ফ্লাইং স্প্যাগেটি মন্সটার! আমাদের ঈশ্বর!!

আপনি কি জানেন মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা কে???
আপনি কি জানেন পৃথিবীর একমাত্র সত্য ধর্ম কি???
জানা না থাকলেও সমস্যা নেই;
আজকে এই একমাত্র সত্য ঈশ্বরের সম্পর্কে কিছুটা হলেও জানতে পারবেন 🙂

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ কারো যদি আস্তিক হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে অথবা পূর্বের ঈশ্বর পরিবর্তন হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে তবে লেখাটি না পড়াই ভালো; কারন পড়লে আমাদের এই ঈশ্বরে আপনার বিশ্বাস আসতে বাধ্য।

আধুনিকতম ঈশ্বরের উদ্ভব ইতিহাসঃ
ফ্লাইং স্প্যাগেটি মন্সটারের জন্মের পেছনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছিল ইতিহাসের কলঙ্কিত একটি সিদ্ধান্ত। ব্যাপারটা শুরু হয় তখন যখন আমেরিকার স্কুলগুলোতে বিবর্তনবাদের পাশাপাশি ভুঁইফোড় তত্ত্ব ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন নামের জগাখিচুড়ী ছাত্রদের পড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হল তখন। বিষয়টা মেনে নিতে পারেনি সেখানকার সাধারন জনগন থেকে শুরু করে নামী জীব-বিজ্ঞানী কেউই। বিষয়টা শেষমেশ কোর্ট অবধি উঠেছিলো। কোর্টের সেই বিষয়টি এবং ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইনের সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে বন্যা আহমেদ এবং অভিজিৎ রায়ের লেখা “আমেরিকায় ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইনের নামে কি হচ্ছে?” প্রবন্ধটি পড়ে দেখুন।

আরও একজন মেনে নিতে পারেনি সেই সিদ্ধান্ত। তিনি তৎকালীন পদার্থবিজ্ঞানের গ্র্যাজুয়েশন প্রোগ্রামের স্টুডেন্ট ববি হেন্ডারসন। বিবর্তনবাদের পাশাপাশি ভুঁইফোড় তত্ত্ব ইনটেলিজেন্ট ডিজাইন স্কুলে পড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তিনি ক্যানসাস শিক্ষাবোর্ডের উদ্দেশে লেখা একটি খোলা চিঠিতে এই নতুন ঈশ্বর-ধারণার কথা উল্লেখ করেন। তিনি দাবী করেন বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্তা ফ্লাইং স্প্যাগেটি মন্সটার এবং এই তত্ত্বও স্কুলে পড়ানোর দাবি তোলেন তিনি। কারণ প্রচলিত সৃষ্টিকর্তা তত্ত্বের সঙ্গে তাঁর প্রস্তাবিত তত্ত্বের চরিত্রগত কোনও ফারাক নেই। অন্য ঈশ্বরদের এবং ধর্মের যে সকল বৈশিষ্ট রয়েছে তার সবগুলো বৈশিষ্ট তার প্রস্তাবিত ধর্মেও রয়েছে।

প্রচলিত ঈশ্বর-ধারণার উদ্ভটত্ব, অবাস্তবতা, অলীকতা ও ভিত্তিহীনতাকে প্যারোডি করে আরও একটি নতুন ঈশ্বরের জন্ম দেন পদার্থবিদ ববি হেন্ডারসন
তার কথা ছিল অলীক ঈশ্বর এবং তার জগাখিচুড়ী তত্ত যদি স্কুলে পড়াতেই হয় তবে একটি নতুন আধুনিক ঈশ্বরের জন্ম দিলে দোষ টা কি??? যে ঈশ্বর প্রচলিত ঈশ্বরের চাইতে অনেক বেশী বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা প্রদানে সক্ষম সেই ঈশ্বর অবশ্যই বেশী গ্রহণযোগ্য।

  • “I think we can all look forward to the time when these three theories are given equal time in our science classrooms across the country, and eventually the world; One third time for Intelligent Design, one third time for Flying Spaghetti Monsterism, and one third time for logical conjecture based on overwhelming observable evidence.”
    ~ Bobby Henderson (pasta be upon him)

নতুন ঈশ্বরের প্রতিকৃতি এবং সিম্বলঃ
এক কথায় বলতে গেলে ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইনের মতন অবৈজ্ঞানিক তত্তকে প্রতিহত করতে ববির ফ্লাইং স্প্যাগেটি মন্সটার তত্ত ছিল একেবারে উচিৎ জবাব। নতুন ঈশ্বরের বর্ণনা দিতে গিয়ে তৈরি হল নতুন ঈশ্বরের মুখচ্ছবি।
নতুন ঈশ্বরের বর্ণনা দিতে গিয়ে ববি তার নতুন ঈশ্বরের নামের সাথে মিল রেখে ঈশ্বরের একটি মুখচ্ছবির বর্ণনা দেন।

শূন্যে ভাসমান কুন্ডুলি পাকানো একগাদা স্প্যাগেটি জড়িয়ে ধরে আছে দুটো মিটবলকে; উপরের দিকে রয়েছে দুটি চোখ। ববির প্রাথমিক সেই ঈশ্বরের মডেল এখনো একই রকম রয়েছে।

ফ্লাইং স্প্যাগেটি মন্সটারের সিম্বল তৈরি করে দেয় বোইং বোইং ম্যাগাজিনের ওয়েবসাইটের পাঠকেরা। মূলত খৃস্ট ধর্মের যীশুর সিম্বলের সাথে মিল রেখে সেটাকে প্যারোডি করে ফ্লাইং স্প্যাগেটি মন্সটারের সিম্বল তৈরি করা হয়।

