তিরিশ লক্ষ শহীদ, বাহুল্য নাকি বাস্তবতাঃ হঠাৎ করে হারিয়ে যাওয়া ঊনচল্লিশ লাখ মানুষ

প্রথম পর্বদ্বিতীয় পর্ব

আলোচনা শুরু করবো পরিসংখ্যানের একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ শব্দ দিয়ে, এই পর্বে যেই শব্দটা’কে ঘুরে আসতে দেখবেন বারবার। কাঠখোট্টার শব্দটা হচ্ছে ‘Demography’, যার অর্থ “একটা জনগোষ্ঠীর অবস্থা নির্ণয়ের জন্য জন্ম, মৃত্যু, রোগব্যাধি ইত্যাদির পরিসংখ্যান এবং এতদ বিষয়ক বিদ্যা; জনসংখ্যা তত্ত্ব”।

ভাবছেন মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সাথে জনসংখ্যা তত্ত্বের সম্পর্ক কি।
আছে, সেটাই বলবো আজ।

উইকিপিডিয়ার কয়েকটি চমৎকার কাজ হচ্ছে পৃথিবীর প্রায় সবকয়টা দেশের ডেমোগ্রাফি তৈরি করে রাখা, আর উইকিপিডিয়ার সব কয়টা ডেমোগ্রাফিতেই রয়েছে জাতিসংঘের ‘ওয়ার্ল্ড পপুলেশান প্রসপেক্টাস’ অনুসারে একটি ডাটা সীট যেখানে অত্যন্ত গোছানো আছে সব কয়টা দেশের ১৯৫০ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রতি পাঁচ বছরের ব্যাবধানে কত শিশু জন্ম নিয়েছে, কতজন মানুষ মারা গিয়েছে, জন্ম-মৃত্যুর ফলে মোট কত জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, জন্ম হার, মৃত্যু হার এসব। নিচে ভূটানের ডেমোগ্রাফি তুলে ধরা হলো।

যাই হোক এসব পরিসংখ্যানের কাঠখোট্টা ভাষা আমরা বুঝি না। আমাদের আসলে এখান থেকে বোঝার দরকার অল্প কিছু জিনিস, যেটা আমাদের অভিষ্ট লক্ষ্য সম্পর্কে একটা পথ দেখাতে পারে। আমাদের এই সারণী থেকে দরকার কেবল সাল গুলো, এবং ঐ বছর গুলোতে মৃত মানুষের সংখ্যা। বোঝারর সুবিধার জন্য আমি সবগুলো সারণী থেকে সাল এবং ঐ সালে মৃত্যু এই কলাম দুটো আলাদা করে ত্রিমাত্রিক গ্রাফ আকারে প্রকাশ করছি যাতে সহজেই পয়েন্ট গুলো পাঠকদের বোধগম্য হয়।

পাঠকদের জন্য আমি বিগত পঞ্চাশ বছরে গনহত্যা হয়েছে এমন তিনটা দেশ এবং গনহত্যা হয়নি এমন তিনটা দেশের ডেমোগ্রাফি এবং থ্রিডি গ্রাফ প্রকাশ করছি। লেট দি ডাটা স্পিক।

আসুন দেখি ফুটবলের দেশ ব্রাজিলের ডেমোগ্রাফিঃ


এবার দেখা যাক ত্রিমাত্রিক গ্রাফ।

গ্রাফ থেকে একটা জিনিস পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে ব্রাজিলের মৃত্যু হার মোটামুটি স্বাভাবিক একটা নিরবিচ্ছিন্ন রেখা। আশি নব্বুইয়ের দশকে মৃত্যু খানিকটা কমলেও দশে এসে এটা বাড়ছে মোটামুটি স্বাভাবিক ভাবেই।

