দ্য থিওরি অব এভ্রিথিং-স্টিফেন হকিং

লেখাটি পরীক্ষামূলক।

ভূমিকা

এই ভাষণ সিরিজের মাধ্যমে মহাবিশ্বের শুরু থেকে কৃষ্ণগহ্বর পর্যন্ত একটা ধারণা দেয়ার চেষ্টা করব। প্রথম ভাষণটিতে আমি মহাবিশ্ব সম্পর্কে পূর্বের ধারণাগুলো এবং কিভাবে আমরা মহাবিশ্ব সম্পর্কে বর্তমান ধারণা পেয়েছি তা নিয়ে আলোচনা করব।

দ্বিতীয় ভাষণে নিউটন এবং আইনস্টাইন,উভয়ের মাধ্যাকর্ষণ তত্ত্ব ব্যবহার করে আমি দেখাতে চাইব যে, মহাবিশ্ব স্থির না; এটি হয় প্রসারিত অথবা সঙ্কুচিত হচ্ছে। এ ধারণা প্রমাণ করে যে, ১০ থেকে ২০ বিলিয়ন বছরের মধ্যে কোন একটা সময়ে মহাবিশ্বের ঘনত্ব অসীম ছিল,যা বিগব্যাং নামে পরিচিত। যাকে মহাবিশ্বের সূচনা বলা হয়।

তৃতীয় ভাষণে আমি কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে আলোচনা করব। যখন কোন বিশাল নক্ষত্র অথবা মহাজাগতিক বস্তু নিজের মাধ্যাকর্ষণের টানে আকৃষ্ট হয়ে নিজেরই উপর ভেঙে পড়ে তখন তা কৃষ্ণগহ্বর সৃষ্টি করে। আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্ব মতে, কোন বোকা যদি কৃষ্ণগহ্বরে পড়ে যায় তবে সে চিরতরে হারিয়ে যাবে। তার পক্ষে সেখান থেকে ফেরা কখনই সম্ভব না। ফলে ইতিহাসের একটি কষ্টদায়ক সমাপ্তি ঘটে অদ্বৈত-বিন্দু বা সিঙ্গুলারিটি পয়েন্টে। আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্ব একটি গ্রহণযোগ্য তত্ত্ব হওয়া সত্যেও এটি কোয়ান্টাম মেকানিক্সের অনিশ্চয়তার নীতিকে সমর্থন করে না।

চতুর্থ ভাষণে আমি কৃষ্ণগহ্বর থেকে শক্তির বিকিরণ কিভাবে কোয়ান্টাম মেকানিক্সের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করব। কৃষ্ণগহ্বরকে সাধারণত কালো বলে ধরে নেয়া হলেও তা যে আসলে কালো নয় তা-ও এখানে আলোচনা করব।

পঞ্চম ভাষণে আমি কোয়ান্টাম মেকানিক্স থেকে প্রাপ্ত ধারণাগুলোকে বিগব্যাং এবং মহাবিশ্বের উৎপত্তি ব্যাখ্যায় ব্যবহার করব। এর ফলে, স্থান-কালের সীমা সসীম কিন্তু তা সীমানা অথবা কোণবিহীন-এই ধারণার বিকাশ ঘটবে। এই ধারণাটাকে পৃথিবীপৃষ্ঠের সাথে তুলনা করা যায় কিন্তু এতে পৃথিবীপৃষ্ঠ অপেক্ষা দুটি মাত্রা বেশী আছে।

পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রগুলো সময়-প্রতিসম হওয়ার পরও কিভাবে এই সীমা-প্রস্তাব(Boundary proposal) ‘কেন অতীত থেকে ভবিষ্যৎ এত আলাদা’ ব্যাখ্যা করে-ষষ্ঠ ভাষণে আমি তা আলোচনার চেষ্টা করব।

পরিশেষে সপ্তম ভাষণে আমি আলোচনা করব কিভাবে আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ তত্ত্ব(Unified Theory) পেতে পারি যা কোয়ান্টাম মেকানিক্স,মাধ্যাকর্ষণ এবং পদার্থবিজ্ঞানের অন্য তত্ত্বগুলোর সমন্বয় করবে। তত্ত্বটি পেলে আমরা মহাবিশ্ব এবং এতে আমাদের অবস্থান বুঝতে পারব।

