আলফ্রেড নোবেলের বিস্ফোরক ভালোবাসা – শেষার্ধ

[প্রথমার্ধ]

ক’দিন পরেই আলফ্রেডকে দরকারি কাজে প্যারিস থেকে যেতে হলো স্টকহোমে। বার্থা রয়ে গেলেন প্যারিসের হোটেলে। পরদিনই দুটো টেলিগ্রাম পেলেন বার্থা হোটেলের ঠিকানায়। একটা পাঠিয়েছেন আলফ্রেড – স্টকহোমে পৌঁছেছেন ঠিকমত। দ্বিতীয় টেলিগ্রামটা এসেছে আর্থারের কাছ থেকে। আর্থার লিখেছেন – “তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচতে পারবো না বার্থা।”

উথাল-পাথাল সুখে উদ্বেল হয়ে উঠলেন বার্থা। দ্রুত ব্যাগ গুছিয়ে নিলেন। আলফ্রেডের কাছে ক্ষমা চেয়ে একটা চিঠি লিখলেন। যেহেতু আলফ্রেডের চাকরিটি তিনি আর করছেন না, তাঁর মনে হলো হোটেলের বিলটা তাঁরই দিয়ে দেয়া উচিত। কিন্তু টাকা-পয়সা নেই তাঁর। পারিবারিকসূত্রে একটা হিরের পিন পেয়েছিলেন তিনি। সেটা বিক্রি করে হোটেলের বিলটা চুকিয়ে ট্রেনের টিকেট কেটে ফিরে গেলেন ভিয়েনায়। সেখানে আর্থার অপেক্ষা করছিলেন বার্থার জন্য। দু’জনে ভিয়েনা থেকে পালিয়ে চলে গেলেন ককেশাস (বর্তমান জর্জিয়া)। আর্থারকে বিয়ে করে বার্থা ফন কিনস্কি হলেন ব্যারোনেস বার্থা ফন শাটনার।

এদিকে স্টকহোম থেকে প্যারিসে ফিরে এসে বার্থার চিঠি পেয়ে খুব হতাশ হয়ে গেলেন আলফ্রেড। তাঁর মনে হলো কারো ভালোবাসা পাবার যোগ্যতা তার নেই। তিনি কি বার্থার যোগ্য ছিলেন না? ৪৩ বছর বয়স কি প্রেমের জন্য খুবই বেশি? তিনি কি বার্থার কাছে এমন কিছু চেয়ে বসেছিলেন যে বার্থা এভাবে চলে গেল? এতোবছর পর মনে যে প্রেম অনুভব করেছিলেন তা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে গেল এভাবে?

ক’দিন পর বার্থার চিঠি এলো ককেশাস থেকে। আর্থারকে বিয়ে করে তিনি সুখে আছেন। সুন্দর করে চিঠির উত্তর দেন আলফ্রেড। বার্থার সাথে সুন্দর একটা বন্ধুত্বের সম্পর্ক হয়ে যায় আলফ্রেডের। আমৃত্যু অটুট ছিল এ সম্পর্ক।

বিয়ের পর প্রায় আট বছর পর্যন্ত ককেশাসে ছিলেন আর্থার ও বার্থা। সেসময় বার্থা লিখতে শুরু করেন। গল্প উপন্যাস প্রকাশিত হতে থাকে তাঁর। যুদ্ধ এবং যুদ্ধাস্ত্রবিরোধী বই পড়তে পড়তে নিজেও যুদ্ধবিরোধী হয়ে গেছেন বার্থা। আট বছর পর আর্থারের মা তাঁদের সম্পর্ক মেনে নিলে তাঁরা ভিয়েনায় ফিরে আসেন। সেখান থেকে স্বামীকে সাথে নিয়ে প্যারিসে এসে দেখা করে যান বার্থা আলফ্রেড নোবেলের সাথে। বিয়ের পর সেই একবারই দেখা হয়েছিল বার্থার সাথে আলফ্রেডের। তবে পত্রযোগাযোগ ছিল আলফ্রেডের মৃত্যু পর্যন্ত।

১৮৭৬ সালে বার্থার হৃদয়ে জায়গা পেতে ব্যর্থ হয়ে আলফ্রেড মনে মনে বেশ জেদী হয়ে পড়েছিলেন। তাঁর হৃদয়ের দরজা জোর করে বন্ধ করতে চাইলেও কেমন যেন সব এলোমেলো হয়ে যাচ্ছিলো। সময় পেলেই তিনি ভিয়েনায় চলে যান, হেলথ রিসর্টে থাকেন। একটু অবসর পেলেই ঘুরে বেড়ান। একদিন এক ফুলের দোকানের সামনে দিয়ে যাবার সময় হঠাৎ থমকে দাঁড়ালেন আলফ্রেড। দোকানে কাজ করছে অষ্টাদশী এক অস্ট্রিয়ান সুন্দরী – মিষ্টি একটা মেয়ে। পায়ে পায়ে দোকানে ঢুকলেন আলফ্রেড। তাঁর চোখের মুগ্ধতা চোখ এড়ালো না মেয়েটির। আরো বেশি উচ্ছল হয়ে উঠলো সে। এগিয়ে এসে নানারকম ফুলের তোড়া দেখাতে লাগলো আলফ্রেডকে। আলফ্রেডের মনে হচ্ছে দোকানের সবগুলো ফুলের চেয়েও সুন্দর এই মেয়েটি। নোবেলের এতদিনের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সাথে সম্পূর্ণ বিপরীত তাঁর এই চিত্তচাঞ্চল্য।