আসুন তাকানো যাক কম্বোডিয়ার দিকেঃ

কম্বোডিয়ায় ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৯ চার বছরের গণহত্যা আর নির্যাতনে ২০ লক্ষ মানুষ হত্যা করেছিলো খেমর-রুজ বাহিনী। বুর্জোয়া, সিআইএ’র এজেন্ট ইত্যাদি অভিযোগের ধুয়া তুলে খেমার-রুজ গেরিলা বাহিনী ধরে নিয়ে যেতো নমপেনের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতাকে। তারপর চলতো নারকীয় নির্যাতন, ধর্ষন, অত্যাচার এবং হত্যা। আসুন দেখা যাক কম্বোডিয়ার ডেমোগ্রাফি।



এবারে মৃত্যুর সংখ্যা

কি অবাক হচ্ছেন। অবাক তো হবারই কথা। ১৯৭৫-১৯৮০ সালের হত্যাকে নির্দেশ করা নীল রঙা বার’টা কি একটু বেশী উঁচু দেখাচ্ছে না। ভালো করে চোখ মুছে দেখুন, ভুলও হতে পারে।

এবারে আসা যাক প্রতিবেশী ভূটানের দিকে

ভুটানকে বলা হয় পৃথিবীর দরিদ্রতম দেশ। মোটামুটি ভারতের অর্থনৈতিক সাহায্যে চলা এই দেশটির জনসংখ্যাও খুবই অল্প মাত্র ছয় লাখ নব্বুই হাজার। প্রায় ৩৮ হাজার কিলোমিটার আয়তনের দেশটি শান্তিপ্রিয় জাতি হিসেবে পরিচিত। আসুন দেখি ভূটানের ডেমোগ্রাফি

এবারে গ্রাফ

এবারে আসুন কথা না বাড়িয়ে চোখ মেলে তাকাই ইরাকের দিকে। ইরাকে যুদ্ধ বিগ্রহ লেগেই চলেছে। প্রথমের আসুক ইরাক-ইরান যুদ্ধের কথা। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সূচনা ১৯৮০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে । জাতিসংঘের মধ্যস্ততায় ১৯৮৮ সালের আগস্টে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে এর অবসান ঘটে। এরপর সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধের নামে ২০০৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ইরাকে চলছে গনহত্যা। আসুন দেখি আমাদের ডেমোগ্রাফি কি বলে।

ইরাকের ডেমোগ্রাফিঃ

ডেমোগ্রাফির ব্যাসিসে করা গ্রাফঃ

বিস্মিত হবার কিছু নেই। ইরাক-ইরানের যুদ্ধের সময়টা গণিতের ভাষায় লেখা আছে উপরের ছবিতে।

আসুন দেখি পাকিস্তানের ডেমোগ্রাফি। পাকিস্তান পৃথিবীর ব্যর্থতম রাষ্ট্র; অজ্ঞতা কুসংস্কার আর মৌলবাদীতে ঠাসা একটি রাষ্ট্র। যেই রাষ্ট্রে সবচেয়ে মূল্যহীন জিনিস হচ্ছে মানুষের জীবন, পাকিস্তানের ডেমোগ্রাফি ও একই কথা বলে। আর কিছুতে না পারলেও মৃত্যুহারে তারা যেন সবাইকে ছাড়িয়ে যেতে চায়।

পাকিস্তানের ডেমোগ্রাফিঃ


গ্রাফেঃ

পাকিস্তানের কথা আলোচনার কিছু নাই। সামনে আগাই

রুয়ান্ডা পূর্ব-মধ্যাংশের একটি রাষ্ট্র। দেশটির সরকারী নাম রুয়ান্ডা প্রজাতন্ত্র। এর রাজধানীর নাম কিগালি। এদেশে প্রায় ৮০ লাখ লোকের বাস। আসুন একটু পরীক্ষা হয়ে যাক, রুয়ান্ডার ডেমোগ্রাফি আর মৃত্যু হারের গ্রাফ দেখে বলতে পারেন কি না সেই দেশে কোন গণহত্যা হয়েছে কি না।

