প্রাচীন বাংলাদেশে হিন্দু নামে এক সম্প্রদায় ছিলতাদের প্রধান কাজ ছিল সকাল সন্ধ্যা দুই বেলা পুজা করা আর দেবতার উচ্ছিষ্ট নিরামিষ খাওয়াকিছু দুষ্ট লোক তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেয়এই দুষ্ট লোকদের কাজ ছিল ছুতা খুজে তাদের পিটানোযেমন নির্বাচনে হারলো দুঃখ ভুলতে হিন্দু পেটাত, নির্বাচনে জিতলো খুশিতে হিন্দু পেটাত, তাদের নেতার সাজা হলে হিন্দু পেটাত, বাজ পরে তাদের ধর্মস্থান নষ্ট হলেও হিন্দু পেটাত হিন্দুরা ছিল খুব ভদ্র শুধু মার খেত আর খুব কষ্ট হলে ভিটে মাটি ছেড়ে বিদেশ পালাতকোন উত্সবে তাদের লোকের অভাব হত না কিন্তু কেউ মার খেলে অন্য জন কখনও এগিয়ে আসত নাএমনকি তাদের সুবিধাভোগী অংশ কিছু বলত না পাছে ‘সাম্প্রদায়িক’ তকমা গায়ে লেগে যায় এই ভয়েযখন তাদের পাশের বাড়িতে হামলা হত তখন তারা না পেরে স্ট্যটাস দিত তাও সব দিক রক্ষা করে লিখত ‘খ্রিস্টান হিন্দু মুসলমান আমরা সবাই বাঙালি’ তারপরও তারা অনেকদিন বেচে ছিল শুধু সমাজের বাকি লোকগুলোর জন্যসমাজের বেশির ভাগ লোক ছিল অসাম্প্রদায়িক বাঙালিতারা আপ্রান চেষ্টা করেও তাদের শেষ পর্যন্ত বাচাতে পারে নিকারন তারা জন্মাতে শিখেছিল, বাচতে শিখে নি

(২১১৩ সালের ইতিহাস বইয়ের কিছু অংশ।)

-শুভদ্বীপ চন্দ (ফেসবুক থেকে)

বাংলাদেশে একটি সম্প্রদায় রয়েছে। ১৯৭১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশে এই জনগোষ্ঠীর সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ১৩.৫০ ভাগ, ১৯৮১ সালে ১২.১৩ ভাগ, ১৯৯১ সালে ১১.৬২ ভাগ, ২০০১ সালে প্রায় সাড়ে ৯ ভাগ। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরের ৩০ বছরে এই জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৪ ভাগ কমেছে । প্রিয় পাঠক আপনারা সবাই বুঝছেন আমি কোন সম্প্রদায়ের কথা বলছি। হ্যাঁ আমি বলছি বাংলাদেশি হিন্দু সম্প্রদায়ের কথা।

বাংলাদেশি এবং পাকিস্তানী হিন্দুদের বলা হয় সবথেকে শান্তিপ্রিয় সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠী। তারা শত নির্যাতনের মুখেও আস্ফালন করে না। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানেরা রাখাইনদের হাতে নির্যাতিত হয়ে হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছিল। লেবানিশ খ্রিস্টানরা তো গৃহযুদ্ধই বাঁধিয়ে দিয়েছিল লেবানিশ মুসলমানদের সাথে। ভারতের মুসলিম জঙ্গিদলগুলো প্রায়ই বোমা হামলা চালায় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। কাশ্মীর উপত্যকা থেকে হিন্দুদের বেরই করে দিয়েছে ইসলামিক জঙ্গিদলগুলো। এমন কি বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামেও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন করেছে। কিন্তু বাংলাদেশি এবং পাকিস্তানী হিন্দুরা নির্যাতিত হয় এবং নিঃশব্দে দেশ ত্যাগ করে। এটা চলে আসছে যুগ যুগ ধরে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলোয়ার হোসেন সাইদীর মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির রায়ের পর দেশের বিভিন্ন জায়গাতে হিন্দুদের উপর জামায়াত শিবিরের সন্ত্রাসীরা হামলা করে। সবার স্মৃতিতে ফিরিয়ে আনে ১৯৮৯-১৯৯২ এবং ২০০১ এর সাম্প্রদায়িক সহিংসতার চিত্র।

