রাজনৈতিক নেতা না অভিনেতা ? পর্ব-২

আগের পর্ব এখানে ঃ পর্ব -1
(৩)

রোমান সেনেট – ২০০ খৃঃ পূঃ থেকে চতুর্থ শতাব্দিঃ
রোমের শাসনকে গণতন্ত্র না বলে অলিয়ার্গকি বলা ভাল। কিছু মুষ্টিমেয় পরিবার জন্মসূত্রে সেনেটর হওয়ার অধিকার পেত। ১২৪ খৃঃপূঃ গ্রীস এবং ক্যাথ্রিজ রোমের হাতে পদানত হয় । রোম হয়ে ওঠে ভূমধ্য সাগরের একচ্ছত্র অধিপতি। ফলে রোমের রাজনীতি গোটা পৃথিবীর ইতিহাস নিয়ন্ত্রন করেছে প্রায় ছশতাব্দি ধরে।

রোম শাসন করতেন কনসাল-যিনি সেনেটের প্রধান হতেন। কনসাল প্রতিবছর নির্বাচিত হত। রোমান কনসাল বর্তমান কালের নিরিখে একাধারে প্রধান সেনাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী। অনেকটা আমেরিকান প্রেসিডেন্টের মতন ছিল তার ক্ষমতা । কনসাল পজিশনে জিততে গেলে শুধু ভাল রাজনীতিবিদ বা বক্তা হওয়া যথেষ্ট ছিল না । সফল মিলিটারি জেনারেল হওয়া ছিল প্রথম এবং মুখ্য যোগ্যতা।

কনসাল হওয়ার জন্য রোমান সেনেটররা লবিং করতেন। কিন্ত রোম তখন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্যবাদি শক্তি। ফলে শুধু লবিং এ কিছু হত না। বাইরের একটা রাজ্য বা প্রদেশ মিলিটারি ক্যাম্পেইন করে জিততে না পারলে, কল্কে পেতেন না তারা। ফলে রোমের রাজনৈতিক অভিনয়টা গরীব দরদি ইমেজ বিল্ডিং এ ছিল না । রোমের রাজনৈতিক অভিনয়টা চলত কে কত ভাল মিলিটারি জেনারেল সেটাকে জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে। যদিও লুয়াস মামিয়াস, জুলিয়াস সিজার এর মতন জেনারেলরা এবং মার্কাস অরেলিয়াস এর মতন সম্রাটরা গরীব দরদি নেতার অভিনয় ও খারাপ করেন নি।

রোমের সমগ্র ইতিহাসে রাজনৈতিক অভিনয়ের ভূমিকা বিশাল।

রোমের সেনেটররা আসতেন ধনী পরিবার থেকে। এই সব আলালের দুলালরা, ভাল সেনানায়ক হতে পারতেন না-সেটা বলায় বাহুল্য। জুলিয়াস সিজার অবশ্য ব্যতিক্রম। কিন্ত সেনানায়ক সেজে অভিনয় করতে গিয়ে, সেনেটররা রোমকে ধ্বংসের মুখে ফেলেছেন বারংবার-যেটা রোমান সেনেটের ক্ষমতা ধ্বংসের একটা বড় কারন।

২১৭ খৃষ্ট্রপূর্বাব্দে ক্যাথ্রিজ সেনাপতি হ্যানিবাল, রোম শহরের প্রায় ২০ মাইলের মধ্যে ঢুকে পড়েন। ২১৮ খৃঃপূঃ ট্রিবিয়া এবং ২১৭ সালে লেক ট্রাসমিন হ্রদের যুদ্ধে হ্যানিবালের হাতে রোমানদের শোচনীয় পরাজয় হয়। দুটি যুদ্ধে রোমান সেনাবাহিনী প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত। অবস্থা এমন -হ্যানিবাল রোমে ঢুকলে সবাই রোম ছেরে পালাবে। হ্যানিবাল কোন কারনে সেটা করেন নি। করলে পৃথিবীর ইতিহাসটাই বদলে যেত। কিন্ত এই দুই যুদ্ধে রোমানদের গোহারা হারার পেছনে মূল কারন ছিল সেনেটরদের মধ্যে যুদ্ধে “গ্লোরি” বা গরিমা অর্জন।

হ্যানিবাল সেকালের সেরা সেনাপতি। খুব স্বাভাবিক ভাবে, তাকে হারাতে রোমের দরকার ছিল সুদক্ষ জেনারেল। কিন্ত হ্যানিবালকে হারাতে পারলে অনেক গরিমা এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা আসবে এই ভেবে ট্রিবিয়ার যুদ্ধে রোমান সেনেটর টিবেরিয়াস সেম্প্রোনাস হ্যানিবালকে সম্মুখ সমরে আহবান করলেন। টিবেরিয়াস সবে সিসিলিতে ছোটখাট যুদ্ধ জিতে কনসাল পদ জিতে ছিলেন। কিন্ত হ্যানিবালের স্ট্রাটেজির কাছে সম্পূর্ন হেরে যান ট্রিবিয়াতে। ৪০,০০০ রোমান সৈন্যদল সম্পূর্ন ধ্বংস হয়। পরে সেনেটে ট্রিবেরিয়াসের ইম্পিচমেন্ট হয় । সেনেটে তার বিরুদ্ধে প্রমানিত হয়, তিনি শুধু নিজের গরিমার উদ্দেশ্যে হ্যানিবালের বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে নেমেছিলেন যেখানে অভিজ্ঞ সেনাপতিরা হ্যানিবালের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।