রুয়ান্ডার ডেমোগ্রাফিঃ

এবং গ্রাফঃ

জী, আপনি ঠিকই ধরেছেন ১৯৯০ থেকে ১৯৯৫ সালের ভেতরে এই দেশে নিশ্চিত কিছু একটা হয়েছে। এটাই সায়েন্স, কেউ যদি আজকে প্রথম রুয়ান্ডার নাম শুনে থাকেন এবং কষ্ট করে এই লেখাটা পড়ে থাকেন তাহলে তার নিশ্চিত ভাবে মেনে নিতে কোন আপত্তি থাকবে না যে ১৯৯০ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে এই দেশে অস্বাভাবিক কিছু ঘটেছে।

আসুন জেনে নেয়া যাক কি ঘটেছিলো অভাগা এই মানুষদের ভাগ্যে।

উইকিপিডিয়া আমাদের জানাচ্ছে ১৯৯৪ সালে সেদেশের সংখ্যালঘু টাট্‌সি গোষ্ঠীর মানুষ এবং সংখ্যাগুরু হুটু গোষ্ঠীর মধ্যে উদার ও মধ্যপন্থীদের নির্বিচারে হত্যার ঘটনাকে রুয়ান্ডার গণহত্যা বলা হয়ে থাকে। ৬ই এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এই গণহত্যা সংঘটিত হয়। অন্তত ৫০০,০০০ টাট্‌সি এবং এক হাজারেরও বেশি হুটু নিহত হয়। অধিকাংশ সূত্রমতে মোট নিহতের সংখ্যা ৮০০,০০০ এর কাছাকাছি বা ১,০০০,০০০ এর কাছাকাছি। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা নানান খবরের ভিড়ে এই গণহত্যার সংবাদ আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে খুব কমই স্থান পেয়েছিলো। এই সুযোগেই গণহত্যা বিভৎস রূপ ধারণ করেছিলো।

জাতিসংঘ এই হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অনিচ্ছুক ছিল। মিডিয়ায় সচিত্র সংবাদ পরিবেশন সত্ত্বেও জাতিসংঘের এমন ব্যবহারে সবাই মর্মাহত হয়েছিলেন এবং জাতিসংঘকে তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। এই অনীহার কারণেই রুয়ান্ডায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে গণহত্যা মোকাবেলার মত যথেষ্ট সৈন্য ও কর্মকর্তা ছিল না। Roméo Dallaire এর নেতৃত্বে এই শান্তিরক্ষী দলটি তাই কার্যকরী কিছু করতে পারেনি। একসময় রুয়ান্ডা থেকে সব বিদেশী লোকদেরকে সরিয়ে আনা হয়। কিন্তু সেখানকার অধিবাসীদের রক্ষার কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র, বেলজিয়াম ও ফ্রান্স সরকারকে এ কারণে এখনও সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়। রুয়ান্ডায় শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করছিল United Nations Assistance Mission for Rwanda। কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদের দৃষ্টি এদিকে আকর্ষিত না হওয়ায় তারা কোন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। এক সময় সমগ্র রুয়ান্ডার জন্য মাত্র ৩০০ শান্তিরক্ষী মোতায়েন ছিলো।

এবারে একটু নজর দেয়া যাক আমাদের এই পোড়া দেশটার দিকে, যার জন্য এই লেখার অবতারণা। প্রথমেই আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই উইকিপিডিয়ার গনহত্যা সংক্রান্ত আর্টিকেলের দিকে।

লক্ষ্য করেছেন নিশ্চয়ই ভারতীয় গবেষক শর্মিলা বোসুরর মধুর বাণী, যেখানে তিনি বলছেন একাত্তরে দুই পক্ষের অর্থাৎ বাঙালী, পাকিস্তানী, বিহারী সব মিলিয়ে মোটমাট মারা গেছে পঞ্চাশ হাজার থেকে এক লাখ মানুষ। উইকিতে আরও একটা গবেষণার কথা বলা হয়েছে যেটা করা হয়েছিলো ২০০৮ সালে, সেই তথাকথিত গবেষক বলেছেন একাত্তরে মৃতের সংখ্যা ২,৬৯,০০০। শেষমেশ একজন বাঙ্গালির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে সেই চির চেনা মিথ, শেখ মুজিব তিন লক্ষ বলতে গিয়ে তিরিশ লক্ষ বলে ফেলেন। শুধু এই ‘মিস স্পেলিং’ মিথ নিয়ে এই সিরিজের একটা আলাদা পর্ব রেখেছি যেখানে হাজার দুইয়ের ওয়ার্ডের একটা আর্টিকেলে ডিটেইলস দেখানো হবে এই ‘মিস স্পেলিং মিথ’ আদৌ কতটা সত্য।


