্থের বাণী এবং ধর্মগুরুদের দিকনির্দেশনা কীভাবে আজও জিহাদি প্রেরণা হিসেবে কাজ করে যায় ভাইরাস-আক্রান্ত মননের মাঝে- তার একটি জলজ্যান্ত উদাহরণ ছিল ঘটনাটি। যারা ভাবেন, এই আগ্রাসনের পেছনে কোন ধর্মীয় উন্মাদনা বা প্রেষণা কাজ করেনি, পুরোটাই কেবল ‘পলিটিকাল কিলিং’ কিংবা ‘শাহবাগ আন্দোলন কে ভিন্নদিকে ঘোরাবার অভিসন্ধি’ টাইপের কিছু ছিল, তারা বোকার স্বর্গে বাস করেছেন। তারা ইসলামিস্টদের সাইটগুলো (যেমন, সাইট ১: http://bit.ly/1rzRdmY ; সাইট ২:http://bit.ly/1uxHOit ইত্যাদি) পর্যালোচনা করলে বুঝবেন, এই ‘মিম’ এর অনুসারীরা সত্যই মনে করে রসুলকে কেউ অবমাননা করলে কিংবা ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করলে তার শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড। কেবল আদিম সমাজে নয়, এই অত্যাধুনিক যুগেও এটা বাস্তবতা। আমি আমার স্ট্যাটাসে বলেছিলাম, থাবা বাবাকে হত্যার পর আনসারুল্লাহটিমের বানানো একটি ভিডিও ছাড়া হয়েছিল ইউটিউবে আর ফেসবুকে। ভিডিওতে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছিল, নবী মুহম্মদ যেভাবে কাব ইবনে আশরাফ, আসমা বিন্তে মারওয়ানের মত কবিদের হত্যা করেছিলেন ইসলামের আর নবীর বিষেদগার করার শাস্তি হিসেবে, ঠিক একই ভাবে থাবা বাবাকে মেরে ফেলাও জায়েজ হয়েছে। চিন্তা করে দেখুন প্রাচীন কালের অশিক্ষিত ধর্মাবতারদের বাণী বুকে করে যেভাবে থাবা বাবা হত্যায় মোটিভেটেড হয়েছে একটা অত্যাধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ কিছু ছাত্র – এ থেকে বোঝা যায় এই ‘ডেঞ্জারাস মিম’ কতটা শক্তিশালী। আবুরাফেকে হত্যার জন্য যেরকম ৫/৬ জনের সাহাবীদের দল গঠন করা হয়েছিল, ঠিক একই কায়দায় থাবা বাবাকেও হত্যা করা হয়েছে, এবং তারা প্রকাশ্যেই বলে – যে কারণে ব্লগার রাজীবকে হত্যা করা ফরজ ছিল, এবং তার সব সহযোগীদের ও হত্যা করা ফরজ।
    আপনিও জানেন ব্যাপারগুলো সত্য, হয়তো পারভেজ সাহেবও জানেন। কিন্তু বিড়ালের গলায় কেউ ঘণ্টা বাধার দায়িত্ব কেউ নিলে সেটাকে আক্রমণ করা হলে তো আমি নাচার!