প্রথম ভাষণ
মহাবিশ্ব বিষয়ক ধারণাগুলো

অনেকদিন আগে, ৩৪০ খৃষ্টপূর্বাব্দে এরিস্টটল On the Heavens নামক বইয়ে পৃথিবী থালার ন্যায় সমতল নয় বরং বলের ন্যায় গোল-এর স্বপক্ষে দুটি সুন্দর যুক্তির অবতারণা করেছিলেন। প্রথমত,তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে চন্দ্রগ্রহণের কারণ হচ্ছে পৃথিবীর সূর্য এবং চাঁদের মধ্যে অবস্থান। চাঁদের উপর পৃথিবীর ছায়াটা গোলাকার এবং যা একমাত্র তখনই সম্ভব যদি পৃথিবী গোলাকার হয়। যদি পৃথিবী চাকতির মত সমতল হত তবে চাঁদের উপর তার বিস্তৃত উপবৃত্তাকার ছায়া পড়ত যদি না চন্দ্রগ্রহণের সময় সূর্য চাকতির ন্যায় পৃথিবীর কেন্দ্রে সোজাসুজিভাবে বিকিরণ করত।

দ্বিতীয়ত,গ্রিকরা জানতো যে ধ্রুবতারা দক্ষিণাকাশে একটু নিচের দিকে থাকে। উত্তরগোলার্ধে এটিকে যতটা উপরের দিকে দেখা যায় দক্ষিণগোলার্ধে এটি ততই নিচের দিকে থাকে। মিশর এবং গ্রীসে ধ্রুবতারার সুস্পষ্ট অবস্থানের পার্থক্য হতে এরিস্টটল পৃথিবীর পরিধি পরিমাপ করেছিলেন ৪০০০ স্ট্যাডিয়া। এক স্ট্যাডিয়াম বলতে ঠিক কতটুকু দৈর্ঘ্য বুঝায় তা সঠিকভাবে জানা না গেলেও ধরে নেয়া হয় তা প্রায় ২০০গজের সমান। ফলে এরিস্টটলের পরিমাপলব্ধ পরিধি ছিল বর্তমান সর্বজনবিদিত পৃথিবীর পরিধির প্রায় দিগুণ।

গ্রিকদের পৃথিবী গোল হিসেবে ধরে নেয়ার পেছনে তৃতীয় আরেকটি যুক্তি হচ্ছে দিগন্তরেখায় প্রথমে জাহাজের পালকে দেখা যায় এবং পরবর্তীতে পুরো জাহাজকে। এরিস্টটল মনে করতেন,পৃথিবীকে কেন্দ্র করে সূর্য,চাঁদ,বাকি গ্রহ-নক্ষত্ররা বৃত্তাকার কক্ষপথে ঘুরছে। তিনি বিশ্বাস করতেন পৃথিবীই হচ্ছে মহাবিশ্বের কেন্দ্র এবং বৃত্তাকার গতিই সর্বোত্তম। তার এই ধারণার মূল কারণ ছিল তিনি ছিলেন মরমিবাদি।

প্রথম শতাব্দীতে টলেমীর হাত ধরে এরিস্টটলের এই ধারণাটি একটি পূর্ণাঙ্গ মহাজাগতিক প্রতিরূপে(model) পরিণত হয়। এই প্রতিরূপ অনুযায়ী,পৃথিবী মহাবিশ্বের কেন্দ্রে স্থান পায়। এছাড়া এর চারিদিকে আরও আটটি মন্ডল স্থান পায়। মণ্ডলগুলোতে রয়েছে-চাঁদ, সূর্য ,সে সময়কার জানা ৫টি গ্রহ- বুধ, শুক্র ,মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি এবং বাকি নক্ষত্ররা বাইরের মন্ডলে স্থান পেয়েছে। দৃশ্যমান আকাশে গ্রহগুলোর জটিল কক্ষপথ বুঝানোর জন্য গ্রহমন্ডলগুলোকে আবার নিজেদের মধ্যে ছোট বৃত্তাকার কক্ষপথে ঘূর্ণায়মান বলে ধরে নেয়া হয়েছে। সবচেয়ে বাহিরের মণ্ডলটি কথিত স্থির তারকাদের সমন্বয়ে গঠিত বলে ধরে নেয়া হয়। এরা একে অন্যের সাপেক্ষে স্থির কিন্তু এরা একই সাথে পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণায়মান।এই শেষ মন্ডলের নক্ষত্রগুলো সমন্ধে কিছু বলা হয় নি কেননা এগুলো মানব জাতির উপর খুব একটা প্রভাব বিস্তারকারী না।