চোখ বন্ধ করে চলুন চলে যাই আমার প্রাণের দেশটার ডেমোগ্রাফিতেঃ


এবারে সেই কাঙ্খিত গ্রাফ, যেটার জন্য এতদূর আসাঃ

আরেকটু ভালো করে

প্রিয় পাঠক খুব কি কষ্ট হচ্ছে দেখতে যে উনিশশো একাত্তর সালে বাংলাদেশের মৃত্যুহার নাটকীয় ভাবে বেড়ে যায়। দেখতে পাচ্ছেন কি যে দেশের স্বাভাবিক মৃত্যু হতো বছরে দশ থেকে এগারো লাখের মধ্যে সত্তুর থেকে পচাত্তরে সেই দেশে গড়ে প্রতি বছর আঠারো থেকে উনিশ লাখ লোক মারা গেলো। এরপরের বছরগুলোতে আবারও আগের জায়গায় নেমে এলো গ্রাফ।

আমি বাসায় বসে হিসাবটা করেছি। স্বাভাবিক মৃত্যুহার বিবেচনায় নিলে সত্তুর থেকে পচাত্তর সালের মধ্যে স্বাভাবিক মৃত্যু বাদে অস্বাভাবিক ভাবে প্রায় উনচল্লিশ লক্ষ মানুষ বেশী মারা গিয়েছিলো।

এখানেই শেষ না, বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারে এর ওপর জাতিসংঘের রিপোর্ট থেকে জানা যায়

সত্তুর থেকে পচাত্তরের ভেতর স্বাভাবিক জন্মহার বিবেচনায় তাহলে হারিয়ে যাওয়া মানুষের সংখ্যা দাড়ায়…

৬৫ লক্ষ!!!
আচ্ছা এই মানুষ গুলো কোথায় হারিয়ে গেলো?

আসুন দেখি উল্লেখযোগ্য কি কি ঘটনা ঘটেছিলো এই পাঁচ বছরে, যেটা এত মৃত্যু কিংবা হারিয়ে যাবার কারণ হতে পারে;

১) সত্তুরের ঘূর্ণিঝড়
২) একাত্তরের যুদ্ধ
৩) যুদ্ধের পর ভারত থেকে ফিরে না আসা শরণার্থী
৪) চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষ

না, আপনারা ভাববেন না আমি ক্যালকুলেটর নিয়ে বসে বলে সবগুলো ডাটা যোগ-বিয়োগ করে আমার তিরিশ লাখ তত্ত্বকে সুপ্রতিষ্ঠিত করবো। আমি জানি সত্তুরের ঘূর্ণিঝড়ের ফলাফল একাত্তর। একাত্তরের ফলাফল চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষ। এরা সবাই আমার পূর্বপুরুষ। এরা সবাই মারা গিয়েছিলো কেবলমাত্র পাকিস্তানের কারণে। আমি সব মৃত্যুর দায়ভার সেইসব পাকিস্তানিদেরই দিতে চাই।

তবু এটুকু শুধু বলবো আপনি মুক্তিযুদ্ধ ছাড়া বাদাবকি প্যারামিটারে সর্বোচ্চ মান গুলো গ্রহণ করুণ যে কোন সোর্স থেকে। এরপর দেখুন মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা কত আসে, আমি আপনার হিসেবের সংখ্যাটা হয়তো বলে দিতে পারবো না ঠিকই তবে এটুকু নিশ্চিত বলে দিতে পারি সংখ্যাটা শর্মিলা বোসুর এক লাখ কিংবা বিবিসি সাংবাদিকের দুই লাখ উনসত্তর হাজারের চেয়ে অনেক অনেক বেশী হবে।