    ফারাবীর আত্মীয়তা প্রসঙ্গে যে ব্যাপারটা আপনি উল্লেখ করেছেন, সেটা আমি মেনে নিচ্ছি। এ ধরণের আলোচনায় সেটা আসা উচিৎ ছিল না। তবে রকমারিতে ফারাবী আমার বই নিয়ে যে তাণ্ডব করেছিলেন, সেটা পারভেজ জানেন, উনি সেসময় আমার পক্ষে কিছু লিখলেন না, অথচ ফারাবীকে নিয়ে আমি একটা লেখা লিখলাম সেটাতে উনি গোস্যা হয়ে আমাকে ‘সালাফি সেক্যুলার’ বলে ট্যাগ করলেন। ব্যাপারটা সন্দেহজনক, তারচেয়েও হাস্যকর এর পরের লেখায় ফারাবী কতরকমভাবে তার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তার ফিরিস্তি এবং স্ক্রিনশট দিয়ে লেখা লিখেছেন। আমি বলেছিলাম, ফারাবী আমাকে একাধিকবার মৃত্যু হুমকি দিয়েছে, রকমারিকে হুমকি দিয়ে আমার বইপত্র উঠিয়ে নিয়েছে, কই আমার কাছে তো এখন পর্যন্ত ‘নিজের লোক’ ভেবে ফারাবী ক্ষমা চায়নি! ক্ষমা চাননি আসিফ মহিউদ্দীন, তসলিমা নাসরিন, পীযুশ বন্দোপাধ্যায়, উল্লাস, রাহী সহ বহু মুক্তচিন্তার ব্লগারদের কাছেও। তো কি বুঝতে হবে, পারভেজ আলমই সঠিক লাইনে রয়েছেন, আর আমরা অভাগারা ফারাবীহুজুরের পানিপড়াবঞ্চিত নালায়েক? গোলাম আযম, নিজামীরা যদি কারো হঠাৎ প্রশংসা করতে শুরু করে, আর ফারাবীরা যদি কারো পায়ে পড়ে ক্ষমা চাইতে শুরু করে সে লাইনটা সত্যিই পারভেজের সঠিক লাইন কিনা ভেবে দেখার অনুরোধ রইলো। সেটার সুরাহা আজো হয়নি, উপরন্তু ‘দেশের স্বার্থে অভিজিৎ রায়ের বিরুদ্ধে লিখেছি’ টাইপের লেখা পেয়েছি। আমার ডিফেন্সে আমি কেবল এটাই বলব, আমি পারভেজের খুব কাছের লোকজনের ফেসবুক ম্যাসেজ থেকেই সেটা জেনেছিলাম, এবং উল্লেখ করেছি ফেসবুকের স্ট্যাটাসেই (এমনকি কোন নোটেও নয়)। স্ট্যাটাস দিন শেষে হারিয়ে যায়। আমি ব্লগে কিন্তু এই ব্যাপারটা লিখি নি, ওদিকে পারভেজ ‘সালাফি সেক্যুলার’ ব্লগে গিয়েই বলেছেন। আমি যদি ব্লগে লেখা লিখতাম (হয়তো লিখব সামনে, হয়তো বা নয়), আমি এই চটুল ব্যাপারগুলো আনতাম না। হয়তো আপনার মতো সবদিক বিশ্লেষণ করেই লেখায় প্রয়াসী হতাম। আমাদেরকে এ ব্যাপারে পথ দেখানোর জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি আবারো।

    সহি ইসলাম নিয়ে আপনি যা বলেছেন, সেটা আমারো অভিমত, বলাই বাহুল্য। তবে যেভাবে ব্যাপারটাকে ইন্টারপ্রেট করেছেন সেটার আসে একমত নই মোটেই। আমি আমার প্রথম স্ট্যাটাসে ‘ইহা সহি ইসলাম নহে’ টাইপের পনেরো ষোলটা উদাহরণ হাজির করেছিলাম সেটা স্যাটায়ার হিসেবেই, যারা বলেন ইসলামী সন্ত্রাসীরা ‘সহি ইসলাম’ মানছে না বলে জিকির করেন – তাদের উদ্দেশ্যে। সহি ইসলাম জিনিসটা যখন তারাই আমদানী করেছেন, তাদেরকেই সংজ্ঞায়িত করতে হবে না, ব্যাপারটা ঠিক কি! আমি ভেবেছিলাম, আমার স্ট্যাটাসের শেষ লাইনটি থেকেই বোঝা সম্ভব ছিল স্যাটায়ারের মেজাজটি – আমার মনে কেন যেন সন্দেহটা ক্রমশঃ ফুলে ফেঁপে উঠছে — ইসলামের সাথেই বোধ হয় ‘সহি ইসলামের’ কোন সম্পর্ক নেই