টলেমীর প্রতিরূপ মহাজাগতিক বস্তুগুলোর অবস্থানের নিখুঁত বর্ণনা দেয়ার জন্য প্রথম সুস্পষ্ট কারণসম্মত প্রতিরূপ। কিন্তু নিখুঁতভাবে বস্তুগুলোর অবস্থান নির্ণয়ের জন্য টলেমীকে কিছু জিনিস ধরে নিতে হয়েছে যেমন-চাঁদ এমন একটি কক্ষপথ অনুসরণ করে যা তাকে অন্যান্য সময়ের তুলনায় দুইবার পৃথিবীর খুব কাছে নিয়ে আসে। ফলে স্বাভাবিকভাবে চাঁদকে যতটুকু দেখা যায় ঘুর্ণনের সময় দু’বার চাঁদকে একটু বড় দেখার কথা। তবুও তার প্রতিরূপটি সাধারণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়। শাস্ত্রমতে মহাবিশ্বের চিত্র ব্যাখ্যার জন্য চার্চ তার প্রতিরূপটি গ্রহণ করল। এটার সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে,বাইরের মণ্ডলটিতে স্বর্গ এবং নরকের জন্য জায়গা বাদ দিয়েও অন্যান্য নক্ষত্রগুলোর জন্য অনেক জায়গা বাকি থাকে।

১৫১৪ সালে পোলিশ ধর্মযাজক নিকোলাস কোপার্নিকাস এর থেকে সহজতর একটি প্রতিরূপের ধারণা দেন। প্রচলিত মতবাদের বিরুদ্ধ মতবাদ প্রচারের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ার ভয়ে প্রথমে তিনি বেনামে তার মতবাদ প্রচার করেন। তার তত্ত্বটি ছিল এরকম- সূর্য হচ্ছে সৌরজগতের কেন্দ্র এবং একে কেন্দ্র করে পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহগুলো বৃত্তাকার কক্ষপথে ঘুরছে। দুঃখজনকভাবে প্রায় এক শতাব্দী কেটে যায় কোপার্নিকাসের মতবাদের গুরুত্ব বুঝতে। জার্মান জ্যোতির্বিদ জোহানেস কেপলার এবং ইতালিয়ান জ্যোতির্বিদ গ্যালিলিও গ্যালিলাই প্রকাশ্যে কোপার্নিকাসের মতবাদকে সমর্থন করতে শুরু করেন। যদিও প্রতিরূপটি যে কক্ষপথের ধারণা দিয়েছিল তার সাথে পর্যবেক্ষণ মিলছিল না। ১৬০৯ সালে এরিস্টটল-টলেমীর প্রতিরূপের মৃত্যু হয় যখন গ্যালিলিও তার সদ্য আবিষ্কৃত টেলিস্কোপ দিয়ে আকাশ পর্যবেক্ষণ শুরু করেন।

বৃহস্পতি গ্রহের দিকে তাকিয়ে তিনি দেখতে পেলেন যে বৃহস্পতি শুধু একা না এর চারপাশে কিছু উপগ্রহ অথবা চাঁদ আবর্তন করছে। মহাজাগতিক বস্তুগুলোকে পৃথিবীর চারপাশে আবর্তন করতেই হবে বলে এরিস্টটল এবং টলেমী যে ধারণা করে গিয়েছিলেন তা ভুল, সকল বস্তুকে পৃথিবীর চারপাশে আবর্তন না করলেও চলে। তবে তা থেকে এটা তখনও বিশ্বাস করা সম্ভব ছিল না যে পৃথিবী হচ্ছে মহাবিশ্বের কেন্দ্র। কিন্তু বৃহস্পতির চাঁদগুলো এত জটিল কক্ষপথে পৃথিবীর চারিদিকে আবর্তন করছিল যে মনে হচ্ছিল তারা আসলে বৃহস্পতিকেই আবর্তন করছে। এক্ষেত্রে কোপার্নিকাসের মডেলটি ছিল অনেক সহজবোধ্য।

একই সময়ে কেপলার কোপার্নিকাসের তত্ত্বে কিছু পরিবর্তন আনলেন এবং সুপারিশ করলেন যে, গ্রহরা বৃত্তাকার পথে নয় উপবৃত্তাকার কক্ষপথে ঘূর্ণায়মান। অবশেষে এই ধারণাটা পর্যবেক্ষণের সাথে মিলে যায় ।কেপলার অবশ্য এই ভেবে উদ্বিগ্ন ছিলেন যে, এই ধারণাটা পূর্বালব্ধ কোন তত্ত্ব থেকে আসে নি। এছাড়া এটি বৃত্তাকার গতির মত নিখুঁত না হওয়ায় আপাতদৃষ্টিতে কেমন যেন বেমানান মনে হত। যাই হোক দুর্ঘটনাবশত পাওয়া এই উপবৃত্তাকার কক্ষপথ অবশেষে পর্যবেক্ষণের সাথে মিলে যায়। কিন্তু গ্রহগুলোর সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণনের কারণরূপে যে চৌম্বকবলের ভূমিকার কথা বলা হয় তা কেপলার মেনে নিতে পারেন নি।