চার্চ অভ ফ্লাইং স্প্যাগেটি মন্সটার – অন্ধকারে আলোর মশালঃ
ববির সেই ঈশ্বরকে অনেকেই ভুলে গেলেও সবাই কিন্তু ভুলে যাননি। পৃথিবী জুড়ে যদিও ১০ মিলিয়ন লোক বিষয়টি জানতো কিন্তু তারা স্বেচ্ছায় ব্যাপারটি গোপন রাখতে চেয়েছিলো। ২০০৫ সালে সাধারণ মানুষের উপকার করতে তারা একটি উপাসনালয় স্থাপন করেছিলেন। মোটামুটি সদস্য ছাড়া বাকী সবার অজান্তে গড়ে ওঠে চার্চ অভ ফ্লাইং স্প্যাগেটি মন্সটার। বহুদিন ধরে ব্রাদারহুড সিক্রেট সোসাইটির মানুষরা গোপনে তাদের ধর্মীয় বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছিল। শুধুমাত্র বৈঠকের সময় তারা ‘পবিত্র দস্যু পোশাক’ পরিধান করতো। পৃথিবীর অনেক নামকরা বিজ্ঞানীরা অনেক সাধ্যসাধনা আর অনেক পরীক্ষার বেড়াজাল পেরিয়ে তবে এই ধর্মের সদস্য হবার যোগ্যতা অর্জন করতো। কিন্তু শর্ত ছিলো একটাই – জীবন দিয়ে হলেও এর গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে। কিছুদিনের মধ্যে তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হলো। নতুন আর পুরাতনের সেই চিরন্তন বিভেদ। নতুনেরা আর নিজেদেরকে গোপন রাখতে চাইলো না। তাদের যুক্তি পৃথিবীর মানুষ এখন হয়তো এই সত্য জানবার যোগ্যতা অর্জন করেছে। জনসাধারনের মাঝে প্রকাশ হয়ে পড়ে নতুন এই ঈশ্বর। হেন্ডারসন প্রস্তাবিত আইডিয়াটি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে। জনতা লুফে নেয় এই অভিনব ধারণাটি।

চার্চ থেকে নির্দিষ্ট ফি পরিশোধ করে অফিশিয়াল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করা যায়।

এর অনুসারী এখন অগুনিত।
এখন তা ‘আন্দোলনে’ পরিণত হয়েছে।

তাদের ধর্মের নাম “পাস্তাফারিয়ানিজম”!!!
এই ধর্মে অনুসারীদের উৎসবের এমন আরও হাজার হাজার ছবি পাবেন এখানে

চার্চ অভ ফ্লাইং স্প্যাগেটি মন্সটারের সাইট টা বেশ মজাদার। ভুলবেন না ফ্লাইং স্প্যাগেটি মন্সটারের জন্মই হয়েছিলো অন্য সকল ধর্ম এবং ঈশ্বরকে পচাতে। সংক্ষেপে সাইট টির কিছু সর্টকাট জানাই আপনাদের।

# পৃথিবীজুড়ে ফ্লাইং স্প্যাগেটি মন্সটার তার অস্তিত্বের প্রমাণ রেখেছেন। খ্রিষ্টানেরা যেমন যেখানে-সেখানে যিশু আর মাতা মেরীর প্রতিকৃতি, মুসলমানেরা খুঁজে পায় আরবিতে খোদাই করা আল্লাহ-নবীর নাম। ফ্লাইং স্প্যাগেটি মন্সটারের অনুসারীরা তেমন খুঁজে পান এই স্প্যাগেটি-ঈশ্বরের প্রতিকৃতি। সেগুলো দেখতে এখানে চলে জান। খুজে দেখুন আপনার আশেপাশেও হয়তো এই ঈশ্বরের উপস্থিতি ধরে ফেলতে পারবেন 🙂

# আপনার যাবতীয় প্রশ্ন এবং সন্দেহের উত্তর দিতে স্বেচ্ছাসেবকেরা সদা প্রস্তুত। প্রশ্ন এবং উত্তর গুলো বেশ মজাদার। পড়তে এখানে ক্লিক করুন।

# যুগে যুগে নতুন ধর্মপথের যাত্রীদের কম দুর্ভোগ পোহাতে হয়নি। ফ্লাইং স্প্যাগেটি মন্সটার এর বিরুদ্ধে কটু কথা কম ছড়ায়নি প্রচলিত ধর্মানুসারীরা। পড়ে দেখুন এখান থেকে। সময়ের অপচয় হবেনা আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি 🙂

দা গসপেল অফ ফ্লাইং স্প্যাগেটি মন্সটারঃ

চার্চ যখন হল তখন একটি ধর্ম গ্রন্থের প্রয়োজন দেখা দিলো। লেখা হল ফ্লাইং স্প্যাগেটি মন্সটারের গসপেল। প্রিন্টেড বই আকারে বের হল ২০০৬ সালের ২৮ মার্চ। বইটি ডাউনলড করে পড়তে এখানে ক্লিক করুন। আধুনিক বিজ্ঞানের মাধ্যমে প্রকৃতির রহস্যের জবাব সেই গসপেলে দিলেন ফ্লাইং স্প্যাগেটি মন্সটারের অবতার বা নবী ববি হেন্ডারসন। ডারউইনের মতবাদের মাধ্যমে মানব উৎপত্তির ইতিহাস লিপিবদ্ধ করলেন সেই বাইবেলে। বিজ্ঞানের অনেক প্রশ্নের জবাব এই আধুনিক এবং সর্বকনিষ্ঠ ধর্মগ্রন্থে দেয়া হল যা পূর্বেকার ধর্মগ্রন্থে আশা করাও বোকামি।
বইটি ডাউনলোড করে পড়া শুরু করুন; আজগুবি বাইবেল-কোরআন বাদ দিয়ে নতুন ধর্মগ্রন্থ থেকে মজা করে বিজ্ঞান শিখুন 🙂
_______________________________________________________________________________