    সিরিয়াস নোট হিসেবে বললে বলতে হয়, হ্যা, আপনার মতোই আমি মনে করি – সহি হিন্দুইজম, সহি ইহুদি, সহি খ্রিস্টানিজম- এসব বলে কিছুই নাই। কিন্তু যেটা নাই সেটা না হয় নাই, কিন্তু যেটা আছে সেটা অস্বীকার করি কি করে? আমি মনে করি পারভেজ আলমের মতো আয়াতের ইন্টারপ্রেট খোঁজা মডার্ন সুফি ঘরনার মুসলিমরা যেমন ইসলামের ট্রেইট, ঠিক তেমনি বিন লাদেন কিংবা আইসিসের মতো ধর্মগ্রন্থের লিটারেল ইন্টারপ্রেটওয়ালারাও ইসলামের ট্রেইট। খুব প্রবলভাবেই। কাজেই ওদের কাজ ‘সহি ইসলামের’ সাথে সম্পর্কিত নয় ভাবাটাই হাস্যকর। প্রকৃত ইসলামের সাথে এই সব টেরোরিস্টদের কোনোই সম্পর্ক নাই যারা মনে করেন, তাদের উদ্দেশ্যে এটাই বলা যায় যে, এরা কিন্তু নিজেদের টেরোরিস্ট ভাবে না, তারা কিন্তু ভাবে যে তারাই সাচ্চা মুসলিম, যারা কিনা আল্লাহর দেওয়া অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে। তারা নিজেরা এগুলো করছে, অন্যদেরও এই জিহাদে শরীক হতে বলছে। করছে কোরানের বানী এবং নির্দেশ মেনেই। কুখ্যাত আইসিস কোরান সুন্না মেনে বিধর্মীদের গলা কাটছে, কেউ ‘ঈমানী দায়িত্ব’ পালন করতে থাবা বাবাকে কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে রাখছে, কেউ বা করছে হুমায়ুন আজাদের মত মুরতাদকের ক্ষতবিক্ষত, আর কেউ কোরানে চুমু খেয়ে ওজু করে বিমান নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ছে টুইন টাওয়ারের ওপর। এটা অস্বীকার করার চেষ্টা তো বোকামি। আমি জানি হয়তো তারপরেও আমার বক্তব্য পরিষ্কার হবে না। আমি জীববিজ্ঞানী জেরি কয়েনের এই লেখা (If ISIS Is Not Islamic, then the Inquisition Was Not Catholic) থেকে উদ্ধৃতি দেই, যেটা অনেকটাই আমার স্ট্যান্ডকে রিপ্রেজেন্ট করে –

    Well, if ISIS is not Islamic, then the Inquisition was not Catholic. The fact is that there are no defensible criteria for whether a faith is “true,” since all faiths are man-made and accrete doctrine—said to come from God, but itself man-made—that becomes integral to those faiths. Whatever “true faith” means, it doesn’t mean “the right religion: the one whose God exists and whose doctrines are correct.” If that were so, we wouldn’t see Westerners trying to tell us what “true Islam” is….

    In the end, there is no “true” religion in the factual sense, for there is no good evidence supporting their claims to truth. ISIS is a strain of Islam that is barbaric and dysfunctional, but let us not hear any nonsense that it’s a “false religion.” ISIS, like all religious movements, is based on faith; and faith, which is belief in the absence of convincing evidence, isn’t true or false, but simply irrational.

    ভাল থাকবেন। ভাল লিখা। আরও লিখুন!