গ্রহগুলোর উপবৃত্তাকার কক্ষপথে ঘূর্ণনের একটা ভাল ব্যাখ্যা পাওয়া যায় ১৬৮৭ সালে, যখন নিউটন তার Principia Mathematica Naturalis Causae প্রকাশ করেন। এই বইটিকে ধরা হয় পদার্থবিজ্ঞানের সর্বকালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে। বইটিতে নিউটন শুধু স্থান-কালের মধ্যে দিয়ে বস্তুর গতিবিধির তত্ত্বই দিলেন না,সে গতিবিধি ব্যাখ্যায় প্রয়োজনীয় গণিতও বিকশিত করলেন। উপরন্তু তিনি মহাজাগতিক আকর্ষণের একটা সূত্রও প্রদান করলেন। এ সূত্রমতে, মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুই পরস্পরকে একটি বল দ্বারা আকর্ষণ করছে যা বড় আকারের বস্তু এবং কাছাকাছি স্থানে থাকা বস্তুগুলোতে প্রবল পরিমাণে থাকে। এই বলটিই বস্তুর মাটিতে পতনের জন্য দায়ী। নিঃসন্দেহে নিউটনের মাথায় আপেল পতনের গল্পটি সন্দেহজনক। স্বয়ং নিউটনও কখনও বলেন নি যে মাধ্যাকর্ষণের ধারণাটা তার মাথায় এসেছে চিন্তামগ্ন থাকা অবস্থায় এবং যার উৎপত্তি হয়েছে আপেল পড়ার মধ্য দিয়ে।

এই বইয়ের মাধ্যমে নিউটন দেখাতে চেয়েছিলেন যে, পৃথিবীর চারিদিকে চাঁদের উপবৃত্তাকার কক্ষপথে আবর্তন এবং পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহের সূর্যের চারিদিকে আবর্তনের মূল কারণ হচ্ছে মাধ্যাকর্ষণ। ফলে কোপার্নিকাসের মডেলটি টলেমীর মহাজাগতিক মন্ডল এবং সসীম মহাবিশ্বের ধারণা থেকে মুক্ত হয়। যে নক্ষত্রগুলোকে স্থির বলে ধরে নেয়া হয়েছিল তারা আসলে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে না কারণ পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ধরে নেয়া যায় যে ‘স্থির নক্ষত্রগুলো’ আসলে দূরবর্তী সূর্যের ন্যায় বস্তু ছাড়া আর কিছুই না। এর ফলে একটি নতুন সমস্যার সুত্রপাত হয়। নিউটন তার মাধ্যাকর্ষণ সূত্র থেকে উপলব্ধি করতে পারলেন যে, নক্ষত্রদের পরস্পরকে আকর্ষণ করার কথা, তাই তাদের পক্ষে গতিহীন থাকা সম্ভব না। তবে কি তারা ভবিষ্যতের কোন এক সময় একই বিন্দুতে পড়ে যাবে?

১৬৯১ সালে সে সময়কার অন্যতম সেরা মনিষী রিচার্ড বেন্টলিকে দেয়া একটি চিঠিতে নিউটন যুক্তি দেখিয়েছিলেন যে, তারারা একই বিন্দুতে পড়বে তখনই যদি তারাদের সংখ্যা সসীম হয়। আবার তিনি আরেকটি যুক্তিতে দেখিয়েছিলেন যে, যদি তারাদের সংখ্যা অসীম হয় এবং তারা অসীম আয়তনের স্থানে সমানভাবে সাজানো থাকে তবে তারা একই বিন্দুতে পড়বে না কারণ অসীম স্থানে কোন কেন্দ্রবিন্দু নেই। অসীম নিয়ে আলোচনায় এটা একটি সুন্দর যুক্তির উদাহরণ।

অসীম মহাবিশ্বে প্রতিটি বিন্দুকেই তার কেন্দ্র বলে ধরে নেয়া যায় কারণ প্রতিটি বিন্দুর চারিদিকেই অসীম সংখ্যক তারা থাকে। এই ধারণাটা তখনই এসেছে যখন দেখা গেল যে সসীম মহাবিশ্বে তারাগুলো একে অন্যের উপর পড়তে পারে। এখন যদি আরও কিছু তারকা যোগ করে যদি সমভাবে বন্টন করা হয় তবে কি হবে? নিউটনের সূত্রমতে,অতিরিক্ত তারাগুলো পতন ঠেকাতে তো পারবেই না বরং পতনের গতিকে ত্বরান্বিত করবে। আমরা চাইলে যত খুশি তারা যোগ করতে পারি কিন্তু তারাগুলো একে অপরের উপর পড়তেই থাকবে। আমরা এখন জানি যে, মাধ্যাকর্ষণ ক্রিয়াশীল এমন অসীম স্থির মহাবিশ্বের প্রতিরূপ অসম্ভব।

