মেরি কুরির রেডিয়াম ভালোবাসা – শেষ পর্ব

[১ম পর্ব] [২য় পর্ব] [৩য় পর্ব] [৪র্থ পর্ব]

মেরি ও পল লাঁজেভি যখন ব্রাসেলসে জরুরি বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে ব্যস্ত প্যারিসে শুরু হয়েছে মেরি ও লাঁজেভিকে জড়িয়ে সংবাদপত্রের তান্ডব। নভেম্বরের ৪ তারিখ ‘লা জার্নাল’ পত্রিকার প্রথম পৃষ্টায় দুই কলাম জুড়ে প্রকাশিত হলো ‘মাদাম কুরি ও প্রফেসর লাঁজেভির প্রেম কাহিনি’। লাঁজেভির শাশুড়ির সাক্ষাৎকার ভিত্তিক এ প্রতিবেদনে রগরগে ভাষায় মেরি ও লাঁজেভির সম্পর্ককে সস্তা অবৈধ প্রেম-কাহিনিতে রূপান্তরিত করা হয়েছে। এমনও বলা হয়েছে যে মেরি লাঁজেভির সাথে প্যারিস থেকে পালিয়ে গেছেন। কোথায় গেছেন কেউ জানেন না।

ব্রাসেল্‌সে প্যারিসের সব পত্রিকা পৌঁছায়। সল্‌ভে কনফারেন্সের সব বিজ্ঞানীর চোখেই পড়েছে মেরি ও লাঁজেভি সংক্রান্ত প্রতিবেদন। তাঁদের কেউই বিশ্বাস করলেন না এসব।

মেরি প্যারিসের প্রভাবশালী পত্রিকা ‘লা টেম্প্‌স’-এ একটা প্রতিবাদলিপি পাঠালেন এই বলে যে তিনি ও লাঁজেভির প্যারিস থেকে পালিয়ে যাবার কোন প্রশ্নই ওঠে না। একটা গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তাঁরা এখন ব্রাসেল্‌সে আছেন।

মেরির প্রতিবাদলিপি প্রকাশিত হলো। কিন্তু প্যারিসের বেশিরভাগ মানুষ রগরগে গল্পই পছন্দ করে। দু’দিন পরই তারা গোগ্রাসে পড়তে শুরু করলো ‘লা পেটিট’ পত্রিকায় প্রকাশিত জেনি লাঁজেভির সাক্ষাৎকার। বলাবাহুল্য এই সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন জেনির ভগ্নিপতি হেনরি বোর্গেস। সাক্ষাৎকারে জেনি ইনিয়ে বিনিয়ে বলছেন কীভাবে মেরি কুরি নামক এক বিদেশিনী তাঁর কাছ থেকে তাঁর স্বামী প্রফেসর লাঁজেভিকে ছিনিয়ে নিচ্ছেন। জেনি কাঁদতে কাঁদতে বর্ণনা করছেন কীভাবে পল লাঁজেভি তাঁকে যখন তখন মারধর করেন। ঘর ছেড়ে বাইরে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া করে মেরির সাথে সময় কাটান। এতদিন তবুও প্যারিসে ছিল। এখন মেরি কুরি তাঁর স্বামীকে নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন।

প্যারিসের তথাকথিত ভদ্র নারীসমাজ নিজ নিজ স্বামীকে মেরি কুরির মত মহিলার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য প্যারিস থেকে মেরি কুরিকে তাড়িয়ে দেয়ার ব্যাপারে প্রায় একমত হয়ে গেলো।

ব্রাসেল্‌সে মেরির হোটেলে প্রতিদিন পৌঁছে যেতে লাগলো প্যারিসের পত্রিকা। আমেরিকার সংবাদপত্রেও ফলাও করে প্রকাশিত হতে শুরু করেছে নোবেল বিজয়ী প্রথম নারী মেরি কুরির ‘প্রেম-কাহিনি’। মেরির মেজাজ খারাপ হয়ে গেছে এরকম প্রতিবেদন পেতে পেতে। এসময় একদিন সকালে তাঁর হাতে এসে পৌঁছালো একটা টেলিগ্রাম, স্টকহোম থেকে।

মেরি ভাবলেন সুইডেনেও হয়তো প্রকাশিত হয়েছে মেরিকে নিয়ে কোন কুৎসা। কিন্তু না, মেরি টেলিগ্রামটা পড়ে দেখলেন – এত দুর্নামের মাঝেও একটা সুখবর। মেরিকে ১৯১১ সালের রসায়নের নোবেল পুরষ্কার দেয়া হয়েছে। মেরি কুরি আরো একটা ইতিহাস স্থাপন করলেন – তিনি হলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি দু’বার নোবেল পুরষ্কার পেলেন।

দ্বিতীয়বার নোবেল পুরষ্কার পাওয়াতে মেরি কুরিকে নিয়ে সারাপৃথিবীর বিজ্ঞান সমাজ ধন্য ধন্য করে উঠলো। অভিনন্দন ও প্রশংসার ঝড় বয়ে গেল ওয়ার্ল্ড মিডিয়ায়। কিন্তু প্যারিসের মিডিয়ায় তেমন কোন গুরুত্বই পেলো না মেরির দ্বিতীয়বার নোবেল পুরষ্কার প্রাপ্তির খবর। তারা মেরির ‘প্রেম-কাহিনি’ নিয়ে মশগুল।

