একটি অপার্থিব যুদ্ধের বিবরণ

By |2013-09-17T23:38:24+00:00সেপ্টেম্বর 17, 2013|Categories: আবৃত্তি, কবিতা|9 Comments

আজ হঠাৎ ঘোষনা করে দিলাম
নিয়তির সাথে যুদ্ধ,
নিয়তি তার ঢাল তলোয়ার সমেত এলেন
আমার বিস্তির্ণ রণময়দানে।
স্বাগতিক হিসেবে আমিই প্রথম তাকে জানালাম
আমার হাস্যময় অভিবাদন।
আড়চোখে তাকিয়ে দেখে নিলাম
বেশ শক্ত প্রতিপক্ষ আমার।
নিয়তির ভ্রু গেলো কুঁচকে এই দেখে যে
আমার হাতে নেই কোন ধাতব অস্ত্র,
বুকে নেই প্রতিরক্ষা বর্ম।
নগ্ন প্রতিপক্ষকে দেখে যেন
একটু করুনাই হলো নিয়তির।
তারপরও
প্রতিপক্ষ প্রতিপক্ষই।
গেরিলা আক্রমনের আশঙ্কায়
নিয়তি ঝাপিয়ে পড়লেন আমার উপর
আর ঢুকিয়ে দিলেন তার দুর্বার তলোয়ার
আমার বুকের মধ্য অক্ষ বরারব।
বেচারা থমকে গেলেন,
অবাক চেয়ে রইলেন আমার পানে;
কেননা
তখন তলোয়ারের ক্ষত থেকে ঝরছিল
অভিমানের মত অজস্র নীল অপরাজিতা।
ভ্রান্তি ভেবে এবার হেচকা টানে বের করতে গেলেন
তীক্ষাগ্র তরবারি।
আবারও অবাক করে দিয়ে
তরবারিটা কোমল রমনীর স্বরে
কেঁদে বললো,
আমি যাবনা।
নিয়তি চোঁয়াল শক্ত করে চুড়ান্ত হেঁচকা টানে
বের করে নিলেন
নির্মম তরবারিখানি।
আমি তখন স্মিত হাস্যমুখে কেবল
তাকিয়ে রইলাম নিয়তির দিকে।
নিয়তি গেলেন ক্ষেপে।
রাগে টগবগ করতে করতে
এবার হত্যাযন্ত্রটা চালালেন মগজের চূঁড়াস্থলে।
মগজের গহব্বর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে বেরিয়ে এলো
রঙফড়িংয়ের দল।
তাদের প্রত্যেকের চোখে এতো দ্রোহ ছিল যে
নিয়তি ঘাবড়ে দৌড় দিতে ধরলেন।
আমি তার পথরোধ করে বললাম,
আপনি যাবেন না।
এতটা দিন কেবল আমি
আপনার দাসের মত আপনার পায়ের কাছে
কুকুর হয়ে বসে ছিলাম।
আপনার স্বৈরতন্ত্র আমাকে
কেবল বানিয়েছে
এক অবহেলিত শব্দ শিল্পি।
জীবনের মত বৃহৎ এক শিল্পের
ছোঁয়া আপনি কখনই আমায় দেননি।
আজ আমি হারার জন্যই
নেমন্তন্ন করেছি আপনাকে
আমার এই জীর্ণ রণময়দানে।
হে সর্বশক্তিমান নিয়তি
আমাকে বিদ্ধ করুণ,
আমাকে বিক্ষত করুন
আপনার অপার অনাদি পরাক্রমশীলতায়।
আমার মস্তিস্ক কিংবা হৃৎযন্ত্র ভেদ করা
আপনার পক্ষে অসম্ভব।
কেননা ওখানে অজস্র শব্দেরা
নির্ঘুম পাহাড়ায়।
আপনি কেবল আমার অক্ষিযুগল
উপড়িয়ে ফেলুন
যে কেবল ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়েছে
জীবনের পানে,
আর আমার কর্ণকূহর আঘাতে
করে দিন স্তব্ধ,
যে কেবল নির্লজ্জের মত শ্রবণ করেছে
জীবনের কলকল ধ্বনি।
তবেই আমি পরাহত হবো
আপনার অব্যার্থ আঘাতে।

নিয়তি ঠোঁট নাড়লেন কেবল একটি বাক্যে,
কে তুমি হে ক্লান্ত প্রাণ?
আমি লজ্জায় অবনত হয়ে বললুম,
আমি কবি।

লেখকঃ প্লাবন ইমদাদ
প্রকাশিত গ্রন্থঃ শাঁখের করাত

About the Author:

মুক্তমনার অতিথি লেখকদের লেখা এই একাউন্ট থেকে পোস্ট করা হবে।

মন্তব্যসমূহ

  1. সুষুপ্ত পাঠক সেপ্টেম্বর 18, 2013 at 12:26 অপরাহ্ন - Reply

    মুক্তমনায় আপনার কয়েকটি কবিতা পড়েছি। প্রথমটি মনে আছে খুব ভাল লেগেছিল। পরের গুলি আমার কাছে মনে হয়েছে রূপক, বিমূর্ততা, তুলনা এগুলো একই রকম। যেমন মগজে, হৃদয়ে আঘাত এবং সেখান থেকে রূপকভাবে যে বণর্না দেয়া হয় তা কবিতাগুলোতে একইভাবে আসছে। বিষয়বস্তুও একই রকম। এই দিকটা খেয়াল রাখলে আপনি তো ভাল কবিতা লেখেনই! পরের কবিতার অপেক্ষায় রইলাম।