মেয়েটি খুবই চঞ্চল, অনবরত কথা বলছে, বর্ণিল প্রজাপতির মত যেন উড়ে বেড়াচ্ছে দোকানজুড়ে। হঠাৎ একটা টিউলিপের কলি নিয়ে এসে আলফ্রেডের কোটে পরিয়ে দিলো। মেয়েটির সুন্দর আঙুল ছুঁয়ে গেল আলফ্রেডের কাঁধ, গলার একপাশ আর দাড়িতে। আলফ্রেড এতদিন সীমাহীন কাঠিন্যে এড়িয়ে চলেছেন এরকম সব কমনীয় স্পর্শ। কিন্তু এখন কেমন যেন মোহগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন তিনি। কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার নাম কী?”
“সোফি” আলফ্রেডের কানের কাছে মুখ নিয়ে অনেকটা ফিস ফিস করে বললো সোফি। আলফ্রেডের মনে হলো তার কানে চুমু খেলো মেয়েটি। কেমন যেন বিদ্যুৎ খেলে গেল তাঁর শরীর আর মনে।

সোফি হেস। দরিদ্র ঘরের মেয়ে সোফি জানে এইসব ধনী টাকার কুমিরেরা তাদের মত গরীব সুন্দরী মেয়েদের কী চোখে দেখেন। সোফি জানে কীভাবে তাদের চোখে পড়তে হয়। আলফ্রেড নোবেলের মত মানুষের সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্কে জড়ানোর মত কোন যোগ্যতাই নেই সোফির। অথচ আলফ্রেড সোফির প্রতি আকৃষ্ট হলেন। অদ্ভূত জটিল এই আকর্ষণ। তাঁর চেয়ে বয়সে তেইশ বছরের ছোট এই মেয়েটির প্রতি আদর মায়া-মমতা অনুভব করছেন তিনি। আবার একই সাথে মেয়েটির যৌবন তাঁকে টানছে। তিনি কামনা অনুভব করছেন। তাঁর চোখের দৃষ্টি বদলে যাচ্ছে। পুরুষের চোখের এ দৃষ্টি খুবই চেনা সোফি হেসের।

আলফ্রেডের এতদিনের সংযমের বাঁধ যেন হঠাৎ ভেসে গেলো। তিনি সোফির সাথে একটা সম্পর্ক গড়ে তুললেন – যে সম্পর্কের সামাজিক কোন স্বীকৃতি নেই। আবার নোবেলের মত ধনীদের জন্য এরকম সম্পর্কে তেমন কোন সামাজিক বাধাও নেই। কয়েক দিনের মধ্যেই আলফ্রেড ফুল কেনার মত করে ফুলের দোকানের কর্মচারী সোফি হেসকে একপ্রকার কিনেই নিলেন।

দামি পোশাক, গয়না, আর দামি বাড়ি পেয়ে সোফির জীবন-পদ্ধতি পাল্টে যেতে সময় লাগলো না। আলফ্রেড সোফির জন্য বাড়ি কিনলেন ভিয়েনাতে। অভিজাত বাংলো ভাড়া করলেন সুইডেনে। আলফ্রেড যখন সুইডেনে বা ভিয়েনায় যান সোফিকে জানিয়ে দেন। সোফি আগে থেকেই সেখানকার বাংলোয় বা বাড়িতে চলে যান। আলফ্রেড দাপ্তরিক কাজ সেরে চলে যান সোফির কাছে। সোফির লাইফস্টাইল দ্রুত বদলে যেতে থাকে। তাঁর অর্থনৈতিক চাহিদাও বাড়তে থাকে জ্যামিতিক হারে।

যদিও আলফ্রেড কখনোই সোফিকে নিয়ে সামাজিক কোন অনুষ্ঠানে যাননি, কারো সাথে সোফির পরিচয়ও করিয়ে দেননি – সোফির সাথে আলফ্রেডের সম্পর্কের কথা গোপন থাকলো না। নোবেল কোম্পানির প্রধান যে একজন রক্ষিতা রেখেছেন তা নিয়ে সামাজিক গুঞ্জন বাড়ছে। কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ে সমস্ত সামাজিক অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলতে লাগলেন আলফ্রেড। কাজের প্রয়োজনে সোফির কাছ থেকে দূরেই থাকতে হয় তাঁকে বেশিরভাগ সময়। কিন্তু প্রায় প্রতিদিনই তিনি চিঠি লিখেন সোফিকে। চিঠির ঠিকানায় লিখেন – ‘মিসেস নোবেল’ বা ‘মিসেস সোফি নোবেল’। তাঁর পক্ষ থেকে এটা হলো গুঞ্জন এড়াবার উপায়। কিন্তু সোফির কাছে এটা হলো তাঁর সামাজিক স্বীকৃতি। তিনি নিজেকে ‘মিসেস আলফ্রেড নোবেল’ বলে পরিচয় দিতে শুরু করলেন।