এক দাদা আক্ষেপ করে বলেছিলেন,   মর , সবকয়টা মর , তোদের পেছনে জাপানের মত দেশ নেই যে ধংস হওয়া মন্দির-বাড়িঘর নতুন করে তুলে দেবে সরকার, বিরোধী দল দিনে দশবার বিবৃতি দেবে, তোদের পেছনে আমেরিকা-ব্রিটেন নেই যে তোদের মারার আগে কেউ দুবার ভাববে, তবুও তোরা ভাবিস তোরা পার পেয়ে যাবি ! মালাউন কা বাচ্চা, কাভি না আচ্ছা

 

সাইদীর রায় থেকে এখন পর্যন্ত হিন্দুদের উপর নির্যাতনের খতিয়ান পেশ করব (জানি না ভবিষ্যতে আরও হামলা হবে কিনা)ঃ

নোয়াখালীঃ

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসীর অনেকে জানান, সকাল থেকেই বেগমগঞ্জের রাজগঞ্জ বাজার ও আশপাশের এলাকায় জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা মহড়া দিতে শুরু করেন। সাঈদীর মামলার রায় ঘোষণার পর বেলা দুইটার দিকে তাঁরা একযোগে লাঠিসোঁটা নিয়ে রাজগঞ্জ বাজারের পাশে বাইন্নাবাড়ির সামনের কালীমন্দিরসহ দুটি মন্দির ভাঙচুর করেন। একপর্যায়ে তাঁরা বাইন্নাবাড়ি ও নাপিতবাড়িসহ আটটি হিন্দু বাড়িতে হামলা চালান ও ভাঙচুর করেন।
হামলাকারীরা কাপড়, টাকা, ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র ও স্বর্ণালংকার লুট করেন। বেলা দুইটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত দফায় দফায় ভাঙচুর ও লুটপাট চলে। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে র‌্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

দুই জায়গাতে (আলাদীনগর ও টঙ্গীরপাড়া গ্রামে) মোট ৬টি মন্দিরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও অগি্নসংযোগ করা হয়। মন্দিরগুলো হচ্ছে_ রাজগঞ্জ বাজারের কালী মন্দির, বাজারের পশ্চিম পাশের কালীতলার নবনির্মিত কালী মন্দির, বণিক্যবাড়ির সেবা ঠাকুর আশ্রম মন্দির, বণিক্য বাড়ির মনসা মন্দির, কুরি বাড়ির নিজস্ব মন্দির, কালীর হাটের কালী মন্দির।

শুক্রবার (১ মার্চ) সকালে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ঘরে খাবার নেই, গোসল করে পরনের কাপড়টি যে বদলাবেন সেটিও নেই। আলাদীনগর গ্রামের ঠাকুর বাড়ি, মালি বাড়ি, শীল বাড়ি, বণিক বাড়ি, কুরি বাড়ি, শান্তি বাবুর বাড়ি, বাইন্না বাড়ি ও নাপিত বাড়ি এবং টুঙ্গীরপাড়া গ্রামের গঙ্গা প্রসাদ ভূঁইয়া বাড়িতে দুর্বৃত্তদের হামলা-ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ক্ষতচিহ্ন দেখা যায়। এসব বাড়ির প্রায় ৫০টি বসতঘর ভাঙচুর করা হয় বলে জানিয়েছেন বাড়িগুলোর বাসিন্দারা। যার মধ্যে ২৫টি ঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়। একই গ্রামের মালি বাড়ির সুনীল চন্দ্র দাস অভিযোগ করেন, সবচেয়ে বেশি ধ্বংসযজ্ঞ চলে তাঁদের বাড়িতে। বাড়ির ১৫টি পরিবারের ১৩টি বসতঘরে লুটপাট শেষে আগুন দেয় হামলাকারীরা। আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে প্রতিটি পরিবারের দুপুরে রান্না করা ভাত-তরকারি, ঘরের কাপড়-চোপড়সহ সবকিছু। পরনের কাপড়টি ছাড়া বাড়ির কারও কিছুই নেই। আগুন দেওয়া হয়েছে তাঁদের বাড়ির সামনের মন্দিরেও।
বণিক বাড়ির শান্তি রঞ্জন বণিক বলেন, বিকেল চারটার দিকে ৫০-৬০ জনের একদল লোক, যাদের বেশির ভাগেরই বয়স ১৭-২০ বছর হবে; অতর্কিতে এসে প্রথমেই বাড়ির সামনের হরি সেবাশ্রম মন্দিরে হামলা-ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর পাশের একটি বসতঘরে আগুন দেয়। পরে বাড়ির ভেতরে গিয়ে আরও একটি ঘরে আগুন দেয় এবং ছয়-সাতটি ঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে।

