এক ডজন বিজ্ঞান

By |2014-02-11T12:31:01+00:00ফেব্রুয়ারী 11, 2014|Categories: ব্লগাড্ডা|8 Comments

অতঃপর দেখা গেল, সাকুল্যে এ যাবত ১২খানি বই লিখিয়াছি – সকলই বিজ্ঞানের। যৌথ বা একক প্রয়াসে এই ডজনখানেক বিজ্ঞান বিরচিত হইল। দ্বাদশতম গ্রন্থখানির নাম দিয়াছি ‘থাকে শুধু অন্ধকার’; কেন লিখিলাম এই বই? কীভাবে লিখিলাম? শুন দিয়া মন-

প্রথমার অফিসে বিকেল-সন্ধ্যায় কোনো একদিন – জানুয়ারি ২০১৩ হবে। শ্রদ্ধেয় রাজিব নূর কথা প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলেন, “মানুষের ভবিষ্যৎ কী?” এককথায় কি আর উত্তর হয়? যদিও কিছু আংশিক উত্তর আমার অন্যান্য বইতে ছড়িয়ে ছিল। কিন্তু সেসব বইয়ে উত্তরের দিকে ইঙ্গিত আছে, খসড়া আছে, কিন্তু পূর্ণাঙ্গভাবে আলোচনা নেই। মনে হলো, নতুনতর তথ্য দিয়ে শূধু এই বিষয়েই একটা বই লেখা দরকার। এর কয়েকমাস পর প্রফেসর জামাল নজরুল ইসলাম মারা গেলেন। ফার ফিউচার সম্পর্কে তাঁর বইটি জগৎবিখ্যাত। পরিকল্পনাটি দৃঢ়ীভূত হইল – নিকট ও দূর ভবিষ্যত নিয়ে একটা বই লেখন জরুরি।

২০১৪ মেলায় আমার এই দ্বাদশ রচনাখানিই প্রথমে আসছে। নাম দেখে মনে হয়, কবিতা কিংবা উপন্যাসের বই। কিন্তু এটি একেবারেই বিজ্ঞানের বই – তা-ও আবার আমার অল-টাইম-ফেভারিট কসমোলজি নিয়ে। বইটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় মানুষের নিকট-ভবিষ্যতের মহাকাশ যাত্রার প্রস্তুতি ও সম্ভাবনাগুলো খতিয়ে দেখা, এবং সেই সাথে প্রযুক্তি সভ্যতার ব্যপারগুলোর ওপর একটা সাধারণ আলোচনা করা। এর পরই থাকছে দূর-ভবিষ্যতে মহাবিশ্বের পরিণতি নিয়ে আলোচনা। মানুষ সহ মহাবিশ্বে আর যেকোনো ধীমান সত্তার চূড়ান্ত পরিণতি নির্ভর করে মহাবিশ্বের গতি-প্রকৃতির উপর। তাই ‘শেষ মানে খোঁজা’ জাতীয় সকল প্রশ্নের আলোচনায় অবধারিত ভাবে আসে মহাবিশ্বের পরিণতি। মানুষের প্রাযুক্তিক কর্মকাণ্ড ও তার ক্রমবিকাশ থেকে নিকট-ভবিষ্যতে তার কী ধরনে পরিবর্তন হতে পারে সে সম্পর্কে আলোচনা করা যায়। কিন্তু দূর ভবিষ্যতে তার কেমন রূপ দেখা দিবে, তার প্রযুক্তি কোন স্তরে পৌছবে তা বলা একদমই অসম্ভব। তাই মানুষ সম্পর্কে নিকট-ভবিষ্যতের বেশি কিছু বলা যায় না। অন্যদিকে, মহাবিশ্বের ক্ষেত্রে তার চূড়ান্ত পরিণতি কেমন হবে তার অনেকখানিই নির্ভর করে তার শুরুর দশার উপর – তার মধ্যে কী পরিমাণ পদার্থ আছে, কী পরিমাণ ডার্ক এনার্জি আছে, ডার্ক ম্যাটারের পরিমাণ কত ইত্যাদির ওপর। কাজেই আমরা যদি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারি আর যদি আমাদের ভাল কিছু মডেল থাকে তাহলে আমরা বিশ্বের বর্তমান অবস্থার সাপেক্ষে ভবিষ্যতের একটা রূপরেখা দাঁড় করাতে পারি। এইসব পর্যবেক্ষণ থেকে আমরা সংক্ষেপে যা বলতে পারি তা হলো – আজ থেকে ১০০ বিলিয়ন বছর পর আমাদের গ্যালাক্সি আর অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি একত্রে মিলে একটা সুপারগ্যালাক্সি হবে, ধীরে ধীরে অন্যান্য গ্যালাক্সি আমাদের দৃষ্টির সীমার বাইরে চলে যাবে, ১০০ ট্রিলিয়ন বছর পর প্রায় সব তারাই নিভে আসবে। আর তখনই একজন ধীমান সত্তা কী করবে? জেবনানন্দকে স্মরি

থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার, বনলতা সেন

উপরে যা বললাম, আমার অন্য বইগুলিতে [ মহাকাশের কথা এবং অপূর্ব এই মহাবিশ্ব]

এই আলোচনাগুলো এসেছে স্বল্প পরিসরে। ইতোমধ্যে হাতে কিছু নতুন মেটেরিয়ালও যোগ হলো। ভাবলাম, এই বিষয়ে একটা স্বতন্ত্র বই থাকুক, And there was Light! এমনকি, এই বইয়ের শেষে আসিমভের চমৎকার একটী গল্পও থাকছে পাঠকের উপরিপাওনা হিসেবে। ওঁর ‘দ্য লাস্ট কোশ্চেন’ গল্পটা এই চূড়ান্ত পরিণতি নিয়েই, আর তাই ড. মল্লিকা ধরের অসাধারণ অনুবাদটি লেখিকার অনুমতি নিয়ে এখানে সংযোজিত হলো। আই হোপ, ইউ উইল লাইক ইট অল।

বইটি দিলাম দীর্ঘদিনের সুহৃদ কমরেড ফিরোজ আহমেদকে। বিজ্ঞান সম্পর্কে ওঁর আগ্রহ মৌলিক, আর বরাবরই যেমন হয়ে থাকে, তাঁর সাথে আমার সুতীব্র ঝগড়া হয়ই বন্ধুত্বকে গাঢ়তর করবার লক্ষ্যে। প্রচ্ছদটি করে দিয়েছেন প্রিয় হাজরা বংশীয় সভ্য শিল্পী ‘সব্য’।

থাকে শুধু অন্ধকার
পৃষ্ঠা ১২৮, মূল্য ১২০ টাকা
প্রচ্ছদ সব্যসাচী হাজরা
প্রকাশক – প্রকৃতি পরিচয় (পরিবেশক সংহতি, স্টল#১৩৭)

থাকে শুধু অন্ধকার

:hahahee:

ডক্টর ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী বিজ্ঞান লেখক। উল্লেখযোগ্য প্রকাশনা: 'সবার জন্য জ্যোতির্বিদ্যা' (যৌথ, তাম্রলিপি, ২০১২), 'দূর আকাশের হাতছানি' (যৌথ, শোভা, ২০১২), ‘অপূর্ব এই মহাবিশ্ব’ (যৌথ, প্রথমা,২০১১), ‘মহাকাশের কথা' (অনুপম,২০১১), ‘ন্যানো' (পড়ুয়া,২০১০), ‘অংকের হেঁয়ালি ও আমার মেজোকাকুর গল্প (সময়, ২০০৭), ‘জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞান পরিচিতি' (বাংলা একাডেমী, ২০০০) এবং ‘জ্যোতির্বিজ্ঞান শব্দকোষ' (বাংলা একাডেমী,১৯৯৮)।

মন্তব্যসমূহ

  1. হেলাল ফেব্রুয়ারী 16, 2014 at 6:37 পূর্বাহ্ন - Reply

    আপনার বইটা হাতে পেতে তো দেরি হবে , কিন্তু তার আগেই তো দিলেন মাথায় গিট্টু লাগিয়ে.
    1. দিন দিন তো গ্যালাক্সি গুলো একে অপরের কাছ থেকে দুরে সরে যায়. তাহলে এন্ড্রমিডা আর মিল্কিওয়ে মিলে একটা গ্যালাক্সি কিভাবে হবে?
    2. দুই গ্যালাক্সি মিলিত হবার সময় পৃথিবীর অবস্থান পরিবর্তন হবার কারণে তো প্রাণ ধারনের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাবার কথা. সে রকম কি কিছু হবে?
    ধন্যবাদ.

    • ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী জুলাই 14, 2014 at 1:35 অপরাহ্ন - Reply

      @হেলাল,
      ১/ মহাবিশ্বের প্রসারণ ঘটে অর্ধ-মিলিয়ন পারসেকের বাইরে। কাজেই লোকাল ক্লাস্টারের গ্যালাক্সিরা এই প্রসারণের আওতায় থাকে না, তারা স্থানীয় আকর্ষণ অনুভব করে। লোকাল ক্লাস্টারের মধ্যে থাকে লোকাল এট্রাকশন। এই আকর্ষণেই মিল্কি ওয়ে আর অ্যান্ড্রোমিডা পরস্পরের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে।
      ২/ ইন্টারেস্টিং প্রশ্ন, সরাসরি উত্তর নাই। হ্যা তেমনই হবার কথা, কিন্তু কি জানেন, গ্যালাক্সির নক্ষত্রেরা যেমন বেশ দূরে দূরে থাকে তাতে এমন সরাসরি ধাক্কা লাগবে কিনা মালুম হচ্ছে না। তবে প্রাণ ধরণের সমস্যা হবার কথা নয়, যদি সৌর পরিবার অক্ষুণ্ন থাকে। :-X

  2. তানভীরুল ইসলাম ফেব্রুয়ারী 12, 2014 at 12:12 অপরাহ্ন - Reply

    অভিনন্দ!
    আমি কিন্তু সত্যিই ভাবছিলাম কবিতার বই। জাফর স্যারও কবিতার বই লিখছেন কি না। মনে হচ্ছিলো এটাই বঝি একটা নতুন ট্রেন্ড বিজ্ঞানলেখকদের মাঝে।

    “ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী সমগ্রর” ভলিউম ১ বের করার সময় হয়েএল। :))

    • ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী ফেব্রুয়ারী 12, 2014 at 12:54 অপরাহ্ন - Reply

      @তানভীরুল ইসলাম,
      ভদ্রে, একটি গ্রন্থের উপ্রে যৎসামান্য লিখিতে অনুরোধাইয়াছিলাম, উহার কী দশা হইল? :-X

    • অভিজিৎ ফেব্রুয়ারী 13, 2014 at 12:57 পূর্বাহ্ন - Reply

      @তানভীরুল ইসলাম,

      “ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী সমগ্রর” ভলিউম ১ বের করার সময় হয়েএল।

      হ্যা তাই তো মনে হচ্ছে। যেই হারে বইয়ের উৎপাদন করতেসে ভাইজান ভয়ই পাইয়া গেছি। জিনের পুনরুৎপাদন থামায়া মিমের পুনরুৎপাদন করতাছেন। 🙂

      • ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী ফেব্রুয়ারী 13, 2014 at 12:03 অপরাহ্ন - Reply

        @অভিজিৎ,
        দাদা, ‘মিম’ নাকি ‘মীম’ – কুনডা চান, আমি তো দীর্ঘ-ইয়ের দিকে … :rotfl:

        • অভিজিৎ ফেব্রুয়ারী 13, 2014 at 9:09 অপরাহ্ন - Reply

          @ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী,

          দাদা, ‘মিম’ নাকি ‘মীম’ – কুনডা চান, আমি তো দীর্ঘ-ইয়ের দিকে

          সাত সকলালেই আপনের লুলামি দেখতে হইল। প্রোফাইলে আফার লগে ছবি দিয়া বিদ্যা সিনহা মীমের দিকে যাইবার চান, ঘটনা কি!

  3. আমি কোন অভ্যাগত নই ফেব্রুয়ারী 12, 2014 at 12:14 পূর্বাহ্ন - Reply

    কিনবো নেক্সট সপ্তাহে 🙂

মন্তব্য করুন