সোফির কথা রাশিয়ায় আলফ্রেডের বড়ভাই লুডভিগের কানেও গেছে। তিনি দেখলেন সোফির কারণে আলফ্রেড শুধু নয় পুরো নোবেল পরিবারেরই সামাজিক মর্যাদায় ধ্বস নামতে পারে। তিনি আলফ্রেডের অজান্তে সোফির সাথে দেখা করলেন। দেখলেন সোফির উচ্চাকাঙ্খা। সোফিকে তিনি কিছু টাকা-পয়সা দিয়ে আলফ্রেডের জীবন থেকে সরিয়ে দিতে চাইলেন। কিন্তু সোফি ততদিনে ভালো করেই জেনে গেছেন যে আলফ্রেডের সাথে থেকে তিনি একদিন পুরো নোবেল সাম্রাজ্যের মালিক হতে পারবেন। তাঁর শুধু দরকার আলফ্রেডের ভালোবাসার স্বীকৃতি।

লুডভিগ সোফির পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সম্পর্কে খবর নিলেন। সোফির আরো কয়েকটা বোন আছে – এবং তারাও সবাই সুন্দরী এবং সৌন্দর্যকে পুঁজি করে বাড়তে জানেন। লুডভিগ আলফ্রেডকে বোঝাতে চাইলেন যে সোফি এবং তার পরিবার আলফ্রেডকে ফাঁসাতে চাইবে। আলফ্রেড যদি কোনভাবে সোফিকে বিয়ে করে তাহলে ভীষণ বিপদে পড়বে। সোফির মত নিচুশ্রেণির মেয়েরা আলফ্রেডের মত মানুষের জীবনের অংশ হবার উপযুক্ত নয় কিছুতেই। আলফ্রেড এ ব্যাপারে কিছুই বললেন না তার বড়ভাইকে।

আলফ্রেড সোফিকে তাঁর মানসিক অবলম্বন ভাবতে চাইলেন। তিনি তাঁর কাজ, গবেষণা, কারখানা, ব্যবসা সবকিছু সম্পর্কেই সোফিকে বিস্তারিত লিখে জানান। কিন্তু সোফির সেসব প্রসঙ্গে কোন কিছু বলার মত যেটুকু পড়াশোনা দরকার বা বোঝার মত যেটুকু মানসিক ক্ষমতা দরকার তা নেই। কয়েক বছরের মধ্যেই আলফ্রেড বুঝতে পারলেন – কোথায় যেন ভুল হয়ে গেছে। শারীরিক উত্তেজনার একটা জোয়ার তার এসেছিল – কিন্তু তা চলে গেছে কয়েক বছরের মধ্যেই। সোফির লেখাপড়া খুবই সীমিত। একাধিক ভাষা জানা তো দূরের কথা, নিজের ভাষাতেও ঠিকমতো লিখতে পারে না।

আলফ্রেড প্রায় প্রতিদিনই চিঠি লেখেন সোফিকে, কিন্তু সোফি চিঠি লেখেন শুধুমাত্র টাকাপয়সার দরকার হলে। আলফ্রেড চান সোফি লেখাপড়া করে নিজেকে আলফ্রেডের যোগ্য করে গড়ে তুলবেন। কিন্তু সোফির সেরকম কোন ইচ্ছেই নেই। তিনি আলফ্রেডের টাকা-পয়সা ঘরবাড়ি যখন যা দরকার তা তো এমনিতেই পাচ্ছেন। সোফির খরচের নমুনা দেখলে বোঝা যায় তিনি কতটা বদলেছেন নিজেকে। আলফ্রেড নিজের হাতে তাঁর জমা-খরচের হিসেব রাখেন। সেখান থেকে দেখা যায় – যেখানে নোবেল নিজের জন্য একজোড়া হাতমোজা কিনছেন মাত্র ৩.৭৫ ফ্রাঙ্কে, সেখানে সোফির হ্যাটের দাম তিনশ’ ফ্রাঙ্ক। যেখানে নোবেল বেয়ারাকে টিপ্‌স দিচ্ছেন মাত্র ০.২৫ ফ্রাঙ্ক, সেখানে সোফির জন্য এক বোতল মদ কিনছেন ছয়শ’ ফ্রাঙ্ক দিয়ে।

আলফ্রেডের ব্যবসা আরো বাড়ছে। ১৮৭৯ সালে রাশিয়ায় আরেকটি কোম্পানি খুলে নাম দিয়েছেন ‘ব্রাদার্স নোবেল’ বা ব্রানোবেল। রাশিয়াতে বড়ভাই রবার্ট ও লুডভিগ তার দেখাশোনা করছেন। ১৮৮৪ সালে আবিষ্কার করেছেন ধোঁয়াহীন গানপাউডার – ব্যালিসাইট। ব্যাপক চাহিদা এই ব্যালিসাইটের। ১৮৮৬ সালে ফরাসী অংশীদার পল বার্বির সাথে মিলে নোবেল তাঁর সব ডায়নামাইট ফ্যাক্টরিকে একটা ট্রাস্টের অধীনে নিয়ে আসেন।