ফ্লাইং স্প্যাগেটি মন্সটারের বানী নিয়ে বাজারে আরও কিছু বই রয়েছে।


যেমন Jon Smith এর লেখা লেখা GOD SPEAKS! The Flying Spaghetti Monster in his Own Words বইটি পাবেন এখানে

বইটি থেকে কিছু সূরা বা পদ বা শ্লোকের নমুনাঃ

_________________________________________________________________________________

অবশেষে নাস্তিকেরা পেল মন মতন ঈশ্বরঃ

প্রথম অবস্থায় শুধু বিজ্ঞানীরা এই ধর্মের ছায়াতলে এলেও যেহেতু প্রচলিত ধর্ম বিশ্বাস এবং সৃষ্টিকর্তাদের ব্যাঙ্গ করতে পাস্তাফারিয়ানিজমের জন্ম তাই নাস্তিকেরাও ধর্মটিকে লুফে নিলেন।
বিজ্ঞানীদের সাথে সাথে নাস্তিকেরাও দলে দলে যোগ দিতে থাকলেন ফ্লাইং স্প্যাগেটি মন্সটারের অনুসারীদের দলে।

নাস্তিক কিন্তু ফ্লাইং স্প্যাগেটি মন্সটারের অনুসারীদের মধ্যে অস্ট্রীয় নাস্তিক Niko Alm সম্ভবত সবচাইতে আলোচিত হয়েছিলেন সাড়া বিশ্বে।

টুপি নিয়ে ধর্মগুলোর উৎকট যে-বাতিকগ্রস্ততা আছে সেটিকে চরমভাবে ব্যঙ্গ করেছিলেন তিনি। প্রকারান্তরে তিনি ধর্মগুলোর তথাকথিত “ড্রেস কোড”-গুলোকেই হাস্যস্পদ করে তুলেছিলেন।

অস্ট্রিয়ার আইন অনুযায়ী ডকুমেন্টে ব্যবহার্য ছবিতে কোনও টুপি থাকা যাবে না; ব্যতিক্রম হতে পারে শুধু ধর্মীয় কারণে। ধর্মীয় টুপিকে ব্যাঙ্গ করতে আইনের এই ফাঁকটি ব্যবহারের চিন্তা তার মাথায় আসে।
তিনি মাথায় ছাঁকনি পড়ে ড্রাইভিং লাইসেন্সের ছবি তুলতে চান।

তিনি ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করলে মাথায় স্প্যাগেটির ছাঁকুনি দিয়ে ছবি তোলা বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন তিনি পাস্তাফারিয়ানিজমের অনুসারী এবং তাঁর ধর্মে এমন টুপি ব্যবহারের বিধান আছে। Niko Alm-এর মানসিক সুস্থতা বিষয়ে কর্তৃপক্ষ সন্দিহান হয়ে ওঠে (যদিও অন্য ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রে এই সন্দেহ জাগে না কারো)। তাঁকে বলা হয় সংশ্লিষ্ট ডাক্তারি সার্টিফিকেট দেখাতে যেখানে উল্লেখ থাকবে গাড়ি চালানোর মানসিক যোগ্যতা তাঁর আছে।

Niko Alm হাল ছেড়ে দেননি। অবশেষে তিনি স্প্যাগেটির জন্য ব্যবহৃত ছাঁকনি মাথায় বসিয়ে তোলা ছবি ড্রাইভিং লাইসেন্সে ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়েছিলেন প্রায় ৩ বছর অপেক্ষার পর। বিবিসির খবর দেখুন এখানে

নেট খুজলে এমন আরও অনেক ফ্লাইং স্প্যাগেটি ফ্যান খুজে পাবেন।

_______________________________________________________________

অ্যানড্রয়েড মোবাইলের জন্য উড়ন্ত স্প্যাগেটি মনস্টারকে নিয়ে বানানো অ্যানড্রয়েড
গেইমটি ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন 🙂

_________________________________________________________________________

রিচার্ড ডকিন্স তার “দি গড ডিল্যুশন” বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ে ফ্লাইং স্প্যাগেটি মন্সটার সম্পর্কে বলেছেনঃ

বর্তমানে ইন্টারনেটে সবচেয়ে জনপ্রিয় ঈশ্বর যা প্রচলিত অন্য আর সকল সৃষ্টিকর্তাদের মতই মিথ্যা প্রমান করা সম্ভব নয়; সেটি হল উড়ন্ত স্প্যাগেটি মনস্টার। অনেকেই দাবী করেছেন তাদেরকে স্প্যাগেটি মনস্টার স্পর্শ করেছেন তার নুডলস এর মত শরীরের অংশ দিয়ে। আমি খুবই আনন্দিত হয়েছি এটা জেনে যে ’গসপেল অব ফ্লাইং স্প্যাগেটি মনস্টার’ ইতিমধ্যেই বই আকারে প্রকাশিত হয়েছে এবং প্রশংসিতও হয়েছে; আমি যদিও এখনো বইটি পড়িনি। কিন্ত গসপেল পড়ার কি দরকার? যদি আপনি অন্য ঈশ্বরে বিশ্বাসীদের মতন করে জানেন এবং বিশ্বাস করেন যে এটা সত্যি? বিশ্বাসের প্রমান খোঁজার দরকার তো নেই কোন ঈশ্বরে বিশ্বাসীদের কাছে? প্রসঙ্গক্রমে যা হবার কথা ছিল সেটাই হয়েছে। বড় মাপের মতবিভেদ ইতিমধ্যেই ঘটে গেছে অন্য ধর্মগুলোর মতই। ফলে তৈরী হয়েছে ’চার্চ অব দ্য ফ্লাইং স্প্যাগেটি মনস্টার’।