    • মুহাম্মদ গোলাম সারওয়ার অক্টোবর 17, 2014 at 11:05 অপরাহ্ন - Reply

      @অভিজিৎ,

      ধন্যবাদ। লেখায় পেশাদারিত্ব (ঠিক আয় রোজগার অর্থে নয়, দক্ষতা অর্থে) কি আপনার লেখায় বোঝা যায়। আপনার কমেন্ট টি খুব নির্মোহ একটা বিশ্লেষণ হয়েছে, আমার মনে হয় এই নিবন্ধের লেখকের জন্যে আপনার কমেন্ট টি খুব উপকারী হবে।

      • নাস্তিকের ধর্মকথা অক্টোবর 19, 2014 at 11:44 অপরাহ্ন - Reply

        @মুহাম্মদ গোলাম সারওয়ার,
        আপনার সাথে একমত। অভিজিৎ রায়ের আলোচনাটার সাথে বেশ কিছু দ্বিমত থাকলেও নিঃসন্দেহে স্বীকার করি যে, ধৈর্য নিয়ে তিনি ধরে ধরে যেভাবে তিনি আলোচনা করেছেন- তা থেকে আমাদের শেখার অনেক কিছুই আছে।

    • নাস্তিকের ধর্মকথা অক্টোবর 20, 2014 at 12:30 পূর্বাহ্ন - Reply

      @অভিজিৎ রায়,
      আজ রাতেই ডিটেইলসে আপনার কমেন্টের কিছু জবাব লেখার ইচ্ছে ছিল, কিন্তু শরীরটা খারাপ লাগছে বিধায় আবারো সময় চেয়ে নিচ্ছি। শুধু আপনার যেসব সমালোচনা মাথা পেতে নিচ্ছি সেগুলো বলে যাচ্ছি …

      তবে একটি দুর্বলতা মনে হয়েছে যে অতিমাত্রায় ব্যাল্যান্স করার একটি প্রবণতা

      শুরুর ভূমিকাটা দেখলে এমন মনে হতেই পারে। যেহেতু আপনাদের দুজনের বেশ কিছু সমালোচনা করেছি- সেহেতু শুরুতে ভালো কিছু বলে সমালোচনায় যাওয়া … আমার নিজের ক্ষেত্রে এমন কেউ করলেও আমার বিরক্ত লাগতো … বাস্তবে শুরুর ভূমিকাটা সবার শেষে লিখেছি … ফেসবুকে শেয়ার দেয়ার জন্যে লিখেছিলাম, এখানেও যুক্ত করে দিয়েছি … এটা আসলে আপনাদের উদ্দেশ্যে যতখানি না, তার চাইতেও বেশি আপনার দুজনকেই একটু চান্সে একহাত দেখে নেয়া সুযোগ যাতে কেউ না পায় তার জন্যে লেখা। অন্তত সেই অংশকে শুরুতে জানিয়ে দিতে চেয়েছি- যে দুজন ব্যক্তির সাথে বিতর্কে অবতীর্ণ হচ্ছি- তাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধার এতটুকু কমতি নেই। আরেকটা কথা বলতে পারি- আপনাদের ব্যাপারে যা লিখেছি, সেটি কিন্তু আমি তেমনটা মনে করি বলেই লিখেছি …

      তবে, একটা কথা বলে নেই- মূল ডিবেট এর বিষয়ে ব্যালান্স করার চেষ্টা করিনি। সেখানে, আমার অবস্থানটাই ঐরকম মাঝামাঝি … আপনাদের দুজনের সাথে একমত ও দ্বিমত আছে …

      পড়ার কোন বিকল্প নেই।

      সম্পূর্ণ একমত। এবং অনেক ধন্যবাদ- এই গুরুত্বপূর্ণ উপদেশটি স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্যে।

  8. মুহাম্মদ গোলাম সারওয়ার অক্টোবর 17, 2014 at 9:07 অপরাহ্ন - Reply

    খুব ভালো লেখা হয়েছে। অনেকদিন পরে একটি গভীর, বিশ্লেষণাত্মক লেখা পড়লাম। লেখক কে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