কুরি বাড়ির রূপচাঁদ চন্দ্র বলেন, বিকেল পাঁচটার দিকে ২৫-৩০ জনের একদল লোক এসে প্রথমেই তাঁর ঘরের বেড়ায় কোপাতে থাকে। তিনি ভয়ে দরজা বন্ধ করে ভেতরেই ছিলেন। হঠাৎ দেখেন আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আগুনে তাঁর ঘর ছাড়াও আরও দুটি ঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয় প্রতিটি ঘরে।
শুক্রবার সকাল ৯টা। জামায়াত-শিবিরের সহিংসতার ১৬ ঘণ্টা পরও ধ্বংসস্তূপ থেকে বের হচ্ছিল আগুনের ধোঁয়া। এরই মধ্যে পুড়ে যাওয়া কিছু চাল কুড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন আগুনে সর্বস্বান্ত মিনতি রানী মালাকার (৫২)। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় যখন তার ঘরে আগুন দেওয়া হয়, তখন শুধু পরনের কাপড় নিয়েই দৌড়ে পাশের মুসলমান বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। সঙ্গে কিছুই নিতে পারেননি। তাই সবকিছুই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। রাজগঞ্জ ইউনিয়নের আলাদিনগর গ্রামের মালীবাড়ির চিত্র এটি।
গ্রামের বাসিন্দা অজিত কুমার বণিক (৬১), মুক্তিযোদ্ধা সামছল হকসহ উপস্থিত লোকজন জানান, ৭১ সালেও এই গ্রামে এমন ঘটনা ঘটেনি। পাশের বাড়ির মুসলমানরা এসে বাড়ি ও মন্দিরের আগুন নেভান বলে জানান তারা।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আহছানুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৭০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও প্রায় দুই হাজার ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বেগমগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ উল্যা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার নুরুল হকের নেতৃত্বে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারপ্রতি ৫০ কেজি চাল, ২ কেজি মসুর ডাল, ৫ কেজি আলু বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া শুক্রবার দুপুরের পর থেকে বিকেল পর্যন্ত গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের পক্ষ থেকে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ১৭ পরিবারের মাঝে খাবারের জন্য চাল, ডাল, আলু, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী সরবরাহ করা হয়।

চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার দক্ষিণজলদি ধোপাপাড়ায় গতকাল সন্ধ্যায় জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা আগুন দেন। চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে ফিরে প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, পৌরসভার শীলপাড়ায় আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া ছয়টি বাড়ির মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। গত বৃহস্পতিবার বাঁশখালী পৌরসভার শীলপাড়ার ছয়টি বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দয়াল হরি নামে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যা করে এলাকা ত্যাগ করে জামায়াত-শিবিরের দুর্বৃত্তরা। গতকাল শুক্রবার ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন দয়াল হরি। রাতে ফেরেন লাশ হয়ে। দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে ছয়টি বাড়ির সবকিছু পুড়ে নিঃশেষ হয়ে গেছে। এ ছাড়াও পুড়ে গেছে লোকনাথ মন্দির, দুটি গোয়ালঘর, ২১ দিন বয়সী একটি বাছুর, ঘরের হাঁস-মুরগি, বইপত্র, আসবাব, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার এবং মাটির পাত্রে থাকা চাল।