অস্ট্রেলিও চিকিৎসক ড. জিওফ্রে ডেভিস তার দ্য চেঞ্জিং ফেস অব জেনোসাইড বইতে আমাদের দেশের আদমশুমারির দুর্বলতা নিয়ে লিখেছেন;

“বাংলাদেশে আদমশুমারীর হাল বরাবরই করুণ, অনুমান নির্ভর।“

বিভিন্ন উৎস থেকে জানা যায় মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের জনসংখ্যা আসলে সাড়ে সাত কোটি কোটি থেকে বেশী ছিলো। সংখ্যাটা এক কোটি পর্যন্ত বেশী হতে পারে। ৫ এবং ১২ এপ্রিল ১৯৭১ সালের ‘টাইম’স পত্রিকায় এই উক্তির সমর্থনে তথ্য পাওয়া যায়। যে সাড়ে সাত কোটিকে ভিত্তি ধরে এই মৃত্যুহার বের করা হয়েছে প্রকৃত পক্ষে সংখ্যাটা তার চেয়ে অনেক বেশী বই কম নয়।

এই লেখাকে আর দীর্ঘ করবো না, শুধু একটা কথাই বলতে চাই কাঠখোট্রা পরিসংখ্যানের সারণীতে যখন মৃত্যু আর রক্তের জোয়ারকে অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে চলতে দেখি, শহীদ মিনারের সুউচ্চ বেদির মত একাত্তরের নীল রেখাটা দেখি সবাইকে ছাড়িয়ে মাথা উঁচু করে আছে তখন মনে পড়ে;

একটা দেশ এমনি পাই নাই;
কেউ দয়া করে নাই,
কেউ ভিক্ষা দেয় নাই,
দাম দিয়ে কেনা…

রুমির জন্য পাকিদের কাছে ক্ষমা ভিক্ষার প্রস্তাব নাকচ করে ছেলের জন্য শহীদের মৃত্যু পছন্দ করেছিলেন তার বাবা। মায়ের সামনে মেয়ে খায়রুন্নেসার ইজ্জত গ্যাছে, ভাইয়ের লাশ নিয়ে বোন দ্বারে দ্বারে ঘুরেছে একটু কবর হবে এই আশায়। মেজর নুরুল ইসলামের প্রেগন্যান্ট স্ত্রী’কে পাকিস্তানীরা…… , ছেলের জন্য কাঁদতে কাঁদতে মা অন্ধ হয়ে গেছে, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের লাশ দেখে নাতি রাহুল আজও মানসিক প্রতিবন্ধী হয়ে বেঁচে আছে, চক্ষু বিশেষজ্ঞের চোখ তুলে নিয়েছে, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের বুক চিরে হৃদয়টাই বের করে নিয়েছে, একজনকে এক রাতে ধর্ষণ করেছে আশি থেকে একশবার। রাতে দিয়ে যাওয়া গণকবর থেকে সকালে উঠে এসেছে রক্তাক্ত জীবন্ত হাত…

না আশা হারাই না,
হতাশ হই না,
৭১’এ এই দুর্বল বাঙালীই জিতেছিলো…

প্রথম পর্বদ্বিতীয় পর্ব

About the Author:

মন্তব্যসমূহ

  1. মোঃআকরাম হোসেন ডিসেম্বর 25, 2015 at 8:29 অপরাহ্ন - Reply

    আচ্ছা ভাই. আমি কিন্তুু গ্রাফটা বুঝতে পাচ্ছিনা …কেননা গ্রাফটার মাঝে দেখা গেলো হঠাৎ করেই জনসংখ্যা আকাশে আবার গনহত্যার পর সেটা মাটিতে আসবে এটাই স্বাভাবিক। একটু ক্ল্যায়ার করুন।

  2. Abhi ডিসেম্বর 23, 2015 at 4:44 পূর্বাহ্ন - Reply

    পুরো লেখাটি ইংরেজীতে পাওয়া যাবে?