এই ঘটনা রোমের ইতিহাসে বারবার ঘটবে শতাব্দির পর শতাব্দি ধরে। যুদ্ধক্ষেত্র হবে উচ্চাকাঙ্খী সেনেটরদের সব থেকে বড় রঙ্গ মঞ্চ। যুদ্ধ তারা জানুক বা না জানুক সেনাপতি সেজে এমন সব উদ্ভট সিদ্ধান্ত নেবে, যাতে রোমের অস্তিত্ব হবে সংকটাপন্ন। এই ব্যাপারে সব থেকে কুখ্যাত হচ্ছেন রোম সম্রাট ডমিশিয়ান। যিনি কোথাও কোন মিলিটারি অভিযানে গেলে, প্রথমেই রোমে একটি করে বিজয় দ্বার উত্তোলন করতেন। এমনটা করেছিলেন বৃটেন অভিযানে। বৃটেনে উনি কোন যুদ্ধ করেন নি-রোমান লিজিয়ন নিয়ে টাকা ছড়িয়ে আইসিনি এবং বারগেন্ডির আদিবাসিদের রাজাকে হাত করেছিলেন। রোমে ফিরে, সর্বত্র তার বৃটেন জয়গাথা ছড়িয়ে দেন। এই হচ্ছে সেই বৃটেন যাদের জুলিয়াস সিজার ও জব্দ করতে পারেন নি। অবশ্য, তার ধাপ্পাবাজি সহজেই ধরা পরেছিল। কিছুদিনের মধ্যে বৃটেনে রোমান শাসনের বিরুদ্ধে সর্বত্র বিদ্রোহ শুরু হয় এবং রোমানরা বুঝতে পারে বৃটেন জয় তখনো দূর অস্ত। ডমিশিয়ানের মৃত্যুর পর ঢপবাজির অভিযোগে তার সব বিজয়তোড়ন ভেঙে ফেলা হয়।

এর সাথে গরীব দরদি হয়ে জনপ্রিয়তা অর্জনের ট্রাডিশন ও সমান ভাবে ছিল রোমে। এটা মূলত তারাই করেছেন, যারা সেনেটের ক্ষমতা খর্ব করে স্বৈরাচারি শাসক হওয়ার চেষ্টা করেছেন। বৈধতা হিসাবে জনগণের মধ্যে নিজের জনপ্রিয়তা টাকা ছড়িয়ে, ট্যাক্স ব্রেক দিয়ে কিনেছেন।

জুলিয়াস সিজার-যিনি স্বৈরাচার কায়েম করার গুরুত্বপূর্ন ধাপ হিসাবে, গরীবদরদি কনসালের ভূমিকা নেন

এই চেষ্টা করে প্রথম সফল হন লুয়াস মামিয়াস। লুয়াসের পরিবার অতটা এরিস্ট্রোক্রাটিক ছিল না। ফলে সেনেটররা তাকে নীচু ফামিলির সন্তান হিসাবে বিদ্রুপ করত। লুয়াস নিজেও অধিকাংশ সেনেটরদের আলালের ঘরের দুলাল -অপদার্থ রাজনীতিবিদ বলে মনে করতেন। লুয়াস রোমের ইতিহাসে সব থেকে গুরুত্বপূর্ন মি্লিটারি জেনারেল। তার নেতৃত্বেই রোমানরা গ্রীস এবং ক্যাথ্রিজকে চিরতরে পরাজিত করে ইউরোপের সেরা মিলিটারি শক্তি হিসাবে উঠে আসে। শুধু তাই না লুয়াস একজন সফল প্রশাসক ও। কিন্ত সেনেট এবং গণতান্ত্রিক রঙ্গনাট্য তার পছন্দ ছিল না। মনে করতেন এইসব লুচ্চা নাটকের জন্য রোম একদিন উচ্ছন্নে যাবে। ফলে, সেনেটে ্যারা তার বিরোধি ছিল, তাদের এক এক করে গুপ্তহত্যা করান মামিয়াস। কিন্ত তাতে জনপ্রিয়তা কমে ্যেতে পারে দেখে, রোমের দরিদ্র শ্রেনীর মধ্যে নিজের প্রভাব বিস্তার করেন। তার দুটি ধাপ ছিল। প্রথমত স্পেন এবং গ্রীস থেকে আসা সম্পদের একটা অংশ তিনি গরীবদের মধ্যে বিলিয়ে দেন। দ্বিতীয়ত গরীব রোমানদের সেনা বাহিনীতে ভর্তি হওয়ার অনুমতি দেন। সেকালে রোমান সেনা বাহিনীতে কাজ করা মানে লুটপাটের দরজা খোলা। এর পূর্বে গরীব রোমানদের যাদের চাষের জমি নেই, তাদের সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার অধিকার ছিল না । সেনেট মনে করত গরীবদের সেনাবাহিনীতে ঢোকালে তারা একদিন বিদ্রোহ করে এরিস্টক্রাসি ধ্বংস করবে। যেসব সেনেটর গরীবদের সেনাবাহিনীতে নেওয়ার বিরোধিতা করেছিল, তাদের সবাইকে হত্যা করেন লুয়াস। এই ভাবে সেনাবাহিনীর গরীব রিক্রুটদের মধ্যে নিজের জনপ্রিয়তা সাংঘাতিক বাড়িয়ে ছিলেন লুয়াস।