এসব ব্যতিক্রমী উদাহারন নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্য হলো একটাই; ঈশ্বরে বিশ্বাসীরা মনে করে এদের মিথ্যা প্রমান করা সম্ভব নয়। যেমন সম্ভব নয় এদের সত্য প্রমান করাও। তারপরও কেউ চিন্তা করেনা তাদের অস্তিত্ত্বের আর অস্তিত্ত্বহীনতার হাইপোথিসিস একই সমমানের। রাসেলের বক্তব্য হল প্রমান করার দায়ভার বিশ্বাসীদের; অবিশ্বাসীদের নয়। আমার বক্তব্যও কিছুটা সে ধরনেরই। উড়ন্ত চায়ের পটের (ফাইং সসার) বা স্প্যাগেটি মনস্টার/এসমেরেল্ডা আর কীথ/ ইউনিকর্ণ, আল্লা, ঈশ্বর, ভগবান ইত্যাদির অস্তিত্ত্বের সম্ভাবনা কিন্তু তাদের না থাকার সম্ভাবনার থেকে অনেক অনেক কম। যুক্তি এবং বিজ্ঞান দিয়ে সেগুলোকে মিথ্যা প্রমান করা সম্ভব।

______________________________________________________

ফ্লাইং স্প্যাগেটি মন্সটারের জন্ম হয়েছিলো বিজ্ঞানের প্রয়োজনে; বিজ্ঞানের সত্য রক্ষার স্বার্থে।
অন্যায়ের প্রতিবাদে এবং বিজ্ঞান এবং যুক্তির বিকাশে।
ঈশ্বরাল্লাভগবান এবং ফ্লাইং স্প্যাগেটি মন্সটার সবাই মানুষের সৃষ্টি; কিন্তু অন্য আর ১০টি প্রচলিত ঈশ্বরের সাথে তার পার্থক্য হল ফ্লাইং স্প্যাগেটি মন্সটার পৃথিবীর একমাত্র বিজ্ঞান্মনস্ক ঈশ্বর।
“গসপেল অফ ফ্লাইং স্প্যাগেটি মন্সটার” পৃথিবীর একমাত্র ধর্মগ্রন্থ যেখানে আজগুবি কাহিনীর বিপরীতে বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রমানের উপরে ভিত্তি করে প্রকৃতির গতিবিধি জানানো হয়েছে।
আর যেহেতু বিজ্ঞান একমাত্র সত্য পথ তাই গসপেল অফ ফ্লাইং স্প্যাগেটি মন্সটারের পথই প্রচলিত ধর্ম গুলোর মধ্যে সবচাইতে সত্য পথ।

যুগে যুগে এভাবেই মানুষের হাতে জন্ম নিয়েছে বর্তমানের শত-কোটি ঈশ্বরেরা; ধর্মীয় বিশ্বাস যদি থাকা এতটাই জরুরী হয়ে থাকে তবে আমরা বিজ্ঞানমনস্ক মুক্তমনারা বলতে পারি আমরা পাস্তাফারিয়ানিজমে বিশ্বাসী। যে ঈশ্বর বিজ্ঞানকে রক্ষা করতে সৃষ্টি হয়েছিলেন এবং সকল বিজ্ঞানের বই যে ঈশ্বরে বানী সেই ফ্লাইং স্প্যাগেটি মন্সটারে ঈমান বা বিশ্বাস আনতে আমাদের তেমন কোন আপত্তি থাকার কথা নয় 🙂
আপনি যদি বিজ্ঞানে এবং বিজ্ঞানের ঈশ্বরে বিশ্বাসী হয়ে থাকেন তবে এখনি “পাস্তাফারিয়ানিজমে” এবং বিজ্ঞানে আস্থা এনে নিবন্ধিত হয়ে জান এখানে গিয়ে একদম বিনা মূল্যে 🙂
আপনাদের কাছে ফ্লাইং স্প্যাগেটি মন্সটারের কথা শেয়ার করে আমি নিজেকে পাস্তাফারিয়ান পাইরেট হিসেবে নিবন্ধিত করে নিলাম 🙂


অবশেষে আমি আলোর সন্ধান পেলাম 😉

নিবন্ধিত হলে স্বর্গে যাবেন কিনা জানিনা; তবে পৃথিবীটাই স্বর্গ হয়ে যাবে বিজ্ঞানের ছায়াতলে এসে 🙂
বন্ধুদের ফ্লাইং স্প্যাগেটি মন্সটার তথা একমাত্র সত্য ঈশ্বর বিজ্ঞান সম্পর্কে জানাতে লেখাটি ফেসবুকে শেয়ার করুন 🙂
এই ধর্মে বিজ্ঞানমনস্ক ঈশ্বর আছেন, নবী আছেন, উপাসনালয় আছে, পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আছে, সার্টিফিকেট আছে, ধর্মীয় অনুষ্ঠান আছে আবার অবসরের জন্য মোবাইল গেইমও আছে 😉
অন্য ধর্মের সাথে তুলনা করলে এই ধর্মে কোন কিছু বাদ পড়লো কি ???
আসুন, যাচাই করুন; তারপর নিজেই উপলদ্ধি করুন এবং সত্য পথের যাত্রী হোন; একমাত্র সত্য ঈশ্বরের অনুসারী হোন।

বিজ্ঞানের জয় হোক 🙂
অপবিজ্ঞান ধ্বংস হোক 🙂

About the Author:

মহাকাশ বিজ্ঞানের প্রতি প্রচণ্ড আগ্রহ; ধর্মতত্তে বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে। বই পড়া এবং অ্যান্টিক জিনিস সংগ্রহের বাতিক রয়েছে। সারাদিন গান এবং সিগারেটের বদভ্যাস রয়েছে। আড্ডাবাজ এবং অলস হিসেবে সুপরিচিত। আমি ইহার মত, তাহার মত, তাহাদের মত নই। আমি আমার মত। আমার মাঝে ইহাকে/উহাকে/তাহাকে খুঁজে লাভ নেই।

মন্তব্যসমূহ

  1. সঞ্জয় নভেম্বর 24, 2014 at 8:04 অপরাহ্ন - Reply

    এই ফ্লাইং স্প্যাগেটি মনস্টার কি স্বর্গ-নরক/বেহেশত-দোজখ/হেভেন-হেল এরকম কোনকিছু তৈরী করেছেন? পরকালের লোভ আর ভয় ছাড়া ধর্ম টেকানো কঠিন হবে। হুর/উর্বশী আর শরাব না থাকলে শুকনো নুডুলস খেতে কেউ স্বর্গে যেতে চাইবে না। নারীদের জন্যে পরকালে কি থাকবে?