প্যারিসে ফিরে মেরি প্রেসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি ঘোষণা দিলেন পল লাঁজেভির সাথে তাঁকে জড়িয়ে আর কোন প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবেন। তাঁদের ব্যক্তিগত চিঠি যদি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তা হবে বে-আইনি এবং তার দায়ভার নিতে হবে সংশ্লিষ্ট সম্পাদকদের।

মেরিকে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে এলেন পিয়েরের বড়ভাই জাকো কুরি। তাঁদের প্রভাবশালী বন্ধুরাও এগিয়ে এলেন। মেরিকে আইনগত সহযোগিতা দিতে এগিয়ে এলেন রেমন্ড পয়েনকেয়ার। রেমন্ড পয়েনকেয়ার রাজনৈতিকভাবে এতই প্রভাবশালী ছিলেন যে এক বছর পর তিনি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। পয়েনকেয়ারের প্রভাবে প্যারিস প্রেস সিন্ডিকেট এই মর্মে সম্মত হলো যে মেরি ও লাঁজেভির ব্যক্তিগত চিঠি আর কোন সংবাদপত্রে প্রকাশিত হবে না।

মেরির ব্যক্তিগত প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে কিছু না লিখলেও ‘লা লিব্‌রে প্রেস’-এর মতো কট্টর ডানপন্থি পত্রিকা প্রশ্ন তুললো “মাদাম কুরির কি সরবোনের প্রফেসর পদে থাকার নৈতিক অধিকার আছে?” তারা এটাও উল্লেখ করলো যে মাদাম কুরি ও প্রফেসর লাঁজেভির চিঠিগুলো প্রকাশিত হলে সরবোনের প্রফেসররা লজ্জায় মুখ দেখাতে পারবেন না সমাজে। প্যারিসের সবচেয়ে সম্মানিত প্রতিষ্ঠানের প্রফেসরদেরও নিশ্চয় প্রতিষ্ঠানের সম্মান রক্ষা করে চলা উচিত – যা করতে মাদাম কুরি ব্যর্থ হয়েছেন। মাদাম কুরি যে দু’বার নোবেল পুরষ্কার পেয়ে সরবোন ইউনিভার্সিটির মর্যাদা আকাশে তুলে দিয়েছেন তা নিয়ে একটা শব্দও উচ্চারণ করে না এসব পত্রিকা।

সরবোন ইউনিভার্সিটির ডানপন্থি প্রফেসররা মাদাম কুরির ব্যাপারে অস্বস্তি বোধ করতে শুরু করেছেন। এমনিতেই মাদামের বৈজ্ঞানিক সাফল্যে তাঁরা ঈর্ষান্বিত। এত কিছুর মধ্যেও মাদাম দু’বার নোবেল পুরষ্কার পেয়ে গেছেন। তাঁদের মধ্যেও অনেকের মনে হতে থাকে মাদাম কুরিকে সরবোন থেকে তাড়িয়ে দিতে পারলে ভালো হয়। নভেম্বরের ২৩ তারিখ ডানপন্থিদের হাতে আরেকটি ব্রহ্মাস্ত্র তুলে দেয় ‘লা’উভ্‌র’ পত্রিকার সম্পাদক।

‘লা’উভ্‌র’ পত্রিকাটি সংবাদপত্রের ন্যূনতম নিয়ম-নীতিও মেনে চলে না। এর সম্পাদক গুস্তাভ টেরি ভীষণ সাম্প্রদায়িক, উগ্র জাতীয়তাবাদী, ইহুদি-বিদ্বেষী। টেরি ছাত্রজীবনে লাঁজেভির সহপাঠী ছিলেন। মতাদর্শের কারণে এখন তিনি লাঁজেভিকে শত্রু বলে মনে করেন।

‘লাঁজেভি-কুরি ঘটনার প্রকৃত রহস্য’ শিরোনামে বারো পৃষ্ঠার এক রগরগে মিথ্যা অতিরঞ্জিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন টেরি। প্রতিবেদনে টেরি বিভিন্ন মিথ্যা ও অতিরঞ্জিত ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণ করার চেষ্টা করেন যে ‘ধূর্ত’ মাদাম কুরি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করে আস্তে আস্তে পল লাঁজেভিকে হাত করে ফেলেছেন। প্রেমের ফাঁদে ফেলে জেনির মত পতিব্রতা স্ত্রীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছেন তাঁর স্বামীকে, পিতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত করেছেন তাদের চার ছেলে-মেয়েকে।