লুয়াসের এক শতাব্দির পর গরীব দরদির এই একই খেলা খুব সফল ভাবে খেলবেন প্রবাদ প্রতিম রোমান কনসাল জুলিয়াস সিজার। সিজার শুধু দক্ষ জেনারেল ই না-তুখোর বাগ্মীও। পম্পেই এর সাথে তার দ্বন্দ যখন তুঙ্গে-গৃহযুদ্ধের আসন্ন মূহুর্তপূর্বে রোমে ঢুকে গলে জেতা সম্পদের একাংশ দেদারসে জনগনের মধ্যে ছড়াতে থাকেন সিজার। পম্পেই তখন সেনাবাহিনী নিয়ে পালিয়েছেন। সিজারের উদ্দেশ্য ছিল পম্পেই এর সেনাবাহিনীর মনোবোল ভেঙ্গে দেওয়া। উনি দেখাতে চাইছিলেন রোমের জনতা তার সাথেই আছে। এর জন্য সিজার রোমে ছোট ছোট সভা করতেন এবং তার বক্তৃতাতে গরীবদের জন্য দরদ ফেটে পরত। এইভাবে গরীবদের পাশে দাঁড়ায় নি কোন কনসাল। ফলে রোমে সিজারের জনপ্রিয়তা দ্রুত তুঙ্গে ওঠে।

তবে পুরোটাই ছিল সিজারের রাজনৈতিক চাল। সেনেটে সিজারের প্রচুর শত্রু। তাদের দমন করতে দরিদ্রের মাসিয়ার ভূমিকায় অবতীর্ন হোন সিজার। সেনেটের ক্ষমতা খর্ব করে নিজেকে আজীবনের জন্য ডিক্টেটর ঘোষনা করলেন। সেনেটে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ হল না। কারন জনতা সিজারের পাশে। কিন্ত গোপনে গোপনে ব্রুটাসের মতন সেনেটররা সিজারকে হত্যা করার খেলায় নামলেন গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে।

অর্থাৎ দেখা গেছে, যখনই কারুর ডিক্টেটর হওয়ার সখ হয়েছে, তিনি সফল ভাবে ধণীদের বিরুদ্ধে গরীবদের ক্ষোভ কাজে লাগিয়ে, প্রথমে জনপ্রিয় হয়েছেন। এবং সেই জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে বিরোধিদের নির্মম ভাবে হত্যা করেছেন। অর্থাৎ দরিদ্রপ্রীতি এদের কাছে ছিল স্বৈরচারি শাসনের সিঁড়ি। শুধু সিজার কেন- সাদ্দাম হুসেন, মুসোলিনি, হিটলার থেকে লিবিবার গদ্দাফি, জেনারেল জিয়া, সব স্বৈরাচারের এক ইতিহাস।এদের কেও রুলিং এরিস্টক্রাটিক ফ্যামিলি থেকে আসেন নি। ক্ষমতা দখলের জন্য এরিস্ট্রক্রাসির বিরুদ্ধে গরীবদের ক্ষোভ এরা সফল ভাবে কাজে লাগিয়েছেন। এরিস্টক্রাসির বিরুদ্ধে জেহাদ, গরীবদের প্রতি দরদটা এদের জীবনের সব থেকে বড় সফল রাজনৈতিক অভিনয়। নেপথ্যের আসল খেলাটা ছিল স্বৈরতন্ত্র কায়েম করা।

সর্বহারাদের দিদি থেকে স্বৈরাচারী মমতা ব্যানার্জির উত্থান দেখলেই বোঝা যাবে প্লেটোর রিপাবলিকের ভূত আজো আমাদের ঘারে।

(4)
কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র -তৃতীয় খৃষ্টপূর্বাব্দ

গৌতম বুদ্ধের জন্মের আগে ভারতীয়রা লিখতে জানত না। হরপ্পা মহেঞ্জোদারো সভ্যতার লিপি, আর্য্য সভ্যতাতে স্থান পায় নি। ফলে বুদ্ধের আগের ভারতের ইতিহাসের অধিকাংশটাই রূপকথা। ভারতের ইতিহাস ভাল করে আমরা জানতে পারি আলেক্সজান্ডারের আক্রমনের সময় থেকে। গ্রীক ঐতিহাসিকরা মূল সোর্স। এবং গ্রীকদের দেখা দেখি ভারতের রাজন্যবর্গ ও নিজেদের ইতিহাস লেখার জন্য লেখক নিয়োগ করার ট্র্যাডিশন চালু করে।

প্লেটোর যেমন রিপাবলিক, ভারতে তেমন চানক্যের অর্থশাস্ত্র। চানক্যর পূর্বনাম বিষ্ণুগুপ্ত। পেশায় তক্ষশীলায় রাজনীতির অধ্যাপক। তার ছাত্ররা ভারতের বিভিন্নরাজ্যে মন্ত্রী হিসাবে বিশেষ নাম করেছেন। সেই সময় মন্ত্রী হওয়ার জন্য তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতির পাঠ নিতে গোটা ভারত থেকে ছাত্ররা আসত।