    • এম এস নিলয় ডিসেম্বর 17, 2014 at 3:35 পূর্বাহ্ন - Reply

      @সঞ্জয়, ফ্লাইং স্প্যাগেটি মনস্টার আশা করি আপনার কমেন্ট টি বিবেচনা করে দেখবেন 🙂
      তিনি সর্বজ্ঞ, তিনি অবশ্যই এই বিষয়টা বিবেচনা আগেই করেছেন 🙂
      পবিত্র গস্পেলে বিষয়টি নিয়ে কিছু আছে কিনা খুঁজে দেখছি 🙂

      মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ 🙂

  2. চলেপথিক জুন 12, 2014 at 12:37 পূর্বাহ্ন - Reply

    চমৎকার লিখা পড়তে ভাল লেগেছে , লেখক কে ধন্যবাদ ।

    আচ্ছা ঈশ্বর কে আসলে আপনাদের কেন প্রয়োজন ? তার অসিম ক্ষমতা বাগিয়ে নেওয়ার ধান্ধায়।
    ঈশ্বর এটা খুব ভাল ভাবেই বোঝে মানুষের বিশ্বাষ নেই,তাই তো তিনি বরাবরই নিরাপদ দূরত্বে থাকেন। তিনি কি নিজে কোন দিন এসে বলেছেন আমি ঈশ্বর আমাকে পুজা করেন। উনি এটাই পারল্লেন না আজও !

    • এম এস নিলয় জুলাই 21, 2014 at 12:43 পূর্বাহ্ন - Reply

      @চলেপথিক, আপনার ভালো লেগেছে জেনে খুশী হলাম 🙂

      আচ্ছা ঈশ্বর কে আসলে আপনাদের কেন প্রয়োজন ? তার অসিম ক্ষমতা বাগিয়ে নেওয়ার ধান্ধায়।
      ঈশ্বর এটা খুব ভাল ভাবেই বোঝে মানুষের বিশ্বাষ নেই,তাই তো তিনি বরাবরই নিরাপদ দূরত্বে থাকেন। তিনি কি নিজে কোন দিন এসে বলেছেন আমি ঈশ্বর আমাকে পুজা করেন। উনি এটাই পারল্লেন না আজও !

      ভালো বলেছেন 🙂
      প্রশ্ন গুলো আমাদের সবার; কিন্তু উত্তর কেউ দিতে রাজি নয়। সবাই শুধু বিশ্বাস করতেই আগ্রহী।

  3. আলী জুন 4, 2014 at 6:35 পূর্বাহ্ন - Reply

    অন্যকে বাঁশ দিতে গিয়ে নিজেই যে বাঁশ খাচ্ছিনা, তা বিশ্বাস করার কি যুক্তিসংগত কোন ব্যাখ্যা পাস্তাফারিয়ানিজমে আছে?

    • এম এস নিলয় জুলাই 21, 2014 at 12:41 পূর্বাহ্ন - Reply

      @আলী, বাঁশ তো ভালো জিনিস। নিজে বাঁশ খান; অন্যকেও বাঁশ দিন 🙂
      স্বাস্থ্য ভালো থাকবে 🙂

  4. ফারাবী মে 28, 2014 at 10:56 পূর্বাহ্ন - Reply

    রিচার্ড ডকিন্স কে দেখি আপনারা দেবতা মানেন। অর্থ্যাৎ সাদা চামড়ার দেবতা আর কি।

    • হয়রান মে 29, 2014 at 5:23 পূর্বাহ্ন - Reply

      @ফারাবী,
      মূলত আরব প্যাগানদের চন্দ্র দেবতার নাম ছিল “আল্লাহ”! মুহাম্মদের ইসলাম তৈরির পূর্বে মুহাম্মদের পিতা আব্দুল্লাহ ছিল সেই আল্লাহ নামের প্যাগানদের চন্দ্র দেবতার পুজারী|

      “আব্দুল্লাহ” নামের অর্থ হল: “আল্লাহর গোলাম”!!

      বর্তমানে আপনারাও দেখি প্যাগানদের চন্দ্র দেবতার পুজা করেন, ঘটনা কী ?

  5. আসিফ এইচ তামিম এপ্রিল 10, 2014 at 11:14 পূর্বাহ্ন - Reply

    আমিও পাস্তাফারিয়ান হতে চাই। :D. আচ্ছা, কেউ আমার পাস্তানুভূতিতে আঘাত করলে তার বিরুদ্ধে ৫৭ ধারা বলবৎ হবে কি??