টেরি তাঁর প্রতিবেদনে লাঁজেভিকেও ছেড়ে দেন না। টেরি বর্ণনা করেন – লাঁজেভি মেরির রূপে মুগ্ধ হয়ে ভেড়া বনে গেছেন এবং মেরির স্কার্টের নিচে ঢুকে বসে আছেন। প্রতিবেদনের শেষ পৃষ্ঠায় টেরি তাঁর ঘৃণ্যতম অভিযোগ তোলেন মেরির প্রতি –
“মাদাম কুরি ‘কুরি’ পরিবারের মর্যাদা ধুলোয় মিটিয়ে দিয়েছেন। আমাদের সন্দেহ পিয়ের কুরির মৃত্যুর অনেক আগে থেকেই মেরি ও লাঁজেভির ‘ঘর ভাঙানিয়া’ প্রেম চলছিল। নিজের স্ত্রী অন্য পুরুষের সাথে প্রেম করছেন এটা সহ্য করতে না পেরে পিয়ের কুরি ঘোড়ার গাড়ির নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে নিজের সম্মান বাঁচিয়েছেন। এখন সম্মানিত প্যারিসবাসীর উচিত মাদাম কুরির হাত থেকে প্যারিসের সম্মান বাঁচানো।”

গুস্তাভ টেরির বিষাক্ত প্রতিবেদন পড়ে প্যারিসের ‘বীর জনতা’ ক্ষেপে উঠলো। টেরি সমর্থক ধর্মান্ধ গোষ্ঠী স্‌সোতে মেরির বাসার সামনে জড়ো হয়ে অশ্লীল স্লোগান দিতে শুরু করলো। কেউ কেউ গালাগালি করতে করতে মেরির বাড়ির দিকে ইট পাটকেল ছুঁড়তে শুরু করলো। বাড়ির ভেতর ভয়ে কাঁপছেন মেরি ও সাত বছর বয়সী ছোট্ট ইভ। আইরিন তখন স্কুলে। তাঁদের পোলিশ গৃহকর্মী বুঝতে পারছেন না তাঁর কী করা উচিত।

এদিকে সেন্ট্রাল প্যারিসে গুস্তাভ টেরির প্রতিবেদনটি চোখে পড়েছে জাঁ পেরির। তিনি দ্রুত ছুটে গেলেন এমিল ও মার্গারিট বোরেলের কাছে। তারপর সবাই মিলে ছুটলেন মেরির বাড়ির উদ্দেশ্যে। তাঁরা যখন স্‌সোতে গিয়ে পৌঁছালেন – দেখলেন শত শত ‘প্যারিস-বীর’ ‘প্যারিসের সম্মান রক্ষার্থে’ মেরি কুরিকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে ঢিল ছুঁড়তে ছুঁড়তে মেরির বাড়ির জানালার কাচ ভাঙছে।

মার্গারিট দ্রুত বাড়ির ভেতরে গিয়ে ভয়ার্ত অপমানিত মেরি, ইভ ও গৃহকর্মীকে নিয়ে বেরিয়ে এলেন। গাড়িতে চেপে ছুটলেন আইরিনের স্কুলের দিকে। স্কুলে আইরিনের এক বান্ধবী সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় মেরি ও লাঁজেভির ছবি দেখে তাঁরা আবার নতুন কিছু আবিষ্কার করেছেন ভেবে আইরিনকে দিয়েছে পেপারটি। চতুর্দশী আইরিন প্রতিবেদনের কিছুটা অংশ পড়েই অপমানে জ্ঞান হারিয়ে ফেললো। মার্গারিটরা যখন আইরিনের স্কুলে পৌঁছালেন আইরিন কিছুটা সুস্থ হয়ে চুপচাপ বসে ছিল ক্লাসে। গাড়িতে উঠে আইরিন মা ও বোনকে দেখে কিছুটা আশ্বস্ত হলো।

এমিল ও মার্গারিট বোরেলের ইকোল নরমালে সুপেরিয়রের সরকারি কোয়ার্টারে সন্তানদের নিয়ে আশ্রয় নিলেন মেরি। প্রফেসর এমিল বোরেল তাঁর সরকারি বাসায় ‘বিদেশিনী’ মেরিকে আশ্রয় দিয়েছেন বলে শোরগোল তুললো ডানপন্থী সরকারের আমলারা। শিক্ষামন্ত্রী থিওডর স্টিগ তাঁর অফিসে ডেকে পাঠালেন বোরেলকে।

“প্রফেসর বোরেল, আপনি ইকোল নরমাল সুপেরিয়রের ভাইস প্রেসিডেন্ট। আপনার এমন কিছু করা উচিত নয় যা সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে যায়। সরকারি বাসায় আপনি মাদাম কুরিকে এসময় আশ্রয় দিতে পারেন না যেখানে তাঁর নামে এরকম অভিযোগ উঠেছে।”
“মাদাম কুরি আমাদের পারিবারিক বন্ধু। তাঁর বিপদে আমরা তাঁর পাশে দাঁড়াবোই।”
“তাহলে কিন্তু রাষ্ট্রবিরোধী কাজের অপরাধে আপনার চাকরি চলে যাবে। চাকরি চলে গেলে বাসাও আপনার থাকবে না। ঠান্ডা মাথায় আপনার স্ত্রীর সাথে আলোচনা করে তারপর সিদ্ধান্ত নেন কী করবেন। আপনাকে একদিন সময় দেয়া হলো।”
“আচ্ছা তাই হবে।”