    সারওয়ার

  9. মাহফুজ অক্টোবর 17, 2014 at 6:35 অপরাহ্ন - Reply

    কিছু কিছু বিতর্ক আসলেই ভালো নয়। আপনি অনেক সময় ব্যয় করে যে বিশ্লেষণ করেছেন তা হয়তো ঠিক। কিন্তু তাতে তেমন কোন লাভ নেই বলেই আমার ধারণা। উভয়ে কেমন যেন একটা ব্যক্তি আক্রমণের দিকে মোড় নিয়েছেন। তাতে উভয় পক্ষে কেউ কেউ সমর্থন যুগিয়ে ফিল্ডটাকে উত্তপ্ত করে রেখেছেন। ব্লগ থেকে ফেসবুক, ফেসবুক থেকে ব্লগে এসে সব কেমন যেন উল্টা পাল্টা হয়ে গেছে। ফেসবুক একটা আড্ডা আর হালকা কিসিমের জায়গা। আর মুক্তমনা ব্লগটা এমন একটা প্লটফর্ম যেটার দায়িত্ব অনেক, সমাজের প্রতি একটা দায়বদ্ধতাও রয়েছে। দোষে-গুণেই মানুষ। দোষ ধরাধরিটা কতটুকু কাম্য তা বিবেচনা করা দরকার।
    যাহোক উভয়ের লেথালেখিতে সংযত আচরণ কামনা করি।

    • নাস্তিকের ধর্মকথা অক্টোবর 19, 2014 at 11:58 অপরাহ্ন - Reply

      @মাহফুজ,
      আমি কিন্তু বিতর্ককে সব সময়ই ভালো পাই … ব্যক্তি আক্রমণ যেটা দেখছেন সেই খুতটা এমন না যে, তার জন্যে বিতর্ককেই বাদ দিতে হবে।

      আর লাভালাভের কথা যেটা বলেছেন- সেটাতেও আমি ভিন্ন মনে করি … লাভের বিষয় নির্ভর করছে, কোনটিকে আপনি লাভ বলছেন- মানে কোন উদ্দেশ্যের জায়গা থেকে আপনি এই বিতর্কে অংশে নিচ্ছেন! আমার উদ্দেশ্যের কথা যদি জানতে চান, তবে বলতে পারি যে- পারভেজ আলমকে বা অভিজিৎ রায়কে আমার যুক্তি বুঝিয়ে শুনিয়ে একেবারে আমার মতানুসারী বানানো নয়- বরং আলোচ্য বিতর্কে আমার নিজের অবস্থানটি কি তা গুছিয়ে চিন্তা করা (লিখতে গেলে বা বলতে গেলে দেখেছি- চিন্তাটা কেমনে যেন গুছানো হয়ে যায়), আমি যে চিন্তা করছি বা যেভাবে চিন্তা করছি- তা সবার সামনে হাজির করা (যাদের সাথে ডিবেট করছি- একমাত্র তারাই যে আমার লক্ষ তা নয়- বরং অন্য পাঠকও আমার চিন্তা থেকে উপকৃত হতে পারেন বলে মনে করি), ডিবেট এ আমার চিন্তাভাবনা- যুক্তি আসলে কতখানি সঠিক কতখানি বেঠিক- তা যাচাই করা ও ভুল বুঝতে পারলে নিজেকে সংশোধন করা এবং অবশ্যই আমার চিন্তা বা যুক্তির সামান্য অংশও যদি যাদের সাথে ডিবেট করছি তাদের নাড়া দিতে পারে- সেতো পরম পাওয়া! এসমস্ত উদ্দেশ্যের সাপেক্ষে বলতি পারি, অন্য সব ডিবেটের মত এই ডিবেটে অংশ নেয়াটা আমার জন্যে যথষ্ট লাভজনক।