ব্যবসা যত বাড়ছে গন্ডগোলও দেখা দিচ্ছে তত। নানারকম ব্যবসায়িক মামলা-মোকদ্দমাও হচ্ছে। সোফিকে নিয়েও মনের ভেতর নানারকম দ্বন্দ্ব তৈরি হতে শুরু করেছে। আলফ্রেডের চিঠিতে বিরক্তি ঝরে পড়তে শুরু করেছে। সোফি নিজের শিক্ষা ও সংস্কৃতি উন্নত করার দিকে একটুও মনযোগ দিচ্ছে না তাতে ভীষণ বিরক্ত আলফ্রেড। তাঁর মনে হতে শুরু করেছে সোফি তাঁকে ভালোবাসেন না মোটেও, শুধু ভালবাসেন তাঁর টাকা-পয়সাকে। নোবেল এই সন্দেহও করতে শুরু করেছেন যে সোফি তাঁকে ফাঁকি দিয়ে অন্য পুরুষের সাথে সময় কাটাচ্ছেন। সোফি যখন চিঠিতে নোবেলকে ‘ডার্লিং’ বলে সম্বোধন করেন – নোবেলের মনে হয় এই ইংরেজি শব্দ ‘ডার্লিং’ – কোত্থেকে শিখল সোফি? চিঠিতে তিনি বেশ কর্কশ ভাষাতেই জানতে চান সোফির কাছে। অনেকটা সরাসরিই বলে ফেলেন যে সোফিকেই হয়তো কেউ ‘ডার্লিং’ বলে ডাকতে শুরু করেছে ভিয়েনার বাংলোতে।

আলফ্রেডকে মুগ্ধ করার জন্য একবার ফরাসী ভাষায় একটা টেলিগ্রাম করেন সোফি। টেলিগ্রাম পেয়ে খুশি হওয়াতো দূরের কথা, আলফ্রেড সন্দেহ করেন যে কোন ফরাসী যুবকের সাথে সোফির অন্তরঙ্গতা শুরু হয়েছে। তিনি চিঠিতে সরাসরি সোফিকে আক্রমণ করেন এ ব্যাপারে। সোফি পরের চিঠিতে ব্যাখ্যা করে বলেন যে যিনি টেলিগ্রামটি লিখেছিলেন তিনি পুরুষ ছিলেন না। তিনি একজন বয়স্কা রমণী। কিন্তু আলফ্রেড বিশ্বাস করেন নি সোফির কথা।

আলফ্রেড তাঁর মনের কথাগুলো যখন কাউকে বলতে পারেন না তখন কাল্পনিক চরিত্রের আশ্রয় নিয়ে তাদের মুখে সংলাপগুলো বসিয়ে দেন। ‘নেমেসিস’ নামে একটি নাটক তিনি অনেকদিন থেকেই লিখছিলেন। সেখানে একটা সংলাপে তিনি সোফির উদ্দেশ্যে লেখেন, “ওরে মূঢ় মেয়ে, তুই ভাবছিস শুধুমাত্র যৌবনই সব? যুবাপুরুষই প্রেমের উপযুক্ত পাত্র? যুবক হৃদয় তো আবেগ দিয়ে চলে, বাস্তব প্রেমের কিছুই বোঝে না। বুদ্ধিমতী বাস্তববাদী মেয়েদের উচিত প্রৌঢ়দের ভালোবাসা। কারণ প্রৌঢ়রাই জানে সত্যিকারের ভালোবাসা কী।”

১৮৮০ সালে সোফিকে প্যারিসে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করলেন আলফ্রেড। অস্ট্রিয়া বা সুইডেনে সোফির সাথে এক বাড়িতে রাত কাটানো সম্ভব হলেও প্যারিসে সোফিকে নিজের বাড়িতে এনে তোলার সৎ সাহস বা ইচ্ছে নোবেলের নেই। তিনি এখনো একটা ক্লিন সামাজিক ইমেজ ধরে রাখতে চান। তাই সোফির জন্য একটা বাড়ি ভাড়া করলেন প্যারিসে নিজের বাড়ির কাছেই। একজন ফরাসি রাঁধুনি নিয়োগ করলেন সোফির জন্য। মনের ভেতর এখনো তাঁর ইচ্ছে – সোফি ফরাসি শিখবেন এই রাঁধুনির কাছে। আলফ্রেডের ইচ্ছে অনেকটা সেই জর্জ বার্নাড শ’র নাটক পিগম্যালিয়নের ফুলওয়ালী এলিজা ডুলিটলের মত সোফিও নিজেকে শিক্ষায়-দীক্ষায় নিজেকে একজন সম্ভ্রান্ত সমাজের নারীতে পরিণত করে নেবে। যদিও বার্নাড শ’র নাটকটা লেখা হয়েছে আরো অনেক বছর পরে ১৯১২ সালে। [বার্নাড শ’র নাটকটির ভিত্তিতে হলিউডে নির্মিত হয়েছে বিখ্যাত সিনেমা ‘মাই ফেয়ার লেডি’]।

সোফিকে প্যারিসের বাসায় অনেকটা গৃহবন্দী করে রাখলেন আলফ্রেড। দারোয়ানকে বলে রেখেছেন সোফির কাছে কারা কারা আসে যেন তাঁকে জানানো হয়। আর সোফিকে বলে দিয়েছেন নিজের বোনদের ছাড়া আর কারো সাথে দেখা করতে পারবেন না। সোফি নিজেকে মিসেস নোবেল বলে যে পরিচয় দেন তাও এখন আর পছন্দ হচ্ছে না নোবেলের। সোফি যতই বোঝাতে চান যে তাঁর জীবনে আলফ্রেড ছাড়া আর কোন পুরুষ নেই – আলফ্রেড ততই অবিশ্বাস করেন তাঁকে। আলফ্রেডের হীনমন্যতা থেকে জন্ম নেয় প্রচন্ড ঈর্ষা। সোফিকে তিনি সহ্যও করতে পারেন না, আবার ত্যাগও করতে পারেন না। প্যারিসের বাইরে কোথাও গেলে প্রায় প্রতিদিনই সোফির কাছে ফুল পাঠান, চিঠি লিখেন। শুরুতে কিছু ভালোবাসার কথাও থাকে। কিন্তু তারপরই শুরু হয়ে যায় রুঢ় সন্দেহের বাক্যবাণ।