এদিকে মার্গারিটকে ডেকে পাঠিয়েছেন তাঁর বাবা সরবোন ইউনিভার্সিটির সায়েন্স ফ্যাকাল্টির ডিন প্রফেসর পল আপ্পেল। মার্গারিট ভাবলেন তাঁর বাবা মেরিকে কীভাবে সাহায্য করতে পারেন তা আলোচনা করার জন্যই ডেকেছেন। দ্রুত গেলেন বাবার বাসায়। কিন্তু বাবার গম্ভীর থমথমে মুখ দেখে কিছুটা ঘাবড়ে গেলেন মার্গারিট।

“মার্গারিট, তুই মেরিকে নিজের বাসায় নিয়ে এলি কোন আক্কেলে?”
“এসব তুমি কী বলছো বাবা? সবাই মিলে মেরিকে মেরে ফেলতে বলছো? এত বড় বিজ্ঞানী, দু দুটো নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন মেরি।”
“থাম্‌ মেরির জন্য যা করা উচিত তার চেয়ে অনেক বেশি করেছি আমরা। এখন তার জন্য সরবোনের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। মেরিকে আমরা আর সরবোনে রাখতে পারবো না। তুই তাকে বল রিজাইন করতে। নয়তো বরখাস্ত করতে হবে তাকে।”
“মেরির প্রতি এমন অবিচার তুমি করতে পারবে না বাবা।”
“আমি কোন অবিচার করছি না। ফ্রান্সে থেকে মেরি আর কিছুই করতে পারবে না। তাকে পোল্যান্ডে ফিরে যেতে বল। আমি সেখানে তার জন্য চাকরি আর ল্যাবের ব্যবস্থা করে দেবো।”
“মেরির সম্পর্কে এরকম মিথ্যা বানোয়াট কথাগুলো তুমি বিশ্বাস করছো বাবা? এগুলো যে সব ধর্মান্ধদের অপপ্রচার তা কি তুমি বুঝতে পারছো না?”
“বুঝতে পারলেও আমার করার কিছু নেই। আমাকেও তো আমার চাকরি বাঁচাতে হবে।”
“তাহলে আমার কথাও তুমি শুনে রাখো বাবা। মেরির বিরুদ্ধে তুমি যদি কোন ব্যবস্থা নাও – মনে করবে তোমার সাথে আমার সম্পর্ক শেষ। তুমি জীবনে আর আমার মুখ দেখতে পাবে না।”
“এমন কথা বলিস না মা। আমার ক্ষমতা খুব সীমাবদ্ধ। আমার ওপর চাপ আছে।”
“চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে বাবা? তুমি আমাকে যে আদর্শের শিক্ষা দিয়েছো তা তুমি নিজেই ভাঙবে? আমি যে তা সহ্য করতে পারবো না বাবা। প্লিজ বাবা, দরকার হলে তুমি চাকরি ছেড়ে দাও। বাবা প্লিজ।”

মেয়ের কান্না কোন বাবাই সহ্য করতে পারেন না। প্রফেসর আপ্পেলও পারলেন না। তিনি মার্গারিটকে আশ্বস্ত করলেন, “ঠিক আছে। দেখি কী করতে পারি। আর যাই হোক – আমার হাত দিয়ে মেরির কোন ক্ষতি হবে না। তুই বাড়ি যা।”

প্যারিসের প্রগতিশীল সাংবাদিকেরা গুস্তাভ টেরির বিষাক্ত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ করতে শুরু করলেন সম্পাদকীয় ও উপসম্পাদকীয় কলামে। প্রগতিশীল ও প্রতিক্রিয়াশীলদের মধ্যে কলমযুদ্ধ শুরু হয়ে গেলো। কিন্তু যুদ্ধ শুধু কলমে সীমাবদ্ধ থাকলো না। ব্রিটিশ কায়দায় তলোয়ার-যুদ্ধও হলো কারো কারো মধ্যে।
গুস্তাভ টেরি তাঁর লেখার সমালোচনা করার কারণে ‘গিল ব্লাস’ পত্রিকার চিফ এডিটর পিয়ের মর্টিয়েরকে দ্বন্দ্ব যুদ্ধে আহ্বান করলেন। স্থানীয় স্টেডিয়ামে তাঁদের তলোয়ার যুদ্ধ হলো। গুস্তাভ টেরি কয়েকবার আহত করলেন পিয়ের মর্টিয়েরকে।