    • এম এস নিলয় এপ্রিল 11, 2014 at 10:12 পূর্বাহ্ন - Reply

      @আসিফ এইচ তামিম, হওয়ার তো কথা; কিন্তু ব্লাসফেমি বা ৫৭ ধারা এখনো শুধু ইসলামের ইজ্জৎ ছাড়া আর কোন ধর্মের বা অন্য কোন নবীর ইজ্জৎ রক্ষা করার ক্ষমতা বা ইচ্ছা রাখেনা।

      সম্ভবত পাস্তাফারিয়ানদের ধর্মের ইজ্জৎ এবং এই ধর্মের ঈশ্বর-নবীদের ইজ্জৎ ফ্লাইং স্প্যাগেটি মন্সটার নিজেই রক্ষা করতে পারেন বলে ৫৭ ধারায় আমাদের ইন্টারেস্ট নাই। আমাদের ঈশ্বরের ইজ্জৎ ঈশ্বর নিজেই রক্ষা করতে পারে বলে মানুষের হস্তক্ষেপ লাগেনা (H) কারন তিনি সত্য এবং একমাত্র বাস্তব ঈশ্বর (*)

      মিথ্যা ঈশ্বর এবং মিথ্যা ঈশ্বরের নবীদের ইজ্জৎ রক্ষা করতে মানুষের হস্তক্ষেপ লাগে কারন তারা নিজেদের ইজ্জৎ নিজেরা রক্ষা করতে পারেনা কারন তারা মিথ্যা; তাদের বাস্তব অস্তিত্ব নেই 🙂

      আশা করি কি বলতে চাচ্ছি আপনি বুঝতে পেরেছেন (I)

  6. স্যাম এপ্রিল 9, 2014 at 8:51 অপরাহ্ন - Reply

    আমার এক ‘আত্মীয়’ মার্কিন মুলুকে বিজ্ঞান-গবেষণারত। তিনি ‘ডঃ’, যদিও তিনি জনতার আফিম সেবন করেন। তা, তিনি একবার এক আলোচনায় আমাকে বললেন,”তুই গডকে disprove করতে পারবি না”। আমি তখন এই মনস্টারটির কথা বলেছিলাম। তখন কি আর জানি ছাই, যে ইনি সত্যিই আছেন!

    • এম এস নিলয় এপ্রিল 10, 2014 at 12:08 পূর্বাহ্ন - Reply

      @স্যাম, ফ্লাইং স্প্যাগেটি মন্সটারই এক নাম্বার ঈশ্বর; বাকী সব দুই নাম্বার 🙂
      সত্যের ছায়াতলে তাকে নিয়ে আসুন 🙂
      মনস্টারের সুসমাচার ঘরে ঘরে প্রচার করুন (G)

  7. আদনান আরসালান এপ্রিল 9, 2014 at 8:06 পূর্বাহ্ন - Reply

    নিলয় ভাই, ব্যাস্ততার জন্য অনেকদিন পর পড়লাম আরকি। ভাল্লাগছে ব্যাপারটা। ইশ্বর যদি খাদ্যের রূপেই আসে তাহলে আস্তিক হওয়াটা কিন্ত আসে!!! 😛 দেখি কদিন পড়াশুনা করে আপনের ঈশ্বর আমারে দেখা দেয় কিনা।

    ভাল কথা, ধর্ম যখন মানলেনই…বাংলাদেশের কার্ডিনাল/আউলিয়া হিসাবে ধর্মগ্রন্থের অনুবাদে হাত দিয়া দেন…মাঝেমধ্যে হেল্প করলাম লাগলে। আমারে কই পাবেন জানেনইতো

    • এম এস নিলয় এপ্রিল 9, 2014 at 9:21 পূর্বাহ্ন - Reply

      @আদনান আরসালান, ভালো বুদ্ধি 🙂 “গসপেল অফ ফ্লাইং স্প্যাগেটি মন্সটার” বইটির ডাউনলোড লিংক লেখায় দিয়েছি; পড়া শুরু করুন আর পাস্তার ছায়াতলে আসুন 🙂

      আমি তো “এম এস নিলয় (তাহার উপরে পাস্তা বর্ষিত হোক) লিখিত ফ্লাইং স্প্যাগেটি মন্সটারের সুসমাচার” নামের একটা বই লেখা শুরু করে দিসি 🙂 ফ্লাইং স্প্যাগেটি মন্সটার আমাকে নিয়মিত দর্শন দিচ্ছেন; প্রতিদিন খাচ্ছি 🙂 যখন খাচ্ছি তখন ওহি পাচ্ছি আর সব ওহি মোবাইলে রেকর্ড করে রেখে দিচ্ছি 🙂 সময় করে লিখে ফেলবো 🙂
      এখানে প্রকাশিত না হলেও আমাদের ধর্মকারী ব্লগে অবশ্যই প্রকাশিত হবে সেগুলো 🙂

      চোখ রাখুন আপনার নিউজ ফিডে; ফেবু মারফত অবশ্যই জানতে পারবেন সেগুলো প্রকাশিত হলে 🙂

      পড়ার জন্য এবং কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ 🙂
      আশা করি একজন নিয়মিত পাঠক হিসেবে আপনাকে মুক্তমনায় পাবো 🙂

  8. আদিল মাহমুদ এপ্রিল 8, 2014 at 10:44 অপরাহ্ন - Reply

    ঈশ্বর জাতীয় সত্ত্বাগুলি বিশ্বাস অনুযায়ী এক একজনার কাছে এক এক রকমের; কারো কাছে অবয়বহীন, কারো কাছে নানান রকমের অলৌকিক দানব বা পশু পাখী প্রকৃতির, কারো কাছে সুন্দরী রমনীর…পাস্তা মিটবলের মত হলেই বা সমস্যা কি?