প্লেটো যেমন গণতন্ত্র দেখে যেতে পেরেছেন, এবং দেখেও এরিস্ট্রোক্রাসি বা দার্শনিক দয়াময় রাজার শাসনকে শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষনা করেছিলেন, চানক্য ও রাজনৈতিক ভাবে এই মত দর্শন করেছেন। এমন নয় গণতন্ত্র কি চানক্য জানতেন না। ভারতে ১৬ টি জনপদের অধিকাংশ তখনো গণরাজ্য বা গণতান্ত্রিক রাজ্য ছিল।

গণরাজ্যগুলির গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভরসা রাখতে পারেন নি কৌটিল্য। প্লেটোর মতন অর্থশাস্ত্রের ও আদর্শ সিস্টেম দার্শনিক রাজা ( philosopher king )। প্রশ্ন উঠবে কেন? চন্দ্রগুপ্তকে সম্রাট বানাতে গণরাজ্যগুলির সাথে বহু বৈঠক করেছেন বিষ্ণুগুপ্ত-তার অনেক শিষ্য গণরাজ্যগুলির নেতৃত্বেও ছিল। তবে কেন অর্থশাস্ত্রে স্থান পায় নি গণরাজ্যগুলির গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা?

এর একটা কারন অবশ্য এই যে চানক্য অর্থশাস্ত্র লিখেছিলেন, মূলত এক শক্তিশালী ভারতীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যা গ্রীক বা পারসিক আক্রমণ থেকে নিজেকে বাঁচাতে সক্ষম। গণরাজ্যগুলির মধ্যে চুলোচুলি লাঠালাঠি এই পর্যায়ে ছিল-তাদের পক্ষে শক্তিশালী ভারতবর্ষের জন্ম দেওয়া সম্ভব না বলেই মনে করতেন চানক্য। এব্যাপারে প্লেটো বা সক্রেটিসের সাথে তার কোন বিরোধ নেই।

সুতরাং অর্থশাস্ত্রে রাজনীতির অভিনয়ের খেলাটা রাজাকেই খেলতে উপদেশ দেওয়া হয়েছে। এরজন্য সব থেকে বেশি ভুক্তভোগী চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্য নিজে। পাটলিপুত্রে ক্ষমতা দখলের পর, চন্দ্রগুপ্তর কোন স্বাধীনতা ছিল না। চানক্যের অঙ্গুলি হেলনে তাকে ক্রমাগত ভাবী সম্রাট হিসাবে অভিনয় করতে হয়েছে।

ভারতীয় রাজনৈতিক দর্শনের জনক চানক্য-যিনি প্রথম ভারত বর্ষ নামে ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিলেন

ভারতের প্রথম সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত। কিন্ত মানুষ চন্দ্রগুপ্তকেও জানা দরকার। মাত্র ৪১ বছর বয়সে সাম্রাজ্য ত্যাগ করে জৈন ধর্মে দীক্ষা নেন। সন্ন্যাস নেওয়ার পর ভিক্ষুকের জীবন গ্রহণ করেন। সেই বছর প্রবল দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় ভারতে। অধিকাংশ মানুষ অনাহারে প্রান হারাচ্ছিল। এই মহান সম্রাট জৈন ট্রাডিশন অনুসরন করে, দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের সাথে সমব্যাথী হওয়ার জন্য, নিজেও ৩৬ দিনের অনশনে প্রান ত্যাগ করেন। তিনি মানুষ হিসাবেও মহান ছিলেন। ফলে চানক্যনীতি মেনে রাজনীতির অভিনয় -তার কাছে নীচুতা মনে হয়েছিল। মেনে নিতে পারেন নি। তবে ইচ্ছার বিরুদ্ধে গুরুবাক্য মেনেছেন। কিন্ত এই রাজনৈতিক অভিনয় নিয়ে গুরুর সাথে তীব্র বাদানুবাদ ও হয়েছে।

যেবছর পাটলিপুত্রে চন্দ্রগুপ্তের কতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হল, চন্দ্রগুপ্ত আগের রাজা ধননন্দের অনেকগুলো বাজে খরচ বাদ দিতে চাইলেন। রাজকোষের অবস্থা যুদ্ধবিগ্রহ এবং ধননন্দের বিলাসে বেশ খারাপ অবস্থায়। চানক্যর অনুমতি না নিয়ে পাটলিপুত্রের বৈশালী উৎসব বন্ধের নির্দেশ দিলেন চন্দ্রগুপ্ত। এই উৎসবে রাজকোষ থেকে বিরাট খরচ করা হত নর্তকী গায়ক ইত্যাদিদের জন্য। রাজা মূলত জনসংযোগ করতেন প্রজাদের সাথে উৎসবের মাধ্যমে।

চানক্য জানতে পেরে ভর্ৎসনা করেছিলেন চন্দ্রগুপ্তকে। তার বক্তব্য ছিল রাজা কখনোই এই ধরনের জনসংযোগের সুযোগ হাতছারা করতে পারে না । উৎসবের চাকচিক্য না দেখালে, প্রজারা ভাববে রাজা অর্থনৈতিক দিক দিয়ে দুর্বল। আর দুর্বলের প্রতি আনুগত্য অত সহজে আসে না । চন্দ্রগুপ্ত চেয়েছিলেন, উৎসবের পেছনে খরচ না করে চাষাবাদের সুবিধার জন্য কিছু খাল কাটাবেন। সেটা খরার সময়। কৃষকদের ভার লাঘব করতে চেয়েছিলেন। কিন্ত পালটি খেতে বাধ্য হন গুরুর নির্দেশে। অর্থাৎ চানক্যনীতিতে রাজনৈতিক অভিনয়ের স্থান প্রজাহিতৈশী কর্মের ওপরে।

তাহলে আর মমতাকে দোষ দিয়ে কি হবে? রাজ্যর রাজকোষ শুন্য। কিন্ত তিনি ধার করে একের পর এক উৎসবের আয়োজন করছেন । টলিঊডের গ্ল্যামার নিয়ে মচ্ছব অব্যাহত যখন কৃষক আত্মহত্যা বা চিটফান্ডের কবলে রাজ্যর লোক আত্মহত্যা করছে। কিন্ত তার সব রাজনৈতিক উৎসব চানক্যনীতিতে সিদ্ধ। রাজনীতিতে পি আর বা জনসংযোগ হচ্ছে সবার আগে। জনগণের চোখে ইমেজটা কি তৈরী হচ্ছে সেটাই লইয়ালিটি ফ্যাক্টরে মুখ্য।

বর্তমানে এটা মিডিয়ার যুগ। সরাসরি বা মিডলম্যান ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে টিভি এবং নিউজপেপার রাজনৈতিক নেতাদের ইমেজ তৈরী করে। যে মোদিকে আপনি বা আমি জানি টিভি এবং নিউজপেপারের মাধ্যমে,আসল মোদি তার থেকে আলাদা। এটা সব উচ্চ রাজনীতিবিদদের জন্য- সব দেশে সত্য। স্টেজের পেছনের এই খেলাটা সব থেকে ভাল জানেন সাংবাদিকরা। কিন্ত তারা নীরব। পি আর মহাভোজের উচ্ছিস্ট খেতে ব্যস্ত। বলতে গেলে এটাই তাদের ইনকাম। এই ভাবেই গণতন্ত্রে গড়ে উঠেছে সাংবাদিক, পুলিশ, প্রশাসক আর রাজনৈতিক নেতৃবিন্দের দুষ্টচক্র। সাংবাদিকরা এই রাজনৈতিক অভিনয়ের অবিচ্ছেদ্দ্য অংশ।

[চলবে]

About the Author:

আমেরিকা প্রবাসী আলোক প্রযুক্তিবিদ ও লেখক।

মন্তব্যসমূহ

  1. মুক্তমনা মডারেটর জুলাই 28, 2013 at 12:42 অপরাহ্ন - Reply

    নীড়পাতায় লেখকের দুটো লেখা থাকার কারনে এই লেখাটি লেখকের ব্যাক্তিগত ব্লগে নিয়ে যাওয়া হল।

    ধন্যবাদ।

  2. তারিক জুলাই 22, 2013 at 2:13 পূর্বাহ্ন - Reply

    অসাধারন লেখা । (Y)
    আরবের রাজনীতি/রাজনৈতিক ইসলাম বিষয়টি নিয়ে আপনার লেখা পড়তে চাই ।
    পরবৰ্তী পৰ্বের অপেক্ষায় আছি …. :guru:

  3. সফিক জুলাই 22, 2013 at 12:12 পূর্বাহ্ন - Reply

    আপনি কি লুয়াস মামিয়াস বলতে গাইউস মারিউসকে বুঝিয়েছেন? আমি তো জানি রোমান সেনাবাহিনীর সবচেয়ে বড়ো রিফর্ম করেছিলেন গাইউস মারিউস Gaius Marius (১৫৭ বিসি -৮৬ বিসি) এই রিফর্ম মারিয়ান রিফর্ম নামে পরিচিত। এর সাথে আপনি যা বলছেন সেগুলোর অনেক সাদৃশ্য আছে। http://en.wikipedia.org/wiki/Marian_Reforms

    লুয়াস মামিয়াস এর নাম তো শুনি নাই। এর নামের ইংরেজী বানান দেয়া যাবে?

    • বিপ্লব পাল জুলাই 22, 2013 at 1:34 পূর্বাহ্ন - Reply

      @সফিক,
      লুয়াস মমিয়াস , গায়াস মারিয়াসের অগ্রজ কনসাল। আপনি ঠিক। ওটা গায়াস মারিয়াস হবে। আমি মূলত ইতিহাস শিখি ডকুমেন্টারি দেখে। আমার নামটা চেক করা উচিৎ ছিল। লেখাতে এটা ঠিক করে নেব।

      • অনামী জুলাই 24, 2013 at 7:16 অপরাহ্ন - Reply

        @বিপ্লব পাল,

        আরো বেশ কিছু তথ্যগত ভুল আছে রোমান ইতিহাস নিয়ে, যথা-

        কিছু মুষ্টিমেয় পরিবার জন্মসূত্রে সেনেটর হওয়ার অধিকার পেত।

        শুধুমাত্র মুষ্টিমেয় পরিবারের লোকজনরাই নয়, সাধারণ নাগরিকরাও প্রতিভা বলে অনেক সময় সমাজের উপর স্তরে উঠে আসতেন| একথা নিসন্দেহে বলা চলে যে উচ্চবিত্ত, মান্যগন্য ও প্রাচীন বংশের সন্তানদের জন্যে এইটা অনেক সহজ ছিল| সেইটা আজকের দিনেও বহু প্রগতিশীল দেশেও কঠিন বাস্তব| জর্জ বুশ বা মিট রমনীর বাপ ট্রাক ড্রাইভার বা মুদির দোকানি হলে তারা রাজিনীতিতে কদ্দুর কি করতে পারতেন তা নিয়ে লম্বা আলোচনা হতে পারে|ঘরের কাছে রাহুল গান্ধী যদি রাহুল দাস বা রাহুল পান্ডে হয়ে জন্মাতেন, তাহলে কংগ্রেস-এর তরুণ(!) মুখ হয়ে ওঠার আগে মানুষ আলফা সেন্টুরি পৌছে যেত!
        একজন প্লেবিয়ানকে সমাজের উপরে উঠতে গেলে অমিত প্রতিভাধর হতে হত|তুলনামূলক নিচুস্তরের রোমান নাগরিক যারা রোমান সমাজের শীর্ষে পৌছে ছিলেন, তাদের মধ্যে আছেন, পম্পেই স্বয়ং(পম্পেই-এর বাপ পয়সাওয়ালা হলেও ছিল homines novi ), মার্কাস আগ্রিপ্পা এবং গ্যাস মারিয়াস নিজে| (এই নিয়ে দ্বিমত আছে অবশ্যই| প্লুটার্কের মতে মারিয়াসের বাবা শ্রমিক ছিলেন, অন্যরা বলেন যে মারিয়াসের ধমনীতে উচ্চ বংশের রক্ত ছিল|) এই রকম ভুরি ভুরি উদাহরণ আছে| ব্যাপার হলো একমাত্র গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাতেই এইটা তাও সম্ভব| তুলনামূলক ভাবে ফিউডাল সমাজে জন্মের এবং শ্রেনীর গন্ডি লঙ্ঘন করা প্রায় অসম্ভব|

        ক্যাথ্রিজ

        গত সংখ্যাতে পারস্য সম্রাট জেরেক্সিসকে ‘জার্সি’ গরু বানিয়েছিলেন| এই সংখ্যাতে ‘কার্থেজ’-কে ‘ক্যাথ্রিজ’| ঐতিহাসিক স্থান, কাল এবং পত্র সম্পর্কে একটু সচেতন না হলে লেখার মান নিয়ে বড় বড় প্রশ্ন চিহ্ন পড়তে বাধ্য|

        এই সব আলালের দুলালরা, ভাল সেনানায়ক হতে পারতেন না-সেটা বলায় বাহুল্য। জুলিয়াস সিজার অবশ্য ব্যতিক্রম।

        শুধু জুলিয়াস সিজার নয়, এরকম অনেক ব্যতিক্রম আছে| নাম লিখতে শুরু করলে রাত ভোর হয়ে যাবে| কিছু বিখ্যাত হলেন-
        ১)স্কিপিও আফরিকানাস
        ২)সুলা
        ৩)মার্ক এন্টনি
        ৪)ফ্লেভিউস এটিউস
        ৫)সম্রাট কন্স্তান্তাইন

        পম্পেই এর সাথে তার দ্বন্দ যখন তুঙ্গে-গৃহযুদ্ধের আসন্ন মূহুর্তপূর্বে রোমে ঢুকে গলে জেতা সম্পদের একাংশ দেদারসে জনগনের মধ্যে ছড়াতে থাকেন সিজার। পম্পেই তখন সেনাবাহিনী নিয়ে পালিয়েছেন।

        এইখানেও তথ্যে কিঞ্চিত ত্রুটি আছে| গল থেকে লুঠ করা সম্পদ সিজার অনেক দিন ধরেই বিলিয়ে চলেছিল নিজের জনপ্রিয়তা বাড়াতে| সেনেটে সিজার বিরোধী শিবির ঈর্ষা এবং শঙ্কার বশবর্তী হয়ে সিজারকে শোকজ করে| তাদের অভিযোগ গলে সিজারের যুদ্ধ অবৈধ, বেআইনি, অননুমোদিত ও ব্যক্তি স্বার্থে ছিল| এই অভিযোগ একদমই সত্যি ছিল| কারণ অবস্থাপন্ন ঘরের ছেলে হওয়া সত্ত্বেও, সিজারের প্রচুর দেনা ছিল বাজারে| গলে লুঠতরাজ চালিয়ে তিনি ধনার্জন করছিলেন, বাংলা ভাষায় ধার মেটাতে| অন্যদিকে প্রথম ত্রিয়ামভুরেট, যাতে ছিলেন ক্রাসস, পম্পেই ও সিজার, তা তখন ভেঙ্গে গেছে| ক্রাসস মৃত এবং সিজারের কন্যা ও পম্পেই-এর স্ত্রী জুলিয়া মারা গেছেন|সিজার এবং পম্পেই-র সম্পর্ক ভেঙ্গে পড়ছে|এমন অবস্থাতে সেনেটে কেটোর faction পম্পেইকে হাত করে সিজারেরে আইনি রক্ষাকবচ গুলো সরিয়ে দেয়| সিজার বাধ্য হয় রোমে মার্চ করতে| মাত্র একটি লিজিওন নিয়ে সিজার রুবিকন অতিক্রম করে রোমের দিকে চলে আসেন|সৈন্য তৈরী না থাকতে পম্পেই সেনেটে নিজের সমর্থকদের নিয়ে গ্রীসে পালিয়ে শক্তি সংগ্রহ করতে থাকেন| এই সময়ে রোমে প্রবেশ করে সিজার আর নিজের ধন সম্পত্তি বিলোতে শুরু করেননি|পম্পেইকে হারিয়ে, কেটো, মেটেলাস স্কিপিও-কে হারিয়ে, মিশর জয় করে, কর এবং রাজস্বের টাকাতে জনস্বার্থে কাজ শুরু করেন|বাকি ইতিহাস-ব্রুটাস, ক্যাসিয়াস ইত্যাদি ইত্যাদি|

        • বিপ্লব পাল জুলাই 24, 2013 at 10:11 অপরাহ্ন - Reply

          @অনামী,

          গত সংখ্যাতে পারস্য সম্রাট জেরেক্সিসকে ‘জার্সি’ গরু বানিয়েছিলেন| এই সংখ্যাতে ‘কার্থেজ’-কে ‘ক্যাথ্রিজ’| ঐতিহাসিক স্থান, কাল এবং পত্র সম্পর্কে একটু সচেতন না হলে লেখার মান নিয়ে বড় বড় প্রশ্ন চিহ্ন পড়তে বাধ্য|

          জেরেক্সিক কে সংক্ষেপে জার্সি ই বলত গ্রীকেরা।

          Xerxes I of Persia (/ˈzɜrksiːz/; Old Persian: Xšaya-ṛšā IPA: [xʃajaːrʃaː] meaning “ruling over heroes”;[1] Greek: Ξέρξης [ksérksɛːs];
          http://en.wikipedia.org/wiki/Xerxes_I_of_Persia

          প্রাচীন পৃথিবীতে এক ই নাম নানান জাতি নানান ভাবে উচ্চারন করত। যেমন চন্দ্রগুপ্তে গ্রীক নাম সিকান্ডার।

          কার্থেজ বনাম ক্যর্থিজঃ
          এখানে এক সমস্যা। ইংরেজিতে কার্থেজ ই বলে।
          Other spellings are: Latin: Carthago or Karthago, Ancient Greek: Καρχηδών Karkhēdōn, Arabic: قرطاج‎ Qarṭāj, Berber: ⴽⴰⵔⵜⴰⵊⴻⵏ Kartajen, Etruscan: *Carθaza, from the Phoenician Qart-ḥadašt[3] meaning New City (Aramaic: קרתא חדאתא‎, Qarta Ḥdatha), implying it was a ‘new Tyre’.[4]
          আমি যদ্দুর জানি কার্থেজটা স্টান্ডার্ড ইংরেজি হলেও গ্রীকে ক্যার্থিজ বলে।

          • অনামী জুলাই 25, 2013 at 4:22 অপরাহ্ন - Reply

            @বিপ্লব পাল,

            যেমন চন্দ্রগুপ্তে গ্রীক নাম সিকান্ডার।

            চন্দ্রগুপ্তের গ্রীক নাম ‘স্যান্দ্রকোট্টাস’ | সিকান্দার আলেক্জান্দেরের আরবিক/ফার্সি করণ|

            Greek: Ξέρξης [ksérksɛːs];

            Greek: Ξέρξης [ksérksɛːs];
            এর উচ্চারণ জার্সি কি করে হয় বুঝলাম না|
            এছাড়া গ্রীক উচ্চারণ কেমন ছিল, বা ফার্সি উচ্চারণ কেমন ছিল, তার থেকে অনেক সহজ নয় কি ইংরিজি বা প্রচলিত বাংলা নাম ব্যবহার করা? আলেক্জান্দেরের বদলে অলেক্ষন্দ্র বা সিকান্দার ঠিক আছে| তবে, প্যারিসকে তো আর আপনি ফ্রেঞ্চদের মতন ‘পারি’ বলেননা নিশ্চই! পাটনার জন্যে ট্রেন টিকেট কাটার সময় পাটলিপুত্রের টিকেট চাইবেন?
            পাঠকদের সুবিধার কথাও তো ভাবতে হবে| ধরুন কারো আপনার লেখা পরে মনে হলো যে এই মহান পারস্য সম্রাট ‘জার্সি’ লোকটি কে? প্রাচীন গ্রীকে যথেষ্ট ব্যুত্পত্তি না থাকার কারণে আমার মতন সাধারণ জনতা জেরেক্সিসের বদলে ফুটবল জার্সি বা জার্সি গরু বা ন্যু জার্সি সম্বন্ধে জেনে বসবে|

  4. অর্ক রায় চৌধুরী জুলাই 21, 2013 at 10:29 অপরাহ্ন - Reply

    দাদা, ধর্মের দোহাই দিয়ে মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোতে জনতার মুভমেন্ট যত সহজে করা যায় গরীবি হটাও আন্দোলন ততটা প্রভাব ফেলতে পারে না। তার প্রমাণ এদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচন মানে ১৯৯১ সাল থেকে স্পষ্ট। আর এবারের গণজাগরণ মঞ্চকে শুধুমাত্র নাস্তিকদের আস্তানা বলে ধর্মের দোহাই দিয়ে সকল রাজনৈতিক দল যেভাবে মেতে উঠলো তাতে করে বুঝতে বাকি থাকে না এদেশে ধর্ম অনেক (বিশেষত অপধর্মীয় ব্যাখ্যা যৌক্তিক ব্যাখ্যার চেয়ে জোরালো ভূমিকা পালন করে) গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক খেলায়।
    লেখা ভালো লেগেছে।

    • বিপ্লব পাল জুলাই 21, 2013 at 11:56 অপরাহ্ন - Reply

      @অর্ক রায় চৌধুরী,
      এটা নিয়ে আমি ভাবছিলাম। আসলে কি আমি কিছু মিস করছি মুসলিম দেশগুলি নিয়ে?

      একদম না। ইসলাম নিজেই প্লেটোর রিপাবলিকের ভূত। ইসলামের জন্ম এবং রাজনীতি এরিস্ট্রক্রাটদের বিরুদ্ধে গরীবদের ক্ষোভ থেকে। তখন প্যাগানরা ছিল মূলত মক্কার এরিস্ট্রকক্রাট।
      ইসলামের ক্ষেত্রে গরীবদের ক্ষোভটা রাজনৈতিক ইসলামে পরিণত হয়।

      আমার মনে হয় পরের অধ্যায়ে ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় আরবের রাজনীতিকে নিয়ে আসা উচিত।

  5. আবু এম ইউসুফ জুলাই 21, 2013 at 8:57 অপরাহ্ন - Reply

    সাপ্রতিক রাজনীতিতে নেতা ও দলের ভাবমুর্তি তৈরী এবং তার জন্য দলীয় সাংবাদিক ও পেশাদার বিজ্ঞাপন সংস্থা নিয়োগ অবিচ্ছেদ্দ হয়ে উঠেছে। তবে আপনার লেখাটা পড়ে, এটা যে ইতিহাসেরই ধারাবাহিকতা সেই বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে।

  6. বকধার্মিক জুলাই 21, 2013 at 7:49 অপরাহ্ন - Reply

    :guru:

  7. মাসুদ রানা জুলাই 21, 2013 at 12:48 অপরাহ্ন - Reply

    পড়ে খুব ভাল লাগল । আশা করি পরের পর্ব গুলো শিগগিরই পাব। প্রবন্ধে রোমের চাইতে বাংলাদেশ বেশী কাভারেজ পাবে বলে আশা করি

    • বিপ্লব পাল জুলাই 21, 2013 at 7:44 অপরাহ্ন - Reply

      @মাসুদ রানা,
      বাংলাদেশ নিয়ে আমি খোলাখুলি মতামত দিলে, ডান বাম নির্বিশেষে সবাই বলে, আমি বাংলাদেশী না, তাই এই ব্যাপারটা আমার অনধিকার চর্চা :-X

      আমার কাছে রাজনীতি সমাজ বিজ্ঞানের অংশ-আর বিজ্ঞান মানে, সেখানে একটা প্যাটার্ন থাকবে, তার লোক্যাল ভ্যারিয়েশন থাকবে।

      তবে মশাই বাংলাদেশের রাজনীতিতে যেটা আমাকে অবাক করে- একটা এত গরীব দেশে, রাজনীতিটা গরীবি হটাও বা গরীবদের জন্য পপুলিস্ট আন্দোলন ( যেটা ভারতে হয়) না হয়ে শুধু ধর্ম নিয়ে ঘুরপাক খায়। শুধু মাত্র মুসলিম দেশে এই প্যাটার্নটা স্পেশাল। এটা ভারতেও আছে-তবে অনেক কম মাত্রায়।

      • সাজ্জাদ জুলাই 23, 2013 at 5:18 অপরাহ্ন - Reply

        @বিপ্লব পাল,

        বাংলাদেশ নিয়ে খলাখুলি মত দিলে যারা আপনাকে অনধিকার চর্চা বলছে, আপনার পাঠকের সংখ্যা তার থেকে ঢের বেশী । কাজেই কয়েক জনের মতামতকে তেমন গুরুত্ম না দিয়ে আপনি কলম চালিয়ে যান। আপনার বিশ্লেষণ এক কথায় চমৎকার ।

  8. কেশব অধিকারী জুলাই 21, 2013 at 11:48 পূর্বাহ্ন - Reply

    বিপ্লবদা, একেবারে ফাটিয়ে দিয়েছেন! এরকম বিশ্লেষনই দরকার রাজনৈতিক চক্ষু উন্মীলণের জন্যে। লেখাটা রেফারেন্স হয়ে থাকবে আশা করছি। তবে মার্কিন গনতন্ত্রর স্বরূপটা তুলে ধরাও এক্ষেত্রে বোধ হয় জরুরী। ধন্যবাদ পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায়…..!

মন্তব্য করুন