মজার বিষয় হচ্ছে বিংশ শতাব্দীর পূর্বে মহাবিশ্ব সংকুচিত বা প্রসারিত হচ্ছে এরকম ধারণা আসে নি। মহাবিশ্ব সম্বন্ধে একটা সাধারণ ধারণা ছিল যে, এটি অসীম সময় ধরে স্থিরভাবে বিদ্যমান অথবা অসীম সংখ্যক সময়ের কোন একটা সময়ে একে সৃষ্টি করা হয়েছে। এ ধারণাটা বোধহয় মানুষের চিরসত্যে বিশ্বাসের প্রবনতা থেকে এসেছে। তারা এই ভেবে শান্তি পায় যে, তারা বুড়ো হয়ে মরে যাওয়ার পরও মহাবিশ্ব অপরিবর্তনীয় থাকবে।

এমনকি যারা নিউটনের মাধ্যাকর্ষণ সূত্র থেকে উপলব্ধি করতে পেরেছিল যে, মহাবিশ্ব স্থির থাকতে পারে না তারাও মহাবিশ্ব প্রসারিত হচ্ছে এ দাবী উত্থাপন করে নি। এর পরিবর্তে তারা এই বলে সূত্রটিকে পরিবর্তন করতে চেয়েছিল-মাধ্যাকর্ষণ শক্তি দূরের বস্তুগুলোর ক্ষেত্রে বিকর্ষণধর্মী। এই ধারণাটা অবশ্য গ্রহদের গতির ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করে না। কিন্তু এটি কাছের তারাগুলোর মধ্যকার আকর্ষণ বলকে দূরবর্তী স্থানের তারাগুলোর মধ্যকার বিকর্ষণ বল দ্বারা লাঘব করে অসীম স্থানে তারাদের ছড়িয়ে থাকাটা নিশ্চিত করে।

কিন্তু এখন আমরা জানি যে,এরকম সমতা কখনই স্থায়ী হতে পারে না। যদি তারাগুলোর মধ্যকার কোন একটি তারা যদি অপর একটি তারার যদি একটু কাছে এসে যায় তাহলে যে আকর্ষণ বলের সৃষ্টি হয় সেই আকর্ষণ বলকে আয়ত্তে আনার মত বিকর্ষণ বল থাকে না। এর মানে এটা দাঁড়ায় যে,তারাগুলো একে অন্যের উপর পড়তেই থাকবে। অপরদিকে,একটি তারকা যদি অন্য আরেকটি তারকা থেকে কিছুটা দূরে সরে যায় তবে বিকর্ষণ বল এক্ষেত্রে আধিপত্য লাভ করে এবং তারাগুলোকে ক্রমাগত দূরে সরিয়ে দিতে থাকে।

অসীম স্থির মহাবিশ্ব সম্বন্ধে আরেকটি আপত্তি তুলেন জার্মান দার্শনিক হেনরিখ ওলবার্স। আসলে ১৮২৩ সালে ওলবার্স প্রকাশত প্রবন্ধটিই একমাত্র প্রবন্ধ নয় যা নিউটনের সূত্রের ত্রুটি নিয়ে গ্রহণযোগ্য যুক্তি প্রদান করছিল। তবে এটি প্রথমবারের মত বিস্তৃতভাবে নিউটনের সূত্রের সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করে। অসীম স্থির মহাবিশ্বের সমস্যা হচ্ছে যে, দৃষ্টির শেষ সীমা সবসময় কোন না কোন তারার উপর গিয়ে পড়বে। ফলে রাতের আকাশও দিনের মত আলোয় উদ্ভাসিত হবে। ওলবার্স আবার পাল্টা যুক্তি দেখিয়েছিলেন যে, দূরবর্তী তারা থেকে আগত আলো মধ্যবর্তী পদার্থের দ্বারা শোষিত হতে পারে। কিন্তু যদি তা-ই হয় অন্তর্বর্তী পদার্থগুলো গরম হতে হতে এক সময় নক্ষত্রের মত উজ্জ্বলতা ছড়াবে।

রাতের আকাশ দিনের মতই উজ্জ্বল হবে এটা এড়ানোর একমাত্র উপায় হচ্ছে ধরে নেয়া যে, তারাগুলো চিরকাল জাজ্বল্যমান নয় কিন্তু অতীতের কোন একটা সময়ে এদের সৃষ্টি হয়েছে। সেক্ষেত্রে, মধ্যবর্তী আলো শোষণকারী বস্তুগুলো এখনও এতটা উষ্ণ হয় নি অথবা দূরবর্তী তারাগুলো থেকে আলো এখনও আমাদের কাছে আসে নি। এর ফলে আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে যে,এমন কি হয়েছিল যার ফলে তারারা জ্বলে উঠল?