এদিকে টেরির ওপর ভীষণ রেগে আছেন পল লাঁজেভি। তিনি দ্বন্দ্ব যুদ্ধে আহ্বান করলেন টেরিকে। নির্দিষ্ট দিনে স্টেডিয়ামে হাজির হলেন টেরি ও লাঁজেভি। তলোয়ারের বদলে পিস্তল নিয়ে যুদ্ধ করবেন বললেন লাঁজেভি। পিস্তল হাতে টেরি ও লাঁজেভি মুখোমুখি দাঁড়ালেন পরস্পর থেকে পঁচিশ ফুট দূরত্বে। লাঁজেভি পিস্তল তাঁক করলেন টেরির দিকে – কিন্তু টেরি পিস্তল উঠালেন না। টেরির সেকেন্ড ম্যান হয়ে গিয়েছিলেন লাঁজেভির শ্যালিকার স্বামী হেনরি বোর্গেস, আর লাঁজেভির সেকেন্ড ম্যান হয়ে গিয়েছিলেন গণিতবিদ পল পয়েনলেভি। [পল পয়েনলেভি কয়েক বছর পরে ফ্রান্সের সমাজতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন]। টেরি বা লাঁজেভির কেউই যখন গুলি ছুঁড়লেন না, তাঁদের সেকেন্ডম্যান বোর্গেস ও পয়েনলেভি পিস্তল হাতে নিয়ে শূন্যে গুলি ছুঁড়ে দ্বন্দ্বযুদ্ধ শেষ করলেন।

পরের দিন গুস্তাভ টেরি তাঁর পেপারে লিখলেন যে তিনি চাইলেই লাঁজেভিকে পিস্তলের গুলিতে শেষ করে দিতে পারতেন। কিন্তু তা করেন নি – কারণ তাতে ফ্রান্স লাঁজেভির মত একজন মেধাবী বিজ্ঞানীকে হারাতো। টেরি এটাও বললেন যে ফ্রান্সের সোনার ছেলেদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই তাঁর, তিনি কেবল মাদাম কুরির মত ‘স্বামী ছিনতাইকারি’র হাত থেকে প্যারিসের মেয়েদের ঘর বাঁচাতে চান।

পল লাঁজেভি আর পারছেন না। তিনি তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে আইনগতভাবে আলাদা হবার জন্য আদালতে মামলা করলেন। প্রতিদিন নানারকম গুজব কুৎসা প্রকাশিত হতে থাকলো বিভিন্ন সংবাদপত্রে। বেশিরভাগই বিষাক্ত তীর ছুঁড়ছে মেরির দিকে।

প্যারিসে মেরি কুরিকে জড়িয়ে এতকিছু ঘটনার খবর সুইডেনের নোবেল একাডেমির কাছে পৌঁছাচ্ছে। কমিটির সদস্যরা বুঝতে পারছেন না এ অবস্থায় মাদাম কুরির নোবেল পুরষ্কার নিতে স্টকহোমে যাওয়াটা ঠিক হবে কিনা। নোবেল কমিটি চিঠি লিখে পরামর্শ দিলো মেরি যেন প্যারিসের ‘ঘটনা-প্রবাহ’ থামার আগে নোবেল পুরষ্কার নিতে স্টকহোমে না যান।

চিঠি পেয়ে কিছুক্ষণ ভাবলেন মেরি। প্রথমবার নোবেল পাওয়ার পর অসুস্থতার জন্য যেতে পারেন নি পিয়ের বা মেরি কেউই। যদিও ১৯০৫ সালে তাঁরা স্টকহোমে গিয়ে নোবেল কমিটির সংবর্ধনা নিয়ে এসেছিলেন, নোবেল-বক্তৃতাও দিয়েছিলেন পিয়ের। কিন্তু এবার কেন যাবেন না মেরি? তিনি তো কোন অন্যায় করেননি। প্রেসের ভয়ে ঘরে বসে থাকবেন? মেরি নোবেল কমিটিকে জানিয়ে দিলেন – তিনি ডিসেম্বরে স্টকহোমে যাচ্ছেন নোবেল পুরষ্কার নিতে।
ডিসেম্বরের আট তারিখ বড় মেয়ে আইরিন ও বড় বোন ব্রোনিয়াকে সাথে নিয়ে স্টকহোমে পৌঁছালেন মেরি। দশ তারিখ নোবেল পুরষ্কার গ্রহণ করলেন সুইডেনের রাজা গুস্তাভের হাত থেকে। এগারো তারিখ স্টকহোম কনসার্ট হলে নোবেল বক্তৃতা দিলেন মেরি কুরি। পোলোনিয়াম ও রেডিয়াম আবিষ্কারে তাঁর পাশাপাশি যে পিয়েরও সারাক্ষণ ছিলেন তা বলতে ভুললেন না তিনি।

সাফল্যের মুকুটে নতুন পালক গুঁজে প্যারিসে ফিরলেন মেরি। আদালতের রায়ে পল লাঁজেভি ও তাঁর স্ত্রী জেনির মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে গেছে। উনিশ বছর বয়স পর্যন্ত ছেলে-মেয়েরা জেনির দায়িত্বে থাকবে। তার জন্য খোরপোশ দিতে হলো লাঁজেভিকে। মেরির সাথে আমৃত্যু বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল লাঁজেভির। লাঁজেভি আর বিয়ে করেননি – তবে ইলি মন্টেল নামে তাঁর একজন প্রাক্তন ছাত্রীর সাথে তাঁর বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক তৈরি হয় এবং ইলির গর্ভে লাঁজেভির একটা সন্তানও জন্মেছিল। সেই সন্তানের নামও রাখা হল পল। [প্যারিসের রক্ষণশীল সমাজ এব্যাপারে কিন্তু কোন হৈ চৈ করেনি।] বড় হলে লাঁজেভির অনুরোধে মেরি তাঁর রেডিয়াম ইনস্টিটিউটে পল লাঁজেভি-মন্টেলকে একটা চাকরিও দিয়েছিলেন। সে অনেক পরের ঘটনা।

১৯১১ সালের ডিসেম্বরে স্টকহোম থেকে ফিরে মেরি এতটাই অসুস্থ হয়ে পড়লেন যে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হলো। দিনরাত তেজষ্ক্রিয় পদার্থের সংস্পর্শে থাকতে থাকতে মেরির শরীরের অনেকগুলো কোষ মারা গেছে। তাঁর লিভার মারাত্মক রকমের ক্ষতিগ্রস্ত।

১৯১২ সালে তাঁর অপারেশান করাতে হলো। প্রেস মিডিয়া এড়ানোর জন্য হাসপাতালে নিজের নাম ব্যবহার না করে স্ক্লোদভস্কা নামে কেবিন বুক করেছেন। সুস্থ হয়ে না ওঠা পর্যন্ত গোপন রাখা হলো মেরির অবস্থান। কিন্তু সাংবাদিকরা দিনকে রাত করতে পারেন। মেরি সিক-লিভ নিয়েছেন শুনে এবং প্যারিসের কোন হাসপাতালে মেরির হদিস না পেয়ে ডানপন্থি সাংবাদিকরা লিখলেন – মেরি লাঁজেভি’র অবৈধ সন্তানের মা হতে যাচ্ছিলেন – তাই গোপনে গর্ভপাত করাতে গেছেন।

এত ঝড়ঝঞ্ঝার পরেও মাথা উঁচু করেই কাজে ফিরলেন মেরি। রেডিয়াম ইনস্টিটিউটের ভবন তৈরি হতে শুরু করলো। ১৯১৩ সালে দ্বিতীয় সল্‌ভে কনফারেন্সে যোগ দিতে গেলেন ব্রাসেল্‌সে। ১৯১৪ সালের জুলাই মাসে রেডিয়াম ইনস্টিটিউটের নির্মাণ কাজ শেষ হলো। মাদাম কুরি রেডিয়াম ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর নিযুক্ত হলেন।

১৯১৪ সালে জার্মানি ফ্রান্সের সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করলো। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে গেলো। দেশের প্রতি ভালোবাসার কর্তব্য করতে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করলেন মেরি। তাঁর অস্ত্র এক্স-রে মেশিন ও রেডিয়াম। তাঁর লক্ষ্য অগণিত যুদ্ধাহতদের চিকিৎসাসেবা দেয়া। সতেরো বছরের মেয়ে আইরিনকে সাথে নিয়ে ১৯১৪ থেকে ১৯১৮ পর্যন্ত যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে প্রায় দশ-লক্ষাধিক যুদ্ধাহত মানুষের চিকিৎসায় সহায়তা করেছেন মেরি। নিজের চেষ্টায় প্রাথমিক পর্যায়ের এক্স-রে মেশিন তৈরি করান মেরি। যুদ্ধাহতদের সহায়তার জন্য তহবিল সংগ্রহে পিয়ের ও তাঁর পাওয়া তিনটি নোবেল স্বর্ণপদকই তিনি দান করে দেন।

যুদ্ধশেষে আবার ইনস্টিটিউটের গবেষণাকাজে ফিরে এলেন মেরি। কিন্তু শরীর ভেঙে পড়ছে তেজষ্ক্রিয়তার প্রভাবে। বড়মেয়ে আইরিন মায়ের ইনস্টিটিউটেই গবেষণা করতে শুরু করেছে। রেডিয়াম ইনস্টিটিউটে গবেষণা করার মত যথেষ্ট রেডিয়াম নেই। রেডিয়াম ইনস্টিটিউটে মোট রেডিয়াম আছে মাত্র এক গ্রাম। রেডিয়াম আবিষ্কারের স্বত্ব সংরক্ষণ করেননি পিয়ের ও মেরি। পিয়ের নিজেই রেডিয়াম সংগ্রহের পদ্ধতি জানিয়ে দিয়েছিলেন আমেরিকান ইঞ্জিনিয়ারদের। এখন সেই আমেরিকা বাণিজ্যিক পদ্ধতিতে রেডিয়াম সংগ্রহ করে ফেলেছে প্রায় পঞ্চাশ গ্রামেরও বেশি। ১৯২১ সালে প্রতি গ্রাম রেডিয়ামের বাজার দর ছিল এক লক্ষ ডলার।

১৯১৯ সালে আমেরিকার বিখ্যাত সাংবাদিক ও নারী আন্দোলনের নেত্রী মেসি মেলোনি ফ্রান্সে আসেন ইউরোপের প্রগতিশীল নারীর রোল-মডেল মেরি কুরির সাথে দেখা করার জন্য। রেডিয়াম ইনস্টিটিউটের প্রধান মাদাম কুরির অসাধারণ সাধারণত্বে মুগ্ধ হয়ে যান মেলোনি। তিনি মেরিকে আমেরিকা নিয়ে গিয়ে সংবর্ধনা দেয়ার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিলেন।