  10. তানভীরুল ইসলাম অক্টোবর 17, 2014 at 4:44 অপরাহ্ন - Reply

    ভাইরেভাই, ধৈর্য্য আছে আপনার। এই পারভেজ আলম কে? তিনি অভিজিৎ দা কে কিছু বললে বা না বললে কী আসে যায়? তার লেখার যেসব শিরোনাম উল্লেখ করলেন, সেই শিরোনাম দেখলেই তো ক্লিক না করে পৃথিবীর আরো সুন্দর কিছু নিয়ে সময়টা কাটাতে ইচ্ছা হয়। 🙂

    এই লেখাটা মেটাব্লগিং হয়ে গেল না? আমি নিশ্চিৎ অভিজিৎ দাকে নিয়ে আরো হাজার যায়গায় আরো হাজার জন এরকম নানান জিনিস লেখে, সেগুলো পাত্তা দিয়ে তাই নিয়ে সবাই যদি এতখানি সময়ব্যায় করে এবং নতুন নতুন লেখা লিখতে থাকে তাহলে ক্যামনে কী? আর নিতান্তই বিতর্কের জন্য তো ব্লগের মন্তব্যঘর আছেই।

    • জাকির অক্টোবর 17, 2014 at 6:32 অপরাহ্ন - Reply

      @তানভীরুল ইসলাম, চমৎকার সুলিখিত লেখা। এরকম একটা লেখা প্রত্যাশিত ছিল। মন্তব্যর ঘরে এত বড় লেখা দিলে চলে না!

    • নাস্তিকের ধর্মকথা অক্টোবর 20, 2014 at 12:08 পূর্বাহ্ন - Reply

      @তানভীরুল ইসলাম,

      ভাইরে ভাই, ধৈর্য্য আছে আপনার।

      হমম … ধৈর্য আমার ভালোই আমিও মনে করি … কিন্তু সমস্যা হচ্ছে সময় পাওয়াটা খুব সমস্যা হয়ে যাচ্ছে …

      এই পারভেজ আলম কে?

      একজন গুরুত্বপূর্ণ লেখক। এবং একটিভিস্ট।
      আরজ আলী মাতুব্বর পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা, অনলাইনের বাইরেও এলাকার ছেলেপুলেদের ধরে ধরে এই পাঠাগারের মাধ্যমে মুক্তমনা হিসেবে গড়ে তোলার কাজটি তিনি অনেকদিন ধরেই নিষ্ঠার সাথে করে যাচ্ছেন …
      ইসলামের বিভিন্ন যুগের ইতিহাস নিয়ে তার পড়াশুনা রীতিমত ঈর্ষণীয় …

      তিনি অভিজিৎ দা কে কিছু বললে বা না বললে কী আসে যায়?

      এসে যায় … কারণ আসল ডিবেট বাদ দিয়ে ব্যক্তি আক্রমণ এসে ডিবেটের মেজাজ ও পরিবেশ নষ্ট করে দিচ্ছে … যা পারভেজ আলমই শুর করেছেন।

      এই মেটাব্লগের যতটুকুই আপনি ধৈর্য ধরে পড়েছেন- তার জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ (F) (W) (W) (F) ।

      • শান নভেম্বর 8, 2014 at 1:58 অপরাহ্ন - Reply

        @নাস্তিকের ধর্মকথা,
        আমারতো মনে হয় এই তানভীরুল ইসলাম আপনার পুরো লেখাটা না পড়েই এমন কথা বলেছেন। আপনিতো শুধু অভিজিৎ রায় এর সমালোচনার জবাবই দেননি এমনকি অভিজিৎ রায় এর লেখারও সমালোচনা করেছেন।

        এই পারভেজ আলম কে? তিনি অভিজিৎ দা কে কিছু বললে বা না বললে কী আসে যায়? তার লেখার যেসব শিরোনাম উল্লেখ করলেন, সেই শিরোনাম দেখলেই তো ক্লিক না করে পৃথিবীর আরো সুন্দর কিছু নিয়ে সময়টা কাটাতে ইচ্ছা হয়।

        আর সত্যি এমন ঋণাত্নক মানসিকতা আমি এখানে আশা করিনি।

মন্তব্য করুন