মহাবিশ্বের সূচনা

অনেককাল আগে থেকেই মহাবিশ্বের উৎপত্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। ইহুদী/খৃস্টান/মুসলিম সৃষ্টিতত্ত্ব অনুযায়ী মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছে অনতিদূর অতীতে। মহাবিশ্বের একটা শুরু হওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ এই অনুভূতি থেকেই এ ধরনের ধারণার সূত্রপাত।

সেইন্ট অগাস্টিন তার The City of God বইটিতে আরেকটি যুক্তি সামনে নিয়ে আসেন। বইটিতে তিনি দেখাতে চাইলেন যে সভ্যতার উন্নতি হচ্ছে এবং কারা এর পেছনে কাজ করছে এবং কি কাজ করছে আমরা তা মনে রাখছি। এইভাবে মানুষ এবং হয়তোবা মহাবিশ্বও পরবর্তীতে একই রকম থাকবে না। অন্যকথায় বলা যায়, আমরা এখন যে অবস্থানে আছি পরবর্তীতে আমরা এর থেকেও বেশী উন্নতি করব।

সেইন্ট অগাস্টিন বাইবেলের সৃষ্টিতত্ত্ব ঘেটে মহাবিশ্ব সৃষ্টির তারিখ বের করেন ৫,০০০ খৃষ্টপূর্বাব্দের কোন একটা তারিখে। মজার বিষয় হচ্ছে ১০,০০০ খৃষ্টপূর্বাব্দের তুষারযুগের পর থেকেই মূলত সভ্যতার সূচনা ঘটে। এরিস্টটল এবং বেশিরভাগ গ্রিক দার্শনিকরা সৃষ্টিতত্ত্বে বিশ্বাস করতেন না কারণ এটা বেশি ঐশ্বরিক হস্তক্ষেপপূর্ণ। তারা বিশ্বাস করতেন মহাবিশ্ব এবং মানবজাতি অতীতেও ছিল ভবিষ্যতেও থাকবে। একটু আগে বলা পরিবর্তনশীল মহাবিশ্বের বিপক্ষে তাদের যুক্তি ছিল বন্যা এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ বারবার মানুষকে সভ্যতার শুরুতে ঠেলে দিবে।

যখন বেশিরভাগ মানুষই স্থির এবং অপরিবর্তনীয় মহাবিশ্বে বিশ্বাস করত তখন মহাবিশ্বের শুরু আছে কি নেই এই বিষয়টি অধিবিদ্যা বা ধর্মতত্ত্বের আলোচনার বিষয় ছিল। মহাবিশ্বের শুরুর প্রশ্নের উত্তর এ দুটি মতবাদ দিয়েই খুঁজতে হত।মহাবিশ্ব হয় চিরকাল থাকবে অথবা মহাবিশ্ব কিছু সময়ের জন্য উপস্থিত-এই পদ্ধতিতে দেখা যেত যে মহাবিশ্ব চিরকাল আছে এটাই ধরে নেয়া হত। কিন্তু ১৯২৯ সালে এডুইন হাবল দেখতে পেলেন যে, দূরবর্তী তারারা আমাদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে,যা এক বৈপ্লবিক পর্যবেক্ষণ। অন্যকথায়, মহাবিশ্ব প্রসারিত হচ্ছে। এর মানে হচ্ছে অতীতের কোন একটা সময়ে মহাজাগতিক বস্তুগুলো কাছাকাছি ছিল। আসলে এ পর্যবেক্ষণ এটা বলে দেয় দশ থেকে বিশ বিলিয়ন বছর পূর্বে সকল মহাজাগতিক বস্তুগুলোই একই স্থানে ছিল।

এই আবিস্কার প্রথমবারের মত বৈজ্ঞানিকভাবে মহাবিশ্বের শুরুর ব্যাখ্যা করে। হাবলের পর্যবেক্ষণ মতে, বিগব্যাং নামক সময়ে মহাবিশ্ব অত্যধিক(অসীমের কাছাকাছি) ছোট এবং অসীম ঘনত্বের ছিল। যদি এর পূর্ববর্তী কোন ঘটনা থেকেও থাকে তবে ঐ ঘটনাসমূহ বর্তমানকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখে না। ঐ ঘটনাসমূহকে উপেক্ষা করা যায় কারণ তাদের পর্যবেক্ষণীয় গুরুত্ব নেই।