    হাজার হোক পাস্তা ঈশ্বরে কেউ অবিশ্বাস করলে সে নিশ্চয়ই ল্যাবরেটরিতে প্রমান করে দিতে পারবে না যে পাস্তা ঈশ্বর নামে কেউ নেই।

    • এম এস নিলয় এপ্রিল 8, 2014 at 11:20 অপরাহ্ন - Reply

      @আদিল মাহমুদ, অন্য ঈশ্বর আছে কি নেই সেটা যেমন আস্তিকেরা কেউ প্রমান করার প্রয়েজন দেখেনা সেরকম এই ঈশ্বর যে সত্য তার কোন প্রমান দেখানোর দরকার থাকার তো কথা না তাদের।
      বিশ্বাস যখন আছে তখন প্রমানের কি দরকার 😉

      সব ঈশ্বরের সৃষ্টি হয় একই রকম ভাবে; এভাবেই।
      মানুষের কল্পনা ছাড়া এদের অস্তিত্ব আর কোথাও নেই।

      কল্পনাতে থাকা সমস্যার কিছু নয়; আমাদের সমস্যা যখন ঈশ্বরের ভাইরাস মানুষের মস্তিষ্ক কুঁড়ে কুঁড়ে খায় তখন।

      কেউ যদি পুতুল নিয়ে খেলা করে তাহলে তাতে দোষের কিছু নেই; দোষ তখন যখন সে সেই পুতুল দিয়ে মানুষকে শারীরিক ভাবে আঘাত করা শুরু করে।

      নিরীহ ঈশ্বর বিনোদনের জন্য ভালো; কিন্তু আগ্রাসী ঈশ্বরের মুড়িদ পরিত্যাজ্য।
      তা সে যেই ঈশ্বরর মুড়িদই হোক না কেন।

      পড়ার জন্য ধন্যবাদ 🙂

  9. অভীক এপ্রিল 8, 2014 at 5:23 অপরাহ্ন - Reply

    ফ্লাইং স্প্যাগেটি মন্সটার ও পাস্তাফারিয়ানিজম ধর্ম নিয়ে আগেও পড়েছিলাম। সবসময়ই পড়তে মজা লাগে। আপনার লেখাটাও ব্যতিক্রম হয় নি।
    গসপেল অব এফএসএম বইটার পিডিএফ লিঙ্কটা দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।

    • এম এস নিলয় এপ্রিল 8, 2014 at 11:09 অপরাহ্ন - Reply

      @অভীক, কষ্ট করে পড়ার জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ 🙂
      আশা করি গসপেলটি পড়ে দেখবেন 🙂
      পড়ে ঈশ্বর এবং ধর্মের ছায়াতলে আসবেন সেই কামনা করি 😛

  10. অর্থ এপ্রিল 7, 2014 at 2:35 অপরাহ্ন - Reply

    খুব ভাল লাগল লেখাটা 🙂
    “ If flying spaghetti monster doesn’t exist, then why are the planets perfectly shaped like meatballs?” হাহা, দারুন । :lotpot:

    • এম এস নিলয় এপ্রিল 7, 2014 at 10:09 অপরাহ্ন - Reply

      @অর্থ, আপনার ভালো লাগেছে জেনে আমারও ভালো লাগলো 🙂

      গুগলে খুজলে এমন আরও অনেক মজার মজার কথা খুঁজে পাবেন ফ্লাইং স্প্যাগেটি মন্সটারকে নিয়ে 🙂

  11. নিলয় নীল এপ্রিল 6, 2014 at 3:58 পূর্বাহ্ন - Reply

    আপনার লেখাটা আসলেই সুন্দর হয়েছে এবং যথেষ্ট তথ্যপূর্ণ। আইডিকে পচাতেই এই প্যারডি রিলেজন, আর যত দূর জানি এদের অনেক বড় ফান্ড আছে। আপনি তাদের মুরিদ হইছেন এখন আবার ধর্ম প্রচার করতেছেন, :-s ডলার কেমন পাইছেন ভাই? ভয় নাই, আমি কাউরে কিচ্ছু বলুম না, 😉 আমার মুখ বন্ধ করতে ছোটখাটো ললিপপ যথেষ্ট। :))

    • এম এস নিলয় এপ্রিল 6, 2014 at 6:29 পূর্বাহ্ন - Reply

      @নিলয় নীল, অন্য ঈশ্বর আমাকে কোন সুখ দিতে না পারলেও এই ঈশ্বর আমাকে সুখের বন্যায় ভাসিয়ে দিচ্ছেন 🙂

      ডলারের কথা বলতে চাচ্ছিলাম না। কারন আপনারাও ভাগ নেয়া শুরু করলে আমার ভাগে কমে যাবে। ডলার দিয়ে আজকাল আমি সিগারেট ধড়াই টঙ্গের কেরোসিনের কুপি বাতি থেকে; বাকিটা বুঝে নেন :rotfl:

      আমি তো “এম এস নিলয় লিখিত ফ্লাইং স্প্যাগেটি মন্সটারের সুসমাচার” নামের বই লেখাও শুরু করে দিয়েছি 🙂
      আমি আজকাল ফ্লাইং স্প্যাগেটি মন্সটারের থেকে নিয়মিত ওহি পাচ্ছি 🙂
      একমাত্র সত্য ঈশ্বরের সত্য বানী; আহা মধু।
      আমাদের প্রথম এবং প্রধান ধর্মগ্রন্থ “গস্পেল অফ ফ্লাইং স্প্যাগেটি মন্সটারের” পিডিএফ বইয়ের লিংক লেখায় পাবেন। পড়ুন আর ঈশ্বরের সেবা শুরু করুন।

      আশা করি দুনিয়ার সকল বিজ্ঞান মনস্ক জ্ঞান সম্পন্ন মানুষ (যাদের জ্ঞান বা নিজস্ব ঘিলু নাই তারা না আসাই ভালো; আমরা কোয়ান্টিটিতে নয় কোয়ালিটিতে বিশ্বাসী) একদিন এই ঈশ্বরের ছায়াতলে আসবে 🙂

      আপনিও চলে আসেন 🙂

  12. নিলয় নীল এপ্রিল 6, 2014 at 2:17 পূর্বাহ্ন - Reply

    রিলিজিয়াস প্যারডি খারাপ না, ভালোই। তবে একে স্ট্রাকচার দেয়া ব্যক্তিগতভাবে আমার পছন্দ নাহ। আর আমাদের ঈশ্বর মানে? :-s মুক্তমনাদের ঈশ্বর আপনি ঠিক করে দিচ্ছেন? :-X আপনি কোন ঈশ্বরের আরাধনা করবেন, কোন ধর্ম পালন করবেন সেটা আপনার ব্যপার, সবার ঈশ্বর ঠিক করেন কোন সাহসে? :guli:

    • এম এস নিলয় এপ্রিল 6, 2014 at 6:36 পূর্বাহ্ন - Reply

      @নিলয় নীল, আস্তিক নাস্তিক বিজ্ঞানী অথবা জাকির নায়েক সবাই আমার এই ঈশ্বরের সৃষ্টি। তাই আমাদের ঈশ্বর বলে ভুল বললাম কি ???