যে কুরিদের কল্যাণে আজ সারাবিশ্ব রেডিয়াম সংগ্রহ করে ব্যবহার করছে, উপার্জন করছে প্রচুর ডলার – সেখানে মেরির ইনস্টিটিউটে মাত্র এক গ্রাম রেডিয়াম থাকবে! মাদাম কুরিকে এক গ্রাম রেডিয়াম আমেরিকান জনগণের পক্ষ থেকে উপহার দেয়ার উদ্দেশ্যে ফান্ড সংগ্রহ করতে শুরু করলেন মেলোনি। ১৯২০ সালে মেলোনির ফান্ড রাইজিং কমিটি প্রয়োজনীয় এক লক্ষ ডলার সংগ্রহ করে ফেললো।

১৯২১ সালের মে মাসে আইরিন ও ইভকে সাথে নিয়ে আমেরিকা গেলেন মাদাম কুরি। বিপুল সংবর্ধনা দেয়া হলো মেরিকে। হোয়াইট হাউজের সংবর্ধনায় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ওয়ারেন হার্ডিং আমেরিকান জনগণের পক্ষ থেকে উপহার স্বরূপ এক গ্রাম রেডিয়াম তুলে দেন মাদাম কুরির হাতে।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হার্ডিং ও মেরি কুরি

আমেরিকান সংবর্ধনা নিয়ে দেশে ফেরার পর মেরি কুরিকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করার সাহস হয়নি আর কারো। নিরুপদ্রবে কাজ করেছেন পরবর্তী তেরো বছর। তাঁর গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে তৈরি হয়েছে শত শত গবেষক। তাঁর গবেষণাগারেই সৃষ্টি হয়েছে কৃত্রিম তেজষ্ক্রিয়তা, তাঁর মেয়ে আইরিন ও জামাতা ফ্রেডেরিক জুলিও-কুরির হাতে।

শরীরে অতিরিক্ত তেজষ্ক্রিয়তার প্রতিক্রিয়ায় শেষজীবনে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হন মেরি। রেডিয়াম জননী মেরি রেডিয়ামের কারণেই ক্যান্সারে আক্রান্ত হলেন। ১৯৩৪ সালের ৪ঠা জুলাই ছেষট্টি বছর বয়সে মৃত্যু হয় মেরি কুরির।

তাঁর শেষ ইচ্ছানুযায়ী তাঁর মৃতদেহ কফিনে ভরে কবর দেয়া হয় পিয়েরে কবরের ওপর। পোল্যান্ড থেকে কিছু মাটি নিয়ে এসেছিলেন ব্রোনিয়া। বোনের কবরের ওপর তিনি পরম মমতায় ছড়িয়ে দিলেন পোল্যান্ডের মাটি – যে মাটির টানে ফিরতে চেয়েছিলেন মেরি কিন্তু পিয়েরের ভালোবাসার টানে ফিরতে পারেননি। মৃত্যুর পর এভাবেই মেরি পোল্যান্ডের মাটি মেখে বিলীন হয়ে গেলেন পিয়েরের বুকের ওপর।

তথ্যসূত্র:
১। প্রদীপ দেব, মেনিয়া থেকে মাদাম কুরী: পীচব্লেন্ড থেকে রেডিয়াম, দৈনিক আজাদী, চট্টগ্রাম, ১৭ নভেম্বর ১৯৯৪।
২। প্রদীপ দেব, রেডিয়াম জননী মাদাম কুরী, দৈনিক পূর্বকোণ, চট্টগ্রাম, ১ সেপ্টেম্বর ১৯৯৪।
৩। শ্যামল চক্রবর্তী, মাদাম কুরি, অক্ষর পাবলিকেশন্‌স, ত্রিপুরা ২০০৮।
৪। পূরবী বসু, নোবেল বিজয়ী নারী গৃহে কর্মে সংগ্রামে, মাওলা ব্রাদার্স, ঢাকা ২০১১।
৫। Marie Curie, Pierre Curie, Dover Publications, New York, 1963.
৬। Susan Quinn, Marie Curie a life, Simon & Chuster, New York, 1995.
৭। Denis Brian, The Curies a biography of the most controversial family in science, John Wiley & Sons, New Jersey, 2005.
৮। Shelley Emling, The private lives of science’s first family Marie Curie and her daughters, Palgrave Macmillan, New York, 2012.
৯। Robert Reid, Marie Curie, Collins, London 1974.
১০। Eve Curie, Madame Curie, William Heinemann Ltd, London 1944.
১১। Francoise Giroud, Marie Curie a life, Holmes & Meier, New York, 1986.
১২। Rosalynd Pflaum, Grand Obsession Madame Curie and her world, Doubleday, New York, 1989.
১৩। Olga S. Opfell, The lady laureates women who have won the Nobel prize, 2nd Edition, The Scarecrow Press Inc., New Jersey, 1986.
১৪। Sharon Bertsch McGrayne, Nobel Prize Women in Science their lives, struggles, and momentous discoveries, 2nd edition, Joseph Henry Press, Washington D. C., 2001.