সাধারণভাবে বিগব্যাং-এর পূর্ববর্তী সময় অসঙ্গায়িত হওয়ায় সময়ের শুরু বিগব্যাং-এ এটা ধরে নেয়া হয়। তবে এটা জোর দিয়ে বলা যায় যে, সময়ের শুরু ব্যাপারটা পূর্ববর্তী ধারণাগুলো থেকে আলাদা। অপরিবর্তনীয় মহাবিশ্বে সময়ের শুরু ব্যাপারটা অনেকটা যা মহাবিশ্বে নেই তাকে জোর করে মহাবিশ্বে প্রবেশ করানোর মত। সময়ের শুরুর বাস্তবিক কোন প্রয়োজনীয়তাই স্থির মহাবিশ্বে নেই। এক্ষেত্রে কল্পনা করে নেয়া যেতে পারে যে, ঈশ্বর অতীতের কোন একটা সময়ে মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন। অপরদিকে, যেহেতু মহাবিশ্ব প্রসারিত হচ্ছে সেহেতু নিশ্চয়ই কোন বস্তুগত কারণ রয়েছে মহাবিশ্বের এই শুরু হওয়ার পেছনে। যে কেউ এখনও কল্পনা করে নিতে পারে যে, ঈশ্বর বিগব্যাং এর মাধ্যমে মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন। এমন কি হতে পারে তিনি এমনভাবে বিগব্যাং পরবর্তী সময়ে তৈরি করেছেন যা দেখে মনে হতে পারে যে বিগব্যাং-এর মত কিছু একটা হয়েছিল। কিন্তু এটা অর্থহীন হবে যদি ধরে নেয়া হয় বিগব্যাং-এর পূর্বেই মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছিল। ক্রমপ্রসারিত মহাবিশ্ব ঈশ্বর ধারণাকে বাতিল করে না বরং কখন মহাবিশ্ব সৃষ্টি করতে হবে তা তাকে বলে দেয়।
(চলবে)

About the Author:

মুক্তমনা ব্লগার। শেষদিন পর্যন্ত পড়ে যেতে চাই...

মন্তব্যসমূহ

  1. এনাফিল্ড সেপ্টেম্বর 23, 2013 at 9:24 পূর্বাহ্ন - Reply

    অনেক জোস

  2. রিদম শাহারিয়ার জুলাই 31, 2013 at 2:04 অপরাহ্ন - Reply

    পরবর্তী লেখার অপেক্ষায় রইলাম।

  3. saif heat জুলাই 30, 2013 at 5:04 অপরাহ্ন - Reply

    বইটা (ইংলিশ) আগেই পড়েছি। অসাধারণ একটা বই! খুব ভাল লেগেছিলো! বিশেষ করে মহাবিশ্বের বুকে নক্ষত্র বা গ্রহের জন্ম (নেবুলা থেকে) হওয়ার ব্যাপারটা এক কথায় অসাধারণ! অনুবাদটা পরেও ভালই লাগছে! পরবর্তী অংশের জন্যে অপেক্ষায় থাকলাম!

  4. শেখর জুলাই 29, 2013 at 7:10 অপরাহ্ন - Reply

    আপনাকে ধন্যবাদ এমন একটি বই অনুবাদ করার জন্য। পরের পর্বগুলির জন্য সাগ্রহে অপেক্ষা করব।

  5. মহন জুলাই 28, 2013 at 7:45 অপরাহ্ন - Reply

    পরবর্তী লেখার অপেক্ষায় রইলাম।

  6. তারছিড়া বিদ্রোহী জুলাই 26, 2013 at 1:32 অপরাহ্ন - Reply

    আমি “কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস” পড়ছি। এটা পড়া হয় নি। শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ। পরবর্তি অংশের অপেক্ষায় থাকলাম।

  7. শেষ প্রশ্ন জুলাই 24, 2013 at 5:26 অপরাহ্ন - Reply

    অনুবাদ ভালো হচ্ছে কয়কটি প্রশ্ন ছিল, মহাবিশ্বের সৃষ্টির কারণ কি বিগব্যাঙ? নাকি বিগব্যাঙ একটি অবস্থার বিবর্তনের মাধ্যমে পরিবর্তন বুঝায় ?

    পরবর্তী লেখার অপেক্ষায় রইলাম

    • সুদীপ্ত শেল্ডন জুলাই 24, 2013 at 11:42 অপরাহ্ন - Reply

      @শেষ প্রশ্ন, ধন্যবাদ। যদি পরবর্তী পর্বগুলো পর্যন্ত ধৈর্য ধরতে পারেন তবে আশা করছি উত্তর পেয়ে যাবেন। 😛 স্বল্প পরিসরে মন্ত্যব্যের মাধ্যমে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেয়া বোধহয় সম্ভব না। :)) তবে আপনি চাইলে মুক্তমনায় জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে অন্যান্য লেখা পড়তে পারেন।

  8. আমি কোন অভ্যাগত নই জুলাই 24, 2013 at 11:13 পূর্বাহ্ন - Reply

    ভালো লেগেছে। বিষয়গুলো নিয়ে বিক্ষিপ্তভাবে আইডিয়া ছিল।এখানে সব এক সুতোয় গাঁথা পেয়ে অনেক উপকার হল।
    লেখকের কাছে কয়েকটা সাজেশন/অনুরোধ করতে চাইঃ
    ১)যেহেতু এটি ধারাবাহিক লেখা,সুতরাং প্রতি শিরোনামের সাথে ১,২,৩ এরকম নাম্বারিং করে দিলে পাঠক হিসেবে ফলো করতে সুবিধা হবে।
    ২) কিছু কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি ফ্যাক্ট উপস্থাপন করা হয়েছে(যেন ধরেই নেয়া হয়েছে এটা সকলেই জানে,কাজেই ব্যখ্যা করার দরকার নেই),আমার মত কম জানা পাঠকদের জন্য বিষয়টা তাই আরেকটু ব্যাখ্যা করে দিলে কিংবা সাপোর্টিং কোন ওয়েবসাইট বা লেখার লিঙ্ক সংযুক্ত করে দিলে জিনিসটা ভালো মত বুঝে নেয়া যেত।

    পরবর্তী লেখার অপেক্ষায় রইলাম।

    • সুদীপ্ত শেল্ডন জুলাই 24, 2013 at 11:36 অপরাহ্ন - Reply

      @আমি কোন অভ্যাগত নই, ১.যেহেতু এটি ধারাবাহিক লেখা,সুতরাং প্রতি শিরোনামের সাথে ১,২,৩ এরকম নাম্বারিং করে দিলে পাঠক হিসেবে ফলো করতে সুবিধা হবে।

      পরের পোস্টগুলোতে অবশ্যই নাম্বারিং করা হবে। এটা প্রথম অংশ তাই আর ১,২… দিলাম না।

      ২. কিছু কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি ফ্যাক্ট উপস্থাপন করা হয়েছে(যেন ধরেই নেয়া হয়েছে এটা সকলেই জানে,কাজেই ব্যখ্যা করার দরকার নেই),আমার মত কম জানা পাঠকদের জন্য বিষয়টা তাই আরেকটু ব্যাখ্যা করে দিলে কিংবা সাপোর্টিং কোন ওয়েবসাইট বা লেখার লিঙ্ক সংযুক্ত করে দিলে জিনিসটা ভালো মত বুঝে নেয়া যেত।

      লেখাটি হচ্ছে স্টিফেন হকিং এর লেখার অনুবাদ। যেহেতু এটা অনুলিখন না অনুবাদ তাই অনুবাদক হিসেবে মূল অর্থ ঠিক রাখাটা জরুরি। সাপোর্টিং কোন ওয়েবসাইটের লিংক মূল বইয়ে দেয়া নেই। তাই আমার পক্ষে এর বেশি কিছু করা সম্ভব না। আর বিষয়গুলো নিয়ে মুক্তমনায় অনেক লেখা আছে। আপনি জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগে গেলেই লেখাগুলো পেয়ে যাবেন।

  9. অমিত বান্ধব জুলাই 22, 2013 at 3:07 অপরাহ্ন - Reply

    দ্য থিওরি অব এভ্রিথিং-স্টিফেন হকিং
    বইটি একসাথে পড়া শুরু করেছিলাম সম্ভবত কিন্তু আমার আর শেষ করা হয়ে উঠেনি নানান ব্যস্ততায়।আশা করি অনুবাদ টি সকলের এবং আমার নিজেরও অনেক কাজে আসবে বইটি আরো সহজভাবে বুঝতে।শেলডনকে ধন্যবাদ।পরবর্তী পর্বগুলোর অপেক্ষা থাকলো।

    • সুদীপ্ত শেল্ডন জুলাই 24, 2013 at 12:30 পূর্বাহ্ন - Reply

      @অমিত বান্ধব, অর্ধেকের মত কাজ শেষ। আরও মডারেশনের পর পোস্ট দেয়া শুরু করব।

  10. রুদ্রাভ জুলাই 22, 2013 at 7:42 পূর্বাহ্ন - Reply

    অসাধারণ হয়েছে!! পরবর্তী অংশের অপেক্ষায় থাকলাম।

মন্তব্য করুন