      আপনি না মানলে নাই কিন্তু আপনি আমার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিতে পারেন না 🙁
      আমার বিশ্বাস মহাবিশ্ব ফ্লাইং স্প্যাগেটি মন্সটারের সৃষ্টি; আমার অনুভূতিতে আঘাত দিলে আপনার বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা করবো।

      কিন্তু কোন কাজ হবে বলে মনে হয়না :/
      কারণটা জানতে আমার এই লেখাটা পড়তে পারেন।
      লেখার লিংক এখানে

  13. মাহফুজুর রহমান এপ্রিল 6, 2014 at 1:06 পূর্বাহ্ন - Reply

    @ এম এস নিলয় :

    আজ থেকে আমি অফিশিয়াল ভাবে একজন “আস্তিক”
    আমি এখন একজন গর্বিত পাস্তাফারিয়ান

    অবশেষে আপনি আস্তিক হলেন, তা বেশ ভালো।
    কিন্তু তাহলে আপনি মুক্তমনায় থাকবেন কি করে।

    এখানে তো কোন ধর্মীয় গ্রন্থকে বিশ্বাস করা মানেই হলো আপনি মুক্তমনের অধিকারী নন, তা সে যতই বৈজ্ঞানিক হোকনা কেন।

    তাছাড়া আপনি যদি “পাস্তাফারিয়ানিজমে” অনুযায়ী অন্যকে শুধুই খুচা মারতে থাকেন তবে সেটা কি কল্যানকর ধর্ম হবে?

  14. ইমরান ওয়াহিদ এপ্রিল 5, 2014 at 1:26 পূর্বাহ্ন - Reply

    আপনাদের কুনু রিটায়ারমেন্ট স্কিম নাই? তাইলে কেম্নে চলপে? ইমুনকি মীটবল অল দি ওয়ে হইলেও চইলতো, তাও নাই?

    • এম এস নিলয় এপ্রিল 6, 2014 at 2:16 পূর্বাহ্ন - Reply

      @ইমরান ওয়াহিদ, জান একটা একজন পাইরেট হিসেবে আপনার জন্য একটা রিটায়ারমেন্ট স্কিম বানাইয়া দিলাম;

      -এম এস নিলয় লিখিত ফ্লাইং স্প্যাগেটি মন্সটারের সুসমাচার।

      তোমরা কি ভেবে দেখেছো কিভাবে মানুষ মড়ে গেলে পচে যায়???
      কখনো কি ভেবে দেখেছো মৃত্যুর পরেও অনন্তকাল বেঁচে থাকার কথা???
      শরীর পচে যায় কিন্তু সৃতি নষ্ট হয়না; প্রান আর প্রাণীর জন্য করা ভাল কাজ নষ্ট হয়না।
      মানুষ আজীবন বেঁচে থেকে মহৎ কাজে; মানুষের মনে সৃতি হয়ে।
      যারা ভালো কাজ করে তাদের জন্য আছে অনন্তকাল মানুষের মনে শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে বেঁচে থাকার পুরুস্কার।
      আর যারা অসৎ; তারা মানুষের অন্তরে ঘৃণার বস্তু হয়ে থাকে; মৃত্যুর পরেও ঘৃণার জ্রন্ত্রনা তারা অনন্তকাল ভোগ করবে।
      মানুষের অস্তিত্ব কখনোই বিলীন হয়না; মড়ে গেলেও না।
      মানুষের জন্য প্রাণীদের স্বার্থে আমৃত্যু কাজ কর; তবেই পাবে অনন্তকাল বেঁচে থাকার আনন্দ।
      জেনে রেখো আমি ফ্লাইং স্প্যাগেটি মন্সটারে; আমিই একমাত্র ঈশ্বর; ভালো কাজের পুরুস্কার দিতে আমি কখনোই কার্পণ্য করিনা।

      পছন্দ হইসে???

  15. সুব্রত শুভ এপ্রিল 4, 2014 at 10:59 পূর্বাহ্ন - Reply

    :hahahee: :hahahee: :hahahee: নতুন ঈশ্বরের চেহারাটা ভাল লাগছে।

    থেংক্স, নতুন কিছু জানলাম।

    • এম এস নিলয় এপ্রিল 4, 2014 at 11:24 পূর্বাহ্ন - Reply

      @সুব্রত শুভ, আমার তো জানানোতেই আনন্দ 😉
      পোস্ট টা লেখার সময় নিজেই অনেক মজা পেয়েছিলাম; লিখতে লিখতে শেষে এই ঈশ্বরের প্রেমে পড়ে তার আলোতে এসে আমি একজন পিওর আস্তিক হইয়া গেলাম; এইটা কিছু হইলো :-s

      শেষে আর থাকতে না পেরে ফেসবুকের রিলিজিয়াস ভিউটাও বদল করে ফেলেছি :hahahee:
      আজ থেকে আমি অফিশিয়াল ভাবে একজন “আস্তিক” :rotfl:
      আমি এখন একজন গর্বিত পাস্তাফারিয়ান :lotpot:

      আশা করি পুরোটা পড়েছেন; ফাঁকিবাজি করে পড়লে কিন্তু নিজেকেই ঠকাবেন 😛
      পাস্তা খান; এগিয়ে যান 😀

মন্তব্য করুন