এদিকে সোফিরও আর ভালো লাগছে না এই সোনার কারাগার। তাঁরও বয়স বাড়ছে। তিরিশ পেরিয়ে গেছেন ইতোমধ্যে। সেই আঠারো থেকে সম্পর্ক আলফ্রেডের সাথে। এত বছরেও তাঁদের সম্পর্কের কোনরূপ প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি নেই। আলফ্রেডের মনের নাগাল তিনি পাননি, অবশ্য চেষ্টাও করেন নি কখনো। আলফ্রেডের সাথে এখন আর কোন শারীরিক সম্পর্কও নেই। শুরুতে বিলাসী জীবনের যে স্বপ্ন ছিল সে স্বপ্নের রঙ বদলাতে শুরু করেছে। তিনি বুঝতে পারছেন শুধুমাত্র টাকা-পয়সা প্রাচুর্যই জীবনের সবকিছু নয়। যে জীবনের সত্যিকারের কোন পরিচয় নেই – সে জীবনের মূল্য কী? নিজের দুঃখের কথা তিনি আলফ্রেডকেও জানান – “আমি তো বিবাহিতও নই, অবিবাহিতও নই। আমার অবস্থানটা ঠিক কোথায়?”

ব্যারোনেস বার্থা ফন শাটনারের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ পত্রযোগাযোগ আছে নোবেলের। বার্থার চিঠি পেলে তিনি বার্থার সাথে সোফির তুলনা করে ভীষণ ঈর্ষায় ভোগেন। মনে হয় কেন তিনি বার্থার মত কাউকে পেলেন না জীবনে? আবার সোফির সাথে যেরকম অকপট হতে পারেন – বার্থার সাথে পারেন না। সেখানে ভদ্রতার মুখোশ পরে থাকতে হয়। একদিন বার্থা অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি লিখলেন নোবেলকে। চিঠি পড়ে বেশ অবাক হয়ে গেলেন আলফ্রেড। বিয়েতে নিমন্ত্রণ করেননি বলে কিছুটা ছদ্ম-অভিযোগও জানিয়েছেন বার্থা। বার্থা লিখেছেন তিনি ভিয়েনার এক ফুলের দোকানীর কাছে জানতে পেরেছেন যে সেই দোকান থেকে নিয়মিত ফুল পাঠানো হয় প্যারিসে মিসেস নোবেলের কাছে। মিসেস নোবেল ইন প্যারিস? আলফ্রেড নোবেল ছাড়া আর কোন নোবেল তো প্যারিসে থাকেন না। ভাবলেন বন্ধু আলফ্রেড তাঁকে না জানিয়েই বিয়ে করে ফেলেছেন।

আলফ্রেড বুঝতে পারলেন ভুলটা কোথায় হয়েছে। প্যারিসের কোন দোকান থেকে সোফির কাছে ফুল পাঠানো সম্ভব নয় আলফ্রেডের। কারণ প্যারিসে সবাই চেনে তাঁকে। তাই তিনি ভিয়েনা থেকে ফুল পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন সোফির কাছে। আর সোফিকে চিঠির ঠিকানায় ‘মিসেস নোবেল’ বলেই চালান তিনি। এখন বার্থার কাছে তো সোফির কথা বলা যায় না। যে আলফ্রেড নোবেল মনে করতেন যেকোন পরিস্থিতিতেই সত্যকথা বলা দরকার, তিনিই বার্থার কাছে অনেক ধানাই পানাই করে মিথ্যাকথা লিখলেন একঝুড়ি। জানালেন যে মিসেস নোবেলকে ফুল পাঠানো হয়েছে – তিনি তাঁর বড়ভাইয়ের স্ত্রী মিসেস লুডভিগ নোবেল।

১৮৮৮ সালে আলফ্রেডের বড়ভাই লুডভিগ নোবেল মারা যান। প্যারিসের সাংবাদিকেরা মনে করলেন বিখ্যাত আলফ্রেড নোবেলই মারা গেছেন। সংবাদপত্রে শিরোনাম হলো – “মৃত্যুর কারবারির মৃত্যু”। প্যারিসের প্রায় সবগুলো সংবাদপত্রই বিস্তারিতভাবে নোবেলের বিস্ফোরক ও অস্ত্র-ব্যবসার বিবরণ দিয়ে এভাবে সংবাদ রচনা করেছে যে পড়ার পরে আলফ্রেড নোবেল বুঝতে পারলেন তাঁর মৃত্যুর পর ঠিক কীরকমের প্রতিক্রিয়া হবে। তাঁর মনে হলো পুরো ইউরোপে যেন খুশির বান ডেকেছে তাঁর মৃত্যুতে। এত ঘৃণা করে তাঁকে মানুষ? তিনি বুঝতে পারলেন তাঁর এমন কিছু করা দরকার যাতে তাঁর মৃত্যুর পর মানুষ তাঁকে ‘মৃত্যুর কারবারি’ দানব হিসেবে মনে না রেখে অন্য কোন কাজের জন্য মনে রাখবে। তিনি তাঁর উইল নিয়ে ভাবতে শুরু করলেন।