  3. হাসান সিন্ধু অক্টোবর 15, 2014 at 8:11 অপরাহ্ন - Reply

    “না, আপনারা ভাববেন না আমি ক্যালকুলেটর নিয়ে বসে বলে সবগুলো ডাটা যোগ-বিয়োগ করে আমার তিরিশ লাখ তত্ত্বকে সুপ্রতিষ্ঠিত করবো। আমি জানি সত্তুরের ঘূর্ণিঝড়ের ফলাফল একাত্তর। একাত্তরের ফলাফল চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষ। এরা সবাই আমার পূর্বপুরুষ। এরা সবাই মারা গিয়েছিলো কেবলমাত্র পাকিস্তানের কারণে। আমি সব মৃত্যুর দায়ভার সেইসব পাকিস্তানিদেরই দিতে চাই।”

    দুর্ভিক্ষটা ৭১,৭২ বা ৭৩ না হয়ে ৭৪এ কেন হল ? এটা অবশ্যই তখণকার করাপ্ট সরকারের ব্যর্থতা , এর দবায়ভার পাকিস্তাঙ্কে দেওয়া হাস্যকর।

  4. হাসান সিন্ধু অক্টোবর 15, 2014 at 8:04 অপরাহ্ন - Reply

    দুঃখিত , কিন্ত আপনি যা প্রমাণ করতে চাচ্ছেন সেটা যুক্তিসঙ্গত নয়। ১৯৭০-৭৫ প্রচুর অবাঙ্গালী বাংলদেশ থেকে চলে যায় ভারতে বা পাকিস্তানে তাদের আনুমানিক জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৫০ লখ। রক্ষীবাহিনীর হাতে নিহত হয় প্রায় ২৫ লক্ষ বাঙালি। এগুলো আপনি বিবেচনা করেন নাই।

    • আরিফ রহমান অক্টোবর 20, 2014 at 11:38 অপরাহ্ন - Reply

      @হাসান সিন্ধু,

      আপনি যদি একটা অথেন্টিক সূত্র দেখাতে পারেন যেখানে

      “১৯৭০-৭৫ প্রচুর অবাঙ্গালী বাংলাদেশ থেকে চলে যায় ভারতে বা পাকিস্তানে তাদের আনুমানিক জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৫০ লাখ”

      এই সুত্রের পক্ষে কোন দলিল দেখাতে পারলে আমার লেখা মুছে দেবো।

      • হাসান সিন্ধু অক্টোবর 21, 2014 at 11:20 পূর্বাহ্ন - Reply

        @আরিফ রহমান, আপনার লেখাটাকে আমি পুরোটা খণ্ডন করতে চাই না, tripartite agreement এর মাধ্যময় প্রায় ৫ লক্ষ অবাঙ্গালী পাকিস্তান চলে যায়। অন্যান্য অবাংগালিরা নিজ উদ্যাগে ভারত বা পাকিস্তান চলে যায়। এম আই ফারুকি লিখিত তথ্য অনুসারে অবাঙ্গালীদের পরিত্যক্ত বাড়ির সংখ্যা ছিল প্রায় ৬০০,০০০ , বইটি dit ভবনে ৬ খন্ডে এখনে পাওয়া যায়। এই ঘরের মালিকেরা অধিকাংশ ভারত বা পাকিস্তান চলে যায়।

        • আরিফ রহমান অক্টোবর 29, 2014 at 7:04 অপরাহ্ন - Reply

          @হাসান সিন্ধু,

          আপনি বলেছেন সংখ্যাটা পঞ্চাশ লাখ,
          এটার পক্ষে রেফারেন্স দেন

  5. অভিজিৎ অক্টোবর 13, 2014 at 6:08 পূর্বাহ্ন - Reply

    অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ। হ্যাটস অফ টু ইউ।

    যেভাবে বিভিন্ন দেশের ডোমোগ্রাফির ডেটা নিয়ে গ্রাফ টাফ প্লট করে লেখাটা তৈরি করেছ, খুব খোলা মনেই বলছি তুমি ব্লগকে ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

    ধন্যবাদ সিরিজটা চালানোর জন্য।

মন্তব্য করুন