শীলপাড়ার একেবারে পশ্চিম সীমানায় পাশাপাশি চারটি বাড়িতে বসবাস করেন চার ভাই পুলিন শীল, সুনীল শীল, দুলাল শীল ও আশীষ শীল। তাঁদের পাশে দুটি বাড়িতে বাস করেন স্বপন শীল ও সম্ভু শীল। পুলিন শীলের স্ত্রী নিপু সুশীল প্রথম আলোকে বলেন, ‘সূর্য তখন ডুবু ডুবু, বাড়ির উত্তর পাশের বিলে লোকজন বিকেল থেকে জড়ো হচ্ছিল। অবস্থা দেখে আমরা সবাই ভয়ে ঘরে জড়সড় হয়ে বসে আছি। এ সময় শীলপাড়ার পশ্চিম দিকের আশকরিয়াপাড়া ও পূর্ব পাশের দুয়ারিয়াপাড়া থেকে আরও লোক এসে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় এবং হামলা চালায়।’
নিপু সুশীল বলেন, ‘বাড়িগুলো পুরোপুরি পুড়ে যাওয়া পর্যন্ত হামলাকারীরা প্রায় দুই ঘন্টা অপেক্ষা করে। এ সময় প্রশাসন বা রাজনৈতিক দলের কেউ আমাদের উদ্ধার করতে আসেনি।’ সুনীলদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার পর দুর্বৃত্তরা পাশের স্বপন ও সম্ভুর বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। কুপিয়ে মারে দয়াল হরিকে। রাতে সবকিছু হারিয়ে গতকাল বিকেল পর্যন্ত এ ছয় পরিবারে কোনো রান্না হয়নি। পরিবারের লোকজন এখন খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন।

চট্টগ্রামের বাঁশখালি কেন্দ্রীয় দূর্গা মন্দিরটি জামাতের কর্মীরা পুড়িয়ে দিয়েছে । বাসনখালি কোর্ট বিল্ডিং, ইউ.ন.ও. অফিস, উপজেলা কমপ্লেক্স মসজিদটিও পুড়িয়ে ফেলা হয় ।

কুমিল্লাঃ

গত বৃহস্পতিবার দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর ইকবাল হোসেন ক্ষুব্ধ হয়ে কুমিল্লা-মিরপুর সড়কের উত্তর চান্দলা বাজার এলাকায় একটি মাইক্রোবাস ও একটি অটোবাইকের কাচ ভাঙচুর করেন। পরে সড়কের পাশে শিবমন্দিরের বটগাছের নিচে শীতলা দেবী নামে একটি প্রতিমা ভাঙচুর করেন। স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে তিনি পালিয়ে যান। পরে বিকেলে পুলিশ তাঁকে উপজেলার জামতলী গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে।

কক্সবাজার:

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাত নয়টার দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কয়েক হাজার কর্মী উপজেলা পরিষদের সামনে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর করেন। পরে তাঁরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়, স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কার্যালয়, শিক্ষা কার্যালয়সহ সরকারি দপ্তরের বেশ কয়েকটি কার্যালয় ভাঙচুর ও সেখানে অগ্নিসংযোগ করেন। এরপর আশপাশে অবস্থিত হিন্দুসম্প্রদায়ের তিনটি মন্দিরে ভাঙচুর করে আগুন দেওয়া হয়।
কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাশেম প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, রাত নয়টার দিকে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে নেতা-কর্মীদের জড়ো করে জামায়াত-শিবির। পরে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়, আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও মন্দিরে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করে। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, রাত ১০টার দিকে কুতুবদিয়া থানায় হামলা চালান জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। এ সময় পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে ৩০টি ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

 

জেলার কান্তজি মন্দির ভাঙার জন্য কয়েক শ লোক সংগঠিত হচ্ছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার রাতে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ ছাড়া, জেলার রাজবাড়ির মন্দিরে পুলিশি প্রহরা বসেছে।

বাগেরহাট:

জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার চিংড়াখালী ইউনিয়নের সিংজোড় গোপালপুর সর্বজনীন পূজামন্দিরে গত বৃহস্পতিবার রাতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। চিংড়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবুল কাসেম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এই ঘটনার জন্য দায়ী কোনো চক্রকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। এ ব্যাপারে কোনো মামলা হয়নি।কারা এই প্রতিমা ভাঙচুর করেছে, তা মন্দির কর্তৃপক্ষ ভয়ে জানাতে চায়নি। তবে এলাকাবাসী দাবি করেছেন, জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা প্রতিমা ভাঙচুর করেছেন। চিংড়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাসেম প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, মন্দিরে ঢুকে দুর্গা প্রতিমার গলা ভেঙে ফেলার পাশাপাশি সরস্বতী, গণেশ ও কালী প্রতিমা উল্টে ফেলে রেখে গেছে। তিনি বলেন, মন্দিরটি সব সময় খোলা থাকত। মন্দির কমিটির সভাপতি ক্ষিতিশ বাছাড় এ ঘটনায় অজ্ঞাতব্যক্তিদের দায়ী করে গতকাল রাতে মোরেলগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেছেন।

এদিকে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় একটি সর্বজনীন পূজামন্দির ও হিন্দুসমপ্রদায়ের দুটি বাড়িতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার রামচন্দ্রপুর ও বনগ্রাম ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ডুমুরিয়া সর্বজনীন পূজামন্দির, বনগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নারায়ণ চন্দ্র বসুর বাড়ির গুদাম ও রান্নাঘর এবং একই ইউনিয়নের বহরবুল গ্রামের তাপস সেনের বাড়ি।
মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম হোসেন প্রথম আলো ডটকমকে জানান, গতকাল রাত ১২টা থেকে দেড়টার মধ্যে আগুন লাগানো হয়। স্থানীয় লোকজন দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলে।
বনগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নারায়ণ চন্দ্র বসু চৌধুরী প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাঁর বাড়ির দুটি ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। স্থানীয় বিএনপির কেউ এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা করেন।
তবে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার মোল্লা এ ধারণা নাকচ করে বলেন, ‘বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে তারা পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে।’
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার খন্দকার রফিকুল ইসলাম প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাগুলো রহস্যজনক মনে হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ করছেন না। ঘটনাগুলো তদন্ত করে প্রকৃত দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। এখনো কোনো মামলা হয়নি।
আজ শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায়, মোরেলগঞ্জ সার্কেলের এএসপি শহিদুল হক ও মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জোহর আলী।
লক্ষ্মীপুরঃ

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রায়পুর উপজেলার গাইয়ারচরে শ্রী শ্রী হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুর মন্দির ও স্বামী বিবেকানন্দ সেবাশ্রমে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা।

পরে স্থানীয়রা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ওসি জানান।

এখন থেকে রাতে মন্দির ও হিন্দু সম্প্রদায়ের স্থপনায় পাহারার ব্যবস্থা করবেন বলে জানান, মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক দুলাল কীর্তনীয়া, স্থানীয় মানিক কর্মকার, দ্বিপাল কর্মকার, কাঞ্চন কর্মকারসহ অনেকে।
বরিশালঃ

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়ন পরিষদের পিংলাকাঠী সার্বজনীন দুর্গামন্দিরে শনিবার ভোরে আগুন দেয়া হয় বলে পুলিশ জানায়।

মন্দির কমিটির সভাপতি নবকৃষ্ণ দত্ত অভিযোগ করেন, রাতে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা মন্দিরের অগ্নিসংযোগ করে।

আগুনে ঘরসহ দুর্গা প্রতিমা পুড়ে গেছে বলে জানান তিনি।

গৌরনদী থানার ওসি আবুল কালাম জানান, মন্দির কমিটির সভাপতি শনিবার সকালে অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

ওই মন্দিরের পাশেই একটি মাদ্রাসা রয়েছে। ঘটনার পর থেকে ওই মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্ররা পলাতক বলে জানায় পুলিশ।

গাজীপুরঃ

গাজীপুরের কাশিমপুরেও একটি স্থানে প্রতিমা ভাংচুর হয়েছে বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম প্রতিনিধি জানিয়েছেন।

সদর উপজেলার কাশিমপুর নামাবাজার এলাকায় শুক্রবার রাতে এক মণ্ডপে স্বরস্বতী প্রতিমা ভাংচুর হয় বলে জয়দেবপুর থানার চক্রবর্তী পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন।