পরের বছর ১৮৮৯ সালে বার্থা ফন শাটনারের যুদ্ধবিরোধী উপন্যাস ‘লে ডাউন ইওর আর্মস’ প্রকাশিত হলো। অনেকগুলো ভাষায় অনুদিত হয় এ উপন্যাস। এই বইয়ের মাধ্যমে বার্থাও জড়িয়ে পড়েন যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনে। আলফ্রেড নোবেলও বইটি পড়েন। তিনিও যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে, কিন্তু এরকম আন্দোলনের মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনায় পুরোপুরি বিশ্বাসী নন। তিনি বার্থাদের আন্দোলনে অর্থসাহায্য করেন – কিন্তু তার পরিমাণ তাঁর সামর্থ্যের তুলনায় খুবই নগণ্য। বার্থাকে এক চিঠিতে তিনি লেখেন, “আমার কারখানায় তৈরি মারণাস্ত্রই হয়তো একদিন পৃথিবীর সব যুদ্ধ থামিয়ে দেবে। আমি এমন মারণাস্ত্র তৈরি করতে চাই যা দিয়ে যুদ্ধ করে সব যুদ্ধ একদিন শেষ হয়ে যাবে – কারণ তখন যুদ্ধ করার মতো আর কেউ বেঁচে থাকবে না।” আলফ্রেড নোবেলের এই কথায় আর যাই হোক – যুদ্ধ বন্ধের জন্য তাঁর কারখানা বন্ধ করে দেয়ার কোন ইঙ্গিত ছিল না। মারণাস্ত্র তৈরি করাই যে উচিত নয় – তা তিনি উপলব্ধি করেননি কখনো। তাইতো তিনি ব্যবসা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৮৯৩ সালে ৬০ বছর বয়সে সুইডেনের বোফোর্স অস্ত্র কারখানা কিনে নেন। রেগনার সলম্যান নামে এক ইঞ্জিনিয়ারকে দায়িত্ব দেন তিনি এই অস্ত্র কারখানার তত্ত্বাবধান করার জন্য। এই রেগনার সলম্যানই ছিলেন নোবেলের মৃত্যুর পর তাঁর উইলের নির্বাহী ব্যবস্থাপক।

১৮৮৯ সালে আলফ্রেডের মা মারা যান। আলফ্রেড মানসিকভাবে একেবারেই একা হয়ে গেলেন। ফরাসি সরকারের সাথে তাঁর সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। কারণ তিনি ইতালিয়ান সরকারের সাথে তাঁর ধোঁয়াহীন গানপাউডার সরবরাহের জন্য চুক্তি করছেন। ফ্রান্সের সাথে ইতালির সম্পর্ক খারাপ। ফ্রান্সে বাস করে ইতালির কাছে গানপাউডার বিক্রি করা দেশদ্রোহিতার শামিল। কিন্তু আলফ্রেড যেখানে টাকা পাচ্ছেন সেখানেই বিক্রি করছেন। গান পাউডার কোথায় কার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে তা নিয়ে তাঁর কোনরকম মাথাব্যথা আছে বলে মনে হয় না। ১৮৯০ সালে ইতালিয়ান সরকারের সাথে তাঁর চুক্তি হওয়ার সাথে সাথেই ব্যবস্থা নিলেন ফ্রান্স সরকার। নোবেলের ফ্রান্সের ল্যাবোরেটরি বন্ধ করে দেয়া হলো। নোবেলকে যে কোন সময় রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে গ্রেফতার করা হতে পারে। নোবেল বুঝতে পারলেন ফ্রান্সে তাঁর দিন শেষ। তিনি দ্রুত ফ্রান্স থেকে সবকিছু গুটিয়ে ইতালিতে চলে গেলেন। ইতালির সান রেমোতে বাড়ি কিনলেন তিনি।

এদিকে তাঁর ফরাসি পার্টনার পল বার্বি আত্মহত্যা করেন। নোবেল জানতে পারেন যে পল নোবেলকে না জানিয়ে নিজের ইচ্ছেমতো নাইট্রোগ্লিসারিনের ব্যবসা করছিলেন। অথচ নোবেল পল বার্বিকে বিশ্বাস করে তাঁর সবগুলো ডায়নামাইটের কারখানাকে একটা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় নিয়ে আসার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। একের পর এক ধাক্কায় খুবই তিতিবিরক্ত হয়ে উঠলেন আলফ্রেড নোবেল।

প্যারিস থেকে ইতালিতে চলে যাবার অনেক আগেই সোফিকে ভিয়েনার ভিলায় পাঠিয়ে দিয়েছিলেন আলফ্রেড। অনেকদিন পর প্যারিসের বাড়ি নামক কারাগার থেকে ভিয়েনায় ফিরতে পেরে নিজেকে খুবই স্বাধীন মনে করলেন সোফি। অস্ট্রিয়ান সেনাবাহিনীর একজন যুবক অফিসারের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলো সোফির। কিন্তু তা নোবেলকে জানাতে চান না তিনি। কারণ নোবেল তা জানতে পারলে সোফির সব যাবে। সোফির ভালোবাসা যেমন দরকার – তেমনি ভালো বাড়ি, গাড়ি প্রাচুর্যও দরকার। অস্ট্রিয়ান যুবক ভালোবাসা দিতে পারছে – কিন্তু তার সম্পদ নেই তেমন। সুতরাং নোবেলকে ছাড়া চলবে না সোফির।

কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই একটা সমস্যা হয়ে গেলো। সোফি গর্ভবতী হয়ে পড়লেন। তিনি চিঠি লিখলেন নোবেলকে। লিখলেন “এই সন্তান ঠিক তোমার মতই হবে।” আলফ্রেড বুঝতে পারেন না – যে সন্তান তাঁর নয় সে কীভাবে তাঁর মত হবে? নিজের এতদিনের সন্দেহ এভাবেই সত্যি হয়েছে দেখে আলফ্রেড যেন কিছুটা হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেন। সোফির সাথে সব সম্পর্ক ত্যাগ করতে চাচ্ছিলেন অনেক বছর থেকে। কিন্তু কিছুতেই পারছিলেন না। এবার আর নয়। সোফির সাথে সব সম্পর্ক শেষ বলে জানিয়ে দিলেন আলফ্রেড। কিন্তু সোফি সহজে ছেড়ে দেবার পাত্রী নন। ভিয়েনায় যে বাড়িটি সোফির নামে কেনা হয়েছিল তা সোফিরই রইল। ভরণপোষণের জন্য প্রচুর টাকা নোবেলের কাছ থেকে আদায় করলেন তিনি।

১৮৯৫ সালে আলফ্রেড ব্রিটিশ আদালতে দায়ের করা মামলায় হেরে যান। তাঁর ধোঁয়াহীন গানপাউডারের ব্রিটিশ রাইট চলে যায়। তাঁর শরীর দ্রুত খারাপ হচ্ছে। তিনি বুঝতে পারছেন তাঁর মৃত্যু আসন্ন। অনুশোচনা হচ্ছে সারাজীবন এত ধনসম্পদ অর্জন করেছেন বিস্ফোরক আর গোলাবারুদ আবিষ্কার ও বিক্রি করে। তাঁর তৈরি মাইন আর ডায়নামাইটে কত শত মানুষ প্রাণ দিয়েছে যুদ্ধের নামে। ভবিষ্যতে আরো কত যুদ্ধ যে হবে। বিশ্বশান্তির জন্য তাঁর কিছু করা দরকার। বিজ্ঞানের উন্নতির জন্য তাঁর কিছু করা দরকার। সারাজীবন রোগে ভুগেছেন – চিকিৎসার উন্নতির জন্য কিছু করা দরকার। আর সাহিত্য তাঁর মনের খোরাক। সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা না জানালে কীভাবে হয়? তিনি উইল তৈরি করলেন। কোন উকিলের সাহায্য ছাড়াই উইল তৈরি করলেন। স্বাক্ষর করে রেখে দিলেন নিজের কাজের ডেস্কে।

১৮৯৬ সালের ১০ ডিসেম্বর ইতালির সান রেমোতে ৬৩ বছর বয়সে মারা যান আলফ্রেড নোবেল। মৃত্যুর পর তাঁর উইলে দেখা যায় তাঁর সম্পদের প্রায় চুরানব্বই শতাংশ দিয়ে গেছেন নোবেল ফাউন্ডেশান গড়ার জন্য। যার আর্থিক মূল্য সেইসময় ছিল ৩১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনার – যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬৫ মিলিয়ন ডলারে। নোবেল ফাউন্ডেশানের দায়িত্বও লেখা আছে উইলে। প্রতিবছর চিকিৎসাবিজ্ঞান অথবা শারীরতত্ত্ব, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য ও শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার দেয়া হবে প্রতিটি ক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান যাঁরা রাখবেন তাঁদেরকে। উইল কার্যকর করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে নোবেলের বোফোর্স অস্ত্রকারখানার ব্যবস্থাপক ইঞ্জিনিয়ার রাগনার সোহল্‌ম্যানকে।

নোবেল ফাউন্ডেশান গঠিত হলো। ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরষ্কার চালু হলো। নোবেল ফাউন্ডেশান সোফি হেসের কাছ থেকে অনেক টাকার বিনিময়ে নোবেলের লেখা চিঠিগুলো কিনে নিল। তারপরেও যেন নোবেলের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে কোনরকমের সমস্যা তৈরি না হতে পারে – সোফির সব চিঠি ১৯৫০ সাল পর্যন্ত গোপন করে রাখা হয়েছিল নোবেল ফাউন্ডেশানের আর্কাইভে। নোবেলের বন্ধু বার্থা ফন শাটনার নোবেল শান্তি পুরষ্কার পেয়েছিলেন ১৯০৫ সালে।

নোবেল পুরষ্কার চালু হবার পর কেটে গেছে একশ’ বছরেরও বেশি। এই একশ’ বছরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নোবেল পুরষ্কারের চেয়েও বেশি অর্থমূল্যের আরো অনেক পুরষ্কার চালু হয়েছে পৃথিবীতে, কিন্তু মর্যাদার দিক থেকে নোবেল পুরষ্কারকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি এখনো আর কোন পুরষ্কার। নোবেল পুরষ্কার এখন শুধু ব্যক্তিগত নয়, অনেক দেশের রাষ্ট্রীয় মর্যাদারও প্রতীক। আলফ্রেড নোবেলকে কেউ আর ‘মৃত্যুর কারবারি’ মনে করেন না। যে নোবেল নিজেকে ভালোবাসার অযোগ্য মনে করতেন – নোবেল পুরষ্কারের মধ্য দিয়ে তিনি সবার ভালোবাসা পেয়েই চলেছেন। ব্যক্তিগত ভালোবাসার চেয়ে এই ভালোবাসার মূল্য কি কোন অংশে কম?