About the Author:

মন্তব্যসমূহ

  1. রনি রনউক জুন 11, 2014 at 4:16 অপরাহ্ন - Reply

    অসাধারণ একটা সিরিজ । শেষ করার আগ পর্যন্ত যেন শান্তি হচ্ছিল না 🙂 বিজ্ঞানীদের সাধারণ অসাধারণত্ব আর সমসাময়িক রক্ষণশীল/প্রতিক্রিয়াশীল সমাজের সাথে দ্বন্দ্বের মোটামুটি চিরাচরিত রূপটাই এখানেও বিদ্যমান 🙁

  2. দেবাশীষ দেব এপ্রিল 13, 2014 at 1:54 অপরাহ্ন - Reply

    দাদা, আপনার সবকটি বই অসাধারণ এবং সুপাঠ্য। পাঁচ পর্বের লেখা একসাথে পড়লাম। আমাদের দেশে সবাই চায় ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হতে। কিন্তু বিজ্ঞান এবং শুধুমাত্র বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করার উৎসাহ কম। এর কারণ বোধহয় আমরা বিজ্ঞানীদের জীবন নিয়ে তেমন পড়াশোনা করি না। তাদের কে দেবতার আসনে বসিয়ে রেখে পেটেভাতে চলতে চাই। আপনার লেখায় বিজ্ঞানীদের মানবিক দিকটা বেরিয়ে এসছে। এক কথায় অসাধারণ।

  3. রামগড়ুড়ের ছানা মার্চ 5, 2014 at 3:12 পূর্বাহ্ন - Reply

    এই সিরিজটা লেখার সময় কি কি বই পড়তে হয়েছে জানতে ইচ্ছা করছে। বরাবরের মতই ভালো লাগলে এবং বরাবরের মতোই পরবর্তী লেখার অপেক্ষায় থাকলাম।

    • প্রদীপ দেব মার্চ 7, 2014 at 11:43 পূর্বাহ্ন - Reply

      @রামগড়ুড়ের ছানা, বেশ কিছু বই পড়তে হয়েছে। ওগুলোর একটা তালিকা এই পর্বের শেষে দিয়েছি। মেরি কুরিকে নিয়ে একটা পূর্ণাঙ্গ রচনা তৈরির উচ্চাশা আছে। এই পর্বগুলোতে তাঁর সংগ্রামের শুধু সামান্য একটা দিক উঠে এসেছে। তাঁর বিজ্ঞান আরো বিস্তারিতভাবে জানা দরকার আমাদের। অনেক ধন্যবাদ সাথে থাকার জন্য।

  4. দেব প্রসাদ দেবু মার্চ 1, 2014 at 2:51 অপরাহ্ন - Reply

    অসাধারণ একটি সিরিজ ছিলো এটি। নিঃসন্দেহে ভয়াবহ পরিশ্রম করতে হয়েছে সিরিজটি তৈরি করতে। রেফারেন্স দেখেই বুঝা যাচ্ছে আপনি এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিশ্রম করছেন। অভিনন্দন আপনাকে। (F) (F) (F)

    • প্রদীপ দেব মার্চ 7, 2014 at 11:40 পূর্বাহ্ন - Reply

      @দেব প্রসাদ দেবু, অনেক ধন্যবাদ।

  5. নীল রোদ্দুর ফেব্রুয়ারী 28, 2014 at 11:43 পূর্বাহ্ন - Reply

    এমন অসাধারণ ভাবে মেরি কুরির গল্প বলে গেলেন, ভালো লেগেছে প্রতিটা পর্বই।

  6. মাহফুজ ফেব্রুয়ারী 28, 2014 at 9:57 পূর্বাহ্ন - Reply

    অবশেষে শেষ পর্বটিও পেয়ে গেলাম। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। এর পর নিশ্চয়ই অন্য কোন বিজ্ঞানী সম্পর্কে জানতে পারবো।

    • প্রদীপ দেব মার্চ 7, 2014 at 11:39 পূর্বাহ্ন - Reply

      @মাহফুজ, অনেক ধন্যবাদ আপনাকেও।

  7. বাবু ফেব্রুয়ারী 28, 2014 at 2:50 পূর্বাহ্ন - Reply

    ভাল লাগল। অনেক পরিশ্রম করা লেগেছে। এখন তাহলে আর একটা পর্ব আরম্ভ করুন।

    • প্রদীপ দেব মার্চ 7, 2014 at 11:38 পূর্বাহ্ন - Reply

      @বাবু, অনেক ধন্যবাদ। লেখাপড়ার ব্যাপারে ‘পরিশ্রম’ ব্যাপারটা ঠিক গায়ে লাগে না।

  8. এম এস নিলয় ফেব্রুয়ারী 27, 2014 at 10:56 অপরাহ্ন - Reply

    একটু একটু করে ৫ টি পর্ব শেষ হয়ে গেল 🙁
    এই পর্বে লেখা দেখলাম “শেষ পর্ব”।
    এখন কি আর করা; আপনার পরবর্তী লেখার অপেক্ষায় রইলাম 🙂

    লেখাটি ভালো ছিল। আপনাকে অভিনন্দন :clap

মন্তব্য করুন