    • প্লাবন ইমদাদ সেপ্টেম্বর 18, 2013 at 8:03 অপরাহ্ন - Reply

      @সুষুপ্ত পাঠক, কেন যেন কিছুদিন যাবৎ দগদগে একটা অনুভুতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। বড় একঘেয়ে হয়ে উঠছে সব। ঠিক হয়ে যাবে আশাকরি। একটা ধাক্কা নিজেই নিজেকে দিতে হবে। চেষ্টা করছি। আপ্রাণ চেষ্ট।

      • সুষুপ্ত পাঠক সেপ্টেম্বর 19, 2013 at 9:09 পূর্বাহ্ন - Reply

        @প্লাবন ইমদাদ, অপেক্ষা করুন, কবিতাগুলোকে আসতে দিন, সময়ের আগে ওদের আনার চেষ্টা না করাই ভাল। ওরা আসবে কবিতার পথ ধরেই। অন্য পথ ধরে আসলে কবিতার সৌন্দর্য নষ্ট হয়। অযাযিতভাবে আপনাকে কিছু বলে ফেললাম। দুঃখিত।
        তাড়াহুড়ার কিছু নাই। আপনার দারুণ আরেকটি কবিতার অপেক্ষায় রইলাম।

        • প্লাবন ইমদাদ সেপ্টেম্বর 19, 2013 at 6:26 অপরাহ্ন - Reply

          @সুষুপ্ত পাঠক, অপেক্ষায় রইলাম আমিও….. অযাতিত (!) মন্তব্য যেন বন্ধ না হয়….

  2. কাজী রহমান সেপ্টেম্বর 18, 2013 at 8:51 পূর্বাহ্ন - Reply

    কেননা
    তখন তলোয়ারের ক্ষত থেকে ঝরছিল
    অভিমানের মত অজস্র নীল অপরাজিতা।

    …………আর

    মগজের গহব্বর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে বেরিয়ে এলো
    রঙফড়িংয়ের দল।

    ……….. ভয়ঙ্কর সুন্দর কবি, শব্দছবি দুটো অদ্ভূত ধারালো রঙিন (D)

  3. আকাশ মালিক সেপ্টেম্বর 18, 2013 at 5:12 পূর্বাহ্ন - Reply

    কবিতা খুব একটা বুঝিনা আর বানান ভুল হবে বলে লিখিওনা। তবে চলুক কবিতা শুদ্ধ বানানে, পড়তে পড়তে একদিন আমি বুঝতেও পারি- (Y) (F)

    • প্লাবন ইমদাদ সেপ্টেম্বর 18, 2013 at 8:05 অপরাহ্ন - Reply

      @আকাশ মালিক, বানান কি খুব বেশী ভুল হয়েছে? ঝেড়ে কাশলে ভাল হতোনা? মন্তব্যও যদি ইঙ্গিতময়, ব্যাঞ্জনাময়, কাব্যময় করে তোলেন তবে শোধরাব কি করে‌?

      • আকাশ মালিক সেপ্টেম্বর 19, 2013 at 6:25 পূর্বাহ্ন - Reply

        @প্লাবন ইমদাদ,

        বানান কি খুব বেশী ভুল হয়েছে?

        টাইপো বোধ হয়। শুনেছি মন্তব্যে বানান ভুল না করলে সোয়াব, করলে গোনাহ নাই। গল্পে ভুল করা মকরুহ, ছগিরা গোনাহ কিন্তু কবিতায় মকরুহে তাহরিমি, না জায়েজ একদম হারাম, কবিরা গোনাহ।

        আমি লিখলে শব্দগুলো কীভাবে লিখতাম সেটা বলি। এতে আমরা উভয়েই শুধরাবার সুযোগ পাবো, যদি কেউ ভুল করে থাকি।

        ঘোষনা > ঘোষণা করে দিলাম
        একটু করুনাই > করুণাই হলো নিয়তির
        তীক্ষাগ্র >তীক্ষ্ণাগ্র তরবারি
        এক অবহেলিত শব্দ শিল্পি > শব্দশিল্পী
        আমাকে বিদ্ধ করুণ > করুন
        আমার মস্তিস্ক কিংবা হৃৎযন্ত্র > হৃদযন্ত্র ভেদ করা
        অজস্র শব্দেরা নির্ঘুম পাহাড়ায় > পাহারায়
        আপনার অব্যার্থ > অব্যর্থ আঘাতে

        • প্লাবন ইমদাদ সেপ্টেম্বর 19, 2013 at 6:24 অপরাহ্ন - Reply

          @আকাশ মালিক, অসংখ্য ধন্যবাদ…. কথা দিচ্ছি সামনের দিন যথাসম্ভব শুদ্ধ লেখার চেষ্টা করবো… আবারও ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন