আমি ধার্মিক হইবার চাই

লিখেছেন – পৃথু স্যান্যাল

আইজ সারাদেশে আলোচনার গরম বিষয় নাস্তিক আর আস্তিক। কোন এক গোলাপি বেগম ফতোয়া দেন অমুক নাস্তিক তমুক নাস্তিক। বিষয়টা এমনভাবে মার্কেট পাইছে আজ এক রিকশাওয়ালা আমাকে জিগাইয়া বইল ভাই নাস্তিক ধর্মের নবী কেডা? আমি আর কি কমু? মনে মনে কইলাম গোলাপু আপা। আবার এমন লোকেরা কিন্তু নাস্তিকের ফাসি চায়।

যাই হোক, পেচাল তা না, পেচাল হইল আমি নাস্তিক থাইকা আস্তিক হইবার চাই সহজ ভাষায় ধার্মিক হইবার চাই। কিন্তু সমস্যা দাড়াইছে ধর্ম নির্বাচন নিয়া কোন ধর্মটারে বাইছা লমু তা কিছুতেই ঠিক করবার পারতাছিনা। এমন একটা ধর্ম বাইছা নিবার চাইতাছি যা সত্যিকার অর্থেই সঠিক। কিন্তু কোনভাবেই সঠিক ধর্মডারে খুইজা পাইতাছিনা। ধর্মের সঠিকতা বা বিষুদ্ধতা যাচাইয়ের কোন মানদন্ডও খুজে পাইতাছি না, পরছি ভারি গেড়াকলে।

কোন ধর্মই আমারে স্বাধীনমত তার মতামতকে বাইছা নিবার সুযোগ দিতাছে না সব ধর্মই আমারে কয়তাইছে তুমি শালা মুর্খ, আছ গোমড়াহিতে লিপ্ত, হগল গ্রন্থই কইতাছে আমারটাই একমাত্র সঠিক ও ঈস্বর প্রদত্ত। কোন কিতাব বা শাস্ত্রই কইতাছে না যে হের নিজ ধর্মের মাঝে কিছু ভুল থাকবার পারে, অন্যগুলারে যাচাই কইরা নিবার কোন অপশন দিতাছেনা। ফলে আমি আবুলের মাথা ঘুরাইয়া মরার মত অবস্থা।

মাথা ঠান্ডা কইরা ধার্মিক হওনেই লাগব (না হইলে আজ বাংলাদেশে জান বাচানির কোন উপায় নাই) এই পন কইরা গেলাম এক হিন্দু ধার্মিক পুরুহিতের (আসলে হিন্দু শাস্ত্র) কাছে। হেয় কইল দাদা তোমার গোত্র কি? বর্নই বা কি? আমি কইলাম এইসব কি কন? উত্তরে যা বুঝলাম মালাউনের ঘরে জন্ম না নিলে মালাউন হওয়ার কোন উপায় নাই, একমাত্র জন্মসুত্রেই এই ধর্মের ধার্মিক হওয়া যায়। তাই এই ধর্মের আশা বাদ দিলাম কারন ঈশ্বর যদি সত্যিই এই ধর্মডারে দিয়া থাকেন তাইলে আমারও এই ধর্মে প্রবেশের রাস্তা থাকত। কারন আমি তো আর আমার জন্মের লাগি দায়ী হইবার পারিনা। আমার জন্মের লাগি হয় আমার বাপ মা নয় ঈশ্বর দায়ী, এদের কারনে আমি কেন পাপের ভাগী হইব?

আইজ আমি ধার্মিক হইবার নাছোড়বান্দা টাইপ পন করছি একটা ধর্ম আজ বাইছা লমুই। তাই এইবার গেলাম বৌদ্ধ ধর্মের কাছে। মাগার হেরা দেহি ঈশ্বরের অস্তিত্বই স্বীকার করেনা। পরলাম মহা ফ্যাসাদে।আমারে খালি ধার্মিক হইলেই হইব না আস্তিক হওয়ন লাগব। তাই এইডাও বাদ।

গেলাম খ্রীস্টানের কাছে, শালার এমন গাজাখুরী গল্প পইরা পাগলেও হাসতে থাকব। কয় রংধনু নাকি ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞার চিহ্ন। আর এই চিহ্নের রহস্য সামান্য মানুষে বাইর কইরা ফালাইছে? না এই ধর্মডারে গ্রহন করা যায়না, বাদ দিলাম এইডারেও। তাইলে আমার ধার্মিক হওয়নের কি হইব?

অনেক ভাইবা চিন্তা কইরা গেলাম ইসলামের কাছে, মানবতার সমাধান এই ধর্মে ছাড়া আর কোন ধর্মে নাই বলে জন্মের পর থাইকাই শুইনা আইতাছি। যাই হোক গিয়া দেখি আমার সাথে গোড়াতেই গলদ, আমি একটু সন্দেহ প্রবন কি না!! তাই পইলাই গেলাম আইটকা। প্রথমই সুরা বাকারার প্রথম আয়াতেই দেহি লেহা

” আলিফ লাম মীম, যা লিকাল কিতাবু লা রাইবা ফি হি হুদাল্লিল মুত্তাকিন”

অর্থঃ এই সেই কিতাব যাতে কোন সন্দেহ নাই যা রবের কাছ থেকে এসেছে মুত্তাকীদের হেদায়াত সরূপ।

এইহানেই আইটকা গেলাম, পর্থম কথা আমি একটা সংসয়বাদী মানুষ, আমি সবখানেই সন্দেহ করি। এই কিতাবে কেন সন্দেহ থাকবে না তা বুঝতে পারিনাই। দুই নম্বর কথা এই কিতাব মুত্তাকীদের হেদায়াত স্বরুপ, নিজেরে প্রশ্ন করিলাম আমি কি মুত্তাকী? তা কেমনে হইব? আমি তো নাস্তিক, নাস্তিক কি মুত্তাকি হইবার পারে? তাইলে কোরান কিভাবে আমাকে হেদায়াত করবে? এইবার মাথা ঘুরাইতে ঘুরাইতে চোউখ এক্কেবারে আন্ধা হইয়া গেছে। তাই আজকের মত ধার্মিক হইবার মিশন বন্ধ করিলাম।

কিন্তু যে কোন মূল্যেই হউক আমারে আস্তিক হওয়নেই লাগব , নাইলে এইদেশে আর বাচার অধিকার নাই । বড়ই আপসোস হইতাছে কেন যে বিজ্ঞান পড়িতে গেলাম, কেন যে বাস্তব প্রমানে অভ্যস্ত হইতে গেলাম? তাইলে তো আইজ আর জান লইয়া চিন্তা করোন লাগত না। সব্বাইরে কই আমার ধার্মিক হইবার মিশন চলতে থাকবে। কাইল আবার শুরু করিব।

About the Author:

মুক্তমনার অতিথি লেখকদের লেখা এই একাউন্ট থেকে পোস্ট করা হবে।

মন্তব্যসমূহ

  1. প্রশ্নকারী এপ্রিল 10, 2013 at 7:10 অপরাহ্ন - Reply

    @পৃথু স্যান্যাল

    ভাই এত কষ্ট করে গাঁজাখুরি ধর্মে ধার্মিক হওয়ার চেষ্টা না কইরা আসেন আমরা মানব ধর্মে ধার্মিক হই। তবে আপনি আপনার চেষ্টা চালাইয়া যাইতে পারেন। কিছু পাইলে জানাইয়েন।

  2. মুক্তি এপ্রিল 3, 2013 at 10:16 পূর্বাহ্ন - Reply

    :rotfl:

  3. আদম অনুপম মার্চ 25, 2013 at 9:36 পূর্বাহ্ন - Reply

    আয় হায়! আপনে দেহি ধার্মিক অইতে আইয়া যুক্তি খুজতাছেন! আরে ভাই ধার্মিক অইতে আইয়া যুক্তি খুজলে অইব? অন্ধবিশ্বাস লাগব, অন্ধবিশ্বাস! যুক্তি সন্দেহ ছাইরা অন্ধবিশ্বাস লইয়া ঝাপাইয়া পড়েন দেকপেন পুরাই ধার্মিক অইয়া গেছেন। আর অন্ধবিশ্বাসের ঘাটতি থাকলে ‘অন্ধবিশ্বাস’ নামের একটা বাংলা সিনেমা আছে, সেটা দেইখা নিতে পারেন! 😛

  4. শ্যাম সুন্দর মার্চ 25, 2013 at 2:27 পূর্বাহ্ন - Reply

    ” আলিফ লাম মীম, যা লিকাল কিতাবু লা রাইবা ফি হি হুদাল্লিল মুত্তাকিন”
    অর্থঃ এই সেই কিতাব যাতে কোন সন্দেহ নাই যা রবের কাছ থেকে এসেছে মুত্তাকীদের হেদায়াত সরূপ।

    “আলিফ লাম মীম
    অথবা, আলে মীম
    সেই আল-কেতাবের মধ্যে সন্দেহ নাই। কর্তব্যপরায়ণের জন্য (সেইরূপ কেতাব) একটি হেদায়েত;”-(সুরা বাকারাঃ১-২)

    ব্যাখ্যাঃ সাংকেতিক অক্ষর তিনটির ব্যাখ্যা নিম্নরুপঃ-
    ‘আলিফ’ অর্থ আমি বা স্বয়ং। ‘লাম’ অক্ষরে বুঝায় লা অবস্থা বা নাই অবস্থা। লাম- এর উপরে বড় মদ থাকার কারণে অসীমভাবে বা অবিরামভাবে না বুঝায়। বড় মদ সহ মীম অক্ষর দ্বারা বুঝায় অনন্ত মোহাম্মদ। সুতরাং ব্যক্তি সত্তার আমিত্ব অসীমভাবে লয়প্রাপ্ত হইলে সেই সত্তা মোহাম্মদে পরিণত হয় এবং অখণ্ড অসীমত্ব লাভ করে।
    অথবা— আলে মীম অর্থ অনন্ত মোহাম্মদের অনন্ত বংশধর। আল অর্থ বংশধর, মীম অর্থ মোহাম্মদ। ‘আল ও মীম’ এর উপর বড় মদ থাকার কারণে বুঝায় অনন্ত মোহাম্মদের অনন্ত বংশধর। ‘মীম’ এর উপর তসদিদ থাকিবার কারণে বুঝায় মোহাম্মদের পুনঃ পুনঃ বিকাশ। এইরূপে মোহাম্মদ হইয়াছেন তাঁহার আলের মাধ্যমে সর্বজনীন এবং সর্বকালীন। রসুলাল্লাহ বলিয়াছেনঃ “আউয়ালুনা মোহাম্মদ, আখেরুনা মোহাম্মদ, আওসাতুনা মোহাম্মদ, কুল্লানা মোহাম্মদ। অর্থাৎ আদি অন্ত মধ্য সরবকালেই মোহাম্মদরূপে আমরা বিরাজিত আছি।
    মোহাম্মদের বংশধর বলিতে রক্তের বংশধর বুঝায় না বরং গুণের বংশধর বুঝায়। মানবীয় আমিত্বের অবসান দ্বারা উৎপন্ন হয় মোহাম্মদি অবস্থা। প্রকৃতপক্ষে প্রত্যেক মানব সত্তাই মোহাম্মদি সত্তা। এই মোহাম্মদি সত্তা শিরিক দ্বারা আচ্ছন্ন হইয়া রূপ নেয় মানব সত্তায়। শেরেকমুক্ত অবস্থাটাই মোহাম্মদি অবস্থা।
    ‘আল কেতাব’ অর্থ প্রতিষ্ঠিত মানব দেহ। ঐরূপ ব্যক্তি হইতে সন্দেহ বা অস্পষ্টতা বা অজ্ঞানতা দূর হইয়া গিয়াছে। সুতরাং তাঁহারাই মোত্তাকিদের জন্য হেদায়েতদাতা গুরু।
    ——————————(কোরান দর্শনঃ সুফি সদর উদ্দিন আহ্‌মদ চিশতী)

    • সবুজ এপ্রিল 3, 2013 at 2:30 পূর্বাহ্ন - Reply

      @শ্যাম সুন্দর, link please……………….(কোরান দর্শনঃ সুফি সদর উদ্দিন আহ্‌মদ চিশতী)

  5. হেলাল রহমান মার্চ 25, 2013 at 1:09 পূর্বাহ্ন - Reply

    @আলম, ১ কেজি ওজনের ধারণা কিন্তু আস্তিক, নাস্তিক, হিন্দু মুসলিম, বাংলাদেশী, আমেরিকান, সবার জন্যই এক, অর্থাৎ ১ কেজিই। একজন হিন্দু ধর্মালম্বী ১ কেজির একটা আদর্শ বাটখারা দিয়ে মেপে কোন জিনিস আপনার কাছে বিক্রী করল। একজন মুসলিম ১ কেজির আরেকটি আদর্শ বাটখারা দিয়ে মেপে সেই একই জিনিসই যদি আপনার কাছে বিক্রী করে তাহলে তাদের ওজন একই হবে। আমি যেটা বোঝার চেষ্টা করছি, আপনার ভাষায় আল-কুরআন “আদর্শ পাথর খণ্ড যার উপর ভিত্তি করে অন্যান্য ধর্মের পরিমাপ করা হয়” এই মতবাদ কি একটি বিশ্বাস ছাড়া আর কিছু? যে পাথর খন্ড পৃথিবীর সবাই “আদর্শ” হিসেবে মানছেনা বা কোনকালেও মানেনি সেটা “আদর্শ” হয় কিভাবে? যে উদাহরণ দিয়ে আপনি পৃথু স্যান্যাল কে কুরআন শরীফ পড়বার পরামর্শ দিলেন, অন্তত সামান্য যৌক্তিক জ্ঞান দিয়েও কি আপনার কাছে উদাহরণ টা হাস্যকর মনে হচ্ছেনা? যাই হোক, ১ কেজি ওজন কিভাবে পরিমাপ করা হয় তা জানতে ধর্মগ্রন্থের কাছে না গিয়ে উইকিপেডিয়ার শরনাপন্ন হতে পারেন কেউ। ধন্যবাদ।

  6. ফোবিয়ান যাত্রী মার্চ 23, 2013 at 10:34 অপরাহ্ন - Reply

    আপনি কোন ধর্মের ধার্মিক হতে চান আমি জানি না।তবে আমার মনে হয়, মানুষের যে মানব ধর্ম আছে প্রত্যেকের সেই মানব ধর্মেরই ধার্মিক হওয়া দরকার।কারণ এই মানব ধর্মই মানুষের ভালো ভাবে বেঁচে থাকার পরিবেশ এবং সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।

    • মরুঝড় মার্চ 25, 2013 at 4:47 অপরাহ্ন - Reply

      @ফোবিয়ান যাত্রী, মানব ধর্ম হল হাওয়াই হাওয়া। একটা ভ্যাকুয়াম আর কি। এ দিয়ে কিছু হয়না।

  7. alom মার্চ 22, 2013 at 6:20 অপরাহ্ন - Reply

    @ পৃথু
    শুধু আস্তিক হই‍লেই চলবে যদি ভেবে থাকেন তা হলে বোকার স্বগের্ আছেন; জোলাপি আপু থেকে সাট্টিফিকেট ভি লই‍তে হইব, নইলে রক্ষা নাই কইলাম।

  8. আলম মার্চ 22, 2013 at 3:14 অপরাহ্ন - Reply

    @পৃথু স্যানাল
    আপনি যেহেতু সন্দেহ প্রবন, তাই আপনাকে একটি প্রশ্ন করতে চাই। সেটি হল- আপনার বর্তমান ওজন কত? প্রশ্ন শুনে হাসবেন না। ধরে নিলাম আপনার ওজন ৭০ কেজি। আপনার মনে কি কখনো এই প্রস্ন এসেছে কেন আপনার ওজন ৭০ কেজি? ৮০ কেজি কেন হল না? ৪০ কেজি কেন হল না? উত্তরটা আমি আপনাকে দিচ্ছি । আমার উত্তরটা আপনার কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। তারপরেও একটু ভেবে দেখবেন।
    ৭০কেজি বলতে আমরা সেই ওজনকেই বুঝি যা ১ কেজি এর ৭০ গুন। তাহলে ১ কেজিটা কি? ১ কেজি হল এমন একটা পাথর খণ্ড যাকে standard হিসাবে ধরে নেয়া হয়েছে। সেই পাথর খণ্ডের ৭০ গুন হল আপনার ওজন। সুতরাং বোঝা যাচ্ছে যে ১কেজি পাথর খণ্ড একটি আদর্শ পরিমাপ যার উপর ভিত্তি করে পৃথিবীর হাজার হাজার, কোটি কোটি ওজন পরিমাপ করা হয়। পবিত্র কুরআন শরিফ হল সেই আদর্শ পাথর খণ্ড যার উপর ভিত্তি করে অন্যান্য ধর্মের পরিমাপ করা হয়। আপনার যদি সত্যি ধর্মের ব্যাপারে আগ্রহ থাকে তাহলে আপনি যে কোন একটা ধর্মগ্রন্থকে বেছে নিন। এরপর সেটা পড়ে, বুঝে দেখুন আপনি আসলে যা জানতে চাচ্ছেন সেটা আপনি কোথাই পাচ্ছেন? একটা না একটাতে আপনি ঠিকই আপনার উত্তর পেয়ে যাবেন । যে কোন কিছুর শুধু শিরোনাম পড়লে তো আপনি কোনটাই খুজে পাবেন না। আমি আমার ব্যাক্তিগত মতামত দিতে পারি। সেটা হল আপনি পবিত্র কুরআন শরিফ পড়ে দেখতে পাড়েন।

    • মরুঝড় মার্চ 25, 2013 at 4:40 অপরাহ্ন - Reply

      @আলম, তার জন্য ধৈর্য দরকার ভাই। আজকাল মানুষ এর কি রকম অবস্থা জানেন-নীচে ডেইলি মেইলে একজন লিখেছিলেন-
      Looking at the comments there seems to be 2 camps formed here. One is the camp of fear that see Islam as a religion full of barbaric punishments and oppresive to women and it full of terrorists. The other are those that have expereineced Islam through either living in the middle east or having muslim friends ans see Islam as peaceful and gives honour to women. It’s interesting isn’t it that some people are actually forming opinions on other peoples opinions through the media etc not really taking the responsibility to go find out what Islam is really about. Would you buy a car based on what someone tells you about the car or would you go and check out the the car yourself and make sure that it runs well and it has no defects, you might even go as far as get a mechanic to look at or do yuor research before departing with your money. So why do people form opinions based on shallow thought and demonise muslims based on these shallow opinions.
      – Shabnum Amin , UK, 05/1/2011 15:15
      এখন ঝামেলা কি জানেন, এই সব খামাখা পাব্লিকেরা খুব ইসলাম বোঝে। কোথায় একটু ব্যাকা তেড়া আয়াত পেয়েছি কি শুরু করবে তান্ডব নৃত্য। ব্যাখ্যা ও করেন নিজেরাই,আর মনে করেন তারা যেহেতু ব্যাখ্যা করছেন ,তা ভুল হবার নয়। এখানে এই বান্দা কে দেখুন-ঠিক বাউলদের মত। নামাজ নাকি কায়েম করতে বলেছে,পড়তে নাকি বলেনি-তাই আমাদের বাউল ভাইরা নামাজ পড়েন না। এখন কে তাদের বুঝায় ,কায়েমের মধ্যে ই নামাজ পড়াও আছে? মুত্তাকিদের জন্য কুরান টা তিনি দেখলেন কিন্তু যেখানে আল্লাহ বললেন
      “Blessed is He who sent down the criterion [the Noble Quran] to His servant, that it may be an admonition to all creatures [Mankind];- (The Noble Quran, 25:1)”

      “We sent thee not, but as a Mercy for all creatures. (The Noble Quran, 21:107)”

      “This is no less than a Message to (all) the Worlds. (The Noble Quran, 38:87)”

      “And no reward dost thou ask of them for this: it is no less than a message for all creatures. (The Noble Quran, 12:104)”. দেখি লেখক সাহেব নতুন কি বাহানা করেন?

      • মরুঝড় মার্চ 25, 2013 at 4:44 অপরাহ্ন - Reply

        @মরুঝড়, লেখক সাহেবের জন্য আর একটু পরিস্কার করে-Surah 68. Al-Qalam, Ayah 52

        وَمَا هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ لِلْعَالَمِينَ

        Asad : [Be patient:] for this is nought else but reminder [from God] to all mankind.
        Malik : This (The Qur’an) is nothing but a Reminder to all the people of the world.
        Pickthall : When it is naught else than a Reminder to creation.
        Yusuf Ali : But it is nothing less than a Message to all the worlds. 5634
        Transliteration : wa- maa huwa ‘illaa dhikr li- al- caalamen

  9. আ, হা, মহিউদ্দীন মার্চ 21, 2013 at 10:02 পূর্বাহ্ন - Reply

    @আকাশ মালিক

    “এই মনিহার আপনার নাহি সাজে” শীর্ষক আপনার লেখাটি আমার চোখে পরেনি । আমি আস্তিক বা নাস্তিক কাউকেই তুলোধোনা করি নাই । আমার কাছে আস্তিক ও নাস্তিক মানব চরিত্রের বিপরীত ধর্মী তবে অবিচ্ছেদ গুণাগুন । বিষয়টি ব্যক্তিগত । ব্যক্তিগত বিষয় যারা পাবলিক ফোরামে নিয়ে আসেন তারা মৌলবাদী ।
    পদার্থ বিদ্যা বা দর্শন শাস্ত্রে উচ্চ শিক্ষিত হলেই একজনকে নাস্তিক হোতে হবে এমন কোন কথা নাই । আস্তিক অথবা আস্তিক-
    মৌলবাদী হওয়ার পিছনে আরো অনেক কারন বিদ্যমান । আমার ও আপনার মতো শিক্ষিত কিছু মধ্যবিত্ত সাঈদীকে চাঁদে দেখতে পায় । এই দেখতে পাওয়ার কারন খোঁজ করুন ।
    আলোচ্য এই বুর্জোয়া শ্রেনী ও ধনিক শ্রেনী ছাড়া ৮০% লোক সাধারন মানুষের আওতায় পরে । আমি এদের সাথে একাত্বতা প্রকাশের কথা বলেছি । স্থান, কাল ও পাত্র ভেদে কথা বলা বাংলার একটি প্রাচীন প্রবাদ । হুমায়ুন আযাদ ও তসলিমা নাসরিন প্রবাদটি মানেন নাই বিধায় শাস্তি ভোগ করছেন ।
    লেখা পড়ে মনে হয় আপনি ঘোর নাস্তিক, যা নাস্তিক মৌলবাদী পর্যায় পরে । অতএব আস্তিক মৌলবাদীর সাথে আপনার আর কোন পার্থক্য থাকলো না । কুকুর মানুষকে কামরায়, মানুষ কুকুরকে কামরায় না, কৌশালে বশ মানায় । তাই রাষ্ট্র থেকে ধর্ম পৃথক-করন এর দাবী উচ্চারিত হচ্ছে । শাহবাগ চত্তর থেকেও উক্ত দাবী উত্থাপিত হচ্ছে ।

  10. আ, হা, মহিউদ্দীন মার্চ 20, 2013 at 9:23 অপরাহ্ন - Reply

    @ শিমূল

    নাস্তিকতা সাহসী হবার বা গন্ডি ভাঙ্গার বিষয় নয় । আস্তিক ও নাস্তিক বিষয়টি্র মধ্যকার সম্পর্ক বুঝার জন্যই আমার লেখা ।
    আস্তিক ও নাস্তিক বিপরীত ধর্মী অবিচ্ছেদ দু’টি শব্দ, যেমন মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ । প্রায় সাত হাজার বছর ধরে বংশ
    পরাম্পরায় ধর্ম চালু আছে । এর মধ্যই সাধারণ মানুষ শান্তি খুঁজে পায় । তারা আমার বা আপনার মতো শিক্ষিত
    মধ্যবিত্ত নয় ।

    • আকাশ মালিক মার্চ 21, 2013 at 4:14 পূর্বাহ্ন - Reply

      @আ, হা, মহিউদ্দীন,

      বহু বহু দিন পরে আসলেন। নিয়মিত মন্তব্য করছেন দেখে ভালই লাগছে। প্রায় একযুগ যাবত তর্ক হলো, আস্তিকদের পক্ষ নিয়ে নাস্তিকদের তুলোধুনো অনেক করেছেন । মনে আছে বহু বছর পূর্বে একবার আপনাকে উদ্দেশ্য করেই –এই মণিহার আপনার নাহি সাজে শিরোনামে একটি লেখা লিখেছিলাম। সেখানে ওদের ব্লগের লেখকের তালিকায় আপনার নামটাও দেখছিনা। ওরা তো অশিক্ষিত নয়, অনেকেই পদার্থ বিজ্ঞান, দর্শনের ছাত্র, কিন্তু সবাই যুদ্ধাপরাধীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে তাদের বিশ্বাসের দায়বোধ থেকে। সে যাক, এবার বলুন-

      নাস্তিক ঘোষণা করে উন্নত জ্ঞানের মানুষ হিসাবে নিজেকে জাহির না করে সাধারন মানুষের বিশ্বাসের সাথে একত্বতা প্রকাশ করাই উত্তম । বর্তমান কালের প্রেক্ষাপটে বিবেচনা না করে বস্তুবাদি ইতিহাসের দৃষ্টিতে আস্তিক-নাস্তিক বিষয়টি বিশ্লষণ করা বাঞ্চনীয় ।

      সাধারন মানুষের বিশ্বাসের সাথে একাত্বতা ঘোষণা করার কথা বলছেন, সেই মানুষ কারা? যারা সাঈদীকে চাঁদে দেখতে পায়, শাহবাগ মঞ্চের অগনিত তরুণ নতুন প্রজন্মকে নাস্তিক মুরতাদ কাফির ডাকে, কা’বার গিলাফে শাহবাগ মঞ্চের প্রতিবাদ দেখে, নাস্তিকশুন্য বাংলাদেশের সপ্ন দেখে, মউলানা আবুল কালাম আযাদের কাছ থেকে জীবন জিজ্ঞাসার মাসলা মাসায়েল শুনে, অমুসলিমদের বাড়িতে আগুন দেয়, প্রতিমা ভাঙ্গে, মানুষ সহ বাসে আগুন দিয়ে শান্তি পায়, তাদের বিশ্বাসের সাথে একাত্বতা ঘোষণা করবো? এর নাম ধর্ম, এর নাম শান্তি?

      তসলিমাকে দোষ দিলেন, হুমায়ুন আযাদকেও বোধ হয় অসময়ের বংশীবাদক বলেছিলেন, আমাদেরকে তো আর কোনদিন মানুষ হিসেবে স্বিকৃতিই দিলেন না। এতো বছর পরেও, নিজের জন্মভুমিতে নিত্যদিনের কুরুক্ষেত্র-কারবালা ধ্বংসযজ্ঞ, সাক্ষাত কিয়ামত, এতোকিছু স্বচক্ষে দেখেও একটিবারের জন্যে কি মৌলবাদী ইসলাম বা রাজনৈ্তিক ইসলাম সম্মন্ধে কিছু লিখবেন না। প্রত্যেকটি খুন অনাচার অত্যাচার নির্যাতনের পরে স্বগর্বে খুনির কণ্ঠ থেকে উচ্চারিত হয়- এ আমাদের বিশ্বাসের দায়ীত্ব, আমাদের ঈমানী কর্তব্য। ওরা যে আমাদের পতাকা আমাদের শহিদ মিনার পদপিষ্ট করেই ছাড়লো। আর কতকাল নষ্ট-ভ্রষ্ট অসুরদের সামনে মাথা নত করে নতজানু নীতি মেনে চলবেন? আমি যদি ভুল বুঝে থাকি, একটু বুঝিয়ে দেন না, ওরা বাহাত্তরে কোথায় ছিল আর আজ ২০১৩ তে কোথায়?

      • শিমূল মার্চ 21, 2013 at 10:24 পূর্বাহ্ন - Reply

        @আকাশ মালিক,
        দাদা আস্তিকদের প্রতি আমার কোন ক্ষোভ নেই। তারা থুকননা তাদের কল্পিত ধর্মাচরণে ব্যস্ত। আমরা জনা কয়েক মিলে তাদের পাহাড় সম ধর্মকে টলাতে তো পারার কথা নয়। আপনি যেমন বললেন ঃ

        ওরা বাহাত্তরে কোথায় ছিল আর আজ ২০১৩ তে কোথায়?

        আমিও সেই প্রশ্ন করতে চাই। ৭১ এও শহীদ মিনার পুরেছিলো ২০১৩ তেও আবার পুড়ছে। এ কিসের আলামত্য।অনেক ত্যাগের এই দেশটা চোখের সামনে ধবংস হতে দিতে আমরা পারি না। আমাদের অক্ষমতা যে আমরা টাদের মত জঙ্গি মিছিল করে দাবী আদায়ের নামে দেশটা অচল করে দিতে পারি না।

  11. শিমূল মার্চ 20, 2013 at 4:33 অপরাহ্ন - Reply

    নাস্তিক হতে গেলে আপনাকে অনেক সাহসী হতে হবে, প্রচলিত ধ্যানধারণার গণ্ডি ভাঙ্গতে পারতে হবে।
    মোল্লা – পুরহিত রা সব সময় চাইবেই যে তাদের ব্যবসাটা চালু থাকুক। আর রাজনীতিবিদরাও সেই এক ই পুকুরের মাছ। ধর্ম নিয়ে যে ব্যবসা তা ঠিকঠাক চালু থাকলে তো তাদেরই লাভ।

  12. নিলয় মার্চ 20, 2013 at 1:19 অপরাহ্ন - Reply

    ভাই চালিয়ে যান

  13. আ, হা, মহিউদ্দীন মার্চ 20, 2013 at 10:53 পূর্বাহ্ন - Reply

    @ পৃথু স্যান্যাল

    আপনি একজন আদম সন্তান । সেমেটিক ভাষায় যার অর্থ “জ্ঞান-বুদ্ধি সম্পন্ন প্রানী । এই প্রানীরাই বহুবচন আদমকে
    একবচনে রূপান্তর করেছে ।বুদ্ধি-জ্ঞান সম্পন্ন এই প্রানীরাই নিজের কল্পনা শক্তি দিয়ে শ্লোক লিখে বেদ (জ্ঞান) সৃষ্টি
    করেছে । বেদে ঈশ্বর সৃষ্টি করে, উক্ত ঈশ্বর কর্তৃক নিজে সৃষ্টি হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছে ।”ইল” একবচন সেমেটিক
    শব্দ, যার অর্থ গড । “ইল” এর আরবী বহুবচন শব্দ আল্লাহ । আরবী ভাষার উতপত্তি সেমেটিক ভাষা থেকে । আর্য্যদের মতো
    সেমেটিকেরাও গড ও আল্লাহ সৃষ্টি করে নিজে উক্ত গড ও আল্লাহ কর্তৃক সৃষ্টি হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছে । ততকালীন
    মানুষদের প্রাকৃতিক শক্তির বিধি-বিধান সম্পর্কীয় কোন ধারণা ছিল না বিধায় উক্ত শক্তিকে ঈশ্বর, গড বা আল্লাহর
    উপর ন্যস্ত করতে হয়েছে । বংশ পরাম্পরায় প্রায় সাত হাজার বছর ধরে আমরা সৃষ্টিকর্তার ধারণা পোষণ করে আসছি ।
    তাই এতো সকালে এই ধারণা মুছে ফেলা যাবে না ।
    বর্তমান কালের উন্নত জ্ঞান, আমাদেরকে শিখিয়েছে যে অন্ধকার ছাড়া আলোর প্রয়োজন হয় না, এক মেরু বিশিষ্ট চুম্বক হয় না,
    বিপরীত মেরুর প্রয়োজন হয় । আবার নাস্তিক ছাড়া আস্তিক হয় না । বিষয়গুলি বিপরীত কিন্তু অবিচ্ছেদ । অতএব আপনাকে আস্তিক বা নাস্তিক হোতে হবে না । নাস্তিক ঘোষণা করে উন্নত জ্ঞানের মানুষ হিসাবে নিজেকে জাহির না করে সাধারন মানুষের বিশ্বাসের সাথে একত্বতা প্রকাশ করাই উত্তম । বর্তমান কালের প্রেক্ষাপটে বিবেচনা না করে বস্তুবাদি ইতিহাসের দৃষ্টিতে আস্তিক-নাস্তিক বিষয়টি বিশ্লষণ করা বাঞ্চনীয় ।

মন্তব্য করুন