__________
তথ্যসূত্র:
১। Irwin Abrams, Alfred Nobel, Bertha von Suttner and the Nobel peace prize, Scanorama, Vol 23 (11), 1993.
২। www.nobel.se
৩। পূরবী বসু, নোবেল বিজয়ী নারী গৃহে কর্মে সংগ্রামে, মাওলা ব্রাদার্স, ঢাকা, ২০১১।
৪। Kenne Fant, Alfred Nobel: A Biography, Arcade Publishing, London, 2006.

About the Author:

মন্তব্যসমূহ

  1. আদিল মাহমুদ ডিসেম্বর 10, 2013 at 12:22 পূর্বাহ্ন - Reply

    নোবেল সাহেব তো দেখি সুগার ড্যাডি কেইসঃ)। বেচারার সোশাল স্কিল আসলেই মনে হয় অতি নিম্নমানের ছিল।

    ভদ্রলোক মৃত্যুর আগে সম্পত্তির বাটোয়ারায় যা করে যেতে পেরেছিলেন তার জন্যই তিনি চির অমর থাকবেন।

    • প্রদীপ দেব ডিসেম্বর 10, 2013 at 6:13 অপরাহ্ন - Reply

      @আদিল মাহমুদ, নোবেল সাহেব আসলেই অসামাজিক ছিলেন। প্রচুর টাকা ছিল বলে বেঁচে গেছেন। অবশ্য তাঁর উইল নিয়েও পরে অনেক ঝামেলা হয়েছিল ভাইয়ের ছেলেদের সাথে।

  2. রঞ্জন বর্মন ডিসেম্বর 9, 2013 at 10:14 পূর্বাহ্ন - Reply

    নোবেলের বন্ধু বার্থা ফন শাটনার নোবেল শান্তি পুরষ্কার পেয়েছিলেন ১৯০৫ সালে

    পুরুষ্কার পেয়ে বার্থার কেমন লাগলো, এই অনুভূতিটা থাকলে আরেকটু ভাল লাগতো, মনে হচ্ছে।

    সব কিছু মিলিয়ে বেশ ভালই লেগেছে। অনেক ধন্যবাদ লেখককে।

  3. arbachin ডিসেম্বর 8, 2013 at 6:55 অপরাহ্ন - Reply

    দাদা, লেখা শেখানোর ইশকুল খুললে আমারেও ভর্তি কইরেন! :guru:

    • প্রদীপ দেব ডিসেম্বর 10, 2013 at 6:11 অপরাহ্ন - Reply

      @arbachin, আপনিও লজ্জা দিতে শুরু করেছেন!

  4. ফরিদ আহমেদ ডিসেম্বর 8, 2013 at 12:59 পূর্বাহ্ন - Reply

    “ওরে মূঢ় মেয়ে, তুই ভাবছিস শুধুমাত্র যৌবনই সব? যুবাপুরুষই প্রেমের উপযুক্ত পাত্র? যুবক হৃদয় তো আবেগ দিয়ে চলে, বাস্তব প্রেমের কিছুই বোঝে না। বুদ্ধিমতী বাস্তববাদী মেয়েদের উচিত প্রৌঢ়দের ভালোবাসা। কারণ প্রৌঢ়রাই জানে সত্যিকারের ভালোবাসা কী।”

    হাহাহা। আমরা যারা চল্লিশ পার করে চালশে হয়ে গিয়েছি, তাদের আপ্তবাক্য হওয়া উচিত এটা। কোনো মেয়ে ভালবাসার কথা শুনতে না চাইলে, পাত্তা না দিলে, এই সংলাপ রাগি গলায় টেনে টেনে বলতে হবে। 🙂

    • প্রদীপ দেব ডিসেম্বর 10, 2013 at 6:09 অপরাহ্ন - Reply

      @ফরিদ ভাই, একমত। আমি যাত্রাপালার সংলাপের মতো প্র্যাকটিস করতে শুরু করেছি। 🙂

  5. অভিজিৎ ডিসেম্বর 7, 2013 at 11:50 অপরাহ্ন - Reply

    আপনি এমন সুন্দর আর সাবলীলভাবে লিখতে পারেন ক্যামনে কে জানে!

    আপনে লেখা শেখানোর ইস্কুল দিলে আমি প্রথম ছাত্র হিসেবে যোগ দিব!

    • প্রদীপ দেব ডিসেম্বর 10, 2013 at 6:07 অপরাহ্ন - Reply

      @অভিজিৎ, কেন যে লজ্জা দেন গুরু :-Y :-Y :-Y

  6. গীতা দাস ডিসেম্বর 7, 2013 at 9:35 অপরাহ্ন - Reply

    যদিও বার্নাড শ’র নাটকটা লেখা হয়েছে আরো অনেক বছর পরে ১৯১২ সালে। [বার্নাড শ’র নাটকটির ভিত্তিতে হলিউডে নির্মিত হয়েছে বিখ্যাত সিনেমা ‘মাই ফেয়ার লেডি’]।

    এ অংশটুকু প্রাসঙ্গিক লাগছে না।
    আর শেষ পর্যন্ত পড়তে খুবই ভাল লাগল।

মন্তব্য করুন