কাশিমপুর রাধা গোবিন্দ মন্দির কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক নন্দ দুলাল দাস জানান, সম্প্রতি স্বরস্বতী পূজাশেষে প্রতিমাটি ওই মণ্ডপে রেখে দেয়া হয়। রাতে কে বা কারা প্রতিমার মাথা এবং বীণাসহ বাম হাতটি ভেঙে দেয়।

পূর্বধলা (নেত্রকোনা):

জামায়াত-শিবিরের কর্মী-সমর্থকেরা গত শুক্রবার গভীর রাতে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় একটি কালীমন্দিরে আগুন দেন। আগুনে উপজেলা সদরের মঙ্গলবাড়িয়ায় রাজপাড়া কালীমন্দিরের চালের ও কাপড়ের সিলিংয়ের কিছু অংশ পুড়ে যায়।
মন্দির কমিটির সভাপতি অমর চন্দ্র রায় জানান, মন্দিরে একটি কেরোসিনের বোতল পাওয়া গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনাটি নাশকতামূলক।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

রামগতি (লক্ষ্মীপুর):

রামগতি পৌরসভার চরসীতা এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি বসতবাড়িতে শুক্রবার গভীর রাতে আগুন দেওয়া হয়। এ সময় গৃহকর্তা নীতিশ চন্দ্র দাসসহ তাঁর পরিবারের সদস্যরা কেউ বাড়িতে ছিলেন না। নীতিশ চন্দ্র দাস জানান, আগুনে তাঁর ঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।

রামগতির চরসীতা এলাকার বাসিন্দা নীতিশ দাসের পুড়ে যাওয়া বসতভিটা। গত শুক্রবার গভীর রাতে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ

গতকাল সকালে ইউএনও আ স ম হাসান আল আমিন এবং রামগতি থানার ওসি মো. ইসমাইল মিঞা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইসমাইল মিঞা জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া):

কসবা উপজেলার খেওড়া বাজারে গত শুক্রবার রাতে ১১টি দোকানে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা আগুন ধরিয়ে দেন। এর মধ্যে চারটি দোকান হিন্দু ব্যবসায়ীদের ও ছয়টি আওয়ামী লীগের সমর্থিত ব্যক্তিদের।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, শুক্রবার রাতে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে বাড়িতে যান। রাত ১০টার দিকে আগুনের লেলিহান শিখা দেখে স্থানীয় লোকজনসহ ব্যবসায়ীরা বাজারে ছুটে যান। পরে স্থানীয় লোকদের সহায়তায় কসবার কুটি চৌমুহনী ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনী আগুন নেভাতে সক্ষম হয়।
দোকানমালিক ও মেহারী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ফুরকান আহাম্মদ বলেন, ‘দোকানগুলোতে রাতে কেউ থাকতেন না। এটি নিঃসন্দেহে নাশকতামূলক কাজ। জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা এ কাজ করতে পারে।’
ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু ব্যবসায়ী যাদব চন্দ্র জানান, আগুন লাগার সময় ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। তাঁদের দোকানের পেছন থেকে কেউ আগুন ধরিয়ে দেয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জালাল সাইফুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গাইবান্ধাঃ

হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা জানিয়েছেন, বামনডাঙ্গা ও সুন্দরগঞ্জে সুনির্দিষ্ট করে সংখ্যালঘুর বাড়ি ও দোকানে হামলা হয়েছে। গাইবান্ধা জেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি রণজিৎ বকসি বলেন, বেলকা ইউনিয়নে দুটি এবং শান্তিরামে তিনটি মন্দির ভাঙচুর করা হয়েছে। অনেক সংখ্যালঘুর বাড়ি ও দোকানে হামলা হয়েছে। সুন্দরগঞ্জের শান্তিরাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরজিত কুমার বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শান্তিরাম মন্দিরে আগুন দেওয়া হয়। এরপর আমার বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের পর আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে তারা। স্বাধীনতার এত বছর পরও যদি এভাবে আমাদের বাঁচতে হয়, সেই কষ্ট কোথায় রাখব।’


কৃতজ্ঞতাঃ

১। দৈনিক প্রথম আলো

২। দৈনিক সমকাল

৩। বিডিনিউজ২৪

[163 বার পঠিত]